#প্রণয়ের_সূচনা
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_৩৭
___________________________
এক হাত দিয়ে চেয়ার আক/ড়ে ধরে হতবি/হ্বলের ন্যায় দাড়িয়ে আছে ইরা।বিস্মি/ত চোখ জোড়া মেঝেতে ছড়ানো ছিটানো কা/চের টু’করো গুলোতে।সে ভুল শোনেনি,না ভুল দেখেছে,সত্যি ই মুগ্ধ এসেছে। ইসহাক সাহেবের কণ্ঠ শুনে সবার অগোচরে উকি দিয়েছিল ড্রয়িংরুমে।চোখজোড়া থমকে গিয়েছিল তার ওপর,হৃদকোমলে অস্বাভাবিক রকমের স্পন্দন আর ক্রমেই যেন তা বেড়ে চলেছিল।হাতে থাকা কাচের প্লেট টা শব্দ করে নিচে পড়ে যেতেই হুশ ফিরল ইরার।সাথে সবার নজরে এলো আড়ালে থাকা ইরার ওপর।নজর এড়ায়নি মুগ্ধর।ইরাকে বিধ্ব/স্ত লাগলেও মুগ্ধ মুগ্ধ নয়নেই তাকিয়ে ছিল তার ইরাবতীর দিকে।কিন্তু বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারেনি কারণ ইরা সড়ে এসেছে সেখান থেকে। প্রণয় ও মুগ্ধ কে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দিয়েছে।ইসহাক সাহেবের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের পরে মুগ্ধর কাজ সম্পর্কে ও মোটামোটি জান কারি নিয়ে নিচ্ছেন ইসহাক সাহেব। মুগ্ধ কিছুটা ভী’ত স/ন্ত্রস্ত বটে। চিন্তা হচ্ছে তার ইরাবতীর জন্য। সে কোথায়?দেখার জন্য ছট/ফট করছে কিন্তু করবেই বা কী? ইসহাক সাহেবের সাথে কথা বলছিল মুগ্ধ তখনই পাশ থেকে প্রণয় বলে উঠলো-
–‘মামা ও একটু ফ্রেশ হয়ে নেক।
ইসহাক সাহেব ও অনুমতি দিলেন।মুগ্ধ কে গেস্টরুমে দেখিয়ে দিয়ে নিজের রুমে গেল প্রণয়। রুমে আসলেও সূচনাকে পাওয়া গেল না। কিঞ্চিৎ অবাক হলো, সে দেখেছে তাকে রুমের দিকে আসতে। তাহলে গেল কোথায়?কয়েক পল ভাবার পরেই মাথায় হাত দিয়ে বলে উঠলো-
–‘শি’টট
তড়িঘড়ি করে বেরোলো রুম থেকে।
__________________________
বিছানায় দু’পাশে দু হাত প্রসারিত করে বসে আছে ইরা।বসে আছে বললে ভুল হবে হাত-পা তার অস্বাভাবিক ভাবে কা/পছে। আখি জোড়া জ্বা/লা করছে ভীষণ।মন -মস্তিষ্কে একটা কথাই বিচরণ করছে কেন এসেছে মুগ্ধ?মুগ্ধ প্রণয়ের বন্ধু, প্রণয় জানলে কী করবে তাকে?নিশ্চয়ই সে কষ্ট পাবে।তার নিজের বোন তারই বন্ধুর সাথে…ছি/হ।মুখেও একই বুলি আওড়াচ্ছে সে -আপনি কেন এসেছেন মুগ্ধ সাহেব?কেন আবারও ঝা/মেলা বাধা/চ্ছেন?
–‘মুগ্ধ তার ইরাবতীর অভিমান ভা/ঙাতে এসেছে।ইরাবতী কী দিবে না সেই সূযোগ?
আচমকা কারো কণ্ঠ পেয়ে চ/মকে উঠলো ইরা।তার চেয়ে বেশি চ/মকালো সেই কণ্ঠের মালিক কে দেখে।
ঘো/লাটে চোখ জোড়া নিয়ে অপলক তাকিয়ে আছে সামনের মানুষটার দিকে।তাকে কতদিন দেখে না এই চোখ জোড়া, মন ভরে দেখা হয় না তাকে কত শত প্রহর।জলে টইটম্বুর আখি জোড়া থেকে অশ্রু গড়াতে সময় লাগলো না।অভিমান,রা/গ, জে/দ সব মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। চোখ মুছে,নিজেকে স্বাভাবিক করলো।মুখ শ’ক্ত করে ক/ড়া কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো-
–‘একটা মেয়ের রুমে আসার আগে নক করে আসতে হয় সেই নূন্যতম সেন্সটুকু কী আপনার নেই?আর আপনি আমার রুমে কেন এসেছেন?
দুই ঠোঁ/ট কিঞ্চিৎ প্রসারিত হলো মুগ্ধর।হাসলো বুঝি?ইরার লক্ষ্য করলো না তেমনভাবে,দৃষ্টি সরিয়ে নিল। মুগ্ধ স্বাভাবিক স্বরেই বললো-
–‘আমি কেন এসেছি তা আপনি ভালো করে ই জানেন ইরাবতী।আর আপনার রুমে আসার আগে পারমিশন তো নিয়েছি, স্বয়ং আপনার ভাই দিয়েছে।
____________________________
লম্বা লম্বা শ্বাস নিচ্ছে সূচনা।এতক্ষণ যেন শ্বাস তার গলায় আট/কে ছিল।হা/পাতে হা/পাতে বললো-
–‘আপনার মাথা খা/রাপ? আরেকটু হলে দম বন্ধ হয়ে এখনই উপরে চলে যেতাম আমি।
প্রণয় মুখ বা’কিয়ে বললো-
–‘নাটক কম করো, অমনভাবে ও ধরিনি যে দম বন্ধ হয়ে যাবে।
–‘আমি নাটক করি?
–‘একটু আগে করছিলে।
–‘তাহলে আপনি আমার মুখ চে/পে ধরেছিলেন কেন?
–‘ তোমার মুখ চে/পে ধরার পর তোমার রিয়েক্শন কেমন হয় সেটা দেখার শখ জেগেছিল তাই।
–‘ফা/জলামো না করে বলেন।
–‘তার আগে তুমি বলো তুমি এখানে কী করছিলে?
–‘কী করছিলে মানে?ইরার রুমে যাচ্ছিলাম কিন্তু আপনার কল্যাণে তা আর হলো কই?আপনার মাথায় যে উদ্ভ/ট শখ জেগেছে।
–‘তোমার মতো হাতে হাত রেখে বসে থাকার মতো মানুষ না আমি।কাজ করে খেতে হয়,কাজ নিয়ে ভাবতে হয়।তা রেখে এসব নিয়ে পড়ে থাকব কোন সুখে?
–‘এক মিনিট এক মিনিট আপনি কী আমাকে খো/টা দিচ্ছেন যে আমি বসে বসে আপনার টা খাচ্ছি?
