Home "ধারাবাহিক গল্প "দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-১২+১৩

দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-১২+১৩

0
11

#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব_১২

প্ররন্ত দুপুরে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলছে নিশাত।রোদ’টা এসে তার গায়ে লাগছে।শরীরে শীতের পোশাক থাকায় শরীর ঘেমে চুপচুপ হয়ে আসছে।নিশাত আর একটু হেঁটে সাইডে গিয়ে একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তার সোয়েটার খুলে হাতে নেয়।ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে মুখটা মুছে নেয়।খুব খিদেও পেয়েছে সকালে না খেয়ে বের হয়েছে জরুরি ক্লাস থাকায়। আশেপাশে কোনো দোকান নেই যে কিছু খাবে,পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে পারলেও ভালো লাগতো।নিশাত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হাঁটা দিলো।কপাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা ঘাম ঠোঁটে এসে পড়লো নিশাত বিরক্তবোধ করে হাতের রুমালটা দিয়ে মুখ মুছলো।এমন তো নয় এটা গ্রীষ্মের রোদ তবুও এমন ভাবে কিরণ দিচ্ছে যেনো শরীর চড়ে উঠছে।ধৈর্যশীল মেয়ে দেখে এখনো নিশাতের মুখ দিয়ে কোনো খারাপ কথা বের হচ্ছে না, নয়তো মেহেক হলে পুরো রাস্তা রিকশাওয়ালা চাচাদের বকতে বকতে গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলতো।কোচিং থেকে তার বাড়ি বেশি দূর না তবুও রিকশাওয়ালা চাচারা প্রতিদিন তার থেকে পঞ্চাশ টাকা ভাড়া চাইবে।বিশ টাকার জায়গায় পঞ্চাশ টাকা দেওয়ার কোনো মানে হয়!টাকা কী গাছের পাতা নাকি!রোজ এিশ টাকা বেশি না দিয়ে জমালে কতো টাকা সঞ্চয় করা যাবে এই কথা ভেবে নিশাত হাঁটা দেয়।অবশ্য নিশাতের কোচিং যেখানে সেখানের রাস্তা ভাঙা, কাঁচা রাস্তা। যেকোনো সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই জন্য ওই রাস্তা দিয়ে কোনো রিকশায় আসে না ঘুরে আসতে হয় তাই বেশি ভাড়া চায়।আর নিশাত তো টাকা খোয়ানোর মেয়ে না তার কাছে টাকা অমূল্য সম্পদ তাই সে হেঁটেই আসবে।একদিন,দু’দিন হলে এক কথা রোজ টাকা কেনো দিবে সে বেশি!তার থেকে ভালো হেঁটেই আসা।

নিশাত সামনের বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের (Bangladesh Bar Council) অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই সে উকিল হয়ে যাবে।এই জন্য তার প্রচুর পরিমাণে পড়তে হচ্ছে।বাড়ি থেকে কোচিং আবার কোচিং থেকে ফিরে বাড়ি তার এই দুটোই গন্তব্য। আপাতত সে তার পড়া নিয়ে বেশ ভোগান্তিতে আছে।তার মাথায় একটাই টেনশন সে তার বাবার মতো একজন দক্ষ আইনজীবী হতে পারবে তো?তার স্বপ্ন পূরণে তার দুই ভাই ফারাজ ও উৎস অনেক সাপর্ট করছে শুরু থেকেই।বাড়ির অন্য সদস্যরাও করে তবে ক্যারিয়ার গড়ায় দুই ভাইয়ের অবদান অনেক।ছোট থেকেই বাবার পেশার পোশাকটি তার পছন্দ। পছন্দ থেকে একটা সময় পেশাটাই তার স্বপ্নের তালিকায় পরিণত হয়।চৌধুরী বাড়ির মেয়ে বউদের বাড়ির বাহিরে গিয়ে রোজগার করার কোনো নিয়ম নেই৷বাড়ির পুরুষরা রোজগার করবে।কিন্তু মেয়েটার স্বপ্ন হওয়ায় বাবা চাচার বিরুদ্ধে গিয়ে ফারাজ ও উৎস নিশাতকে সাপর্ট করে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে।নিজের মায়ের পেটের বোন হলেই যে বোন হতে হবে এমন নিচু চিন্তা ভাবনা তাদের মধ্যে নেই বরং তারা সবাই ভাই-বোন।

নিশাত রাস্তার ফুটপাত দিয়ে হাঁটছে হঠাৎ সামনে একটা টিউবওয়ল কল দেখতে পেলো।কলের সামনে গিয়ে চাপ দেয় কিন্তু পানি বের হয় না। সে আবার চাপ দেয় একটু পানি বের হয় সেটাই নেয়ার জন্য নিশাত হাত বাড়ায় কিন্তু পানি পড়া থেমে যায়।নিশাত নিরাশ হয়ে আবার চাপ দেওয়ার জন্য আগ্রহ হলে তার চোখের সামনে একটা বোতল দেখতে পায়।তাকে কেউ একজন পানির বোতল এগিয়ে দিয়েছে কিন্তু কে সে?নিশাত সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পাশ ফিরে তাকায়।সাদিফ বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখে নিশাত অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
-“ভাইয়া আপনি?”

