Home "ধারাবাহিক গল্প ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় পর্ব-২৫

ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় পর্ব-২৫

0
493

#ফিরেছি_তোর_আঙিনায়
পর্ব—২৫
মৌমো তিতলী

ভোরের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো আশাকুঞ্জ জুড়ে।
রাতের শিশিরে ভেজা সবুজ ঘাসের ডগায় সূর্যের সোনালি আলো পড়তেই যেন অসংখ্য মুক্তোর কণা ঝিলমিল করে উঠেছে। বাগানের সারি সারি গোলাপ, রজনীগন্ধা, বেলি আর জুঁই ফুল থেকে ভেসে আসছে মাদকতাময় সুবাস। হালকা বাতাসে দুলছে গাছের পাতাগুলো। কোথাও কোকিলের ডাক, কোথাও শালিকের কিচিরমিচির,সব মিলিয়ে নির্মল, প্রশান্ত এক সকাল।

নিজ কামরার বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি হাতে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে শেহজাদ আদিত্য চৌধুরী।
গত কয়েকদিনের সমস্ত অস্থিরতার পর আজ তার মনটা অনেকটাই শান্ত। আজকাল আদিত্যর মুখে হাসি থাকে সর্বদা। তার প্রনয়িনী আছে যে তার সাথে।

সেই মুহূর্তে আদিত্যর ফোনটা বেজে উঠলো।
কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এক ভদ্রলোকের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো।

— মিস্টার আদিত্য, একটু সময় হবে? আপনাকে এবং মিস্টার আয়াত মাহমুদকে একবার থানায় আসতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।

আদিত্য নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,,

—আধা ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছাচ্ছি।

সকলের নাস্তা শেষ করেই আদিত্য আর আয়াত একই গাড়িতে থানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো।
গাড়ির ভেতরে দুজনই বেশ চুপচাপ।
আয়াত জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,,

—মনে হচ্ছে সোহেলের ব্যাপারেই ডেকেছে। ওকে এরেস্ট করে নিয়েছে হয়তো।

আদিত্য স্টিয়ারিংয়ে চোখ রেখেই বলল,,,

—আমার মনে হচ্ছে ঘটনা অন্য। ওনার ভয়েসে একটা হতাশা কাজ করছিলো। ওয়েল! আগে পৌঁছায়,গিয়ে দেখি কেনো ডেকেছেন।

প্রায় চল্লিশ মিনিট পর তারা থানায় পৌঁছালো।
ওসি নিজেই উঠে দাঁড়িয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানালেন।
কিছু কুশলাদি কথাবার্তার পর তিনি ডেস্কের ওপর রাখা একটি ফাইল খুললেন।
গম্ভীর স্বরে বললেন,,,

—একটা খারাপ খবর আছে। আমরা গত দুই দিন ধরে পুরো শহরে তন্ন তন্ন করে সোহেলকে খুঁজেছি। সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু… এখনও তাকে পাওয়া যায়নি।

আয়াতের কপাল কুঁচকে গেলো।

—কিহ পাওয়া যায়নি মানে! একদিনের মধ্যে কি সে উড়ে গেলো…

আদিত্য থামিয়ে দিলো আয়াত কে। হাইপার হতে না করে ওসির দিকে তাকিয়ে বলল,,,

— তাহলে?

ওসি শান্ত গলায় বললেন,
— আমাদের ধারণা, ঘটনা ঘটিয়েই সে শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

কথাটা শুনে দুজনেই কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ রইল।
এরপর ওসি আবার বললেন,,,

— তবে একটা ভালো খবরও আছে।

তিনি ফাইল থেকে একটি কাগজ বের করলেন। আদিত্যর হাতে দিয়ে বললেন,,

— তার গ্রামের বাড়ির সঠিক ঠিকানা আমরা সংগ্রহ করেছি। ইতোমধ্যে সেখানে একটি বিশেষ টিম পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আজ বিকেলের মধ্যেই রওনা হবে।

আদিত্য জিজ্ঞেস করল,,,

— ধরা পড়ার সম্ভাবনা কতটা?

ওসি স্মিত হাসলেন।

— পালিয়ে খুব বেশি দূর যাওয়া যায় না, মিস্টার আদিত্য। আজ না হয় কাল, কাল না হয় পরশু, ও ধরা পড়বেই। ওর অবস্থা সম্পর্কে যেটুকু জানতে পেরেছি,দেশ ছেড়ে পালানোর মত সামর্থ্য ওর নেই।

আয়াত ধীর কণ্ঠে বলল,,,
— আশা করি তাই হবে। যত দ্রুত সম্ভব সোহেলকে গ্রেফতার করবেন। He has a very dangerous mind.

ওসি সামনে ঝুঁকে বললেন,,,

— আপনারা কোনো টেনশন নেবেন না। বিষয়টা এখন পুরোপুরি পুলিশের দায়িত্ব। আপনারা পরিবারের দিকে মন দিন। সামনে তো বাড়িতে আনন্দের অনুষ্ঠান।

একটু থেমে মুচকি হেসে আবার বললেন,,,

— শুনেছি খুব শিগগিরই একটা শুভ খবর দিতে যাচ্ছেন?

আয়াত হেসে মাথা নাড়লো,,

— জি… ইনশাআল্লাহ।

ওসি আন্তরিক কণ্ঠে বললেন,,,

— আগাম শুভেচ্ছা রইল।

—ধন্যবাদ।

থানা থেকে বেরিয়ে আসতেই সকালের রোদ আরও প্রখর হয়ে উঠেছে।
গাড়িতে ওঠার আগে আয়াত গম্ভীর স্বরে বললো,,,

— ইয়ার আদি… যতক্ষণ না সোহেল ধরা পড়ছে,আমার মনে কোথাও একটা অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে।

আদিত্য কাঁধে হাত রেখে বলল,,,

— চিন্তা করিস না,ও ধরা পড়বেই। তবে ওকে নিয়ে এখন আর আমাদের সময় নষ্ট করার দরকার নেই। তুই এখন তোর আর নোরার এংগেজমেন্টের দিকে মনোযোগ দে।

আয়াতও হেসে ফেললো,,

— ঠিক বলেছিস।

গাড়িটা আশাকুঞ্জের দিকে ছুটলো ততক্ষণে…

আশাকুঞ্জে ফিরে আসতেই ড্রয়িংরুমে বসে থাকা সবাই একসঙ্গে তাদের দিকে তাকালো।
আশালতা বেগম উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন,,,

— থানায় কেনো ডেকেছিলো,কী বলল পুলিশ?

