#ভালোবাসার_মৌসুম
#aroshi_jahan_isha
পর্ব ৮
ধরনি জুড়ে আবছা আলো, নাম না জানা পাখিরা কিচিরমিচির করছে।সূর্যি মামা মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। যদিও আপাতত বৃষ্টি নেই তবে আকাশ টা আবছা।কাল রাতের ঝড়ের তান্ডব আপাতত নেই।প্রকৃতি শান্ত।
___ঘুম ভাঙ্গতেই ভরকে গেলো মাইরা, গায়ে থাকা শাড়িটার যাচ্ছে তাই অবস্থা। চটজলদি চোখ দিলো পাশে,না তন্ময় ঘুমাচ্ছে। ভাগ্যেস তার আগে ওঠে নি নয়তো কেলেঙ্কারি হয়ে যেতো ভেবেই সস্তির নিশ্বাস নিলো মাইরা।শাড়ির আচল ঠিক করে বিছানা ছেড়ে ওঠলো। অতঃপর চেন্জ করে নিলো।
মাটির ঘড়ের ছোট্ট কাঠের জানালা খানা খুলে দিলো মাইরা,ওমনি এক পষলা আলো এসে মাখিয়ে দিলো অষ্টাদশীর নাজুক মুখখানা।
শুনছেন উঠুন সকাল হয়েছে আমাদের যেতে হবে!
মাইরার ডাকে তন্ময় পিট পিট করে চোখ মেলে চাইলো।
মাইরা ভ্রু কুঁচকে শুধালো, এক ডাকেই জেগে গেলেন?
“তা জাগবো না তোমার জা রাজহাঁসের গলা!
মাইরা নাক ফুলিয়ে বললো, কি বললেন?
কই কিছু না।
মাইরা মুখ বাকালো।
তন্ময় মাইরা দু’জনেই হাত মুখে নিলো।হাজেরা বিবি আর সুহান ও ঘুম থেকে ওঠে গেছে আরও সকালে।
খুলা পিঠা হাঁসের মাংস রান্না করেছে হাজেরা বিবি। নিজের পালা দেশি হাস জবাই করেছে একদম শেষ রাতে ওঠে। অতঃপর চটজলদি রান্না চাপিয়েছে। গরম গরম খোলা পিঠা তার সঙ্গে মাটির থালে হাঁসের মাংস।
মাদুরিতে বসে মজা করে খাচ্ছে তন্ময় আর সুহান।মাইরা হাজেরা বিবির সঙ্গে পিঠা বানাচ্ছে। যদিও পারে না তবুও চেষ্টা করছে।দুজন মিলে হাসিমাখা মুখে খোলায় পিঠার কাই দিচ্ছে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করতে করতে ঘড়ির কাঁটায় ৫:৪০ বেজে গেছে। মাইরা তন্ময় সুহান আর দাদির কাছ থেকে বিদায় দিলো।বৃদ্ধ মহিলা বার বার মাইরার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছেন।
ভারি মিঠা মেয়ে তুই,আবার আসবি কিন্তু আমার এই ছোট্ট সংসারে। কেমন!
মাইরা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।
_______
ঘড়ির কাঁটায় তখন ৮ টা বাজে কলেজের সামনে দাড়িয়ে আছে নীলিমা।পড়নে তার কুচকুচে কালো কামিজ।চুল গুলো বিনুনি করে একপাশে সযত্নে ফেলে রেখেছে।কাধে ট্রুথ ব্যাগ।হাতে থাকা ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে মাইরা কে হাজার খানেক বকা দিলো।
নীলু!
মাইরার কন্ঠে খানিকটা বিরক্ত হয়ে চাইলো,পরক্ষণেই হেসে ওঠলো, মাইরার পাশে তন্ময় কে দেখে বেশ আশ্চর্য বনে গেলো।
নিজেকে সামলে নিলো পরক্ষণেই, মৃদু হেসে তন্ময়কে সালাম দিলো,
তন্ময় ও সালামের উত্তর দিয়ে কিছুক্ষণ কথা বললো,অতঃপর মাইরা আর নীলিমা কলেজে ডুকে গেলো।তন্ময় সেদিকেই তাকিয়ে রইলো।
হ্যালো হ্যাঁ নাতাশা বলো?
_কোথায় তুমি তন্ময় আমার মাথায় খুব যন্ত্রণা করছে!
খুব ব্যথা করছে,সবকিছু এলোমেলো লাগছে। কিচ্ছু ভালো লাগছে না,কিচ্ছু না!
কথা শেষ করেই ফুপিয়ে কেঁদে ওঠলো নাতাশা।
তন্ময় চিন্তিত হয়ে শুধালো কোথায় তুমি?