-“আগে পানি খাও।”

নিশাত বোতল থেকে পানি খেয়ে নেয়।পানি খেয়ে নিশাত সাদিফের দিকে মাম বোতল বাড়িয়ে দেয়।
-“নির্জন রাস্তায় দুপুর বেলায় হাঁটছ কেনো?”

নিশাত থ মেরে দাঁড়িয়ে রইল।তাই সাদিফ আবার বললো,
-“ভর দুপুরে মেয়েদের একা হাঁটা ভালো না।যেকোনো সময় কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।”

-“সঙ্গী নাই তাই তো একা যাচ্ছি।”

নিশাতের জবাবে সাদিফ বাকরুদ্ধ।সে ধীর স্বরে বললো,
-“রিকশা দিয়ে চলে যেতে।”

-“প্রতিদিন বেশি ভাড়া দেওয়ার কী দরকার?মাঝে মাঝে হাঁটলে শরীর ভালো থাকে।”

-“শরীর ভালো রাখার চিন্তা করে হাঁটছ আবার হেঁটেই শরীরের অবস্থা কী করেছো দেখেছ!”

নিশাত কিছুটা লজ্জা পেলো।তাদের টাকা পয়সার কমতি নেই।বলতে গেলে বাপ চাচারা ভাই টাকার পাহাড় করে রেখেছে আর সে কী না সঞ্চয় করছে!এটা বাসার কারো কানে পৌঁছালে তাকে এক চোট ঝাড়ি খেতে হবে।
সাদিফ নিশাতের চুপ থাকা দেখে বললো,
-“গাড়িতে উঠো আমি নামিয়ে দিয়ে আসছি।”

-“এসেই তো পরেছি আর কিছুটা রাস্তা যেতে পারবো।”

-“ভাইয়ের কানে নালিশ গেলে ভালো হবে না তা তো জানো তাই না।চুপচাপ গাড়িতে গিয়ে বসো।”

-“সামান্য বিষয় নিয়ে নালিশ জাবে কেনো?”

-“সামান্য তোমার কাছে মনে হতে পারে কিন্তু তোমার।”

-“হুম জানি।”

-“তাহলে গাড়িতে গিয়ে বসো।”

-“আমি রিকশা নিয়ে চলে যাচ্ছি।”

-“কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া বদ অভ্যাস। আমার জানা মতে উৎসের বোনদের মধ্যে ভালো গুনই আছে।”

নিশাত শুকনো ঢোক গিলে সাদিফের চোখের দিকে তাকায়। অস্তিত্বতে তার কেমন জেনো লাগছে।সাদিফ চোখ দিয়ে ইশারা করে গাড়ির কাছে যেতে।নিশাত রাস্তায় তাকে। খয়েরী রঙের একটা গাড়ি সাইডে পার্ক করা।সে মাথা দুলিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসে।

স্রোতের বিয়ে হয়েছে প্রায় মাস খানেক হয়ে গেছে। সেখান থেকে ফিরে সবাই সবার কাজে ব্যস্ত।সিজান নিয়মিত তার চ্যাম্বারে বসে এবং সময় পেলেই রোদসী’র সাথে টুকটাক কথা বলে নেয়।স্রোত তার নতুন সংসার নিয়ে সুখে আছে।তার শ্বশুর বাড়ির সকল সদস্য তাকে বাড়ির মেয়ের চোখে দেখে।ফারাজ তার নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যাস্ত এই মুহুর্তে তার চোখ কান খোলা রাখতে হবে।মফিজ তার পথ থেকে ফারাজকে সরাতে চায়।কখন কোন দিক দিয়ে বিপদে ফেলে দেয় বলা যায় না।এদিকে ছুটিও কেটে গেছে, মেহেক, এরিদের দৈনিক রুটিন মতো চলতে হচ্ছে।সবার স্কুল, কলেজ খুলে দিয়েছে।উৎস তার বাবার বিজনেসটায় বেশি সময় দিচ্ছে। নিজের তৈরি করা কাজটাকে সে ছেড়েই দিয়েছে বাবার কথা ভেবে।সাদিফও তার নিজের বাবার রেখে যাওয়া বিজনেস নতুন করে চালাচ্ছে।এভাবেই চলে যাচ্ছে তাদের দৈনন্দিন জীবন।

