#মনের_আড়ালে
Part_9
লেখনীতে – #Nusrat_Hossain
তিথি ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে দেখতে পেল রেস্টুরেন্টে থাকা সব মানুষ জটলা বেধে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।সে তার সামনে থাকা একজন ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করল
এখানে কি হয়েছে ভাই ?
ওয়েটারটি বলল আর বইলেন না ম্যাডাম এক প্রেমিক রেখে আরেক প্রেমিকের সাথে প্রেমালাপ করতে আসছিল ।সেটা আরেক প্রেমিক দেখে ফেলেছে তো ঐ প্রেমিক এসে সোজা গলা চেঁপে ধরসে মেয়েটার ।তিথি সেখানে দৌঁড়ে গেল তার কৌতুহল হচ্ছে দেখার জন্য ।জটলা বেধে থাকার কারনে সে ঠিকমত দেখতে পারছে না তাই একটু উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতেই তার কলিজা ধক করে উঠল ।সে স্পষ্ট দেখতে পেল কেউ ইশমির গলা চেঁপে ধরে আছে ।সে মুহূর্তেই চিৎকার করে কেঁদে বলল ও ও ও আ্ আল্লাহ আমার বোনকে মেরে ফেলল ।সবাই তিথির চিৎকার শুনে দূরে সরে দাঁড়াল ।তিথি দ্রুত সামনে এসে অভিককে ধাক্কা মারার চেষ্টা করে চিৎকার করে কেঁদে বলল আ্ আমার বোনকে ছাড়ুন ।ত্ তন্ময় আ্ আমার বয়ফ্রেন্ড ওর বয়ফ্রেন্ড না তিথির গলা কাঁপছে ।তিথির বলা কথা অভিকের কানে আসতেই অভিকের সমস্ত ইন্দ্রিয় যেন নড়ে উঠল ।তার হাত আপনা আপনি ইশমির গলা থেকে আলগা হয়ে গেল ।সাথে সাথে ইশমির নিথর দেহটা নিচে পরে গেল ।তিথি ইশমির নিথর দেহটা বুকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে কাঁদছে ।
অভিক এখনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।তার মাথা ঝিমঝিম করছে ।তার ভেতরটা হু হু করে কাঁদছে ।কিভাবে পারল সে তার ইশুর গলা চেঁপে ধরতে এমনিতেই ইশু তাকে বিয়ে করতে চায়না এরপর হয়ত আর তার মুখও দেখতে চাইবে না ।সে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে নিচে হাটু গেড়ে বসে খুব দ্রুত তিথির থেকে ইশমিকে টেনে তার বুকে জড়িয়ে ধরল আর কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে লাগল ই্ ইশু কলিজা চোখ খোল প্ প্লিজ ।আ্ আমি আর তোমায় কষ্ট দিবো না প্রমিস বলেই ইশমির সারামুখে উম্মাদের মত চুমু দিতে লাগল আর ইশমির লাল হওয়া গলাটায় হাত বুলিয়ে সেখানেও চুমু খেতে লাগল ।তিথসহ রেস্টুরেন্টে থাকা সবাই লজ্জায় পরে গেল ।তিথির এবার খুব রাগ হল একটু আগে এই ছেলেটা ইশমির গলা চেঁপে ধরেছিল আর এখন ডং করছে ।তিথি খুব দ্রুত অভিকের কাছ থেকে ইশমিকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসল আর ইশমির গালে আলতো চাপড় মেরে বলল ইশমি চোখ খোল না বোন আমি বাড়িতে গিয়ে ফুপাকে কি জবাব দিব বলেই হু হু করে কেঁদে উঠল ।অভিকের খুব রাগ হল তিথির উপর ইশমিকে তার কাছ থেকে টেনে নেওয়ায় । সে নিজের রাগ টা দাঁতে দাঁত চেঁপে সামলিয়ে নিয়ে আবার তিথির হাত থেকে ইশমিকে টেনে নিয়ে নিজের বুকে চেঁপে ধরল ।তিথির এবার আরো বেশি রাগ হল সে আবার অভিকের কাছ থেকে ইশমিকে নিতে হাত বাড়ালেই রেস্টুরেন্টে থাকা কিছু লোক বলে উঠল আরে আপনারা কি শুরু করলেন ? মেয়েটার আগে জ্ঞান ফিরাতে হবে তো ? এভাবে পরে থাকলে তো মেয়েটা মরেই যাবে ।অভিক আর তিথির এবার হুশ ফিরে এল ।মেয়েটা একেবারে নেতিয়ে পরেছে ।গলায় আঙ্গুলের দাগ বসে গেছে ।অভিক যেনো আরো উম্মাদ হয়ে গেল সে চিৎকার করে বলল পানি দিতে ।তিথি খুব দ্রুত বসা থেকে উঠে টেবিল থেকে পানির বোতল এনে অভিকের হাতে দিল ।অভিক হাতের মুঠোয় পানি নিয়ে ইশমির সারামুখে ছিটিয়ে দিল ।অভিক ইশমির গালে আলত করে চাপড় দিতে থাকল ।এভাবে চার পাঁচবার মুখে পানি ছিটানোর ইশমির জ্ঞান ফিরল ।ইশমি পিটপিট করে চোখ তুলে তাকাল ।ইশমি তাকাতেই অভিক তড়িৎগতিতে বলে উঠ্ল
কষ্ট হচ্ছে তোমার কলিজা ?পানি খাবে ?পানি দিই ?
