#চিরদিনই_তুমি_যে_আমার
#নূর_ফাতেহা
||১২||
রাতটা বেশ গভীর। জানালার বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক আর বাতাসে গাছের পাতার খসখস শব্দ ছাড়া পুরো পৃথিবী যেন এক নিঝুম নিস্তব্ধতায় ডুবে গেছে। ঘরের কোণে একটা ডিম লাইটের আবছা নীল আলো জ্বলছে।
তারীনের ঘুম আসছে না। সে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছে। পাশে মায়া শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে, তার সুষম নিঃশ্বাসের মৃদু শব্দ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তারীনের বুকের ভেতরটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। এত বড় ঘর, পাশে মানুষ, অথচ তার মনের ভেতর একটা বিশাল শূন্যতা হা-হা করে উঠছে। নিজের অজান্তেই তার চোখ বারবার ঘরের কোণে রাখা টেলিফোনটার দিকে চলে যাচ্ছে। অদ্ভুত এক ব্যাকুলতা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরেছে। ইচ্ছে করছে কাঠখোট্টা লোকটার কাছে একটা ফোন করতে। ওপাশের সেই ভারী, গম্ভীর কণ্ঠটা শুনতে যে কণ্ঠ তাকে ডেকে বলবে, ‘কী হলো শ্রাবণকন্যা, এখনো জেগে আছো?’
কিন্তু ফোন করবে কীভাবে? লোকটার নম্বরই তো তার জানা নেই! তারীন একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বুকটা ভারী হয়ে আসছে। এই সেই লোক, যার উপস্থিতি তাকে দমবন্ধ করে তুলত, যার স্পর্শে সে বিষিয়ে উঠত আজ সেই মানুষটা কাছে নেই বলেই পুরো ঘরটাকে এত অচেনা আর খাঁ-খাঁ লাগছে? মানুষের মন কি সত্যিই এত বিচিত্র? বিছানা ছেড়ে ধীরপায়ে উঠে দাঁড়াল তারীন। আলতো পায়ে হেঁটে গেল আযরাফের পড়ার টেবিলটার সামনে। নীল রঙের সেই ডায়েরিটা টেবিলের ওপর স্থির হয়ে পড়ে আছে। তারীন ডায়েরিটা হাতে নিল। আলতো করে পাতায় হাত বোলাতেই এক বছর আগের সেই লেখাটি তার চোখের সামনে ভেসে উঠল, ‘তুই আমাকে ঘৃণা কর পাখি, কিন্তু আমার কাছ থেকে দূরে যাস না।’
ঠিক তখনই তারীনের চোখ গেল ডায়েরির শেষ পাতায়। ডায়েরির পেছনের মলাটের ভেতরের দিকে খুব যত্ন করে ১১ ডিজিটের একটা মোবাইল নম্বর লেখা, আর তার নিচে ছোট করে লেখা, ‘আমার শ্রাবণকন্যার জন্য, যদি কোনোদিন তার এই ত্যাড়া স্বামীটাকে মনে পড়ে।’ তারীনের বুকের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতির তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। চোখের কোণে দুই ফোঁটা অবাধ্য জল জমে উঠল। লোকটা কি তবে জানত? সে কি জানত একদিন তার অবাধ্য পাখিটা তাকে এভাবে খুঁজবে?
তারীন আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। টেবিল থেকে ডায়েরিটা নিয়ে টিপটপ পায়ে গিয়ে দাঁড়াল কালো টেলিফোনটার সামনে। হাত কাঁপছে তার। রিসিভারটা কানে তুলতেই ওপাশ থেকে ডায়াল টোনের শব্দ ভেসে এলো। ডায়েরি থেকে নম্বরটি দেখে একটা একটা করে বোতাম টিপল সে। একবার রিং হলো দুইবার রিং হলো।
তারীনের বুকটা হাতুড়ির মতো পিটছে। সে ভাবল কেটে দেবে। মিছেমিছি অহংকার বিসর্জন দিয়ে কেন ফোন করতে গেল? কিন্তু রিসিভারটা নামিয়ে রাখার আগেই ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে যাওয়ার বদলে খট করে শব্দ হলো।
কোনো ‘হ্যালো’ নেই, কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। ফোনটা কানে নিয়েই ওপাশ থেকে ভেসে এলো সেই অতি পরিচিত, ভারী এবং শান্ত কণ্ঠস্বর,
— “এত রাতে টেলিফোনের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে ঘুম নষ্ট করার কোনো মানে হয়, শ্রাবণকন্যা?”
