#মনের_আড়ালে
Part_8
লেখনীতে – #Nusrat_Hossain
ইশমি ফজরের ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠে নামাজ টা আদায় করে নিজের ফোনটা অন করে দেখল সেই আননোন নাম্বার থেকে আর কোনো মেসেজ আসেনি ।
ইশমির ধারনা এই আননোন নাম্বার টা একজনের-ই হতে পারে ।আর সে অভিক-ই ।ইশমি মনে মনে বলল ছেলেটা এমন কেন এই ভালো তো এই খারাপ ।ইশমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
ইশমি অনিতার সাথে ভার্সিটির মাঠে বসে গল্প করছে আর চারপাশে চোখ বুলিয়ে কাউকে খুঁজে চলেছে ।অনিতা ইশমির দিকে লক্ষ্য করে বলে উঠল তুই কি কাউকে খুঁজছিস ?
ইশমি আমতা আমতা করে বলল না তো ।কাকে খুঁজব ? এমনি দেখছিলাম ।
অনিতা দুষ্টু হাঁসি দিয়ে ভ্রু দুটো নাচিয়ে বলল অভিক স্যার কে খুঁজছিস তাই না হুম হুম ?
ইশমি থতমত খেয়ে গেল ।সে আমতা আমতা করে বলল উনাকে কেন খুঁজতে যাবো আমি ।আমার কি খেয়েদেয়ে কাজ নেই ।কালকে যা করল এরপর আমি ইশমি আর বলতে পারো না তার মুখে কালো আঁধার ছেয়ে গেল কালকে সবার সামনে অপমানিত হওয়ার কথাটা মনে করে ।কিন্তু ইশমি মুখে না করলেও এটাই সত্যি যে ওর চোখদুটো ভার্সিটি আসার পর থেকে কোনো কারন ছাড়াই অভিক কে খুঁজে চলেছে ।
অনিতা বলে উঠল কালকে অভিক স্যার এমন কেন করল ইশমি তোর সাথে ?সবার সামনে এভাবে কানে কেন ধরাল তোকে ? আমি যা ধারনা করছি এ্যাসাইমেন্টের জন্য না !
ইশমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল উনি কালকে আবার আমায় প্রপোজ করেছিল কিন্তু আমি তাকে না করে দিয়েছি আর এই জিদটাই আমার উপর ঝেড়েছে উনি আমাকে অপমান ,অপদস্থ করে ।
অনিতা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল আজকে মনে হয় আসবেনা আর অভিক স্যার।অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে ।চল ক্লাসে যাই ।ইশমি আর অনিতা ক্লাস করতে চলে গেল ।ব্রেক টাইমে ইশমি ওয়াশরুমে যাওয়ার খুব প্রয়োজনবোধ করল ।সে অনিতাকে বলে ওয়াশরুমে চলে গেল । ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরমের দরজা খুলে যে-ই না বের হতে যাবে অমনি অভিক তার হাত ধরে টেনে হুড়মুড়িয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজাটা লাগিয়ে দিল ।ইশমি অবাকের চরম পর্যায় ।সে চোখ বড় বড় করে বলে উঠল আপনি মেয়েদের ওয়াশরুমে কি করছেন ?
