পূর্ণতা পর্ব-২+৩

0
1232

#পূর্ণতা❤️
#writer_Tanjila_Tabassum❤️

২+৩.

তারা কথাটা শুনে পুরোই শকড।তার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না। যেই ছেলে ছোট থেকে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে সে কিভাবে তার সঙ্গে এত বড় অন্যায় করলো?আর কেনোই বা জেলে ছিল ? হাজারো প্রশ্ন হানা দিচ্ছে তারা র মনে।কিছুক্ষণ পর তারা নিজের ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় আর কালকের কথা মনে করতে লাগে। কালকে বিয়েতে সে বোরকা , নিকাব পড়েছিল। তার মা তাকে কখনোই বোরকা ,নিকাব পড়তে দেয় না।পড়লেই তাকে নানা রকম কথা বলে।জংলী, পেত্নী আরো নানা রকম আজেবাজে নামে ডাকে তাকে।তবুও তারা এতসব কথা সহ্য করে বোরকা পড়তো।কিন্তু এখন কথা হচ্ছে তার মা সবসময় তাকে এইসব পড়তে নিষেধ করতো ,কিন্তু সেই মা-ই তাকে বিয়ের সময় বোরকা নিকাব পড়তে বলেছে। মানে বলতে গেলে তাকে নিজ হাতে পরিয়ে দিয়েছে। বিষয়টা অনেক অবাক জনক তারার কাছে। আশেপাশের কানাকানি থেকে শুনতে পেয়েছে তাকে নাকি বরপক্ষ এইসব পড়তে বলেছে।’তারা’ এইসব ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে চলে যায়।যেতেই দেখে আলোক বিছানায় বসে ফোনে কিছু দেখছে।আলোক দেখা মাত্রই তারা র রাগ উঠে যায়।তারা মনে মনে বলতে লাগে ‘শেষমেশ আমার ভাগ্যে এই বুড়া টাই জুটলো?দুনিয়ায় কি আর কোনো ছেলে ছিল না?’ আলোক তারার দিকে তাকাতেই তারা চোখ সরিয়ে নেয়।কিছুক্ষণ পর তারা দেখে আলোক তার দিকে এগিয়ে আসছে।তারার মনে একটা ভয় কাজ করে।আর এদিকে আলোক তারা কে দেখে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য এগিয়ে আসে।কিন্তু দরজার সামনে তারা দাড়িয়ে থাকার কারণে তার সামন দিয়ে যেতে হবে কিন্তু তারা অন্য কিছু ভাবছে।আলোক তারা সামনে আসতেই তাঁরা কাপাকাপি কন্ঠে বলে,

‘দে দে দেখুন।দুরত্ব বজায় রাখবেন আম…আমার থেকে। একদম কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।’

আলোক কিছু বললো না।শুধু ভ্রু উচুঁ করে তাকালো তারপর কিছু বলতে যাবে তার আগে তারা আবারো বলে উঠে,

‘আমি কালকে বলেছি না আমি এই বিয়েকে মানি না আর আপনাকে ও স্বামী হিসেবে। সো আমার থেকে নিজের দুরত্ব বজায় রাখবেন।কাছে আসার চেষ্টা করে নিজেকে নির্লজ্জ প্রমাণ করবেন না।’

আলোক এতক্ষণ তারার দিকে তাকিয়ে থাকলেও এখন চোখ নামিয়ে নেয়।তারপর আলোক আর বাহিরে না গিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেলো।আর তারা সে দিকে তাকিয়ে রইলো।তারা মনে মনে আবারো ভাবতে লাগলো,’ছেলেটা কেমন বাংলা সিনেমার সাবানা,ববিতার মত।কিছু বলেই না। মেয়েদের মত সব সহ্য করে নেয়।’
তবে আলোকের এভাবে স্বাভাবিক থাকাটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তারা।এমন ছেলেও যে দুনিয়ায় আছে তা হয়তো আলোক কে না দেখলে জানতোই না। তবে একটা দিক লক্ষ্য করেছে সে যখনি আলোকের সাথে কথা বলে তখন আলোক তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। এটা সে কালকেও লক্ষ্য করেছে আর আজকে সকালেও, আবার এখন ও দেখলো।

.