আদিত্য কোট খুলে সোফায় রেখে শান্ত গলায় বলল,,,

— সোহেলকে এখনো শহরে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তবে ওর গ্রামের বাড়ির ঠিকানা বের করেছে পুলিশ। আজই একটা টিম সেখানে যাবে।

কথাটা শুনে বিপাশা মাহমুদ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অস্ফুট স্বরে বললেন,,,

— আল্লাহ যেন তাকে আর কোনো ক্ষতি করার সুযোগ না দেয়। আমার ছেলে আর বউমা ভালো থাক।

সাদমান চৌধুরী সকলকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বললেন,,,

— আহহ, এতো চিন্তা কেনো করছো সবাই! আইন নিজের কাজ করবে। এখন আমাদের সামনে যে আনন্দের সময়টা আসছে,সেদিকে খেয়াল দাও।

আয়াতও মাথা নাড়লো,,,

— ঠিক বলেছেন আঙ্কেল।

এমন সময় মৌমিতা কিচেন থেকে বেরিয়ে এলো। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। সেটা আদিত্যের দিকে বাড়িয়ে দিতেই আদিত্য শীতল দৃষ্টি বুলালো অর্ধাঙ্গিনীর কায়ায়। চুলার তাপে কিছুটা ঘর্মাক্ত মৌমিতা। তবুও আদিত্যর মনে ইচ্ছে হলো এখনই বুকের মাঝে ঝাপটে ধরতে। সব ভাবেই মনোরম তার প্রেয়সী।
মনের ভেতরের অনিয়ন্ত্রিত বেহাল অনুভূতি একপাশে সরিয়ে আদিত্য মৌমিতার বাড়িয়ে রাখা কফির কাপটা হাতে তুলে নিয়ে সকল কে উদ্দেশ্য করে বলল,,,

— আমার একটা প্রস্তাব ছিলো।

সবাই তার দিকে তাকালে সে আবার বললো,,,

— আয়াতের আংটি বদল থেকে শুরু করে বিয়ে, গায়ে হলুদ, মেহেদি সব অনুষ্ঠান আশাকুঞ্জ থেকেই হবে। বাইরে আলাদা ভেন্যু নেওয়ার দরকার নেই। আমাদের বাড়িটা যথেষ্ট বড়। তা ছাড়া বাড়িতে আয়োজন করলে সিকিউরিটির বিষয়ে নিশ্চিত থাকা যাবে।

আশালতা বেগম আনন্দের সাথে বললেন,,,

—আদি ঠিক বলেছে। আমারও ঠিক তাই মনে হয়।

সাদমান চৌধুরী হেসে বললেন,,,

— আশাকুঞ্জ অনেক বড়। অতিথিদের জন্যও যথেষ্ট ব্যবস্থা করা যাবে। তাছাড়া নিজের বাড়ির অনুষ্ঠানের আলাদা একটা আনন্দ থাকে।

বিপাশা মাহমুদ আবেগভরা চোখে চারপাশে তাকিয়ে বললেন,,,

— আমার ছেলের জীবনের সবচেয়ে বড় দিনটা পরিবারের সাথে এর চেয়ে বড় শান্তি আর কী হতে পারে! তোমরা ছাড়া আমাদের আছেই বা কে!

আশালতা বেগম আশ্বাসের ভঙ্গিতে বোনের কাঁধ জড়িয়ে ধরলেন।

দুপুরের পর আয়াত নিজের রুমে এসে তার ম্যানেজার রাশেদের নম্বরে কল করলো।

— রাশেদ আজ বিকেল পাঁচটায় একটা অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্সের ব্যবস্থা করো।

ওপাশ থেকে বিস্মিত কণ্ঠ ভেসে এলো,,,,

— স্যার আপনি কোথায়? আর হঠাৎ কনফারেন্স কেনো? কোনো নতুন অ্যালবামের ঘোষণা দিবেন?

আয়াত মুচকি হেসে জানালার বাইরে তাকালো।

— না। আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঘোষণাটা আজ সবাইকে জানাবো।

ওপাশ থেকে কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকলো রাশেদ।
তারপর উত্তেজিত স্বরে বললো,,,

— স্যার! আপনি বিয়ে করে ফেলেছেন? নিউজে যা দেখাচ্ছে তা সত্যি? স্যার আপনি বলেন কি করতে হবে! আমি সব ব্যবস্থা করছি।

—উফফ রাশেদ! বড্ড বেশি ভাবো আজকাল। যেটা বলছি সেটা করো। বাকিটা আমি এলে জানতে পারবে।

বিকেল পাঁচটা।

রাজধানীর অন্যতম অভিজাত একটি কনফারেন্স সেন্টারের সামনে তখন সংবাদমাধ্যমের গাড়ির সারি।
দেশের প্রায় সব বড় টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, সংবাদপত্র সবাই উপস্থিত। প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে অসংখ্য ভক্ত। কারও হাতে ফুল। কারও হাতে আয়াত মাহমুদের প্যাকার্ড।
আবার কেউ শুধু এক ঝলক প্রিয় শিল্পীকে দেখার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে।
ভেতরে বিশাল অডিটোরিয়াম। সামনের মঞ্চে বড় এলইডি স্ক্রিনে লেখা
“Official Press Meet Ayat Mahmud”

চারদিকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। মঞ্চের পেছনের ভিআইপি লাউঞ্জে বসে আছে আয়াত আর নোরা।
আজ আয়াতের পরনে অফ-হোয়াইট রঙের স্যুট।
সাদা শার্টের সঙ্গে গাঢ় নীল টাই। হাতে ক্লাসিক রুপালি ঘড়ি। চুলগুলো পরিপাটি করে সেট করা

অন্যদিকে নোরার সাজ ছিল অত্যন্ত মার্জিত।
গাঢ় পান্না সবুজ রঙের সূক্ষ্ম কারুকাজ করা সিল্কের শাড়ি। পাতলা সোনালি জরির কাজ। আলো পড়তেই মৃদু ঝলমল করছে।গলায় ছোট্ট ডায়মন্ড পেনডেন্ট।
কানে দুল। হাতে কাঁচের চুড়ি আর একটি সরু ব্রেসলেট।মুখে খুবই হালকা মেকআপ। চোখে কাজলের প্রলেপ।খোলা চুলগুলো নরম ঢেউ খেলানো হয়ে একপাশে নেমে এসেছে। তাকে এতো সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে মৌমিতা। নোরা প্রথমে সাজতেই চাইনি। কিন্তু মৌমিতা শোনেনি সেসব। মনের মতো করে সাজিয়ে দিয়েছে প্রাণের বান্ধবীকে।

আয়াত মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে নোরার দিকে। এলোমেলো হয়ে থাকা একগুচ্ছ চুল আলতো করে কানের পাশে গুঁজে দিয়ে বলল,,,

— নার্ভাস লাগছে?

