#মনের_আড়ালে
Part_1
লেখনীতে – #Nusrat_Hossain
সামান্য রিজেক্ট করার কারনে ভরা রাস্তায় ইশমিকে থাপ্পড় মারল অভিক চৌধুরি ।থাপ্পড় মেরে চলে যাওয়ার আগে তাকে হুমকিও দিয়ে গেল সে তার জীবন প্রতিটা সেকেন্ড নরক বানিয়ে ছাড়বে ।
ভরা রাস্তায় গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইশমি ।টপটপ করে তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে ।আজকে সকালে রিকশায় চড়ে ভার্সিটিতে যাচ্ছিল সে ।হঠাৎ রিকশার সামনে একটি গাড়ি এসে থামে ।সেটা আর কারো গাড়ি ছিলো না অভিক চৌধুর-ই ছিলো ।আর গাড়ি থেকে নেমেই অভিক চৌধুরি ইশমিকে রিকশা থেকে হেঁচকা টান দিয়ে নামায় ।তারপর আচমকা তার গালে থাপ্পড় মেরে দেয় ।আর হুমকি দিয়েও চলে যায় । ডান হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখের পানিটা মুছে নিল ইশমি তারপর আবার ভার্সিটি যাওয়ার জন্য পা বাড়াল ।ক’দিন আগে এই অভিক চৌধুরী তার পরিবার নিয়ে ইশমিদের বাসায় যায় বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে ।কিন্তু তার পরিবার সরাসরি অভিক চৌধুরিকে বিয়ের জন্য না করে দেয় ।তার স্পষ্ট মনে আছে সেদিন অভিক চৌধুরি তার দিকে হিংস্রচোখে তাকিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ।এই আগুন চোখে তাকানোর মানেটা ঐদিন বুজতে না পারলেও আজকে সে বুঝতে পেরেছে ।এত সহজে অভিক চৌধুরি তাকে ছেড়ে দেবেনা ।তাকে অনেক বড় মাশুল দিতে হবে এর জন্য ।হাটতে হাটতে ইশমি ভার্সিটির
সামনে এসে দাঁড়ায় ।
ভার্সিটি পৌঁছে যেইনা ইশমি ভেতরে ঢুকতে যাবে অমনি পেছন থেকে কেউ তার চুল ধরে টান দেয় ।সে হতবাক হয়ে চোখ বড়বড় করে পেছনে তাকায় ।এটা আর কেউ না তার প্রানপ্রিয় বান্ধবী অনিতা ।অনিতা ইশমির চুল ছেড়ে দিয়ে কপট রাগ দেখিয়ে ইশমিকে বলে উঠল
—— ইশু কুত্তি আমায় রেখেই চলে আসলি কেন আজকে হুম আমায় একা একা ভার্সিটি আসতে হল ।
ইশমি ছোট একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল
—-আজকে অভিক স্যার আসছিল অনি ।
অনিতা চমকে বলল অভিক স্যার ! কখন আসল ? ভার্সিটির ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে ইশমি বলল
—– আমি ভার্সিটি আসছিলাম ।অভিক স্যার আমার সামনে গাড়ি থামিয়ে আমাকে রাস্তার সবার সামনে থাপ্পড় মেরেছে আবার হুমকিও দিয়েছে সে নাকি আমার লাইফ নরক বানিয়ে ছাড়বে ।উনি আমায় ছাড়বেনা ।
অনিতা অবাক হয়ে বলল ও মাই গড ।
তুই কি করছিলি গাধী ? তুইও স্যারের গালে একটা থাপ্পড় মেরে দিতি !
