#তুমি_আছো_তাই
#পর্ব_০৮
#লেখিকা_তাসনিম
“তুমি এখানে…….”
“আন্টি বলছিল আপনি রেডি হয়েছেন কিনা দেখে আসতে”
“তুমি একলা এসেছো”
“নাহ,বাবা মা সবাই এসেছি”
“বলো নি তো আমাকে”
“আমি জানতাম না,না জানিয়ে আমাকে নিয়ে এসেছে”
“জানালে আসতে না”
“উফফফ আপনি কথা এতো পেঁচান কেন”
“হুমম তোমাকে জ্বালাতে ভালো লাগে,বসো”
“নাহ,আপনি রেডি হয়ে নামাজে যান”
“হুমমম ওকে”
অনু ওর মার কাছে চলে আসলো।শাকিল রেডি হয়ে নামাজে চলে গেল।নামাজ শেষ করে শাকিল চলে এলো,কিন্তু আফজাল সাহেব আর শাহেদ সাহেব এলেন না,অনুকে একা বসে থাকতে দেখে ও ওর পাশে গিয়ে বসলো।
“পরীক্ষা কেমন হলো”
“আলহামদুলিল্লাহ”
“সো এমএসসি কি এখন করবে নাকি আমার বাসায় এসে করবে”
“আপনার বাসায় আসবো কে বললো”
“তো কোথায় যাবে,আমি ছাড়ছি না তোমাকে”
“হু হু একবারও তো কল দিলেন না এতোদিন, এখন ভাব নিয়ে বলা হচ্ছে ছাড়ছি না”
“ব্যস্ত মানুষ খাওয়ারই সময় পায় না তোমাকে কল দিব কিভাবে,আর আমি কল দিলে তো আবার তুমি সারাদিন আমাকে নিয়ে ভাবতে থাকবে তখন পড়বে কে আর পরীক্ষার খাতায় লিখবে কে”
“মোটেও আমি আপনাকে নিয়ে সারাদিন ভাবি না”
“জানি জানি”
“একটু বেশিই জানেন”
শাকিল হাসতে লাগলো,অনু ওর দিকে তাকিয়ে রইলো,কিছুক্ষণের মধ্যে আনিকা আর রায়হান চলে আসলো শাকিলের বাসায় শাকিলের কিছু ফ্রেন্ডও আসলো,সবাইকে আসতে দেখে শাকিল আর অনু কিছু টা অবাক হলো দুজন দুজনের দিকে তাকালো। সবশেষে যখন আফজাল সাহেব আর শাহেদ সাহেব এলেন তখন শাকিলের খুশি আর কে দেখে,অনু চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো,ওনাদের সাথে কাজি,আজ ওদের কাবিন হবে,কয়েকদিন পরে অনুষ্ঠান করবে।কাবিন শেষ হয়ে গেলে সবাই মিষ্টি মুখ করলো,শাকিল আফজাল সাহেব কে বললো,
“থ্যাংক ইউ আংকেল,আপনাকে অনেক অনেক থ্যাংক ইউ”
“উহহহম আংকেল কে”
“ওহ সরি বাবা,আমি শাকিল রহমান সবার সামনে কথা দিচ্ছি অনুর চোখে কখনো পানি আসতে দিবো না ওকে সবসময় খুশি রাখবো কখনো ওর হাত ছেড়ে দিবো না”
“হুমম এ দায়িত্ব তুমি ঠিকভাবে পালন না করলে জানোই তো”
“হুমম জানি”
“কি শাহেদ এবার খুশি হতো”
“হ্যাঁ রে অনেককক,আমরা অনু মা কে আমাদের ঘরের মেয়ে হিসেবে পেয়েছি খুশি হবো না”
সবাই সবার মধ্যে কথা বলছিল,শাকিল অনুকে আস্তে আস্তে বললো,
“বউজান,আপনি খুশি না”
অনু শাকিলের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিলো,তারপর মাথা নাড়লো কিছু বললো না।
“এরকম সারপ্রাইজ আমি জীবনে পাইনি,সিরিয়াসলি বেস্ট সারপ্রাইজ এভার,তুমি কিছু বলো না কেন”
“সবাই আছে এখানে কি বলবো”
“হুমমম তাও ঠিক,আচ্ছা যাও কিছু বলা লাগবে না”
সবাই খাওয়া দাওয়া করলো,তারপর যাওয়ার পালা, শাকিলের মা বললো,
“খুব তাড়াতাড়ি আমাদের ঘরে নিয়ে আসবো,বুঝলি”
“হ্যাঁ আপনাদের কাছেই তো দিয়ে দিবো, কতবড় হয়ে গেল আমার মেয়ে দুটো”
“আম্মু কান্না করো কেন,তোমাদের সাথেই তো যাচ্ছি”
“হ্যাঁ রে”
শাকিল অনুকে ইশারা করলো সাইডে আসার জন্য, অনু না করলো, শাকিল সবার সামনে বলে উঠলো,
