Home "ধারাবাহিক গল্প ভালোবাসার মৌসুম ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-০৭

ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-০৭

0
317

#ভালোবাসার_মৌসুম
#aroshi_jahan_isha
পর্ব ৭

বিয়ে বাড়িটা আপাতত শান্ত,এখর আর গান বাজনা হৈ-হুল্লোড় নেই।বিয়ের শুরুটা যেমন আনন্দের হয় শেষ টা তেমন বিষাদময় হয়।

এই যে জন্মের পর এতোগুলা বছর এই বাড়িতে কাটিয়ে আজ অন্যের বাড়ির বউ হয়ে গেলো মেয়েটা।
এতে করে সওদাগর বাড়িটা যে শূন্য হয়ে গেলো।পরে রইলো ১৯ বছরের ফেলে রাখা স্মৃতি। আর শৈশবের চঞ্চলতা, কৈশোরের কোমলতা।

মাইরা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো,বড্ড আক্ষেপ জন্মালো।নিজের প্রতি বড্ড বিরক্ত হলো।

চোখের সামনে ভেসে ওঠলো, পিহুর বিদায় বেলা। সবাই কাঁদলো,ভিষন কাদলো।বাড়ির মেয়েকে বিদায় দিলো অশ্রু নিয়ে।অথচ চার বছর আগে যখন মাইরার বিদায় হলো তখন কেউ কাদলো না।রেশবপুর গ্রামে তো আর কখনো যাওয়া হয় নি!কে জানে মামা মমি কেমন আছে?

আর মীম কেমন আছে?জানা নেই মাইরার।

আকাশে মেঘ জমেছে, প্রকৃতি গর্জে ওঠছে, বৃষ্টি নামবে বোধহয়। মাইরা মোবাইলের স্কিনে তাকালো,

১১ টা বাজে। এক্ষুনি বের হতে হবে নয়তো বড্ড দেরি হয়ে যাবে।আর এসাইনমেন্ট তো আরও বাকি আছে। কাল সকালে গিয়ে কি শেষ করতে পারবে না পারবে না।

এর চাইতে ঢের ভালো নীলিমা কে বলে দিবো জলদি করে কলেজে আসতে দুজন মিলে লিখে শেষ করে ফেলা যাবে,এটাই করতে হবে।

মাইরা কল লাগালো নীলিমার ফোনে।

মাএ চোখ লেগে এসেছিলো নীলিমার, ফোনের কর্কস আওয়াজে তন্দ্রা কেটে গেলো। বিরক্ত হয়ে রিসিভ করলো,

হ্যালো হু বল?

_ঘুমিয়ে আছিস বেইব?

ঘুমালে নিশ্চয়ই কথা বলতাম না!

নীলিমার তীক্ষ্ণ কন্ঠে কেঁপে উঠলো মাইরা,
ভয় টা দূরে সরিয়ে বললো,

কাল সকালে জলদি কলেজ চলে আসিস!

নীলিমা ভ্রু কুঁচকে শুধালো, কেনো?

মাইরা শান্ত কন্ঠে বললো, প্লিজ আসিস!

_আচ্ছা দেখা যাবে রাখ এখন!
বলেই কল কেটে দিলো,,

মাইরা ফোন খানা বুকে চেপে ধরে হাসলো,মনে মনে হাজার বার ধন্যবাদ দিলো নীলিমা কে।

অতঃপর রেডি হয়ে নিলো,শুভ্র একখানা গাউন পড়ে। রুম থেকে বেরিয়ে তন্ময়ের খুজ করলো”

পেয়েও গেলো, ছাঁদে। কিছু ছেলেদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে।

মাইরা খানিকটা ইতস্তত বোধ করলো তবে নিজেকে সামলে নিলো।

শান্ত কন্ঠে ডাকলো,
শুনছেন? তন্ময়?

না তন্ময় বোধহয় শুনতে পেলো না,
মাইরা ফের ডাকলো, শুনছেন তন্ময়?

এবার তন্ময় ভ্রু কুঁচকে চাইলো মাইরার পানে। অতঃপর হাতঘড়ির পানে চাইলো, ১১:২৫ বাজে।

ধ্রুব রসিকতা করে বলে উঠলো,
হায় আজ বউ নেই বলে কেউ বললো না, ধ্রুব শুনছেন?

