#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_৩১
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া
—-আচ্ছা তোর চুলগুলো ওমন মেয়েদের মতন লম্বা হলো কি করে?আর চুলে লাল লাল ওগুলো কি?
ফ্লোরে পরে যাওয়া অবস্থায় থেকেই কাঁপা কাঁপা গলায় কথাটা বললো ইথানের দিদুন।ভয়ের চোটে তার কলিজার পানি শুকিয়ে গিয়েছে।কোমরে এখনো অসয্য যন্ত্রনা করছে তার।ব্যাথার জন্য একা একা উঠে দাড়াতেও পারছে না সে।
দিদুনের এমন অবস্থা দেখে ইহানের একটু খারাপ লাগছে।হাজার হক বৃদ্ধ মানুষকে চোখের সামনে এমন কষ্ট পেতে দেখলে কার না খারাপ লাগে?
আসলে ইহানের রুমে এসে সেই সময় সবাই প্লান করে যে তারা দিদুনকে ভুতের ভয় দেখাবে।এই জিনিসটাকে বড্ড ভয় পায় সে তাই তো ইথান এভাবে তাকে টাইট দেয়ার প্লান করেছে।আর বাড়ির সবাইকে বেশি পাওয়ারের ঘুমের ওষুধ রাতের ডিনারের সাথে মিশিয়ে খায়িয়ে দিয়েছে যার জন্য দিদুনের চিৎকারে কারোর ঘুম ও ভাঙছে না।হুট করে ইহান ইথানের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,
—-ভাইয়া দিদুনকে গিয়ে উঠানো উচিত।হাজার হক ওনি আমাদের থেকে বয়সে বড় অনেক।তার দূর্বলতা নিয়ে আমাদের এমন করা ঠিক হবে না।
ইহানের কথা শুনে ইথান ওর দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলো,
—-সেটা দিদুনেরও বুঝার দরকার ছিলো যে তার বয়স হয়েছে।আমাদের তুলনায় তার জ্ঞান অনেক।সে আমাদের থেকে বড় হয়ে যদি এমন কাজ করে তাও বৃদ্ধ বয়সে এসে তাহলে আমাদের এমন করাটা একদম ঠিক।এতে তাকেও ভালো পথে আনা যাবে আর উচিত শাস্তিও দেয়া যাবে।
ইথানের কথা শুনে ইহান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চুপ করে রইলো।এইদিকে ভয়ের চোটে দিদুন তার চোখ বন্ধ করে আছে।মুখ দিয়ে দোয়া পরছে শুধু।তার এমন কাজে ইথানের প্রচুর হাসি পাচ্ছে।বুড়ি বয়সে এসে কিনা এখনো কুটনীতি করে।এবার ভুতের ভয়ে দোয়া পরে ভালো হয় যদি একটু।
ইথান আরেকটু সয়তানি করার জন্য তার ফোনের ইউটিউব থেকে ভুতের ভয়ঙ্কর কিছু আওয়াজ চালু করে দিলো।সাথে তার পোশা কুকুর টোকিওর সামনে বিস্কিটের টুকরো ধরলো যার দরুন টোকিও ঘেউঘেউ করতে শুরু করল।এবার বুড়ি যাবে কোথায়?