তারীন স্তব্ধ হয়ে গেল! নিঃশ্বাস আটকে এলো তার। লোকটা কী করে জানল যে ফোনটা সে-ই করেছে?
তারীন নিজেকে সামলে নিয়ে খুব ক্ষীণ, কাঁপা গলায় বলল,
— “আ-আপনি কীভাবে বুঝলেন আমি?”
ওপাশ থেকে আযরাফের মৃদু হাসির শব্দ ভেসে এলো। যে হাসিতে কোনো অহংকার নেই, কেবল এক অগাধ অধিকারবোধের সুর। আযরাফ খুব নিচু স্বরে বলল,
— “কারণ এই অসময়ে এই নম্বরে কল করার মতো সাহস বা পাগলামি এই পৃথিবীতে কেবল একজনেরই আছে। তা ছাড়া, আমার বুকের বা-পাশে যে একটা অদৃশ্য ঘণ্টা বাঁধা আছে পাখি, তুমি ফোন হাতে নিলেই সেটা বাজে।”
তারীনের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ল। সে রিসিভারটা শক্ত করে চেপে ধরে রইল। মুখে কোনো শব্দ ফুটছে না। আযরাফ ওপাশ থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর খুব বলল,
— “কাঁদছ কেন, পাখি? তোমার এই নীরবতাও তো আমাকে পুড়িয়ে মারছে। কিছু বলো।”
— “আপনি..আপনি বড্ড খারাপ মানুষ,আমাকে এভাবে একা ফেলে রেখে নিজে সাভারে গিয়ে বসে আছেন কেন?”— তারীন নাকের পানি টেনে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলল।
আযরাফ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর একদম নিরেট, গভীর গলায় জবাব দিল,
— “তোমাকে একা ফেলে আসিনি তারীন। আমার মনটা তো ওই নীল ডায়েরিটার ভিড়েই রেখে এসেছি। ডায়েরিটা পেয়েছ তা-ই তো?”
তারীন উত্তর দিল না। ঠোঁট চেপে ধরে কান্নার বেগ সামলানোর চেষ্টা করল। আযরাফ আবার বলল,
— “শোনো, কাল সকালে বাবার বাড়ি গিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকবে না। শরীর সুস্থ রাখবে, ঠিকমতো খাবে। আর যদি খুব বেশি কষ্ট হয়।”
— “কষ্ট হলে কী করব?”
— “আমার দেওয়া সেই লাল-নীল বেলুনগুলোর দিকে তাকাবে। ভাববে, এই ত্যাড়া লোকটা তোমার কাছেই আছে। তোমাকে আগলে রাখছে।”
তারীন ক্ষোভ আর মায়ায় মিশিয়ে বলল,
— “আপনি কি আসলেই কাল বিকেলে আসবেন না?”
— “আসব,আমার পাখিকে বাপের বাড়িতে রেখে আসার আগে আমি তাকে নিজের চোখে একবার দেখব না, তা কি হয়? এখন লক্ষ্মী মেয়ের মতো গিয়ে শুয়ে পড়ো। আর শোনো?”
— “কী?”
— “আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি, শ্রাবণকন্যা।”
ফোনটা কেটে গেল। ‘টু-টু’ শব্দটা ঘরে ঘুরে বেড়াতে লাগল।
তারীন রিসিভারটা নামিয়ে রেখে বুকে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আজ রাতে প্রথমবার তার মনে হলো, আযরাফ চৌধুরী নামে এই মানুষটা কেবল তার শিক্ষক বা জোর করে হওয়া স্বামী নয় এই লোকটাই তার জীবনের সেই নিরাপদ আশ্রয়, যা সে এতদিন ভুল করে অন্য কোথাও খুঁজে বেড়াচ্ছিল।
—————————–
পরদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই তারীনের ঘুম ভেঙে গেল। সকালের মেলাটে আবহাওয়াটা আজ বেশ স্নিগ্ধ। রাত্রের বৃষ্টির শেষ আমেজটুকু এখনো বাতাসে মেখে আছে। তারীন ধীরপায়ে রান্নাঘরে গেল। চুলায় পানি বসিয়ে সে নিজের হাতে এক কাপ কড়া করে চা বানাল। আশরাফ চৌধুরী সকালে উঠেই লিকার চা খান কথাটা গতকালই ফুফুর মুখে শুনেছিল সে।
চায়ের কাপ থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছে। ট্রেতে কাপটা নিয়ে তারীন হেঁটে গেল আশরাফ চৌধুরীর ঘরের দিকে। ঘরটার বন্ধ দরজার সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ ইতস্তত করে দাঁড়িয়ে রইল সে। বুকে একটা হালকা দুকপুকুনি। শ্বশুর মানুষ, গম্ভীর ঘরানার প্রবীণ পুরুষ। তবে মানুষটার চোখ দুটোতে সব সময়ই একধরনের পিতৃতুল্য ছায়া থাকে।
তারীন আলতো হাতে কাঠের দরজায় দুটো টোকা দিল। তারপর নিচু গলায় ডাকল,
— “আব্বা।”
ভেতর থেকে তৎক্ষণাৎ এক প্রবীণ, ভরাট অথচ কোমল কণ্ঠের উত্তর ভেসে এলো,
— “কে, মা তারীন?”