🍁

.

রঙ্গিন একটা শাড়ি পরে বিছানায় বসে আছে তারা।চোখ দিয়ে তার পানি বইছে।সে কাঁদছে।কারণ কিছুক্ষণ পর তাকে নতুন বউ হিসেবে মানুষ দেখতে আসবে।তারার নিজেকে একটা শোপিস মনে হচ্ছে যাকে দেখতে মানুষ আসবে। তারা কাদঁছে কারণ তাকে এভাবে একটা শাড়ি পরে মানুষের সামনে তাকে প্রদর্শন করা হবে।নিজের বাড়িতে থাকতে তার বাবা মায়ের হাজারো কটূক্তি,গালিগালজ,আজেবাজে কথা সহ্য করে থাকতো।কিন্তু তবুও সে নিজের পর্দা ছাড়ে নি।তার মা সব সময় তাকে তার কাজিন দের সামনে যেতে বাধ্য করতো ।কিন্তু তারা তার কোনো ছেলে কাজিনদের সামনে যায় না।কারণ তারা জানে ১৪ পুরুষ ছাড়া বাকি সব পুরুষের সামনে পর্দা করা ফরজ। কিন্তু তার বাবা মা এটা বুঝতে চায় না। মূলত তাঁরা র বাবা মা তার জন্ম থেকে তাকে অপছন্দ করে ।নিজের বাবা মা হয়েও তারা র মনে হয় ওনারা তার সৎ বাবা মা। তারা রা দুই বোন ।তার বড় বোনের নাম তরী।দেখতে অপূরুপ সুন্দর।কিন্তু তারা তরীর মত সুন্দর না।তারার যখন তার মায়ের পেটে এসেছিল তখন তার বাবা মায়ের প্রত্যাশা ছিল তাদের ছেলে হবে ।কিন্তু ছেলে না হয়ে মেয়ে হয়।তাই তাদের তারা র উপর ক্ষোভ হয়।আর জন্মের সময় তারার গায়ের রং কালো ছিল যা তার বাবা মায়ের অপছন্দ।কিন্তু আস্তে আস্তে তারা র গায়ের রং পরিবর্তন হয়।কিন্তু তবুও তার বাবা মায়ের অপছন্দ মেয়ে হয়েই থাকে।তার মা তাকে দ্বারা বাড়ির সব কাজ করতো,তার বোনকে কিছু করতে দিত না। তারা র বড়ো বোন তরী তাকে ভালোবাসে, যদিও ছোট থাকতে তরীর মনে তার মা তারার বিরুদ্ধে নানান কথা বলত।কিন্তু সময়ের সাথে আর বয়স বাড়ার সাথে তরী বুঝতে পারে। আর এখন তরী তারা কে খুব ভালোবাসে।

.

তাঁরা জোরে জোরে কাদঁছে।কি করবে সে এখন?কিভাবে সবার সামনে যাওয়া থেকে নিজেকে আটকাবে?কে শুনবে তার কথা? তারা এবার উপরে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করে,

‘হে আল্লাহ্।আমাকে এই পরীক্ষা থেকে রক্ষা করো। সব সময় তুমি আমাকে সাহায্য করেছে এইবারও করো আল্লাহ। তোমার রহমতের কারণে সব সময় আমি সকল পরীক্ষায় সফল হয়েছি। আমার পর্দা ভাঙ্গতে দিও না আল্লাহ। আমাকে এই পরীক্ষা থেকে উদ্ধার করো।’

এইসব বলে কাঁদছে তারা। হঠাৎ সামনে চোখ যেতেই দেখে আলোক দাড়িয়ে আছে। আলোক কে দেখে প্রতি বারের মতন এবারও তার রাগ উঠে। তাঁরা মনে মনে বলতে শুরু করে,’এই লোকটার জন্যই আমার সব কিছু শেষ হতে চলেছে। প্রথমত টাকার লোভ দেখিয়ে বিয়ে করেছেন।আর এখন এনার জন্য আমার আমার দ্বীন পালনে ব্যাঘাত ঘটতে চলেছে।’