প্রণয় যেন আকাশ থেকে পড়লো সূচনার কথা শুনে। সে বলেছে এমনি এমনি কিন্তু সূচনা যে তার কথার এই মানে বের করবে তা জানলে বলতোই না বেচারা।আলতো করে সূচনার হাত ধরে বললো-
–‘ছিঃ জান কী বলো এসব, তুমি না আমার বিয়ে করা বউ।
–‘ছাড়ুন…ছুবেন না আমায়।
–‘আরে আস্তে, চেঁ/চাচ্ছ কেন?
–‘কীসের আস্তে হ্যা,,চেচা/ব না কেন একশো বার চে…
আর বলতে পারলনা সূচনা, আবারও মুখ চে/পে ধরেছে প্রণয়।এবার মুখ চে/পে ধরে এক প্রকার টে/নে হি/চড়ে নিয়ে গেল ইরার রুমের সামনে থেকে।
______________________________
ইরার পূর্বের থেকে দ্বিগুণ পরিমানে বিস্মায়া/বিষ্ট।মুগ্ধ কে তার রুমে আসার অনুমতি স্বয়ং তার ভাই দিয়েছে মানে প্রণয়।তার মানে প্রণয় জানে তাদের ব্যাপারে।মাথা খা/রাপ হয়ে যাচ্ছে তার ভাবতে ভাবতে।কিন্তু আশ্চর্যজ/নক ভাবে সব রা/গ এখন তার মুগ্ধর ওপর চা/পছে। সে না আসলে এই ঝা/মেলা হতই না।সব দো/ষ তার।মেঝে থেকো দৃষ্টি সরিয়ে মুগ্ধর দিকে তাক করলো।তার দৃষ্টি দেখে মুগ্ধ বুঝতে পারল সে রে/গে আছে।দৃষ্টি তে যেন আ/গুন ঝরছে তার।মুগ্ধ কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল তার আগেই ইরা যেন ঝড়ে/র বেগে তার সামনে আসলো।মুগ্ধর টি-শার্টের কলার ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে বললো-
–‘কী সমস্যা আপনার?কেন এসেছেন আপনি?কেন আমার জীবনটা এলোমেলো করছেন?চলে গিয়েছিলেন তাই তো ভালো ছিল আবার কেন এসেছেন?খবরদার যদি আবার আমার চোখের সামনে এসেছেন,খা/রাপ কিছু হয়ে যাবে। আমার সামনে আসবেন না আর।
ইরা কলার ছেড়ে দিল মুগ্ধর।বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে সে।চোখ ফে/টে কান্না আসছে তার।এদিকে ইরার ব্যবহারে কিংকর্ত/ব্যবিমূঢ় মুগ্ধ। সে কল্পনা ও করেনি ইরা এমন ব্যবহার করবে।কিন্তু হার মানলো না সে ও।নরম স্বরে বললো-
–‘ ইরাবতী এভাবে দূরে ঠেলে দিবেন না,আর কয়দিন এভাবে থাকলে ম/রে যাব আমি।অভিমান হয়েছে আমাকে শা’স্তি দিন কিন্তু দূরে সরিয়ে দেয়ার মতো শা’স্তি আর দিবেন না।দোহাই লাগে।
ইরা গলে গেল না তবুও।শক্ত চোখেমুখে দাড়িয়ে রইলো ঠাই।মুগ্ধ আবারও বললো-
–‘আমাকে একটা সূযোগ দিন আমি সব বুঝিয়ে বলবো,এক বার ভালো মতো একটু কথা বলতে দিন।
আগের ন্যায় ই ক্ষু/ব্ধ কণ্ঠে ইরা বললো-
–‘আপনাকে যেতে বলেছি না মি.মুগ্ধ। আমার রুম থেকে বেরোন সাথে আমার জীবন থেকেও।
ব্য/থিত হলো মুগ্ধর প্রেমিক হৃদয়।মন মানলো না,আবার ও রোবটের ন্যায় আওড়াতে লাগলো আগের কথাগুলো। যদি ভা/ঙে তার ইরাবতীর অভিমান। যদি গ’লে যায় মন সেই আশায়।
__________________________
–‘আপনি আমাকে টে/নে নিয়ে আসলেন কেন?
–‘তুমি চেচা/চ্ছিলে কেন?
–‘আপনি ব/কা দিয়েছেন কেন?
–‘আমি ব/কা কবে দিলাম?
–‘ইয়া আল্লাহ আব্বু দেখে শুনে আমাকে এ কার কাছে বিয়ে দিয়েছে?
–‘আমার মতো দ্বিতীয় কাউকে হারিকেন দিয়েও খুজে পেতনা তোমার বা’প।তোমার তো ভাগ্য ভালো যে আমি নিজে এসে ধরা দিয়েছি।
–‘এহহ,কে বলেছে আপনাকে ধরা দিতে।
–‘কে বলতে যাবে?আমি তো…
কথা বলতে বলতে দৃষ্টি সামনে পড়তেই থেমে গেল প্রণয়। মুগ্ধ বেরিয়ে যাচ্ছে ইরার রুম থেকে। সূচনাকে কিছু না বলে প্রণয় ও তার পেছন পেছনে গেল।
____________________________
–‘আপনার এমন করা কী ঠিক হয়েছে?
উদাস কণ্ঠে প্রণয়কে জিজ্ঞেস করলো সূচনা। প্রণয় বলেছে তাকে সবটা।শুরুতে মন খা/রাপ করেছিল সূচনা কারণ সে জানত না যে ইরার মুগ্ধ সাহেব ই প্রণয়ের আগত এই বন্ধু। মুগ্ধ যে আজকে বাসায় আসবে আর কেন আসবে তা সম্পর্কে কিছু ই জানত না সূচনা। তা নিয়েই মন খারা/প ছিল কিন্তু যখন জানল যে তাদের সম্পর্ক ঠিক করতে যেয়ে আরও বি/গড়ে গেছে তখন সূচনার মন আরও ছোট হয়ে গেছে। সময়টা এখন রাত আটটা প্রায়।অনেক খানি সময় কে/টে গেছে।মিহু ও চলে গেছে,সবকিছুর মাঝে ঠিকভাবে বসে কথা ও বলতে পারেনি দু দন্ড। ইরার রুম থেকে বেরোনোর পর মুগ্ধ কে জিজ্ঞেস করলেও মুগ্ধ প্রণয়ের কাছে কিছু বলেনি।তখনই চলে যেতে চাইছিল কিন্তু এই ভরদুপুরে বাসায় আগত কাউকে কী না খেয়ে যেতে দেয়া যায়? আর সেখানে মুগ্ধ কে তো দাওয়াত করে আনা হ’য়েছে।বেচা/রা চায় নি এভাবে আসতে কিন্তু ইসহাক সাহেব বারবার বলছিলেন দুপুরেই যেন আসে তাই প্রণয় ও এক প্রকার বাধ্য হয়ে মুগ্ধ কে দুপুরেই আসগে বলেছে না হয় বিকেলে আসত সে।ভদ্রতার খাতিরে থেকে গিয়েছিল মুগ্ধ।কোনো রকম দু দানা খেয়ে কাজ দেখিয়ে বেরিয়ে গেছে বাসা থেকে।সবার সামনে তাকে বারবার ‘কী হয়েছে?’ জিজ্ঞেস করাটা নেহাৎ বো’কামি মনে হয়েছে প্রণয়ের কাছে।তাই ঘা’টায়নি আর,মুগ্ধ বেরিয়ে যাবার পরপরই সে বেরিয়ে গেছে তার পেছন পেছনে। মুগ্ধ অবাক হয় নি তাকে দেখে, তবে কয়েক পল মৌন ব্রত পালন করেছে।অতঃপর বাইকে উঠতে উঠতে স্বাভাবিক স্বরে বলে-
–‘আয়..বাইকে ওঠ বলছি।
দুই বন্ধু বেড়িয়ে গেছে, বহুদিন পর একসাথে। সন্ধ্যার সময়টায় রোড ফা/ক ছিল না একদম।ব্রিজের সাইডে মুগ্ধ বাইক টা থামিয়েছে।মাঝে ব্যস্ত ভঙ্গিতে শো শো আওয়াজ তুলে ছুটে চলেছে একের পর এক গাড়ি।মুগ্ধ রেলিঙ ধরে দাড়িয়েছে।প্রণয় তার পাশে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করে –
–‘এখানে কেন থামলি?
