ভালোবাসি বুঝে নাও পর্ব-০৬

0
5823

#ভালোবাসি_বুঝে_নাও🍁🍁
#পর্ব_৬
#সুমাইয়া_সুলতানা _সুমী(writer)
.
গভীর রাত বাইরে ঘন কালো অন্ধকার চারিদিক থেকে ঝিঝি পোকা ডাকার আওয়াজ আসছে মাঝে মাঝে শিয়াল আর কুকুরের ডাক ও ভেসে আসছে,,, মাহির ভীষণ ভয় লাগছে মেঘলার গায়ের সাথে একদম গা ঘেঁষে শুয়ে আছে অপর পাশে ইশিতা নেই কোথায় গেছে কে জানে,,, মাহির শুধু মনে হচ্ছে বাইরে সেই রাজার আত্মা ঘোড়ায় চড়ে আসছে,, এরি ভিতর বাঁধলো এক বিপত্তি মাহির ভীষণ বাথরুম পেয়েছে,,
গ্রামে বাথরুম একটু দূরেই হয়, শহরের মতো ঘরের মধ্যে হয় না,,,

এই বাথরুম আাসার আর সময় পেলো না, এখন কি করি কেনো যে নানু ঘর তুলার সময় বাথরুম টা ঘরের মধ্যে করলো না কে যানে,, এতোদূরে করার কি দরকার ছিলো, এখন আমি কি করবো??(নিজে নিজে বলল মাহি)
এক কাজ করি মেঘলা আপুকে ডাকি হ্যাঁ।।

মেঘলা আপু এই মেঘলা আপু উঠো (মেঘলাকে ঝাকিয়ে)

মেঘলা উঠবে কি করে ওতো একটু আগেই ঘুমিয়েছে,, মেঘের সাথে কথা বলে,, তাও ঘুম ঘুম চোখে বলল।

হুম কি হয়েছে বল (ঘুম ঘুম চোখে বলল)

আমার ভীষণ বাথরুম পেয়েছে চলো আমার সাথে.

এখন?? ইশিতার সাথে যা।

ইশিতা আপুতো নেই কোথায় গেছে জানি না।

আচ্ছা চল (এরপর মেঘলা ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে মাহির সাথে নিচে গেলো আর মাহি তো মেঘলার পিছন পিছন মেঘলার উড়না ধরে নামছে।)

তুই যা আমি এখানে দাড়িয়ে আছি (মেঘলা)

আচ্ছা এখানেই থেকো ওকে আমি যাচ্ছি (এই বলে মাহি বাথরুমে চলে গেলো যাচ্ছে আর পিছনে দেখছে মেঘলা আছে কি না)

মেঘলা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না ভীষণ ঘুম পাচ্ছে তাই আস্তে আস্তে রুমে চলে গেলো। গিয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

প্রায় অনেকক্ষণ পর মাহি বাথরুম থেকে বেরোলো বেরিয়ে দেখল মেঘলা নেই,, ভীষণ ভয় করতে লাগলো,, এমনি তেই বিকালে ইশিতার কাছে ওই গল্প শুনে ভয়ে মরে যাচ্ছে তারপর এখন রাত।

ম,,,মেঘলা আপু ক,,,কোথায় ত,,তুমি আমার ভীষণ ভয় করছে কথা বলো প্লিজ। (ভয়ে ভয়ে বলল মাহি)

ইশিতা তার প্রেমিকের সাথে ফোনে কথা বলে উপরে রুমে যাচ্ছিলো,, রুমেই কথা বলতো কিন্ত মাহি আর মেঘলা আছে বলে চুপিচুপি নিচে নেমে কথা বলে ঘরে যাচ্ছে তখনি দেখলো মাহি নিচে দাঁড়িয়ে আছে,,

আরে ওটা মাহি না? হ্যাঁ মাহি তো মনে হয় বাথরুমে গিয়েছিলো, এখন ভয় পাচ্ছে তাই রুমে যেতে পারছে না,মনে হয়,ওর সাথে, একটু মজা করি ।

এই বলে ইশিতা চুপিচুপি মাহির পিছনে গিয়ে জোরে করে ভাও করলো আর মাহি ভয় পেয়ে চিৎকার করে এক দৌড় মারলো।

আরে এই মাহি কোথায় যাচ্ছিস আমি তোর ইশিতা আপু,, শোন দাড়া ওদিকে যাস না ওদিকে তো বাগান,, মাহি(ইশিতা অনেকবার ডাকার পরও মাহি আসলো না,, মাহির শুধু মনে হচ্ছে রাজার ওই আত্তা ওকে মেরে ফেলবে ওটাই এসেছে)

