বৃষ্টিবিলাস পর্ব-৩৩+৩৪

0
617

#বৃষ্টিবিলাস
৩৩+৩৪
#writer_Mousumi_Akter

–বাবা-মেয়ের পুরা কথা শেষ না হতেই খুব ব্যাস্ততার সাথে অহনার মা ঘরে প্রবেশ করলো।অহনার মাকে দেখেই কথার মোড় ঘুরে অন্যদিকে গেলো।রোজার না বলা কথাটা না বলায় থেকে গেলো।অহনার মা এসে বললো,ভাই আজ ই অহনার জন্য শপিং করতে হবে আপনার ভাই এর আসতে আরো দুই দিন সময় লাগবে।তাছাড়া তাকে দিয়ে কোনো কাজ হবেনা।একটা বললে করবে আরেকটা।আপনাকেই সব দায়িত্ব নিতে হবে।আপনার ভাতিজাকে নিয়ে সব কিছুর ম্যানেজ আপনাকেই করতে হবে।আগামি শুক্রবার ই তো বিয়ে।আপনার ভাতিজির বিয়ে আর আপনি এখনো ঘরে বসে আছেন এটা কেমন কথা।আতিকুল ভাইরা খুব তাড়া দিচ্ছে বিয়ের জন্য।।ইকবল আহমেদ ভুলে গেলেন রোজা কিছু বলতে চেয়েছিলো।পুরুষ মানুষরা সোজা কথার মানুষ তারা মহিলাদের মতো কূটকাচালী মনে রাখতে পারেনা।ইকবল আহমেদ ও ভুলে গেলেন রোজা কিছু বলতে চেয়েছে সেটা।অহনার মা বিয়ের ডেকোরেশন নিয়ে কথা বলছেন কোথায় কি করবেন কিভাবে সাজাবেন সেটা নিয়ে।রোজা ভীষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তার কাকীর দিকে।আজ তার মা বেঁচে থাকলে তাকে নিয়েও এভাবেই ভাবতো।নিজের মায়ের মতোই যাকে ভালবেসেছিলো সে আজ রোজার পুরো জীবনটা নষ্ট করে দিলো।তার কাকি একবার ও জিজ্ঞেস করছে না তোর খারাপ লাগছে নাতো।এই বিয়েটা তো আমার ভুলের জন্য ই ভেঙে গিয়েছে।মানুষ কতটা নির্দয় হতে পারে নিজের কাকিকে না দেখলে আজ রোজা বুঝতো না।আসলেই দুনিয়াতে কেউ কারোর না এটা আবার ও প্রামণিত।ইকবল আহমেদ আর রীনা পারভীন এর কথা শেষ হলে রীনা পারভীন ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।ইকবল আহমেদ অহনার বিয়ের জন্য বিজি তাকেও এখন বাইরে যেতে হবে।যাওয়ার আগে রোজাকে এলার্ট করে গেলেন ভুলেও শুভর সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করোনা রোজা।আমাকে যেনো আর কারো কাছে অপমানিত হতে না হয়।শুভর বাবা আবার ও আমাকে অপমান করেছেন।

–রোজার চোখ ভরা পানি।বাবার কথা শুনে নিজের ভেতরের সমস্ত আবেগ উপচে কেঁদে দিলো রোজা।এই কাঁন্না ভীষণ কষ্টের কাঁন্না।ইকবল আহমেদ মেয়ের সামনে থেকে কঠিন ভাবে বেরিয়ে গেলেও বাইরে গিয়ে চোখ মুছলেন।জীবনে প্রথমবার মেয়ের গায়ে হাত দিয়ে মনের ভেতর জ্বলে যাচ্ছে তার।বাইরে কোনো কাজে মন বসছে না ইকবল আহমেদ এর।চাইলেও তো আর মেয়ের জীবনে শুভকে এনে দিতে পারবেনা।মানুষ তাকে স্বার্থপর বলবে।ভাববে নিজের ভাতিজির সুখ সহ্য হচ্ছেনা।অহনা ও তার কাছে কম আদরের না।