তন্ময় ভ্রু কুঁচকে চাইলো

মাইরা লজ্জায় নুইয়ে গেলো,
তন্ময় সবার থেকে বিদায় নিয়ে নিজেও রেডি হয়ে নিলো।

ডার্ক মেরুন শার্ট এর সঙ্গে কালো পেন্ট, শার্ট খানা ইন করা।বরাবরের মতোই গুছালো চুল।মাইরা ব্যাগ পএ নিয়ে ড্রইং রুমে এলো,তন্ময় ও এলো সবাই কে বিদায় দিলো।

রুবাব সওদাগর মাইরার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, পরশু চলে এসে বৌ ভাতের অনুষ্ঠানে।

মাইরা মাথা নাড়লো।

অতঃপর গাড়িতে গিয়ে বসলো,

রাতের সড়ক বৃষ্টি বৃষ্টি আবহাওয়া। রোমাঞ্চকর এক দৃশ্য মাঝে মধ্যে বিদুৎ চমৎকাচ্ছে।

মৃদু মন্দ হিমেল হাওয়া বইছে, মাইরা জানালার কাচ নামিয়ে দিলো,

বাতাসে এলো মেলো করে দিলো অষ্টাদশীর রেশমের মতো চুল।চোখ বন্ধ করে অনুভব করলো মাইরা প্রকৃতির গন্ধ। গাড়ি থামতেই ভরকে গেলো।

তন্ময় গাড়ি থেকে নামতে নামতে বললো,বস আমি আসছি।

তন্ময় একটা দোকানে গেলো মিনিট তিন বাদেই একখানা ব্যাগ নিয়ি এলো।মাইরার পানে এগিয়ে দিলো।

মাইরা হাতে নিলো।তন্ময় ফের গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলো।

কি হলো কিছু খেয়ে নাও,খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই?
মাইরা ইনিয়ে বিনিয়ে প্যাকেট খানা খুললো,অতঃপর এতো চকলেট চিপস দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো।

একটা কেকের প্যাকেট ছিড়লো,

নিন,আপনার নিশ্চয়ই ক্ষিদে পেয়েছে,নিন খেয়ে নিন।

আমার খিদে পায় নি তুমি খেয়ে নাও,

মাইরা তবুও সাধলো তন্ময় কে,না তন্ময় নিলো না।

মাইরা মুখ বাকিয়ে নিজের মুখে পুড়ে নিলো।

আকাশে বিকট শব্দ করে বিদুৎ চমৎকালো,মাইরা ভয় চোখ বন্ধ করে নিলো।

তন্ময় ফ্রন্ট মিররে দেখলো,মৃদু হাসলো।

আকাশ কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামলো,পিচ ঢালা রাস্তা বৃষ্টির পানিতে ভিজে জবজব হয়ে গেছে। তন্ময় “রা তখন ফেনি পেরিয়ে কুমিল্লা এসেছে, ঘড়ির কাঁটায় ১ টা পেরিয়ে। বৃষ্টির শিতল বাতাসে কেঁপে উঠলো মাইরা।

হুট করে গাড়ি থেমে যাওয়ায়, মাইরা বেশ ভরকে গেলো,

তন্ময় কপাল কুঁচকে ফেললো,
গাড়ির আবার কি হলো,ভারি বর্ষনে গাড়ি থেকে নেমে গেলো তন্ময়।

ওহ নো গাড়ির টায়ার নষ্ট হয়ে গেছে।
মাইরাও ভারি বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে গেলো,সঙ্গে সঙ্গে নাজুক শরীর খানা ভিজে জবজব হয়ে গেলো।

কি হয়েছে?

তন্ময় মাইরার হাত ধরে গাড়িতে বসিয়ে দিলো, তীক্ষ্ণ কন্ঠে শুধালো, ভিজতে গেলে কেনো?

মাইরা গাল ফুলিয়ে বললো, আপনিও তো ভিজেছেন!

তন্ময় চুপ হয়ে গেলো।আপাতত কিছু করার নেই।এই গাড়ি নিয়ে ঢাকা পৌঁছাতে পারবে না সকালের মধ্যে।

মাইরা চিন্তায় পড়ে গেলো,কাল এসাইনমেন্ট জমা না দিলে তো আহির স্যার আর নিবেই না।

তন্ময় মাইরার চিন্তায় আধখানা মুখপানে চেয়ে বললো,

চিন্তা কিসের এতো আমি আছি তো!ঠিক পৌঁছে যাবো সময় মতো।

মাইরা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো তন্ময়ের পানে।
হুট করে গাড়ির কাচে কারো ধাক্কায় ভরকে গেলো মাইরা।তন্ময়ও কপাল কুঁচকে চাইলো আগন্তুকের পানে।

মাইরা ভয় পেলো,তন্ময়কে আকরে ধরলো। তন্ময় মাইরার চোখের দিকে চেয়ে আশ্বাস দিলো।

এতো রাইতে এইহানে কি করেন ভাইজান?