— “জ্বি! আব্বা, আমি আপনার জন্য চা নিয়ে এসেছি।”
— “আয় মা, ভেতরে আয়।”
দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই তারীনের ঘ্রাণেন্দ্রিয় এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে গেল। ঘর জুড়ে সুবাসিত সুরভিত আতরের মিহি গন্ধ। আশরাফ চৌধুরী খাটের ওপর দুই পা মুড়ে বসে তসবি জপছেন। মাথায় সাদা ধবধবে একখানা টুপি, পরনে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা ভোরের হালকা আলো এসে পড়েছে তাঁর মুখে। আজ এই প্রথমবার তারীন তার শ্বশুরের শোবার ঘরে পা দিল।
আশরাফ চৌধুরী হাত থেকে তসবিটা রেখে দিলেন। তারপর তারীনের দিকে চেয়ে এক চিলতে অমায়িক হাসি হেসে বললেন,
— “দাঁড়িয়ে আছিস কেন মা, বস।”
তারীন ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে বিছানার কোণে বসল। চায়ের কাপটা সাবধানে পাশের ছোট কাঠের টি-টেবিলে রাখল। আশরাফ চৌধুরী চায়ের কাপটার দিকে একপলক তাকিয়ে পরম স্নেহে তারীনের মাথার ওপর হাত রেখে বললেন,
— “তোর হাতে আজ প্রথম চা খাচ্ছি মা। আযরাফ ছেলেটা বড় খামখেয়ালি। রাগ-জিদ একটু বেশি হলেও মনের ভেতরে কোনো জটিলতা নেই। তোকে নিজের ছায়ার মতো আগলে রাখতে চায় বলেই মাঝে মাঝে বড্ড বেশি অধিকার ফলায়। কিছু মনে করিস না তারীন।”
তারীন মাথা নিচু করে রইল। তার মনে হলো, ঘরের এই বৃদ্ধ মানুষটি যেন এক নজরেই তার ভেতরের সমস্ত মনস্তাপ পড়ে ফেলতে পেরেছেন। সে অস্ফুট স্বরে বলল,
— “না আব্বা, আমি কিছু মনে করিনি।”
— “ভালো। সংসার জীবনটা একটা নদী মা। জোয়ার-ভাটা থাকবেই, কখনো কখনো ঢেউয়ের তোড়ে নৌকা নড়ে উঠবে। কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে চলে না। তুই তো বুদ্ধিমতী মেয়ে। আযরাফের মতো শক্ত মনের মানুষকে ভালোবাসার ডোরে বাঁধতে একটু সময় তো লাগবেই।”
কথাগুলো যেন তারীনের মনের গহীনে রূপালি কাঁচের মতো আলো ফেলে গেল। আশরাফ চৌধুরী চায়ের কাপ তুলে নিয়ে একটা হালকা চুমুক দিলেন। মুখাবয়বে তৃপ্তির ছাপ ফুটে উঠল। ওনি অতি উৎসাহ সহিত বলে উঠলেন,
— “চা খুব সুন্দর হয়েছে মা। তোর শাশুড়ি বেঁচে থাকলে আজ খুব খুশি হতেন। আযরাফের মায়ের বড্ড শখ ছিল, ছেলের বউ তার হাতে চা বানিয়ে এনে দেবে।”
তারীনের বুকের ভেতরটা আচমকা মোচড় দিয়ে উঠল। শ্বশুরের এই সহজ একাত্মতা তার মনকে হালকা করে দিল।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে চৌধুরী ভিটায় তারীনের বাবার আসার সময় এগিয়ে এলো। তারীন নিজের ছোট ব্যাগটা গুছিয়ে ঘরে বসে রইল। বাবা মোশারফ হোসেন এসে যখন ড্রয়িংরুমে বসলেন, তারীনের কেমন যেন অচেনা এক অনুভূতি হলো। মাত্র কিছুদিন আগেও এই বাবার কোলই ছিল তার একমাত্র রাজ্য, আর আজ মনে হচ্ছে সে অন্য এক রাজত্বের ঘরণী হয়ে বাবার বাড়ি ‘মেহমান’ হয়ে যাচ্ছে।
