#বৃষ্টিবিলাস
৩১+৩২
#writer_Mousumi_Akter
–প্রচন্ড জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে শুভর শরীর।ধীরে ধীরে শরীর দূর্বল হয়ে যাচ্ছে।তবুও রোজার কাছ থেকে যেতে মন চাইছে না তার।প্রিয়তমা কাছে থাকলে বোধহয় পৃথিবীর সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।শুভর ক্ষেত্রে ও তেমন ই হচ্ছে।রাজ অহনার বাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলো।রাজের মন এখন সম্পূর্ণ ফ্রেশ, মন থেকে অনেক বড় বোঝা নেমেছে।তার করা ভুলটা শুধরাতে পেরেছে।রাজ শুভর কাধের উপর দিয়ে হাত দিয়ে নিজের উপর শুভর ভার নিয়ে শুভকে শুভর বাসায় নিয়ে গেলো।রোজা আর অহনা চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে সেই পথের দিকে যে পথে শুভ আর রাজের গাড়িটা গিয়েছে।
–রাত একটা বাজে তখন।শুভর মা বাবা কেউ ঘুমোয় নি তখন।একমাত্র ছেলের চিন্তায় দরজা খুলেই অপেক্ষা করছে দুজনে।ফোন ও তুলছে না, অসুস্থ ছেলেটা কোথায় গেলো কেউ জানেনা।দুঃচিন্তার শেষ নেই। চারদিকে বজ্রপাত হচ্ছে।কোথাও কোনো বিপদ হলো কিনা তার ও ঠিক নেই।শুভর মা বাবা অহনার সাথে বিয়ে ঠিক নিয়ে সারারাত দুজনে ঝগড়া করে যাচ্ছে।শুভর মায়ের কথা একটু সময় নেওয়া উচিত ছিলো হুট করেই এভাবে অহনার সাথে বিয়ে ঠিক করা উচিত হয়নি।শুভর বাবার কথা মান -সম্মান বাঁচানোর জন্য এটা ছাড়া উপায় ছিলো না।শুভর বাবা আতিকুল আহমেদ নিজের সিদ্ধান্তে অনড়।তার কথা এখন শুভকে এই অহনাকেই বিয়ে করতে হবে।অন্তরা আহমেদ এর কথা ঘর সংসার ছেলে করবে আমরা না।জোর করে কিছু হলে পস্তানো ছাড়া উপায় থাকবে না।মা-বাবার প্রচন্ড ঝগড়ার মাঝে ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শুভকে নিয়ে রাজ হাজির হলো।
শুভর এমন অবস্থা দেখে মা বাবা দুজন ই ছুটে গেলো।
–অন্তরা আহমেদ বেশ উত্তেজিত হয়ে গিয়ে ছেলেকে ধরলো আর বললো,রাজ শুভ কোথায় ছিলো।এইভাবে ভিজেছে কেনো।জ্বর নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলো কাউকে কিছু না বলেই।এই জ্বর নিয়ে আবার ভিজেছে।কোথায় গিয়েছিলো শুভ।
রাজ বুঝতে পারলো শুভর মা অনেক চিন্তায় ছিলো এতসময়।তাই একসাথে এতগুলো প্রশ্ন করছে একসাথে।রাজ বললো,
“আন্টি আগে ওর চেঞ্জ করাতে হবে।পরে আমি সবটা বলছি।”
“আতিকুল আহমেদ বললেন,বাবা রাজ তুমি বা কিভাবে শুভ কে পেলে।এই ওয়েদারে তুমি নড়াইল থেকে ফিরলে কখন।”
“বলছি আঙ্কেল আগে চেঞ্জ করিয়ে দিন শুভর।জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে শরীর।”
আতিকুল আহমেদ এবং অন্তরা আহমেদ দুজনেই ছেলেকে ধরে তার রুমে নিয়ে গেলো।অন্তরা আহমেদ আলমারি থেকে শুভর শার্ট প্যান্ট বের করে আনলেন।রাজ শুভকে ধরে চেঞ্জ করানোর চেষ্টা করলে শুভ বললো,
“ওয়েট আমি পারবো।নিজেই চেঞ্জ করছি।তার আগে বাবা তুমি বলো আমার বিয়ে কোথায় ঠিক করেছো?”