দিদুন না পারছে ব্যাথায় নড়তে না কেউ আসছে তাকে বাঁচাতে।এবার ভয়ে তার হাত-পা ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো।সে ভাবছে ইহান তার জানালার পাশে থাকা কবর থেকে উঠে এসেছে তাকে মারার জন্য।তার সাড়া শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গিছে।প্রতি মুহূর্তে তাকে মরার ভয় গ্রাস করছে ধীরে ধীরে।বহু কষ্টে সে একবার জানালার দিকে তাকাতেই তার পিলে চমকে উঠলো।ভুতটার চোখে লাল আলো জলজল করছে একেবারে সত্যিকারের ভুতের মতন।
আসলে এটা লেজার লাইট।ইথানের আম্মু, ইপ্শিতা,আর লিয়া এই কাজ করছে।তারা লেজার লাইটটা ইহানের চোখে মারছে যার জন্য ওর চোখটা ওমন লাল হয়ে আছে।এইদিকে হাজারো ভুতের বিকট শব্দ,কুকুরের ডাক,এমন ভয়ঙ্কর ভুতের চেহারা সাথে শরীরের অসয্য যন্ত্রনায় কাতরাতে লাগলো দিদুন।এতো ভয়ে ভয়ে বেচে থাকার চেয়প মরে যাওয়া এর চেয়ে ভালো।একসময় ভয়ের চোটে জ্ঞান হারালো সে।
ব্যাস এটারইতো অপেক্ষা করছিলো তারা।দিদুন সেন্সলেস হয়ে যেতেই ইহান বাদে ওরা পাচজন মিলে হোহো করে পাগলের মতন হাসতে রইলো।দিদু্নের দোয়া পরার কথা মনে পরতেই ইথান আবারো হাসতে রইলো।
কিন্তু ইহানের চোখতো অন্য কোথাও তাকিয়ে আছে।আসলে সে ব্যালকনিতে ঘুমিয়ে থাকা ফারিহার ক্লান্ত মুখটা দেখছে।উপরতলায় দিদুনের রুমের সোজাসোজি ফারিহা আর ইহানের রুমটা।এইজন্য ফারিহাকে দেখতে পারছে সে।ফারিহার দিকে তৃষ্ণাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে।এ কয়েকদিনে ফারিহার মুখটা কেমন শুকিয়ে গিয়েছে।ইহানের চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো ফারিহার এমন মুখটা দেখে।চাইলেও এখন সে ফারিহার সামনে যেতে পারবেনা যতক্ষণ না ইথান বলছে।
ইথানের ডাকে ইহানের হুস ফিরে।তারাতারি করে চোখের জল মুছে নেয় সে।ইথান বিষয়টা বুঝতে পেরে পেছন থেকে ইহানের কাধে হাত রেখে বলে উঠে,
—-ফারিহার জন্য মন খারাপ হচ্ছে তাই না?
হঠাৎ ইথানের এমন কথায় চমকে উঠলো ইহান।নিজেকে যথাসম্ভব সাভাবিক করার চেষ্টা করলো সে।ইহানের এমন কাজে কিছুটা হাসলো ইথান।তারপর ধীর কণ্ঠে বলে উঠলো,
—-চিন্তা করিস না!আজকে যা ডোস পরছে দিদুনের তাতে কালকে সকাল হতেই সবটা নিজ থেকে শিকার করবে।মনে হয় না আর এই ডোজ দেয়া লাগবে।তখন তুই সবার সামনে আসতে পারবি।এখন তারাতারি আমার রুমে চল।
ইথানের কথা শুনে একটা মুচকি হাসি দিয়ে ইহান সেখান থেকে চলে গেলো ইথানের রুমে।আর ইথান সহ বাকিরা তাদের সব জিনিসপত্র লুকিয়ে রেখে দিদুনের ঘরে গিয়ে গ্লাস ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো লুকিয়ে ফেললো আর দিদুনকে বিছানায় শুয়িয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো তারা।
ফজরের আজানে ফারিহার ঘুম ভাঙে।ব্যালকনি থেকে উঠে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ফজরের নামাজ পরে নেই সে।নামাজ শেষে মোনাজাতে ইহানোর জন্য প্রচুর কান্না করে সে।তারপর জায়নামাজ উঠিয়ে রেখে একটু বাহিরে বের হয় সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশটা উপোভোগ করার জন্য।