অভিক ইশমির কথায় পাত্তা না দিয়ে দু হাতে ইশমির কমোর ধরে খুব কাছে টেনে নিয়ে ঝাপটে ধরে ইশমির সারামুখে পাগলের মত চুমু দিতে লাগল ।ইশমি নিজের হাত দিয়ে অভিক কে ধাক্কা দিতে দিতে বলল অ্ অভিক ছাড়ুন প্ প্লিজ আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ।অভিক শুনেও পাত্তা দিল না ওর কথা ।এবার ইশমি অভিকের বুকে ইচ্ছামত কিল দিতে লাগল কিন্তু কোনো লাভ-ই হচ্ছে না বরং অভিক ওকে আরো টাইট করে ধরে সারামুখে চুমু দিচ্ছে ।ইশমি হাল ছেড়ে দিয়ে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল ।অভিক এবার মুখ ছেড়ে ইশমির দুগাল ঝাপটে ধরে ইশমির ঠোটে চুমু দিতে লাগল ।ইশমির দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে ।তাতে অভিকের কোনো খেয়াল নেই ।সে এখোনো ইশমির দুঠোটে মত্ত হয়ে আছে ।ওর কোনোদিকে হুশ নেই ।অভিক বেশ সময় নিয়ে ইশমির দুঠোটে চুমু দিয়ে চিবুকে আলত করে কামড় দিয়ে ওর গলায় মুখ ডুবিয়ে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে ।ইশমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে তার গলায় অভিকের নিশ্বাসের আনাগোনাগুলো ।অভিক তার গলায় ঠোট বুলাতে বুলাতে বলল সর্যি কালকে ঐ ব্যবহারের জন্য ।আমি তেমন টা করতে চাইনি ।কি করবো মাথায় রাগ চেঁপেছিল খুব ।ভেবেছিলাম আর কোনোদিন তোমায় বিরক্ত করবো না কিন্তু দিন দিন আমি আরো পাগল হয়ে যাচ্ছি তোমায় ভেবে ভেবে।এবার অভিক ইশমির গলা থেকে মুখ উঠিয়ে ওর কপাল কপাল লাগিয়ে স্বাগতিক কন্ঠে বলল আমি কি নিম্নবিত্ত ?নাকি আমি দেখতে খারাপ ? তুমিও খুব ভালোভাবে জানো এই ভার্সিটির প্রত্যেকটা মেয়ে আমার জন্য কতটা পাগল ।তোমার জুনিয়র ,সিনিয়র এমনকি তোমার ক্লাসমেটগুলোও আমার দিকে প্রেমময় দৃষ্টিতে তাকায় কিন্তু তুমি কেন এমন করো ইশু ? ইশমি এটা কোনোদিনও অস্বীকার করে না ।অভিক দেখতে যথেষ্ট হ্যান্ডসাম , লম্বায় ছয় ফিট দুই থেকে তিন ইঞ্চি হবে , বেশ পুরুষালি দেহের গড়ন , গায়ের রঙ উজ্জল শ্যাম বর্নের । সত্যি সত্যি ভার্সিটির প্রত্যেকটা মেয়ে অভিকের জন্য পাগল ।এমনকি তার ক্লাসমেটরাও অভিক ক্লাসে আসার পর তার দিকে হাঁ করে প্রেমময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত প্রথম প্রথম ।কিন্তু একদিন অভিক সবাইকে ধমক দেওয়ার পরে তারা আর তার দিকে ঐভাবে তাকাতে সাহস পায়নি ।অভিক তার বাহু ধরে আলতো করে ঝাকিয়ে বলল ইশু একবার শুধু হ্যাঁ বলো , একবার আমায় ভালোবাসো আমি এই দুনিয়ার কিছু পরোয়া করবো না এক্ষুণি এই মুহূর্তে তোমায় বিয়ে করব । ইশমি অভিক কে আলতো ধাক্কা দিয়ে বলল আমার পরিবার আমায় বিয়ে দিতে রাজি না ।আমি তাদের অনুমতি ছাড়া কখনো বিয়ে করবো না ।ইশমির বলতে দেরি হল কিন্তু অভিকের ওর গালে থাপ্পড় মারতে দেরি হলো না ।অভিক ইশমির দিকে আর একবারো ফিরে না তাকিয়ে গটগট করে বের হয়ে গেল ।ইশমি হতবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।
ভার্সিটি শেষে আজকেও ইশমি ভারাক্রান্ত মন নিয়ে-ই বাড়িতে ফিরল ।
রুমে ঢুকেই দেখতে পেল তিথি মুখে ময়দার প্রলেপ লাগিয়ে চোখ বুজে বসে আছে ।এত দুঃখের মাঝেও তার খুব হাঁসি পেয়ে গেল এবং সে হোঁ হোঁ করে হেঁসেও দিল ।তিথি চোখ বোজা অবস্থাতেই ইশমিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠল পাগল টাগল হলি নাকি এভাবে হাঁসছিস কেন ?