—————-
দুপুরের পর তারীন বাবার গাড়িতে উঠে বসল। গাড়ির কাঁচের ওপাশে দাঁড়িয়ে আশরাফ চৌধুরী ও রোকসানা চৌধুরী হাসিমুখে হাত নাড়ছেন। গাড়ি চলতে শুরু করতেই তারীনের চোখ আবার সেই ব্যাকুলতায় ভরে উঠল।
কথা ছিল সাভার থেকে ফেরার পথে আযরাফ আসবে। তবে কি সে আসতে পারল না? তারীন জানালার গ্লাসে মাথা ঠেকিয়ে বিষাদগ্রস্ত চোখে বাইরের পিচঢালা রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল।
গাড়ি শহরের সীমানা পেরিয়ে মোড়ে এসে একটু ধীর হতেই হঠাৎ তারীনের নজরে এলো রাস্তার পাশে দাঁড়ানো এক পরিচিত দীর্ঘকায় অবয়ব। ধবধবে সাদা শার্ট, রোদে সামান্য লালচে হয়ে যাওয়া ভেজা ভাব, চোখে সেই চেনা গভীর দৃষ্টি। রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে আযরাফ চৌধুরীর নিজস্ব কালো গাড়িটা দাঁড় করানো। সে গাড়ির বনেটে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে সেই আগের মতোই দুটো বেলুন একটা নীল, একটা শুভ্র সাদা।
তারীনের বাবা ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললেন।
আযরাফ ধীরপায়ে এগিয়ে এলো। তারীনের জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গ্লাস নামানোর ইশারা করল। গ্লাস নামাতেই আযরাফ বেলুন দুটো জানালার ভেতরে তারীনের কোলে এনে দিল। তারপর মোশারফ হোসেনের দিকে তাকিয়ে কুশল বিনিময় করে বলল,
— “আব্বা, ওক নিয়ে যান। তবে খেয়াল রাখবেন, সময়মতো যেন ওষুধগুলো খায়। আর বেশি বৃষ্টিতে ভিজতে দেবেন না, মেয়েটির শরীরে এখনো জ্বরের জীবাণু রয়ে গেছে।”
মোশারফ হোসেন হেসে বললেন,
—”চিন্তা কোরো না বাবা। তোমার আমানত সঠিক যত্নই পাবে।”
আযরাফ তারীনের দিকে তাকাল। তারীনের চোখের কোণে জমে থাকা প্রশ্নটা সে বিনাবাক্যে পড়ে ফেলল, ‘আপনি সত্যি এলেন?’
আযরাফ তারীনের খুব কাছে ঝুঁকে এসে নিচু, স্বরে বাক্যবিনিময় করল,
— “বলেছিলাম না শ্রাবণকন্যা, আমার পাখিকে উঁকি দিয়ে দেখার লোভ আমি সামলাতে পারব না? কয়েকটা দিন বাপের বাড়িতে মন ভালো করে নাও। কিন্তু মনে রেখো, খাঁচার মালিক কিন্তু দূরেই তোমার জন্য প্রতীক্ষা করছে।”
তারীন কিছুই বলতে পারল না। তার গাল দুটো আবার লাল হয়ে উঠল। গাড়ি আবার চলতে শুরু করল। তারীন পেছনের কাঁচ দিয়ে তাকিয়ে দেখল, আযরাফ দাঁড়িয়ে আছে পথের ধারে। তার সাদা শার্টের হাতা বাতাসে উড়ছে। গাড়ি যত দূরে যাচ্ছে, লোকটির অবয়ব তত ছোট হয়ে আসছে, কিন্তু তারীনের বুকের ভেতরের শূন্যতাটা অদ্ভুতভাবে পূর্ণ হয়ে উঠছে এক অচেনা ভালোবাসার অনুরাগে।
কোলের ওপর রাখা নীল আর সাদা বেলুন দুটোর সুতো শক্ত করে চেপে ধরল তারীন। মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,‘আপনি আসলেই একটা ত্যাড়া মানুষ, প্রফেসর চৌধুরী!’
চলবে,,