রুমের বাহিরে এসে নিচে নেমে যখন সে বাগানের দিকে যাবে তখন দিদুনের ঘরের দরজা খোলা দেখে বেশ অবাক হলো সে।একটু এগিয়ে যেতেই দিদুনকে ঘুমাতে দেখে অবাক হয় সে।ওনি ফজরের নামাজের সময় উঠে আর তো ঘুমায় না।তাহলে আজ হঠাৎ এখনো ঘুমাচ্ছে।ফারিহা কিছু একটা ভেবে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে দিদুনকে ডাক দিলো কিন্তু সে তাও উঠলো না।ফারিহার এবার ভয় হতে শুরু করলো।এতো ডাকার পরও উঠলো না।
ফারিহা গিয়ে দিদুনের গায়ে হাত রেখে যখনই ডাকতে যাবে তখনই সে অবাক হলো।শরীর খানিকটা গরম।আসলে ভয়ে তার জ্বর চলে এসেছে।এতো সকালে কেউ তেমন ঘুম থেকে উঠেনি।ফারিহা কিছু না ভেবেই একটা বাটিতে পানি নিয়ে রুমাল ভিজিয়ে দিদুনের মাথায় জলপটি দিতে লাগলো।প্রায় আধাঘন্টা পর দিদুনের জ্ঞান ফিরলো।শেষরাতের দিকে জ্ঞান ফিরলেও জ্বরের জন্য আবারো বেহুশ হয়ে যায় সে।সামনে ফারিহাকে দেখে ভয়ে জড়িয়ে ধরে তাকে।হাউমাউ করে কেদে উঠে সে।
দিদুনের এমন কাজে ফারিহা অবাকের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।সে বুঝতে পারছেনা আজ হঠাৎ দিদুনের কি হলো।
ইথান সকাল সকাল মর্নিং ওয়াকের জন্য বেরুচ্ছিলো।ইহান এখনো তার রুমে ঘুমোচ্ছে।ইথান ভেবেছিলো সেখান থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে একবার লাবিবার সাথে দেখা করতে যাবে।আর দুদিন পরই হয়তো ওকে রিলিজ দিয়ে দিবে।রুম থেকে বেরিয়ে দিদুনের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার কান্নার আওয়াজ পেয়ে সেখানেই থেমে যায় সে।মনে মনে একটা ডেভিল স্মাইল দিয়ে বলে উঠে,
—-বাহ!ডোজটা যে এতো তাতারি কাজে দিবে ভাবতেও পারিনি।এখন ভালোই ভালোই সব শিকার করলেই হলো।কারন বৃদ্ধ মানুষকে তো আর মেরে সত্যিটা বের করানো যায় না।এতে আরো ব্যাপারটা জঘন্য আর বিচ্ছিরি দেখাবে।তাই এভাবেই আসল কথাটা বের করতে হবে।
ইথান কিছু একটা ভেবে রুমের ভিতরে ঢুকলো আর যা দেখলো তাতে অবাকের শেষ পর্যায়ে চলে গেলো সে,,
#চলবে?
#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_৩২
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া
নাদিয়া বেগম(দিদুন) ফারিহাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আর বলছে,
—-আমি খুনি।আমি তোর স্বামীর খুনিরে দিদিভাই।তোর সবথেকে বড় সম্পদ আমি কেড়ে নিয়েছি তোর থেকে।
দিদুনের এমন কথা শুনে ফারিহা অবাক চোখো তার দিকে তাকিয়ে আছে।সে জানো স্তব্দ হয়ে গিছে।দিদুনের কথার মানে বুঝতে পারছে না সে।ফারিহা অবাক হয়ে কিছুটা সন্দেহর কণ্ঠে বলে উঠলো,,
—-আমার স্বামি তো ইহান।কিন্তু তুমি কেনো ইহানের খুনি হতে যাবে দিদুন?ইহান তো অতিরিক্ত ব্লিডিং এর জন্য মারা গেছিলো ওটিতে।তুমি জ্বরের ঘোরে কিসব উল্টাপাল্টা বকছো দিদুন?
—-না আমি উল্টাপাল্টা না সত্যি বলছি।আমি ডক্টরকে বলেছিলাম যাতে ইহানকে ওটিতেই মেরে ফেলে ডক্টর আর কিছু একটা বলে ধামাচাপা দিয়ে দেয় বিষয়টা যাতে কোউ টের না পায়।আর এখন ইহান মরে যাওয়ার পর ভুত হয়ে আমার পিছনে পরেছে ওর মৃত্যুর বদলা নেয়ার জন্য।আমাকে তুই বাঁচা!….
