#বাউন্ডুলে_ঘুড়ি❤️🩹 [পর্ব-১০]
~ আফিয়া আফরিন
নাজমা বেগম রূপাঞ্জনার অতীতের ব্যাপারে টুকটাক কিছু
শুনেছিলেন। কিন্তু শওকত চৌধুরীর মতো একজন সম্মানিত মানুষের কাছে ওনার মেয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সরাসরি বিস্তারিত কিছু জিজ্ঞেস করাটা বড্ড খারাপ দেখায়। কিন্তু বাগানে হিয়া আর রূপুর স্বর্গীয় মেলবন্ধন দেখার পর উনি স্থির থাকতে পারছেন না। হিয়ার ভবিষ্যতের জন্য এমন মাতৃত্বের ছায়া ওনাকে যেকোনো মূল্যে আনতেই হবে। তাই বিকেলের দিকে নাজমা বেগম আর কালক্ষেপণ না করে সোজা চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িংরুমে এসে বসলেন। ওনার সাথে ইসরাতও ছিল। শওকত চৌধুরী তাদের দেখে বেশ আন্তরিকতার সাথেই আপ্যায়ন করলেন। কুশল বিনিময়ের পর নাজমা বেগম একটু সময় নিলেন। হাতের আঁচলটা আঙুলে জড়াতে জড়াতে বেশ আমতা আমতা করে আসল কথাটা পারলেন। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন, “চৌধুরী সাহেব, কিছু মনে করবেন না। আসলে আমি সরাসরিই বলি। আপনার মেয়ে রূপুকে আমার আর আমার নাতনি হিয়ার বড্ড পছন্দ। আমি আমার ছেলে ইয়াজিদের জন্য রূপুর হাতটা আপনার কাছে চাইতে এসেছি। আমি জানি রূপুর একটা অতীত আছে, আগে বিয়ে হয়েছিল… আমার ছেলেরও হয়েছিল, ওরও একটা মেয়ে আছে। রূপুর সাথে মেয়েটার খুব ভাব। দিনশেষে আমার হিয়ার জন্য ওর চেয়ে ভালো মা আর কেউ হতে পারবে না।”
নাজমা বেগমের মুখ থেকে আকস্মিক বিয়ের প্রস্তাব শুনে শওকত চৌধুরী প্রথমটায় বেশ চমকে উঠলেন। চোখের সামনে ভেসে উঠল নিজের মনের দীর্ঘদিনের আকুলতা; যে মেয়েকে নিয়ে তিনি দিনরাত দুশ্চিন্তায় ভুগতেন, ওকে নতুন করে বাঁচানোর একটা রাস্তা বুঝি আজ স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই ওনার দ্বারে এনে হাজির করেছেন! ইয়াজিদের মতো একজন মার্জিত আর বিচক্ষণ ছেলের কথা তিনি ভাবতেও পারেননি। একটা মাতৃহীন অবুঝ শিশুর দায়িত্ব পেলে রূপুর ভেতরের মরে যাওয়া মাতৃত্ব আর বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা আবার প্রাণ ফিরে পাবে। তিনি সাথে সাথেই রাজি হয়ে গেলেন। তবুও নাজমা বেগমকে রূপুর জীবনের কালবৈশাখী ঝড় এবং সায়েমের নৃশংস প্রতারণার ঘটনার পুরো ইতিবৃত্তটা বিস্তারিত খুলে বললেন। সবটা শুনে নাজমা বেগমের বুকটা তীব্র বেদনায় মুচড়ে উঠল। তিনি আবেগী গলায় বললেন, “আহা রে! একটা মানুষ এতটা পাষাণ কীভাবে হতে পারে? আপনি একদম চিন্তা করবেন না। রূপু যদি আমাদের বাড়ি আসে, আমি ওকে নিজের মেয়ের মত মায়া দিয়ে আগলে রাখব। আর আমার হিয়া তো ওকে এখনই মায়ের মতো ভালোবাসতে শুরু করেছে। একে অপরের ওলটপালট হয়ে যাওয়া জীবনে জাদুর কাঠি হয়ে আসবে।”
শওকত চৌধুরী হাসলেন। পরক্ষণেই ওনার কপালে মৃদু চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তিনি নাজমা বেগমের দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বললেন, “ধন্যবাদ। তবে একটা আইনি জটিলতা আছে। রূপুর তো সায়েমের সাথে ডিভোর্সের কার্যক্রম এখনো চলছে। ওটা পুরোপুরি সম্পন্ন হতে এখনো ১৫-২০ দিনের মতো সময় লাগবে। এই ফর্মালিটিগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত তো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এগোতে পারছি না।”
নাজমা বেগম আশ্বস্ত করে বললেন, “সেটা কোনো সমস্যাই না চৌধুরী সাহেব। আমরা না হয় এই কয়টা দিন অপেক্ষা করব। আইনি সব ঝামেলা শেষ হোক, রূপু একদম মুক্ত হয়ে নতুন জীবনটা শুরু করুক। আমরা ধুমধাম করেই আমাদের রূপুকে ঘরে তুলে নিয়ে যাব।”