–‘কেন?কোলা/হল বেশি বলে?
–‘হ্যা।
–‘এত কোলা/হল, ভিড় ভাট্টা মধ্যে ও কিন্তু আমি একা ভাই।ধরে নেয় আমাদের আশেপাশে কেউ নেই।
–‘মনের শান্তি ই বড় শান্তি।
মুগ্ধ হাসতে হাসতে বলে –
–‘ হ্যা ঠিক বলেছিস,কিন্তু সেই শান্তির বড় অভাব ভাই।তুই তো ভালো করে জানিস,সেই শান্তির ছোট বেলা থেকেই তোর অভাব।
এবার প্রণয় ও হাসলো, বিষণ্ণ মুখে চেয়ে রইলো আকাশ পানে।
–‘এত ঝা/মেলা আমাট আর ভালো লাগছে না,নিতে পারছি না ভাই।
ভা’ঙা কণ্ঠে হঠাৎ বলে উঠলো মুগ্ধ।মুগ্ধর কাধ জড়িয়ে ধরলো প্রণয়। তার মনের অবস্থা সে জানে অথচ তার বোন ই বুঝল না আবার সে নাকি ভালোবাসে তাকে?
–‘শুনুননন
সূচনাার ডাকে খানিক হকচ/কিয়ে উঠলো প্রণয়।হক/চকানো কণ্ঠে ই জিজ্ঞেস করলো-
–‘এত চিৎ/কার কেন করছো?
–‘কতবার ডেকেছি তা শুনেছেন?
–‘সরি..খেয়াল করিনি।
–‘এতক্ষণ ধরে কী ভাবছিলেন?
–‘কিছু না।
–‘ হ্যা তা বলবেন কেন?
–‘রা/গ করছো?
–‘রা/গ করতে যাব কেন?বলবেন না বলেছেন বলবেন ই না, আমি তো আর আপনাকে জোর করতে পারবনা কিন্তু আপনি ঠিকই জোর করেন।হুহ।
প্রণয়ের এবার হাসি পেল খানিক।সে সোফায় বসেছিল আর তার সামনে দাড়ানো সূচনা। অন্য দিকে মুখ বা’কিয়ে দাড়িয়ে আছে সে।একটু সরে যেয়ে বসার জায়গা করে দিল প্রণয়। তারপর হাত দিয়ে ইশারা করল সূচনাকে। বললো-
–‘বসো।
সূচনা পূর্বের ন্যায় মুখ বা’কিয়ে বললো-
–‘বসব না।
–‘আরে বসো।
–‘আমি বসব না এখানে।
–‘তাহলে আমার কোলে বসো।কী বলো আসো।
চোখ মে/রে বললো প্রণয়।বিনা কোনো শব্দ প্রয়োগে ধ’প করে বসে পড়লো প্রণয়ের পাশে।তার দিকে ঘুরে
বসলো প্রণয়।আলতো স্পর্শে মুঠোবন্দি করলো সূচনার দু হাত।সূচনা কিছু টা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো।এর মাঝে প্রণয় জিজ্ঞেস করলো-
–‘তুমি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলে কেন?
কণ্ঠ প্রগাঢ় প্রণয়ের।সূচনা থতমত খেয়ে গেল সাথে ভীতি সৃষ্টি হলো মনে।হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন করছে প্রণয়?
–‘এত অপ্রস্তুত হতে হবে না,ভ’য় পাচ্ছ কেন?বলো।
…..
–‘বলো..
–‘আ…আব্বুর কথায়।
–‘বিয়ে করেছো বাবার কথায় কিন্তু আমাকেই কেন বিয়ে করেছো সেটা বলো।
কয়েক মিনিটের নীরবতা অতঃপর সেই নীরবতা কে দূরে ঢে/লে দিয়ে সূচনা সহসা বলা শুরু করলো-
–‘ আপনার সাথে প্রথম দেখা যেদিন হয়েছিল সেদিন আমার কাছে আপনি ছিলেন সম্পূর্ণ অচেনা, অপরিচিত একজন কিন্তু দ্বিতীয় বারের দেখায় সে অচেনা বা অপরিচিত এর ভাবটা আসে নি।আপনার কথাগুলো সহজভাবে বোধগম্য হয়েছে।আপনি আব্বুর অনেক বেশি পছন্দের ও আর আব্বুর পছন্দের ওপর বা তার নেয়া সিদ্ধান্তে আমার সন্দেহ ছিল না তাই রাজি হয়েছি।শুরুতে দ্বিমত করেছি কিন্তু সেটা আপনাকে নিয়ে না, আমি এখনই বিয়ে করতে চাইনি।কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি পারবনা সামলাতে,বিয়ে নামক এক বন্ধন,কত-শত দায়িত্ব এতকিছু নিতে পারবনা আমি তাই।কিন্তু…কিন্তু আপনি এই অব্দি আলহামদুলিল্লাহ ভালোভাবে চলছে সবকিছু।
–‘সবকিছু ভালোভাবে চলছে?
–‘চলছে তো।
–‘মেনে নিতে পারছো?
নীরবতা আবার,, কিন্তু টিক/ল না বেশিক্ষণ। সূচনা স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিল-
–‘ একটু একটু সমস্যা হচ্ছে কিন্তু আপনি সাহায্য করলে সেই সমস্যা ও আর হবে না।
–‘আমার একার চেষ্টায় হবে?
–‘একা কেন আমি ও করব।
–‘বেশ তবে,,চলো চেষ্টা করি।(চোখ মে/রে)
–‘ছি/হ।
–‘আরে মজা করছি কিন্তু আস্তে আস্তে হবে তো।
–‘আপনি একথা জিজ্ঞেস করেছেন কেন সেটা বলেন।
–‘এমনি।তুমি আমার কথাগুলো বুঝেছিলে কারণ বুঝতে এফোর্ট দিয়েছ বা মন দিয়ে শুনেছো কিন্তু ইরা মুগ্ধর কথাগুলো বুঝতে পারছে না।বোঝার চেষ্টাই করছে না।তার মতে সে যা ভাবছে বা দেখেছে একমাত্র সত্যি। কিন্তু সত্যি সেটা না,বোঝাবে কে?