দিদুনের কথা শুনে ফারিহা জানো অবাকের শেষ পর্যায়ে চলো গেলো।একবার ভাবছে বুড়ো মানুষ জ্বরের ঘোরে হয়তো এসব উল্টাপাল্টা বকছে।আবার ভাবছে জ্বর এতোটাও বেশি না যে এতো উল্টাপাল্টা কিছু বলবে।তাছাড়া ভুতের কথা কেনো বলবে?হঠাৎ দিদুনের জ্বর আসার কারনটাও বুঝতে পারছে না সে।সব জানো তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
ইথান রুমের ভেতর ঢুকে দিদুনের এমন কথা শুনে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ওর দিদুন অনেক চাপা সভাবের তারঅপর কখনো নিজের দোষ শিকার করতে চায়না।সবসময় অন্যকে দোষারোপ করে।সে কিনা এতো সহজে সবকিছু শিকার করলো ভাবতেই চমকে উঠলো সে।তার দিদুন যে ভুতকে ভয় পায় এটা সে জানতো কিন্তু তাই বলে এতোটা ভয় পাবে সে ভাবতেও পারেনি।কিন্তু ভুতের ভয়ে সবটা শিকার করলেও সে তার কাজের জন্য আদৌ কি অনুতপ্ত?মনে মনেই কথাগুলো ভাবছে ইথান।
হঠাৎ দিদুন রুমে অন্যকারো উপস্থিতি টের পেয়ে ফারিহাকে ছেড়ে সেদিকে খেয়াল করলো।ইথানকে দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুটা ভয় পেলো সে।তার ভয় হচ্ছে এটা ভেবে যে, ইথান সত্যিটা জানার পর না জানি কি করবে ওনার সাথে।হঠাৎ ফারিহা সবার চিন্তার মাঝেই বলে উঠলো,
—-ইথান ভাইয়া আপনি এখানে এসে ভালো করেছেন।দেখুন না দিদুন কি সব আবোল-তাবোল বলছে।ওনার জ্বরও আছে হালকা।আপনি একটু দেখুন।
ফারিহার কথা শুনে ইথান নিজের ধ্যান থেকে ফিরে।তারপর কিছুটা শান্ত কণ্ঠে বলে উঠে,
—-দিদুন আবোল-তাবোল কিছুই বলছেনা ফারিহা।তার বলা প্রত্যেকটা কথা সত্যি।ওনি ডক্টরকে বলেছিলো ইহানকে মারতে যার জন্য ডক্টর ওকে স্লো পয়জোনিং করে ওটিতে।
ইথানের কথা শুনে ফারিহার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো।তাহলে দিদুন সত্যি ইহানকে মেরেছে?তার সবটুকু খুশি কেড়ে নিয়েছে সে।কিন্তু কেনো এমন করলো সে?ফারিহা আর কিছু ভাবতে পারছে না।তার চোখদুটো এবার ঝাপসা হয়ে এসেছে।
ইথান এবার তার দিদুনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
—-দিদুন এখনো সময় আছে।সব সত্যিটা বলে দেও সবাইকে।নাহলে ইহানের ভুত কিন্তু তোমাকে ছাড়বে না।তুমি তো জানো ভুতরা তার অপরাধীকে ছাড়ে না যতক্ষণ না সেই অপরাধী শাস্তি পাচ্ছে।তাই সময় থাকতে সত্যিটা বলে দেয়া উত্তম আমার মতে।
ইথানের কথা শুনে ওর দিদুন ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইথান আবারো ঘৃণাভরা কণ্ঠে বলে উঠলো,
—-এক মিনিট দিদুন।শুধু আমার কিংবা ফারিহার সামনে নয় বরং বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্যের সামনে তুমি নিজের করা জঘন্য অন্যায় শিকার করবে।
