#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব:৩৮
-“উৎস তোর ভাই ফারাজ চৌধুরী?”
অবাক প্রশ্ন করল মোহন।
উৎস ভাইয়ের দিকে একবার তাকিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
-“হুম,কিন্তু অপরাধ কী তার?”
মোহন নির্লিপ্ত স্বরে বলল,
-“ড্রাগস পাওয়া গেছে জীপে।”
উৎসর ভ্রু যুগল কুঁচকে গেলো মুহুর্তেই।ফারাজের প্রতি তার এবং তার গোটা পরিবারের অগাত বিশ্বাস।ফারাজ আর যাই করুক দুই নাম্বারি পথে কিছু করবে না।চৌধুরী বাড়ির শিক্ষা কেউ আঙুল কখনো তুলে নি আর তুলবে এমন কাজ সন্তানরা করে না।মূলত ফারাজ জনসার্থ কথা চিন্তা করে,মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কথা চিন্তা করেই রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে।এতে চৌধুরী বাড়ির পূর্ণ সম্মর্থন রয়েছে।
মোহন উৎসর স্কুল লাইফের বন্ধু ছিল।অনেক বছর পর তাদের দেখা হলো কিন্তু একে অপরের চিন্তে ভুল হয় নি।উৎসর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলতে সাদিফ।তাই ওর সাথে ছাড়া তেমন কারো সাথে ও ইচ্ছে করেই যোগাযোগ রাখে না।তবে আজ অফিসার মোহন হওয়ায় উৎসর জন্য ভালোই হয়েছে। এখনো কোনো কেইস হয়নি ফারাজের বিরুদ্ধে।নয়তো চৌদ্দ সীকের ভিতরে তাকে থাকতে হতো।মেয়র হওয়ার শখ মিটে যেত।উৎসর সাথে সিজান ও এসেছে।সিজান উৎসর পাশেই বসা।হঠাৎ বাহির থেকে কিছু লোকের সমাগম শুনা গেলো।সিজান বিরক্ত নিয়ে বলল,
“বাহিরে কারা?”
মোহন বাকবিতণ্ডা না করে সোজা বলল,
“সাংবাদিক।আসার সময় অনেকেই দেখেছে। ফারাজ চৌধুরীকে এরেস্ট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
উৎস মুখ দিয়ে চ সূচক শব্দ বের করতে গিয়ে থেমে গেল।মাথা গরম করলে চলবে না এখন।ঠান্ডা মাথায় যা করার তাই করতে হবে। উৎস হাতের বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে কিছু ভাবল তারপর ফারাজকে প্রশ্ন করল
-“জীপ কোথায় ছিলো?”
-“পার্টি অফিসে।আগামীকাল নির্বাচন উৎস, আমার মাথা কাজ করছ না। ভাই তুই কিছু একটা কর।”
ফারাজ ছটফট করতে লাগল চিন্তায়।এখন মিথ্যা নিউজ জানাজানি হয়ে গেলে ফারাজের কপালে একটা ভোট ও জুটবে না বরং ওর নামে মামলা ঢুকবে। সিজান ফারাজকে শান্ত করতে বলল,
-“শান্ত হো আমরা দেখছি।”
-“মোহন ইমিডিয়েটলি পার্টি অফিসে সিসি ক্যামেরা চেক করানোর ব্যবস্থা কর।”
উৎসর উপস্থিত বুদ্ধিতে সবাই হতবিহ্বল হয়ে যায়।ফারাজ বলল,
-“উৎস ঠিক বলেছিস।চেক করলেই সব জানা যাবে।”
-“বুদ্ধি যখন আমার মাথা থেকে বের হয়েছে তাই চুপ করে বসো।তোমাকে বলেছিলাম আজ বাড়ি থেকে বের হতে না।পাকনামি করলে কী হয় দেখলে তো।”
ইতিমধ্যে শহরের সব জায়গায় ছড়িয়ে পরেছে ফারাজের গাড়িতে ড্রাগসসহ নেশা জাতীয় অনেক দ্রব্যই পাওয়া গেছে।আর এই প্রচার করেছে মফিজের লোকজন।কিন্তু ওদের পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দিয়ে ফারাজের পার্টি অফিসের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা গেলো।ইকবাল ফারাজের এক লোকের হাতে একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে হাত নেড়ে নেড়ে কিছু বোঝাচ্ছ।ইকবাল চলে গেলেই ছেলেটা ফারাজের জীপে সেই ব্যাগ রেখে পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে পরে।তার কিছুক্ষণ পরেই ফারাজ পার্টি অফিস থেকে বের হয়।ফারাজের পার্টি অফিসের বাহিরে ক্যামেরা লাগানো উৎসর প্লান ছিলো।উৎসর কথা মতোই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সবার আড়ালে ক্যামেরা লাগানো হয় কিন্তু সেটা কেউ জানত না।ফুটেজটা খবরের চ্যানেলে দিয়ে ফারাজের উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল তা দেখিয়ে সবার জড়োতা দূর করে।
——
-“উৎস”
উৎসর পা থেমে যায়।পাশ ফিরে দাঁড়ায়।সোহানা মলিন মুখে দাঁড়িয়ে আছে।হাবভাব স্বাভাবিক।
-“কিছু বলবি?”