নোরা ঠোঁট কামড়ে মৃদু মাথা নাড়ল,,

—একটু…!

আয়াত তার দুই হাত আলতো করে ধরে বলল,,,

— আজ থেকে তুমি আর একা নও নোরা। আমি তোমার আয়াত সারাজীবন তোমার পাশে থাকবো।
তুমি শুধু আমার হাতটা ধরে থেকো। আমি আছি তোমার কাছে আজীবন।

নোরার গাল মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠলো। তার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে।

ঠিক তখনই একজন স্টাফ এসে জানালো,,

— স্যার, সবাই প্রস্তুত। আপনাদের স্টেজে আসতে বলা হয়েছে।
আয়াত লম্বা শ্বাস নিলো। তারপর নোরার দিকে নিজের ডান হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,,,

— চলো
এক মুহূর্ত ইতস্তত করে নোরা সেই হাতে নিজের হাতটা সর্পদ করলো।
দুজন পাশাপাশি দরজার দিকে এগিয়ে গেলো।
বাইরে তখন শত শত ক্যামেরা অপেক্ষা করছে…
তাদের জীবনের নতুন অধ্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শোনার জন্য।
অডিটোরিয়ামের দরজা খুলতেই মুহূর্তের মধ্যে শত শত ক্যামেরার ফ্ল্যাশ একসঙ্গে ঝলসে উঠলো তাদের ওপর।
চারদিক করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠলো। নোরা আয়াতের হাত শক্ত করে ধরে আছে। ভীষণ নার্ভাস মেয়েট। জীবনে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছে সে। আয়াত তার ভেতরকার অবস্থা অনুভব করতে পারলো। নোরার হাতের ওপরে নিজের হাতের চাপ বাড়িয়ে আশ্বাস দিলো। সে আছে পাশে।

সাংবাদিকদের কন্ঠ ভেসে আসছে।
দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আয়াত মাহমুদ মঞ্চে প্রবেশ করেছেন। তবে আজ তিনি একা নন। তার পাশে রয়েছে এক তরুণী।
দু’জন পাশাপাশি হেঁটে মঞ্চের মাঝখানে এসে দাঁড়াতেই সাংবাদিকদের মধ্যে আরও বেশি গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল।

— “উনিই কি সেই মেয়ে?

— “তাহলে গুঞ্জন সত্যি?”

— “আজই কি বিয়ের ঘোষণা দিতে চলেছেন?”

একটার পর একটা প্রশ্ন ছুটে আসতে লাগল।
আয়াত বরাবরের মতোই শান্ত। সে নোরার দিকে একবার তাকিয়ে মৃদু হাসলো। তারপর মাইক্রোফোনের সামনে এসে দাঁড়ালো।
মুহূর্তেই পুরো হলরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।
শত শত ক্যামেরা এখন শুধু তাদের দু’জনের দিকে তাক করা।
আয়াত ধীর, স্থির কণ্ঠে বলল,,,

— আসসালামু আলাইকুম।
প্রথমেই সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই এত অল্প সময়ের নোটিশে এখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য।
আজ আমি নতুন কোনো গান, অ্যালবাম কিংবা কনসার্টের ঘোষণা দিতে আসিনি।
আজকের এই আয়োজন আমার ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আর খুশির খবর আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
কথাটা বলেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নোরার দিকে তাকালো সে।
তার চোখের দৃষ্টিতে ছিল অপার মুগ্ধতা।
মুখে ফুটে উঠল শান্ত নির্মল হাসি।

— অনেকদিন ধরেই নানা ধরনের গুঞ্জন শুনছেন। অনেকেই জানতে চাইছিলেন, সত্যিটা কী।
আজ আমি নিজেই সেই উত্তর দিতে চাই।
এই যে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে…নোরা,নোরা আফরিন।
খুব শিগগিরই ও-ই হতে যাচ্ছে আমার জীবনসঙ্গিনী।
ইনশাআল্লাহ, আমাদের দুজনের সম্মতিতে খুব শিগগিরই আমাদের বাগদান এবং এরপর বিবাহ সম্পন্ন হবে।
আপনারা দোয়া করবেন…
যেন আমরা সুন্দর একটা জীবন গড়ে তুলতে পারি।
কথা শেষ হতেই পুরো হলরুম করতালিতে গমগম করে উঠল। ফ্ল্যাশের আলো যেন থামছেই না।
একজন সাংবাদিক উঠে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন,,,

— স্যার, ম্যাডামের সঙ্গে আপনার পরিচয় কীভাবে?

আয়াত মুচকি হেসে বলল,,

— কিছু গল্প মানুষের নিজের কাছেই সবচেয়ে সুন্দর থাকে। সেই গল্পটা আপাতত আমাদের কাছেই থাকুক।

আরেকজন প্রশ্ন করলেন,,,

— আপনার লক্ষ লক্ষ নারী ভক্ত আছেন। তারা নিশ্চয়ই খুব মন খারাপ করবেন? ক্ষিপ্ত হবেন আপনার ওপর।
পুরো হলরুমে হালকা হাসির রোল পড়ে গেলো।

আয়াতও হেসে উত্তর দিলো,,,
— যারা আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসেন, যারা প্রকৃত অর্থেই আমার ভক্ত তারা অবশ্যই আমার সুখেও খুশি হবেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা আমার সাপোর্টে থাকবে। তারা আমার ভালবাসাকেও ভালোবাসবে।
আর যদি কেউ মন খারাপ করেন…
তাহলে নতুন একটা গানের অ্যালবাম তাদের জন্য উপহার দেবো।
আবারও হাসিতে ভরে উঠলো চারপাশ।

এবার আরেকজন সাংবাদিক নোরার দিকে তাকিয়ে বললেন,,,

— ম্যাডাম, এত বড় একজন তারকার জীবনসঙ্গিনী হতে চলেছেন। আপনার অনুভূতি কেমন?

