#তোর অনুরাগে
#লেখনীতেঃতানজিলা_খাতুন_তানু
#পর্ব_৬
___________
আদ্রিকা ফোনে আসা মেসেজটা দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে গেলো। নিরব আদ্রির সাথে মিট করতে চাইছে তাও আবার আজকে বিকালে কিন্তু কেন?
আদ্রিকা বিষয়টা কাউকেই কিছু বললো না। নিরবের কথা মতো বিকালে নিরবের বলা জায়গায় চলে গেলো।
আদ্রিকাঃ আমাকে হুট করে এখানে ডাকলেন কারনটা কি?
নিরবঃ তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই
আদ্রিকাঃ কি?
নিরবঃ আসলে।
আদ্রিকাঃ বলুন।
নিরবঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আদ্রিকা চমকে উঠলো। নিরব ওকে ভালোবাসে কথাটা বলেছে সেটা বুঝতে ওর কিছুক্ষন সময় লাগলো। আদ্রিকার মাথা ঘুরছে ভো ভো করে। নিরবের বলা কথাটা সবকিছু ওলোটপালট করে দিচ্ছে।
নিরবঃ আদ্রি আমি আমার মনের কথা তোমাকে জানালাম এবার তোমার সিদ্ধান্ত তুমি যেটা বলবে সেটাই হবে আমি তোমাকে জোড় করবো না।
নিরব আদ্রিকে বিদায় জানিয়ে চলে যায়। আদ্রিকা ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। সবকিছুই গন্ডগোল লাগছে।
আদ্রিকা বাড়িতে ফিরে অন্যমনস্ক থাকতে দেখে ওর মা বললোঃ কি হয়েছে তোর
আদ্রিকাঃ কিছুই না।
মাঃ আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখবি নিজের মায়ের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখবি।
আদ্রিকা কিছু একটা ভেবে বললোঃ মা ভালোবাসা কাকে বলে? আর আমি কাউকে ভালোবাসলে কিভাবে বুঝবো তাকে ভালোবাসি।
মেয়ের এমন প্রশ্নে অনেকটাই অবাক হলো আনিকা। আদ্রিকা হঠাৎ এই কথা কেন জিজ্ঞাসা করছে সেটা ওনার অজানা। তবুও আদ্রিকার দিকে তাকিয়ে বললোঃ তুই কেন এই কথা জিজ্ঞেস করছি আমি জানি না আর জানতেও চাই না।
আদ্রিকা ওর মায়ের দিকে তাকালো। ওর মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললোঃ ভালোবাসার অর্থ সবার কাছে এরকম না। প্রতিটা মানুষের কাছে ভালোবাসার অর্থ আলাদা। অপর মানুষটার প্রতি অনুভূতি শ্রদ্ধা প্রতিটা মানুষের ভালোবাসার অর্থ আলাদা করে দেয়। তবে প্রতিটা ভালোবাসার বা অন্য কোনো সম্পর্কের মুলে থাকে বিশ্বাস। বিশ্বাস ছাড়া যেমন কোনো সম্পর্ক টেকে না ঠিক তেমনি বিশ্বাস না থাকলে ভালোবাসাও হয়না। ভালোবাসলে মানুষটার প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখতে হয়। ভরসা করতে হয়।
আদ্রিকার মা একটু থেমে আবারো বলতে চালু করলেনঃ ভালোবাসার মানুষটি তোর কাছে আসলে একটা অন্যরকম অনুভূতি হবে। সে আসে পাশে থাকলে তাকে ফিল করতে পারবি। তার ভালো খারাপ সবকিছুই তোর ভালো লাগবে। তার সাথে থাকলে নিজেকে সবথেকে বেশি সেফ মনে হবে। নিজেকে সবথেকে সুখী মানুষ মনে হবে। মনের মধ্যে তার জন্য একটা আলাদা অনুভুতি কাজ করবে। বুঝলি।
আদ্রিকা মাথা নাড়লো।
মাঃ মা ভালোবাসলে আগলে রাখতে হয়। আর ভালোবাসার মাঝে কখনোই তৃতীয় ব্যক্তিকে আনা উচিত নয়। ভালোবাসলে ইগো, অবহেলা এইসব কে প্রায়োরিটি দিতে নেয়।
মা আরো কিছুক্ষন কথা বলে চলে গেলেন। আদ্রির মনের মাঝে প্রশ্ন জাগতে লাগলো আমি কি নিরবকে ভালোবাসি?