নাতাশা কাঁদতে কাঁদতে বললো!
বা,বাসায়”
আমি আসছি,এক্ষুনি আসছি!
বলেই কল কেটে পকেটে রাখলো তন্ময়। দৌড়ে গিয়ে গাড়ি ছাড়লো।
নীলু কিসব বলছিস তুই!
লজ্জা পাস না মারু বল না তন্ময় ভাই কি তোর সাথে কিছু মিছু করেছে?
কল মি মাইরা নট মারু ওকে!
“আর কিছু মিছু কি বলছিস?
আরে আমার খুকি কিছুই বুঝে না কিছু মিছু 😒
না বুঝি না এখন জলদি এসাইনমেন্ট শেষ কর!
হুকুম দিচ্ছিস?
হু দিচ্ছি তো!
কিছুই না শুধু এক প্লেইট ফুচকা খাওয়ালেই হবে?
এটুকুই?
হুম এতেই চলবে,নাহ দৌড়াবে,বলেই খিলখিলিয়ে হাসলো নীলিম।
মাইরাও হাসলো।
এসাইনমেন্ট শেষ করতে করতে ৯:৪৫ বাজলো।
নীলিমা পেটে হাত দিয়ে বললো,খিদে পেয়েছে মারু!
নীলু নট মারু ইট’স মাইরা।
শুন মাইরা আমার নামও নীলিমা তুই কেনো নীলু নীলু করিস?
ভালোবেসে নীলু বলি!
” আমিও ভালোবেসে মারু বলি🙂
নিকুচি করেছে তোর ভালোবাসার।আমি গেলাম।
নীলিমা হাসতে হাসতে মাইরার পিছু নিলো।
দুজন মিলে ক্যান্টিনে খাওয়া শেষ করলো,দুজন দুটো চিপস এর প্যাকেট হাতে ক্লাসের দিকে হাটা ধরলো,
নীলিমা মাইরার প্যাকেট থেকে এক মুঠো চিপস হাতিয়ে দৌড় দিলো।
নীলু রাক্ষস নি আমার চিপস আমায় দে!
“দিবো না রে,এখন এগুলো আমার,পাবি না তু,,,,
আহহহহহহ মরে গেলাম রে মারু মরে গেলাম!
আমার কোমর ভেঙে গুড়ো হয়ে গেলো,আর আমার চিপস ওহ নো সব পড়ে গেলো!
মেকি কান্না কাঁদতে কাঁদতে কথা গুলো বললো নীলিমা।
তার সামনে গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে আছে প্রফেসর আহির মির্জা।
মাইরা ভয়ে চুপসে গেলো, মনে মনে আওড়ালো,জন্মের চিপস খেয়ে নে নিলু।
নীলিমা বেচে যাওয়া চিপস সহ প্যাকেট টা হাতে নিয়ে, একজোড়া পুরুষালি পায়ের দিকে তাকিয়ে, তীক্ষ্ণ কন্ঠে শুধালো,
শা*লার বেটা চোখ কোথায় নিয়ে হাটিস।আমার মতো এত্তো বড় একটা মাইয়ারে ক্যামনে ফালাই দিলি?
বলেই মানুষটার পানে চাইলো,অমনি মুখ হা হয়ে হেলো।
আহির রক্তবর্ণ চোখে একবার পড়খ করলো নীলিমার পানে। অতঃপর বলে ওঠলো।
বেয়াদব কোথাকার ম্যানার্স শিখো তারপর কলেজে এসো”
বলেই চলে গেলো।
নীলিমা ফুপাতে ফুপাতে বললো, কি বললেন আমি ম্যানার্স জানি না!
মাইরা নীলিমা কে টেনে তুলে শুধালো, স্যারের আগে ক্লাসে যেতে হবে নীলু নয়তো বাহিরে দাড় করিয়ে রাখবে জলদি ওঠ।
নীলিমা চিপস গুলোর দিকে তাকিয়ে বললো, সরি রে তোদের আমি খেতে পারলাম না।
মাইরা নীলিমার হাত ধরে দৌড়ে গিয়ে ক্লাসে ঢুকলো।
অতঃপর হাফ ছেড়ে বাচলো দু’জন।
আহির ক্লাসে আসতেই সব স্টুডেন্ট রা দাড়িয়ে সালাম দিলো মাইরাও দাড়ালো।
নীলিমা বসে রইলো, আহিরও খেয়াল করলো,
ওই যে লাস্ট বেঞ্চে বসে থাকা ষ্টুপিড, দাঁড়াও!
নীলিমা হকচকিয়ে ওঠলো তাকে বাদে সবাই দাড়িয়ে আছে,তারমানে তাকেই ষ্টুপিড বললো,
চলবে……..

