#নোলক
পর্ব ২
#তানিয়া_মেধা
পদ্ম রান্নাঘরে সাবানার সাথে কাজ করছে আর নানান গল্প করছে। হঠাৎ কি মনে হলো সে সাবানার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো, ‘ আচ্ছা বললেন না তো কে হন?’
তখন পিছন থেকে শুভ্র বলে উঠে, ‘ আমার ছোট মা। মানে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। ‘
পদ্ম অবাক নয়নে তাকায়। সাবানা মাথা নাড়ায় যার মানে শুভ্র যেটা বলেছে সেটা সত্য। পদ্ম জানতো নাহ এটা যে দিলোয়ার দুই বিয়ে করছে অবশ্য সে শুভ্রকে কালই প্রথম দেখেছে।
শুভ্র পদ্মকে পাশ কাটিয়ে এসে সাবানাকে বলে, ‘ ছোট মা কিছু খেতে দাও ক্ষুধা লাগছে। ‘
সাবানা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ তুমি রুমে যাও আব্বা আমি পদ্মকে দিয়ে পাঠাচ্ছি খাবার।’
শুভ্র মাথা নেড়ে চলে যায়। সাবানা শুভ্রর যাওয়ার পানে চলচল নয়নে তাকিয়ে থাকে। বিষয়টা লক্ষ্য করে পদ্ম যেন কিছু বলতে চেয়েও না বলতে পারার কষ্ট। পদ্ম এটা নিয়ে ঘাটে নাহ এতো সাবানা খাবার থালায় দিলে দুটো থালা নিয়ে চলে আসে রুমে।
রুমে ঢুকে দেখে শুভ্র ফোনে কথা বলছে তাই কিছু নাহ বলে চুপিচুপি রুমে ঢুকে খাবার নিয়ে বিছানায় বসে।
*****
দিলোয়ার ছাদে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছে। কপালে তার চিন্তার ভাজ। মনে মনে বড্ড অনুশোচনায় ভোগছে। এর মাঝেই ছাদে কারো অস্তিত্ব টের পেয়ে পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখে মুনিরা। দিলোয়ার কিছু বলেন না। মুনিরা তেজী গলায় বলে, ‘ রাতে কোথায় ছিলেন?’
দিলোয়ার সামনের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘ সেটা তোমাকে বলার প্রয়োজন মনে করি নাহ।’
মুনিরা দিলোয়ারের এই কথায় জন্য আরও তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। রাগে ফুসতে ফুসতে বলেন, ‘ একে তো ঐ ডাইনির সাথে রাতে থাকছেন তারউপর আবার আমাকে ত্যাড়া কথা শোনাবেন এগুলো আমি মেনে নিবো ভাবছেন সব বলে দিব নাকি সবাইকে।’
মুনিরার এই কথায় দিলোয়ারের কি যেন হয়ে গেল। নিরব হয় যান। মুনিরার কাছে ক্ষমা চেয়ে বেরিয়ে পড়েন। মুনিরাও শয়তানি হেসে চলে যান সেখান থেকে। ওরা চলে যেতেই পদ্ম দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে। ছাদটা ঘুরে দেখতে এদিকেই আসছিল কিন্তু মুনিরাকে ছাদে দেখে দরজার আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। একদিন এ বাড়িতে এসে বুঝতে পারছে কিছু একটা ঝামেলা হচ্ছে এখানে।
শুভ্র একটা কাজে আজ সারা রাত বাহিরে থাকবে। বিয়ের পরের দিন এমন ঝামেলা হওয়াই ভীষণ বিরক্ত সে। পদ্ম বিছানায় বসে আছে আর শুভ্র মুখে বিরক্ত নিয়ে রেডি হচ্ছে। শুভ্রর এই বিরক্তিকর মুখ কানা দেখে হাসি পায় পদ্মর। শুভ্র পদ্মর দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ হাসছো কেন?’
পদ্ম হাসতে হাসতে বলে, ‘ আপনার এই মুখের অবস্থা দেখে।’
এবার শুভ্র অসহায় গলায় বলে, ‘ তুমি কি বুঝবে বিয়ের পরের দিনই যদি বউ ছেড়ে বাহিরে থাকতে হতো তাহলে তুমিও বুঝতে। ‘
শুভ্রর কথায় পদ্ম লজ্জা পায়। শুভ্র মুগ্ধ নয়নে সেই লজ্জা মাখা মুখ দেখতে থাকে। শুভ্র ঘোর লাগা কন্ঠে বলে, ‘ বাহ বেশ তো। ‘
*******
দিলোয়ার নিজের রুমে পায়চারি করছে আর ফোনে কথা বলছে। তার অনেক মালামাল সহ ট্রাক আটক দিয়েছে পুলিশ। ট্রাকে নাকি অবৈধ মাল আছে৷ সেই কাজেই শুভ্র বাহিরে যাবে ট্রাক ছাড়িয়ে আনতে। দিলোয়ারের পায়চারি মাঝেই দরজায় খড়া নাড়ে শুভ্র। দিলেয়ার ফোন কেটে শুভ্রকে রুমে আসতে বলেন। শুভ্র রুমে ঢুকতে ঢুকতে জিজ্ঞেস করে, ‘ বাবা কত চাইলো পুলিশ?’
