#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _৭
১৮৮৮৮৮+ সতর্কতা [নিচের নোট টা সবাই পড়বে]
[আগেই বলে রাখছি এই গল্পটা রোমান্টিক হবে তাই ভালো না লাগলে স্কিপ করো]
🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
আরমান মির্জা কোনো রকম উত্তর করলো,,,, হ্যা সত্যি ঊষান আমার সন্তান।
ওনার মুখ থেকে কথাটা বের হতেই যেন পুরো ড্রয়ইং রুম জুড়ে বিস্ফোরণ ঘটলো। সাবিহা মির্জা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।
ঊষান সামনে এগিয়ে এসে নুহার পাশে দাড়িয়ে বললো,,,,, আপনারা আপনাদের নাটক চালিয়ে যান আমি আমার বউ নিয়ে বাসর করতে যাচ্ছি আর হ্যা তাড়াতাড়ি আমার রুমের ব্যবস্থা করেন সবাই।
ঊষান আর দেড়ি না করে নুহা কে কোলে তুলে নিয়ে উপরের দিকে হাটা শুরু করলো।নুহা জানে ঊষান ওকে এখন আস্ত রাখবে না আর, ঊষান কে দেখেই বোজা যাচ্ছে ও খুব রেগে আছে।
ঊষান আর কারো সাথে কোনো কথা না বলে নুহাকে নিয়ে সোজা ওর রুমে চলে গেলো। ওখানে নিয়ে গিয়ে সোজা দরজা বন্ধ করে সোজা নুহার ঠোঁটে হামলা শুরু করলো মনে হয় যেন ঊষান তার সব রাগ ওর ঠোঁটে কিসের মাধ্যমে উগড়ে দিচ্ছে।কিছুক্ষন পর ছেড়ে দিয়ে ঊষান উঠে দাড়ায় এদিকে নুহা হাপাচ্ছে।
ঊষান নিচে দাঁড়িয়ে থাকা কারও দিকে দ্বিতীয়বার তাকাল না। নুহার কব্জিটা শক্ত করে ধরে ওকে ওর সামনে দাঁড় করলো , ঠিক যখন ঊষান নুহাকে কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই সময় বাইরে থেকে আওয়াজ ভেসে এলো ।ঊষান এটা শুনে বিড়বিড় করে বললো,,,,,, এরা কি আমাকে একটু শান্তি দিবে না, মানি বা না মানি আমার বউ আমি এনেছি এতে ওদের কি।
নূর,আয়াস, ইয়াস সবার চোখের সামনে দিয়েই সে নুহাকে নিয়ে ওপরে উঠে গেল তখন ওরাও ওদের পিছু নিয়ে উপরে উঠেছে ।বাইরে থেকে সবার ডাক শুনে নুহা গিয়ে দরজা খুলে দেয় সাথে সাথে নূর এগিয়ে আসতেই ঊষান একবারও পেছনে না তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে উঠল,,,,,,
“আর এক কদমও এগোবেন না। আজ আমি কারও সঙ্গে কথা বলতে আসিনি। আমি শুধু নুহার সঙ্গে কথা বলব। কেউ যদি আমাদের কথার মাঝে আসার চেষ্টা করেন, তাহলে আমি কী করব, সেটা আমিও জানি না।”
কথাটা বলেই সে নুহাকে নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে নুহার বুক কেঁপে উঠল। কয়েক মুহূর্ত দুজনের মাঝেই শুধু নিস্তব্ধতা।
ঊষান ধীরে ধীরে নুহার দিকে এগিয়ে এলো। তার চোখ দুটো অস্বাভাবিক শান্ত, অথচ সেই শান্তির ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। নুহা অনিচ্ছায় এক পা পিছিয়ে গেল।
“এভাবে পিছিয়ে যাচ্ছিস কেন নুহা? পালিয়ে আসার সময় এই কলিজা কই ছিলো?”
