চিলেকোঠার প্রেম পর্ব-৩৩+৩৪

0
862

#চিলেকোঠার_প্রেম

#Ishita_Rahman_Sanjida(Simran)

#পর্ব_৩৩

মধ্য রজনী,এই সময়টাতে শব্দগুলোও যেনো ঘুমিয়ে যায়। হয়তো ওরাও মানুষের মতো ক্লান্ত হয়ে পড়ে বলে রাতের মাঝামাঝি ঘুমিয়ে যায়!! সকাল হতেই আবার শুরু করবে মানুষকে জ্বালানো। এই সময়টাতে ঘুমটাও ভালো হয়। এইরকম মধুময় সময়টাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সাদা শার্ট পরিহিতা মেয়েটি। ফুলহাতা শার্টের গলা পর্যন্ত বোতাম লাগিয়ে মাথার নিচে দুহাত গুঁজে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে সে। সায়েনকে এভাবে ঘুমাতে দেখে হেসে ফেললো আরাদ।‌ সবে ঘুম ভাঙল ওর। এক ঘন্টা ঘুমিয়েছে কি সন্দেহ। বালিশের নিচে হাতরে মুঠোফোনটি বের করে সময় দেখে নিলো। তিনটা পঁচিশ। মনে করার চেষ্টা করলো যে কখন ও এখানে এসেছিলো!!সাড়ে দশটার বেশি তো হবেই। আর তারপর সায়েনকে মানাতে মানাতেই আরো সময় কেটে গেছে। ওইটুকু শুনেই ক্ষান্ত হয়নি সায়েন। অবশেষে সামিউক্তার সম্পর্কে সব জানিয়ে শান্ত করতে হয়েছে সায়েনকে। সব শুনে সায়েন আরো একবার নিজে থেকে আলিঙ্গন করেছিল আরাদকে। ওই মুহূর্তটা আরাদ কখনোই ভুলবে না। নিজের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত ছিল ওটা। সায়েন নিজে থেকেই আরাদের বুকে ধরা দিয়েছে। ভেবেই মুচকি হাসিটা আরো গাঢ় হয় আরাদের। ঘুমন্ত সায়েনের দিকে পূর্ণ দৃষ্টি মেলে তাকালো সে। ফ্যাকাসে হয়ে গেছে মুখটা সায়েনের। নিশ্চয়ই এই কয়দিন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করেনি। ঘরবন্দি থেকে চিন্তায় চিন্তায় নাওয়া খাওয়া ভুলে গিয়েছিল। তাই তো এখন আরামে ঘুমাচ্ছে। মাথায় নিচে হাত গুজে কেমন বাচ্চাদের মতোই ঘুমিয়ে আছে সায়েন। আরাদের চোখের ঘুম ইতিমধ্যে পালিয়ে গেছে বহুদূর। আরাদ সায়েনের একহাত ওর মাথার নিচ থেকে টেনে বের করে হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিলো। কিন্তু অপরহাত মাথার নিচেই রয়ে গেল। এভাবে কি কেউ ঘুমায়??আরাদ সায়েনকে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে ডাকলো, ‘সায়েন,সায়েননননন,,,,’

নড়েচড়ে উঠলো সায়েন তবে জাগলো না। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থাতেই গমগমে কন্ঠে জবাব দিলো,’হুমমমমমম।’

চোখ দুটো ছোট ছোট করে তাকালো আরাদ। আজকে বোধহয় ঘুমটা বেশি হয়েছে সায়েনের। কালবিলম্ব না করে আরাদ বলে ওঠে,’ঠিক হয়ে ঘুমাও। নাহলে ঘাড় ব্যথা করবে।’

‘উহু,করবে না ব্যাথা। আমার অভ্যাস আছে।’

‘এরকম অভ্যাস বানানোর মানে কি??আর এভাবে ঘুমাবে না। আমি থাকতে তো নয়ই।’

আরাদের থেকে কিন্ঞ্চিৎ দূরে ছিলো সায়েন।হাত ধরে টেনে সায়েনকে নিজের কাছে নিয়ে এলো আরাদ। জড়িয়ে ধরে বলল,’স্বামী স্ত্রীকে এভাবে ঘুমাতে হয় না। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেই ঘুমাতে হয়।’
চোখ মেলে তাকালো সায়েন। বিরক্তির দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো সে আরাদের দিকে। মুখ দিয়ে বিরক্তিসূচক শব্দ বের হলো আপনাআপনিই।

‘এভাবে কথা বলে বিরক্ত করছেন কেন?? অনেক দিন পর একটু শান্তিতে ঘুমাচ্ছি। ঘুমাতে দিন??’

‘আমি বুঝি প্রতিদিন শান্তিতে ঘুমিয়েছি?? আমার চোখের ঘুম তো সব সঙ্গে করেই নিয়ে গিয়েছিলে। তারপর থেকে আর ঘুম হলো কই?’

প্রতুত্যর করলো না সায়েন। এই ছেলের সাথে সে কখনোই কথায় পারেনি আর পারবেও না। তাই এই মুহূর্তে চুপ থাকাটাই ভালো। সায়েনকে চুপ থাকতে দেখে আলাদা ভ্রু নাচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে?মাথা নাড়লো সায়েন,মানে কিছু না। মুচকি হেসে আরাদ বলল,’নিজেকে একবার দেখেছো??’

‘কি দেখবো??’

‘ভালো‌ করে তাকিয়ে দেখো নিজের জামাকাপড় ছেড়ে আমার শার্ট পরে ঘুমাচ্ছো।’

সায়েন নিজের দিকে তাকালো। সত্যি সে আরাদের শার্ট পড়ে আছে। আর আরাদ উদাম গায়ে শুয়ে রয়েছে। গায়ে অবশ্য চাদর রয়েছে।

‘মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পড়ে ফেলেছি। ঘুম ধরেছিল বিধায় নিজের জামাকাপড় ঘাটার সময় পাইনি। এখানে সমস্যা কোথায়?’

‘উহু এতে সমস্যা নেই। সমস্যা অন্য জায়গায়। এভাবে কেউ শার্ট পড়ে??গলা পর্যন্ত বোতামগুলো লাগিয়ে??আর হাতা কি করেছো??’

আরাদ সযত্নে শার্টের হাতা গুটিয়ে দিয়ে শার্টের গলার নিচের দুটো বোতাম খুলে দিলো। মুচকি হেসে বলল,’এবার ঠিক আছে।’

শার্টের খোলা বোতাম সমেত কলার চেপে ধরে বড়বড় চোখে সায়েন আরাদের দিকে তাকালো। আরাদের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলল, ‘দিনদিন আপনি আরো বেশি অসভ্য হয়ে যাচ্ছেন।’
বুকের উপর হাত চেপে ধরে চাপা আর্তনাদ করে উঠলো আরাদ। হঠাৎ এরকম কেন করলো তা সায়েন বুঝলো না। শুধু তাকিয়ে রইল আরাদের দিকে। বুক থেকে হাত সরিয়ে আরাদ সেদিকে নজর দিলো। লাল দাগ হয়ে গেছে বুকে। বেশ কয়েক স্থানে ছড়ে গেছে। আরাদ তার দৃষ্টি সায়েনের দিকে ঘোরালো। সায়েন এখনও নির্লিপ্ত দৃষ্টি মেলে আরাদের লোমশহীন লাল বর্ণ ধারণ করা বুকের দিকে তাকিয়ে আছে। আরাদ তার তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা সায়েনের ঠোঁট সরিয়ে দাঁত দেখে বলল,’এতো ধারালো দাঁত কিভাবে বানালে??কি করেছো দেখতে পেয়েছো??’
সায়েন ঝাড়া দিয়ে আরাদের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,’চোখের মাথা খেয়েছেন??আমি কি কুকুর নাকি যে আপনাকে কামড়াতে যাবো??আর এটা কামেড়ের দাগও নয়। ভালো করে তাকিয়ে দেখুন ওটা কিসের দাগ।’

আরাদ ভালো করে তাকিয়ে দেখেও বুঝলো না তবুও সে বলল,’তোমার নখের আঁচড়???’

সায়েন চাদর টেনে ওপাশ ফিরতে ফিরতে বলল,’নাহ,আপনি যেই আংটি পরিয়ে দিয়েছিলেন ওটারই দাগ। এখন বলুন দোষ কি আমার নাকি আপনার??আমি কি আপনাকে বলেছি আংটি আনতে আমার জন্য??’
হতাশ হলো আরাদ। সে পেছন থেকে জড়িয়ে নিলো সায়েনকে। তারপর পুনরায় বলল,’তা বলোনি তবে ঘুমানোর আগে খুলে ঘুমাতেই তো পারতে??’

সায়েন আরাদের দিকে না ফিরে দুহাত জোর করে বলল,’মাফ চাই আপনার কাছে। কথায় পারা যাবে না আপনার সাথে। তাই আমি স্যালেন্ডার,এবার ঘুমাতে দিন।’

বলেই চোখ বন্ধ করে ফেলল সায়েন। এবার শব্দ করেই হেসে উঠলো আরাদ। আরেকটু শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো সায়েনের বাহু। ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘আমার ভালোবাসার কাছে স্যালেন্ডার করতে বড্ড বেশি দেরি করে ফেলেছো তুমি সায়েন। তবে একবার যখন আমার জেলখানায় বন্দী হয়েছো আর ছাড়া পাবে না এখান থেকে।’

আরাদের এই উক্তিটির জবাব পেলো না সে। চোখ বন্ধ করেই মুচকি হাসলো সায়েন। এভাবে শেষ কবে হেসেছে তা সায়েনের নিজেরই মনে নেই। তবে এতো দিন পর সে হাসছে সেটা যদি শাফিন আর ওর বাবা দেখে নিশ্চয়ই ওরা খুশিতে পাগল হয়ে যাবে। কম কষ্ট তো করেনি সায়েন। এতগুলো দিন ধরে একটার পর একটা ঝড় বয়েই গেছে। আর আজকে সেই ঝড়ের ইতি টেনেছে আরাদ। সায়েন আরাদের হাত ধরে ঘুমিয়ে পড়েছে। আরাদও ঘুমালো তবে ক্ষণিকের জন্য। ভোরের আলো ফোটার আগেই সে নিজ কক্ষে চলে গেল তা সায়েন টেরও পেলনা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল সে তখন।

যখন ঘুম ভাঙ্গল নিজেকে একাই বিছানার উপর দেখলো সায়েন। পাশ ফিরে তাকিয়ে আরাদকে দেখতে না পেয়ে সে উঠে বসল। আপনাআপনি সায়েনের হাত ঘাড়ে চলে গেল। ঘাড়ে একটু ব্যাথা অনুভব করছে সে। হাত দিয়ে ঘাড় মাসাজ করতে করতে উঠে দাঁড়ালো সায়েন। কাবার্ড থেকে থ্রিপিস বের করে নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল। টানা এক ঘন্টা শাওয়ার নিলো সে। এতদিনের কষ্ট, ঝামেলা,অভিমান সব নিমিষেই ঠান্ডা পানির সাথে মিশিয়ে ঝেড়ে ফেলল। অদ্ভুত শান্তি লাগছে সায়েনের আজ। শরীরটা কেমন যেন ম্যাজম্যাজ করছে। তাই জামাকাপড় ছাদে মেলে দিয়ে আবার রুমে ফিরে এলো। এখন সায়েন আরেকটু শুয়ে থাকবে। মাথাটাও ধরেছে কেমন জানি। চুল ঝেড়ে তোয়ালে চেয়ারের উপর মেলে দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। চুলে চিরুনি চালাতে চালাতে চোখ গেল ড্রেসিং টেবিলের উপর থাকা ভাজ করা কাগজের উপর। হাতটা থেমে যায় সায়েনের। চিরুনি রেখে কাগজটা হাতে নিলো সে। চারভাজের কাগজখানা খুলতেই দেখলো তাতে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা, ‘ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা সুন্দর মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য।’

লেখাটা পড়েই ঠোঁটজোড়া প্রস্বস্ত করে হাসলো সায়েন। কাগজটা রেখে আবারো নিজের কাজে মন দিলো সে। আবারো বিছানায় গা এলিয়ে দিলো সায়েন। অদ্ভুত,সে আবারো ঘুমিয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ পরেই কবিতা এসেছিল খাবার নিয়ে সায়েন ঘুমিয়েছিল বিধায় আর ডাকেনি সে।

আরাদের গাড়ি এসে থামলো পুলিশ স্টেশনে। গাড়ি থেকে নেমে পরনের শার্টটা আলতো করে টেনে ঠিক কররো আরাদ। তারপর দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকলো। আকাশের কেবিনে যেতেই আকাশ ওকে বসতে বললো। চেয়ার টেনে হেলান দিয়ে বসলো আরাদ। আকাশ প্রশ্ন করলো, ‘কফি??’
কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে করতে আরাদ বলে,’নাহ,সামিউক্তার সাথে দেখা করতে এসেছি??হয়ার ইজ সি??’

‘আছে!!ওর বাবা জামিনের চেষ্টা করছে। আমিও এমন ব্যবস্থা করেছি যে তাও সে করতে পারবে না। এরপর তিনি ছেলে মেয়েকে অন্য থানায় ট্রান্সফার করার চেষ্টাও করেছে কিন্তু তাও সফল হয়নি। কারণ তার আগেই কোর্টে নোটিশ চলে গেছে। কালকে কোর্টে চালান করা হবে দুইজনকেই।’

আরাদ এক ধ্যানে আকাশের কথা শুনে গেল। তারপর চট করে উঠে দাঁড়িয়ে হাতঘড়িটির দিকে তাকিয়ে বলল,’আমার বেশি সময় নেই আকাশ!!’

আকাশ উঠে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে চলল। পেছন পেছন আরাদও। সামিউক্তাকে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে গিয়ে থামলো ওরা। কিন্তু আকাশ চলে গেল আরাদকে একা রেখে। এইসময় আরাদকে দেখে চমকালো সামিউক্তা। তবে সে বেশ খুশি হলো যে আরাদ ওর সাথে দেখা করতে এসেছে। হয়তো আরাদের মন গলেছে এই ভেবে সে এগিয়ে আসলো। বলল,’আমার মন বলছিল যে তুমি আসবে আরাদ। প্লিজ আমাকে বাঁচাও আমি জানি তুমিই পারবে আমাকে বাঁচাতে।’

ফিক করে হেসে উঠলো আরাদ। সামিউক্তা বোকার মত তাকিয়ে রইল আরাদের দিকে। দেখে মনে হচ্ছে সে কোন মজার কথা বলেছে যার জন্য হাসছে আরাদ।

‘হাসছো যে??’

সামিউক্তার প্রশ্নে হাসি সংযত করলো আরাদ। সামিউক্তার দিকে তাকিয়ে তিক্ত হেসে বলল,’তোমাকে ছাড়াবো বলে তো জেলে পাঠাইনি??’

‘তুমি জেলে পাঠিয়েছো??আরাদ তুমি,,,,?’
বিষ্মিত কন্ঠে বলল সামিউক্তা।

‘হ্যা আমি!!!জানো আমি আরো একবার এই জেলখানায় এসেছিলাম একজনের সাথে দেখা করতে রাতের বেলা,কিন্তু সে তো আমার সাথে দুদন্ড কথাও বলেনি যার জন্য সারারাত এই মেঝেতে বসে কাটিয়েছিলাম। কষ্ট হলেও মানিয়ে নিয়েছি। শুধু তাই নয়,তার জন্য দিনের পর দিন নোংরা চিলেকোঠার ঘরে থাকতেও আমার কোন কষ্টও হয়নি। তুমি কি ভেবেছো??আমি এতকষ্ট করে যাকে পেলাম তাকে ছেড়ে তোমায় বিয়ে করবো??হাউ ফানি।’

সামিউক্তা কিছু বলল না। শুধু বিষ্মিত চোখে চেয়ে রইল আরাদের মুখপানে। আরাদ আবারো বলল,’সায়েনকে জিজ্ঞেস করেছিলে না যে ও কিভাবে জেলে থেকেছে??সেই অভিজ্ঞতা তুমি নিজেই পাবে। এই জেলখানায় থেকে। ভেবো না যে তাড়াতাড়ি ছাড়া পেয়ে যাবে?? তোমার বিরুদ্ধে কেসটা আমি করেছি এতো সহজ নয় বের হওয়া। ওহ আরেকটা কথা,ধন্যবাদ!!’

বলেই হাসলো আরাদ। সামিউক্তা বলল, ‘ধন্যবাদ কিসের জন্য??’

‘তোমার জন্যই তো সব হলো। তোমার সাথে এংগেজমেন্টের কথা না হলে আর তুমি সায়েনকে গিয়ে সবটা না জানালে সায়েন আমাকে এত তাড়াতাড়ি নিজের মনের কথাটা জানাতো না। সবকিছুর জন্য কিছুটা হলেও তুমি আছো। তাই ধন্যবাদ,আসি!!জেলে থাকতে কেমন লাগে তা আমাকে বলো কিন্তু??’

সামিউক্তাকে কোন কথা বলতে না দিয়েই আরাদ চলে আসলো ওখান থেকে। কাল অবধি অনেক রাগ হচ্ছিল সামিউক্তার ওপর। কবিতাকে ও আগেই বলেছিল সামিউক্তার উপর নজর রাখতে। কবিতা সেটাই করেছিল।সামিউক্তার সমস্ত কথাই সে আরাদকে জানিয়ে দিয়েছিল। আরাদ সব প্ল্যান মাফিক করছিল। মাঝখানে সামিউক্তা সায়েনের সাথে দেখা করে সব গন্ডগোল পাকিয়ে দিলো। সামিউক্তাকে সবার সামনে খারাপ প্রমাণ করে সায়েনকে সবার সামনে আনার পরিকল্পনা ছিল আরাদের। সবার সামনে সায়েনের পরিচয় তুলে ধরতো আরাদ। সায়েন সব জেনে যাওয়ায় তা আর হলো না। তখন সায়েনকে সামলাতেই সময় পেরিয়ে গেল আরাদের। তবে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে এটাই অনেক।

একটা কাজের জন্য বেরোতে হয়েছে আকাশকে। বাইক নিয়ে সে বের হয়েছে। ভার্সিটির সামনে দিয়েই যেতে হয় আকাশকে। হঠাৎ করেই আকাশের চোখ গেল রাস্তার পাশের ফুসকার দোকানের দিকে। তনয়া আর আরশি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুসকা একটার পর একটা মুখে পুরতে ব্যস্ত যেন ওরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু আকাশ বেশি অবাক হলো ইফতিকে দেখে। ফুসকার প্লেট হাতে নিয়ে ওদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে ইফতি তবে ফুসকা খাচ্ছে না। তনয়া আর আরশি ওদের ফুসকা চিবোতে চিবোতে ইশারায় ইফতিকে ফুচকা খেতে বলল। ইফতি মাথা এপাশ ওপাশ দুলিয়ে না করতেই তনয়া ইফতির মাথায় গাট্টা মারলো। সাথে আরশিও ইফতির পিঠে কিল বসিয়ে দিল। লেডিস বাহিনীর আক্রমনে ইফতি একটা ফুসকা মুখে দিয়েই লাফাতে শুরু করে দিয়েছে। ঝালে ওর প্রাণ যায় যায় অবস্থা। তনয়া আরশি দু’জনেই হাসতে লাগলো। পানির বোতল এগিয়ে দিলো তনয়া। ইফতি পানি খেয়ে হাঁপাতে লাগলো। তনয়া আরশি হেসেই কুটিকুটি হচ্ছে।

রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে আকাশের। ইফতির সাথে ওরা কি করছে??ইফতিকে তো আকাশ ভালো করেই চেনে। অনেক গুলো কেস এখনও ইফতির নামে পড়ে রয়েছে। ছোটখাটো প্রমাণ থাকায় বেশিদিন ইফতিকে আটকে রাখা সম্ভব হয় না। ইফতি ছেলেটা ভিশন চালাক। প্রমাণ লোপাট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সে। লুকিয়ে ও ফেলে সব প্রমাণ। আকাশের ইচ্ছে করছে ইফতিকে গিয়ে উওম মাধ্যম দিতে। কিন্তু ওর কাজটা আর্জেন্ট। পরে তনয়া আরশিকে বোঝানো যাবে ভেবে সে চলে গেল। তবে মনের মধ্যে সে রাগ পুষে রাখলো সে।

সাতটার পরেই বাড়িতে ফিরলো আরাদ। ক্লান্ত শরীরটাকে আগে চাঙ্গা করে নিলো বড় একটা শাওয়ার নিয়ে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গায়ে টিশার্ট পরে নিল সে। তখনই চোখ গেল চারভাজের চিরকুটের উপর। ভ্রু যুগল কুঁচকে চিরকুটটা হাতে নিলো সে।

#চলবে,,,,,,,,

#চিলেকোঠার_প্রেম

#Ishita_Rahman_Sanjida(Simran)

#পর্ব_৩৪

“আমার মনের সমস্ত অভিযোগ অভিমান ধুলিসাৎ করার জন্য ধন্যবাদ। ধুলো কণার আস্তরণে ঢাকা মন ডাইরিটা খুলে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। নতুন সকালে নতুন সূর্য ওঠানোর জন্য ধন্যবাদ। নতুন পথ দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। সবশেষে আমার জীবনে ফেলে আসা হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”

ওষ্ঠকোণে সূক্ষ্ম হাসি ফুটে উঠল আরাদের। অধরজোড়া প্রস্বস্ত করে হাসলো সে। এতদিনে তাহলে সব বুঝলো তার প্রিয়তম। সামান্য কোন ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়নি দু’জনের মাঝে। এই ভুলটাই বহুদিনের দূরত্ব তৈরি করেছিল দুজনের মধ্যে। যার মাশুল দুজনকেই দিতে হয়েছে। তবে সায়েনের শাস্তিটা তীব্র ছিল। তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল সায়েনের। যা হয়তো কখনোই ভুলবে না সে। রাহাত নামক খারাপ মানুষের কবলে পড়ে সায়েনের জীবনটাই হয়তো নরক হয়ে যেতো। কিন্তু ভাগ্যের চাকা কখন কোনদিকে ঘোরে তা বলাবাহুল্য। এক সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তার মনে কখন কি চলে তা কেবল তিনিই জানেন। তিনি আরাদের ভাগ্যে সায়েনকে রেখেছে ঠিকই কিন্তু তার মধ্যে বহু প্যাচ রেখেছে। দুজনের কাছাকাছি আসার পথটা তিনি দুর্গম করেছেন যাতে দু’জনে আরো আহত হয়। হয়েছেও তাই,তবে সাফল্য অর্জন করতে হলে আহত তো হতেই হবে। আহত হওয়ার পর সাফল্য অর্জন সবচেয়ে খুশির। আরাদ আহত হয়েছিল। তবে তার সব ক্ষত আজকে মিইয়ে গেছে। ভালোবাসার মানুষটি যে আজ তার খাঁচাতেই বন্দী। তবে লোহার শিকলে নয় ভালোবাসার অদৃশ্য শিকলে যার ক্ষমতা দৃশ্যমান লোহার শিকলের থেকেও হাজার গুণ বেশি। চিরকুট টা পকেটে পুরে ঠোঁটের হাসিটা আরো গাঢ় করলো সে। পাতলা টিশার্ট টা পড়ে নিয়ে বের হলো সে। উদ্দেশ্য চিলেকোঠার ঘর!!! কবিতা এতক্ষণে বাড়ি ফিরে গেছে। সায়েন নিশ্চয়ই একা আছে। বিলম্ব না করে আরাদ ছাদের সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো। ছাদে উঠে কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা চিলেকোঠার ঘরের দিকে পা বাড়ায়। কিন্তু আশ্চর্য হয় ভেতরে গিয়ে। কারণ সায়েন সেখানে নেই তাহলে?? কোথায় গেল সায়েন??এদিক ওদিক তাকাতেই ফোন বেজে উঠল আরাদের। ফোন রিসিভ করে কানে নিতেই অপর পাশে থেকে সুশ্রি কন্ঠে ভেসে আসলো,’আমি ছাদে আছি।’ পরক্ষণেই ফোনের মালিক কলটা কেটে দিলো। আরাদ বুঝলো কলটা সায়েনের ছিলো। চিলেকোঠার ঘর থেকে বের হয়ে ছাদে চোখ বুলায় আরাদ। কিন্তু সে কিছুই দেখতে পেলো না। গাঢ় কালো অন্ধকারে বুদ হয়ে আছে পুরো ছাদ। আরাদ খেয়াল করলো ছাদের বাতি নেভানোর জন্য এতো অন্ধকার। ফোনের ফ্লাশ অন করেই সামনের দিকে এগিয়ে গেল সে। ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে সায়েন। আরাদের উপস্থিতি পেয়েও সে পিছন ফিরে তাকালো না। আরাদ ফোনের ফ্লাশ বন্ধ করে দিয়েছে কারণ বাগানে জলন্ত বাতি থেকে আলো আসছে। এতে ছাদ এতটুকু ও আলোকিত হয়নি। ফোন পকেটে রেখে সায়েনের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রেলিংয়ের ওপর হাত রাখলো সে। পরিচিত সুগন্ধি পেয়েও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে সায়েন।

‘হঠাৎ এই অন্ধকারে ডুবে থাকার কারণ??’ ফিচেল গলায় বলল আরাদ।

সায়েন খুব সূক্ষ্ম ভাবেই জবাব দিলো,’কিছু কিছু অন্ধকারে ডুবে থাকার প্রগাঢ়তা অনেক। সব অন্ধকার কিন্তু কষ্টের হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা সুখকর ও হয় বটে।’

তপ্ত শ্বাস ফেলল আরাদ যা সায়েনের ঘাড়ে বারি খেলো। সায়েনের থেকে দূরত্ব আরো কমিয়ে আরাদ বলল,’সেটা ক্ষণিকের জন্য রাখতে হয়। বেশি অন্ধকারে তলিয়ে যেতে নেই। তাহলে অন্ধকারে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয় থাকতে পারে।’
নিঃশব্দে হাসলো সায়েন। সে বুঝেছিল যে আরাদ পাল্টা জবাব নিশ্চয়ই দেবে আর হলোই তাই। তাই তো কালকে আরাদের কাছে সে আত্মসমর্পণ করে বসে আছে।

‘প্রতিটা কথার পাল্টা জবাব দেওয়া কেবল আপনার দ্বারাই সম্ভব। সব কথার ঝুড়ি কেবল আপনার কাছেই আছে। আমার দ্বারা আপনাকে কথার জালে আটকানো সম্ভব নয়।’

আরাদ কিছু পল চুপ রইল। প্রিয়তমের ঘন চুলে মুখ গুজে দিয়ে হাত দুটো পিছন থেকেই আঁকড়ে ধরে।

‘ভালোবাসার জালে তো কবেই আটকে ফেলেছো। কথার জালটা নাহয় খালি থাক।’

এবার সায়েন পাল্টা জবাব দিলো না। চোখ বন্ধ করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দিলো সে। সায়েনের দীর্ঘশ্বাস এ তা প্রকাশ পেল। আরাদ সায়েনকে ওভাবে ধরে রেখেই বলল, ‘কাদছো কেন??’

কয়েকটা ঢোক গিলে ধরা গলায় সায়েন বলল,’মাকে খুব মিস করছি। এতো তাড়াতাড়ি আমাকে ফেলে না গেলেই পারতো। দোষট আমার ছিল। আমি পারলাম না আমার মা’কে বাঁচাতে। বিশ্বাস করুন আমি চেয়েছিলাম, খুব করে চেয়েছিলাম মা’কে বাঁচানোর কিন্তু পারিনি। হঠাৎ করে রাহাত যে এতো ভায়োলেন্স হয়ে যাবে তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি সব জানার পরেও রাহাতের সাথে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু যখন ওর খারাপ বিজনেসের কথা জানতে পারি তখন আর পারিনি। সব ফেলে চলে এসেছিলাম। আমি সেদিন না আসলেই হয়তো মা বেঁচে থাকতো। আমি সেদিন রাহাতকে আঘাত করতে চাইনি বিশ্বাস করুন। আমি তো চেয়েছিলাম রাহাত যেন ভয় পেয়ে মা’কে ছেড়ে দেয়। কিন্তু হলো না। সবাই বলেছিল আমি খুব খারাপ। নিজের স্বামীকে মেরে ফেলেছি। কিন্তু আমি তো মারতে চাইনি। আমি আমার মা’কে বাঁচাতে চেয়েছি। ব্যাস এটুকুই চেয়েছিলাম আমি। তবুও সবাই কেন আমাকে দোষারোপ করে??’

কথার মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সায়েন। রাহাতের নামটা সায়েনের মুখে শুনে ভালো লাগছে না আরাদের। আর যাই বলুক রাহাতের নামটা কেন সে নেবে?? অসহ্য লাগছে আরাদের। সায়েন এবার ঘুরে আরাদের দিকে তাকালো বলল,’আপনি কেন আমাকে বিয়ে করলেন। এতে আপনার দিকে আঙুল তুলবে সবাই। ছিঃ ছিঃ করবে পুরো দুনিয়া। আমার জন্য কেন করলেন আপনি??’