আলোক কয়েক পা বাড়িয়ে এগিয়ে আসলো। আলোক আসতেই তারা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে আলোক কে বলল,

‘আপনার !আপনার জন্যই সবকিছু হচ্ছে। যবে থেকে আমার জীবনে আপনি এসেছেন তবে থেকে জীবনের সবকিছুই পাল্টে যাচ্ছে।’

বলে একটা হাঁফ ছাড়ল তারা। তারপর আবার বলতে শুরু করল,

‘সবকিছু নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে!! নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে,স্বামী! আর এখন নিজের ঈমান ও নষ্ট হতে চলেছে। আমি পারবোনা কোনো লোকের সামনে যেতে। কোন শোপিস নই আমি কিংবা কোন পুতুল যে আমাকে সবার সামনে প্রদর্শন করাবেন। পারবোনা আমি নিজের পর্দা ভঙ্গ করতে।’

কাঁদতে কাঁদতে এসব বলে ধপ করে নিচে বসে পড়ল তারা। আলোক তাকে কিছু না বলে চলে গেল। তারা আলোকের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর আবারও তারা উপরে তাকিয়ে বলতে লাগলো,’হে আল্লাহ এ কেমন লোকের ভাগ্যে জড়ালে আমাকে? যার জন্য জন্য নিজের দ্বীনের বিপক্ষে যেতে হবে! আমাকে সাহায্য করো আল্লাহ। একমাত্র তুমি ছাড়া সাহায্য করার মত আমার কেউ নেই। তুমি আমার একমাত্র আশা ভরসা তুমি আমার সব।’

বলে কাঁদছে তারা। প্রায় ৩০-৩৫ মিনিট পর দরজায় কেউ নক করে। তাঁরা উঠে দাঁড়ায় তারপর নিজের চোখ মুখ মুছে নেয়। নিজেকে স্বাভাবিক করে গিয়ে দরজা খোলে । দেখলো তার শাশুড়ি এসেছে। তাঁষরা কে দেখে আশা বলল,

‘ তারা মামনি রেডি হয়েছো?’

তারা কিছু বলল না চুপ করে থাকলো। আশা তারাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বলল,

‘মা-শা-আল্লাহ। অনেক সুন্দর লাগছে আমার বউমনি কে।’

তারা জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করল। আশা তাঁরা র হাত ধরে বলল,

‘এসো মামনি।’

তারপর তারা কে নিয়ে নিচে আসতে লাগলো। তারা মনে মনে আল্লাহকে ডাকছে, যেন তার পর্দা ভঙ্গ না হয়। তাঁরা কে নিচে নিয়ে এসে এক জায়গায় বসিয়ে দিল। তারপর এক এক করে অনেকগুলা মহিলা তাকে এসে দেখল, তার সাথে কথা বলল। কিন্তু কোন পুরুষ লোক তাকে দেখতে আসেনি। বেশ অনেকক্ষণ পর তারা উঠলো। কিছুক্ষণ যাবত সে একাই বসে আছে তাই তার আর ভালো লাগছে না বসে থাকতে। তারা উঠে বাহিরে গেলো তখন একটা বৃদ্ধ বয়স্ক লোক তার সামনে আসলো। তারা থমকে দাঁড়ালো। লোকটা হয়তো চোখে ঠিক মতো চোখে দেখতে পারছে না।লোকটা আস্তে করে বলল,

‘আরে চাঁদ মামনি না?এত…এতদিন পর?’

তারা অবাক হয়ে গেল! কি সব বলছে এই বৃদ্ধ লোকটা? সে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তখনই পিছন থেকে কেউ একজন বলে,

‘আরে দাদা।’

তারা পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখে আলোক। তারপর আলোক সামনে আসলো। বৃদ্ধ লোকটা আলোককে দেখে বলল,

‘বাবা তোমরা এতদিন কোথায় ছিলে?আর চাঁদ মামনি এখন সুস্থ আছে তো?'[তারার দিকে তাকিয়ে]

আলোক কিছু না বলে হাসল। তারপর তারা দিকে তাকিয়ে বলল,

‘আপনি ভিতরে যান।’

তারা কিছু না বলেই ভিতরে আসার জন্য পা বাড়ালো।আর পিছন ঘুরে দেখল আলোক বৃদ্ধ লোকটাকে কিছু বলছে। কিন্তু তার আর মনে প্রশ্ন হানা দিচ্ছে যে, বৃদ্ধ লোকটা তাকে চাঁদ বলে সম্বোধন করল কেন? আর এতদিন কোথায় ছিল মানে? তাহলে কি আলোকরা এখানে থাকত না? হাজারো প্রশ্ন আসছে তারার আর মনে। কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর অজানা!