আর কেউ কিছু বলে উঠার আগেই ইথান বাড়ির সবাইকে ডাক দিলো।এতো সকালে ইথানের চেঁচামেচিতে সবার ঘুম ভেঙে যায়।ইহানের ঘুম ভাঙলেও সে নিচে যায় না কারন ইথান তাকে নিষেধ করেছিলো।
বাড়ির ছোটরা চোখ ডলতে ডলতে নিচে নামে।বাকিরা সবাই নিচে নেমে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ইথানের দিকে তাকায় কি হচ্ছে বুঝার জন্য।ইথান কিছু না বলেই তাদেরকে দিদুনের ঘরে নিয়ে আসে।
সবাইকে একসাথে দেখে দিদুন কিছুটা ঘাবরে যায়।এখন সবাই সবটা জানলে না জানি তার সাথে কিরূপ ব্যাবহার করবে।এইদিকে সবটা না শিকার করেও উপায় নেই কারন ভুত যদি আবার আসে তাকে মারার জন্য।তাছাড়া ইথানকে দেখে মনে হচ্ছে সে সবটা জেনে গিছে।কিন্তু কিভাবে জানলো।দিদুনের হাজারো চিন্তার মাঝে ইথান বলে উঠলো,
—-কি হলো দিদুন?সবাইকে বলো সবটা।দেখো তুমি সত্যিটা না বললেও যেই ডক্টর তোমার কথা শুনে ইহানকে স্লো পয়জোনিং করেছে সে কিন্তু পুলিশের কাছে আটকা আছে।ওনি সবটা বলে দিবে।
এবার নাদিয়া বেগমের কাছে আর কোনো পথ খোলা নেই দেখে সে সবার সামনে সবটা বলে দিলো যে সেই ইহানকে মারতে বলেছিলো ডক্টরকে।কথা বলা শেষে সে ভয়ে ভয়ে তাকালো সবার দিকে।
অন্যদিকে সবাই জানো পাথর হয়ে গিছে কথাটা শুনে।ছোটরা কেউ মানতে পারছে না তাদের দিদুনের নামে এতো বড় অভিযোগ।ইপ্শিতার রাগে গা কাঁপছে।সে আগেই জানতো যে ওনি ইহানকে মারতে চেয়েছিলো তবুও এখন শাশুড়ীর মুখে সবটা শুনে জানো তার রাগ দিগুন হয়ে গেছে।ওনার বয়স হয়েছে তাই ইপ্শিতা তাকে কিছু বলছে না নাহলে এখনি এই বুড়ির চুল টেনে ছিরতো সে।কেউ রেগে আাছে তো কেউ ঘৃনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।কিন্তু ফারিহার কোনো রকম প্রতিক্রিয়া নেই।সে শান্ত হয়ে বসে আছে এখনো।নিরবে চোখের জল ফেলছে সে।তার কাছে এই সবকিছু এখন বিষাক্ত লাগছে।
ফারিহা আস্তে করে উঠে গিয়ে নাদিয়া বেগমের সামনে দাড়ালো।তারপর ডুকরে কেঁদে বলে উঠলো,
—-আচ্ছা দিদুন ইহান তোমার কি এমন ক্ষতি করেছিলো বলোতো?কেনো মারলে ওকে?জানি ও অন্যায় করেছিলো তাই বলে ওকে মেরেই ফেলবে?অন্য শাস্তিও তো দিতে পারতে তাইনা?তুমি শুধু ইহানকে না সাথে আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাকেও মেরে ফেলছো।আমাকে জীবন্ত লাশ বানিয়ে দিয়েছো।কেনো করলে বলো?কেনো এমন করলে?
ফারিহা পাগলের মতন কাঁদছে আর কথাগুলো বারবার বলছে।ফারিহার কান্না দেখে বাকি সবারও চোখে পানি চিকচিক করছে।নাদিয়া বেগম চুপ করে দাড়িয়ে আছে।ঠিক তখনই ইহানের বাবা এসে বলে উঠলো,
—-আমি তো তোমাকে নিজের মাই ভাবতাম।তুমি তো আমাকে নিজের ছেলের মতনই ভালোবাসতে তাহলে কেনো এমন করলে বলো?আমার মা মারা যাওয়ার পর থেকে তুমি তো আমাকে মায়ের স্নেহ দিয়েছো।কখনো বুঝতে দেওনি তুমি আমার সৎ মা।তাহলে আমার মা হয়ে কি করে তুমি ছেলের খুশিকে কেড়ে নিলে?