আতিকুল আহমেদ এর কপালে চিন্তারেখা ফুটে উঠেছে।ভেবেছেন আজ ই ছেলেকে সব টা খুলে বলবে কিন্তু এই পরিস্হিতিতে বলা ঠিক হবেনা।তাই কথা ঘুরিয়ে বললেন,
“যে বাড়িতে বলেছিলে সে বাড়িতেই ঠিক করেছি।”
“কোন বাড়িতে ঠিক করেছো সেটা জানতে চাইনা বাবা।সেই মেয়ের সাথে ঠিক করেছো কিনা সেটা জানতে চেয়েছি।”
“শুভ এসব নিয়ে আমরা পরে কথা বলবো।তুমি আগে চেঞ্জ করে নাও বাবা।”
শুভর চোয়াল শক্ত হয়ে এসছে।এমনিতেই জ্বরে কাঁপছে।কাঁপা কন্ঠে বললো,
“আমার কথার উত্তর দাও বাবা।আমার বিয়ে কার সাথে ঠিক হয়েছে রোজা নাকি অহনা?”
আতিকুল আহমেদ আর অন্তরা আহমেদ দুজনেই যেনো চমকে গেলেন।অহনার নাম শুভ কিভাবে জানলো।আতিকুল আহমেদ নিজের ওয়াইফ এর মুখের দিকে তাকিয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকালো।ভীষণ অবাক হয়ে শুভকে বললো,
“তুমি অহনার নাম কিভাবে জানলে বাবা।”
“রোজা আমাকে বলেছে বাবা।আমি রোজার কাছে গিয়েছিলাম।তুমি ঠিক কি ভেবে এমন সিদ্ধান্ত নিলে।আর ইউ ক্রেজি বাবা।আমার জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় টা তোমার উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম আর তুমি কিনা আমার বিশ্বাসের এই মূল্য দিলে।”
“রাজ শুভকে বললো,শুভ আগে চেঞ্জ করতে হবে ওয়াশ রুমে চল।এসে কথা বলিস।সময় ফুরিয়ে যাচ্ছেনা।”
রাজ এক প্রকার জোর করেই শুভকে নিয়ে গেলো ওয়াশ রুমে।দরজার বাইরে রাজ দাঁড়িয়ে আছে ভেতরে শুভ চেঞ্জ করছে।
“আতিকুল আহমেদ রাজের কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বললেন,বাবা রাজ কি ব্যাপার তুমি কি কিছু জানো।পাশে অন্ত্রা বেগম ও দাঁড়িয়ে আছেন। দুজেনি অধীর আঘ্রহে অপেক্ষা করছে রাজের উত্তরের আশায়।”
রাজ ও বেশ চিন্তিত হয়ে আছে।গভীর চিন্তায় উপরের ঠোঁট দিয়ে নিচের ঠোঁট চেপে ধরে রেখেছে।রাজ চুলের মধ্য হাত চালিয়ে দিয়ে বললো,
“আঙ্কেল কাজটা সত্যি ঠিক হয়নি।এভাবে শুভকে না জানিয়ে শুভর সাথে অহনার বিয়ে ঠিক করেছেন।আমি যতদিন শুভকে চিনি ওর মুখে রোজা ছাড়া আর কারো নাম শুনিনি।আপনারা মা বাবা হয়ে বুঝতে পারলেন না আপনাদের ছেলে কি চায়।”
“দেখো বাবা আমরা তো রোজার সাথেই শুভর বিয়ে ঠিক করেছিলাম।কিন্তু রোজা।”
“শুভ সব টা জানে আঙ্কেল।রোজা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।কিন্তু কেনো গিয়েছিলো আপনারা খোজ না করে, একটু না ভেবেই এমন সিধান্ত নিয়ে নিলেন।”
“যে মেয়ে আমাকে ফোন করে নিজে বললো সে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে যাচ্ছে।আমার ছেলে তার যোগ্য না।আমার অতটুক ছেলে কিনা তার বাবর বয়সী।রাগে আমার শরীর জ্বলে যাচ্ছিলো।বাবা হিসাবে তো আমার উচিত আমার ছেলের বিয়ে দেওয়া।এক মেয়ে পালিয়ে গিয়েছে আমি কিভাবে বুঝবো যে সে আবার ফিরে আসবস।আমার মাথায় এখন কিছুই কাজ করছে না বাবা।”
“রাজ বললো বুঝতে পারছি আঙ্কেল।এখানে কারো কোনো দোষ না।কেউ একজন গেম খেলেছে।আর সব কিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।”
এরই মাঝে শুভ চেঞ্জ করে বেরিয়ে এলো।দরজা থেকে বেরোনোর সময় পড়ে যাচ্ছিলো।রাজ আর আতিকুল আহমেদ দুজনেই ধরে বিছানায় সুইয়ে দিলো।অন্তরা আহমেদ ছেলের মাথায় চুমু দিয়ে দোয়া পড়ছেন।জ্বরে হুঁশ নেই শুভর।
ক্লান্ত কন্ঠে শুভ তার বাবাকে জ্বরের ঘোরে বলছে,
“কেনো করলে বাবা এমন?”
