#চিরদিনই_তুমি_যে_আমার
#নূরা_ফাতেহা
||১৩||
সবেমাত্র বাড়িতে পৌঁছালো তারীন।
বাড়ির উঠোন, বারান্দা, সিঁড়ি ঘরের প্রতিটা জিনিস একদম আগের মতোই আছে। কাঠের ভারী আলমারিটা সেই একই জায়গায় স্থির, বারান্দার টবে মানিপ্ল্যান্টের পাতাগুলো একইভাবে হাওয়ায় দুলছে। কিন্তু চারপাশের এতসব অপরিবর্তিত দৃশ্যের মাঝেও তারীন অনুভব করল, তার ভেতরের মানুষটা এক লহমায় কেমন যেন পাল্টে গেছে। সে আর সেই আগের বাঁধনহারা মেয়েটি নেই, সে এখন বিবাহিত আযরাফ চৌধুরীর সোহাগে বাঁধানো ঘরণী।
বিগত কিছুদিন ধরে বুক চিরে যে পুরনো প্রেমিকের জন্য আক্ষেপ জেগে উঠত, আজ আচমকা তার সাথে যোগাযোগের কোনো ইচ্ছেই আর তারীনের মনে জাগল না। অতীতের তীব্র টানটা কেমন যেন ফ্যাকাসে, ফিকে হয়ে এসেছে। নিজের অবাধ্য মনটাকে সে এবার শক্ত করে বোঝাতে চাইছে, নদীর স্রোত কখনো পেছন পানে বয় না।
এখনো ফ্রেশ হওয়া হয়নি তার। জামা ভিজিয়ে কাদা-পানির দাগ লেগে আছে নীচটায়। ঠিক তখনই তারীনের বাবা মোশারফ হোসেন হাতে বন্ধ হয়ে থাকা ফোনটা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। মেয়ের দিকে মোবাইলটা বাড়িয়ে দিয়ে স্নেহের গলায় বললেন,
— “চার্জ দে মা। চার্জের অভাবে ফোনটা একদম বন্ধ হয়ে পইড়া আছে।”
তারীন হাত পেতে ফোনটা নিল। মোশারফ হোসেন মেয়ের মাথায় মমতাময় হাত বুলালেন। বাবার হাতের সেই চিরচেনা ওম পেয়ে তারীনের বুকজুড়ে এক তৃপ্তি নেমে এলো। বাবা নিঃশব্দে রুম থেকে বের হয়ে গেলে সে ফোনটা টেবিলের কোণে চার্জে বসিয়ে দিল। সামান্য বেজা আর বিষণ্ণ মন নিয়ে তারীন ধীরপায়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামবে নামবে ভাব। আকাশে ভেসে বেড়াছে কালো মেঘ।
ঠিক তখনই তাদের পাড়ার ক্লাবঘর থেকে দূরবর্তী চেনা মিউজিকের শব্দ ভেসে এলো কানে। বুকটা হালকা কেঁপে উঠল তার। একসময় এই ক্লাবঘরের আশেপাশেই সে কত অপেক্ষার প্রহর গুনেছে! রোজ বিকেলে এই পথ দিয়েই তো সে যেত টিফিন ক্যারিয়ারে করে পুরনো প্রেমিকের জন্য পছন্দের খাবার নিয়ে চুরি করে দেখা করতে। কত আকুলতা ছিল তখন, কত নির্ঘুম রাত! অথচ আজ? সেইসব পুরনো স্মৃতি, সেই চেনা রাস্তা বা অতীতের সেই সুতীব্র টান কিছুই আর তাকে স্পর্শ করছে না। স্মৃতিগুলো এখন শুধুই এক রূপকথা, যার স্থায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে। ক্লাবঘরের মিউজিক ছাপিয়ে তারীনের হৃদয়জুড়ে এখন কেবল একটিই মানুষের গম্ভীর প্রতিধ্বনি ভেসে উঠছে। তার হৃদয় টানছে আযরাফ চৌধুরীর দিকে। বেলকনির গ্রিলটা শক্ত করে চেপে ধরল সে। মনে পড়ে গেল লোকটার সেই ত্যাড়া আর গম্ভীর কন্ঠস্বর, ‘খাঁচার মালিক কিন্তু দূরেই তোমার জন্য প্রতীক্ষা করছে, পাখি।’
তারীন আনমনে ধোঁয়াটে আকাশের দিকে তাকিয়ে এক চিলতে মিষ্টি হেসে ফেলল। আজ আর কোনো দ্বিধা নেই, কোনো অনুশোচনা নেই। জীবনের সব জটিল অংক পেরিয়ে তার মন এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেবল সেই কাঠখোট্টা প্রফেসরের প্রেমেই আশ্রয় খুঁজতে চায়।
_______________
ফ্রেশ হয়ে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে ধীরেসুস্থে চুমুক বসাচ্ছে আযরাফ। তার চোখের সামনে খোলা পড়ে আছে মোটা একখানা ইংরেজি বই, তবে মনোযোগ সেখানে আছে বলে মনে হয় না। এমন সময় রোকসানা বেগম পা টিপে টিপে রুমে প্রবেশ করলেন। বিছানার পাশে এসে আলতো করে আযরাফের ঘন, এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শুধালেন,
— “কেমন হলো তোর সেমিনার?”