–‘একটু সময় দিন, ধৈর্য ধরতে বলুন ভাইয়াকে। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
–‘হুম।
–‘আচ্ছা ইরা আপনার বোন সেটা ভাইয়া আগে জানতেন না?
–‘না।মুগ্ধ আর আমি কলেজ থেকে একসাথে আছি।কিন্তু আমাদের মধ্যে পরিবার নিয়ে আলোচনা হত না।দুজনই পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম।আমার বোন আছে সেটা জানত কিন্তু ইরাই যে আমার বোন তা জানত না।কয়েকদিন বলেছে তার একজনকে ভালো লাগে কিন্তু জিজ্ঞেস করলে বলত -‘এক তরফা ভাই ঔদিক থেকে সাড়া পাই তারপর বলব।মুগ্ধ ই কোনভাবে জানতে পেরেছে যে ইরা আমার বোন আর সেদিনই আমাকে জানিয়েছে।
–‘আপ/ত্তি জানালেন না কোনো?
–‘কারণ মুগ্ধ যে তাই, মুগ্ধর জায়গায় অন্য কেউ হলে জানাতাম কিন্তু মুগ্ধ কে আমার থেকে ভালো চিনে না কেউ।
–‘আচ্ছা।
–‘হুম।
–‘শুনুন আমার মাথায় বুদ্ধি এসেছে একটা।
–‘তোমার মাথামোটা মাথায় বুদ্ধি ও আসে?বাহ বাহ।
–‘অপমান করছেন?
–‘না তো। প্রশংসা করলাম।
–‘হুহ
–‘প্ল্যান বলো।
–‘বলবনা।
–‘বলবে নাকি?
প্রণয়ের চোখ রা/ঙানি তে দমে গেল সূচনা।মুখ ভার করে বললো-
–‘আরে বলছি বলছি।
#চলবে
#প্রণয়ের_সূচনা
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_৩৮
____________________________
–‘ঘুমাও না কেন?
বিছানার ওপর এক কোণে দুই পা ভাজ করে বসে আছে সূচনা।সাড়ে বারোটার বেশি বাজে রাত।সূচনার হাতে থাকা ফোনে সময় পরখ করছে মিনিট কয়েক পরপরই। আর বির/ক্তিতে ছেয়ে যাচ্ছে মুখ।প্রণয়ের প্রশ্ন কানে আসতেই তার দিকে তাকিয়ে সূচনা জবাব দিল-
–‘ম্যাচ দেখব, আজকে আর্জেন্টিনা আর পোল্যান্ডের ম্যাচ আছে না।
প্রণয় বুঝি অবাক হলো নাকি ভা’ন ধরলো শুধু। কে জানে?কিন্তু অবাক হওয়ার ভ/ঙ্গি করে জিজ্ঞেস করলো-
–‘তুমি ফুটবল ও দেখো?
সূচনা ভাবলেশহীন ভাবে বললো-
–‘ না দেখার কি আছে?আব্বু আর আমি একসাথে খেলা দেখতাম, শুধু ফুটবল বিশ্বকাপ ই না, বিভিন্ন ক্লাবের ম্যাচ গুলোও দেখতাম,আম্মু তো ঘুমে বি/ভোর থাকতো আর এদিকে আমি আর আব্বু রাতে বসে বসে খেলা দেখতাম।ক্রিকেট ও দেখি আমি।
–‘বাহ, বাহ।এটা তো জানতামই না।
–‘কারণ আগে কখনও জিজ্ঞেস করেননি।
–‘হুম।ফেসবুকে একটা পোস্ট দেখেছিলাম জানো?
–‘না বললে জানব কীভাবে?
–‘শোনো তাহলে চুপচাপ। পোস্টটা ছিল- তোমরা মেয়ে তোমরা খেলবে ছেলেদের মন নিয়ে, তোমরা কেন খেলা নিয়ে মা/তামাতি করবে।
–‘ছি/হ কীসব ছে/ছরামো কথাবার্তা আর আপনার কী মনে হয় ফেবু আপনি একাই ব্যবহার করেন?ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন পোস্ট টা ছিল- তোমরা ছেলে তোমরা খেলবে মেয়েদের মন নিয়ে, তোমরা কেন খেলাধুলা নিয়ে প/ড়ে থাকবে?কী সব আজা/ইরা পোস্ট,ছেলেরা খেলা নিয়ে থাকবে না তো কে থাকবে?যত্তসব।আপনার সাথে আমি এগুলো নিয়ে কথাই বা বলছি কেন?সরুন সরুন, খেলা শুরু হয়ে গেল।
বিছানা থেকে তড়ি/ঘড়ি করে উঠে সোফায় বসে ল্যাপ্টপ অন করলো সূচনা।প্রণয় ও বিছানা থেকে উঠে পড়লো, বললো-
–‘তুমি থাকো ,চুপচাপ বসবে,আমি একটু আসছি।
–‘তাড়াতাড়ি আসুন।
–‘হুম।
প্রণয় উঠে চলে গেল ব্যালকনিতে।ট্রাউজারের পকেট থেকে কোন বের করে কল করলো মুগ্ধ কে।অনেকটা সময় নিয়ে ফোন রিসিভ করলো মুগ্ধ। প্রণয় তাই প্রশ্ন করলো-
–‘এত দেরি করলি কেন ফোন রিসিভ করতে?কোথায় ছিলি?
–‘ওয়াশরুমে, আওয়াজ পেয়েছি কিন্তু শাওয়ার নিচ্ছিলাম তাই বের হতে দেরি হয়েছে।
–‘ঠান্ডার মধ্যে এত রাতে শাওয়ার নিয়েছিস এমনিতেই তো ঠান্ডা পিছু ছাড়ে না।
–‘ক/বর স্থানে গিয়েছিলাম,তারপর ঘুরেছি অলি গলিতে, বাসায় আসতে তাই দেরি হয়ে গেছে।
–‘আমাকে নিলি না কেন?
–‘ভাবিনি যাব কিন্তু হুট করে ইচ্ছে হলো।
–‘আচ্ছা।
প্রণয় এ ব্যাপারে আর ঘা/টালো না।টুকটাক কথা বলে রেখে দিল,ফিরে আসলো রুমে।তাকে দেখে সূচনা ভ্রু নাড়ি/য়ে জিজ্ঞেস করলো-
–‘কী করছিলেন?এতক্ষণ লাগে?
–‘আমার ফ্রেন্ড কল দিয়েছিল,কথা বলছিলাম তার সাথে।
–‘ওহ।
–‘খেলার কী অবস্থা?
