ভালোবাসি তোমাকে পর্ব-৫+৬

0
546

/গল্প ভালোবাসি তোমাকে /
/লেখক মিঃ আবির মিঃ ভুত /
Part- 5+6

_ হটাৎ কেউ একজন ঘাড়ে হাত রাখায় চমকে উঠলাম।

ফেছন ফিরে দেখি আংকেল রাইসার বাবা) দাড়িয়ে আছে।

_ আবির তুমি এখানে? (আংকেল)

_ জ্বী আংকেল,

_ আবির তোমাকে না গ্রামের বাড়ি চলে যেতে বলেছিলাম।

_ না মানে আংকেল রাইসা , রাইসা কে দেখতে এসেছিলাম।

_ ওহ তাই, আচ্ছা আবির তুমি আমার সাথে এসো। আংকেল এর সাথে হাটছি, আর আংকেল আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে রাখছে।

_ আবির তোমাকে একটা কথা বলব?

_ জ্বী আংকেল বলেন,

_ তুমি কি রাইসা কে পছন্দ করো, মানে ভালবাসো।

_ কি হলো চুপ করে আছো কেনো, বলো তোমার কোনো ভয় নেই, কোন সমস্যা হবেনা তোমার।

_ আংকেলের চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ পর বললাম, জ্বী আংকেল ভালোবাসি।

(কথা বলতে বলতে বাইরে চলে এলাম)

_ একটু দাড়াও আবির আমি শুধু ফোনে কথা বলে নিই,

_ ঠিক আছে আংকেল,

এই বলে আংকেল একটু দুরে গেল কথা বলতে, আংকেল কথা বলছে। কিন্তু কি বলছে। সেটা ঠিক আমি বুঝতে পারলাম না।
আংকেল ফোনে কথা বলা শেষ করে আমার কাছে আসলো,

তার সাথে সাথে ৫ জন সেনাবাহীনি আমাদের দিকে এগিয়ে আসলো।

কেনো আসলো সেটা জানিনা, তবে আংকেল সেনাবাহীনির বড় অফিসার হয়তো সে কারনেই এসেছে।
আর আংকেল আমাকে বলল।

_ আবির রাইসা ও কি তোমাকে ভালোবাসে,

_ মানে, না মানে।

_ কি এতো মানে মানে করছো (রাগ দেখিয়ে), তোমাকে না বলেছি তোমার ভয় পাবার কোনো কারধ নেই (মিষ্টি সুরে)

_ জ্বি আংকেল বাসে, রাইসা ও আমাকে ভালোবাসে।

_ তো আবির তুমি চাওনা রাইসা ভালো থাকুক, সুখে থাকুক।

_ হ্যা, আংকেল চাই।

_ যেহেতু তুমি চাও যে রাইসা সুখে থাকুক, তাহলে তোকে গ্রামের বাড়ি চলে যেতে বলার পরও তুই এখানে কেনো এসেছিস ফকিরের বাচ্চা।

কথাটা বলা শেষ না হতে দুই গালে দুইটা চর বসিয়ে দিলো।

সাথে সাথে দুইজন সেনাবাহিনী এসে আমার হাত দুইটা শক্ত করে ধরলো।

আংকেল আমাকে দেখিয়ে দিয়ে বলছে, এই কুত্তার বাচ্চাটাকে মার, আর এমন ভাবে মারবি যেনো উঠে দাড়াতে না পাড়ে। বলেই আংকেল চলে গেলো।

_ দুই জন আমাকে ধরে আছে, আর বাকি তিন জনের হাতে তিনটা রড, রড নিয়ে এগিয়ে আসছে আমার দিকে,

আর আমি পালানোর চেষ্টা
করছি, সাথে সাথেই একজন এসে আমার পায়ে মারলো,

এতো জোরে মারলো যে আর আমি দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না।

পড়ে গেলাম নিচে, দুই হাটু দিয়ে দাড়িয়ে আছি, আর ভাবছি।

এর কিছুই হয়তো রাইসা জানেনা, আর জানতেও পারবেনা।

তার আমাকে মারছে খুব মারছে, আমার চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো।

