বৃষ্টিবিলাস পর্ব-২৯+৩০

0
598

#বৃষ্টিবিলাস
২৯+৩০
#writer_Mousumi_Akter

বৃষ্টিভেজা শহরে তিনজন ক্ষুদার্ত প্রেমিক-প্রেমিকা ভিজছে। গ্রীস্মের কড়া রোদের মতোই শুকিয়ে আছে তাদের প্রাণ।প্রেমহীন হৃদয় কি আর বৃষ্টির পানিতে তৃষ্ণা মেটাতে পারে।রাজ আর অহনা হেঁটে চলেছে আনমনে।কারো মুখে কোন কথা নেই।বেশ কিছুক্ষণ নিরবতার পরে রাজ শুকনো একটা কাশি দিয়ে গলা ক্লিয়ার করে নিলো।

“রাজ অনেক ভেবে চিন্তে প্রশ্ন করলো,কি হলো অহনা কিছু বলো।শুধুই কাঁদছো আর হাঁটছো এভাবে আর কতক্ষণ।আমি বুঝতে পারছি মারাত্মক কিছু একটা বয়ে গিয়েছে তোমার উপর দিয়ে।নাহলে এমন ছটফটে মেয়ে এমন উদাসীন আর নিশ্চুপ হতে পারেনা।”

“অহনা মধ্যরাস্তায় থেমে গিয়ে রাজ কে বললো,নিজের বেষ্ট ফ্রেন্ড এর জীবন যার জন্য নষ্ট হয় সে কি নিশ্চুপ হবেনা রাজ।সেই বেষ্ট ফ্রেন্ড যে সারাজীবন আমার ভালোর কথা ভেবেছে।সেই বেষ্ট ফ্রেন্ড যার জন্য নিজের জীবনের সব সুখ ত্যাগ করতে পারি।”

“রাজ বেশ অবাক হয়ে বললো,ইউ মিন তোমার জন্য রোজার কিছু হয়েছে অহনা।”

অহনা মধ্যরাস্তায় বসে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো,

“আমার জন্য রোজার জীবন টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে রাজ।আমার বোন রোজা,যাকে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড বলে মানি,ছোট বেলা থেকে যার হাত ধরে বড় হয়েছি, যে আমার ভালো চেয়েছে ছোট বেলা থেকে আজ আমার জন্য তার জীবন টা সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।আমি কিভাবে রোজাকে এই মুখে দেখাবো যখন রোজা জানবে সে যাকে প্রাণের থেকে বেশী ভালবাসে তার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।তাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি।আমি কিভাবে আমার এই মুখ দেখাবো।নিয়তি এমন নিষ্টুর খেলা কিভাবে খেললো আমার আর রোজার সাথে।পৃথিবীতে কি আর ছেলে ছিলো না রাজ।কেনো ওই একটা ছেলে ই আসলো আমাদের দুজনের মাঝে।আমি এখন কি করবো রাজ।বন্ধুত্বের অপমান আর বিশ্বাসঘাতকতা আমি করতে পারবো না।আমি ম*রে যেতে চাই রাজ।আমাকে কেনক বাঁচালেন।জীবন টা এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে না পারবো কোনো কিছুর সমাধান করতে না পারবো নতুন করে কিছু করতে।একসাথে ভালবাসা আর বন্ধুত্ব দুটোই হারিয়ে যাবে আমার।এমন ভয়ানক কষ্ট নিয়ে বাঁচতে পারবো না।”