শওকত চৌধুরী শেষ সংশয়টুকু প্রকাশ না করে পারলেন না। ইতস্তত করে বললেন, “আপনার কথায় আমি মনে মনে অনেকখানি হালকা হলাম, আপা। কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত তো আসলে রূপুর। যে বড় ধাক্কা ওর ওপর দিয়ে গেছে, এরপর ওর মানসিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই আগে মেয়ে রাজি হয় কিনা সেটা দেখতে হবে। ওর মত না নিয়ে তো আমি আপনাকে পাকা কোনো কথা দিতে পারছি না, আপা।”
“তা তো অবশ্যই। জোর করে বা ওর অমতে তো কিছু করা যাবে না। আপনি ওর সাথে ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলেন, ওকে বুঝিয়ে বলুন। তারপর যা সিদ্ধান্ত হয়, আমাদের জানাবেন। রূপু রাজি হলে বাকিটা সামলানোর জন্য তো আমরা আছিই। আপনি একদম চিন্তা করবেন না।”
“ঠিক আছে আপা, আমি আজ রাতেই রূপুর সাথে বুঝে কথা বলার চেষ্টা করব।”
ইসরাত এতক্ষণ চুপচাপ তাদের কথা শুনছিল। এবার সেও হেসে বলল, “আঙ্কেল, হিয়া আর রূপু আপুর বন্ডিংটা কিন্তু অলরেডি তৈরি হয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, হিয়া পাখির মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও রূপু আপু এই প্রস্তাবটা ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।”
কথোপকথন শেষ করে নাজমা বেগম আর ইসরাত বিদায় নেওয়ার জন্য উঠল। শওকত চৌধুরী ওনাদের গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যখন ফিরে এলেন, তখন ওনার মনের দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা মেঘটা অনেকটাই কেটে গেছে।
.
বিকেলের জম্পেশ আড্ডার পর নাজমা বেগম আর ইসরাত যখন নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরে এল, তখন তাদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। ইয়াজিদ ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু একটা করছিল, মায়ের আর মেয়ের অতি উৎফুল্ল ভাবটা নজর এড়াল না। বিশেষ করে হিয়া তো খুশিতে বাগবাগুম হয়ে সারা ঘরের এমাথা-ওমাথা হুটোপুটি খাচ্ছে। ইয়াজিদ ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে হিয়াকে কোলে টেনে নিল। চুপিচুপি মেয়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, “মা, এত খুশি কেন তোমরা? কী হয়েছে, হ্যাঁ?”
হিয়া বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলল, “পাপা… আমি মা পেত্তেছি।”
ইয়াজিদ ওর কথা শুনে চরম চমকে উঠল। ভ্রু কুঁচকে গেল। সবাইকে রিজেক্ট করার পর হুট করে মেয়ে ‘মা’ পাওয়ার গল্প কোথা থেকে আনল? সে হিয়ার চিবুকটা আলতো করে নেড়ে দিয়ে বলল, “তাই? কে সে মা?”
হিয়া নিজের ঠোঁটের ওপর আড়াআড়ি করে রেখে চোখ মটকে বলল, “তোমাকে বলব না। তত বলা দাবে না। দাতু মানা তলতে।”
“আরে বলো না মা! পাপাকে বলবে না তো কাকে বলবে? বলো লক্ষ্মী সোনা!”
“আমি তো দানি না, দাতু জানে। বততে, তময় হলে বতবে।”
হিয়ার রহস্যময় কথা শোনার পর ইয়াজিদের কৌতুহল আর মনের ভেতর খটকাটা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সে হিয়াকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে সোজা মায়ের ঘরের দিকে পা বাড়াল। নাজমা বেগম তখন আলমারিতে শাড়ি গুছিয়ে রাখছিলেন। ইয়াজিদ দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে একটু গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল, “মা, হিয়া এসব কী আজেবাজে কথা বলছে? ও নাকি মা পেয়ে গেছে? তোমরা কি আবার নতুন কোনো মেয়ের সন্ধান পেয়েছ নাকি? আমাকে কিছু না জানিয়েই?”