এদিকে,,,

মেহরাব এর ভীষণ গরম লাগছে তাই আর রুমে শুয়ে থাকতে পারে নাই, যে ছেলে এসিতে শুয়ে অভ্যাস তার কি এই সামান্য ফানের বাতাসে ঘুম আসে?? কালকে জার্নি করে ক্লান্ত ছিলো তাই ওমনি ঘুমিয়ে পরেছিলো কিন্তু আজকে গরমে আর ঘুম আসিনি তাই ফোনটা নিয়ে বাগানে চরাট এর উপর বসে আছে প্রকৃতির বাতাসে গা একদম ঠান্ডা হয়ে গেছে,, এবার রুমে যাওয়া দরকার, যেই চরাট থেকে নেমে দাড়িয়েছে তখনি হুরমুর করে এসে কি যেনো বুকের সাথে ধাক্কা খেলো।

আর এদিকে মাহি ভয় পেয়ে কোন দিকে দৌড় দিয়েছে নিজেই জানে না পিছনে তাকিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেলো ও মনে করলো রাজার আত্মা তাই ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওখানেই অঙ্গান হয়ে গেলো।

আরে এতো মাহি, মাহির চিৎকার শুনে বুঝতে পারল,, মেহরাব মাহিকে টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো তারপর মাহির মুখে হালকা করে মেরে ওকে ডাকতে লাগলো।

মাহি এই মাহি কি হয়েছে তুই এখানে কেনো?? এই,, অস্থির হয়ে বলল মেহরাব (কিন্তু মাহির কোনো সাড়া শব্দ নেই,, অঙ্গান হওয়া সত্ত্বেও থরথর করে কাপছে তারপর মেহরাব মাহিকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়ির ভিতর গেলো আর সবাইকে ডাকতে লাগল)

মাহির জ্ঞান ফিরলো পরদিন প্রায় বিকালে,,, জ্ঞান ফিরার পর আমি চোখ মিলে তাকিয়ে দেখলাম আমি আমার রুমে আর আমার পাশে মেঘলা আপু আর ইশিতা আপু মুখ গোমড়া করে বসে আছে।

আপু (বলে উঠার চেষ্টা করলাম)

আরে তোর জ্ঞান ফিরেছে অবশেষে, উঠছিস কেনো (মেঘলা)

হ্যাঁ উঠিস না তোর কিছু হলে আবার আমাদের মেরে খাল করে দেবে (ইশিতা)

আপুদের কথা না বুঝে আমি বললাম,, মানে??

মাহি তুই তো বড় হয়েছিস বল?? তোর বয়স তো ১৭ তারপরেও তুই এতো ভয় পাস কেমনে বলতো?? (ইশিতা)

হ্যাঁ তুই ভিতু জানতাম কিন্তু তুই যে এতো ভিতু আমরা বুঝতেই পারিনি, সামান্য এটুকুতেই এতো ভয় পেলি?? (মেঘলা)

হ্যাঁ আর কোনোদিন মনে থাকলে তোর সাথে মজা করবো না,, বাবাগো আমার গালটা এখনো বেথ্যা করছে (গাল ডলতে ডলতে বলল ইশিতা)

আমি তো সকাল থেকে মেঘের সাথে কথা বলতেও পারিনী,,

কেনো??(মাহি)

কেনো বুঝিস না?? তোর সাথে একটু মজা করেছি বলে তুই তো অজ্ঞান হয়ে গেলি,, অজ্ঞান হলি হলিতো মেহরাব ভাইয়ের উপর,, দাখ (ইশিতা গালটা এগিয়ে দিয়ে বলল) মেহরাব ভাই পরপর সপাং সপাং করে ২ চড় মেরেছে আহ কি বেথ্যা আর কখনো তোর সাথে মজা করবো না বোন (ইশিতা)

হুম, আর আমার ফোনটাও নিয়ে গেছে,, এতোক্ষণ এখানেই ছিলো,, এই মাএ ডাক্তার এর সাথে গেছে ঔষুধ আনতে (মেঘলা)

তারমানে কাল রাতে আমি মেহরাব ভাইয়ার সাথে ধাক্কা খেয়েছিলাম তারমানে ভাইয়া আমায় বাড়িতে এনেছে?? নিশ্চয়ই কোলে নিয়ে, হাই কি লজ্জা আমি এতো বড় একটা মেয়ে হয়ে কেমনে ভাইয়ার কোলে উঠলাম ইস কি লজ্জা(মনে মনে বলল মাহি)

তখনি মেহরাব ঘরে ঢুকলো। মেহরাবকে দেখে ইশিতার হাত আপনা আপনি নিজের গালে চলে গেলো। আর মেঘলা চুপ করে দাড়িয়ে গেলো।