__________

#চলবে….

কপি করা নিষেধ।

#তানজিলা তাবাচ্ছুম

+

#পূর্ণতা❤️
#Writer_Tanjila_Tabassum❤️

৩.

রাত ১২ টা বাজতে আর মাত্র তিন মিনিট বাকি। আচমকা তাঁরা র ঘুম ভেঙ্গে যায়।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ঘুম ভাঙ্গতেই তাঁরা উঠে বসে হাতের তালু দ্বারা কপালের ঘাম মুছে নেয় ‌।কেমন অস্বস্তি লাগছে তার।বার বার ঢোক গিলছে তাঁরা।আড়াল চোখ করে ব্যালকনির দিকে তাকালো।আজ ও আলোক ওখানেই ঘুমিয়েছে। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আবারো শুয়ে পড়লো কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না।আর শুয়ে থাকতেও শান্তি পাচ্ছে না। তাঁরা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।তারপর দরজা খুলে বের হলো। তাদের রুমের বা’পাশে একটা রুম আর ডান’পাশে তিনটি রুম রয়েছে। তাঁরা লক্ষ্য করলো ডান পাশের তিনটি রুমের মধ্যে শেষে থাকা রুম টাতে লাইট জ্বলছে। তাঁরা সেদিকে পা বাড়ায়।আর রুম টার কাছে আসতেই কিছু কথা শুনতে পায়। তাঁরা কন্ঠ শুনে বুঝতে পারলো তার শশুর শাশুড়ি কথা বলছে। তাঁরার শশুর রায়হান তার শাশুড়ি আশাকে বলছে,

‘আমরা তাঁরা কে ব্যাপার টা না বলে অন্যায় করছি না আশা?’

আশা দাড়িয়ে গিয়ে বলল,

‘এখানে অন্যায়ের কি পেলে?এখন জানলেই বা কি আর হবে?বিয়ে তো হয়েছেই।’

‘বিয়ে হয়েছে তবুও ওর জানার পুরোপুরি অধিকার রয়েছে।’

আশার মুখে বিষন্নতার ছাপ ফুটে উঠলো।সে রাগান্বিত ভাবে বলল,

‘মানলাম ওর অধিকার আছে কিন্তু জানলে এখন ও আর কি করবে?আর আমার মনে হয় না তাঁরা জানলেও বা কিছু হবে। তাঁরা একটা ভদ্র, সুশীল মেয়ে।’

রায়হান ও এবার দাঁড়িয়ে গেল আশার সামনে।তারপর তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,

‘তাঁরা ডিসিশন কি হবে সেটা নাহয় সে-ই বলবে।’

আশা ভ্রু কুঁচকে বলল,

‘মানে?’

‘মানে আমি তাঁরা কে কাল সব বুঝিয়ে বলবো।’

আশার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরতে লাগল।

‘আমার ছেলেটাকে একটু শান্তিতে থাকতে দিবে না তুমি?’

রায়হান আশার কাঁধে একটা হাত রেখে বলল,

‘আলোক আমারও ছেলে আশা। আমার একমাত্র সন্তান। কিন্তু তাই বলে অন্যের সন্তানের সাথে আম….