———
মেহেক কলেজ থেকে বাসায় এসে গোসল করে নিচে নামে।যেই দিন থেকে কলেজ খুলেছে ওই দিন থেকে তার সাথে উৎসের দেখা কম হচ্ছে। কথা বার্তা বলার তো সুযোগই পাচ্ছে না।তার বেহায়া মনটা তো ওই সরষে ভূতের কাছেই পড়ে থাকে।
মেহেক রান্না ঘরে যায় তার তিন মা কী করছে তা দেখার জন্য।এই সময়’টা সে পুরো ফ্রী তাই সময় কাটানোর জন্য তিন মা’কে জ্বালাতে চলে আসে।মেহেককে রান্না ঘরে দেখে সুফিয়া বললো,
-“সবাই এক সাথে খাবি।মাএ শেষ হলো রান্না হাতের কাজ শেষ করে গোসল করে এসে খেতে দিবো।”

-“আমি কী খেতে এসেছি নাকি!যদি খাই খাই করতাম তাহলে উৎস ভাইয়ের মতো দামড়া হয়ে যেতাম।”

এরিদ রান্না ঘরে বাদাম খাচ্ছিলো মেহেকের কথায় শুনে সে বললো,
-“তুমি ভাইয়াকে দামড়া বলেছো আমি বলে দিবো উৎস ভাইয়া আসলে।”

-“ভাইয়ার চামচা বের হো।”
মেহেক এরিদকে মারতে নিলে এরিদ দৌঁড়ে রান্না ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
মালিহা হাসতে হাসতে বললো,
-“সব কয়টা পাগল।দাঁড়া আমি খাবার দিচ্ছি তোকে।”

-“বড় ভাবি একদম দিবে না।যত বড় হচ্ছে ততো বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে।শ্বশুর বাড়ি গেলে এই মেয়ে সবার আগে খেয়ে ফেললে সব দোষ এসে পড়বে আমার উপর।”

-“আরে মেঝো বাচ্চা মেয়ে ওর শ্বাশুড়ি যদি আমার মতো ওর দোষ ফুলের মতো না ধরে নেয় তাহলে ওমন শ্বশুর বাড়ি লাগবে না।”

-“লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে নাচছো তোমরা।”

-“এতো বড় সাম্রাজ্য থাকতে আমাকে নাকি ভুখে রাখবে?”
বলেই মেহেক ফ্রিজ খুলে একটা আপেল নিয়ে এক কামড় দিয়ে আবার বললো,
-“আপাতত এটা দিয়েই কাম সারি।”

নাফিসা মেহেকের মাথায় গাট্টা মেরে বললো,
-“নাটক কম কর।মা যা করে ভালোর জন্যই করে।”

মেহেক বাচ্চাসুলভ স্বরে বললো,
-“ছোট মা তুমিও!”
————-
সাদিফের গাড়ি এসে থামলো চৌধুরী বাড়ির গেইটে।নিশাত সাদিফের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললো,
-“গাড়ি এখানে থামালেন কেনো ভিতরে নিয়ে যান।”

-“না। আজ নয় অন্য দিন জাবো।”

-“খারাপ দেখায়। এভাবে গেইট থেকে চলে যাবেন!”

-“আমাকে তো তুমি বাদে আর কেউ দেখে নি তো কারো কাছেই খারাপ দেখাবে না তুমি বাদে।তোমার কী খারাপ লাগছে?”

নিশাত থতমত খেয়ে যায় সাদিফের কথায়।তারপর সাদিফের প্রশ্নের জবাব থেকে বাঁচতে সংকোচ ভরা স্বরে বললো,
-“ধন্যবাদ।”

সাদিফ ঝুঁকে পড়ে নিশাতের উপর। নিশাত সাদিফকে ঝুঁকে যেতে দেখে তার চোখ গোল গোল হয়ে যায়।সাদিফ নিশাতের করুন অবস্থা দেখে মুচকি হাসি দিয়ে বললো,
-“সিট বেলটা খুলে দিচ্ছি। ”

নিশাত নিশ্বাস ছেড়ে বললো,
-“আমি পাড়বো।”

-“আগে শরীরের যত্ন নাও তারপর আইনজীবী হয়ে অন্যের সেবা করো।”

নিশাত অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। কী বললো? তার শরীর নিয়ে খোঁচা মেরে কথা বললো নাকি বাবার মতো সৎ,দক্ষ আইনজীবী হতে পারবে না বলে ইঙ্গিত দিলো।না।এর পিছে অন্য কিছু ও থাকতে পারে।সব সময় নেগেটিভ ভাবা ঠিক না।তার ভাইয়ের বন্ধু তাকে বাড়ি অব্দি এসে ছেড়ে গেলো সে কেনো তাকে ছোট করে কথা বলবে! এটা ভাবা একটা বোকামো কাজ।হয়তো রাস্তায় তার অবস্থা তো নাজেহাল ছিলো সেই প্রেক্ষিতেই তাকে বলেছে শরীরের যত্ন নিতে।একই কথা বাড়ির সকল সদস্যই তাকে বলে তার মানে সাদিফ ভাই তার ভালোর জন্যই বলেছে।
-“বাসায় যাবে না?”