দিলোয়ার বসতে বসতে বললেন, ‘ তিন লাখ।’
শুভ্র বলল, ‘ এতো টাকা! আচ্ছা তুমি চিন্তা করো না আমি যাচ্ছি। ‘
দিলোয়ার বিদায় জানালেন। শুভ্র সালাম দিয়ে চলে গেল রুম থেকে।
*******
পদ্ম রাতে একা থাকবে তাই সাবানা চলে আসে পদ্মর কাছে। দরজায় টোকা দিয়ে বলেন, ‘ আসবো পদ্ম?’
পদ্মজা সাবানাকে দেখে হেসে বলে, ‘ আরে ছোট মা আসেন ভিতরে।’
সাবানা হেসে ভিতরে ঢুকেন। পদ্ম তখন একটা গল্পের বই পড়ছিল। সাবানা গিয়ে পদ্মর পাশে বসে বলেন, ‘ একা থাকবে তাই ভাবলাম এসে কিছুক্ষণ গল্প করা যাক।’
পদ্ম হেসে বলে, ‘ বেশ করেছেন একা একা ভালো লাগতো নাহ। ‘
দুজনই হাসে। অনেক রাত অব্দি দুজন গল্প করে এর মাঝে পদ্ম কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে বলতে পারে নাহ। ঘুম থেকে উঠে যখন তখন সে শুভ্রর বাহুতে নিজেকে পায়। শুভ্র তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। লোকটা রাত করে বাড়ি এসেছে ভেবে ডাকতেও পারছে নাহ কিন্তু তাকে তো উঠতে হবে
******
দুপুর ১ টা বাজে
পদ্ম বিছানায় পা তুলে বসে তার স্বামীকে দেখছে যে আপাতত সিগারেটের ধোয়া হাওয়াই ভাসিয়ে দিতে ব্যস্ত। লোকটা দেখতে তো বেশ আছে কিন্তু এই সিগারেট খাওয়াটাই বদ অভ্যাস। পদ্মকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুভ্র বলে, ‘ অমন করে তাকিও নাহ রমণী মনে কিছু একটা করার ইচ্ছা জাগে কিন্তু মনে মনে আমি দৃঢ় সংকল্প বদ্ধ তোমাকে আগে নাকে নোলক তুলতে হবে।’
শুভ্রর কথায় পদ্ম চোখ নামিয়ে নেয়। লোকটা কিসের ইঙ্গিত করছে তা বোঝার বয়স হয়েছে তার। পদ্ম চোখ নামিয়ে নিতেই শুভ্র তার মুখের উপর সিগারেটের ধোয়া ছেড়ে কানে কানে বলে, ‘ যদি আমার কাছে আসত চাও তবে জলদি নাকে নোলক তুলো।’
এই বলে শুভ্র উঠে চলে যায়। পদ্ম মনে মনে এগুলো বলে লজ্জায় আরও কাচুমাচু হয়ে যায়। ১৯ বছর বয়সী রমণীর এগুলো বুঝতে বেগ পেতে হয় নাহ। মনে মনে শুভ্রকে বলে, ‘ কি নির্লজ্জ এই লোকট!’
*********
পদ্মর হুট করেই বাড়ির জন্য মন খারাপ হতে শুরু করলো। একদম তার বাবা আর ছোট ভাইয়ের জন্য কান্না চলে আসছে। পদ্মর মন খারাপ লক্ষ্য করে শুভ্র এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে, ‘ কি হয়েছে মন খারাপ কেন?’
শুভ্র জিজ্ঞেস করায় যেন তার কান্নাটা বেরিয়ে আসতে নিলো। ঠোঁটে কামড় দিয়ে কান্না থামাতে নিলেও একটু আর্থনাদ আর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। শুভ্র চমকালো মেয়েটা হঠাৎ করে কাঁদছে কেন! শুভ্র তাকে বুকের সাথে জড়িয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘ কি হয়েছে তুমি কাদছো কেন?’
পদ্ম এবার কান্না করে দিয়েই বলে, ‘ বাবা আর ভাইয়ের জন্য মন খারাপ হচ্ছে। ‘
শুভ্র এবার হাসে এতটুকু বিষয়ে কেউ কান্না করে। পদ্মর চোখ মুছে দিয়ে আবার জড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, ‘ কালকে নিয়ে যাবো এখন কান্না থামাও।’
পদ্মর হেঁচকি চলে এসেছে কাঁদতে কাঁদতে। কান্না থামালেও হেঁচকি বন্ধ হয়নি। শুভ্র কপাল চাপড়ায় এ কেমন বউ পেলো অল্পতেই কেঁদে হেঁচকি তুলে ফেলে।
****
সাবানা ছাদের মাঝে বসে আছে। বার বার অন্তর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে। চোখের সামনে ভেসে উঠছে অনেক স্মৃতি। জীবনটা এমন না হলেও পারতো। কেন সব থেকেও তার নেই।
এগুলো বসে ভাবছিল তখন ছাদে দিলোয়ারের আগমন ঘটে। রাত তখন প্রায় ১ টা এতো রাতে সাবানাকে দেখে অবাক হন। এগিয়ে গিয়ে কাধে হাত রাখতেই চমকে উঠেন সাবিনা। সাবানা ুমন সময় দিলোয়ারকে দেখে জিজ্ঞেস করেন, ‘ আপনি এখানে। ‘
দিলোয়ার বললেন, ‘ এমনি ঘুম আসছিল নাহ।’
দিলোয়াররে পর আর কোন কথা বলল নাহ সাবানা সে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। লোকটা জিজ্ঞেস করলো নাহ যে সে কেন এখনও এখানে হয়তো জানে তার ঘুম না হওয়ার কারণ সে।
চলবে