রাজ অহনার দিকে তাকিয়ে ভাবছে মেয়েটা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।আজ তার মতোই কঠিন একটা জায়গা এসে দাঁড়িয়েছে।শুনেছে মেয়েরা নাকি হিংসুটে হয় আর এই অহনা মেয়েটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।নিজের বোনের জন্য, বোনের ভালো থাকার জন্য পাগ*লের মতো রাস্তায় ঘুরছে।রোজার মতোই ভীষণ ভালো তার বোন।রোজার সব গুন এই মেয়েটার মাঝে আছে।কোনো ম্যাজিক থাকলে রাজ এক্ষুণি অহনার মনটা ভালো করে দিতো।দুজন অপরিচিত মানুষের আবার ও বৃষ্টিবিলাস হচ্ছে কঠিন এক পরিস্হিতিতে।
রাজ অহনাকে বললো,আমার জীবনে প্রথম এত ভালো মেয়ে দেখলাম।নিজের কষ্ট হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে আমার অহনা।তোমার মতো সিসুয়েশন এ আজ আমি দাঁড়িয়ে আছি অহনা।সেইম আমার জন্য আমার একমাত্র বেষ্ট ফ্রেন্ড শুভর জীবন ও এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।আমি সে কারণেই রোজার কাছে ছুটে এসেছি।কিন্তু তুমি কি করেছো যার জন্য রোজার জীবন নষ্ট হয়েছে।তোমার বিয়ে শুভর সাথে ই বা কিভাবে ঠিক হলো।

“আমি জানিনা কেনো আমার মা রোজাকে মিথ্যা বলেছিলো।মিথ্যা ছবি দেখিয়েছিলো।রোজাকে বিয়ে না করতে বোঝাচ্ছিলো।রোজা ও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সে এই বিয়ে করবেনা। রোজার বিয়ে শুভর সাথেই ঠিক হয়েছিলো।রোজার মাথায় আমার মা ঢুকিয়েছিলো একজন বয়স্ক মানুষের সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে।মা রোজাকে কার ছবি দেখিয়েছিলো জানিনা।আমিও আমার মায়ের মুখেই শুনেছি যার সাথে রোজার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো সে অনেক বয়স্ক লোক।তাই আমিও চাইনি রোজার জীবন টা এইভাবে নষ্ট হোক।রোজাকে বাড়ি ছেড়ে পালাতে সাহায্য করলাম।আর সর্বনাশের শুরু সেখান থেকেই হলো।রোজা বাড়ি ছেড়ে পালালো।আর সেখান থেকেই নতুন অধ্যায় শুরু হলো।এলোমেলো হয়ে গেলো সব কিছু।রোজার দেখা হলো আপনাদের সাথে।রোজা আর শুভকে বিধাতা আবার এক করলো।যে ভালবাসার মিলন উপরওয়ালা চাই সে মিলন কি মানুষ শ*য়তানি করে ভাঙতে পারে।ওদের দেখা হলো ভীষণ ভালবাসা হলো দুজনের মাঝে।প্রাকৃতিক নিয়মে যখন ওদের ভালবাসা হয়ে গেলো ততদিনে রোজা আর শুভর বিয়ে ভেঙে গিয়েছে।আমাকে না জানিয়েই আমার বিয়ে শুভর সাথে ঠিক করা হলো।আমাকে বলা হয়েছিলো আমার ভাইয়ার ফ্রেন্ডের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম।মা আমাকে বলতো বিয়ের আগে ছেলে মেয়ের কথা বলা ঠিক না।শুভর তোমাকে ভীষণ পছন্দ হয়েছে।সব সময় তোমার কথা শোনে শুভ।কতগুলো মিথ্যা আমার মা আর শুভর বাবা মিলে বলেছে।শুভর বাবা ও বলতো শুভ আমাকেই বিয়ে করতে চায়।অথচ সেই শুভ ছোট বেলা থেকে রোজাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে আসছে।যার আশে পাশে কোথাও আমি নেই।রোজা বাড়ি ফিরলে আমি জানতে পারলাম সবটা।দেখলাম শুভ রোজার অভিমান ভাঙাতে দাঁড়িয়ে আছে রোজার জানালার কাছে, আর রোজা কাঁদছে।এই ভালবাসা কি কোনো মানুষ আটকাতে পারে বলুন রাজ।”