–যে জানালার সাইডে শুভ দাঁড়িয়ে ছিলো সেখানে এখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে।রোজার চোখের কোয়া ফুলে গিয়েছে কাঁদতে কাঁদতে।রোজাকে কাঁদতে দেখে অহনা এসে রোজার কাঁধে হাত দিলো।রোজা অহনার দিকে তাকিয়ে আরো জোরে কেঁদে দিয়ে বললো,

“মায়েরা কি এমন হয় অহনা? আমি তো কাকিকে মা ই ভাবতাম।কেনো এমন করলো আমার সাথে।অহনা তুই যদি শুভকে ভালবাসতিস না আমি ম*রে গেলেও শুভর কথা ভাবতাম না।আমি যতই ভালবাসতাম সেই ভালবাসা কুর*বানি করে ফেলতাম।”

“আমি জানি ইয়ার।পাগলীর মতো কাঁদে।শুভ তার রোজা ছাড়া আমি কেনো পৃথিবীর কোনো মেয়ের দিকেই তাকাবে না।”

“ও কেমন আছে অহনা।আমার ইচ্ছা করছে ছুটে গিয়ে একবার এর জন্য হলেও ওর মুখটা দেখে আসি।অসুস্থ মানুষ টাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছা করছে অহনা।”

“একদম ভাবিস না।দেখবি ভাইয়া নিজেই চলে আসবে তার রোজাকে নিতে।”

–রোজার ফিরে আসাতে রীনা পারভীন ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।উনার ধারনা যেকোনো সময় যেকোনো কিছু বদলে যেতে পারে।যত দ্রুত সম্ভব যেকোনো ভাবে অহনা আর শুভর বিয়ে দিতেই হবে।রীনা পারভীন এর চোখে লোভের জাল।রোজা আর শুভর বিয়ের কথা যখন হচ্ছিলো ইকবল আহমেদ রীনা পারভীন এর সাথে শেয়ার করেছিলেন।শুভদের বাড়ি দেখে মাথা ঘুরে গেছিলো রীনা পারভীন এর।সেদিন ই ভেবে নিয়েছিলো যেকোনো ভাবে নিজের মেয়ের বিয়ে ওই বাড়িতেই দিবে।অনেক কৌশল করে উদ্দেশ্য সফলের কাছাকাছি গিয়েছে।রীনা পারভীন আতিকুল আহমেদ কে কল দিয়ে বলে দিয়েছে যেকোনো ভাবে এই বিয়ে ভেঙে গেলে অহনা সুই*সাইড করবে।তার একমাত্র মেয়ে মারা গেলে সে ও মারা যাবে।অহনা শুভকে ভীষণ ভালবেসে ফেলেছে।ইমোশনাল ব্লাকমেইল করেই যাচ্ছে।যেদিন প্রেস মিডিয়া হাজির হয়েছিলো সেদিন বিপদ থেকে বাঁচাতে অহনার মা এসে পাশে দাঁড়িয়েছিলো।এই কৃতজ্ঞতা বোধের জন্য আতিকুল আহমেদ কোনভাবেই এই বিয়ে ভাঙতে দিবেন না।তার বিপদের দিনে যে তাকে সাহায্য করেছিলো আজ তার বেঈমানির জন্য তারা সুই*সাইড করলে আতিকুল আহমেদ কোনদিন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না।ভীষণ দোটানায় ভুগছেন আতিকুল আহমেদ।