ইশমি ব্যাগ টা টেবিলে রেখে তিথির পাশে বসে ফিঁক করে হেঁসে দিয়ে বলল তুমি মুখে এভাবে ময়দা লাগিয়ে বসে আছো কেন ?
তিথি বলল আজকে আমি অনেক সুন্দর দেখা চাই তার সামনে ।আমার চেহারা আগে থেকে অনেক ময়লা হয়ে গেছে ।আমার ভয় হয় ও যদি আমায় পছন্দ না করে ?
ইশমি বিছানায় ধপাস করে শুয়ে বলল যে তোমায় মন থেকে ভালোবাসবে সে কোনোদিন তোমার না রুপ দেখবে আর না গুন দেখবে ।সে তোমায় এমনিতেই পাগলের মত ভালোবাসবে ।
তিথি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠল ইশমি সে আমায় মন থেকে ভালোবাসে তো ?ইশমি কিছু বলল না ।চুপ রইল ।
বিকেলে ইশমি আর তিথি রেডি হয়ে বাড়ি থেকে বের হতে নিলেই হাফসা বেগম তাদের পথ আটকে দাঁড়ায় ।ইশমি ভয়ার্ত দৃষ্টিতে হাফসা বেগমের দিকে তাকিয়ে আছে ।তাদের দুজনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে বলে উঠল কোথায় যাওয়া হচ্ছে দুজনের ?
তিথি অকপটে বলে উঠল আমার পুরোনো বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি সাথে ইশমিকেও সাথে নিয়ে যাচ্ছি ।
হাফসা বেগম বলে উঠল বান্ধবীর নাম কি ? থাকে কই ?
তিথির জাস্ট বিরক্ত লাগছে তাই কিছু একটা মনে মনে ফন্দি এটেঁ হাফসা বেগমের আরো কাছে গিয়ে বলে উঠল ফুপি তুমি খেয়াল করেছো তোমার গালে ব্রন উঠেছে, এমা তোমায় খুব কুৎসিত দেখাচ্ছে ।হাফসা বেগম ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তিথির দিকে তাকিয়ে গালে হাত দিয়ে বলল কি বলিস ? উনি আর দেরি না করে তড়িগড়ি করে নিজের রুমে চলে গেলেন আয়নায় নিজের ফেইস দেখতে ।এই ফাঁকে তিথি আর ইশমি বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল আর রিকশা নিয়ে নিল ।
আপু তুমি মিথ্যা বললে কেন ?
মিথ্যা না বললে ফুপি আমাদের কিছুতেই ছাড়ত না ।উল্টো দেরি হয়ে যেত ।
ইশমি তিথির দিকে তাকিয়ে খেয়াল করল তার তিথি আপুর ফেইস ঘেমে অস্থির ।সে তিথিকে বলল আপু তুমি কি খুব নার্ভাস ফিল করছো ?