রায়হানকে থামিয়ে আশা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

‘কি দোষ করেছে আমার ছেলেটা?কেনো তোমরা ওর জীবনটা নষ্ট করার উপর লেগেছো?প্রথমত তোমার ওই ভাইয়ের ছেলের জন……

এতক্ষণ তাঁরা বাহির থেকে সব শুনছিলো কিন্তু আনমনা হয়ে যাওয়ার কারণে পাশের ফুল দানিটা তার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলো।আর সাথে সাথে আশা এবং রায়হান বাহিরে তাকালো।আর আশাও তার কথা অসম্পূর্ণ রেখে থেমে গেলো।তাদের দু’জনের দৃষ্টি এখন বাহিরে।অন্য দিকে তাঁরা হাঁপিয়ে উঠেছে। কিভাবে এখন সে নিজের রুম পর্যন্ত যাবে ?কারন যেতে যেতে তো রায়হান আর আশা তাকে দেখে ফেলবে।আশা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। তাঁরা অন্য কোনো উপায় না পেয়ে পাশের রুম টার দরজা খোলার চেষ্টা করে আর খুলে যেতেই ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। তাঁরা জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে। খুব ভয় পেয়ে গেছিল সে। কিন্তু তার শশুর শাশুড়ি কি বিষয় নিয়ে কথা বলছিল সেটা তাঁরা ঠিক মত বুঝতে পারছে না।তবে এইটুকু বুঝতে পেরেছে যে তাকে এবং আলোক কে নিয়ে কথা হচ্ছিল। তাঁরা যে রুমের ভিতর ঢুকেছে সেই রুম টা ভালো ভাবে দেখতেই তার ভয়টা আরো বেড়ে যায়।পুরো রুমটা অন্ধকার সাথে মাকড়সার জাল।ফ্লোর টাও ময়লা। কিন্তু রুমটার ব্যালকনির ওইদিক থেকে একটু আধটু আলো আসছে বিন্দু বিন্দু। তাঁরা র কেমন অদ্ভুত লাগছে।এইরকম উচ্চবিত্ত পরিবারের একটা বাড়ি এইরকম একটা ময়লা , ভয়ংকর রুম থাকবে সে ভাবতে পারে নি।রুমটা দেখে মনে হচ্ছে কয় বছর ধরে এখানে কেউ থাকে না ,কেউ আসে না। তাঁরা বিন্দু বিন্দু আলো গুলো দিয়ে রুমটা দেখার চেষ্টা করছে।কিছুটা দেখতে পারছে আবার কিছুটা পারছে।তবে যতটুকু দেখতে পারছে সে টুকু দেখে এতটুকু ধারনা পেয়েছে যে-ই এই রুমটাতে থেকেছিল সে রুমটাকে অনেক সাজিয়ে রেখেছিল।পুরো রুমটা সুন্দর ভাবে সাজানো কিন্তু তাতে ধুলো পরেছে। তাঁরা সামনে এগোতাই হচট খেয়ে পড়ে গেলো নিচে।আর মুখ দিয়ে ‘আহ’ শব্দ হলো তার।পুরো শরীর তার ফ্লোরে পরেছে।তাঁরা উঠার চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যথা একটু বেশিই পেয়েছে তাই উঠতে পারলো না। বাহিরে আলো গুলো তার মুখ বরাবর পরেছে।ফ্লোর টাকে একটু ভালো করে দেখতেই তাঁরা র পুরো শরীর কেঁপে উঠে।ভয়ে তার গলা শুকিয়ে আসছে।ফ্লোরে রক্তের দাগ।তবে দেখে মনে হচ্ছে অনেক আগের দাগ। কেননা দাগ গুলো শুকিয়ে গেছে। তাঁরা পর পর ঢোক গিলতেই আছে ,এই মুহূর্তে তার খুব ভয় করছে।তার পুরো শরীরটা থেকে যেনো ধীরে ধীরে শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। তাঁরা র নিজেকে খুব উইক মনে হচ্ছে,উঠার মত শক্তিটুকুও সে পাচ্ছে না।

.

.

অপর দিকে আশা বেরিয়ে কাউকে দেখতে পেলো না। শুধু মাত্র দেখলো ফুলদানি টা নিচে পড়ে আছে। আশা চারপাশে সন্দেহ জনক দৃষ্টিতে দেখছে।পিছন থেকে রায়হান এসে বলল,

‘কে ছি…

এতটুকু বলে থেমে গেল।দেখলো নিচে ফুলদানি পরেছে।

‘ওহ ফুলদানি টা পরেছে।’

আশা রায়হানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে বলল,

‘কেউ ফেলে দিয়েছে।’

আশার কথা শুনে রায়হান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,

‘কেউ ফেলেছে মানে?কি বলতে চাও তুমি?’