নোরা কিছুটা লজ্জা পেল। সাহস নিয়ে
মাইক্রোফোনের সামনে এসে ছোট্ট করে বলল,,,
— আলহামদুলিল্লাহ। আমি শুধু এতটুকুই বলতে চাই…
সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। এর বেশি কিছু বলার মতো ভাষা আমার নেই।
তার সরল উত্তর শুনে উপস্থিত অনেকের মুখেই হাসি ফুটে উঠলো।

প্রেস কনফারেন্স শেষ হতে না হতেই…
দেশের সব অনলাইন নিউজ পোর্টালে একের পর এক ব্রেকিং নিউজ ভেসে উঠতে শুরু করলো।
“জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আয়াত মাহমুদ বিয়ে করতে যাচ্ছেন!”
“জীবনসঙ্গিনী হিসেবে নোরা আফরিনকে পরিচয় করিয়ে দিলেন আয়াত মাহমুদ।”
” মাশহুর বিজনেসম্যান শেহজাদ আদিত্য চৌধুরীর বাড়ি আশাকুঞ্জে হবে বছরের সবচেয়ে আলোচিত বাগদান!”

মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ইউটিউব সবখানেই খবরটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল। ভক্তদের প্রতিক্রিয়াও আসতে শুরু করলো

“আল্লাহ আপনাদের সুখী রাখুন।”
“এত সুন্দর জুটি! অনেক অনেক শুভকামনা।”
“আমাদের প্রিয় শিল্পীর নতুন জীবনের জন্য ভালোবাসা রইল।” “নোরা আপুকে অনেক মানিয়েছে।”
অনেকে আবার আয়াতের পুরোনো গান শেয়ার করে লিখতে লাগলো,,,

“এবার থেকে এই গানগুলোর পূর্ণতা পেল।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তো একরকম থাকে না। সেখানে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও শুরু হয়ে গেলো।
কিছু পেজ নোরার পারিবারিক অতীত নিয়ে নানা রকম আলোচনা শুরু করলো।
কেউ লিখলো,,

“এত বড় তারকা, অথচ সাধারণ পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করছেন!”
আবার কেউ কটাক্ষ করে লিখলো,,

“নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।”
কিছু ট্রোল পেজ মিমস বানাতে শুরু করলো।

কেউ কেউ ভিত্তিহীন গল্পও ছড়ানোর চেষ্টা করলো।
কিন্তু তার বিপরীতে হাজার হাজার মানুষ নোরার পক্ষেও দাঁড়ালো।

“মানুষকে তার পরিবারের পরিচয় দিয়ে বিচার করবেন না।”
“ভালোবাসার কাছে সামাজিক অবস্থান বড় নয়।”
“আয়াত মাহমুদ মানুষ চিনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের সম্মান করা উচিত।”

অনেক বিশিষ্ট শিল্পী, অভিনেতা, সংগীত পরিচালকও শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই #Ayat_Nora, #CongratulationsAyat এবং #NewBeginning ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে এলো।

এসবের কিছুই অবশ্য আশাকুঞ্জের কাউকে বিচলিত করতে পারলৈ না। নোরা ও নিজেকে অভ্যস্ত করতে চেষ্টা করলো। সে জানে একজন তারকার সাথে জীবন জড়ালে এগুলো স্বাভাবিক ভাবে নিতে হবে।

ড্রয়িংরুমে বসে সবাই যখন খবরগুলো দেখছিলো, তখন আদিত্য মোবাইলের দিকে চোখ রেখে শান্ত কণ্ঠে বলল,,,

—আমরা যাই করি না কেন, মানুষের মুখ বন্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। আজ প্রশংসা করবে…
কাল সমালোচনা করবে…
পরশু আবার অন্য কাউকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে।
তাই এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো মানে নেই।

সাদমান চৌধুরী ছেলের কথায় সম্মতি জানালেন।

— একদম ঠিক।
নিজেদের বিবেক পরিষ্কার থাকলেই যথেষ্ট।

বিপাশা মাহমুদ নোরার মাথায় হাত রেখে মমতাভরা কণ্ঠে বললেন,,,

— মা, বাইরের কথায় কখনো মন খারাপ করবে না।
যারা তোমাকে চিনবে, তারা তোমাকে ভালোবাসবেই।

নোরা মৃদু হেসে বললো,,

— আমি ঠিক আছি আন্টি।

অন্যদিকে আশালতা বেগম আর মৌমিতা ইতোমধ্যেই খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়েছে। অতিথিদের তালিকা…
সাজসজ্জা,মেন্যু সবকিছুর পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে।
মৌমিতা আর আশালতা সোফার একপাশে বসে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি, গয়না আর সাজসজ্জার ছবি দেখছে।
আদিত্য আড়চোখে মৌমিতা কে দেখছে। কিন্তু ভাবটা এমন যেন তার সমস্ত মনোযোগ ফোনের দিকে।

সাদমান চৌধুরী আর আয়াত অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছে।
আশাকুঞ্জের প্রতিটি কোণ ধীরে ধীরে নতুন এক উৎসবের প্রতীক্ষায় জেগে উঠতে শুরু করল…

চলবে…

#ফিরেছি_তোর_আঙিনায়
পর্ব—২৫
মৌমো তিতলী

পরদিন সকাল।
সূর্যের কোমল আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো আশাকুঞ্জ জুড়ে। রাতের শিশিরে ভেজা বাগানের প্রতিটি গাছ,ফুল, পাতা যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। হালকা বাতাসে রজনীগন্ধা আর বেলি ফুলের মিষ্টি সুবাস ভেসে আসছে চারপাশে।

সকালের নাস্তা সেরে ডাইনিং টেবিল থেকে উঠে দাঁড়ালেন সাদমান চৌধুরী। নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন,,,

— আচ্ছা নাস্তা সেরে সবাই তৈরি হও। আজ কিন্তু অনেক কাজ। শপিংয়ের কাজটা আজকেই সেরে ফেলতে হবে।

বিপাশা মাহমুদ হেসে বললেন,,,

— আজ তো মনে হচ্ছে সারাদিনই শপিং মলে কাটবে।

আশালতা বেগম বোনের কথায় উত্তর দিলেন,,,

— বিয়ের কেনাকাটা কি আর এক ঘণ্টায় শেষ হয়? সময় তো লাগবেই।

ঠিক তখনই আয়াত গাড়ির চাবিটা হাতের আঙ্গুলে ঘোরাতে ঘোরাতে নিচে নেমে এলো। ছেলেকে এতো সকালে তৈরি হয়ে নামতে দেখে বিপাশা মাহমুদ বললেন,,

—কোথাও যাচ্ছিস আয়াত?

মায়ের কথায় ঘুরে দাঁড়ায় আয়াত,,,

— আম্মু আমি বের হচ্ছি একটু।

বিপাশা অবাক হয়ে তাকালো,,

— এত সকালে কোথায় যাচ্ছিস আব্বা?