পরেরদিন…
ভার্সিটিতে এসে আদ্রিকা মন খারাপ করে বসে আছে। আদ্রি কখনোই ওর বন্ধুদের কাছ থেকে কিছুই লুকিয়ে রাখেনি এই কথাটাও রাখলোনা। সবাই প্রথমে মজা করলেও আদ্রির দোটানা নিয়ে সকলেই চিন্তিত।
নূপুর আদ্রিকাকে এই চিন্তা থেকে বের করার জন্য বললোঃ আদ্রি আমরা কিন্তু নিজেদের টার্গেট থেকে সরে যাচ্ছি।
নীলিঃ হ্যাঁ এটা একদম ঠিক কথা।
আদ্রিকাঃ আমার কেন যেন মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছা করে আমাকে এইসব থেকে দূরে রাখতে চাইছে। এবার আমাদের আসল প্ল্যানটা কাজে লাগাতে হবে।
সবাই মাথা নাড়লো। করলাম থাকায় সকলেই ক্লাসে চলে গেলো।নিরব আদ্রিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো ওর উত্তর আদ্রি কিছু না বলে ওখান থেকে চলে আসে। নিরব অনেকটাই হতাশ হয়ে যায়। আদ্রি আনমনা হয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ কারোর সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে গেলে সামনে থাকা মানুষটা ওকে ধরে নিলো।
আদ্রি চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে দেখলো আহসান দাঁড়িয়ে আছে একসাথে ওকে ধরে। আহসান আদ্রিকে দাঁড় করালো।
আহসানঃ চারচোখো হয়েও চোখে দেখতে পাও না।
আদ্রিঃ একদম আমাকে চারচোখে বলবেন না বলে দিচ্ছি।
আহসানঃ ওহ সরি মিস চশমিশ তোমাকে চারচোখে ভুল করে বলে দিয়েছি।
আদ্রিঃ দেখুন আপনার সাথে ঝগড়া করার কোনো ইচ্ছা আমার নেয়।
আহসানঃ আরে ঝগড়া কোথায় করছি তোমাকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচালাম একটা থ্যাঙ্কস দেবে তা না করে ঝগড়া করছো।
আদ্রিঃ আমি কি বলেছি আমাকে বাঁচান।
আহসানঃ তা আর বলবে কেন। কিন্তু আমার সামনেই তো আছাড় গুলো খাও তাই না।
আদ্রিঃ একদম বাঁচে কথা বলবেন না। আপনি আমাকে একদম ছোঁবেন না।
আহসান মুখ বেঁকিয়ে বললোঃ বয়েই গেছে তোমাকে ছুঁতে আমার কি মেয়ের অভাব পড়েছে নাকি তোমাকে ছুঁতে যাবে অসহ্য সব।
আদ্রি রাগ দেখিয়ে আগাতে যেতেই ধপাস করে পড়ে যায়।
আদ্রিঃ ও মাগো কোমড় গেলো। আমাকে তুলুন।
আহসানঃ তুমিই তো বললে তোমাকে না ছুঁতে তাহলে।
আদ্রিঃ তাই বলে বিপদে পড়েছি একটু হেল্প ও করবেন না।
আহসানঃ সেটাই তো করি তাও কত কথা শুনতে হয়।
আদ্রিঃ আচ্ছা বাবা সরি। আমি আর কিছু বলবো না। এবার তো তুলুন আমাকে।
আহসান আদ্রির হাত ধরে টেনে তুললো। আদ্রির হাতে টান দেওয়ার দরুন আদ্রি আহসানের অনেকটাই কাছে চলে আসলো। আদ্রির নজর পড়লো আহসানের চোখের দিকে দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। আদ্রি আহসানের চোখ থেকে নিজের চোখ সরিয়ে নিলো। আর আহসানকে থ্যাঙ্কস বলে চলে যায়। এই সবকিছুই দূর থেকে লক্ষ্য করছিলো নিরব।আহসান আর আদ্রিকাকে একসাথে দেখে রাগে ফেটে পড়লো।