সাদিফের গলার স্বরে নিশাতের ধ্যান ভাঙলো।আমতা আমতা করতে করতে বললো,
-“হ..হ্যা, আসি।”
নিশাত গাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটা দিলো।সাদিফ নিশাতের দিকে তাকিয়ে রইল।পরক্ষণেই কিছু একটা মনে পরতে আবার ফিরে এলো নিশাত।
সাদিফ প্রশ্নের স্বরে বললো,
-“কিছু রেখে গেছো?”

-“না।”

-“তাহলে?”

-“ভাইয়ার সাথে বাসায় আসলে খুশি হবো।আজ তো না খেয়েই চলে গেলেন!”

-“ইনশাআল্লাহ আসবো তবে তোমার হাতের জর্দা খাওয়ালে।”

-“আপনার ভালো লেগেছে?”

-“মেহেকের মতো আমিও তোমার রান্নার হাতের প্রেমে পড়ে গেছি।”

নিশাত লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলে।কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,
-“ওওকে। আসলে খাওয়াবো বানিয়ে।”
নিশাত মাথা নিচু করেই উল্টো পথের দিকে হাঁটা দেয়।

চৌধুরী নিবাসের ডাইনিং টেবিলে সাজানো দুপুরের খাবার।চার থেকে পাঁচ পদ খাবারের আইটেম থাকবেই রোজ।ছেলে মেয়েরা ছোট মাছ খাবে না, বড় মাছ খাবে যেগুলোয় কাটা নেই আবার গোস্ত থাকলে তো কথাই নেই।মেহেক এরিদ তো গোস্তো পেলে আর কিছু লাগেই না। তাদের রোজ দিলে তাতেই সই তাই খেয়ে নিবে।প্রতিদিন গোস্ত খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি তাই উৎস কড়া আদেশে নিষেধ করে দিয়েছে শাক-সবজি,ছোট মাছ খেতে হবে।এই নিয়ে এক দফা ঝগড়া ও বেধে গিয়েছিল উৎসের সাথে মেহেকের।উৎস বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই মেহেকের বাধ্য হয়ে তার সব কথা শুনতে হচ্ছে। মেহেক তো বাধ্য মেয়ে নয় তার মধ্যে তার অপছন্দ, ইচ্ছার বিরুদ্ধের জিনিসি উৎস তাকে দিয়ে করাচ্ছে না হয় তার কাজে বেঘাত দিচ্ছে।

কিছুদিন আগের ঘটনা,
মেহেক ও এরিদ পড়তে বসেছে তাদের প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে।পড়ার মাঝেই মেহেকের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।সব লেখা কেমন জেনো ঘুরছে মনে হতে থাকে তার।মেম কিছু প্রশ্ন দিলে সে সেগুলো ঠিক মতো দেখতে পারছিলো না।তার চোখে কিছু একটা হয়েছে বুঝতে পারার সাথে সাথেই সে চিৎকার দেয়।
-“আম্মু, আম্মু আমি কিচ্ছু দেখতে পারছি না।সব ঝাপসা লাগছে।”

মেম এরিদ ধরে নেয় মেহেক পড়া থেকে বাঁচার জন্য মিথ্যা কথা বলছে।মেহেকের মাও বিশ্বাস করে না।সে এসে বললো,
-“পড়ার মাঝে এসব অভিনয় চলবে না।পড়া শেষ কর।”

উৎস বাড়িতেই ছিলো।দুপুরে বাসায় এসে অফিসে আর যায়নি একটা ঘুম দিয়েছে। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ ব্লাক কফির জন্য নিচে আসে।সিঁড়িতে থাকা অবস্থায় সে মেহেকের কথা শুনতে পায় কিন্তু সেই কথাকে তোয়াক্কা না করে নিচে নামতে থাকে। তখনি মেহেক করুন স্বরে আবার বলে উঠে,
-“আমি অভিনয় করছি না আম্মু। সত্যি আমি ঝাপসা দেখছি।”

মেহেকের গলার স্বর বলে দিচ্ছে আসোলোই কিছু হয়েছে। উৎস ব্যাপারটাকে সিরিয়াস নিয়ে মেহেকের সামনে এসে দাঁড়ায়।আর যদি অভিনয় হয় তাহলে থাপড়িয়ে সোজা করবে এই বেয়াদব মেয়েকে। উৎস যে মেহেকের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সেটা মেহেক স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না তার মনে হচ্ছে এরিদ দাঁড়িয়ে আছে।তাই মেহেক বললো,
-“এরিদ সামনে থেকে স্বর। এমনিতেই সব ঝাপসা লাগছে।”
উৎস শান্ত মনকে এবার অশান্ত করে দিলো মেহেকের কথা।গুরুতর কিছু হয়েছে তাই উৎস কথা না বাড়িয়ে মেহেককে কোলে তুলে নিয়ে বললো,
-“মেম আজ ছুটি। আপনাকে আমি কল দিবো এখন আসতে পারেন।”

উৎসের গম্ভীর স্বর পেয়ে মেহেক বললো,
-“উৎস ভাই আমাকে বাঁচান।”