মেঘলা তোর ফোন নে,, আর এমন ভুল যেনো না হয়,, দুজনকেই বলছি,, এখন যা নিচে গিয়ে ফুপি আর বাকি সবাইকে বল মাহির জ্ঞান ফিরেছে,, ফুপি অনেক চিন্তা করছে (গম্ভীর সুরে বলল মেহরাব)

তারপর মেঘলা আর ইশিতা চলে গেলো। আর মেহরাব গিয়ে মাহির কাছে বসে মাহির কপালে হাত রাখলো দেখলো জ্বর আছে কি না,, কাল রাতে প্রচন্ড ভয় পেয়ে জ্বর এসেছিলো।

হুমম এখন আর জ্বর নেই,,, (মেহরাব)

মেঘলা আপু বললো আপনি নাকি আমায় বাড়িতে এনেছেন,, আচ্ছা ওতো রাতে আপনি বাগানে কি করছিলেন। (ভয়ে ভয়ে বললাম)

কেনো জানিস না?? আমি তো ওই রাজার আত্মার সাথে মিটিং করছিলাম,, গাধী একটা, ঘুম আসছিলো না তাই ওখানে বসে ছিলাম তোর মতো ভিতু নাকি আমি,,শোন এই আত্মা টাত্তা বলে কিছু নেই বুঝলি(মেহরাব)

আমি মাথা নিচু করে বসে রইলাম,, নিজেই নিজেকে বললাম, ছিছি মাহি তুই কত ভিতু সত্যি আমি একটু বেশিই ভিতু, এসব ভাবছিলাম তখনি বাইরে সবার গলার আওয়াজ পেলাম মনে হয় এঘরেই আসছে।

তখনি মেহরাব ভাই বিছানার উপর থেকে নেমে আমার সামনে দাড়িয়ে আমার চুলের মধ্যে হাত দিয়ে চুলগুলো মুঠো করে ধরে কপালে পরপর দুটো চুমো দিয়ে কানে ফিসফিস করে বলল।

আমি কারো জিনিস নিজের কাছে রাখিনা তাই তো সুদ সমেত ফেরত দিয়ে দিলাম,,(এই বলে নাকে নাক ঘষে চলে এলাম)

এটা কি হলো?? আমি তো পাথরের মতো বসে থাকলাম,, কেনো যানি এতো গরমের মধ্যে আমার শীত লাগছিলো,, গায়ের মধ্যে কেমন যেনো একটা লাগছিলো।

গ্রামে আসা ৩ দিন হয়ে গেছে,, ওই দিন এর পর থেকে ইশিতা আপু আর মেঘলা আপু রাতে আমায় আর একা ছাড়ে না চোখে চোখে রাখে,,, আব্বু আর বড় মামা ঠিক করেছে এখানে ১ সপ্তাহ থেকেই চলে যাবে।

দুপুরে,,,,,

সবাই ঘুমাই আছে কিন্তু আমার ঘুম লাগছে না তাই আমি চুপিচুপি কাউকে না বলে সেই ডোবার কাছে যাচ্ছি ওই ফুলগুলো আমার লাগবেই আমি আনবোই,, কিন্তু বাইরে তো অনেক রোদ তাতে কি আমি গিয়ে নিয়েই চলে আসবো।

এই ভেবে আমি একা একাই মাঠে যেতে লাগলাম,,, হাটতে হাটতে সেই শিশু বাগানে চলে আসলাম। হাফ লেগে গেছে বাবা কত্ত রোদ মনে হয় আজকেই কালো হয়ে যাবো,,
তারপর আমি দীঘির কাছে গেলাম।

ওইতো সেই ডোবাটা,, আজকে তো আরো বেশি ফুল ফুটেছে ইস ওই সব গুলো ফুলই আমার চাই,, এই ভেবে আমি আস্তেধীরে ওই ডোবাটার কাছে গেলাম অনেক ঝোপঝাড় আমি পাশ থেকে একটা লাঠি নিয়ে ফুলটা কাছে আনার চেষ্টা করলাম,, আসলে ফুলগুলো অনেকটাই দূরে আর আমি তো সাঁতার জানিনা তাই কাছে আনার চেষ্টা করছি,, ঠিক তখনি পায়ে কি যেনো এটকা ফুটলো অনেক বেথ্যা করছিলো,, তাই নিচে পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি একটা মোটা সাপ,,, পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি পা থেকে অল্প অল্প রক্ত বার হচ্ছে।

আমি লাঠিটা ফেলে দিয়ে ওখান থেকে দৌড়ে সাপ সাপ বলে চেচাতে চেচাতে দৌড়াতে লাগলাম।

চলবে,,,,,?