“রাজ মাথার হাঁত দিয়ে বললো,ওহ মাই গড।এখানে তো তোমার কোনো দোষ নেই।রোজার জীবন নষ্ট হলো কিনা জানিনা তবে তোমার মা নিজ হাতে তোমার জীবন নষ্ট করলো।এক সাথে কতগুলো জীবন নিয়ে খেললো বাট হুয়াই।ঠিক এইভাবেই আমিও জানতাম না রোজা ই সেই মেয়ে যাকে শুভ ছোট বেলা থেকে ভালবাসে।রোজা আমাকে বলেছিলো শুভ তাকে ভালবাসে। আমি হেসে বলেছিলাম শুভ কখনোই তোমাকে ভালবাসবে না।কেননা ওর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে আর ছোটবেলা থেকে শুভ তাকেই ভালবাসে।সেখান থেকেই ওদের দূরত্ব শুরু হলো।”

“তাহলে এইজন্য রোজা বলছিলো শুভ ওকে ঠকিয়েছে।”

“হুম বাট অহনা তুমি তো আমাকে বলেছিলে শুভকে তুমি ভালবাসো?এখন কি করবে?”

“প্লিজ রাজ প্রমিজ করুণ এই কথা কাউকে বলবেন না।মনের মাঝে হঠাত গড়ে ওঠা এই ভালবাসা আমি কোনদিন রোজা আর শুভকে বুঝতে দিতে চাইনা।”

“রোজার বোন আর ফ্রেন্ড হিসাবে সত্যি তুমি বেষ্ট অহনা।”

“আর আপণি কি কম?আমি কি জানিনা রোজাকে আপনি মনে মনে কতটা ভালবাসেন।”

–রাজ হাত বাড়িয়ে দিলো অহনার দিকে।আসো ফ্রেন্ডশীপ করি অহনা।তোমার আর আমার ফ্রেন্ডের ভালোবাসা বাঁচাতে এক অন্যরকম ফ্রেন্ডশীপ করি।তোমার আর আমার মনের কথা না হয় তুমি আর আমি জানলাম রোজা আর শুভর অজানায় থাকুক।ওরা না হয় আমাদের মতো না পুড়ুক।ওরা না হয় আজ ই কষ্টের ইতি টেনে ভালো থাকুক।অহনা রাজের হাত শক্তভাবে চেপে ধরলো আর বললো আমাদের একটু ছোট্ট অভিনয় করতে হবে।দুজনেই হাসলো।রাজ বললো,অহনা চলো।শুভ আমাকে ফোনের উপর ফোন দিয়েছে। আমি যেনো দ্রুত গিয়ে রোজার অভিমান ভঙাতে পারি।এখন তোমার আর আমার কাজ তাদের এক করা।অহনা বললো চলুন।

এই বন্ধুত্ব হয়তো ধীরে ধীরে কঠিন ভালবাসায় পরিণত হবে। দুটো ভাঙা হৃদয় হয়তো এক হবে।

অহনা আর রাজ বাসায় প্রবেশ করলে রিনা পারভীন বললেন,

“ছেলেটা কে অহনা?আর এইভাবে ভিজেছো কেনো?কোথায় ছিলে এতক্ষণ।”

সবার মনে একটা সন্দেহের সৃষ্টি হলো।অহনার সাথে ছেলেটিকে দেখে।

“অহনা মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,সব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই মা।”

রিনা পারভীন ভীষণ অবাক হয়ে গেলো মেয়ের কথা শুনে।তার মেয়ে তো কখনো এমন কথা বলার মেয়ে না।

“নাহিদ এসে রাজ কে চিনে ফেললো।রাজ দেখেই বললো,আরে ব্রো?হোয়াট এ প্রেজেন্ট সারপ্রাইজ।”

“রাজ বললো,ইয়েস ব্রো চলে এলাম সারপ্রাইজ দিতে।”

“রিনা পারভীন বললেন,কে নাহিদ ছেলেটা।”

“মা চিনো নি।সোহানার দেবর, বিয়েতে এসছিলো তো।”

“ওহ আচ্ছা সরি বাবা।আমি বুঝতে পারিনি।কেমন আছো বাবা।কিছু মনে করো না কিন্তু।এসো চেঞ্জ করে নাও।”