–জ্বর একটু কমলেও শরীরে বল পাচ্ছে না শুভ।রুমে এখনো ডিম লাইট জ্বলছে শুভর।জানালা দরজা সব বন্ধ মনেই হচ্ছে না সকাল হয়েছে।ঘুম থেকে উঠেই সফেদ রঙের ফুলগুলোর দিকে তাকালো শুভ।বেডের পাশেই ফুলদানি ফুলগুলো রাখা।ফুলদানী তে খোদায় করে লেখা রোজা সাথে রোজার ছবি আঁকা।একজন নামকরা আর্টিস্ট দিয়ে শুভ এটা করিয়েছে।রোজ ঘুম থেকে উঠেই এই ফুল আর ফুলদানিতে নজর যায় শুভর।শুভ রোজার ছবিতে হাত বুলিয়ে মনে মনে প্রতিদিন রোজাকে শুভ সকাল জানায়।আজ ও তার ব্যাতিক্রম হলোনা।রোজার ছবির দিকে তাকিয়েই মৃদু হাসলো শুভ।পাশেই রাজ উপুড় হয়ে ঘুমোচ্ছে।গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রাজ।ঘুম থেকে উঠেই মা -বাবাকে ডাকলো শুভ।এখন সে একটু সুস্থ।কাল রাতের শেষ না হওয়া কথাগুলো এখন তাকে শেষ করতেই হবে।

আতিকুল আহমেদ আর অন্তরা আহমেদ বললেন,

“কেমন লাগছে বাবা এখন।বলেই বুকে আর কপালে হাত রাখলেন দুজনেই।”

“শুভর নিজের অসুস্থতা নিয়ে চিন্তা নেই।মা -বাবার প্রশ্ন এড়িয়ে উল্টা প্রশ্ন করলো,আমার বিয়ে অহনার সাথে হুয়াই আম্মু,হুয়াই বাবা।এক্ষুণি এই প্রশ্নের উত্তর চাই আমার।”

আতিকুল আহমেদ চুপ আছেন।

“কি হলো তুমি চুপ আছো কেনো বাবা?রোজার জায়গা অহনাকে আমি বিয়ে করবো সিরিয়াসলি।এটা মনে হলো তোমার।অহনা কেনো অন্য যে কোনো মেয়েকে আমি বিয়ে করবো এটা কিভাবে মনে হলো তোমাদের।”

আতিকুল আহমেদ বেশ শক্ত গলায় বললেন,

“বারবার জানতে চাইছো কেনো অহনার সাথে বিয়ে ঠিক করেছি।তাহলে শোনো যে মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করেছিলাম রোজা সে আমাকে ফোন করে কতগুলো বাজে কথা বলে পালিয়ে গেলো।পালিয়ে গেছিলো তাতেও চুপ ছিলাম।কিন্তু হঠাত দেখি মিডিয়ার লোক জন ভীড় জমিয়েছে।আয়ান আহমেদ শুভর হবু বউ নাকি পালিয়েছে।কিন্তু কেনো?বিভিন্ন প্রশ্নে আমার মান সম্মান নষ্ট হচ্ছিলো।কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।ঠিক তখন ই অহনার মা আমার দিকে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে বললেন, বলুন যে বউ পালায়নি।ওই বাড়িতেই বিয়ে হবে।আমার মেয়ে অহনা আছে আপনি চাইলে দেখতে পারেন।অহনা কে দেখলাম মেয়েটা রোজার মতোই সুন্দর। বাবা হিসাবে কি করতাম আমি।এক মেয়ে পালিয়ে গিয়েছে বলে কি আমি বাবা হিসাবে চুপচাপ বসে থাকবো।আমার ছেলের ফিউচার নিয়ে আমি ভাববো না।”

“প্রেস-মিডিয়া এরা কিভাবে খবর জানলো।দুনিয়াতে কত মানুষ না খেয়ে আছে, কত কি ঘটে যাচ্ছে সেসব খবর নেই কোথায় কার বউ পালাচ্ছে সেসব খবর বাহ।তুমি কি জানো রোজা পালিয়ে গেছিলো একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য।আর পথে আমার সাথেই দেখা।এ কদিন আমার সাথেই ছিলো রোজা রাজদের বাড়ি।”

“কিন্তু তখন কিভাবে জানবো।কোনো মেয়ে যদি বলে আমি বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে যাচ্ছি আর সত্যি সে পালিয়েও যায়।পৃথিবীর কারো পক্ষে কি বোঝার ক্ষমতা আছে সে আবার ফিরে আসবে।”

“বাবা তুমি এক্ষুণি যাও আর গিয়ে বলো বিয়ে অহনা নয় রোজার সাথেই হবে।”

“এটা কখনোই সম্ভব নয় শুভ।তোমাকে অহনাকেই বিয়ে করতে হবে।”

“হুয়াই বাবা?”