নুহা ঠোঁট কামড়ে নিজেকে সামলে নিল।তারপর কান্না জড়িত কণ্ঠে বললো,,,,,
আপনি এমন করছেন কেন? ভয় হচ্ছে আমার!!
তা সেটা আসার সময় মনে ছিলো না যে আমি তোকে ছাড়বো না। এখন বল কেন চলে এলি?
নুহার এবার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে, কি দেখে যে এই অভদ্র লোকের প্রেমে পড়তে গিয়েছিলো। এবার ও একটু চিৎকার দিয়েই বলে উঠলো,,,,,,,,
“আপনি আমার কাছ থেকে কী শুনতে চান? আপনি আমাকে বন্দি করে রেখেছিলেন। আমার পরিবার আমাকে খুঁজে পেয়েছে, তাই তারা আমাকে নিয়ে এসেছে। এতে আমি কী ভুল করেছি? আপনি কি সত্যিই ভেবেছিলেন, আমি সারাজীবন ওই বাড়িতেই থাকব? নাকি আপনি যা চাইবেন, সেটাই হবে?”
ঊষান হঠাৎ দেয়ালে ঘুষি মারল যা দেখে নুহা পুনরায় কেঁপে উঠলো।এক মুহূর্তে উষানের নীরবতা মুহূর্তেই ভেঙে গেল।তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,,,,,,
ভুল? তুই আমাকে ভুলের কথা শেখাচ্ছিস? একবার শুধু একবার আমাকে একটা খবর দিতে পারতিস না? আমি বাইরে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি পুরো ঘর খালি। তুই নেই। কেউ নেই। আমি কি জানতাম, তোর পরিবার তোকে নিয়ে গেছে? নাকি ভাবব, তুই নিজেই পালিয়ে গেছিস?কিছু ক্ষনের জন্য মনে হচ্ছিলো,,,,,,,
সব কথা বললো না ও নিজেই জানে না রাগের বসে কি বলতে যাচ্ছিলো।এদিকে নুহার চোখ ভিজে উঠল।
“আমি খবর দেব কীভাবে? আমার কাছে ফোন ছিল না। দরজার বাইরে পুলিশ, আমার বাবা, আমার ভাই আমি কি তাদের বলতাম,,,,,,একটু দাঁড়ান, আগে ঊষান ভাইকে বলে আসি, তারপর যাব? আপনি নিজেই বলুন, এটা কি সম্ভব ছিল?আর আপনাকে জানালে এখনো ওই জাহান্নাম থেকে বের হতে পারতাম না বুজলেন, যাতে আবার বন্ধী করতে পারেন ।
ঊষান চুপ করে রইল।নুহা এবার অনেক দিনের জমে থাকা কষ্ট উজাড় করে দিল।
আপনি জানেন, আমি প্রতিদিন আপনার ওপর রাগ করেছি। আপনার জন্য কেঁদেছি আবার অদ্ভুতভাবে আপনার ফেরার অপেক্ষাও করেছি। আপনি আমাকে কখনও ভালো কথা বলেননি, কখনও নিজের মানুষ ভাবেননি। শুধু প্রতিশোধের কথা বলেছেন। তারপরও আপনি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি খাবার খেতাম না। কেন জানেন? কারণ আমি ভাবতাম হয়তো আজ আপনি একটু অন্যরকম হবেন। কিন্তু আপনি আপনি তো কখনো আমাকে বুঝতেই চাননি।
ঊষানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল,সে নিচু স্বরে বলল,,,,,,,
“আমাকে বোঝার চেষ্টা করিস না, নুহা। আমি এমন মানুষ নই, যাকে বুঝে ফেলা যায়।”
নুহা তিক্ত হেসে ফেলল।
না আপনাকে আমি বুঝেছি। আপনি মুখে বলেন আপনার ভেতরে কোনো অনুভূতি নেই। কিন্তু আপনি অসুস্থ হলে ওষুধ এনে দেন, আমি না খেলে নিজে রেগে যান, রাতে দরজার বাইরে বসে থাকেন। আবার সবাইকে বলেন, আমি নাকি শুধু আপনার প্রতিশোধের একটা অংশ। আপনি আসলে নিজের কাছেই মিথ্যে বলেন।
