Home "ধারাবাহিক গল্প "তু্ই আমার তু্ই আমার পর্ব-০৮

তু্ই আমার পর্ব-০৮

0
5

#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _৮(বাসর স্পেশাল )

🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
[🚫সতর্কতা :১৮++++++ তাই নিজ দায়িত্বে পড়বেন আর ভালো না লাগলে স্কিপ করবেন ]

নুহা ডিভোর্স এর কথা বলায় ঊষান যেভাবে ওর ঠোঁট দুটোকে আঁকড়ে ধরে নিজের মধ্যে থাকা ক্ষোভ উপরে দিচ্ছিলো তা নুহা সামলাতে হিমসিম খাচ্ছিলো।কিছুক্ষন পর ঊষান নুহাকে ছেড়ে দিয়ে বারান্দায় চলে যায় আর এদিকে নুহা বিছানার এক কোণে মাথা নিচু করে বসে আছে। সারাদিনের ক্লান্তি, বিরক্ত কর পরিবেশ আর অনিশ্চয়তা মিলিয়ে তার বুকটা ভারী হয়ে আছে।মনে বিড়বিড় করে যাচ্ছে,,,,,,,,

মানুষ সত্যিই অদ্ভুত। ঊষান ভাই চাইলে আজ আমাদের সম্পর্ক অন্য রকম হতো অথচ আমি জানি, এই বিয়ের পেছনে সুখ বলে কিছু নেই আছে শুধু একটা অসমাপ্ত হিসাব।

নুহা ধীরে মাথা তুলল এরপর আস্তে করে উঠে দাড়ালো। ঊষান কে ওর প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে!হবে মানে হবে যদি সে ওকে না চায় তাহলে এভাবে আটকে রাখতে পারবে না। নুহা সোজা ঊষান এর কাছে চলে গেলো ঊষান ওকে দেখেও দেখলো না যেন।। নুহার খারাপ লাগলেও নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,,,,,,,,

তাহলে আমাকে বিয়ে করলেন কেন? আমার জীবনটা নষ্ট করার কী দরকার ছিল?

ঊষান নুহার কথা শুনে পিছন ফিরে তাকায় এরপর দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায় সাথে ওর গায়ের কোট খুলে চেয়ারের ওপর রেখে ঠান্ডা চোখে তাকাল নুহার দিকে।

কারণ তুই ছিলি সবচেয়ে সহজ রাস্তা। তোর পরিবারের কাছে পৌঁছানোর জন্য আমাকে দরজা দরকার ছিল। আর সেই দরজাটা তুই। এর বেশি কিছু না।

নুহার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।তাও নিজেকে ভাঙতে দিলো না নুহা ঊষান এর কথা শুনে ফের স্বাভাবিক কণ্ঠে সুধায়,,,,,,,,,

একবারও কি মনে হলো না, আমিও একজন মানুষ? আমারও স্বপ্ন ছিল, নিজের মতো একটা জীবন ছিল। শুধু প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আপনি সবকিছু ভেঙে দিলেন?আমার ভালোবাসা কে এভাবে পিষে মেরে ফেলতে উঠে পরে লেগেছেন!!

ঊষান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নুহার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

“স্বপ্ন? আমার মায়েরও স্বপ্ন ছিল। সেগুলো ভাঙার সময় কেউ তার কথা ভাবেনি। আজ আমি কারও স্বপ্নের হিসাব রাখব না।”

ঘরে আবার নীরবতা,নুহা ধীরে ধীরে ঊষানের আরও কাছে গিয়ে দাড়ালো।

আপনি আমাকে ঘৃণা করেন, তাই না?

ঊষান কোনো উত্তর দিল না। কিছুক্ষণ পরে ধীর গলায় বলল,,,,,,

ঘৃণা করি কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি আমার লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াব না। তুই আমার স্ত্রী নামেই। এর বাইরে আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তাই আমার কাছ থেকে ভালোবাসা, মায়া কিংবা স্বামীর অধিকার কোনোটাই আশা করবি না। নিজের মনকে যত তাড়াতাড়ি এটা বুঝিয়ে নিতে পারবি, ততই তোর জন্য ভালো হবে।

নুহার চোখে পানি চলে এলো।

আমি যদি একদিন সত্যিই আপনাকে ঘৃণা করতে শিখে যাই?

ঊষান ধীরে ঘুরে তার দিকে তাকাল।

তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত একটা খেলা দেখা দিল। কিন্তু পরের মুহূর্তেই সেটা মিলিয়ে গেল।ঊষান নুহার প্রশ্নের উত্তরে বলতে শুরু করলো,,,,,

সেটাই চাই কারণ আমাকে ভালোবাসলে শেষ পর্যন্ত তোরই ক্ষতি হবে। আর আমি চাই না, আমার পথে দাঁড়িয়ে তুই আরও দুর্বল হয়ে পড়।

কথাটা বলে ঊষান আর দাড়ালো না সোজা ঘরের মধ্যে পা বাড়ালো নুহাও ওর পিছে ছুটলো।ঘরের মধ্যে এসে নুহা ঊষান এর পথ আটকে দাড়ালো।এটা দেখে ঊষান চোখ দিয়ে ইশারা করে বুজাতে চাইলো,,,,,,

কি সমস্যা পথ আটকাচ্ছিস কেন?