ইশমি অনিতার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে বলল স্যারের গালে থাপ্পড় মারার সাহস আমার নেই ।ওতো বড় বেয়াদব আমি নই ।
অনিতা মুখ কুঁচকে বলল ছাড় তো তুই আমি তোর জায়গায় হলে না সত্যি সত্যি থাপ্পড় মেরে দিতাম ।তোর তো কোনো দোষ নেই ।তুই তো আর রিজেক্ট করিসনি ।রিজেক্ট করেছে তোর পরিবার তাকে ।তাহলে তুই কেন সাফার করবি এসব ।
ইশমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ছাড় এসব কথা ।আমার ভয় করছে আজকে অভিক স্যারের ক্লাস আছে । সবার আগেই আমাদের ক্লাস নিতে আসবে অভিক স্যার ।আমি তাকে কিভাবে ফেইস করব অনি ? আমার খুব ভয় করছে অনি ।
অনি ইশমিকে আশ্বস্ত করে বলল তুই কোনো চিন্তা করিসনা ইশমি আমি তোর পাশে আছি ।মনে সাহস রাখ ।আমাদের এখন ক্লাসে যেতে হবে সবার প্রথমেই অভিক স্যারের ক্লাস ।
ইশমি আর অনিতা ক্লাসরুমের সামনে আসতেই তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল ।অনিতা ইশমির কানে কানে ফিসফিস করে বলল কি ব্যাপার ইশমি আজকে দেখি অভিক স্যার আগেই ক্লাস নিতে ঢুকে পরেছে ।আশু দিনত লেট করে ক্লাসে ঢুকত আজকে এত আগে ! ইশমি ভয়ে ভয়ে ঢোক গিলে বলল জানি নারে ।
ইশমি আর অনিতা ক্লাসরুমের দরজার বাহির থেকে বলল মে আই কাম ইন
স্যার ।
অভিক তাদের দিকে তাকিয়ে একটা ডেভিল হাসি দিল ।সে ইশমির দিকে ঘাড় কাত করে জোড়ে ধমক দিয়ে বলল এত লেইট কেন ? ভার্সিটি টা কি আপনার বাবার যখন ইচ্ছা হল আসবেন আর যখন ইচ্ছা হল চলে যাবেন ।এরপর থেকে লেইট করে আসলে ক্লাসে আর ঢুকতে দেওয়া হবেনা গট ইট ।কাম ।
ইশমি আর অনিতা মাথা নিচু করে ভেতরে ঢুকল ।ইশমি আড়চোখে তাকিয়ে খেয়াল করল ক্লাসের সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে ।সে আর অনিতা গিয়ে লাস্টের বেঞ্চিতে গিয়ে বসল ।অনিতা ইশমির মুখ মনমরা দেখে ইশমিকে বলতে লাগল মন খারাপ করিস না এসব কমন ।জাস্ট চিল ইয়ার ।
ইশমি অনিতার কথায় মুচকি হাসল ।সে একটুও নিজেকে ঠিক রাখতে পারছেনা ।একমাত্র সে-ই জানে তার ভেতরে কি চলছে ।অভিক ক্লাস নেওয়া শুরু করে দিল ।ইশমিও মন দিয়ে ক্লাস করতে লাগল ।সে মনে মনে পণ করল অভিকের ক্লাসে কোনো ভুল করবেনা এমন কিছু করবে না যাতে অভিক তাকে অপমান করার সুযোগ পায় ।মোট কথা সে অভিক কে কোনো সুযোগ দিবে না তাকে অপমান করার ।অভিক লেকচার দিতে দিতে হ্ঠাৎ ইশমিকে বলে উঠল
—— মিস ইশমি স্ট্যান্ড আপ ।
ইশমি চারদিকে চোখ তাকিয়ে ঢোক গিলে বলল স্যার আমি ?
অভিক ঠোট কামড়ে মুচকি হেঁসে বলল না আপনার মাথায় যে গাধাটা বসে আছে আমি তাকে বলেছি ।অমনি ক্লাসে হাঁসির রোল পরে গেল ।অনিতা ইশমির কানে ফিসফিস করে বলল ওরে গাধী তোকেই দাঁড়াতে বলেছে দাঁড়া ।
ইশমি ঢোক গিলে দাঁড়াল ।অভিক তাকে জিজ্ঞেস করল রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক কে ?
ইশমি মাথা নিচু করে মনে করতে লাগল রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক কে কিন্তু তার কোনোভাবেই মনে পরছেনা এখন ।পেটে আসছে কিন্তু মুখে আসছেনা ।অভিকের ভয়ে আরো মনে করতে পারছে না ।অনেকক্ষণ হয়ে গেল কিন্তু সে কোনো উত্তর দিতে পারল না ।
অভিক তার মুখে কলম টা ছুড়ে মেরে বলল ডাম্বো !একটা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না আবার ভার্সিটিতে আসে ।মাথায় গোভর ভরা ।অভিকের কথায় অমনি সারা ক্লাসে হাসির রোল পরে গেল ।
অভিক দাঁতে দাঁত চেঁপে ইশমিকে বলল আজকে সারা ক্লাস আপনি দাঁড়িয়ে থাকবেন ।
ইশমির চোখের কোণ থেকে গাল বেয়ে পানি পরছে ।কান্নায় তার গলা ভারী হয়ে গেল ।ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে ।ঠোট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইল ।অনিতা বান্ধবীর দিকে থমথমে মুখে তাকিয়ে আছে ।তার খুব খারাপ লাগছে ইশমির জন্য ।সে ভালোভাবেই জানে অভিক স্যার ইচ্ছে করেই ইশমিকে অপমান করার জন্যই এমনটা করেছে ।
সারাক্লাস ইশমি দাঁড়িয়েই রইল ।ক্লাস শেষে অভিক চলে গেলে ইশমি বেঞ্চিতে মাথা ঠেকিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল ।না জানি আর কত অপমান এভাবে তাকে সহ্য করতে হবে অভিক স্যারের কাছে ।
ক্লাস শেষে ইশমি বাড়ি চলে এল ।তার মন , শরীর কিছুই ভালো লাগছিল না তাই বাড়িতে এসেই বিছানায় ঘুমে ডোলে পরল । ইশমি ঘুমাচ্ছিল ।ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দিল ।সে হুড়মুড়িয়ে জেগে উঠল ঘুম থেকে ।আচমকা বিছানা থেকে ফ্লোরে পড়ায় সে কমোরে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করল ।সে ব্যাথায় অস্ফুটভাবে কুঁকিয়ে উঠল ।
চলবে,
@Nusrat Hossain