নাজমা বেগম আলমারির দরজাটা বন্ধ করে ছেলের দিকে ঘুরে তাকালেন। মুখে রহস্যময় চওড়া হাসি ফুটিয়ে তুলে বললেন, “আজেবাজে কথা হবে কেন? ও তো একদম ঠিক কথাই বলেছে। এবার আমি আর ইসরাত মিলে মাঠে নেমেছি। খুব বেশি বিস্তারিত জানার তোর এখন কোনো দরকার নেই। শুধু এটুকু জেনে রাখ এইবার আমি আমার হিয়া পাখির জন্য এমন এক খাঁটি মা আনব, যাকে দেখার পর তোর বাউন্ডুলে মনটা আজীবন আঁচলের তলায় আশ্রয় খুঁজে পাবে।”
“কিন্তু মা, মেয়েটা কে?”
নাজমা বেগম হাত নেড়ে ছেলেকে থামিয়ে দিয়ে কড়া গলায় বললেন, “বললাম না, সময় হলে সব জানতে পারবি! এখন বেশি পণ্ডিতি না করে নিজের চরকায় তেল দে। যথাসময়ে তোকে ওর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেব।”
মা আর মেয়ের জমজমাট রহস্যের বেড়াজালে পড়ে ইয়াজিদ একপ্রকার বোকা বনে ড্রয়িংরুমে ফিরে এলো। তার তীক্ষ্ণ বিচক্ষণ মনটা হাজার চেষ্টা করেও মেলাতে পারল না যে, এই নিষ্ঠুর শহরের কোন কোণায় মা এমন এক জাদুর কাঠির সন্ধান পেয়ে গেছে!
.
রাতের খাবার শেষ করে শওকত চৌধুরী অনেকক্ষণ ধরে ড্রয়িংরুমে পায়চারি করছিলেন। বুকের ভেতরটা আশঙ্কায় দুলছে। রূপুর মনের ওপর যে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে, সেখানে নতুন কোনো বসন্তের দোলা দেওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা ওনার বিচক্ষণ মনও মেলাতে পারছিল না। তবুও বুড়ো বাপের মন তো, মেয়ের জীবন্ত লাশের মতোন দশা তিনি আর সইতে পারছেন না।
খানিক বাদে তিনি ধীরপায়ে রূপুর ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালেন। রূপু জানালার গ্রিল ধরে বাইরের অন্ধকার আকাশটার দিকে তাকিয়ে ছিল। শওকত চৌধুরী ঘরে ঢুকে মেয়ের মাথায় পরম মমতায় হাত রাখলেন। বাবার স্পর্শে রূপু ঘুরে তাকিয়ে ম্লান হাসল, “কিছু বলবে বাবা?”
শওকত চৌধুরী মেয়ের বিছানায় বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “রূপু মা, জীবনটা তো একটা বহমান নদীর মতো। একটা জায়গায় এসে পাথর পড়ে নদী থমকে গেলেও, তার স্রোত কিন্তু চিরতরে হারিয়ে যায় না। আমি চাচ্ছিলাম… তুই নতুন একটা গতি খুঁজে নে মা। নতুন করে আবার একটা ঘর বাঁধ।”
বাবার মুখ থেকে ‘নতুন ঘর’ শব্দটা শোনামাত্রই রূপুর সারা শরীর অবশ হয়ে গেল। ওর শান্ত কাজলহীন চোখজোড়া আচমকাই ক্ষোভে আর অপমানে রি রি করে উঠল। বাবার হাতটা আলতো করে সরিয়ে দিয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। ভাঙা গলায় বলল, “না বাবা! এটা কোনোদিনও সম্ভব না। আমি আর কোনো নতুন মানুষকে নিজের জীবনে জড়াতে পারব না। বিয়ে নামক কুৎসিত অভিনয়টা দেখার শক্তি আমার আর বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নেই।”
মেয়ের তাত্ক্ষণিক প্রত্যাখ্যান দেখে শওকত চৌধুরীর চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। তিনি অত্যন্ত অসহায় গলায় বললেন, “একটাবার এই বুড়ো বাপটার কথা ভাব মা! আমার তো বয়স হয়েছে, আজীবন তো তোকে মায়ার ছায়ায় আগলে রাখতে পারব না। আমি চলে যাওয়ার পর এই বিশাল পৃথিবীতে তুই কার হাত ধরে বাঁচবি রে মা? কার আশ্রয়ে থাকবি? তুই এভাবে ঘরের কোণায় একলা নিথর হয়ে বসে থাকলে আমার কলিজাটা যে প্রতিনিয়ত চুরমার হয়ে যায়!”