_ আমি চিৎকার করে বলছি, আমাকে মারো না।

আমি আর সয্য করতে পারছিনা, দয়া করে আমাকে ছেড়ে দাও, কিন্তু কেউ আমার কথা শুনছেনা,

শুনছেনা আমার আর্তনাদের কান্না, দেখছেনা আমার চোখের জল, দেখছেন
আমার শরীর বেয়ে পড়া রক্ত।

আমি আবারো চিৎকার করে বললাম।
_ গরীবরা কি মানুষ না, গরীবদের ভালোবাসা কি খুব বড় অপরাধ।

কথাটা শেষ না হতেই কেউ একজন আমার মাথায় খুব জোরে মারলো,
মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে।

আর আমি মাটিতে উপুর খেয়ে পড়ে গেলাম।

মাথাটা ঘুরছে, চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো, আমি অঙ্গান হয়ে গেলামা।

_ এই চল সবাই, মনে হয় কুকুরে বাচ্চাটা মরে গেছে।

সবাই মিলে ধরে আমাকে রাস্তার ধারে ফেলে দিলো।

২ ঘন্টা পর ।

হটাৎ গাড়ির শব্দে হুস ফিরে এলো, ঠোট ফেটে গেছে, নাক দিয়ে তখনও রক্ত পরছে, মাথাটা বেশ ব্যাথা করছে,
উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু পারছিনা, তার পরও অনেক কষ্টে উঠে দাড়ালাম।

হাটতে খুব কষ্ট হচ্ছে, পাটা মাটিতে ফেলতে পারছি না।

তবুও আস্তে আস্তে করে হেটে নিরাপদ জায়গায় গিয়ে দাড়ালাম।

পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখি, বেশ কিছু জায়গায় ভেঙ্গে গেছে, ফেটে গেছে ডিসপ্লে, ফোনটাতে রক্তের দাগ লেগে আছে। ফোনটা পোকেটে রাখলাম।

হাতের দিকে তাকাতেই দেখি ঘড়িটা ভেঙ্গে গেছে, খুব শখের একটা ঘড়ি। অবশ্য ঘড়িটাও রাইসা দিয়েছিলো।
মনে পড়ে গেলো অতীতের কথা।

_ উফ, আজকে খুব দেড়ি হয়ে গেলো, তাই তারাতারি করে রাইসা দের বাসায় চলে এলাম।

_ এই যে, মিস্টার ভুত , আজকে এতো দেরি কেন? (রাইসা )

_ না মানে ঘড়ি নেই তো বুঝতে পারিনি কয়টা বাজে। তাই আরকি একটু দেরি হয়ে গেলো।

_ কিহ। আপনার ঘড়ি নেই?

_ হুম নেই,

_ বসেন আমি একটু আসছি, এই বলে রাইসা কোথায় যেনো গেলো,

কিছুক্ষন পর আবার এলো।

_ এই যে মিস্টার ধরেন, এটা আপনার জন্য।

_ (তাকিয়ে দেখি ঘড়ি) না না লাগবেনা, এমনি ঠিক আছে।

_ লাগবেনা বলেই হলো,

এই বলে রাইসা নিজে থেকেই ঘড়িটা আমার হাতে পড়িয়ে দিয়ে বলল,

বাহ কি সুন্দর লাগছে আপনাকে।

হটাৎ কারো চিৎকার শুনে ভাবনার ছেদ ঘটলো।

আর তখন চেচামেচি শুরু হয়ে গেছে বর এসেছে, বর এসেছে, এই শব্দে,
বুকের বাম পাশে চিন চিন করে উঠলো।

তাকিয়ে দেখি কয়েকটা গাড়ি রাইসা দের বাসার সামনে দাড়াল।

বর সহ বেশ কয়েকজন মানুষ রাইসা দের বাড়ির ভিতরে ঢুকলো।

_ আর আমি গেটের বাইরে দাড়িয়ে থাকলাম, শেষ বারের মতো এক নজর রাইসা কে দেখার জন্য।

/গল্প ভালোবাসি তোমাকে /
/লেখক মিঃ আবির মিঃ ভুত /
/Part-6 /

_ আমি বাইরে দাড়িয়ে আছি, মাথাটা খুব ব্যাথা করছে, পাটা মাটিতে ফেলতে পারছিনা। বেশ কয়েক জায়গা থেকে এখনও রক্ত পড়ছে।

অতীতের কথা গুলো মনে পড়ায় চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।