আযরাফ কফির কাপে আরেকটা ছোট চুমুক দিয়ে বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে চোখ না সরিয়েই সংক্ষিপ্ত জবাব দিলো,
— “ভালো।”
রোকসানা বেগম ঠোঁটের কোণে মৃদু এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন,
— “মিস করছিস ওকে?”
আযরাফ এবার বইটা হালকা করে বন্ধ করল। শান্ত, গম্ভীর কণ্ঠে খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,
— “খুব স্বাভাবিক। বউ আমার, তাই।”
— “তাহলে কল করছিস না কেন তাকে?”
আযরাফ চেয়ারের হেলান দিয়ে একটু পেছনে হেলে বসল। কফির কাপটা টেবিলে রেখে মায়ের দিকে তাকিয়ে ধীরস্বরে বলল,
— “উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের একটা কথা আছে, জানো তো? ‘অ্যাবসেন্স মেকস দ্য হার্ট গ্রো ফন্ডার’ দূরত্ব হৃদয়ের আকুলতা আরও বাড়িয়ে দেয়।”
রোকসানা বেগম ভুরু জোড়া সামান্য কুঁচকে ছেলের দিকে চাইলেন,
— “তুই কি এখন সেই পথে হাঁটছিস?”
— “হুম! ও দূরে থাকলেই বুঝতে পারবে ও আসলে কাকে চায় বা কাকে মিস করছে আমায়, নাকি তার পুরনো প্রেমিককে?”
ঘরের ভেতর একমুহূর্তের জন্য ভারী এক নীরবতা নেমে এলো। রোকসানা বেগম কিছুক্ষণ নীরব থেকে আযরাফের গভীর চোখের দিকে তাকিয়ে একটু আশঙ্কিত গলায় প্রশ্ন করলেন,
— “যদি অতীত কখনো ফিরে আসে, তখন কী করবি?”
আযরাফ সামান্য হাসল। অতঃপর সে শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— “ফুপি, আমি অতটা বোকা নই। আমি আমার পাখিকে তখনই মুক্ত করেছি, যখন নিশ্চিত হয়েছি তার একমাত্র ঠিকানা কেবল আমি। ছেলেটা আর ওর ধারেকাছেও নেই, অনেক দূরে ওর জীবনের সীমানা থেকে শতগুণ দূরে।”
——————————
বাইরে মাগরিবের আজান ধ্বনিত হচ্ছে। সন্ধ্যার ধূসর আলো ধীরে ধীরে ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, আর তার সাথে মিশে যাচ্ছে বাতাসের হালকা হিমেল পরশ।
তারীন ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে বসল বারান্দার ছোট টেবিলে। ধোঁয়া ওঠা গরম চা আর বিস্কুটের বাটি সামনে রাখা। চায়ের কাপে একটা হালকা চুমুক দিতেই সারাদিনের ক্লান্তিটুকু যেন একটু হলেও লাঘব হতে লাগল। ঠিক সেই মুহূর্তে রেবেকা বানু মেয়ের ঘরে ঢুকলেন। হাতে একটা মোড়া নিয়ে তারীনের একদম মুখোমুখি বসে মমতাময় চোখে মেয়ের দিকে তাকালেন। পরম স্নেহে হাত বাড়িয়ে তারীনের কপালে নেমে আসা কয়েকগাছা ভেজা চুল কানে গুঁজে দিলেন।
দীর্ঘদিনের চিন্তিত মায়ের মন আজ একটু হলেও শান্তি খুঁজছে। মেয়েকে এভাবে নিজের ঘরে শান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে তিনি ধীরগম্ভীর কণ্ঠে শুধালেন,
— “তুই সুখে আছিস তো মা?”