১৫/১৬ বছর বয়সী একটা ছেলে, বৃষ্টিতে ভিজে আছে।

তন্ময় গম্ভীর কন্ঠে বললো, আসলে আমাদের গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে,তাই আরকি!

ছেলেটা হেঁসে বললো কই যাইবেন ভাইজান আমার অটোতে আহেন নামাই দিমু নে!

মাইরা তন্ময়ের হাত খামচে ধরে বললো,আমার ভয় করছে”

তন্ময় ছেলেটার দিকে চাইলো,ভদ্র দেখা যাচ্ছে।

আমরা ঢাকা যাবো,

ছেলেটা চিন্তিত হয়ে শুধালো, এতো রাইতে ওইহানে গাড়ি থামবো না জাগাডা বালা না।

রাত বিরাতে ডাকাতি হয়।

মাইরা আরও খানিকটা ভয় পেলো,

ভাইজান কিছু মনে না করলে,একটা কতা কইতাম!

কি বলো?

_আফনে চাইলে আমডা বাইত থাকতে ফারেন,সামনেই আমডা বাড়ি আমি আর দাদি থাহি।

মাইরা তন্ময়ের পানে চাইলো, তন্ময় কিছুক্ষণ ভেবে বললো, ঠিক আছে তোমার সাথেই যাবো।

মাইরা ফোড়ন কেটে বলে উঠলো, আমার ভয় করছে, ও যদি ডাকাত দের পাঠানো লোক হয়।

ছেলেটা শুনলো মাইরার কথা মুখটা চুপসে নিলো,মাথা নিচু করে বললো,

আপা আমি ডাকাত না।

তন্ময় মাইরার হাত ধরে বললো ভয় পেও না আমি আছি তো চলো ওর সাথে।

_আমার নাম সুহান,

তা তুমি এই বয়সে অটো কেনো চালাও, লেখাপড়া করো না?

মাইরার প্রশ্নে ছেলেটা মুখটা মলিন করে বললো,
আসলে আপা আমার আব্বা আম্মা নাই,দাদির শরীল ডা ভালা না ওষধের টাকা সংসার খরচ করার জন্য অটো চালাই ক্লাস ৬ পর্যন্ত পরছি।

তন্ময় দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

একটা মাটির ঘড় টিনের চাল,বোধহয় দুটো রুম হবে।বৃদ্ধ একজন মহিলা,দড়জায় বসে আছে অপেক্ষায়।

সুহান কে দেখতে পেয়ে যেনো চাঁদ দেখেছে।হাসি ফুটে ওঠলো, বৃষ্টি ভেজা সুহান দৌড়ে দাদির কাছে গেলো,

বৃদ্ধ মহিলা হাজেরা বিবি নাতির কপালে চুমু একে দিলেন,

দাদু ভাই তুই কই আছিলি,এতো রাইত ক্যা হইলো?

সুহান শান্ত কন্ঠে বললো, দাদি একটা ভারা পাইছিলাম, ৩০০ টাহা দিছে, তাই দেরি হইছে।

হাজেরা বিবি এতোক্ষণে মাইরা তন্ময় কে খেয়াল করলো,সুহান কে উদ্দেশ্য করে বললো,

এডি কে সুহান?

সুহান হেসে বললো, শহরের ভাই আর ভাবি।গাড়ি নষ্ট হইয়া গেছে দাদি তাই আমডা বাইত লইয়া আইলা।

হাজেরা বিবি,তারা দিলেন জলদি ঘড়ে যেতে।

আয় বইন ঘড়ে আয় ভিজ্জা গেছোত গা।

ঠান্ডার চোটে ঠোঁট নীল হয়ে গেছে অষ্টাদশীর গায়ে থাকা শুভ্র গাউন খানা লেপ্টে গেছে শরীরের সাথে।

বৃদ্ধ মহিলা, একটা সোনালী পাড়ের সাদা শাড়ি মাইরার হাতে দিলো,

এই নে বইন পইড়া ফেল, ঠান্ডা লাগবো।

এই নে ভাই লুঙ্গি খানা তুই নে আমার নাতির একদম নতুন, খালি মার ভাঙ্গনের লাইঙ্গা ধুইছি।