তিথি ইশমির কানে কানে ফিসফিস করে বলল আমার না টেনশনে পেটে চাঁপ এসে গেছে ইশমি ।ইশমি তিথিকে আশ্বাস দিয়ে বলল তুমি এত টেনশন নিও না আর রেস্টুরেন্টে পৌঁছিয়ে ওয়াশরুমে যেও ।
কিছুক্ষণ পর রিকশা রেস্টুরেন্টের সামনে চলে এল ।তিথি আর ইশমি রিকশা থেকে নেমে পরল ।তিথি ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে তার বয়ফ্রেন্ডকে ফোন করল ।তিথি কথা বলে ফোনটা কেঁটে ইশমিকে উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠল ইশমি ও আগেই এসে গেছে ।আমি অনেক নার্ভাস ফিল করছি ।তুই আগে গিয়ে ওর সাথে আলাপ কর আমি ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসছি ।
ইশমি আচ্ছা ঠিক আছে বলে সিড়ি বেয়ে রেস্টুরেন্টের উপরের ফ্লোরে চলে যেতে লাগল ।মূলত উপরের ফ্লোরেই মানুষের খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে আর নিচে কিচেনে রান্না করা হয় আর ওয়াশরুমও নিঁচেই।
তাই তিথিকে নিঁচে রেখেই ইশমিকে উপরে উঠতে হল ।কিন্তু ইশমি উপরে উঠে চিন্তায় পরে গেল ।সেতো ছেলেটাকে চেনে-ইনা ।এখানে অনেক ছেলে বসে আছে ।এদের মধ্যে কোনটা ? সে চারপাশে তাকাচ্ছিল আর অমনি একটা ছেলে তাকে হাত দিয়ে ইশারা করে কাছে আসার জন্য ডাকছে ।সে মনে মনে ভাবল এই ছেলেটাই হয়ত ।কিন্তু তাকে কিভাবে চিনতে পেল ছেলেটা ? নিশ্চই তিথি তার কোনো ছবি দিয়েছে ইশশ তিথি আপুও না ! সে আর না দাঁড়িয়ে চলে গেল টেবিলটায় ।ছেলেটা তাকে দেখে দাঁড়িয়ে বলল হাই আপু আপনি তিথির বোন ইশমি তাই না ? আমি তন্ময় কিন্তু তিথি কোথায় ?
ইশমি মাথা ঝুলিয়ে হ্যাঁ বোঝাল আর বলল আপু একটু পরই এসে পরবে।
ছেলেটি মুচকি হেঁসে বলল আচ্ছা তাহলে তুমি বস আপু ।ইশমি একটা চেয়ার টেনে বসে পরল ।তার খুব অসস্তি হচ্ছে এভাবে একটা ছেলের সামনে বসে থাকতে ।সে মাথা নিঁচু করে মনে মনে বলছে এই তিথি আপু একটু তাড়াতাড়ি আসো না প্লিজ ।তার হঠাৎ মনে হল কেউ তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।সে মাথা উঁচু করে তাকাতেই তার কলিজা ধক করে উঠল ।অভিক চোখ মুখ শক্ত করে হিংস্র দৃষ্টি নিয়ে তাদের টেবিলের দিকে ধেয়ে আসছে ।সে বসা থেকে দাঁড়িয়ে পরল ।তার কপাল বেয়ে চিকন ঘাম পরতে লাগল । শরীরের লোমগুলো কাঁটা দিয়ে উঠছে ।অভিক খুব দ্রুত তার কাছে এসেই কোনো কিছু পরোয়া না করেই শক্ত করে তার গলা চেঁপে ধরে বসল ।ইশমির চোখ মুখ উল্টে আসছে ।সে তার গলা থেকে অভিকের হাত সরানোর চেষ্টা করছে কিন্তু অভিকের সাথে পেরে উঠছে না ।ইশমি খামচি দিয়ে ধরল তার গলায় থাকা অভিকের হাত ।তন্ময় অভিক কে থামাতে আসলেই অভিক তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ফেলে দিল ।রেস্টুরেন্টে থাকা সবাই এই দৃশ্য দেখে বসা থেকে দৌঁড়ে এসে অভিক কে থামাতে চেষ্টা করতে লাগল ।তন্ময়ও অভিককে থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না ।হেতে যেন বিপরীত হয়ে গেল ।অভিক ইশমির গলা আরো শক্ত করে চেঁপে ধরল ।আর ঠোট কামড়ে দাঁতে দাঁত চেঁপে চিৎকার করে বলল বিয়ে করবি এই ছেলেকে ইশমি ?বিয়ে করাচ্ছি তোকে আমি ।তোকে আজ আমি জন্মের বিয়ে করাবো বিচ কোথাকার ।ইশমি কিছু বলতে চাইছে অভিক কে কিন্তু পারছে না ।ধীরে ধীরে চোখদুটো বুজে আসছে তার ।
চলবে,
@Nusrat Hossain