তারীন চায়ের কাপে দৃষ্টি রেখে একটু থমকে দাঁড়াল। তারপর খুব নিচু, কিন্তু তৃপ্ত কণ্ঠে জবাব দিলো,
— “আছি।”
রেবেকা বানু মেয়ের মুখচ্ছবি ভালো করে পরখ করে নিলেন। শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে আবার জিজ্ঞেস করলেন,
— “আযরাফ তোর যত্নআত্তি করে তো?”
তারীন চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে রাখল। চোখে ভেসে উঠল সেই ঝড়-বৃষ্টির দিনে তার প্রতি লোকটার অনাবিল যত্ন, ভিজতে থাকা রাতে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছে দেওয়া আর কপালে রাখা সেই আলতো অনুভূতির ছোঁয়া। সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলল,
— “করে।”
— “খুব ভালোবাসে তোকে?”
তারীনের বুকের ভেতরটা আচমকা এক অচেনা দোলায় কেঁপে উঠল। চিরকুটের সেই এক বছর আগের লেখা কথাগুলো আর সাভার থেকে ফেরত আসার সময় পথঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার অবয়ব নিমেষেই ভেসে উঠল চোখের সামনে। সে একটু ইতস্তত করে হালকা হেসে মাথা নেড়ে বলল,
— “হুম, বাসেন।”
রেবেকা বানুর মুখের চিন্তার মেঘ কাটতে শুরু করল। তিনি আরেকটু এগিয়ে এসে নরম স্বরে জানতে চাইলেন,
— “তোর শ্বশুর আর ফুফু শাশুড়ি কেমন রে?”
তারীন এবার প্রফুল্ল মুখে সরাসরি মায়ের দিকে তাকাল। মনে পড়ে গেল সকালে শ্বশুরের তৈরি করে দেওয়া সেই আধ্যাত্মিক আর পিতৃতুল্য পরিবেশ, আর ফুফুর পরম আপন করে নেওয়ার ব্যাকুলতা। সে ধীরস্বরে বলল,
— “খুব ভালো, আমাকে বউ কম, নিজের মেয়ে বেশি মনে করে।”
মেয়ের মুখ থেকে এই কথাটি শুনে রেবেকা বানুর চোখে স্বস্তির জল টলমল করে উঠল। মাগরিবের আজানের সুমিষ্ট সুর ঘরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হতে থাকলে তিনি শান্ত মনে উঠে দাঁড়ালেন, মেয়ের মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে বিড়বিড় করে ঈশ্বরের দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন।
তারীন আবার জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
গোধূলির আলো মুছে গিয়ে নিঝুম অন্ধকার নেমে আসছে চারপাশে। ক্লাবঘরের সেই চেনা সুর কিংবা অতীত স্মৃতি এখন আর তার মনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করে না। সন্ধ্যার এই নির্জনতায় তার সমস্ত সত্তা জুড়ে এখন কেবল একটাই প্রতিধ্বনি সেই কাঠখোট্টা লোকটার গভীর ভালোবাসা, যা এখন তার জীবনের একমাত্র পূর্ণতা।
———————–
নামাজ শেষে জায়নামাজ বিছিয়ে তসবিহ হাতে নিয়ে বসে আছে আযরাফ। বিগত কয়েক দিন পর সে আবার নামাজে দাঁড়িয়েছে। এমন সময় রুমে ঢুকলো মায়া। হাতে তার বই খাতা। আযরাফকে তসবিহ হাতে জায়নামাজে বসে থাকে। সে অবাক প্রায়। কারন বাসার সবাই তাকে নামাজের কথা বলে কাহিল। আর এখন সে নামাজ পড়ছে তাও নিজ হতে এ যেনো বড়ই বিরল দৃশ্য বটে!
তসবিহ শেষ হতে বিরাট বড়ো এক মোনাজাত ধরল আযরাফ। মোনাজাত শেষ হতে জায়নামাজ গুটিয়ে নিয়ে ড্রায়ারে রেখে, পিছন ঘুরতেই দেখতে পেলো মায়াকে। মায়াকে তার পানে এমন চেয়ে থাকতে সে শুধালো,
—”কি রে এমন করে চেয়ে আছিস কেনো?”
—”দেখছি।”
—”আমাকে দেখার কি আছে আজব?”
—”না মানে তুমি নামাজ পড়ছো?”
—”হুম! তো!”
—”তো কিছুনা, হঠাৎ এই বদল দেখে চমকে গেছি।”
—”ওতো চমকানো কিছু নাই বিয়ের পর পুরুষ মানুষরা বদলায় তাই আমিও বদলাচ্ছি।”
—”শুনে খুশি হলাম।”
—”তুই এখানে? কি মনে করে?”
—”একটা চ্যাপ্টার বুঝছিনা একটু বুঝিয়ে দেও ভাইয়া?”