-“চোখ বন্ধ করে রাখ আর একদম চোখ ডলবি না।”

-“আচ্ছা।”
এতোক্ষণে সবাই উপস্থিত হয়ে গেলো।সবাই চিন্তায় পড়ে গেলো হঠাৎ কী হলো ওর চোখে?উৎস সবাইকে ঠান্ডা হতে বলে মেহেককে কোলে করে নিয়েই বেরিয়ে গেলো।

#চলবে

#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
পর্ব :১৩

মেহেককে নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসলে ডাক্তার মেহেককে কিছু টেস্ট করায়।মেহেকের চোখে ঝাপসা দেখা এটা আজ অতিরিক্ত মাএায় দেখা দিয়েছিলো কিন্তু এমনিতে মাঝে মাঝেই এই সমস্যা দেখা দিতো তার।প্রচুর পরিমাণে ফোন দেখায় এবং কোনো প্রকার সুষম খাদ্যের ঘাটতি থাকায় তার সমস্যাটা দিন দিন গভীর হচ্ছে।ডাক্তার কিছু ঔষধ লিখে দেয় তার সাথে একটা চশমাও দেয় মাঝে মাঝে ব্যবহার করার জন্য এবং প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও ফল খেতে বলে আর ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করে।এতো নিয়ম মেনে চলা মেহেকের অপছন্দ। সে এতো কিছু শুনে চলতে পারবে না বলে কিন্তু উৎস তো আছেই। সে থাকতে মেহেকের সব কথা পায়ে পিষে ফেলে।বাসায় এসেই উৎস মেহেকের ফোন তার কাছে রেখে দেয়।ডাক্তার যেভাবে চলতে বলেছে এবং যা যা ওর খাওয়া প্রয়োজন সে সকল খাবার ওর খেতে হয়।কিন্তু মেহেক সে,সে তো ফোন ছাড়া থাকবে না আর না এসব খাবার খাবে।তাই সে তার বড় আব্বুর কাছে বায়না ধরে এসব সে খেতে পারবে না।
-“বড় আব্বু এসব জঙ্গলি খাবার আমার গলা দিয়ে নামবে না।”

মেহেকের জন্য এখন সবার টেনশন হচ্ছে এমনিতেই চোখে ঝাপসা দেখছে তার মধ্যে এগুলো খাবে না বলছে!অন্য সময় হলে না হয় মেহেকের পক্ষে কথা বলতো কিন্তু এখন তার বড়ো আব্বুও তার পক্ষে কথা বলবে না। এমনি বাড়ির কেউই মেহেকের কথায় গলবে না।
-“মেহেক মা এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।খেতে খেতে অভ্যাস হয়ে জাবে। দেখো না আমরাও তো খাই।”

-“আমি খাবো না।ওইসব ঘাস তোমার ছেলেকে খাওয়াও।”

-“থাপড়িয়ে সোজা করবো।ডাক্তার যা বলছে তাই করবি।”

উৎসের গমগম স্বরে মেহেক ঘাবড়ে গিয়ে তার বড় আব্বুকে বিচার দিলো।
-“দেখলে তোমার সামনে বলছে আমাকে থাপড়াবে।”

শাহাদাত চৌধুরী রাশভারি কন্ঠে ছেলেকে বললো,
-“ওর সাথে বাজে ব্যবহার করবে না।”

-“দেখছো না কী নাটক শুরু করেছে।”

-“বাচ্চা মেয়ে। বুঝিয়ে বলো।”

বাচ্চা মেয়ে বলায় সুফিয়া বললো,
-“হুম সতেরো বছরের খুকি তো।ভাইয়া আপনাকে আর ভাবিকে বার বার বলি ওকে এতো লাই দিবেন না।”

-“আমার বাড়ির মেয়েরা হচ্ছে লক্ষী।তারা মাথায় উঠে না নাচলে কে নাচবে?”

বড় আব্বুর কথায় মেহেক জেনো আকাশ ছুতে পেলো গদগদভাবে।তাই খুশিতে আত্মহারা হয়ে এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে মলিন স্বরে সুধালো,
-“তাহলে আমি এসব জঙ্গলি খাবার খাবো না তাই না।”

মেহেক তার বড়ো আব্বুর মুখের দিকে তাকালো।সে ধরেই নিলো তার কথায় রাজি হবে।তারপরও শাহাদাত চৌধুরী একবার যে কথা বলে সেই কথা তো আর ফিরিয়ে নেন না তাই সে উপস্থিত সকলকে দেখাতে চাইলো তার কথায় সম্মতি দিলো।সেই আশা- ভরসা নিয়ে মেহেক তার বড় আব্বুর দিকে তাকিয়ে আছে।তার আশায় জল ধেলে দিয়ে শাহাদাত চৌধুরী বললো,
-“আমার কাছে তোমার সুস্থতা প্রয়োজন তাই তোমার কথা মানতে পারছি না।”