–‘আসুন,দেখুন।
সরে যেয়ে প্রণয়কে বসতে জায়গা করে দিল সূচনা।
খেলা দেখতে দেখতে প্রণয় বললো-
–‘শুধু শুধু দেখছি হা/রবে তারা।
–‘বা/জে ব/কবেন না একদম।চুপচাপ দেখুন।দেখে দেখে একটা ব্রাজিল সাপোর্টার করা বর খুঁজেছে আব্বু। খুজবেই বা না কেন,সে ও তো ব্রাজিল সাপোর্টার তাই খুজেছে ও একটা অমনই।
শেষের কথাগুলো বিড়বিড় করে বললেও প্রণয় একেবারে পাশে থাকায় শুনে ফেলেছে সে।ল্যাপ্টপের স্ক্রিনে চোখ রেখেই প্রণয় বললো-
–‘ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার।
সূচনা চ/ট করে প্রণয়ের দিকে তাকালো।খুশিতে আটখানা হয়ে বললো-
–‘সত্যি? উফফ কী যে শান্তি লাগছে, এতদিন আব্বু আমি একসাথে খেলা দেখলেও দুজন দুই টিমের সাপোর্টার ছিলাম।আব্বুকে তো আর বেশি কিছু বলতে পারতামনা, চুপচাপ খেলা দেখতে হতো।এবার জম/বে বেশ আপনি আর আমি একসাথে মিলে খেলা দেখব।ভাবতেই ভাল্লাগছে।
–‘সত্যি?
–‘হুম।
________________________
দাঁত দিয়ে নখ কা/মড়া/চ্ছে সুচনা।হাফ টাইম পার হয়ে গেছে অথচ গোল হয়নি।এখনও টেনশনে বেচা/রির কাঁদো কাঁদো অবস্থা।আজকে হারলে যে সাদা আকাশী রঙের জামাটায় ফুটবলে আর রাজত্ব করতে দেখা যাবেনা মেসিকে।এই এক কারণে কান্না করে দিবে দিবে অবস্থা সূচনার।কিন্তু তার চি/ন্তার অবসান ঘ/টলো।গোল হয়েছে।খুশিতে লা/ফিয়ে উঠে চেঁচি/য়ে উঠতেই মুখ চে/পে ধরলো প্রণয়।বললো-
–‘মাথা খা/রাপ হয়ে গেছে?চেঁ/চাচ্ছো কেনো?
সূচনা চুপ।
–‘বলছোনা কেনো?
সূচনা এবারও চুপ।সূচনার মুখের উপর নিজের হাত দেখে মাথায় আসলো প্রণয়ের।বলবে কি করে?মুখ তো আ/টকে রেখেছে।হাত সরিয়ে দিলো প্রণয়।সূচনা দাত কি/ড়মি/ড় করে বললো-
–‘মুখ চে/পে ধরলে বলবো কি করে?
প্রণয় কাঁ/চুমাচু স্বরে বললো-
–‘খেয়াল ছিলো না।
–‘আপনি কথায় কথায় মুখ চে/পে ধরেন কেনো এত?কবে যেনো দম ব/ন্ধ হয়ে উপরে চলে যাই আমি।
–‘বা/জে না ব/কে খেলায় মন দেও।
–‘হু।
খেলায় মনোযোগ দিল দুজন কিন্তু চি/ন্তা এক র/ত্তিও কমেনি। একটা গোল যেকোনো সময় শোধ করে দিবে,আরেকটা গেল দিলে জয় নিশ্চিত। বলতে না বলতেই দ্বিতীয় গোল।সূচনা চে/চাবে সে জন্য তার মুখ চে/পে ধরতে উদ্যত হলে প্রণয়কে থামিয়ে দিল সূচনা।বললো-
–‘চে/চাব না।চিল।
–‘গুড।
.
.
বাঁশি বে’জে উঠলো রেফারির।খেলা শেষ, উল্লাসে মেতে উঠলো পুরো দল, সাথে সূচনাও,তবে শব্দহীনভাবে।চোখ ঝা/পসা হয়েছে তার আনন্দে।প্রণয়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে খো/চানির স্বরে বললো-
–‘হেহ হেহ কে যেন বলছিল হারবে?কই সে?
প্রণয় বুঝলো,বললো-
–‘আমি ঔ কথা বলেছি তাই তো জিতেছে নাহলে হার/তোই।
–‘এহহ আসছে অনেক হয়েছে এবার অফ করেন,ঘুমাব। আজকে শান্তির ঘুম ঘুমাব।হাহ!
প্রণয় মুখ বা/কিয়ে বললো-
–‘আর্জেন্টিনা জিতেছে তার জন্য এত শান্তি আর পাশে যে কেউ অ/শান্তি তে আছে তার খবর কে রাখে?
সূচনার মুখটা চুপসে গেল,কাচু/মাচু মুখে চো/রা দৃষ্টিতে প্রণয়কে দেখলো।নিচু স্বরে বললো-
–‘সরি।
এক ভ্রু উপরে তুলে প্রণয় জিজ্ঞেস করলো-
–‘কেন?
বলতে পারলোনা সূচনা।কেন সরি বলেছে সে?সে নিজেও জানে না,শুধু প্রণয়ের কথায় খা/রাপ লেগেছে তাই বলে দিয়েছে। প্রণয় পুনরায় জিজ্ঞেস করলো-
–‘কেন বলো?
–‘এমনি।
সূচনার কা/চুমাচু মুখ দেখে প্রণয় স্ব শব্দে হাসলো।হাসি বজায় রেখেই বললো-
–‘মজা করছিলাম আমি,মেয়ে তুমি বড়ই বো/কা।
বিনিময়ে জো/র পূর্বক হাসলো সূচনা।বললো-
–‘ইরার ব্যাপারটা নিয়ে টেনশন করছেন?করিয়েন না,আমি যে প্ল্যান করেছি তাতে কাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।আর নাহলে ও আরেকটা রাস্তা খুজে নিব ইনশাআল্লাহ। বিশ্বাস রাখুন।
–‘আছে,থাকবে না কেন?রাত তিনটা বাজে এখন বাদ দাও এসব।ঘুমাও।
–‘হ্যা।
________________________
কুয়াশার চাদরে মোড়া সকাল | সূর্যের মুখ দর্শন হয়নি এখনও | কুয়াশার চাদরে লুকি/য়ে আছে বোধহয়|বলা হয় শীত হিমশীতল ঋতু,বি/বর্ন ও বটে।ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চি/ন্তিত ভঙ্গিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে সূচনা।চিন্তার কারন ইরা।এই মেয়ে আবার রুমে লেগে গেছে আগের মতো। তাকে বুঝাতে হবে সব প্ল্যান অনুযায়ী। কিন্তু সে তো কথাই বলছেনা।
–‘কি এত ভাবছো.?
আচমকা করা প্রশ্ন, কি/ঞ্চিত কে/পে উঠলো সূচনা।পাশ ফিরলে দেখা মেললো প্রনয় এর।তাদের দৃষ্টি এক হলো না।প্রনয় সামনের দিকেই তাকিয়ে।সূচনা ও পুনরায় সামনে তাকালো।স্বাভাবিক কন্ঠে শোধালো-
–‘ ভাবছি ইরার সাথে কিভাবে কথা বলবো।
–‘এত প্রে/শার নিও না আমি কথা বলব নি।
–‘আপনি জানেন সেটা জানার পর ই ও মুগ্ধর ওপরে এতটা ক্ষে/পেছে ও।এখন যদি আপনিই তাকে বুঝাতে যান ব্যাপারটা কেমন দাড়াবে বুঝতে পারছেন?