বাবার চোখের পানি দেখে রূপুর মনের ভেতর তীব্র অপরাধবোধের জন্ম নিল। যে বাবা ওর জন্য নিজের জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়েছে, তাকে আজ ওর কারণে এভাবে কাঁদতে হচ্ছে! রূপু চোখ বন্ধ করে একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ওর ভেতরের জেদ আর বাবার প্রতি মায়ার চরম যুদ্ধ শুরু হলো। চোখ মেলে বাবার দিকে তাকিয়ে অভিমানী সুরে বলল, “বাবা, তোমার অনুরোধে এবং নিজের অতীতের ভুলটা বুঝতে পেরে আমি ফের এই বাড়ি ফিরে এসেছি, তোমার সাথে থাকছি। কিন্তু প্লিজ… এমন কিছু করো না যাতে আমাকে আবার এই বাড়ি ছেড়ে, তোমার কাছ থেকে চিরতরে দূরে চলে যেতে হয়! আমি তোমাকে হারাতে চাই না বাবা, কিন্তু আমি আর নতুন কোনো সম্পর্কেও জড়াতে পারব না।”
“আমি তোকে কোনো জোর করছি না মা। কিন্তু যে ছেলেটির প্রস্তাব এসেছে, সে আর ওদের পরিবার এককথায় চমৎকার। ওর একটা ছোট্ট মেয়ে আছে, চারুর বয়সী। মেয়েটাও তোর মাতৃত্বের অভাব কিছুটা পূর্ণ করবে। তুই অন্তত একবার… শুধু একটিবারের জন্য ওনাদের মুখোমুখি বসে কথা বলে দেখ। যদি ওদের কথা শোনার পর তোর মন সায় না দেয়, আমি তোকে আর কোনোদিন এই বিষয়ে একটা শব্দও বলব না। এই বুড়ো বাপের শেষ অনুরোধটুকু কি তুই এভাবে ফিরিয়ে দিবি মা?”
চারুর বয়সী একটা মেয়ে, বাবার ব্যাকুল আকুতি, বারবার অনুরোধের সামনে রূপুর অনমনীয় দেয়ালটা আস্তে আস্তে ভাঙতে শুরু করল। তবুও সে চরম অপরাধবোধের সাগরে তলিয়ে যেতে লাগল। একদিকে নিজের ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া অতীত, আর অন্যদিকে বাবার মুখের এক চিলতে হাসি! রূপু উত্তর দিতে পারল না, শুধু শূন্য দৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে ভেতরের হাহাকারটাকে চেপে রাখার চেষ্টা করতে লাগল।
অবশেষে দীর্ঘ দুদিন ধরে নানাভাবে বুঝিয়ে শওকত চৌধুরী ওনার জেদি মেয়েটাকে রাজি করতে পেরেছেন। তবে রূপু রাজি হয়েছে শুধুমাত্র ওই ছেলেটার সাথে একটু সামনাসামনি বসে কথা বলার জন্য। রূপু নিজের মনে মনে অবশ্য ছক কষে নিয়েছে; ও ওখানে যাবে, কথা বলবে আর সরাসরি অনীহার কথা জানিয়ে চলে আসবে। ও বিয়ে বা সম্পর্কের দিকে এক কদমও এগোতে চায় না, অবাধ্য মন বিন্দুমাত্র সায় দিচ্ছে না। শুধুমাত্র বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে তার শেষ অনুরোধটুকু রাখার জন্যই এই দেখা করতে যাওয়া!
রেস্তোরাঁর একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা আর টেবিল নম্বর আগে থেকেই রূপুর হাতে দেওয়া হয়েছিল। দুপুরের ঠিক পরপরই নিঝুম সময়ে দুজন মানুষ একই সময়ে, একই টেবিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওনা দিল। অথচ অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ওদের দুজনের কেউই ওপাশে থাকা মানুষটার আসল খবর বিন্দুমাত্র জানে না!
রূপু রেস্তোরাঁর কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। নির্দিষ্ট করে দেওয়া কর্নারের টেবিলটার দিকে ধীরপায়ে এগিয়ে যেতেই পা দুটো আচমকা মেঝেতে আটকে গেল। ওদিকে টেবিলের ওপাশের চেয়ার টেনে ঠিক একই মুহূর্তে এসে বসেছে ইয়াজিদ! আচমকা এই জনাকীর্ণ ক্যাফের এক কোণায় একে অপরকে এভাবে হুট করে মুখোমুখি দেখে দুজনেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেল! চারপাশের কোলাহল নিমেষেই উধাও হয়ে গেল।
দুজনেই চরম বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল। বুঝতে বাকি রইল না কাহিনী কী! ওরা অস্ফুট স্বরে প্রায় একই সাথে বলে উঠল, “আপনি?”
.
.
.
চলবে…
[কার্টেসী ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ]
শব্দ সংখ্যা— ১৭২৪