আতিকুল আহমেদ ছেলের এমন কাতর কন্ঠে ভীষণ কষ্ট পেলেন।ছেলের একদম কাছে গিয়ে বললেন,
“কি করেছি বাবা?”
“কি ভেবেছিলে আমি কোনদিন কিছুই জানতে পারবোনা।আমার ইমোশন নিয়ে কেনো খেলা করলে বাবা।তুমি জানোনা সেই ছোট্ট বেলা থেকে আমি রোজাকে শুধুই রোজাকে ভালবাসি।আমার জীবনে রোজা ছাড়া আর কারো অস্তিত্ব নেই।সব কিছু জানার পরেও হুয়াই বাবা হুয়াই।”
“বাবা আগে সুস্থ হও তুমি।তোমার শরীর ঠিক নেই।”
“আমার এই অসুস্থতার কারণ কি তুমি বুঝতে পারছো না।এটা আমার সুখের অসুখ বাবা।”
“হা করো বাবা। আগে মেডিসিন টা খেয়ে নাও।”
“মেডিসিন নয় বাবা।আমার রোজা চাই রোজা।রোজা ছাড়া পৃথিবীর কোনো মেডিসিন আমাকে সুস্থ করতে পারবে না।”
“এসব বলতে নেই বাবা।আগে মেডিসিন টা খাও বাবা।”
শুভ আতিকুল আহমেদ এর হাত নিজের দুইহাতে জড়িয়ে ধরে বললো,
“বাবা জীবনে যা চেয়েছি তাই এনে দিয়েছো।আমার জীবনের শেষ চাওয়া রোজা বাবা।রোজা ছাড়া আমি বাঁচবোনা।প্লিজ রোজাকে এনে দাও।”
অন্তরা আহমেদ ভীষণ ইমোশনাল। ছেলেকে এমন কাতরাতে দেখে নিজেও কাঁদছেন আর জলপট্টি দিচ্ছেন।
বিড়বিড় করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো শুভ।জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে শুভর শরীর।তাপমাত্রা অস্বাভাবিক।দুইটা লেপ দিয়েও জ্বরের কাঁপুনি যাচ্ছেনা শুভর।অচেতন ভাবে একটায় কথা বলছে আমার রোজা চাই বাবা।অবস্হা ক্রমশ খারাপের দিকেই যাচ্ছে।অপর পাশে রোজা দুঃচিন্তায় পাগল হয়ে যাচ্ছে।বারবার রাজের কাছে ফোন দিয়ে খোজ নিচ্ছে আর কাঁদছে।
নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দম বন্ধ কাঁন্না কাঁদছে অহনা।হয়তো কাল সকালেই শুভ ভেঙে দিবে বিয়েটা।শুভকে নিয়ে নিজের কল্পনায় অসংখ্য স্বপ্ন দেখেছিলো অহনা।এই ভালবাসা কি কখনো ভুলতে পারবে সে।
হঠাত রাজের অহনার কথা মনে হলো।মেয়েটা আজ ভীষণ ভিজেছে।দুদিন বাদে বিয়ে হবার কথা ছিলো, কেউ না জানলেও সে জানে বিয়েটা ভেঙে যাবে।এই না বলা যন্ত্রণা সে কারো কাছে প্রকাশ করতে পারবেনা।না চাইলেও হাসতে হবে তাকে।রাজ নিজের কষ্ট মনের মাঝে চাপা দিয়ে অহনাকে ফোন দিলো।
এপাস থেকে খুব মলীন কন্ঠে অহনআ হ্যালো বললো।
‘রাজ বললো,ঘুমোও নি এখনো?’