মেহেকের ভোঁতা মুখ আরো ভোঁতা হয়ে গেলো।তার বড় আব্বু তার হয়ে কথা না বলে তার ছেলের কথা শুনলো।মেহেক উৎসের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকায়।উৎসের চোখ তার দিকেই রয়েছে এতোক্ষণ তাকিয়ে ছিলো।মেহেককে তাকাতে দেখে উৎস ভ্রু নাচায়।মেহেক মাথা নিচু করে ফেলে তার কথার কোনো দাম নেই। ছি কী অপমানিত নাই হলো তার উৎস ভাইয়ের কাছে!বড় মুখ করে বলেছিলো তার সাপর্টে কথা বলবে শাহাদাত কিন্তু পাগলি মেয়েটা বুঝলে তো তার ভালোর জন্যই তো বলেছে।

———–
আজ শুক্রবার,একমাত্র এই দিনটায় সবার কাজ বন্ধ থাকে।বাড়ির ছেলে-মেয়েরা সবাই বাড়িতে আজ।শুক্রবার মানেই জেনো তাদের কাছে ঈদের সমতুল্য।সাধারণত কলেজ খোলা থাকলে মেহেকের ঘুম ভাঙে না কিন্তু শুক্রবার ছুটির দিন এই দিন তার ঘুম আসবে না সে সকাল সকাল উঠে গিয়ে এরিদকেও ঘুম থেকে উঠাবে।শুধু কী এরিদ!এরিদের সাথে সাথে নিশাত রোদসী তো আছেই তাদের ও ঘুমাতে দেবে না।সবাইকে ঘুৃম থেকে উঠিয়ে রান্না ঘরে হামলা করবে।সবাই বাসায় থাকায় রান্নার আইটেমও বেরে জাবে।প্রতি শুক্রবারের মতো আজও একি ঘটনা।মেহেকের ঘুম ভেঙে গিয়েছে।সবাইকে উঠিয়ে সে রান্নাঘরে চলে যায় খবর নিতে আজকের নাস্তায় কী কী আছে?শুধু সকালে এসেছে এমন না আজ সারাদিন তার রান্না ঘরে আনাগোনা চলবে।আর সুফিয়া মেয়ের ধিরিঙ্গিপনা দেখে হাজার বার বকবেন।এতে কী এই অবাধ্য মেয়ের হবে সে তো এক কান দিয়ে ধুকাবে আর আরেক কান দিয়ে বের করবে।
ঘড়ির কাঁটা আট’টার ঘরে আসতেই সবাই ডাইনিং টেবিলে এসে বসলো।বাড়ির তিন বউ মিলে নাস্তা এনে রাখছে টেবিলে।সবাই খাওয়ায় আগ্রহ হলে রোদসী ও এরিদ একে ওপরের দিকে তাকায়।নীরব চাহনিতে রয়েছে অভিমান,প্রশ্ন ও কিছু চাপা কষ্ট।রোদসী বুঝদর মেয়ে হয়েও মাঝে মাঝে বাবার আদর না পাওয়ায় অভিমান হয়।এরিদ মাঝে মাঝে ভিডিও কলে কান্নায় কতো আহাজারি করে কিন্তু তার বাবা আসতে পারে না কাজের জন্য।এরিদ বাচ্চা ছেলে তাই তার অভিমান সবার সামনেই উগলে দেয় কিন্তু রোদসী পারে না।চার মাস হয়ে গেছে বাবা বাড়ি আসে না।বড় আব্বু, মেজো আব্বু তাদের আদর করে না এমন না তবে তাদের সাথে তো নিজের বাবাকেও তাদের চাই।শাহাদাত চৌধুরী হাত ধরে বাড়ির বাচ্চাদের হাঁটা শেখা তিনি সব সন্তানকে আগলে রেখেছে ঠিক যেমন একটা গাছে অনেক গুলো ফুল ফুটে আছে।যার একটা ফুল নষ্ট হলে গাছের সৌন্দর্যই হারিয়ে যাবে।রোদসী তার চাপা অভিমানকে চাপা দিয়ে ইশারায় ছোট ভাইকে খেতে বললো।দুই ভাই বোনের ইশারায় কথা বলা চোখের আড়াল হলো না উৎসের।সে আড়চোখে একবার তার ছোট মাকে দেখলো তারপর ঠোঁট কামড়ে ধরে পকেট থেকে ফোন বের করে কিছু একটা টাইপ করলো।খাওয়ার মাঝে ফোন ধরায় মেহেক মুখ বাঁকিয়ে বললো,
-“খাওয়ার সময় ফোন দেখে শয়তান। মনে হচ্ছে চৌধুরী নিবাসেও শয়তানের চলাফেরা চলছে।”

উৎস চোখ রাঙিয়ে মেহেকের দিকে তাকায়। মেহেক ভোলা ভালা চেহারায় তার বড় আব্বুর দিকে তাকায়।

-“মেহেক।উৎসের অফিসের দরকারি কোনো কাজেই হয়তো ফোন ধরেছে ও খাওয়ার সময় ফোন দেখার মতো ছেলে না।”

বাবার কথায় মেহেক অবাক হয়ে যায়।মেজো বাবার কথায় উৎসের মুখে এক চিলত হাসি ফুটে উঠে।মেজো বাবার দিকে তাকিয়ে উৎস বললো,
-“এই না হলে এডভোকেট সাফওয়ান চৌধুরী।”

ফারাজ বললো,
-“বাপ-চাচারা একেকটা চিস!”