-তা ঠিক বলেছো।কিন্তু করবে কি?
-আমিই বলবো সুযোগ বুঝে।
-ঠিক আছে আমি অফিসে যাবো আজকে।আসো।
-সব গুছিয়ে দিয়েছি আমি।
-তো?
-তো কি?
-প্রনয় চোখ পা/কিয়ে তাকাতেই সূচনার যা বুঝার বুঝা হয়ে গেল।দ্রুত পা মেলালো প্রণয়ের সাথে।যাওয়ার আগে আগের ন্যায় কথাটা বলাতে সূচনাকে বলতে হয়নি।সূচনা দরজাায় দাড়িয়ে নিজে থেকেই বলেছে-
–‘যেয়ে তাড়াতাড়ি আসুন।
বিনিময়ে মুচকি হেসে বেড়িয়েছে প্রণয়।
________________________
দুপুর দেড়টা।লাঞ্চ টাইমে মুগ্ধকে কল করলো প্রনয়।রিং হচ্ছে একবার,দু’বার, তিনবার এর সময় রিসিভ করলো মুগ্ধ।
–‘হ্যালো….
বি/রশ কণ্ঠ মুগ্ধর।যদি ও সে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলার চেষ্টা করলে ও প্রণয় ধরে ফেলবে।তাই চেষ্টা করাটা বৃথা।
–‘কেমন আছিস?
ঘো’ড় ভা/ঙলো মুগ্ধর।বললো-
–‘আলহামদুলিল্লাহ। তুই?
–‘আলহামদুলিল্লাহ।ফ্রি আছিস আজকে? এখন কোথায় তুই?
–‘ডা.আনান সিদ্দিকির মা/র্ডার কেস নিয়ে ব্যস্ত একটু।
–‘মা/র্ডার কেস? সে না সুই/সাইড করেছে?
–‘ভেবেছিলো কিন্তু ইনভেস্টিগেশন করে দেখা গেছে উনি সুই/সাইড করেননি,সেটা নিয়েই কাজ চলছে।
–‘ওহ আচ্ছা।খু/নি কে পেয়েছিস?
–‘পেয়েছি।
–‘আচ্ছা, ভালো কাজ করছিস তুই।দেখা করতে পারবি?
–‘আজকে?
–‘হ্যা।
–‘পারব কিন্তু বিকেল হবে।
–‘স/মস্যা নেই।
–‘ঠিক আছে তাহলে সময় আর জায়গা বলে দিস।
–‘আচ্ছা।
__________________________
–‘ইরা মুগ্ধ চট্টগ্রাম চলে যাচ্ছে একেবারের জন্য।
জানালার কাছে বই হাতে বসেছিল ইরা।হাতে বই থাকলেও দৃষ্টি ছিল বাইরে আর মন সে তো অন্যের পা/ড়া তেই পড়ে ছিল।আনমনা হয়ে বসে থাকা ইরার কানে উক্ত কথাটুকু আসতেই সে ত/ড়িৎ গতিতে সামনে তাকালো।শোনার ভু/ল মনে করে আবার জিজ্ঞেস করলো-
–‘কী বললে বুঝিনি?
–‘মুগ্ধ পুলিশে জয়েন হয়েছে, তার জন্য চট্টগ্রাম চলে যাচ্ছে একেবারে।
বু/ক ধ্ব/ক করে উঠলো ইরার।কোনোমতে জিজ্ঞেস করলো-
–‘একেবারে চলে যাবে মানে?আর ফিরবেন না?আর তোমাকে কে বললো?
–‘তোমার ভাইয়া বলেছেন,একেবারেই চলে যাবে কিন্তু কবে ফিরবেন বা আদৌও কখনো ফিরবেন কি না তা বলেননি।
ইরা এবার আর পারলো না, জানালার ধার থেকে উঠে এসে সূচনার সামনে দাড়িয়ে পড়লো। কান্না করে দিল একদম,ভা/ঙা কণ্ঠে বললো-
–‘একেবারে চলে যাবেন কেন?ভাবি আমার কী হবে তাহলে?আমি থাকব কীভাবে?
–‘কেন তুমি থাকতে পারবে না কেন?সে তো তোমার কেউ না।
–‘ভাবি।
–‘তুমিই তো বলেছো কালকে।
–‘আমি দেখা করব ওনার সাথে।
–‘ওনাকে সামনে আসতে না করেছিলে কাল।আর তোমার মনে হয় সে তোমার সাথে দেখা করবে।
–‘আমি মা/ফ চাইব দরকার হয় তবু ও দেখা করব।
–‘সে মা/ফ করে দিবে?
–‘জানিনা,আমি কিচ্ছু জানিনা, শুধু দেখা করবে ওনার সাথে।
–‘আমি কিছু জানিনা।
–‘ভাবি প্লিজ।
#চলবে
#প্রণয়ের_সূচনা
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_৩৯
________________________________
অপ/রাধীর ন্যায় নত মস্তকে দাঁড়িয়ে আছে ইরা।তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ।তাদের দুজন থেকে কিঞ্চিৎ দূরত্ব নিয়ে দাড়িয়ে আছে প্রণয় আর সূচনা।একটা পার্কের মধ্যে অবস্থান করছে এখন তারা। প্রণয় মুগ্ধ কে এখানেই ডেকেছিল।কিন্তু এখানে আসার পর যে ইরার দেখা মিলবে ভাবতে পারেনি মুগ্ধ। অবাকের পাশাপাশি প্রশ্ন ও জাগছে,ইরা কেন এসেছে এখানে?আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতে অন্য দিকে মুখ ঘু/রিয়ে থম/থমে গলায় মুগ্ধ জিজ্ঞেস করলো-
–‘আমাকে এখানে কেন ডেকেছিস প্রণয়?