“কারণ আমি কথা দিয়েছি অহনাকে আমার ছেলের বউ বানাবো।”

“বাট বাবা তোমার ছেলে অহনা নয় রোজার সাথে কমিটেড।তুমি ভালো করেই জানো তোমার ছেলে কোনো কমিটমেন্ট ব্রেক করে না।”

“অহনা সুই*সাইড করবে এ বিয়ে ভেঙে গেলে।”

“যার সাথে জীবনে কথা হয়নি,যাকে আমি কোনো স্বপ্ন দেখায় নি সে যদি সুই*সাইড করে তাহলে যাকে হাজারো স্বপ্ন দেখিয়েছি তার সাথে বিয়ে না হলে সে কি করবে বাবা।ফ্যামিলির মানুষ গুলো ভালবাসার উপর কেনো তাদের সিদ্ধান্তের দায় চাপিয়ে দেয়।এভাবে হাজারো ভালবাসার মানুষ আলাদা হয়ে যায়।ভালবাসা হারানো মানুষ গুলো রাতের পর রাত কি নিদারুণ যন্ত্রণায় পার করে পরিবারের মানুষ গুলো কি সে খবর রাখে।ভুলতে না পারা একজন মানুষ কে মনের ভিতর রেখে অন্য কাউকে নিয়ে কি কখনো সংসার করা যায় নাকি ভালবাসা যায়।যাকে ভালবাসা যায় না তার সাথে কি কখনো সংসার হয়।”

“কিন্তু শুভ অহনার মায়ের কাছে মুখ দেখাবো কিভাবে।ওদের সমস্য আত্মীয় স্বজন জানে অহনার বিয়ে।একটা পরিবারের সম্মান নষ্ট করা কি ঠিক হবে।”

“পৃথিবীর সবাই যেটা জানে সেটা জরুরী নয় বাবা।আমার মন কি চাই সবার সেটা জানা জরুরী।আমি এক্ষুণি যাবো অহনার বাসায় কথা বলতে।অহনা অত্যান্ত ভালো মেয়ে।আমি কথা বলতে চাই অহনার সাথে।আমি সিওর অহনা আমার কথা বুঝবে।”

–জানালা খুলে খোলা চুলে দাঁড়িয়ে আছে রোজা।শুভর সাথে একটু কথার বলার জন্য মনের মাজে সীমাহীন অশান্তি হচ্ছে তার।দক্ষিনের হাওয়ায় চুল গুলো গালে মুখে পড়ছে রোজার।চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে যাচ্ছে।আজ তার করা একটা ভুলে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।শুভর বাবার কথা গুলো বারবার কানে বাজছে।কোনদিন কি শুভর হতে পারবে সে।এই ভালবাসার পরিণয় কি কখনো পাওয়া যাবে।আবহাওয়ার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।বাইরে কেউ কেউ ছাতা নিয়ে বেরিয়েছে। ঘরের মানুষ জন অহনা আর শুভর বিয়ে নিয়ে বিজি আছে।এত আয়োজনের মাঝে রোজার নিজেকে ভীষণ একা মনে হচ্ছে।বারবার মনে হচ্ছে এই বুঝি শুভ আসবে আর বলবে রোজা তোমাকে নিতে এসেছি।তোমাকে আর কাঁদতে হবেনা।এই বুঝি ম্যাজিকের মতো সব ঠিক হয়ে যবে।ভাবতে ভাবতে রোজা দেখলো তার জানালার সোজা ক্লান্ত শরীরে দাঁড়িয়ে আছে শুভ।রোজা দেখে সিওর হতে পারছে না সত্য নাকি কল্পনা।রোজা এক নজরে তাকিয়ে আছে শুভর দিকে।শুভ রোজার চোখ দিয়ে পানি পড়তে দেখে বুঝলো রোজা ভালো নেই।শুভ ইশারা দিয়ে দেখালো আমি আসছি রোজা। রোজা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সত্যি সে এসেছে।