কষ্ট হচ্ছে আজ আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে,

বুকের বাম পাশের চিন চিন অনুভূতীটা বেড়েই চলছে,

মনে পড়ে গেলো রাইসা র দেওয়া চিঠিটার কথা,

_ বুক পকেট থেকে চিঠিটা বেড় করলাম।

কয়এক জায়গায় ছিড়ে গেছে, রক্ত লেগে আছে, বলতে গেলে পুরো চিঠিটা লাল হয়ে গেছে।

_ খুব যত্ন সহকারে চিঠির ভাজটা খুললাম।

চিঠিটা নিরবে পড়তে লাগলাম, আর চোখ দুটো নিরবে অশ্রু ফেলতে লাগল।

চিঠিটা পড়া শেষ করে আবার যত্ন সহকার ভাজ করে বুক পকেটে রাখলাম।

বুকের বাম পাশটা এখনও চিন চিন করছে।

দুই ঘন্টা পর ।

এখনও দাড়িয়ে আছি গেটের সামনে। রাইসা কে শেষবারের মতো একবার দেখার জন্য,
এরই মাঝে বর বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলো তার সাথে রাইসা ও এলো,

রাইসার পিছনে তার মা_ বাবা এবং বরের আত্নীয় স্বজন সবাই বেড় হয়ে এলো, বর সহ সবাই গাড়িতে গিয়ে বসলো,
রাইসা তার মাকে জড়িয়ে ধরলো আর জড়িয়ে ধরেই কেদে দিল।

আর আমিও দুর অদুর থেকে দাড়িয়ে দেখছি আর কাদছি।

রাইসা আর কারো সাথে কথা না বলেই গাড়িতে গিয়ে উঠল।

গাড়ি চলছে তার নিজ গতিতে, যত দির সম্ভব দেখা যায় ঠিক তার শেষ পর্যন্ত তাকিয়ে দেখলাম।
চোখ দুটো ঝপসা হয়ে এলো তাই আর দেখার সম্ভব হলোনা।

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, হাটা ধরলাম মেসের উদ্দেশ্যে।

আমাকে মেসে ফিরতেই হবে। পায়ে খুব ব্যাথা করছে, তবুও কষ্ট করে হাটছি।

হটাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।

বৃষ্টি হচ্ছে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। আমার কষ্ট দেখে হয়তো আকাশটাও সইতে পারেনি, তাই সে নিজেও কেদে ফেলেছে।

বৃষ্টির পানি আমার শরীরে লেগে থাকা রক্ত মুছে দিয়ে গেলো,

হটাৎ আবার বৃষ্টি থেমে গেল।

এভাবে কিছুক্ষণ হাটার পর মেসে পৌছে গেলাম।

মেসে ঢুকার সাথে সাথেই আবারও প্রথমেই বন্ধু রাকিবের সাথে দেখা।

_ কিরে আবির তোর এই অবস্থা

কিভাবে হলো, আর তুই এভাবে হাটছিস কেনো তোর কি হয়েছে? (রাকিব)

_ আরে তেমন কিছু না, রিক্সা করে আসার সময় রিক্সাটা পাল্টি খেয়েছিলো তাই আরকি পড়ে গেছিলাম।

রাকিব আমাকে ধরে রুমে নিয়ে এলো, আর কিছু ঔষধ এনে আমাকে খাইয়ে দিলো।

রাত ১১টা বাজে, সবাই গভীর ঘুমে ব্যস্ত আমি একায় জেগে আছি।

রাইসা র কথা ভাবছি কি করছে সে এখন,

হটাৎ করেই রাইসার একটা কথা মনে পড়ে গেল।

_ আবির আমি যদি তোমাকে না পাই, তাহলে কেউ আমাকে পাবেনা। মরে যাব আমি।

কথাটা মনে পড়তেই খুব ভয় পেয়ে গেলাম, যদি ও কিছু করে ফেলে?
বিছানা থেকে উঠে বাইরে এসে বসলাম।

পকেট থকে সিগারেটের পেকেট টা বের করে একটা সিগারেট ধরালাম।

সিগারেট টানছি, টানতে খুব কষ্ট হচ্ছে, গলায় লাগছে খুব মাথাটা ঘুরছে।

কিন্তু তার চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে রাইসার কথা মনে পড়লে।