তন্ময় হাতে নিলো,

খানিকটা হতাশ হলো এখন লুঙ্গি পড়তে হবে যা কোনোদিন পড়ে নি।

বৃদ্ধ মহিলা আর তার নাতি একটা রুমে চলে গেলো, মাইরা আর তন্ময় কে এই রুমটা দিলো,একটা চকি আর কাপড়চোপড় রাখার জন্য একটা আলনা।আর ছোট্ট একটা আয়না মাটির দেওয়ালে।

কাঠের দড়জা খানা বন্ধ করে দিলো তন্ময়। অতঃপর লুঙ্গি খানা পড়ে নিলো।সাথে একটা সেন্টু চেন্জি।

মাইরা হেসে ওঠলো, না খারাপ লাগছে না।একদম বাঙ্গালী লাগছে।

তন্ময় মুখ বাকালো মাইরার দিকে,

কি হলো শাড়ি টা পড়ে নেও ঠান্ডা জ্বর চলে আসবে নয়তো।

মাইরা কপাল কুঁচকে বললো, কোথায় চেঞ্জ করবো!

কেনো এখানে”

কিহ,আপনার সামনে?

হুম!

না পাড়বো না?

শুনো মেয়ে তোমার কিছু মিছু দেখার ইন্টারেস্ট নেই আমার।তাই অতো ভাবার কিচ্ছু হয় নি,আমি ওদিকে ফিরছি।

মাইরা মুখ বাঁকালো,

অতঃপর ভেজা জামা খুলে নিলো,

তন্ময় চোখ বুলিয়ে ঘড়টা দেখছিলো।হুট করে মাটির ঘড়ের দেওয়ালে থাকা আয়নায় নজর গেলো,অমনি আয়নায় ভেসে ওঠলো, মাইরার উন্মুক্ত পিঠ।তন্ময় ঢোক গিললো,

গলা শুকিয়ে ওঠলো,তাত্ক্ষণিক। শুনেছেন?

মাইরার কন্ঠে চমকে ওঠলো তন্ময়।

হু বলো,

দাদি বোধহয় ব্লাউজ দিতে ভুলে গেছে,দেখুন না একটু।

তন্ময় কাঠের দ্বার খানিকটা ফাক করলো,

দাদি শাড়ির সাথে ব্লাউজ দেন নি?
বৃদ্ধ মহিলা মাটির প্লেটে নাড়ু নিতে নিতে বললো,আসলে ভাই বয়স হইছে তো বেশি কাপড় আমার লাগে না ব্লাউজ ছাড়াই কাপড় পরি।

তন্ময় বুঝলো বৃদ্ধ মহিলার কাছে নেই,মাইরাও শুনলো।হাজেরা বিবির কথা।

বৃদ্ধ মহিলা তন্ময়কে বললো,তুমি কিছু মনে না করলে,আমি বইনেরে কাপড় পড়াই দিতাছে।দেখবা ব্লাউজ ছাড়া মেলা সুন্দর কইরা পড়াই দিমু।

বৃদ্ধ মহিলা কুচি ছাড়াই শাড়ি পড়ালো,অতঃপর শাড়ির আছল টেনে পিঠ দিয়ে পেচিয়ে কোমড়ে গুজে দিলো

অতঃপর রুম থেকে বেরিয়ে গেলো,তন্ময় সুহানের সঙ্গে বসে ছিলো,হাজেরা বিবি প্লেটের পিঠা গুলো তন্ময়ের হাতে দিয়ে বললো নাও ভাই গরিবের ঘড়ে আর কিছুই নাই খাইয়ো।

তন্ময় নিলো,অতঃপর রুমে এসে দড়জা বন্ধ করে দিলো।

মইরার পানে চাইতেই ভরকে গেলো, ব্লাউজ ছাড়া এক কাঁধ সম্পূর্ণ দৃশ্য মান।বেহায়ার মতো চেয়ে রইলো খানিকক্ষণ।

মাইরা লজ্জায় নুইয়ে গেলো, মাথা নিচু করে নিলো, তন্ময় দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।

মাইরার পানে পিঠে গুলো দিয়ে বললো খেয়ে নাও।

ঘড়ির কাঁটায় তখন শেষ রাত বোধহয়, মাইরা উপুড় হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে, শাড়ির আচল ছুটে যাচ্ছে তাই অবস্থা।

কোমড় সমাল চুর গুলো এলোমেলো হয়ে আছে পুরো পিঠ দৃশ্যমান।তন্ময় চেয়ে রইলো সেদিকে।

অষ্টাদশীর অজানাই রয়ে গেলো।কেউ এজন সারারাত জেগে তার উন্মুক্ত শরীরে চেয়ে ছিলো,,,,

চলবে,,,