“আচ্ছা আমি যদি অনুর সাথে পাঁচ মিনিট কথা বলি তাহলে কি খুব দেরি হয়ে যাবে”
শাকিলের রিয়েকশনে সবাই হেসে দিলো,অনু লজ্জা পেয়ে গেল।আনিকা বললো,
“বউ তো তোমারই,তুমি কথা বলবে না তো কে বলবে”
“হ্যাঁ আমিও তো আপু ওকে সেটায় বলতে চাইছি,কিন্তু ও আমাকে পাত্তাই দিচ্ছে না”
“আচ্ছা আচ্ছা তাড়াতাড়ি যাও,রাত হয়ে যাচ্ছে”
“এটা কি করলেন আপনি,সবাই কেমন হাসাহাসি করলো”
“তোহহ আমি আমার বউয়ের সাথে কথা বলবো না,তুমি আমার একমাত্র বউ”
“আরেহ হয়েছে বারবার বউ বউ বলেন না”
“ভালো লাগে তো তোমার মুখ টা লাল হয়ে যায় ভালো লাগে আমার দেখতে,আচ্ছা চলে যাবা এখন”
“হুমম”
“চলে গেলে তো আমার সারারাত ঘুম আসবে না,বুকের ভেতর তো ঘূর্ণিঝড় তুলে দিয়ে গেছো”
“আমি তো শান্তির ঘুম দিবো আজকে,আপনিও যেন শান্তি তে ঘুমাতে পারেন তাড়াতাড়ি সে ব্যবস্থা করেন কেমননন”
“সেটা আর বলতে,আচ্ছা চলো এখন সবাই অপেক্ষা করছে মনে হয়”
“শুনুন”
“সাবধানে থাকবেন, এখন থেকে কিন্তু আপনি একলা আমিও আপনার সাথে জরিয়ে গেছি,আমাকে অনেক ভালোবাসতে হবে”
“তাই বুঝি”
“হুমমম তাই”
শাকিল অনুর হাত টা ধরতে গিয়ে ওর দিকে তাকালো,আর বললো,
“ধরতে পারি?এখন তো আমার বউ”
“নাহ,বাইরে সবাই বসে আছে এখন ধরা যাবে না”
“তবে একলা আসো”
“আরেহ পাশাপাশি হাঁটতে তো পারেন,এই যে দাঁড়ান আমার জন্য”
অনু আর শাকিল চলে আসলে,অনু রা বেরিয়ে যায়।অনুরা চলে গেলে শাহেদ সাহেব শাকিল কে তার সামনে বসতে বললেন।শাকিল তার সামনে বসলো।
“আজ তোমার সাথে কি হয়েছে তুমি বুঝতে পেরেছো”
“হুমমম”
“তোমার জীবনের একটা বড় দায়িত্ব পালনের সময় এসে গেছে তোমার,অনুর সব দায়িত্ব তোমার আশা করি সে দায়িত্ব তুমি ভালো করে পালন করবে,আফজাল অনেক ভরসা করে তোমার হাতে অনুর দায়িত্ব দিয়েছেন, কথাটা মাথায় রেখো,অনু এ বাসায় চলে আসার পর থেকে চাইলেই তুমি অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে থাকতে পারবে না, বন্ধু দের সাথে সারাদিন আড্ডা দিতে পারবে না,যখন ইচ্ছে হবে ঘুরতে যেতে পারবে না,কারণ তোমার বাসায় এমন একজন থাকবে যাকে তোমার সময় দিতে হবে তার মুখে হাসি ফোটাতে হবে,আমরা পুরুষ মানুষেরা সারাদিন যত কাজই করি আসি না কেন বাসায় আমাদের হাসিমুখে ঢুকতে হয়,কারণ আমাদের সারাজীবনের সঙ্গী আমাদের হাসি মুখ টা দেখার জন্য বসে থাকে,তাদের কে ভালো রাখা আমাদের দায়িত্ব”
“হুমম,বাবা আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো,কথা দিচ্ছি”
“হুমম, ভরসা করছি তোমার উপর,যাও রুমে যাও,রেস্ট নেও”
“বাবা……”
“হুমম বলো”
“থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ সো মাচ”
“শুধু বাবাকেই থ্যাংক ইউ বলবি আর মা যে গিয়ে আফজাল ভাইকে মানালাম”
“ওহ মেরি জান,তোমাকে আমার থ্যাংক ইউ বলতে হবে,তুমি তো আগে থেকেই সব বুঝে ফেলো”
“হ্যাঁ,বাবা তুই ভালো থাক সুখে থাক,আমাদের অনুকে ভালো রাখ এটাই চাই আমরা”
“হুমমমম”
#চলবে
(ভুল ক্রটি ক্ষমার চোখে দেখবেন)