রোশান নীলির সামনে আর আসেনি। নীলির ওহ মন খারাপ অনেকটাই। কিন্তু কাউকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে চুপ করে আছে।যদিও সবাই ওর মন খারাপের বিষয়টা বুজতে পারছে।
আদ্রি নিজের ঘরে আনমনা হয়ে বসে আছে। নিরবকে ভালোবাসে কিনা সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না। মন আর মস্তিষ্কের লড়াই চলছে। আদ্রি সব শেষে একটা সিদ্ধান্ত নিলো।আদ্রির ভাবনার মাঝেই নুপূরের কল আসলো। নূপুর আদ্রিকাকে কিছু একটা বললো তাতে আদ্রির মুখে একটা হাসি লক্ষ্য করা গেলো।
কালো অন্ধকার একটা ঘর। অন্ধকারের মাঝে কোনো একটি ব্যক্তিকে চেয়ারের সাথে শক্ত করে বেঁধে রাখা আছে। ব্যক্তিটি নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।
– কে তুমি সামনে এসো। আর কেনই বা আমাকে এখানে এভাবে আটকে রেখেছো।
একটা গলার আওয়াজ শুনতে পাওয়া গেলো।
– আমি তোর জম। আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দে আমি তোকে ছেড়ে দেবো।
– কি প্রশ্ন।
– তোর লিডার কে?
প্রশ্নটা শুনে ব্যক্তিটি চমকে উঠলো।কাঁপা কাঁপা গলায় বললঃ তুমি কে?
– বললাম না তোর জম। সত্যি করে বল নাহলে আজকেই তোর শেষ দিন।
– তোমাকে যদি আমি আমার লিভারের নাম বলি তাহলে লিডার আমার প্রা*ন নিয়ে নেবে আর যদি না বলি তাহলে তুমি নেবে।
– এখন তোর হাতে সুযোগ ২ টো। এক আমার কথার উত্তর দিয়ে প্রা*নে বাঁচবি। আর দূই আমার উত্তর না দিয়ে প্রা*নে ম*রবি।
– উত্তর দিলেও ম*রবো আর না দিলেও ম*রবো।
– আমার কথার উত্তর দিলে আমি তোমাকে একটা সেফ লাইফ দেবো। তোমাকে কেউ একটা টোকাও দিতে পারবে না।
– মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া বন্ধ করো। আমি তোমার শত্রুর লোক তাই আমাকে তুমি বাঁচিয়ে রাখবে না। আর তার থেকেও বড়ো কথা হলো যে মানুষটার নুন খেয়েছি তার সাথে বেইমানি করতে পারবো না।
– তাহলে আমার হাতে ম*র।
– মরতে আমি ভয় পাই না। আমি জানি আমি যে দলের সাথে যুক্ত তাতে যেকোন সময় আমার মৃ*ত্যু হতে পারে।
– অনেক বকবক করেছিস এবার ম*র তুই।
ব্যক্তিটি হাসতে শুরু করলো সামনে থাকা মানুষটা চমকে উঠলো।
– কিরে পাগলের মতো হাসছিস কেন। বুঝেছি ম*রবি বলে পাগল হয়ে গেছিস।
– পাগল নয়। তবে আমি যেটা বলবো তাতে তুমি পাগল হয়ে যাবে।
– কি বল।
ব্যক্তিটির কথা শুনে সামনে থাকা মানুষটা চমকে উঠলো।
#চলবে….