— আম্মু আজ নতুন একটা অ্যালবামের রেকর্ডিং আছে। বিয়ের জন্য কয়েকদিন পুরোপুরি ছুটি নেবো। তাই আজকেই পেন্ডিং কাজটা শেষ করতেই হবে।

বিপাশা মাহমুদ মাথা নাড়লেন,,,

— আচ্ছা ঠিক আছে।

আয়াত মুচকি হেসে বলল,,,

— আমার কাজ শেষ করে তোমাদের সঙ্গে যোগ দেবো। ডোন্ট ওয়ারি আম্মু!

এদিকে আদিত্যও তার রুমে অফিসের জন্য তৈরি হচ্ছে। আদিত্যকে অফিসের জন্য রেডি হতে দেখে
মৌমিতা ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে,,
,
— অফিসে যাচ্ছেন?

প্রশ্নের দরুন আয়নায় নিজের পেছনে অবস্থানরত অর্ধাঙ্গিনীর কায়ায় দৃষ্টি ফেললো আদিত্য। গলায় টাই বাঁধতে বাঁধতে বললো,,,

— হ্যাঁ। দু-তিন দিনের কাজ এগিয়ে রাখতে হবে। না হলে পরে ঝামেলা হবে। এমনিতেই আয়াতের বিয়ের জন্য কয়েকদিন সেভাবে এটেন্ড হতে পারবো না।
কথা বলতে বলতে সে ঘুরে দাঁড়ালো মৌমিতার পানে। আলতো করে মৌমিতার মাথায় হাত রেখে বললো,,

— শপিংয়ে বেশি ক্লান্ত হয়ে যেও না। এদিক সেদিক বেশি ছুটোছুটি না করে এক স্থানে স্থির থেকো যেন।

আদিত্যর কথায় মৌমিতা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,,,

— আপনার কি মনে হয় আমি এত দুর্বল?

আদিত্য মুচকি হেসে মৌমিতার নরম গালে টোকা দিয়ে উত্তর দিল,,,

— না। কিন্তু নিজের যত্ন নেবে। আমি অফিস থেকে ফিরে সোজা তোমাদের সাথে যোগ দিবো। আয়াতও আসবে সম্ভবত। কথা বলতে বলতে মৌমিতার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে আনলো তাকে।

মৌমিতা চোখ নামিয়ে নিলো লাজে। গাল জ্বলে উঠলো তার। মৌমিতা কে লাজে নেতিয়ে পড়তে দেখে মুগ্ধতা আরও একধাপ বাড়লো আদিত্যর। আবেশীত ভঙ্গিতে ঝুঁকে এলো প্রেয়সীর মুখের কাছাকাছি।
মৌমিতা কিছু বলতে নিলে নিজ শাহদাত আঙ্গুলের দ্বারা ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো আদিত্য,,,

—শশশ Don’t say anything!

মৌমিতা কিছু বলতেই পারলো না। সেই সুযোগে টুপ করে নিজের পুরুষালি অধর ছোঁয়ালো মৌমিতার নরম তুলতুলে অধরযুগলে,,,

ঘণ্টাখানেক পর…

ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত শপিং কমপ্লেক্সগুলোর একটি যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং মল।
কাঁচে মোড়ানো বিশাল ভবন। প্রবেশদ্বারে রঙিন ফুলের সাজ। ভেতরে ঢুকতেই ঝলমলে আলো,পিয়ানোর সুর আর সুগন্ধি পরিবেশ যেন অন্য এক জগতে নিয়ে যায়।
একের পর এক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শোরুম।
হীরার গয়নার দোকান,ডিজাইনার শাড়ির দোকান।কসমেটিক্স,হ্যান্ডব্যাগ, পারফিউমের দোকান।
সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ।

সাদমান চৌধুরীর সঙ্গে আশালতা বেগম, বিপাশা মাহমুদ, মৌমিতা আর নোরা ধীরে ধীরে শোরুমের ভেতরে ঢুকলো
সেলস এক্সিকিউটিভ সবাইকে হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানালো।

— আপনাদের কী দেখাবো স্যার?

সাদমান চৌধুরী মৃদু হেসে বললেন,,,

— বাড়িতে বাগদানের অনুষ্ঠান। সেই উদ্দেশ্যে কেনাকাটা। প্রথমে মেয়েদের জন্য শাড়ি দেখা থেকেই শুরু করি!

কথাটা শুনেই শপের কর্মীরা আরও আন্তরিক হয়ে উঠলো। একজন কর্মচারীকে ডেকে চা-কফি দিতে বললো কাস্টমারদের। তারপর একটার পর একটা শাড়ির ভাঁজ খুলে তাদেরকে দেখাতে লাগলো।
গাঢ় লাল,মেরুন,সবুজ,গোলাপি,সাদা-সোনালি,রয়্যাল ব্লু নানা রঙের জমকালো ডিজাইনের শাড়ি।

মৌমিতা একটার পর একটা শাড়ি হাতে নিয়ে দেখছে।
কখনো নোরার গায়ে ধরে দেখছে। নীল রঙের একটা শাড়ি দেখিয়ে বলে,,,

— এটা দেখ তো! তোকে কিন্তু খুব মানাবে।

নোরা হেসে মাথা নাড়ে। আশালতা বেগম মাঝেমধ্যে নিজের পছন্দের শাড়ি বের করে দেখাচ্ছেন। বিপাশা মাহমুদও ছেলের হবু বউয়ের জন্য খুব যত্ন করে বেছে বেছে কাপড় দেখছেন। নোরা এগুলো দেখে মনে মনে অফুরন্ত সুখে আপ্লুত হচ্ছে। তার মতো অনাথ একটা মেয়ের জন্য সবার এতো ভালোবাসা। কতো ভাগ্য করে সে মৌমিতার মতো একটা বন্ধু পেয়েছিলো কে জানে!এই যে এতো সুখ,এতো ভালোবাসা তার সইবে তো!

মাঝে চারজনের হাসির শব্দে ধ্যান ভঙ্গ হলো নোরার।
তখনই মৌমিতার ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠলো আয়াতের নাম। মৌমিতা নোরা আলতো করে ধাক্কা দিয়ে দুষ্টুমি ভরা কন্ঠে বলে,,,

—দেখ কে কল করেছে,আয়াত ভাইয়া।

নোরা বান্ধবীর ঠাট্টায় লজ্জা পেয়ে পিঠে মেকি কিল বসিয়ে দেয়। তাতে খিলখিল করে হেসে উঠলো মৌমিতা। রিসিভ করে ফোন ,,,

— হ্যালো?