রাজ চেঞ্জ করে নিলো,অহনাও চেঞ্জ করে নিলো।অহনা বললো মা রোজার সাথে দেখা করে আসি।রাজ আর অহনা দুজনে রোজার রুমে গেলো দুজন।রোজা জানালা ধরে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে।অহনা রোজাকে ডাক দিতেই রোজা পেছন ফিরে তাকালো।রাজ কে ঘরের মধ্য প্রবেশ করতে দেখেই রোজা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।এটা কি সত্যি রাজ।এই ওয়েদার রাজ কিভাবে এলো।রোজার চাহনি দেখেই রাজ বুঝলো রোজা খুব অবাক হয়েছে রাজ কে দেখে।

“রাজ বললো,এত অবাক হওয়ার কিছু নেই ভাবিজি।আমি আপনার দেবর জি রাজ।আপনার খেদমতের জন্য হাজির।”

“রোজা কপাল কুচকে তাকিয়ে বললো দেবর?”

“ইয়েস দেবর।”

“কিভাবে দেবর।আর কোন কালের দেবর।”

“বাইরে আমার বন্ধু জ্বর নিয়ে ভিজছে এখন এত কিছু বলার সময় নেই।যান আমার বন্ধুর মেডিসিন হয়ে তার পাশে যান ভাবিজি।”

“রোজা মন খারাপ করে বললো,উনাকে নিয়ে যান প্লিজ রাজ ভাইয়া।আমি আর পারছি না।উনাকে নিয়ে যান প্লিজ।”

“রাজ একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস টেনে বললো,আমার কথা শোনার পর যদি মনে হয় শুভর যাওয়া উচিত তাহলে শুভ আর কোনদিন আসবে না।আমি কথা দিলাম।”

“কি কথা? ”

“রোজা একটা কথা বলতেই তোমার কাছে ছুটে আসা।আমি যে কথা গুলো বলেছিলাম সব সত্য।তবে সেই মেয়েটা তুমি।তোমার সাথেই শুভর বিয়ে ঠিক হয়েছিলো।”

“আমি কিভাবে হবো সে।আমার সাথে যার বিয়ে ঠিক সেতো এখন অহনার ফিওন্সি।”

“অহনা বললো,হ্যাঁ রোজা আমার বিয়ে শুভর সাথেই ঠিক হয়েছিলো।আসলে তুই পালিয়ে যাবার পর একটু অশান্তি হয়েছিলো।পরিস্হিতি স্বাভাবিক রাখতে আমার আর শুভর বিয়ে ঠিক করা হয়।কিন্তু শুভ আজ ও জানে তোর সাথেই ওর বিয়েটা হচ্ছে।তুই নড়াইল যাওয়ার পর ই আমি জানতাম শুভ তোর সাথে আছে।রাজ আমাকে ছবি দেখিয়েছিলো।এখানে আমি শুভর ছবি দেখেছিলাম।আর দুই এ দুই এ মেলালাম।আমি কিন্তু ইচ্ছা করেই বলতাম আমার সাথে যার বিয়ে ঠিক মারাত্মক কিউট আই মিন যায় বলতাম তোর মনে কিওরিসিটি বাড়াতে।একটা বিশাল সারপ্রাইজ দিতে।ভেবেছিলাম শুভ আগে তোকে আব বলুক তার পর পরিবারের সবার ভুল ভাঙাবো।কিন্তু তার আগেই তো তুই ভুলে বুঝে চলে এলি।”

রোজার মাথা চক্কর দিচ্ছে।কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।

“অহনা রোজাকে বুঝিয়ে বললো,মনে আছে রোজা আগে আমরা যে বাসায় থাকতাম একটা ভাইয়া ছিলো আমাদের সামনের বাসার।তোকে বলতো বড় হলে আমি তোমাকে বিয়ে করবো।সেই ভাইয়াটায় আজকের শুভ।সেই ছোট বেলা থেকে লালন করা ভালবাসার পূর্ণতা পেতেই
শুভ ভাইয়া ফ্যামিলিতে বলে তোর সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছিলো।কিন্তু আমার মায়ের জন্য সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।এখানে কারো কোনো দোষ নেই।সব দোষ আমার মায়ের।ভাইয়া নিচে ভিজছে প্লিজ যা রোজা।”