ইশমি অভিককে আলতো করে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না অভিক তাকে আরো শক্ত করে চেঁপে ধরে আছে ।ইশমি অভিকের থেকে সরে যাওয়ার শক্তিটাও পাচ্ছে না ।তাই শান্ত হয়ে অভিকের বুকে মাথা দিয়ে রইল ।তার চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি গড়িয়ে পরছে ।অভিক ইশমির গলায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
কলিজা গলায় খুব ব্যাথা হচ্ছে ? সরি এমনটা আর কখনো হবে না আর কোনোদিন তোমায় কষ্ট দিবো না আমি প্রমিস । আমি তোমায় এক্ষুণি হসপিটালে নিয়ে যাবো দেখো সব ব্যাথা সেড়ে যাবে ।ইশমি অভিকের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের গলা থেকে অভিকের হাতটা সরানোর চেষ্টা করল কিন্তু অভিক সরালো না উল্টো গলায় হাত বুলিয়ে-ই যাচ্ছে ।তার রাগে কান্না পেয়ে গেল ।তিথিরও খুব রাগ হচ্ছে এই অভিকের উপর ।ইশমি ভাঙা গলায় বলে উঠল
ত্ তিথি আপু আ্ আমি বাড়ি য্ যেতে চাই এক্ষুণি ।
অভিক ইশমির কথা পাত্তা না দিয়ে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা ধরল ।ইশমি অভিকের হাতে খামচি দিয়ে ধরে আছে ,তাকে নামাতে বলছে ।অভিক তার কথা অগ্রাহ করল নামাল না ।ইশমি এবার রাগে শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে অভিকের বাহুতে কামড় দিল তারপরো অভিক নামাল না একটুখানির জন্যও থামল না ।রোবটের মত হেঁটেই যাচ্ছে ।আসলে ইশমির কামড় লাগেইনি অভিকের ।ইশমি শরীর অনেক দুর্বল হয়ে আছে বিধায় অভিকের ইশমির কামড় লাগল না ।তিথি চারপাশে চোখ বুলিয়ে তন্ময়কে দেখতে পেল না ।সে তন্ময়ের ব্যাপারটা আর পাত্তা না দিয়ে অভিকের পিছু পিছু যেতে লাগল ।এই ছেলে এবার লিমিট ক্রস করে ফেলেছে ।কিছু একটা করতে হবে ।তিথি অভিকের পিছু পিছু যেতে যেতে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল
এই ছেলে আমার বোনকে নামান বলছি ।আমি আপনাকে পুলিশে দিবো ।
অভিক এবার হাঁটা থামিয়ে পিছনে ফিরে তিথির দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাল তারপর আবার ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে হেঁটে যেতে লাগল ।অভিক ইশমিকে নিজের কোলে বসিয়ে-ই ড্রাইভিং সিটে বসল ।তিথিও তড়িগড়ি করে পেছনের সিটে বসে পরল ।ইশমি ক্রোধ দৃষ্টি নিয়ে অভিকের দিকে তাকিয়ে রইল ।অভিক গাড়ি স্টার্ট দিল হসপিটালের উদ্দেশ্য ।
কিছুক্ষণ পর তারা হসপিটালে চলেও এল ।অভিক ইশমিকে কোলে নিয়ে হস্পিটালের ভেতরে ঢুকল ।তিথিও তাদের পিছু পিছু ঢুকে পড়ল ।
ডক্টর ইশমির গলা টা দেখছে ।ইশমি বেডে শুয়ে আছে পাশে অভিক তার হাত ধরে বসে আছে ।ডক্টর ইশমির গলা দেখে বলল গলায় হাতের দাগ স্পষ্ট ।কেউ কি আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো ?
ইশমি তাচ্ছল্য চোখে অভিকের দিকে তাকাল ।অভিক ইশমির তাচ্ছল্য দৃষ্টি লক্ষ্য করে ডক্টর কে শান্তগলায় বলল আপনি আপনার কাজ করুন ।ডক্টর আবার বলে উঠল এটা তো পু… ডক্টর আর কিছু বলতে নিলেই অভিক তাকে ধমকে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে উঠল হেই আপনি আপনার কাজ করুন ।আপনাকে পথে বসাতে কিন্তু আমার এক মিনিটও লাগবে না ।ডক্টর এবার দমে গেলেন ।ডক্টর ইশমির গলার জন্য মলম আর মেডিসিনের নাম লিখে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন ।
অভিক মেডিসিনগুলো কিনে ইশমি আর তিথিকে তাদের বাড়ির সামনে পৌঁছে দিল আর তিথির হাতে মেডিসিন দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিল কখন কোন মেডিসিন নিতে হবে।তিথি গাড়ি থেকে নেমে ইশমিকে ধরে গাড়ি থেকে নামাতে নিলেই অভিক ইশমির হাত ধরে ফেলল ইশমির গলায় চুমু দিয়ে শান্তকন্ঠে বলল আ’ম সরি ইশু ।গলায় মলম টা নিয়ম মাফিক লাগিও গলার দাগ সেরে উঠবে আর…. অভিক আরো কিছু বলার আগেই ইশমি অভিকের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে গাড়ি থেকে নেমে পরল ।তিথি ইশমিকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যেতে লাগল একবারো ইশমি পেছনে ফিরে তাকাল না ।অভিক শান্ত দৃষ্টিতে ইশমির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল ।
চলবে,
@Nusrat Hossain
(রিচেইক করা হয়নি ভুলত্রুটি ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন )