#তিমিরবসান(৭)
#তাবাসসুম_তাজ্বওয়ারী
হাসপাতালের করিডোরে বসে আছে ফাহাদের বাড়ির লোক। স্নিগ্ধার বাড়ির লোক এসেছে বেশ কিছুক্ষণ। এদিকে স্নিগ্ধার মেয়ে হয়েছে শুনে ফাহাদ ও তার মা দাদির মুখ অমাবস্যার চাঁদের মতো কালো হয়ে গেছে।
বিকেলে কেবিনে যখন স্নিগ্ধাকে শিফট করা হলো তখন তার পাশে লোকদেখানো আদরের লেশমাত্র ছিল না। বাচ্চাটিকে নিয়েও কোনোরকম হইচই করা হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর কেবিনের দরজা ঠেলে ফাহাদ প্রবেশ করে।
– ছেলে হওয়ার জন্য মা আর দাদি এত করে বলল সব নিয়ম মেনে চলতে, আর তুমি কি করলে? নিশ্চয়ই এসব মানোনি?
স্নিগ্ধা বিরক্ত চোখে তাকাল। এদের মানসিক সমস্যা আছে বলে মনে হয় স্নিগ্ধার। সে কিছু না বলে চুপচাপ শুয়ে রইলো। স্নিগ্ধার মা সেখানে ছিলো। তিনি সামাল দিতে বললো,
– বাবা, মন খারাপ করবে না। সন্তান তো সন্তানই। মেয়ে ও তো আল্লাহর নেয়ামত…
ফাহাদ না শুনেই কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। স্নিগ্ধার মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ের পাশে এসে বসলেন। স্নিগ্ধা বিরস মুখে নিচু স্বরে বললো,
– এখানে কেন এসেছো তোমরা? ম’রে গেছি কি না দেখতে নাকি তোমরাও নাতির খোঁজে এসেছো? হুম?
স্নিগ্ধার মা চমকে উঠে বললো,
– কিসব বলছিস তুই? তোর এই খুশির খবরে আমরা আসব না তো কে আসবে?
স্নিগ্ধা তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো। প্রতিত্তরে কিছুই বলার প্রয়োজন বোধ করলো না।
পরের কয়েকদিন এভাবেই গেলো। মেয়ে হওয়ার দরুণ স্নিগ্ধাকে এক প্রকার সহ্য করতে পারছে না। আর ফাহাদ? সে তো ছন্নছাড়া, কেমন শান্ত ভবঘুরে হয়ে গিয়েছে। ফাহাদকে দেখে আর তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে কারণ সে জানে ফাহাদ এমন হয়েছে কেন।
গত কমাসে ফাহাদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখনের ফাহাদ স্নিগ্ধার প্রতি উদাসীন। ‘থাকলে থাকো না থাকলে নাই’ বিষয়টা এমন। কারণটা অবশ্য স্নিগ্ধা জেনে গেছে! খুলনায় চাকরির জন্য গিয়ে ওখানকার এক সুন্দরী কলিগকে মন দিয়ে এসেছে। সে কলিগও যে দেয়নি সেটা বলা বোধহয় ভুল হবে, কারণ তাদের প্রতিনিয়ত কথা হয় সেটা স্নিগ্ধা জানে। ফাহাদ যদিও লুকিয়ে চুরিয়ে থাকে কিন্তু ধরা পড়ে গেছে। আচ্ছা ফাহাদ কেন লুকায়? যে মানুষের অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না সে যা চায় তা জোর করে কেড়ে নিতে দ্বিধা করে না, সে কেন এই সম্পর্কের কথা এভাবে লুকিয়ে বেড়াচ্ছে? ভাবলেই হাসি পায় স্নিগ্ধার। তার অবশ্য খারাপ লাগে না। বেশ মজায় লাগে আরো বেশি ভালো লাগে ফাহাদের থেকে মুক্তির কথা ভাবলে! তখন তার প্রেগন্যান্সির আটমাস চলছিল ফাহাদ খুলনা থেকে দুদিনের জন্য বাড়ি এসেছিল। ফাহাদ তখন আসতে চাইতো না বললেই চলে। সেদিন ফাহাদ যখন ওয়াশরুমে চেঞ্জ করতে ঢোকে, তখন বেডসাইড টেবিলে রাখা তার ফোনটা পরপর কয়েকবার ভাইব্রেট করে ওঠে। সাধারণত ফাহাদের ফোনে কড়া পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকে এবং সে তার ফোন স্নিগ্ধাকে কখনো ছুঁতেও দেয় না।
ফাহাদের রেখে যাওয়া ফোন স্ক্রিন টাইমাউটের আগেই পর পর কয়েকটা হোয়াটসঅ্যাপ নোটিফিকেশন ভেসে উঠেছিল লক স্ক্রিনে। স্নিগ্ধা কৌতূহলবশত পানির গ্লাসটা নিতে গিয়েই স্ক্রিনের দিকে চোখ পড়েছিল কয়েকটা মেসেজ। সে দ্রুত কনভারসেশন চেক করে সবটা জানতে পারে। এমনকি স্নিগ্ধার কথাও যে ওই মেয়েটা জানে সেটাও বুঝতে পারে। ব্যস ওইদিন থেকে বুঝতে পরে ফাহাদ ফিসফাস কার সাথে করে কিন্তু স্নিগ্ধা কিছু বলে না।
.
স্নিগ্ধার মেয়ের নাম রাখা হয় রূশদা আয়াত। আয়াতের বয়স যখন ছয়মাস তখন থেকেই তাদের মা মেয়ের জীবনে এক নতুন মোড় আসলো।
স্নিগ্ধা একদিন মেয়েকে খাইয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিল ওই সময় ফাহাদের মা রুমে ঢুকে। শুরু করে চিৎকার চেঁচামেঁচি।
– কিরে স্নিগ্ধা? দুপুর হতে চললো আমরা খাওয়াদাওয়া করবো না? এখনো ঘরে বসে আছো ওই মেয়েটাকে নিয়ে! সারাদিন ঘরে বসে রেস্ট নিলেই হবে?
স্নিগ্ধা তড়িঘড়ি করে বললো,
– আমি রান্না করে দিয়েছি একটু পর বেড়ে দিতেই যাচ্ছি। আপনি একটু আস্তে বলুন, ও উঠে যাবে। অনেক কষ্টে ঘুম পাড়িয়েছি!
ফাহাদের মা দ্বিগুণ চিৎকার করে বললো,
– এই তুমি আমাকে আস্তে কথা বলতে বলো? কয়টা বাজছে সে খেয়াল আছে? সারাক্ষণ ঘরে বসে বসে রাজরানি হওয়ার সখ হয়েছে! ওই মেয়েটাও হয়েছে! কি এমন কষ্ট হ্যাঁ ঘুম পাড়াতে? আমাদের ছেলে মেয়ে হয় নি? আমরা কাজকর্ম করিনি বুঝি?
ওনার চিৎকার চেঁচামেঁচিতে ফাহাদ বারান্দা থেকে আর ফাহাদের দাদি নিজের রুম থেকে ছুটে এলো। তার দাদি ঘরে ঢুকেই হাতের লাঠিটা মেঝেতে সশব্দে ঠুকে কর্কশ গলায় বললেন,
– কী হয়েছে বউমা? এত চ্যাঁচাও কেন? এই মেয়েটার জন্য কি এই ঘরের মানুষের শান্তিও হা’রাম হয়ে যাবে নাকি?
– দেখেন নবাবজাদীর দেমাক কত! ঘরের কাজ ফেলে রেখে সারাদিন ওর মেয়েকে বুকে নিয়ে শুয়ে আছে। আমি একটু বলতেই আমাকে আস্তে কথা বলতে বলে! আমার সংসারে দাঁড়িয়ে আমাকে হুকুম করা হচ্ছে!
ওদের এই সমবেত চিৎকারে ছোট্ট আয়াত কেঁদে উঠল। বিছানায় হাত পা ছুড়ে কেঁদে উঠতেই স্নিগ্ধা তড়িঘড়ি করে ওকে কোলে নিলো। সেটা দেখে মুখ বাঁকাল ফাহাদের মা সুলতানা জামান! ফাহাদ ঠান্ডা কণ্ঠে বললো,
– মার সাথে মুখে মুখে তর্ক করছিস কোন সাহসে স্নিগ্ধা? মেয়ে একটা জন্ম দিয়েছিস তার জন্য তোকে মাথায় তুলে নাচতে হবে নাকি? মায়ের শরীর ভালো না, আর তুই এখানে আরাম করছিস?
স্নিগ্ধা কড়া কণ্ঠে বললো,
– আরাম করছি কি না সেটা আপনারা দেখছেন? এই যে অসুস্থ আমি একটা বাচ্চা সামলে পুরো সংসারের জন্য খেটেছি কেউ একবার ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করছেন বুঝি? আমার মেয়েটাকে তো কাউকে কোলে নিতে দেখলাম না! এতগুলো মাসে ওকে একটু আদর করে শান্ত করতে দেখলাম না! কেন? ও কি কি কোনো অন্যায় করে পৃথিবীতে এসেছে?
ফাহাদের দাদি মুখ বাঁকিয়ে বললো,
– একটা মেয়েই তো এত তেজ কিসের?
– আপনাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে এত তফাত কেন হ্যাঁ? একটা ছেলে জন্ম দেওয়া আর মেয়ে জন্ম দেওয়া সমান! আপনারা কি বলছেন এসব? আর মা! আমি খাবার সব রেডি করেই রেখে এসেছি! শুধু বেড়ে খাওয়ানো বাকি! ওর খাওয়ার সময় হয়ে এসেছে তাই চলে এসেছিলাম।
ফাহাদের মা আঙুল উঁচিয়ে বললো,
– আমরা কি সংসার করিনি? আমাদের কি ছেলেপুলে হয়নি? বাচ্চার বাহানা দিয়ে নবাবজাদী সারাদিন ঘরে শুয়ে কাটাবেন, আর আমরা না খেয়ে বসে থাকব? এত দেমাক তোর সহ্য করা হবে না স্নিগ্ধা! বংশের প্রদীপ দেওয়ার মুরোদ নেই, আবার ছেলে-মেয়ে সমান করার জ্ঞান দিচ্ছে! তা বলি মেয়েটা ফাহাদের তো?
স্নিগ্ধা অবাক সুরে বললো,
– কি বলতে চাইছেন আপনি? মুখ সামলে কথা বলবেন!
ফাহাদ তেঁতে উঠে বললো,
– এই গলা নিচে! তোকে তো আমারও সন্দেহ হয়। এই মেয়েটা…
ঠাসসসস! একটি তীব্র, প্রচণ্ড চড়ের শব্দে পুরো ঘর যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। ফাহাদ কথা শেষ করার সুযোগই পেল না!
সকলে অবাক চোখে তাকিয়ে দেখলো রাগে কাঁপতে থাকা স্নিগ্ধা ফাহাদের দিকে জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে আছে! এতদিনের জমে থাকা সমস্ত অপমান আর ক্ষো’ভের আ’গুন যেন স্নিগ্ধা একবারে উশুল করে দিয়েছে। চ’ড়ের তীব্রতায় ফাহাদের মুখটা একপাশে ঘুরে গেল, তার ফর্সা গালে স্নিগ্ধার পাঁচ আঙুলের দাগ স্পষ্ট হয়ে বসে গেল। ফাহাদ নিজের গালে হাত দিয়ে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকাল। স্নিগ্ধার এহেন কাণ্ডে বিস্মিত হলো ফাহাদের মা দাদীও। পর পর তীব্র ক্ষো’ভে ফেটে পড়ে ফাহাদের মা বললো,
– এই মেয়ে তোর এত বড় সাহস! আমার ছেলের গায়ে হাত তুলিস?
– তো কি করবো? আপনার চরিত্রহীন ছেলেকে কোলে তুলে নাচবো?
স্নিগ্ধার কথায় একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে সকলে। ফাহাদের দাদি তেড়ে আসলো। চিৎকার করে বললো,
– কি ব্যবহার! ছোট’লোক মেয়ে! নিজের স্বামীকে মে’রে আবার চরিত্রহীন বলছিস?
– আপনার নাতি চরিত্রহীন তাই চরিত্রহীন বলছি। নিজে চরিত্রহীন হয়ে আমার চরিত্রের দিকে আঙুল তুলে কি আমি সেই আঙুল চু’ষবো বুঝি?
সুলতানা জামান ছেলের এই অপমান সহ্য করতে না পেরে স্নিগ্ধার দিকে এক পা এগিয়ে এসে দাঁত কিড়মিড় করে বললেন,
– কত বড় মুখ তোর! আমার সোনার টুকরো ছেলের নামে এমন মিথ্যা ক’লঙ্ক ছড়াচ্ছিস? নিজের দোষ ঢাকতে এখন ফাহাদের ওপর কাদা ছে’টাচ্ছিস, না? প্রমাণ ছাড়া আমার ছেলের নামে একটা কথা বললে তোর জিভ টেনে ছিঁ’ড়ে ফেলব!
ফাহাদ এখনো বাকরুদ্ধ। স্নিগ্ধা ওকে মে’রেছে এটা ভাবতেই পারছে না! স্নিগ্ধা ওর দিয়ে তাকিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,
– কেন মিস্টার ফাহাদ জামান আপনি আপনার পরিবারকে জানান নি যে আপনি অন্য নারীতে মত্ত? এখন তো আপনি আমাকে ছেড়ে দিতে পারলেই বাঁচেন! এই মেয়ে জন্ম দেওয়াটা তো শুধু একটা বাহানা!
ফাহাদ একটা শুকনো ঢোক গিলে রাগ দেখানোর চেষ্টা করে বললো,
– এই কিসব বলছিস তুই? একদম উল্টো পাল্টা কথা বলবি না!
– যারিন আহমেদ কে?
ফাহাদ নিজের লুকায়িত প্রেমিকার নাম শুনে বিস্মিত চোখে তাকাল। বাকিরাও ঘটনা বুঝে চুপ করে গেল।
– বলছি সে কি শুধুই আপনার কলিগ নাকি এর চেয়েও বেশি কিছু? না মানে রাত বিরাতে ফুসফাস করেন বিভিন্ন টেক্সট করেন তাই আর কি! তা কি প্রমাণ চান আপনার ছেলের? আপনার এই সোনার টুকরো ছেলে যে খুলনায় গিয়ে কার সাথে রাত-দিন কি করে সেই প্রমাণ? আমি না সেসব দিতে পারবো না আমি আমার মেয়ে নিয়ে বিজি থাকি তো তাই!
সবাইকে চুপ থাকতে দেখে হাসলো স্নিগ্ধা।
– কথা বন্ধ হয়ে গেছে বুঝি? হু? অবশ্য আমার জীবন নষ্ট করে কথা বন্ধ হলেও আমার কিছু বলার নেই!
ফাহাদ একটু বলার চেষ্টা করলো,
– এই বেশি কথা বলছিস তুই! নিজের দোষ স্বীকার না করে আমাকে…
– এই একদম চুপ! আমার সাথে গলা উচিয়ে কথা বলতে আসবেন না!
স্নিগ্ধার ধমকে ফাহাদ চুপ হয়ে গেল। সে স্তব্দ নয়নে চেয়ে আছে। এই স্নিগ্ধাকে সে চিনে না! সে স্নিগ্ধাকে তেজী জানতো কিন্তু প্রতিবাদী নয়! ওর দিকে আঙুল উঁচিয়ে স্নিগ্ধা আবার বললো,
– আমার বা আমার মেয়ের ব্যাপারে আর একটা বাজে কথা বললে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না! এতদিন আপনাদের সকল নোং’রামি অত্যাচার সহ্য করেছি, কারণ আঘা’তটা আমার ওপর ছিল। কিন্তু আজ থেকে আমি শুধু একজন নারী নই, আমি একজন মা! আমি আমার মেয়েকে নিয়ে চলে যাবো।
স্নিগ্ধাকে সত্যি সত্যি বের হওয়ার জোগাড় হতে দেখে ফাহাদের দাদি দাপট দেখিয়ে বললো,
– এই মাইয়ার তো গলার স্বর উঁচু হয়েছে! মেয়ে হয়ে এত ভাব কিসের? হ্যাঁ? ঘরের বউ আবার বাইরে চলে যাওয়ার হুমকি দিস! যাবি কই হ্যাঁ তোরে রাখবো কে?
– যেখানেই যাই, আপনাদের এই বাড়িতে আমি বা আমার মেয়ে কেউ থাকবে না! আপনাদের কোনরকম কথা আমি আর সহ্য করবো না! আমার মেয়ের দিকে আঙুল তুললে ওই আঙুল ভে’ঙ্গে দেবো!
আর কেউ কিছু বলার আগে স্নিগ্ধা বেরিয়ে এলো।সেদিনই এক কাপড়ে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ওই সংসার ছাড়লো! ছাড়লো সকল পিছুটান, সকল সম্পর্ক এবং সকল মানুষ! ফাহাদও আটকালো না। সে যে এখন অন্যতে মত্ত তার পুরনো মানুষ ভালো লাগে না! তাই নিজেও যেন সুযোগ পেল। তাহলে কেন স্নিগ্ধাকে জোর করে বিয়ে করে জীবনটা তছনছ করে ছাড়লো! নিজের খায়েশ আর জেদ মেটাতে নাকি দাপট দেখাতে? আর যদি ফাহাদ আটকাতো তবুও কি স্মিগ্ধা কখনোই থাকতো? কখনোই না!
সেই থেকে স্নিগ্ধার জীবন অন্য এক পথে চলে গেল। জীবন বোধহয় সমতল হয় না তাই তার জীবন ও সমতল হলো না। সেদিন থেকে তার জীবনের এক মাত্র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলো তার মেয়ে রূশদা আয়াত! যাকে ঘিরে তার এক বিশাল দুনিয়া। সেই দুনিয়ায় কি অন্য কেউ আসবে? কেউ কি তাদের আগলে নিয়ে তাদের দুনিয়া হয়ে যাবে? কেউ এসে ওদের পুরো জীবনটা রঙিন করে দিবে?
#চলবে…?