‘ঘুম আসছে না।’
‘অনলাইনে দেখে ফোন দিলাম।বুঝতে পারছিলাম তোমার ঘুম আসছে না।’
‘আপনি ছাড়া এই যন্ত্রণা কাউকে বোঝাতে পারবোনা আমি।এই কষ্টের সময়ে একমাত্র আপনাকেই পাশে পেয়েছি।’
‘রাজ মৃদু হেসে বললো,সুন্দরীদের মুখে কি কষ্ট কথাটা মানায়।দেখো অহনা তুমি হলে আকাশের মতো বিশাল।যার বিশালতার কাছে আমরা তুচ্ছ।এমন স্যাক্রিফাইস কজনে করে বলোতো।’
‘আমার মন ভালো করতে এত প্রশংসা করছেন।’
‘যদি করেও থাকি মিথ্যা বলে তো আর করছি না।’
‘অতি প্রশংসা কেনো করবেন শুনি?’
‘কেনো তুমি কি রাগ করছো?রাগ করলে আর করবো না তোমার প্রশংসা।”
‘আরে না না এমন কিছু না।’
‘বুঝেছি মেয়েটি প্রশংসা শুনতে চায়।এখন ঘুমিয়ে যাও, আর চিন্তা করোনা খুব শিঘ্রই একজন রাজপুত্র পেয়ে যাবে।’
‘এমন স্বপ্ন ভুলেও আর দেখবো না রাজ।’
‘স্বপ্ন দেখা লাগবে না,অটোমেটিক হয়ে যাবে বুঝলে।বাই দ্যা ওয়ে কাল ঘুম থেকে উঠে আমাকে তুমি করে ডাকবে ওকে।’
‘অহনা হাসলো।’
পরের সকাল থেকে রোজা অহনার ফোন থেকে রাজ কে ফোন দিচ্ছে শুভর খোজ জানতে।রাজ ফোন তুলছে না দেখে রোজা আরো চিন্তা করছে।রোজার ফোন ভাঙার পরে এখনো আর ফোন কেনা হয়নি।ওদিকে কোনো বিপদ হয়েছে কিনা ভেবে রোজা অস্হির হয়ে পড়েছে।এবার শুভর নাম্বারে ফোন করলো রোজা।গতকাল রাতে ঘুম হয়নি বলে রাজ গভীর ঘুমে মগ্ন আছে।শুভ ও ঘুমোচ্ছে জ্বর টা কমেছে একটু।শুভর ফোন বাজাতে আতিকুল আহমেদ শুভর রুমে এসে শুভর ফোনট হাতে নিলো।শুভর ফোনে কল এসছে নাম্বার টা অহনা নামে সেভ।অহনার ফোন দেখে আতিকুল আহমেদ খুব খুশি হলেন আর ফোন কানে দিয়েই বললেন,
মা অহনা কেমন আছো?