জবাব এলো না,আসবে কিভাবে?প্রণয় তো নেই এখানে।সে জানত মুগ্ধ তাকে এই কথা জিজ্ঞেস করবে তাই আগেই সরে গিয়েছে। তারা থাকলে কথা এগোবে কি করে?মুগ্ধ জবাব না পেয়ে পাশ ফিরে তাকালো কিন্তু সেখানে তো কেউ নেই।সে বি/চলিত হলো,সাথে অস্ব/স্তি ও কাজ করলো ইরার সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে।ইরাকে কিছু জিজ্ঞেস করার ও ইচ্ছে বা সাহ/স কোনোটাই হলো না।যদি আবার কিছু বলে দেয়, যা তার জন্য শোনা আর মানা ক/ষ্ট সাধ্য।মুগ্ধ চুপ করে থাকলো,স্বরের নীরবতা টি/কে থাকলেও হৃদকোমলে শুরু হলো ঝ/ড়।মুগ্ধর হৃ/দস্পন্দ/ন বেড়ে গেল কয়েকগুণ। ইরার আচমকাই ঝা/পটে ধরেছে তাকে।আচ/মক ঘটা ঘটনায় ভ/ড়কে গেল মুগ্ধ,পিছিয়েও গেল দু-তিন কদম।তড়িঘড়ি করে ইরার দু বাহু ধরে সরানোর চেষ্টা করতে করতে বললো-
–‘মিস.ইরা কী করছেন এসব?ছাড়ুন।
ইরার হেলদোল নেই কোনো।মুগ্ধ কয়েকবার তার কথার পুনরাবৃত্তি করলো।কিন্তু ইরা তার মতোই ঝা/পটে ধরে রেখেছে মুগ্ধ কে,অনবরত কান্না করছে ইরা।মুগ্ধ এতক্ষণ হাত শ/ক্ত করে মুঠ করে রেখেছিল কিন্তু ইরার বে/হাল দশা তার মনকে অ/শান্ত করে দিয়েছে একদম,প্রেয়সীর এমন কান্না তার বু/কের ভেতরের শুরু হওয়া ঝ/ড় কে তীব্র হতে তীব্র করেছে। মনকে শ/ক্ত করে রাখতে পারেনি মুঠ করা হাত তার নরম হ’য়েছে।আস্তে আস্তে যেতে যেতে ইরার পিঠের ওপর যেয়ে থেমেছে হাত জোড়া।তার হাতের স্পর্শ পেয়ে যেন ইরা মোমের ন্যায় গ/লে গেল,কান্নার পরিমান বাড়লো,এতক্ষণ নিঃশব্দে কান্না করলেও এবার সুর উঠে গেল কান্নার,হিচ/কি তুলে দিল কান্না করতে করতে। মুগ্ধ দুইবাহু ধরে সোজা করে দাড় করালো ইরাকে,দুই গালে হাত রেখে কোমল গলায় জিজ্ঞেস করলো-
–‘এভাবে কেন কাদছেন?ম/রে যাইনি তো আমি।
ইরা চ/মকে উঠলো,কাঁদতে কাঁদতে বললো-
–‘এভাবে কেন বলছেন?
–‘কীভাবে বললাম?আপনি এই অসময়ে কেন দাড়িয়ে আছেন আমার সাথে?তাও একা।ভ/য় লাগছে না?আমি এক অপরিচিত ছেলে, আপনি অপরিচিত একা
একটা মেয়ে। মোটেও ভালো কথা না।
–‘ইচ্ছে করে এমন করছেন,আমি একা এসেছি নাকি,আপনি দেখেননি ভাইয়া ভাবি কে?বুঝতেও পারছেন সব তাহলে কেন ভান করছেন?
–‘কী বুঝতে পারছি?
–‘মুগ্ধ প্লিজ এমন করবেন না।আমি অনেক ল/জ্জিত আমার কালকের ব্যবহারে।প্লিজ আপনিও অমন ব্যবহার করবেন না।আপনি সহ্য করতে পারেন কিন্তু আমি পারবনা।
–‘শুধু কালকের ব্যবহারে?এর আগে যা করেছেন তার কী হবে?টানা এক মাস প্রণয়ের দহ/নে পু/ড়েছি, প্রতিক্ষণে ক্ষ/ত বিক্ষ/ত হয়েছে হৃ/দয়। তার হিসেব কে দিবে?কে নিবে দায়ভার?
ইরা করুণ চোখে তাকালো, করুণ স্বরে ই বললো-
–‘শুধু কী আপনার হৃ/দয়ে ক্ষ/ত হয়েছে? আমি বুঝি শান্তি তে ছিলাম?
–‘যখন আমার আপনাকে ভীষণ প্রয়োজন ছিল,আপনার কাধে মাথা রেখে নিজের দুঃ/খ প্রকাশ করার বর প্রয়োজন ছিল তখন আমি আপনার অ/ভিমান ভা/ঙাতে ব্যস্ত ছিলাম।একটা মানুষের পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন মানুষ টা যখন চিরতরে বিদায় নেয় তখন তার অবস্থা কেমন হয় ভাবতে পারেন?আমার অবস্থা তেমনই হয়েছিল,আপনার প্রয়োজন ছিল কিন্তু পাইনি।তখন ম/রিয়া হয়ে গিয়েছিলাম শুধু মাত্র এক নজর আপনাকে দেখার জন্য।তা কি কম?
–‘মা,,মানে?ক,,কে চিরতের বিদায় নিয়েছে?কী বলছেন এসব?
_______________________________
খোলা মাঠে ঘাসের ওপর বসে আছে সূচনা আর প্রণয়।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে প্রায়।সূচনা নজর ছিল দুজন কপোত-কপোতীর ওপর,তারাও ঘাসের ওপর বসে আছে তাদের মতো,তাদের থেকে অনেকটা দূরে তারা।মেয়েটা ছেলেটার কাধে মাথা রেখে বসে আছে।সুন্দর লাগছে দেখতে, দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাদের মধ্যে ভালোবাসার কমতি নেই।
শীতের প্র/কোপে জমে যাওয়ার উপক্রম হত সূচনার।ভাগ্যিস প্রণয় বলেছিল সুয়েটার পড়ে নাও,তাই এখনও পর্যন্ত ঠিকঠাক আছে।
–‘তোমার কী মনে হয় কাজ হবে?
প্রণয়ের প্রশ্ন কানে আসতেই সূচনা তাকালো তার দিক।নিজের ভাবনা একপাশে রেখে বললো-
-হবেনা কেনো? অবশ্য ই হবে।
-হলে তো ভালোই।
-হুম,হবে হবে বিশ্বাস রাখু।আচ্ছা আপনার অন্যরকম লাগছেনা কেমন? আপনি বড় ভাই হয়ে বোনের…
-লাগছে এখন।
-তবে ব্যাপার টা দারুন ইরার জন্য।সে ভাগ্যবতী কতো!
কিছু বললো না প্রণয়,স্বল্প পরিসরে হাসলো শুধু। সূচনা ও আর কিছু বললো না। পূর্বের ন্যায় তাকিয়ে রইলো আড়চোখে সামনের সেই কপোত-কপোতীদের দিকে।
-ওখানে তাকিয়ে থেকে কি লাভ?চাইলে আমরা ও তো এভাবে বসতে পারি।
সূচনা গলা খাঁকা/রি দিয়ে বললো।
-আপনাকে কে বলেছে, আমি ওইদিকে তাকিয়ে ছিলাম?
-আমার তো আর চোখ নেই যে দেখবো।
-বেশি দেখা ভালো না।
-কিছুই তো দেখলাম না এখনো।
-কি দেখবেন! এখানে দেখাদেখির কি আছে?
-এখানে দেখাদেখির কি থাকবে! ঐসব কি এসব জায়গায় হয় যে বলবো।
–‘কোনসব এসব জায়গায় হয়? কিসব বলছেন?আপনার মাথা দিনদিন খা….