সায়েনের উপর রাগ হচ্ছে আরাদের। এখন এসব বলার কোন মানেই হয় না। অযথা এসব চিন্তা করে শরীর খারাপ করছে সায়েন। নিজের রাগ সংযত করে আরাদ সায়েনের হাত ধরে বলল,’দুনিয়া কি ভাববে দুনিয়া কি বলবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তুমি শুধু এইভাবে আমার হাতটা ধরে থেকো। দেখবে আমরা আমাদের দুনিয়া বানিয়ে নেবো। ভালোবাসার দুনিয়া। সে দুনিয়া বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।’

সায়েনের চোখ থেকে তখনো অশ্রু ঝরছে আগের ন্যায়। আরাদ সায়েনের চোখের পানি যত্নে মুছিয়ে দিয়ে বলল,’তোমার অতীত নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। তোমার শরীরে অন্য কারো গন্ধ আছে কি না তা শুকে দেখার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আমার। আমি শুধু তোমাকে চাই। আমার মতো করে আমাকে ভালো না বাসলেও চলবে। যতটুকু সম্ভব তুমি তোমার মতো করে আমাকে ভালোবেসো তাহলেই হবে। কাঁদতে ইচ্ছে করলে আমাকে বলো। এই বুকে মাথা রেখে যতো খুশি কেঁদো কখনো বাঁধা দেব না। একাকিত্ব বোধ করলে আমাকে ডেকো পাশে থাকবো। কিছু চাই না, শুধু তোমার পাশে হাঁটার সুযোগ দিও তাতেই আমার চলবে।’

কথাগুলো শুনতে শুনতে সায়েন যতোবার চোখের পানি ফেলেছে আরাদ ততবার মুছে দিয়েছে। আরাদের কথা শেষ হতেই সায়েন এক প্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ে আরাদের বুকে। কেঁদে আরাদের গায়ের টিশার্ট ভিজিয়ে দিলো। আরাদ সায়েনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মৃদু হাসলো।

______________

অনেক দিন পর সায়েন ভার্সিটিতে পা দিয়েছে। মনটা বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে সায়েনের। কালকে আরাদ নিজেই সেই অনুমতি দিয়েছে। সব ঝামেলা শেষ হয়েছে বলেই আরাদ সায়েনকে ভার্সিটি আসার অনুমতি দিয়েছে তবে বোরখা পরে। অনেকেই সায়েনকে ভালো করেই চেনে। তারা কটুক্তি করতে ছাড়বে না। তাই আরাদ সায়েনকে বোরখা পরে আসতে বলেছে। আরাদ চায় না যে সায়েন আবার চোখের পানি ফেলুক। কষ্ট তো অনেক পেয়েছে আর না। সায়েনের সাথে আরশি তনয়াও আছে। ওদের সাথেই ক্লাস করলো সায়েন। তনয়া বায়না ধরে সায়েনকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল। সায়েনও তা মেনে নিলো। অনেক দিন যাবত বাড়ি থেকে বের হয় না সে। আজকে একটু আনন্দ করুক। রেস্টুরেন্টে বসতেই ইফতির আগমন। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে চেয়ার টেনে বসলো। বোরখা পড়া মেয়ে দেখে সে তীক্ষ্ণ নজরে সায়েনের দিকে তাকিয়ে বলল,’এটা কে??থার্ড পারসন!!’

সায়েন তখনও ইফতির দিকেই তাকিয়ে আছে। ও ইফতিকে চিনতে পেরেছে। সেদিন ইফতি ওর সাথে কথা বলতে গিয়েছিল। কিন্তু সায়েন কোন কথাই বলেনি ইফতির সাথে। তনয়া বলে উঠলো,’ভাবি!!’

ইফতি মৃদু চিৎকার করে উঠলো,’ওহহ ভাবি। আই মিন ওই যে চিলেকোঠার প্রেমিক প্রেমিকা!! এইবার বুঝেছি।’

ভ্রু যুগল কুঁচকে এলো সায়েনের। চিলেকোঠার প্রেমিক প্রেমিকা বলতে কি বোঝাতে চাইছে ইফতি??তনয়া রাগি ফেসে বলে,’চিলেকোঠার প্রেমিক প্রেমিকা মানে কি হ্যা?? অদ্ভুত কথাবার্তা।’

‘আরে আমি এরকম কথাই বলি। তবে ভাবি এসেছে ভালোই হয়েছে। আজকে চিলেকোঠার প্রেম সম্পর্কে সবটা জানবো। আচ্ছা ভাবি কিভাবে আপনাদের দেখা হলো? আপনাদের প্রেমটা তো চিলেকোঠা থেকে শুরু হয়েছিল!!গল্পটা একটু বলবেন কি??’