ওপাশ থেকে আয়াতের ব্যস্ত কণ্ঠ,,

— ভাবি আপনারা কোন ফ্লোরে? নোরার ফোন বন্ধ কেনো? কোথায় ও?

— ভাইয়া আমরা তৃতীয় তলায়। ও তো আমার পাশেই আছে। তারপর নোরার দিকে তাকিয়ে বলে,,,

—ফোন কই তোর? তোকে ফোন করে পায়নি ভাইয়া।

মৌমিতার কথায় তড়িঘড়ি ব্যাগ থেকে ফোন বের করে নোরা। কখন অসাবধানতায় চাপ লেগে বন্ধ হয়েছে ফোন।
মৌমিতা তার আয়াত কে জানালে আয়াত ফের জানায়,,,

— ঠিক আছে। আমি আর আদি দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি।

মৌমিতা অবাক হয়ে বলল,,,

— উনি অফিস থেকে বেরিয়েছেন?

— হ্যাঁ। আমি নিজেই ফোন করে ডেকে নিয়েছি। এত বড় শপিং, আর আমরা না থাকলে চলে? ও পাঁচ মিনিটে চলে আসবে।

মৌমিতার ঠোঁট প্রসারিত হলো নিঃশব্দে। বললো,,

— আচ্ছা, আসেন।

ফোন রেখে সে সবাইকে খবরটা জানালো মৌমিতা।

তারও প্রায় পনেরো মিনিট পর লিফটের দরজা খুলে পাশাপাশি বেরিয়ে এলো আয়াত আর আদিত্য।

শপিং মলে ঢুকেই আদিত্যর চোখ নিঃশব্দে খুঁজে নিলো মৌমিতাকে। হালকা গোলাপি সুতির শাড়ি, খোলা চুল আর মুখে সাবলীল হাসিতে মৌমিতাকে অপূর্ব লাগছে।

মৌমিতাও সেই মুহূর্তে অবচেতন মনেই চোখ তুলে তাকাতেই দুজনের চোখে চোখ পড়ে গেল।
অকারণেই দুজনের ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠলো তাতে। আদিত্য এগিয়ে গেলো সেদিকে।
তার হাতে কিছু স্ন্যাকস আর ড্রিঙ্কসের প্যাকেট। সেগুলো এগিয়ে দিলো আশালতা বেগমের দিকে। শপিং করতে করতে ক্লান্ত হলে প্রয়োজন পড়বে ওগুলো।

আয়াত ইতোমধ্যে নোরার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মুখে কালো মাস্ক,মাথায় কালো ক্যাপ দিয়ে কভার করা
অহেতুক ফ্যানডমের শিকার হতে চাই না সে।

আয়াত একটা গাঢ় সবুজ শাড়ি হাতে নিয়ে বলল,,,

— এটা দেখো নোরা!

নোরা শাড়িটার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে গেল। হাতে নিয়ে বললো,,,

— খুব সুন্দর এটা..

— তাহলে এটা নাও।

আয়াতের কণ্ঠে এমন আদুরে প্রশ্রয় ছিল যে নোরা আর আপত্তি করলো না। ওই শাড়িটায় বিপাশা মাহমুদের কাছে দিয়ে বললো,,,

—আন্টি আমার এই শাড়িটা ভালো লেগেছে। এটা নিই!

বিপাশা মাহমুদ একবার নোরার বাড়িয়ে দেওয়া শাড়িটা দেখেই নির্দ্বিধায় বললেন,,,

—তোমার যখন পছন্দ হয়েছে অবশ্যই নেবে। জিজ্ঞাসা করার কি আছে বোকা মেয়ে।

অন্যদিকে…
আদিত্য ধীরে ধীরে শোরুমের আরেক পাশে চলে গেলো। নিজের মতো দেখতে লাগলো ঘুরে ঘুরে।
হঠাৎই তার চোখ আটকে গেল একটি ময়ূরকন্ঠী রঙের শাড়ির ওপর। তাতে সূক্ষ্ম রুপালি জরির কাজ।
আলো পড়তেই যেন মনে হচ্ছে নীল আকাশের বুকে তারার ঝিকিমিকি। আদিত্য শাড়িটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইলো।
তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো এই শাড়িতে মৌমিতাকে কেমন লাগবে। সে মৃদু হেসে সেলসগার্লকে বলল,,,

— এটা প্যাক করবেন না। আমি আগে দেখতে চাই।
তারপর শাড়িটা হাতে নিয়ে মৌমিতারকে মেসেজ করলো ডান পাশের শপের দিকে আসতে।

মৌমিতা বিস্মিত চোখে একবার ফোনের দিকে তাকিয়ে আসেপাশে নজর বুলিয়ে খুঁজলো আদিত্য কে। দেখতে না পেয়ে আশালতা বেগমকে বলে বেরিয়ে এলো। ডানপাশের একটা শপের পরেই দেখাপেলো আদিত্যর।

মৌমিতা একবার আদিত্যর হাতের শাড়িটার দিকে তাকালো,একবার আদিত্যর দিকে তাকালো।
আদিত্য নিঃসংকোচে শাড়িটা মৌমিতার হাতে দিলে মৌমিতা অবাক হয়ে বলে,,

— আমার জন্য?

আদিত্য মৃদু হাসলো।

— আর কার জন্য হবে?

মৌমিতা আলতো করে কাপড়টার ওপর হাত বুলিয়ে দিলো। তার চোখে মুগ্ধতা স্পষ্ট। আদিত্যর এটা দিয়ে মৌমিতার দেওয়া দ্বিতীয় উপহার। মৌমিতা হাসিমুখে বললো,,

— খুব সুন্দর শাড়িটা..

আদিত্য তাকে থামিয়ে দিয়ে মৌমিতার কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি স্বরে বলল,,,

— উহু শুধু সুন্দর বললে হবেনা…এটা এখনই পরে আসবে তুমি। এই শাড়িতে তোমাকে এখনই দেখতে চাই। অপেক্ষা করতে পারছি না আমি।

আদিত্যর লাগাম ছাড়া কথাটা শুনে মৌমিতার গাল হালকা লাল হয়ে উঠলো,,

সে নিচু স্বরে বলল,,,

— কি বলছেন,এখন….

আদিত্য ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

—কিছু শুনছি না আমি।

মৌমিতা ভাবে কিছুক্ষণ। তার কেমন লজ্জা লাগছে। তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আদিত্য ফের বলে,,

— যাও। আমি অপেক্ষা করছি।

মৌমিতাও আর কিছু না ভেবে ট্রায়াল রুমের দিকে চলে গেলো।

এদিকে আয়াত নোরার জন্য গয়না দেখছে।
একটি মুক্তোর সেট হাতে নিয়ে সে নোরার দিকে তাকিয়ে বলল,,,

— এটা কেমন?