“কিন্তু….তুই কষ্ট পাবিনা।”

“আরে ধূর পাগলী।আমি যা বলতাম সব ইচ্ছা করেই।তুই আগে যা না।”

“শুভ রাজ কে দেখে ফ্লায়িং কিস ছুড়ে মেরে বললো লাভ ইউ ভাই সংসার টা ঠিক করে দেওয়ার জন্য।”

রোজার মনের মধ্য থাকা বিশাল বড় পাথর টা সরে গেলো।মন হালকা হয়ে গেলো।এক নিমিষেই খারাপ মনটা ভালো হয়ে গেলো।দূরন্ত পাখির মতো ছুটে গেলো প্রিয়তমর কাছে।মাত্র কয়েক টা পা গেলেই সে শুভকে আকড়ে ধরে ভালবাসি বলতে পারবে।
রোজা দ্রুত গতিতে ছুটে গেলো।শুভর দুই ঠোঁটে যেনো বিশ্ব জয় করা হাসি।শুভর কাছাকাছি এসে আর পা চলছে না রোজার।শুভর থেকে খানিক টা দূরে দাঁড়িয়ে ভিজছে রোজা।তখন যেনো আরো বেশী বৃষ্টি শুরু হলো।শুভ কে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তার।কেনো সেদিন কাকির কথায় পালিয়ে গেলাম।তাহলে আজ সব কিছুই ঠিকঠাক থাকতো।

রোজাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শুভ বললো,

“কাছে আসবে না রোজা।গায়ে হাত দিয়ে দেখবে না আমার কত জ্বর।তুমি আমার ভালো থাকার মেডিসিন।একবার কপালে হাত ছুইয়ে দাও প্লিজ।আমি সুস্থ হয়ে যাবো।তুমি কাছে না থাকলে ভাল না বাসলে অসুখেরা ভর করে শরীর জুড়ে।”

রোজা শুভর সামনে গিয়ে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো এবার।রোজার এবার আরো বেশী কষ্ট হচ্ছে।নিজেকে অপরাধী লাগছে।তার বিশ্বাস করা উচিত ছিলো শুভকে।

রোজার কাঁন্না থামাতে শুভ বললো,

“এইভাবে কাঁদছো কেনো?এই বুইড়া কে তোমার পছন্দ নয় তাইনা।”

রোজা নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরলো শুভকে।জড়িয়ে ধরে কেঁদেই যাচ্ছে।ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে রোজা।।
জ্বরের তাপে পুড়ে যাচ্ছে শুভর শরীর।দুটো মানুষের হৃদপিন্ড একসাথে রেসপন্স করছিলো।রোজা কি বলবে বুঝতে পারছে না।কেঁদেই যাচ্ছে।রোজার খেয়াল হলো বৃষ্টিতে ভিজে যেনো তাপমাত্রা আরো বেড়ে গিয়েছে শুভর।এই ঠান্ডা আবহাওয়াতেও শুভর গায়ে ভীষণ তাপ।রোজা শুভর কপাল আর বুকে হাত দিয়ে দেখলো ভীষণ জ্বর।

শুভর বুকে মাথা রেখে বললো,

“আপনি কি সত্যি পাগল।এই জ্বর নিয়ে এইভাবে ভিজছেন কেনো।আপনার কিছু হলে আমার কি হবে।”

“মিস প্রেমিকা প্লিজ কাঁদবেন না।আপনি এসেছেন তার মানে আপনার রাগ অভিমান মিটে গিয়েছে।আপনার প্রেমিক এর এখন কিছুই হবেনা।”