রোজা বুঝতে পারলো এটা নিশ্চয়ই শুভর বাবার গলা।রোজা বেশ ভয় ও পেয়ে গেলো।কি করবে বুঝতে পারছেনা রোজা।ফোন কি রেখে দিবে সে।ফোন রেখে দিলে শুভর খবর কিভাবে জানবে সে।এইদিকে হৃদপিন্ড সহ হাত পা কাঁপছে রোজার।প্রচন্ড ভয় লাগছে।প্রেমিকের বাবার সাথে কথা বলাটা কম ভয়ের কথা নয়।তাছাড়া এর আগেও তাদের কথা হয়েছে সে কথা খুব একটা ভালো ছিলোনা।ভেবেই লজ্জায় কেমন লাগছে রোজার।জিভ দিয়ে ঠোঁট ভালোভাবে ভিজিয়ে নিয়ে বললো,
“ইয়ে মানে আমি রোজা বলছি আঙ্কেল।শুভ কেমন আছে এখন,জ্বর কি কমেছে।”
কথাটা শুনেই যেনো চমকে গেলেন আতিকুল আহমেদ।এই নাম টা যেনো একটা অভিশপ্ত নাম আতিকুল আহমেদ এর কাছে।মুহুর্তের মাঝে রাগে শরীর টগ বগ করে উঠলো আতিকুল আহমেদ এর।তআর কাছে মনে হচ্ছে তার শরীরের এই অবস্থার জন্য রোজা ই দায়ী।অতীতের বলা কথা গুলো মুহুর্তের মাঝে মনে পড়ে আরো রেগে গেলেন আতিকুল আহমেদ।কঠিন কন্ঠে বললেন,
“তুমি,তুমি কেনো ফোন করেছো?কোন সাহসে ফোন করেছো এখানে।আজ তোমার জন্য আমার ছেলের এই অবস্থা। আমার ছেলের ভয়ানক অসুখ।আমার ছেলের জন্য তোমাকে আমি চেয়েছিলাম মনে আছে।অনেক বুঝিয়েছিলাম আমাকে তুমি অনেক অপমান করেছিলে।বিয়ে ভেঙে বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে গেলে।মান সম্মান বাঁচাতে আমি অহনার সাথে বিয়ে ঠিক করলাম।ঠিক তখন ই ফিরে এলে।ফিরে যখন এসেছো আমার ছেলের সাথে যোগাযোগ করেছো কেনো?আমার ছেলে ভালো থাকুক তুমি সেটা চাওনা তাইনা।ভুলেও আমার ছেলের আশে পাশে যেনো না দেখি।আমার ছেলে অহনার হবু স্বামি এটা মাথায় রেখো।”
রোজার খারাপ লাগলেও বুঝতে পারলো এতে শুভর বাবার দোষ নেই।সে যা করেছিলো সব বাবায় এমন করতেন।রোজা মিহি কন্ঠে বললো,
“আমার ভুল হয়ে গেছিলো আঙ্কেল।আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিন।শুভ কেমন আছে এটাই জানতে ফোন দিয়েছি।”
“জেনে কি করবে তুমি?ভালো থাকুক আর খারাপ থাকুক কোনটায় জানার রাইট তোমার নেই।জানার অধিকার শুধু অহনার আছে।”
আতিকুল আহমেদ ভীষণভাবে রেগে গিয়ে ফোনটা কেটে দিলেন।
রোজার আর ফোন করার সাহস হলোনা।কেঁদে দিলো ফোনটা কেটে দেওয়া দেখে।অহনা শুভর বাবার কথা শুনে বুঝলো খুব একটা সহজ হবেনা রোজা আর শুভর বিয়ে।তাকেই কিছু একটা করতে হবে।অহনা সাথে সাথে রাজ কে টেক্সট করলো।
অন্তরা আহমেদ রেগে গেলেন।আতিকুল আহমেদ এর কথা শুনে।বেশ বিরক্ত হয়ে বললেন,
“এটা কি ঠিক করলে তুমি।ওইদিকে তোমার ছেলে রোজা রোজা করছে। আর তুমি রোজার সাথে খারাপ ব্যবহার করছো।”