-“চৌধুরী বাড়ির ছেলে মেয়েরা একেকটা হিরার টুকরো। বাপ-চাচাদের প্রশংসা করলে চলবে। আমরা চিস হলে তো মাখন।”

সদর দরজা থেকে চেনা পরিচিত স্বর ভেসে এলে সবাই অবাক দৃষ্টিতে সেই দিকে তাকায়।কাঁধে ঝুলন্ত ব্যাগ এবং সাধারণ পোশাকে দাঁড়িয়ে আছে সাজ্জাদ চৌধুরী।তার মুখে হাসির ঝলক।তাকে দেখার মাএই এরিদ ছুটে যায় “আব্বু” বলে।কাঁধের ব্যাগটা নিচে রেখে ছেলেকে কোলে তুলে ডাইনিং টেবিলের সামনে আসে।এরিদ খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেছে বাবাকে পেয়ে।গলা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে তার বাবাও তাকে কয়েকবার চুমু খেলো।রোদসী চুপ করে তাকিয়ে শুধু দেখলো।সে ওতো ছোট বেলায় বাবার জন্য দিন গুনতো তারপর যেদিন আসতো এরিদের মতোই তো ছুটে যেতো।কিন্তু আজ আঠারো পার করেছে তাই সেও কী বড় হয়ে গেলো।কেনো পারছে না আগের মতো এক ছুটে বাবার গলা জড়িয়ে বলতে
-“কোথায় ছিলে?জানো তোমার জন্য কত্তো অপেক্ষা করেছি!অনেক মিস করেছি।”

রোদসী পুরনো দিনের কথা ভেবেই নিজেকে সান্ত্বনা দিলো।মেহেক তার জায়গায় হলে কখন ঝাপিয়ে পরতো।তার সাথে মেহেকের মতো বাচ্চামো স্বভাব যায় না।তার ভাবনার মাজেই উৎসের রাশভারি কন্ঠ ভেসে এলো
-“বাবার কাছে সব সন্তানই ছোট।সন্তান কখনো তাদের কাছে বড় হয় না।কিছু কিছু জায়গায় মেহেকের মতো বাচ্চামো কান্ড করলে যদি খুশি হোস তো করবি এভাবে নিজের ইচ্ছে টাকে কেনো চাপা দিচ্ছিস।ওতো টাও বড়ো হয়ে জাসনি যে নিজের বাবাকে জড়িয়ে ধরতে লজ্জা করবে।”

রোদসী হতবাক হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে। উপস্থিত সবাই উৎসের ইঙ্গিত বুঝতে পারলো।

-“রোদসী বলবি না মিস করেছিস।আয়, আমার বুকে ঠাঁই করে নে এরিদের মতো।”

রোদের চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।তার চোখ ছলছল করছে।সে উঠে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
-“অনেক মিস করেছি আব্বু। জানো চার’টা মাস তোমাকে ছাড়া থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছিল।”

সাজ্জাদ চৌধুরী মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মাথায় চুমু খেলো।নাফিসা মেয়ের মুখে হাসি দেখে সাজ্জাদ চৌধুরীর চোখে তাকিয়ে ইশারায় কথা বলে নিলেন।সবার সাথে কথা বলে সেও খেতে বসলো।এখন মনে হচ্ছে পুরো পরিবার পূর্ণ হলো।নাস্তার মধ্যেই তাদের কতো আলাপ-আলোচনা হলো।তার সাথে কয়েকবার ঝগড়াও বেধে গিয়েছিল মেহেক ও উৎসের।মেহেকের কাজই উৎসকে খোঁচা মেরে কথা বলা।না হলে তার গলা দিয়ে খাবার নামেই না!