—”দিবো। আগে বোস। আমি ওয়াশরুম হতে আসছি।”
মায়া মৃদু মাথা নাড়িয়ে পা টেনে চেয়ে বসল। আযরাফ ওয়াশরুমে গেলো ফ্রেশ হতে।
—————————
মাগরিবের নামাজের পর অন্ধকার আরও ঘন হয়ে নেমে এসেছে পাড়ায়। তারীনের ঘরের বারান্দায় এখন নিশুতি বাতাসের মৃদু দোলা।
রেবেকা বানু নামাজ শেষ করে তাসবিহ হাতে আবার মেয়ের ঘরে এলেন। তারীনের শান্ত চোখ জোড়া আর জানালার বাইরের অন্ধকারের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকা দেখে মায়ের মনটা কেমন যেন মায়ায় ভরে উঠল। তিনি জানালার পাশে এসে দাঁড়াতেই তারীন মায়ের দিকে তাকাল।
— “মা?”
— “বল মা।”
— “মানুষ কি এক জীবনে দুজনকে ভালোবাসতে পারে?”
রেবেকা বানু মেয়ের পাশে একটা মোড়ায় বসলেন। তাসবিহ দানাগুলো আঙুলের ভাঁজে স্থির রেখে খুব নিচু ও মমতাময় গলায় বললেন,
— “ভালোবাসা তো কোনো হিসাবের খাতায় লেখা অঙ্ক নয় রে তারীন। মনের ভুল আর আসল অনুভূতির পার্থক্য মানুষ সব সময় শুরুতেই বুঝতে পারে না। কখনো কখনো মানুষ যাকে আলো মনে করে আকড়ে ধরে, সেটা হয়তো কেবলই একটা ক্ষণস্থায়ী মোহের ছায়া। আর যাকে ঝড় মনে করে ভয় পায়, দিনশেষে সে-ই আসলে শান্ত নীড় হয়ে দাঁড়ায়। আসল ভালোবাসা সেটাই, যা তোকে সম্মান দেয়, আগলে রাখে আর তোর অজান্তেই তোকে বদলে দেয়।”
তারীন চুপ করে রইল। মায়ের কথাগুলো যেন তার বুকের গহীনে আটকে থাকা শেষ পাথরটাকেও এক ধাক্কায় গলিয়ে দিল। তার মনে পড়ে গেল প্রফেসরের সেই গম্ভীর ব্যাকুল কথাগুলো, ‘তোমার এই ত্যাড়া স্বামীটা দূরে থাকলেও খাঁচার মালিক কিন্তু তোমার জন্যই প্রতীক্ষা করছে।’
ফোনটা এতক্ষণে চার্জ হয়ে বন্ধ অবস্থা থেকে চালু হয়েছে।
টেবিলের ওপর রাখা মোবাইলটা হঠাৎ হালকা কেঁপে উঠে নীরবতা ভাঙল। স্ক্রিনে একটা নতুন মেসেজের নোটিফিকেশন ভেসে উঠেছে।
অচেনা নম্বর হতে,তারীন বুক ধড়ফড় নিয়ে মোবাইলটা হাতে নিল। মায়ের অলক্ষ্যে ধীরহাতে মেসেজটা খুলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল কয়েকটি লাইন,
❝শ্রাবণকন্যা,
বাপের বাড়িতে গিয়ে নিশ্চয়ই এই খামখেয়ালী লোকটাকে একদম ভুলে আছ? আকাশে কালবৈশাখীর মেঘ জমছে। রাতে জানালার সবকটা কবাট ভালো করে বন্ধ করে ঘুমাবে। বাতাস কিন্তু বড্ড অবাধ্য, আমার অনুপস্থিতিতে তোমার গায়ে ঠান্ডা লাগিয়ে দিলে তার দায় কিন্তু এই ত্যাড়া স্বামীই নেবে।❞
মেসেজটা পড়ে তারীনের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক অপরূপ, লাজুক হাসি। বুকের ভেতরে যে নাম না জানা নদীর তোড় এতদিন জমাট বেঁধেছিল, তা আজ এক নিমিষে ভেসে গেল প্রফেসরের অগাধ ভালোবাসার জোয়ারে।
সে ফোনটা বুকের কাছে শক্ত করে চেপে ধরে জানালার ওপাশের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকাল। মনে মনে খুব শান্ত কণ্ঠে বলে উঠল, ‘আমি আর আপনাকে ভুলে থাকতে পারছি না, প্রফেসর। আমার সমস্ত পথ যে এখন কেবল আপনার দিকেই এসে মিশেছে।’
চলবে,,