“এই মেয়েটায় আজ সব নষ্টের মূল।এই মেয়েটা যদি পালিয়ে না যেতো তাহলে আজ ভালো ভাবে শুভর সাথে বিয়েটা হয়ে যেতো তাইনা?আজ অহনার সাথে তো বিয়ে ঠিক করতে যেতাম না।আচ্ছা তুমি ভেবে দেখো আজ অহনার মাকে কিভাবে বলবো যে আমরা বিয়েটা ভেঙে দিতে চাইছি।মানুষ হিসাবে কি কোনো মনুষ্যত্ব থাকবে।আমি কিভাবে বলবো অহনার মাকে বিয়ে ভাঙার কথা।এটা বলা কি সম্ভব।”
“রোজা বাড়ি ছেড়ে গিয়ে কিন্তু শুভর সাথেই রিলেশন এ জড়িয়েছে।তোমার কি মনে হচ্ছেনা আল্লাহ এটায় চাইছে।জেনে শুনে কয়েকটা জীবন নিয়ে খেলা করা কি উচিত হবে শুভর বাবা।”
কাল রাতেই রাজ শুভর মা -বাবাকে সব টা জানিয়েছে।রোজা কেনো বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলো।আর পালিয়ে সে কোথায় গেছিলো।
আতিকুল আহমেদ বললেন,
“তুমি চুপ করো।বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।বিপদের দিনে যে আমার পাশে ছিলো তাকে আমি কিছুতেই কষ্ট দিতে পারবো না।অহনার সাথে এ কদিনে অনেক কথা হয়েছে আমার।আমার একটা মায়া জড়িয়ে গিয়েছে।বার বার বিয়ে ভাঙা গড়া আমি আর করবো না।কাল রাতে নির্লজ্জের মতো তোমার ছেলে ভালবাসাবাসির কথা বললো।কি যুগ এসেছে।”
“তোমার ছেলেতো সোজা কথার ই মানুষ। সেটা লজ্জার কথা হোক নির্লজ্জের কথা হোক।”
শুভর বাবা রোজার বাবাকে ফোন দিয়ে বললো,
“ইকবল তোমার মেয়ে আমার ছেলেকে বিয়ে করবে না বলে পালিয়ে গেছিলো।এখন আবার কেনো আমার ছেলেকে বিরক্ত করছে।আমি কোনদিন তোমার মেয়েকে আমার ছেলের বউ বানাবো না।তোমার মেয়ে যেনো আর আমার ছেলেকে ডিস্টার্ব না করে।”
শুভর বাবার কথায় ইকবল আহমেদ ভীষণ অপমান বোধ করলেন।রাগে মাথা কাঁপছে তার।কাউকে কিছু না বলে রোজার গালে জোরে একটা থাপ্পড় মেরে রাগ মেটালো।
রোজা নিজের গালে হাত দিয়ে বললো,
“আমাকে তুমি মারলে কেনো বাবা?”
“তুমি শুভ কে কেনো ফোন দিয়েছো?আমার মান সম্মান আর কত নষ্ট করবে তুমি রোজা।”
রোজা সাথে সাথে জোরে কেঁদে দিলো।শুভর জন্য ভালবাসা কাঁন্না হয়ে চোখ দিয়ে বেরোলো।বাবার পায়ের উপর পড়ে বললো,
“আমি শুভ কে ভালবাসি বাবা।”
“চুপ একদম চুপ।এখন আর এসব বলে লাভ নেই রোজা।তোমাকে অনেক বুঝিয়েছিলাম।আমার কথা শোনো নি তুমি।আজ বুঝলে কোনো বাবা তার সন্তানের খারাপ চায় না।সেদিন যদি শুভকে একবার দেখতে এত অশান্তি হতোনা।আজ তাকে দেখে তোমার ভালবাসি মনে হচ্ছে।”
“তাকে দেখে নয় বাবা।তাকে আমি আগে থেকেই চিনি।সত্যি তাকে আমি ভালবাসি বাবা, ভীষণ ভালবাসি।”
“তাহলে চলে গিয়েছিলে কেনো?এখন শুভর কথা ভেবে আর লাভ নেই রোজা।অহনার সাথে শুভর বিয়ে এটা মাথায় রেখো।”
“রোজা কাঁদতে কাঁদতে বললো,সবাই আমাকে ভুল বুঝছো বাবা।কিন্তু আমি কেনো গিয়েছিলাম কেউ একবার ও জানতে চাইলে না।আসল সত্য টা সবার অজানায় থেকে গেলো বাবা।”
“কি সত্য বলবে তুমি।”
বাবা সেদিন কাকি আমাকে যে ছবি দেখিয়েছিলো…….
চলবে,,
(রি-চেইক নেই।)