অহনা রুমে বসে আছে,ভীষণ মন খারাপ তার।মনের যন্ত্রণা কি সহযে মেটানো যায়।ভীষণ মন খারাপ নিয়ে বসে আছে।কিছুক্ষণের মাঝেই রীনা পারভীন এসে বললো,

“অহনা শুভ এসেছে তোমার সাথে কথা বলতে। তোমার কোন কালার পছন্দ।সে কালারের লেহেঙ্গা ই কিনবে সে।একটু সেজে গুজে এসো।আজ প্রথমবার দেখা তোমাদের।”

অহনা মৃদু হেসে বললো,

“তাই মা।শুভ তো তাহলে আমাকে ভীষণ ভালবাসে তাইনা মা।”

“হুম ভীষণ ভালবাসে।”

“ভীষণ ভালবাসে বলেই শুভ আজ ও আমাকে একটা ফোন করে নি।”

“সভ্য ছেলেতো।তাই বিয়ের আগে কথা বলতে চাইছে না।”

“আমার সাথে কথা বলতে চাইছে না তাহলে সারারাত রোজার জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়ে রোজার জন্য ভিজলো কেনো?রোজাকে বার বার দূর থেকে আই লাভ ইউ রোজা বলে বলে চিৎকার করছিলো কেনো?কেনো শুভ রোজার জন্য ছটফট করছিলো।কেনো শুভ আমার ফোনে বারবার ফোন করে আমি নয় রোজাকে চাইছিলো বারবার।আছে কোনো উত্তর মা।”

রীনা পারভীন এর মুখ চুপসে এতটুক হয়ে গেলো।তার এতদিনের বলা মিথ্যা ধরা পড়ে গেলো।মেয়ের দিকে চুপ করে তাকিয়ে রইলেন।

“কেনো এমন করলে মা কেনো?নিজের সাথে সাথে আমাকেও কেনো ছোট করলে মা।কেনো রোজার জীবন টা এভাবে নষ্ট করলে।রোজার মা নেই তোমাকে নিজের মায়ের জায়গা দিয়েছিলো।তুমি মা হিসাবে কি প্রতিদান দিলে রোজাকে।কি ভেবেছিলে কেউ কোনদিন কিছু বুঝতে পারবেনা।চালাকী আর শয়*তানীর দ্বারা কোনদিন কিছু পাওয়া যায় না মা।তুমি নিচে বসে প্লান করছো বেষ্ট প্লানার উপরে বসে আছে মা।উপরে বসে যিনি প্লান করছেন তার সাথে কিভাবে চালাকী করে পারবে মা।রোজা অনেক ভালো মেয়ে মা।ভালোর সাথে কি কখনো খারাপ হয়।”

“অহনা বিয়ে কপালের লিখন।তোমার সাথে শুভর বিয়ে লেখা ছিলো তাই যেকোনো ভাবে হচ্ছে।আমি রোজার বিয়ে ভাঙিনি।একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য এতকিছু হয়েছে।”

“শুভ হুয়াই মা?শুভর সাথেই কেনো আমার বিয়ে হতে হবে।শুভর অনেক টাকা আছে বলে।এত লোভ তোমার।আমার তো এত চাহিদা নেই মা।কি হতো একটা গরীব ছেলের সাথে আমার বিয়ে হলে।খুব ক্ষতি হতো।আজ অন্তত এতটা মানসিক কষ্ট ভোগ করতে হতোনা।কেনো শুভর সাথে আমার বিয়ে দিতে মরিয়ে হয়ে উঠলে তুমি।শুভ কি ভাববে মা।কোন চোখে আমাদের দেখবে। ”