নোরা মৃদু হেসে বলল,,,

— খুব সুন্দর।

— তাহলে এটাও নাও।

নোরা হেসে মাথা নাড়লো,,

— আমার এতো কিছু লাগবে না।

— লাগবে।
একেবারেই স্বাভাবিক গলায় উত্তর দিলো আয়াত।

— আমার স্ত্রীকে সবচেয়ে সুন্দর লাগবে, এটা নিশ্চিত করাটাও তো আমার দায়িত্ব।

কথাটা শুনে নোরা লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো। এতো ভারোবাসে কেনো লোকটা! নোরার কেমন ভয় হয়।
আয়াতের কান্ড দেখে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আশালতা বেগম আর বিপাশা মাহমুদ একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।

কয়েক মিনিট পর ট্রায়াল রুমের দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেলো। ময়ূরকণ্ঠী শাড়িটা পরে ধীর পায়ে বাইরে বেরিয়ে এলো মৌমিতা।
মুহূর্তের জন্য যেন আদিত্য সহ পুরো শোরুমটাই থমকে গেল।
ময়ূরকণ্ঠী রঙের শাড়ির সঙ্গে মৌমিতার ফর্সা মুখটা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। খোলা চুলগুলো কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে কোমর পর্যন্ত। হাতে শুধু কয়েকটা কাঁচের চুড়ি। কোনো ভারী সাজ নেই।
তবু তার সেই সহজ, স্বাভাবিক সৌন্দর্য থেকে আদিত্যর চোখ সরিয়ে নেওয়া কঠিন করে তুলেছে।
আদিত্য স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে যেন আর কিছুই ধরা পড়ছে না শুধু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি ছাড়া।

মৌমিতা একটু অস্বস্তি নিয়ে বলল,,,
— কী হলো এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো?

আদিত্য যেন সম্মোহিত হয়ে মোহগ্রস্ত দৃষ্টির তাকিয়ে ছিলো। মৌমিতার কণ্ঠে বাস্তবে ফিরে এলো সে।
ধীরে ধীরে মৌমিতার কাছে এগিয়ে এসে নরম স্বরে বলল,,,

— একটা কথা বলবো?

— বলুন..

— আমি শাড়িটা সুন্দর ভেবে নিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন বুঝলাম শাড়িটা সুন্দর লাগছে, কারণ তুমি এটা পরে আছো। তোমার অঙ্গ ছুঁয়েছে বলেই তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বলেই মৌমিতার কপালে চুমু দিলো আলতো করে।

মৌমিতা চমকে উঠে লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো।
তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। সে আস্তে করে বলল,,,

— কি করছেন,সবাই দেখছে…

আদিত্য চারপাশে একবার তাকিয়ে আবার তার দিকে ফিরে মৃদু হেসে বলল,,,

— দেখুক। আমার স্ত্রীর দিকে গর্ব করে তাকাতে,তাকে আদর দিতে আমার কোনো সংকোচ নেই।

কথাটা শুনে মৌমিতার গাল আরও লাল হয়ে উঠলো।
সে নিচু স্বরে বলল,,,

— আপনি না… দিন দিন ভীষণ নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছেন।

আদিত্য হেসে ফেললো।

— সব দোষ তোমার।

মৌমিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো,,

— আমার?

— হ্যাঁ।
তোমাকে দেখলেই আমার সব ওলটপালট হয়ে যায়। কি করি,কি বলি কোন হুঁশ থাকে না। ইচ্ছে করে সারাক্ষণ তোমাকে…..

মৌমিতা ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখার চেষ্টা করে
খুব আস্তে করে বলল,,,

— থাক… থাক আর বলতে হবে না। আমি শাড়িটা নেবো।

আদিত্য ঠোঁট কামড়ে ধরে কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু মাথা নাড়লো।

এই দৃশ্যটা দূর থেকে দেখছিল আয়াত আর নোরা।

আয়াত মুচকি হেসে নোরার কানে খুব আস্তে বলল,,

— দেখেছো ভাই আমার কত রোমান্টিক? ভালোবাসা মানুষকে কতটা বদলে দেয়। এখন আদি কে দেখে কে বলবে যে এই মানুষটায় একদিন স্ত্রী কে মেনে নিবে না বলে দেশ ছেড়ে চলে গেছিলো। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ফিরেছিলো,তাও সেই স্ত্রীকে ডিভোর্স দিবে বলে। অথচ আজ সেই স্ত্রীর জন্যই এতোটা পাগল আদি। দুনিয়ার সবকিছু তাঁর পায়ের কাছে এনে দিতেও প্রস্তুত!

নোরা আদিত্য আর মৌমিতার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,,

— ওদের দুজনকে একসঙ্গে দেখলে খুব শান্তি লাগে। মৌমিতার ওই দিনগুলো ভীষণ কষ্টে কেটেছে। তার এক একটা সাক্ষী আমি নিজে।
আয়াত নোরার মলিন কন্ঠ শুনে একপাশ থেকে কাঁধ জড়িয়ে ধরলো। সেই ছোঁয়ায় ছিলো প্রশ্রয়, শান্তনা আর সারাজীবন পাশে থেকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা।

এরপর আবার শুরু হলো বাকি কেনাকাটা।
আংটি বদলের জন্য বিশেষ পোশাক, বিয়ের শেরওয়ানি, পাঞ্জাবি, শাড়ি, গয়না, জুতা, পারফিউম, উপহারের সামগ্রী। এক এক করে সব কেনা হলো।
মাঝেমধ্যে সবাই মিলে কফি আর আদিত্যর নিয়ে আসা স্ন্যাকস খেলো, হাসি-ঠাট্টা করে ছবি তুললো সবাই মিলে।
দুপুরে স্বপরিবারে একটা ছিমছাম সুন্দর পরিবেশের রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ সারলো। পুরো দিনটা কেটে গেল আনন্দ আর শপিংয়ের ব্যস্ততায়।
সন্ধ্যার আলো নেমে আসার আগেই গাড়ির ডিকি ভর্তি শপিং ব্যাগ নিয়ে সবাই আশাকুঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। গাড়ির জানালার বাইরে শহরের আলো একে একে জ্বলে উঠছে।