কথাটা শুনে ঊষানের চোখের দৃষ্টি বদলে গেল।
কয়েক সেকেন্ড শুধু নুহার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর ধীরে ধীরে বলল,
চুপ!!আর একটা কথাও বলবি না। আমার সম্পর্কে এমন কোনো কথা বলার অধিকার তোর নেই, যেটা আমি নিজেও স্বীকার করি না।
নুহা এবার সাহস করে তার চোখে চোখ রাখল।ফের একটা শুকনো ঢোক গিলে বলতে শুরু করলো,,,,,,,
তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। যদি আমি শুধু প্রতিশোধের অস্ত্রই হয়ে থাকি, তাহলে আমি চলে যাওয়ার পর আপনি এত রেগে গেলেন কেন? কেন আবার এই বাড়িতে ফিরে এলেন? কেন আমার ঘরে দাঁড়িয়ে আমাকে এসব জিজ্ঞেস করছেন? আপনার কী এসে যায় আমি কোথায় থাকি?
ঘরের ভেতর আবার নেমে এল দীর্ঘ নীরবতা।ঊষান ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে জানালার দিকে তাকাল।মুঠো করা হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এভাবে অনেকক্ষণ চুপ থাকার পরে সে শুধু এতটুকুই বললো,,,,,
কারণ অসমাপ্ত হিসাব আমার সহ্য হয় না।
নুহা শান্ত গলায় উত্তর দিল,
“হয়তো। অথবা কারণ আপনি যতটা ভাবেন, আপনার ভেতরটা ততটা পাথর নয়।”
ঊষান কোনো জবাব দিল না।কিন্তু তার নীরবতাই যেন বলে দিল নুহার কথাগুলো তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ঘরের বাতাসে রাগ এখনও রয়ে গেছে, কিন্তু সেই রাগের আড়ালে এমন কিছু অনুভূতির ছায়াও তৈরি হয়েছে, যেটার নাম ঊষান এখনও নিজের কাছেও উচ্চারণ করতে রাজি নয়।
ঊষান কে এভাবে চুপ থাকতে দেখে কিছুক্ষন পর হঠাৎ বলে উঠলো,,,,,,,
আচ্ছা শুনুন আপনি যা চেয়েছিলেন তা তো হয়েই যাচ্ছে চলুন আমরা ডিভোর্স নিয়ে নেই!!
কথা গুলো বলেই নুহা চোখ তুলে উষানের দিকে তাকালো। নুহার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে কেউ ওর গলাটা চেপে ধরলো এটা আর কেউ নয় ঊষান আবিদ যে তার বউকে মানে না। ওভাবে রেখেই হিসহিসিয়ে নুহাকে বলতে শুরু করলো,,,,,,
বেশি বারিস না একদম জানে মেরে ফেলবো পিচ্চি পাখি।।।
ঊষান এর এই অগ্রেসিভ আচরণ দেখে নুহা শুধু মুছকি হাসলো।
কেন আপনি তো আমাকে চান না তাহলে এমন করার মানে কি?
ঊষান নুহার কথার উত্তর না দিয়ে বরং হঠাৎ ওকে নিয়ে বিছানায় আছড়ে পড়লো। আকস্মিক এমন হওয়ায় নুহা একটু ভয় পেলো। এর মধ্যে ঊষান এর থেকে ভেসে এলো,,,,,,,
তোকে আমার চাই এখনি চাই নুহা!! দিবি আমাকে তোকে নুহা??
বলেই নুহার গোলাপি অধর জোড়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ঊষান। কিছুক্ষনের মধ্যে নুহা আবিষ্কার করলো ওর শরীরের আবরণ গুলো নিচে লুটিয়ে পড়েছে।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
#চলবে