হতাশা নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো আরশি আর তনয়া। এই ছেলে একটু বেশি বকবক করে। সায়েন ও বিষয়টা বুঝতে পারলো। ছেলেটা বাঁচাল। অতিরিক্ত কথা বলে। তবে মিশুক ও বটে। কেমন এক দেখাতেই এতো কথা নিমিষেই বলে ফেলছে। সায়েন হাসলো বলল, ‘ওসব বলতে অনেক সময় লাগবে। আর আজকে আমাদের তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। এখন সময় নেই।’

‘ওহ,বাধ্য ওয়াইফ। নো প্রবলেম। এরপর দেখা হলে সব বলতেই হবে। লাভ স্টোরি আমার খুব ভালো লাগে। তো অর্ডার করা যাক??’

সবার খাওয়া শেষ হতেই ইফতি বেরিয়ে চলে গেল। এতে রেগে গেল তনয়া। কারণ ইফতি কখনোই বিল পে করে না। সব তনয়ার ঘাড়ে পড়ে। তনয়ার ইচ্ছে করে দু ঘা কষিয়ে দিতে। অসভ্য ছেলে একটা। তিনজন একসাথেই বাড়িতে ফিরলো। সায়েন ফ্রেশ হয়ে নিজের বই গুছিয়ে নিলো সবার আগে। আরাদ সব বই এনে দিয়েছে। সেজন্য খুশী লাগছে সায়েনের। সন্ধ্যায় সায়েন বই নিয়ে তনয়া আর আরশির কাছে চলে গেল। আগের সব পড়া বুঝে নেবে সেজন্য। কিন্তু আরশি মরার মতো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। তনয়া টেবিলে বসে বইয়ে মুখ গুজে আছে। সায়েন গিয়ে তনয়ার পাশে বসতেই মুচকি হাসলো তনয়া। সায়েন সৌজন্য মূলক হাসি দিয়ে পড়া বুঝে নিলো। সে একপলক আরশির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আরশি অসময়ে ঘুমাচ্ছে??’

‘ওর স্বভাব ওইরকমই। যখন ঘুম ভাঙবে তখন পড়তে বসবে। এতে রাত যতোই হোক না কেন। বাদ দাও,ও মাঝেমাঝেই এরকম সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়ে। খুব ঘুম কাতুরে। তুমি তো জানোই।’

আরশির দিকে তাকিয়ে হাসলো সায়েন। হাত বাড়িয়ে আরশির একটা বই সে হাতে নিলো। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে একটা ছবি মেঝেতে গড়িয়ে পড়লো। সায়েন ছবিটা তুলে দেখে অবাক হয়ে গেল। তনয়া বড়বড় চোখে তাকিয়ে আছে সেদিকে। সায়েনের সামনে তো ধরা পড়ে গেল। আকাশের ছবি দেখে সায়েন অবাক হয়ে তনয়ার দিকে তাকালো বলল, ‘উনি তো ইন্সপেক্টর আকাশ। ওনার ছবি আরশির বইয়ে কেন??’

সন্দেহের চোখে তাকালো সায়েন। তনয়া চেয়েও সায়েনকে মিথ্যা বলতে পারলো না। সব শুনে সায়েন বলল,’ইন্সপেক্টর আকাশ অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। আরশির সাথে খুব মানাবে। আরশি সবটা জানাচ্ছে না কেন??আমি কি তোমার ভাইয়াকে বলে দেখবো??’

মাথায় যেন বাজ পড়লো তনয়ার। সায়েনের কথা শুনে মনে হচ্ছে আকাশ যে ওকে ভালোবাসে তা জানে না। কিন্তু আরাদ তো জানে। সে কিছুতেই আরশিকে আকাশের হাতে তুলে দেবে না। আর আকাশ তো আরশিকে বিয়ে করবেই না। তনয়া ভয়ার্ত কন্ঠে বলল,’ভাইয়াকে কিছু বলো না ভাবি। আসলে আকাশ ভাইয়া জানে না যে আরশি ওকে ভালোবাসে। তাছাড়া আকাশ ভাইয়া অন্যকাউকে ভালোবাসে। আরশির ভালোবাসা টা একতরফা বলতে পারো। তাই আরশি কিছুই জানায়নি। ভুলে যেতেও পারছে না বেচারি। এসব ভাইয়াকে বলার কোন দরকার নেই।’

মাথা নাড়ল সায়েন। তবে ওর মনে হচ্ছে তনয়া কিছু লুকিয়ে গেছে। ধোঁয়াশায় রেখেছে কিছু কথা। আর কথা বাড়ালো না সায়েন। বই হাতে উঠে গেল সে। চিলেকোঠার ঘরে যেতেই সায়েন আরো অবাক। আরাদ বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে ফোন টিপছে। বই রেখে সায়েন সেদিকে এগিয়ে গেলো বলল,’আপনি এখানে??’

#চলবে,,,,,,,,,

কি লিখেছি নিজেও জানি না। রিচেইক করিনি। ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।