“রোজা অভিমানী সুরে বললো,সব দোষ আপনার শুভ।সব কিছু আপনার জন্য হয়েছে।”

“আমি জানি মিস প্রেমিকা সব দোষ আমার।প্রেম করার সময় সবটা বললে এত কিছু হতোনা।”

“কেনো বলেন নি হুম আপনি সেই।বললে কি হতো শুনি।খুব পঁচা আপনি।আপনি আমাকে ছোট বেলা থেকে কিভাবে ভালবাসেন হুম।”

“ভ্রুর দিকে তাকাও?মনে পড়ে কিছু।”

“মানে এটা সেই আপনি।অথচ আমাকে বলেন নি।”

“হ্যাঁ সেই আমি।নাউ কিস মি বেবি।”

“এই অসুস্থ অবস্থায় মজা করছেনএই জ্বর নিয়ে কিভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।”

“যতক্ষণ তুমি ছিলেনা আমার মনেই হয়নি জ্বর হয়েছে।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে জ্বর হয়েছে।আমি না ভিজলে তো তুমিও আসতে না।তাহলে আমার বৃষ্টিবিলাসী রোজাপরীর তার ড্রিমবয়ের সাথে বৃষ্টিবিলাস কিভাবে হতো শুনি।এই ধরো আজ আমাদের বৃষ্টিবিলাস হচ্ছে।”

“চলুন বাড়ির ভেতরে।অনেক হয়েছে বৃষ্টিবিলাস।আপনাকে এই অবস্থায় আমি সহ্য করতে পারছি না।”

“শ্বশুর বাড়ি কি এখনি যাওয়া ঠিক হবে।”

“আপনার শ্বশুর বাড়ি তো চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।”

“কিভাবে?”

“আপনার শুভ বিবাহ আমি বাদে অহনার সাথে ঠিক হয়েছে।”

“আর ইউ ম্যাড!কে ঠিক করলো।”

“আপনার বাবা।দোষ তার না। আমি আপনার বাবাকে ফোন করে অনেক আজেবাজে কথা বলেছিলাম।”

“রাজ কে ডাকো এক্ষুণি আমি বাসায় যাবো।”

“এভাবে রেগে গেলেন কেনো?রাজ ভাইয়া এসছে কিভাবে জানেন।”

“আমার সংসারে আ*গুন লাগিয়েছিলো। আমি কি ওকে বসে থাকতে দিয়েছি।টেনে টুনে নিয়ে এসছি। ”

“আপনি ও না পারেন ও।”

“শুভ রোজার কপালে ঠোঁট ছুইয়ে বললো,আই ওয়ান্ট টু ইউ রোজা এট এনি কস্ট।আমার কোনো ঠুনকো চাওয়া নয় যে আমি তোমায় পাবোনা।নিজেকে তোমার যোগ্য করে গড়ে তোমার বাবার কাছে চেয়েছি।”

জীবনে প্রথম বার কারো ঠোঁটের আলতো স্পর্শতে লজ্জা পেলো রোজা।

দুজনের ভীষণ ভুলবোঝাবুঝি মিটে পূর্ণতা পেলো ভালবাসার।

“শুভ রোজার মাথায় ভেজা ওড়নার ঘোমটা টেনে বললো,কে কার সাথে কার বিয়ে ঠিক করেছে জানিনা রোজা।আমি আসবো তোমাকে বিয়ে করতে।আমার বউ বানিয়ে তোমাকে নিয়ে যাবো।খুব শিঘ্রই সব সমস্যার সমাধান করে ফিরে আসবো।”

রোজার রুমের জানালা দিয়ে শুভ আর রোজার ভালবাসা দেখে রাজ আর অহনা দুজনেই মুগ্ধ।সুন্দর ভালবাসা দেখতে আসলেই ভালো লাগে।কোথাও যেনো রাজ আর অহনার মনের গহীনে যন্ত্রণা হচ্ছিলো।

সেদিন রাতে রাজ শুভর সাথে শুভর বাসায় চলে গেলো।

চলবে??