সূচনা থেমে গেল,থ/ম মা/রা দৃষ্টি নিয়ে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো কিয়ৎপল। অতঃপর চোখেমুখে ল/জ্জার রেশ টের পেতেই দৃষ্টি নত করে নিল। প্রণয় নিজের জায়গা থেকে সড়ে এসে গা ঘে/ষে বসলো সূচনার। তাদের মধ্যে থাকা কিঞ্চিত পরিমান দুরত্বটাও মিটে গেল এবার।প্রণয়ের স্পর্শে সূচনা কে/পে উঠলো।
–‘এমন এক দিন আসবে যেদিন আমাদের ও এমন মুহুর্ত হবে।শুধু এই মুহুর্ত টাই না, প্রণয়ী চাইলে প্রণয় এমন হাজারো মুহুর্ত গড়তে রাজি শুধু প্রণয়ীর অনুমতির বাকি।
হিমশীতল আবহাওয়া আর নিস্তব্ধতায় ঘেরা পরিবেশে প্রণয়ের গাঢ় কণ্ঠে বলা কথাগুলো শুনে শিউ/রে উঠলো সূচনা।কেমন যেন ঘো/র লাগা কণ্ঠ তার।প্রণয়ের কথা অনুযায়ী চোখ বন্ধ করে নিজেদের কে কল্পনা করলো সেই জায়গায়।সেই সময়টায় তাদের কেমন লাগবে?কেমন হবে মুহূর্ত টা?দুজনের অনুভূতি কেমন হবে?ইশশশ লজ্জা!সাথে সাথে চোখ খুলে ফেলল সূচনা।প্রণয় শান্ত চোখে তার দিকে ই তাকিয়ে আছে।
____________________________
–‘আম্মু মা/রা গেছে আজ এক মাস হয়ে গেছে।
মুগ্ধর মুখ থেকে উক্ত কথাটা শুনে ইরা স্ত/ব্ধ হয়ে গেল একদম।প্রতিক্রিয়া দেখাতেও ভুলে গেল,ট/লম/লে চোখ নিয়ে মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে রইলো। মুগ্ধ নিজের মতো করে বলা শুরু করলো-
–‘আম্মু অনেক খুশি ছিল আমার পুলিশে জয়েন হওয়ার খবর শুনে।সুস্থ ছিল পুরোপুরি।সেদিন বিকেলে যখন ফোন দিয়ে জানালাম জয়েন হওয়ার জন্য ডেট ও ফিক্সড হয়ে গেছে, অনেক খুশি ছিল, হাসতে হাসতে বলছিল-
–‘ তাড়াতাড়ি বাসায় আসবি,তোর সব পছন্দের খাবার রান্না করে রাখব আমি।
আমিও হাসিমুখে রাজি হয়েছি,নিষে/ধ করিনি।স্বপ্ন টা তো আম্মু ই দেখিয়েছিলেন,সেই স্বপ্নের পূরণ হওয়ার খবরে খুশি হওয়াটা স্বাভাবিক বৈকি।সন্ধ্যার দিকে বাসায় যেয়ে দেখলাম সদর দরজা হা*ট করে খুলে রাখা,ভেতরে যেয়ে সোজা রান্নাঘরে ঢুকলাম,আম্মু ছিল না কিন্তু তার কথা মতো আমার পছন্দের সব খাবার ঠিকই রান্না করেছিলেন।রান্না ঘরের অবস্থাও বা/জে ছিল।পুরো বাসা খুজেও কাউকে পেলামনা।ভ/য় আস্তে আস্তে গ্রাস করতে লাগলো যখন তখনই কল আসলো ফোনে।আব্বুর নাম্বার থেকে,রিসিভ করার পর শুধু কানে এতটুকু কথাই এসে পোঁছায় –
–‘মুগ্ধ তোর আম্মু আর নেই।
সারা শরীর অব/শ হয়ে গিয়েছিল, নড়া/র শক্তিটুকু ও পাচ্ছিলাম না।কিন্তু হঠাৎ মাথায় আসলো -আমাকে যেতে হবে আম্মুর কাছে।প্রণয়কে কল দিলাম কোনোমতে।আব্বুকে ফোন দিয়ে হসপিটালের এড্রেস ও ই জেনেছে।ড্রাইভ করার বিন্দুমাত্র শক্তিটুকুও ছিল না হসপিটালে নিয়ে গিয়েছে প্রণয়ই।হসপিটালে পোঁছালাম,সারি করে রাখাা চেয়ারে নজর যেতেই দেখলাম আব্বুর বি/ধ্বস্ত চেহারা৷পাথর হয়ে যাওয়া শরীরটা কে কোনোমতে টে/নে নিয়ে আব্বুর সামনে বসলাম।আব্বু প্রতিক্রিয়া দেখাননি কোনো।নির্লিপ্ত কণ্ঠে কিছু কথা বললো,জানালো।আব্বু সেদিন তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরেছিলেন,বাসায় যেয়ে দেখলেন আম্মু কেমন যেন করছেন,আম্মুর অস্থি/র লাগছিল অনেক,আব্বু হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার বললেন,আম্মু বিদায় নিয়েছেন।ব্রে/ন স্ট্রো/ক করেছিলেন আম্মু।
শেষের কথা বলতে যেয়ে কণ্ঠস্বর কে/পে উঠলো মুগ্ধর।স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কান্না আ/টকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে মুগ্ধ। ছেলেরা সহজে কাদে না,খুব বেশি কিছু না হলে তাদের চোখ থেকে পানি কপোল গড়িয়ে পড়ে না।সেখানে নিজের মাকে হারিয়েছে মুগ্ধ, কান্না করাটা তো অস্বাভাবিক না।ইরা নিজেও কাদছে,সে আখি জোড়া মুছে অস্ফু/টস্বরে বললো-
–‘ সেই সময়টায় আমি আপনার সাথে কতকিছু করেছি, তার জন্য আপনার আমাকে ঘৃ/ণা করা উচিত। আপনার সামনে দাড়ানোর যোগ্যতা ও আমার নেই।আমি অনেক খা/রাপ, অনেক খা/রাপ নাহলে কখনোই এমন করতে পারতামনা। আমি আপনাকে বুঝতে পারিনি,কতটা অধ/ম আমি।আমিও আম্মুকে হারিয়েছি কিন্তু অনেক ছোট বেলায়, ছবি না দেখে থাকলে তো এখন চিনতামই না,জানতাম ও না আমার আম্মু কে?আম্মুর সান্নিধ্য পেয়েছি খুব কম সময়,তাই আপনার আম্মুকে হারানোর পর আপনার সেই সময়ের অবস্থা,কষ্ট আমি বুঝবনা কিন্তু একটু হলেও অনুধাবন করার শক্তি আছে।সেই সময়ে আমার কাজ গুলো আপনার সেই ক্ষ/তের সাথে যোগ হয়ে আপনাকে আরও ক/ষ্ট দিয়েছে।
–‘ঘৃ/ণা করে দূরে সরিয়ে দিলে ই শুধু শা/স্তি দেয়া যায় এমন কোনো নিয়ম আছে? কাছে রেখেও শা/স্তি দেয়া যায় তাও প্রতিক্ষণে, প্রতিমুহূর্তে।
–‘সে সুবাদে আপনার কাছে থাকতে পারলেও আমি রাজি,সপে দিব নিজেকে আপনার কাছে।শুধু আমার ভুল টার আবারও পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে,সেদিকটার খেয়াল রাখবেন।
–‘ঘটবে না।তার আগে কিছু জানা প্রয়োজন তোমার।
–‘কী?
#চলবে