উৎসের ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে মেহেক।তার ভয়ার্ত মনকে সাহস দিচ্ছে অনেক কিছু বলে।
-“মেহেক তোর ফোন তোর নিতেই হবে।তোকে মারতে আসলে মার খাবি প্রয়োজনে ফোনের জন্য শহিদ হবি।কয়জনি বা পারে ফোনের জন্য শহিদ হতে।এই পর্যন্ত কেই শহিদ হয়নি তুই শহিদ হলে সবাই তোকে মনে রাখবে ইতিহাসের পাতায় নতুন এক ইতিহাস এড হবে।”
এমন কতো আজগুবি কথা বলে নিজেকে সাহস দিলো।কিন্তু ভেতরে ধুঁকতে সাহসি পাচ্ছে না।তার চিন্তার মধ্যেই উৎসের স্বর ভেসে আসে।
-“ঘরের বাহিরে দাঁড়িয়ে ফিসফিস শব্দ না করে ভেতরে আয়।আর যদি চুরি করার চিন্তা ভাবনা থাকে তাহলে আগে চোরের ট্রেনিং নিয়ে আয়।”

তাকে চুরির অপবাদ দিলো!রাগে ফোসতে ফোসতে দরজা জোরে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ধুকলো।
-“দরজা ভাঙলে তোকে বেঁচে ঠিক করবো।”

-“বললেই হলো!আমি কী আপনার আমানতকৃত সম্পদ নাকি যে আপনার ইচ্ছে হলে বিক্রি করবেন।”

-“আমানত হবি কেনো আমার তো মনে হয় তুই আশ্রিতা।”

-“আশ্রিতা মানে?”

-“তোকে তো মেজো বাবা কুড়িয়ে পেয়েছে।”

-“মজা করবেন না। মজা করতে আসিনি।”

-“সত্যি টা তো আর বদলাবে না।”

-“আপনি আমাকে যতোই বানিয়ে মিথ্যা কথা বলেন আমি গলবো না আমার কাজ করেই যাবো।”

উৎস ডিভানে হেলান দিয়ে বসে বললো,
-“কোথায় কাজ পেলি আর বেতন কতো?”

-“যেখানে বাপ-ভাইয়েরা লাখ লাখ টাকা ইনকাম করে সেখানে আমি টাকা আয় করে কী করবো?ব্যয় করার জন্য ওতো মানুষ লাগবে।”

-“শাক-সবজি খেয়ে দেখছি মাথাটা একটু খুলেছে তোর।”

-“আমার ফোন দেন।”

-“তোর ফোন মানে?”

-“আমার ফোন তো আপনি নিয়ে গেছেন।তো দেন আজকে কলেজ বন্ধ সারাদিন কী করবো?”

-“রান্না-বান্না শিখ বিয়ের পর জামাইকে তো রেঁধে খাওয়াতে হবে।”

-“উফ কখন এসেছি বসতেও বলেন না। ”
বলেই মেহেক খাটে পা ঝুলিয়ে বসে আবার বললো,
-“আপনি শিখলেই হবে।”

উৎস কপাল কুঁচকে বললো,
-“কী বললি?আমি!”

-“হুম”

-“সাহস তোর দিন দিন বাড়ছে। ”

-“মানুষ সাহসী জীব বুঝছেন এবার ফোন দেন।”

-“কান ধর।”

-“কেনো?”

-“নাস্তার সময় খোঁচা মেরে কথা বলার জন্য।”

-“ও আচ্ছা। আপনাকে খোঁচা না মারলে আবার পেটের ভাত হজম হয় না।”

উৎস এই মেয়ের সাহস দেখে হতবাক।তার সামনে তার মুখের উপর কথা বলছে!

-“উৎস ভাই একটা কথা বলি।”

-“বল”

-“ছোটো আব্বু আসবে সেটা আপনি জানতেন।”

-“কী মনে হয় তোর?”

-“আপনি বলতে পারেন না।”

-“জানি না।”

-“ঘাড়ত্যাড়া লোক একটা।”

-“আমি ঘাড়ত্যাড়া হলে তুই ঘাড়ত্যাড়ার বউ।”

মেহেক আফসোসের স্বরে বললো,
-“মরে জাবো তারপরও ঘাড়ত্যাড়াকে বিয়ে করবো না। না হলে সবাই আমাকে ঘাড়ত্যাড়ি বলে ডাকবে।”

-“বুজে শুনে বলছিস তো।”

-“হুম।আমার মনে তো একজন আছে।”

-“কে?”
উৎসের স্বরে জানার কৌতূহল।

-“সে আমার কল্পনায় জড়িয়ে থাকা এক অদ্ভুত মায়া।কল্পনার কল্পিত স্বত্বা হলেও আমার ভালোবাসার প্রয়াস।”

-“বের হো।”

-“রাগ করছেন কেনো?”

উৎসের স্বর গম্ভীর হয়ে এলো
-“তুই জাবি।”

-“আমার ফোন দিন।”

-“থাপড়িয়ে সোজা করবো।বেয়াদব মেয়ে বের হো।”

উৎসের রাগান্বিত স্বরে মেহেকের গা কেঁপে উঠলো।মুখ ছোট হয়ে এলো।চোখ ছলছল হয়ে আসলো।কিন্তু উৎস তার চোখের দিকে তাকালো না সে ফোন স্কল করছে। সামান্য বিষয় নিয়ে!আর সে কী বা বললো এভাবে ধমকাতে হবে!কিশোরী মন অল্পতেই চোখ ভরে উঠে।অশ্রুভরা চোখেই বেরিয়ে গেলো মেহেক।

চলবে।