একটার পর একটা সিগারেট জ্বালাচ্ছি, আর নিরবে কেদে যাচ্ছি,

_ কালো হচ্ছে ঠোঁট, পুড়ে যাক

কলিজা।

তবুও সিগারেটের প্রতিটি টানে উড়ে যাক কষ্টের সব ধুয়া।

কখন যে চোখ দুটো লেগে এসেছে বুঝতে পারিনি

হটাৎ ফোনের রিংটনে চমকে উঠলাম।

চারিদিকে সূর্য্যের আলো ছড়িয়ে পরেছে, মানে সকাল হয়েছে। ফোনের দিকে তাকাতেই আমি অবাক হলাম,
কারন রাইসার বাবা ফোন করেছে, ফোনটা ধরলাম না কেটে দিলাম।

আবার ফোন করেছে আমি এবারো কেটে দিলাম।

আবারো ফোন দেওয়ায় ভাবলাম রাইসার কিছু হলো নাতো, তাই তারাতারি ফোনটা রিসিভ করলাম,

_ হ্যালো আবির ,
_ জ্বি আংকেল বলেন!

_ তুমি তারাতারি হাসতাপাল চলে আসো আমরা সবাই হাসতালে আছি।

_ হাসপাতালে, কেন আংকেল কি হয়েছে?

_ রাইসা হাসপাতাল ভর্তি আছে, তুমি হাসতাল চলে আসো আর আসলে দেখতে পাবে কি হয়েছে।

_ জ্বি আংকেল যাচ্ছি বলেই ফোনটা কেটে দিলাম।

কথা শুনেই যেন মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসছে।

মেস থেকে হাসপাতাল বেশি দুরে না, তাই দ্রুত পায়ে হাসপাতালে পৌছে গেলাম।

হাসপাতাল পৌছাতেই দেখি সবাই কাদছে,

আমি রাইসার কাছে যেতেই সবাই রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।

_ রাইসা আমার দিকে তাকিয়েই ঠোট বাকিয়ে ছোট্ট একটা হাসি দিল, ঠিক যেভাবে হেসেছিল প্রথম দিন।

_আবির বাবাকে অনেক অনুরোধ করায়, বাবা তোমাকে এখানে আসাতে দিতে রাজি হয়েছে।

আমি আর বেশিক্ষন নেই আবির , তাই যা বলছি মনোযগ দিয়ে শনো,

_ তোমাকে আমি বলছিলাম না তোমাকে আমি না পেলে কেউ আমাকে পাবেনা। গাড়িতে উঠার সময় দেখেছিলাম, তুমি
রাস্তার ধারে একটা কনে দাড়িয়ে ছিলে।

তাই তোমাকে দেখেই আম্মুকে জড়িয়ে ধরেই কেদেছিলাম।

আর গাড়িতে উঠেই ফল কাটা ছুড়ি দিয়ে হাতের রগ কেটে ফেলি।

তখন কষ্ট হচ্ছিল, খুব কষ্ট হচ্ছিলো তোমার কথা ভেবে, কারন তোমার খেয়াল রাখার আমি ছাড়াতো আর কেউ নেই তাই।

_ আমি কাদছি, চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছে।

_আবির তোমাকে একটা কথা বলবো?

_ হুম, বলো,
_ একবার তোমার বুকে জড়িয়ে ধরবে?

_ কথাটা বলা শেষ না হতেই পাগলিটাকে নিজের বাহুডোরে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
_ আবির আরেকটা কথা বলবো!

_ হুম বলো, তোমাকে কে বলতে মানা করেছে,

_ আজ একবার বলনা ভালোবাসি, না হলে যে আর কোনো দিন বলতে পারবেনা, প্লীজ বলনা আবির ।
রাইসা আমার হাতটা শক্ত করে ধরে আছে।

আমি চোখ বন্ধ করে বললাম।

_ i love you রাইসা । আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি, তোমাকে ছাড়া যে আমিও বাচবোনা।

রাইসার কোন শারা শব্দ নেই, তাই আমি চোখ খুললাম।

রাইসা নিশ্চুপ হয়ে গেছে, চলে গেছে অনেক দুরে।

_ ভালোবাসি কথাটা হয়তো রাইসা শুনেছে, হয়তোবা শুনতে পারেনি।

তার আগেই চলে গেছে আমাকে ফাকি দিয়ে।

চলবে…..