“আমি যা করেছি তোমার ভালোর জন্য করেছি অহনা।আজকাল এমনি এমনি কিছুই পাওয়া যায়না।আদায় করে নিতে হয়।”

“এ তুমি কেমন ভালো করলে মা।তাকিয়ে দেখো আমার দিকে।মায়েরা তো সন্তানের সব কষ্ট বোঝে।তুমি কি বুঝতে পারছো না।মনের মাঝে জলে পুড়ে যাচ্ছে।আমার ভালো করতে গিয়ে আমার জীবনের সব থেকে বড় ক্ষতি করে ফেলেছো মা।অহনা ভীষণ ভাবে কাঁদতে কাঁদতে বললো কেনো দিনের পর দিন শুভ নামক মানুষ টার নামে মিথ্যা বলে বলে ভালবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করেছিলে।শুভ কে আজ আমি ভালবেসে ফেলেছি মা।সেই ভালবাসার মন চুরমার হয়ে গিয়েছে।কেমন লাগছে মা নিজের মেয়েকে এভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে দেখে।কেমন অনুভূতি হচ্ছে মা।যে ক্ষতিটা তুমি রোজার করতে চেয়েছিলে সেটা অটোমেটিক আমার জীবনে প্রভাব ফেলছে।রোজাকে বোকা বানিয়ে ঠকিয়ে আমার জীবন গড়তে চেয়েছিলে উল্টা আমি ভেঙে চুরে গিয়েছি।অন্য কিছু ভাঙলে জোড়া লাগানো যায় মন ভাঙলে কি জোড়া লাগানো যায়।যাকে আমি ভালবাসি যে আমাকে ভালবাসে বলে জেনেছি সে আমায় ভালবাসে না।এর থেকে কষ্ট কি আর কিছুতে আছে মা।”

“তোমার বিয়ে শুভর সাথেই হবে অহনা।তোমার ভালবাসা তোমার ই হবে।এভাবে ভেঙে পড়োনা।”

“অন্যর জন্য গর্ত খুড়লে সেখানে নিজেকেই পড়তে হয় মা।রোজার জন্য খোড়া গর্তে আজ তোমার মেয়ে।রোজাকে বাড়ি থেকে পালানোর উস্কানী দিয়ে মানুষের সামনে চরিত্রহীন প্রমান করকে।ইনোসেন্ট রোজাকে তার হবু শ্বশুড়বাড়িসহ দুনিয়ার সবাই চরিত্রহীনা বলে গালি দিলো।শুভর বাবা কাকুকে অপমান করলো এসব তোমার জন্য।কে জানে এই সেইম সিসুয়েশন তোমার জীবনে আসবে না।তোমার মেয়ে পালাবে না কে বলতে পারে।ছিঃমা ছিঃ শরীর ঘিনঘিন করছে আমার ভাবলে।কেনো মা শুভর বাবার ছবি দেখিয়েছিলে রোজাকে কেনো?রোজা মেয়েটার কি দোষ। তোমার জন্য মানসিক যন্ত্রনায় ম*রে যাচ্ছে।”

“এখন এসব ভেবে লাভ নেই অহনা আর তোমাকে এসব ভাবতে হবেনা।শুভ বিয়েটা মেনে নিয়েছে।দেখছো না বাইরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।”

“শুভ আমার সাথে বিয়ে নিয়ে কথা বলতে আসেনি বরং বিয়ে ভাঙতে এসেছে।শুভ কেনো বিয়ে ভাঙবে আমি নিজেই তো বিয়ে করবোনা শুভকে।শুভর বিয়ে একই ডেট এ আমি নই রোজার সাথে হবে এটাই আমার ফাইনাল কথা মাথায় রেখো।”

চলবে,,,