রাত প্রায় সাড়ে দশটা।
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে আশাকুঞ্জ যেন আবার তার চিরচেনা প্রশান্ত রূপে ফিরে এসেছে।
ড্রয়িংরুমের একপাশে সারি সারি শপিং ব্যাগ সাজিয়ে রাখা। নতুন শাড়ি, গয়না, উপহার, অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সামগ্রী সবকিছু দেখে এখন মনে হচ্ছে পুরো বাড়িটাই যেন বিয়ের আনন্দে ভরে উঠেছে।
রাতের খাবার শেষ করে সবাই যখন নিজেদের কক্ষে চলে গেছে, তখন আদিত্য নিজের স্টাডি রুমে ল্যাপটপ খুলে বসে কিছু হিসাবপত্র দেখছিলো।
ঠিক সেই সময় দরজায় মৃদু টোকা পড়লো। আদিত্য দৃষ্টি ল্যাপটপেই রেখে উত্তর দিলো,,

—এসো।

দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো মৌমিতা। তার হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ ব্ল্যাক কফি। কাপটা টেবিলে রেখে মৃদু স্বরে বলল,,

— অনেকক্ষণ ধরে কাজ করছেন। তাই কফি নিয়ে এলাম।

আদিত্য ল্যাপটপ বন্ধ করে কফিটা নিয়ে চেয়ারের পিঠে হেলান দিয়ে আরাম করে বসে চুমুক দিলো। প্রশান্তিতে চোখ বুজে এলো তার!

— ধন্যবাদ বউ। এটার ভীষণ দরকার ছিলো এখন।

মৌমিতা সামনে রাখা সোফায় বসে পড়লো।
তারপর আদিত্য হঠাৎ বলল,,,
— শোন মৌমি,একটা প্ল্যান আছে।

মৌমিতা কৌতূহলী হয়ে তাকালো।

— কিসের প্ল্যান?

আদিত্য ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বললো,,,

— আয়াত আর নোরার জন্য।

— মানে।

—মানে বিয়ের আগে ওদের জন্য একটা ছোট্ট সারপ্রাইজ ডিনারের আয়োজন করেছি।

মৌমিতার চোখ আনন্দে বড় বড় হয়ে গেলো। উঠে এসে আদিত্যর পাশে বসে আদিত্য বাহু ঝাঁকিয়ে বললো,,

— সত্যি?

— হুম।

— কোথায়?

আদিত্য কিছুক্ষণ ভেবে বলল,,,

—ছাদে। ওখান থেকে পুরো শহরের রাত দেখা যায়।
চারপাশে শুধু আলো আর আকাশ। বেশ সুন্দর পরিবেশ।

মৌমিতার মুখে উচ্ছ্বাস ফুটে উঠলো।

— দারুণ হবে!
আদিত্য সন্ধ্যায় ফোন করে শহরের অন্যতম নামকরা একটি রেস্টুরেন্ট থেকে বিশেষ ডিনারের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে।
বাড়ির কয়েকজন কর্মচারী নিঃশব্দে ছাদের সাজসজ্জা সম্পন্ন করেছে। রুফটপের চারদিকে সাদা ফেয়ারি লাইট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেলিংজুড়ে সাদা আর গোলাপি গোলাপের আস্তরন। এক কোণে ছোট্ট কাঠের পারগোলা। তার চারপাশে সুগন্ধি মোমবাতি।
মাঝখানে দুজনের জন্য গোল টেবিল। সাদা টেবিলক্লথের ওপর ক্রিস্টালের ফুলদানিতে টাটকা লিলি। দুটি ক্যান্ডেল স্ট্যান্ডে জ্বলছে সুগন্ধি মোমবাতি।
চারপাশে হালকা মিউজিক ভেসে আসছে।
মাথার উপরে অসংখ্য তারা। নিচে আলোয় মোড়ানো ঢাকা শহর। দৃশ্যটা যেন স্বপ্নের থেকেও সুন্দর।
রাত ১১ টায় আদিত্য নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী আয়াতকে ফোন করলো।

— কোথায় তুই?

— রুমে।

— ছাদে আয়।

— এখন হঠাৎ ছাদে কেন?

— এত প্রশ্ন করিস না। নোরাকে নিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে উপরে আয়।

— আচ্ছা।

ফোন রেখে আয়াত রুম থেকে বেরিয়ে এসে নোরার রুমের দিকে তাকালো। দরজা খোলা। আলো জ্বলছে ভেতরে। আয়াত দরজায় টোকা দিয়ে ডাকলো নোরা কে। নোরা মাত্রই ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে এলো। আয়াতের ডাকে দরজায় এসে দাঁড়ালো।
আয়াত নোরা কে দেখতে পেয়েই বললো,,,
— ছাদে চলো।

— কেনো?

— জানি না।
ভাই ডেকেছে।

নোরা অবাক হলেও কিছু বলল না। ওড়নাটা শালীন ভাবে মাথায় দিয়ে এগিয়ে গেলো আয়াতের সঙ্গে সঙ্গে।
ছাদের দরজা খুলতেই দুজন থমকে দাঁড়িয়ে গেলো।
চারদিকে আলো। ফুলের সুবাস আর মোমবাতির আলোয় ঝলমল করা পরিবেশ। হালকা বাতাসে দুলছে পর্দা।
সামনেই দাঁড়িয়ে আছে আদিত্য আর মৌমিতা।
দুজনের মুখে দুষ্টুমিভরা হাসি।
মৌমিতা এগিয়ে এসে নোরার হাত ধরলো।

— সারপ্রাইজ!

নোরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

আয়াত আদিত্যর দিকে তাকিয়ে বলল,,

— এসব… আমাদের জন্য?

আদিত্য হেসে উত্তর দিলো,,,

— তোদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
সেটা একটু বিশেষভাবে উদযাপন করতেই এই আয়োজন।

আয়াত কিছুক্ষণ আদিত্যর দিকে তাকিয়ে থেকে গভীর কৃতজ্ঞতায় আদিত্যকে জড়িয়ে ধরলো।

— ধন্যবাদ ভাই…

আদিত্য হেসে আয়াতের পিঠে আলতো চাপড় দিয়ে বলল,,,

— ধন্যবাদ লাগবে না। শুধু তোরা ভালো থাকিস
এটাই চাই।

মৌমিতা নোরাকে টেবিলের দিকে নিয়ে গেলো।
চোখ টিপে বলল,,

—এনজয় বান্ধুপী!

এরপর আদিত্য আর মৌমিতা দুজনকে একা রেখে ধীরে ধীরে সেখান থেকে নিচে নেমে এলো।
ছাদে রয়ে গেলো শুধু আয়াত, নোরা, মোমবাতির আলো আর তারাভরা রাত…

চলবে…….