আমার কিছু কথা আছে।

কি কথা তাড়াতাড়ি বল তোদের নাটক দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত।

আপনি তো আমাকে চান না তাই তো? তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিন আমি নাহয় আপনাকে এভাবে ভালোবেসে যাবো তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই কিন্তু এভাবে থাকা সম্ভব নয়।

নুহা কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঊষান নুহার ছোট্ট শরীর টার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।ওর দুই হাত দেওয়ালের সাথে আটকে ধরে ওকে ঝাঁকিয়ে বলতে শুরু করলো,,,,,,,,,

তোকে আমি বেঁচে থাকতে কখনো ডিভোর্স দিব না আর একবার তোর ওই মুখ দিয়ে ডিভোর্স এর কথা উচ্চারণ করলে তোর এই সুন্দর মুখ আর আস্ত থাকবে না।

নুহাকে ওভাবে ধরায় ওর যতোটা না কষ্ট হচ্ছে তার থেকে বেশি মনের কষ্ট হচ্ছে।নুহা বারবার ফুঁপিয়ে উঠছে। নিজের কথার মাঝে ঊষান এর চোখ যায় নুহার উপর,,, অতিরিক্ত কান্নার ফলে পুরো মুখ লাল হয়ে গেছে গোলাপি ঠোঁট দুটো আরও ঘাড়ো বর্ণ ধারণ করেছে এসব দেখে ঊষান কেমন নিজেকে হারাচ্ছে।। পাশাপাশি নুহার শরীর থেকে বেসে আসা সুভাষ ঊষান কে আরও কাবু করে দিচ্ছে।হঠাৎ ঊষান বলে ওঠে,,,,,,,,,

~তোকে আমার চাই এখনি চাই নুহা!! দিবি আমাকে তোকে নুহা??

‎বলেই নুহার গোলাপি অধর জোড়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ঊষান।

‎~ঊষান ভাই লাগছে ছাড়ুন!!!

‎কিন্তু ঊষান কি কিছু শুনছে সে তো মত্ত নুহা তে। এদিকে নুহার অবস্থা যাই যাই।ঊষান এবার নুহার ঠোঁট ছেড়ে ওর গলায় নামলো, ওখানে ছোট ছোট আদরে ভরিয়ে দিতে লাগলো এদিকে নুহার কণ্ঠে ভেসে আসছে,,,,,

উফঃ!!ঊষান ভাই আর পারছি না প্লিজ!!

কিছুক্ষন পরে নুহাকে ছেড়ে দিয়ে ফের বলে,,,,,তোকে আমার চাই এখনি চাই নুহা!! দিবি আমাকে তোকে নুহা?জাস্ট একটু পেন দিবো পিচ্চি পাখি প্লিজ!!

এদিকে নুহা তো নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না কি বলছে এসব ঊষান। নুহা একবারে অবুঝ না যে ও এসব বুজবে না। নুহা ঊষান কে ওর কাছ থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,,

আপনি ঠিক নেই ঊষান ভাই। এখন যা করছেন পরে এর জন্য পস্তাতে না হয়।

নুহার বলার সাথে সাথে উত্তর এলো,,,,,সেটা আমি বুজে নেবো পিচ্চি পাখি।। তুই শুধু একবার আমার হ।।

ঊষান যেভাবেই হোক আজ সে তার হালাল নারীর কাছে হেরে গেছে। পরে হয়তো এর জন্য ওকে অনেক দাম দিতে হবে কিন্তু সে এখন তার হালাল নারীতে মত্ত।

নুহা ঊষান এর কথা শুনে তিক্ত হাসলো।

~আজ যদি নিজের সন্মান বিসর্জন দেওয়ার মধ্যে হলেও আপনাকে সারাজীবন এর জন্য পেয়ে যাই তাহলে আমি আপনাতে নিজেকে বিলীন করলাম আমার প্রিয় পুরুষ!~

ঊষান ফের নুহা তে মত্ত হলো।ঊষান ওকে কোলে তুলে নিয়ে বেডে ফেললো। ঊষান এবার নুহার ঠোঁট ছেড়ে ওর গলায় মুখ গুজলো, ওখানে ছোট ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিতে শুরু করলো। এদিকে ঊষান এর বেপরোয়া হাত দুটো নুহা কামিজ গলিয়ে নিষিদ্ধ স্থানে প্রবেশ করে ফেলেছে।সেখানে স্পর্শ পেতেই নুহা খেই হারায়, ও নিজের দুই হাত দিয়ে ঊষান কে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে এতে ঊষান যেন আরও আস্কারা পায়।
নুহা কিছুক্ষনের মধ্যে নুহা আবিষ্কার করলো ওর শরীরের আবরণ গুলো নিচে লুটিয়ে পড়েছে।

যত সময় যাচ্ছে ঊষান এর উন্মাদনা আরও বাড়ছে যা নুহার ছোট শরীর সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

প্লিজ ঊষান ভাই আস্তে মরে যাচ্ছি!!

একটু সহ্য করে নে পিচ্চি পাখি একটু!!!

নুহাও যেন শুনলো ও চুপ করে গেলো। নুহা জ্ঞান হারানোর আগে ঊষান এর এই একটা বাণী ওকে আরও নাড়িয়ে দিলো,,,,,,ইউ আর সো সফ্ট পিচ্চি পাখি। এটা শুনে ওর লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। সব তিক্ততা ভুলে দুই মানব মানবী মত্ত হলো ভালোবাসায়। দেখা যাক কালকের নতুন সূর্য ওদের জন্য কি নিয়ে অপেক্ষা করছে।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

ঊষান এর রিঅ্যাকশন দেখার অপেক্ষায় 😁😁😁😁😁😏
এই পর্বের বাকি অংশ কালকে আসবে। ভালো লাগলে রেসপন্স করো আর হ্যা লেখা বেশি খারাপ হলে বলো এডিট করে ঠিক করে দিবো।

#চলবে