আশা রায়হানের দিকে বড়সড় চোখ করে তাকিয়ে বলল,

‘মানে কেউ আমাদের কথা শুনছিল।’

‘কিসব বলছো?কে বা আছে বাড়িতে? তুমি,আমি আলোক আর তাঁরা ই তো আছি।বাকি সবাই তো চলে গেছে।’

আশা রায়হানের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ফুল দানিটাকে ঠিক করতে করতে বলল,

‘কে এসেছিল জানিনা।তবে কেউ ছিল।’

রায়হান আশার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,

‘আহা!কি সব বলছ?হয়তো বাতাসে পড়ে গেছিল।দেখো বাহিরে কতো বাতাস বইছে।’

আশা ভ্রু কুঁচকে বলল,

‘বাতাস?বাতাস এখান পর্যন্ত কিভাবে আসবে?যদি ঘরে পড়তো তাহলে একটা কথা হতো।’

রায়হান ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি নিলো না।সে আশাকে বোঝাতে লাগলো,

‘তাহলে হয়তো ইঁদুর বা অন্য কিছুতে পরেছে।’

‘ইদুরের গায়ে এতটা শক্তি আছে?’

আশার প্রশ্নের কোনো উত্তর পেলো না তাই চুপ থাকলো রায়হান।আশা তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে চারপাশ টা দেখছে।

‘আহ আশা এত রাতে কে আসবে?

আশা উঁচু করে কুঁচকে তাকাতেই রায়হান বলল,

‘আচ্ছা এই ব্যাপার টা আমরা কালকে দেখবো।এখন অনেক রাত হয়েছে।ঘুমিয়ে পড়া যাক।’

আশা কিছু বলার আগে রায়হান তার হাত ধরে ভিতরে নিয়ে আসে।

.

.

অনেকক্ষণ যাবত নিচে পড়ে আছে তাঁরা।অনেক কষ্টে উঠার চেষ্টা করছে। একসময় সফল হয়ে যায়।উঠে দাঁড়ায় সে। তার ভয়টা এখনো কমেনি।প্রতিটা মূহুর্ত ই তার মনে প্রশ্ন বেড়ে চলছে। কিন্তু সব গুলোর উত্তর ই অজানা। তাঁরা তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে রুমের চারপাশ টা দেখছে। এবার সাবধানতার সাথে পা বাড়ালো। বিছানায় হাত দিতেই দেখে ধুলো জমেছে।আর আরেকটু কাছাকাছি ভাবে দেখতেই দেখে সাদা চাদরে ও রক্তের দাগ।দেখেই তাঁরা র ভয় আরো বেড়ে যায়।সে বার বার জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। তাঁরা বিছানা টার আরো কাছে যায়।তার পর সে লক্ষ্য করে বালিশের নিচে কিছু একটা চাপা পরে আছে।তাঁরা সেটাকে বের করে এনে দেখে একটা ডায়েরী। তাঁরা ভিতরে কি আছে সেটা পরার জন্য আলোর ওইদিক নিয়ে যায় ডায়েরী টাকে।তারপর প্রথম পেজ খুললেই দেখে বড় করে পূর্ণতা লেখা। তাঁরা পরের পেজ উল্টায় দেখে সেখানে কিছু লেখা।কিছু কবিতা আর কিছু ছন্দ। তাঁরা সেগুলো পড়লো না কারন এমনিতেই ভালো মত কিছু দেখা যাচ্ছে না।ডায়েরী টার পরের পেজ উল্টা টেই কিছু ছবি ছবি নিচে পড়ে যায় । তাঁরা সেগুলোকে উঠিয়ে দেখবে তখনি কেউ পিছন থেকে তাঁরা র নাম ধরে ডাকে। নিমিষেই তাঁরা থমকে যায়।তার গা ঘামতে শুরু করেছে। তার শরীর কাঁপছে।এখানে কে আসবে?পিছনে ঘুরে তাকানোর সাহস হচ্ছে না তাঁরা র।কে ডাকলো তাকে?

#চলবে…