ইহানের বাবার কথা শুনে সবাই চুপ করে রইলেন।তারা সবাই জানেন যে ইহানের বাবা নাদিয়া বেগমের নিজের ছেলে নয়।বরং তার সৎ ছেলে।নাদিয়া খানের স্বামি মানে ইথানের দাদুর দুটো বিয়ে ছিলো।প্রথম স্ত্রী হচ্ছে নাদিয়া বেগম এবং দ্বিতীয় হচ্ছে সায়েরা খান যে কিনা অনেক আগে মারা গিয়েছে যখন ইহানের বাবা খুব ছোট ছিলো।ইহানের বাবা সায়েরা খানের সন্তান।কিন্তু তার মা মারা যাওয়ার পর সে নাদিয়া বেগমের কাছেই বড় হয়।এমনকি পরিবারের সবাই ছাড়া এই বিষয় জানেও না আর জানতে পারেওনি কারন তাদের মধ্যে এতোটা ভালোবাসা ছিলো।কিন্তু এতো ভালোবাসার মাঝেও কোথাও একটা খাদ রয়েই গেছে।আর সেটা হলো নাদিয়া বেগমের মাঝে।
—-সৎ কখনো আপন হয়না বুঝলি।তোকে আমি নিজের ছেলের মতনই ভালোবেসেছি ঠিকই কিন্তু তোর ছেলে তার কি প্রতিদান দিলো?আমার নিজেরই নাতি ইথান দাদুভাইকে কষ্ট দিতে চেয়েছিলো।লাবিবাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো।শয়তান কখনো ভালো হয়না।তাই ভবিষ্যতে যাতে আর কারোর ক্ষতি না করতে পারে তাই ওকে আমি মেরে ফেলতে বলেছি।তোর ছেলে প্রমান করে দিয়েছে সে আমার আপন না সৎ নাতি।ছোট থেকেই ওকে আমার সয্য হতো না।ইহান একটা আপদ ছিলো আমাদের জন্য যা দূর হয়ে গিছে।
নাদিয়া বেগমের কথা শুনে ইহানের বাবার প্রচুর খারাপ লাগলো।তার ছেলের অন্যায় আছে সে মানছে কিন্তু তাই বলে তাকে মেরে ফেলার অধিকার কারোর নেই।জীবন নেয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর আছে কারন তিনি সবাইকে জীবন দান করেন।ইথান রেগে ওর দিদুনের কাছে তেড়ে এসে বলে উঠলো,
—-আজ তুমি বৃদ্ধ আর একজন মহিলা বলে নাহলে তোমাকে ওই ডক্টরের মতনই মারতাম আমি।ইহানকে সয়তান বলছো কিন্তু তোমার নিজের মনই তো সয়তানিতে ভরা।তুমি নিজেই আপন আর সৎ ভেদাভেদ করেছো।পারিবারিক সম্পত্তিগুলো বেশিরভাগ তোমার নিজের দুই ছেলের নামে করে দিয়েছো ছোট কাকুকে বাদ রেখে।একটা ১ বছরের বাচ্চার মনে হিংসা ভরে দিয়েছিলে আমার নামে।তাকে কম ভালোবেসে,এক চোখে দেখে তার মনে ভালোবাসার বদলে রাগ ভরে দিয়েছিলে আমার নামে।আসলে অন্যায় ইহান করলেও দোষী আসলে তুমি।আর এখন তো তোমার উপর আমার ঘৃণা লাগছে যে আমার দিদুন হয়ে কিনা তুমি এই শেষ বয়সে এসেও কাউকে মারতে চেয়েছিলে।একবার ফারিহা,ইপ্শিতা কাকিয়া,ছোট কাকুর কথা ভাবলে না পর্যন্ত।ওরা কি করে থাকতো নিজের স্বামী সন্তান ছাড়া?আসলে বড় সয়তান তো তুমি যে কিনা একটা ছোট্ট বাচ্চাকে হিংসায় ভরিয়ে তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।তোমাকে আমার জাস্ট সয্য হচ্ছে না।দিদুন বলতেও ঘৃণা করছে আমার।
ইথানের মুখে এমন কথা শুনে নাদিয়া বেগমের প্রচুর খারাপ লাগছে।সে বুঝতে পারেনি ইথান এমন রিয়েক্ট করবে তার উপর।ছোট থেকেই ইথানকে খুব স্নেহ করে সে এইজন্য ইথানের এমন কথা মানতে তার প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে।সবার নিরবতার মাঝেই ইথান আবারো বলে উঠলো,
—-ভাগ্যিস আমি ইহানকে দিয়ে ভুতের নাটকটা করিয়েছিলাম তাই তো এতো সহজে সবটা শিকার করলে নাহলে তো কাউকে কিছুই বলতে না।
ইথানের কথা শুনে উপস্থিত সবাই চমকে উঠলো।ফারিহা কান্নার মাঝেও স্তব্দ হয়ে তাকিয়ে রইলো ইথানের দিকে।ইহান তো মারা গিছে তাহলে ওকে দিয়ে কি করে ভুতের নাটক করাবে,,,,
#চলবে?