-“পরশু দিন কনসার্ট ”
-“মনে আছে।কাল ভাইয়ার নির্বাচনের ফলাফল পেয়ে গেলেই বের হবো।”
-“আমি কেন্সেল করে দিয়েছি।”
উৎস ইষৎ চমকালো।সাথে প্রচন্ড অবাক হলো।শেষ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে কী!
-“মজা করছিস?”
-“আমি সিরিয়াস উৎস।আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। ভালোবাসা জোর করে পাওয়া যায় না।আজ সারাদিন মেহেকের সাথে সময় কাটিয়েছি। ওর প্রতি কথায় তুই জড়িয়ে ছিলি।তোকে বাদ দিয়ে ও কম কথাই বলেছে।তাছাড়া ওর কাছ থেকে তোদের সম্পর্কে যা জানলাম আমার মনে হয় না এর মাঝে আমার ধোকা ঠিক হবে।রায়ানের ভালেবাসা আমার স্বীকার করে নেওয়াই ভালো।আমি ওর সাথে নিজেকে অনেকটা সেভ ফিল করি। কিন্তু ওকে আমি বুঝতে পারি নি আর না ওর ভালোবাসা।”
-“তুই তোর ভুলটা ধরতে পেরেছিস এই অনেক।কিন্তু এতো টাকার ডিল হুট করে কেন্সেল করলে তো অফিসিয়াললি হেনস্তা হতে হবে।”
-“অন্য সিঙ্গার ঠিক করা হয়েছে।আমি সামলে নিবো।তুই ইনজয় কর।আর তুই তো নিজেকে এই রাস্তা থেকে গুটিয়ে নিয়েছিস তাহলে চিন্তা কীসের!”
-“ফাইন।”
-“আমরা কাল সকালেই চলে যাবো।রায়ানের সাথে আমার কথা হয়েছে।”
উৎস ব্যস্ত স্বরে বলল,
-“রাগ করে চলে যাচ্ছিস না তো?”
-“আরে বোকা না।যা তোর মেহেক অপেক্ষা করছে।তুই না গেলে ঘুমাবে না।”
—-
মেহেক উল্টো দিকে পাশ ফিরে শুয়ে আছে।উৎস আলতো করে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল।উৎস বুঝতেই মেহেক উৎসর দিকে ঘুরল।উৎসর হাতে মেহেক মাথা রেখে বলল,
-“সোহানা আপুকে আমি সরি বলেছি ওই দিনের জন্য।”
-“হুম”
-“হুম কী?”
-“আমাদের বাসর হয়নি”
মুহুর্তেই মেহেক চুপসে গেলো।তার গাল লাল হয়ে এলো।উৎস দেখল মেহেক লজ্জা পাচ্ছে।তাই আরো লজ্জা দিতে বলল,
-“প্লিজ জান আজ না করিস না।”
-“আমার ভয় করে।”
-“আমি থাকতে ভয় কীসের তোর?তুই শুধু গভীর নিশ্বাস নিবি আর অনুভব করবি।”
-“আমাদের বিয়ের তো কোনো অনুষ্ঠান হয় নেই।”
-“পালিয়ে বিয়ে করেছি না আবার অনুষ্ঠান দিয়ে কি করবি।অনুষ্ঠান করা মানে অনেক খরচ।এতো খরচ করতে পারবো না আমি।”
মেহেক চট করে উঠে বসে।উৎস ভ্রু নাচিয়ে বলল,
-“উঠলি কেনো?”
মেহেক করুন স্বরে বলল,
-“পায়ে ব্যাথা করছে।হয়তো ক্যালসিয়ামের ঘাটতি।একটু টিপে দিবেন।”
উৎস উঠে বসে।মেহেকের পায়ে হাত দিয়ে বলল,
-“দিচ্ছি কিন্তু তারপর না করতে পারবি না।”
মেহেক ঘার উচালো।উৎস কিছুক্ষন পা টিপে দিলো।মেহেক কিছুটা আরাম পেলো।তারপর উৎস মেহেককে কাছে টেনে নিলো।অত্যাধিক নেশাক্ত কন্ঠে বলল,
-“কন্ট্রোল হারিয়ে ফেললে সামলে নিছ জান।”
বলেই উৎস মেহেকের উপর মত্ত হতে থাকে।তার ব্যস্ত হাত আরো ব্যস্ত হলো।মেহেক আর বাধা দিলো না বরং অনুভব করল উৎসর ভালোবাসা।
#চলবে

