মেঘের ওপারে পর্ব-০৬

0
362

#মেঘের_ওপারে
#পর্ব:৬
#অন্তরা_দেবযানী

অদ্রি অবাক হয়। পেপার্সগুলো হাতে নেয়। উল্টেপাল্টে দেখতে থাকে।জিজ্ঞেস করে, এগুলো কিসের পেপার্স, ভাইয়া?

— অদ্রি এগুলো তোর অধিকার।
— মানে?
— মানে, আমাদের কোম্পানির ৫০% আমি তোর নামে করে দিয়েছি।

অদ্রি বোকার মতো কিছুক্ষণ আয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকল। আয়ানের কথার মানে কিছু বুঝতে পারছে না।বলে, বুঝি নাই।মানে?

— তোর বাবা মানে চাচার দাদাজির সাথে কিছু একটা ঝামেলার জন্য দাদাজি তার সমস্ত সম্পত্তি আব্বুর নামে করে দিয়েছে। কিন্তু এটাতে তোরও অধিকার আছে। তাই,,,,,,,

অদ্রির আয়ানের কথা শুনছে ঠিকই কিন্তু ভাবছে অন্যটা।তার মানে তার বড় আম্মু তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে তার দাদাজির জন্য।হতে পারে!কারণ সে এই বিষয়টা লক্ষ্য করেছে।দাদাজির সামনে তার বড় আম্মু তাকে একটু বেশিই বকতো।দাদাজি অবশ্য তার সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করেনি।

অদ্রি আয়ানকে থামিয়ে দিল।বলে,কি ঝামেলা হয়েছে আব্বুর সাথে দাদাজির?
— ওটা আমি জানি না।
— শোন,,এটা নিজের কাছে রাখ।
— আমার মনে হয় দাদাজি এগুলো বড় আব্বুর নামে করে দিয়েছে আর এখন যেহেতু বড় আব্বু নেই তাই এগুলো তোমার।এটা নিয়ে আমি কি করব?
— এটাতে তোর অধিকার আছে।
— কিভাবে আমার অধিকার হলো এটা? তাছাড়া আমি এগুলো দিয়ে কি করব?আমি কি তোমার মতো অফিসে যাব নাকি। অদ্রি হাসতে হাসতে বলে।
আয়ান কিছু বোঝাতে যাবে তার আগেই তার ফোনটা বেজে উঠে।
অদ্রিকে বলে,এটা ধর।এত কিছু বুঝে লাভ নাই।এটা যত্ন করে রাখবি।
অদ্রির হাতে পেপার্স গুলো ধরিয়ে আয়ান কল অ্যাটেন্ড করতে বারান্দায় চলে যায়।

অদ্রি পেপার্সগুলো রেখে দেয়।নিবে না সে এগুলো। এখানে ওর এসব নেয়ার কোনো যুক্তি সংগত কারণ নেই।তাহলে সে কেন নিবে? তাছাড়া এসব নিয়ে সে কি করবে?

অদ্রি উঠে চলে যেতে নিয়েও থমকে যায়।ভাবে না নিলে হয়ত আয়ান মন খারাপ হতে পারে। তাছাড়া সে কখনো আয়ানের কথা অমান্য করে নি।
তাই অদ্রি ইচ্ছা না থাকলেও পেপার্স গুলো নিয়ে রুমে চলে গেল। এগুলো দিয়ে কি হবে তা জেনে তার কাজ নেই।আয়ান যেহেতু যত্ন করে রাখতে বলছে তখন সে যত্ন করেই রাখবে।

অদ্রি রুমে গিয়ে পেপার্স গুলো সোফার উপর রাখে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বারান্দায় যায়।আবার কিছু একটা ভেবে আবার চলে আসে।

পেপার্স গুলো হাতে নেয়।আয়ান যেহেতু বলেছে যত্ন করে রাখতে সেহেতু যত্ন করেই রাখবে।
অদ্রি ধীরে ধীরে আলমারির কাছে যায়।পায়ে এখনো খুব ব্যাথা। ডাক্তার খুব সাবধানে থাকতে বলেছে।
অদ্রি আলমারি খুলে।
আলমারির অবস্থা দেখে বেশ অবাক হয়। আলমারির সবকিছু এলোমেলো। কিন্তু এখানে সব তার জিনিস রাখা। তাহলে কেউ কেন তার আলমারির এই অবস্থা করতে যাবে। হঠাৎ অদ্রির বুক ধক করে উঠে।

☆☆☆

ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে শ্রেয়ান। তারাগুলো দেখছে।আগে সবাই শান্তনা হিসেবে বলতো তারাদের মাঝে নাকি তার মা আছে।কথাটা কতটুকু সত্যি সে জানে না। কিন্তু তারাদের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় তার মা তার কাছেই আছে।

কাঁধে কারো হাতের স্পর্শে শ্রেয়ান ঘুরে দাঁড়ায়। শ্রেয়া! শ্রেয়া এসেছে।
শ্রেয়ান হাসার চেষ্টা করে।বলে,তুই এখানে?
শ্রেয়া কিছু বলে না। নিঃশব্দে গিয়ে শ্রেয়ানের পাশ ঘেষে দাঁড়ায়।

শ্রেয়ান জিজ্ঞেস করে, এতক্ষণ কোথায় ছিলি?
— অদ্রির কাছে।
— কেন অদ্রির কি হয়েছে?
— অসুস্থ।

শ্রেয়ান চুপ করে থাকে। কিছু বলে না।
শ্রেয়ানকে চুপ থাকতে দেখে শ্রেয়া বলে উঠে, জিজ্ঞেস করবি না অদ্রির কি হয়েছে?
— আমার ওর ব্যাপারে কিছু জানার ইচ্ছে নেই।
— অদ্রির সাথে কথা বলো না কেন?
শ্রেয়ান ভেবে পায় না কি উত্তর দিবে। চুপ করে থাকে।
— কিছু বলো না যে?
— ভালো লাগে না তাই।
শ্রেয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ছোট করে বলে,ওহ্।

শ্রেয়ান আড় চোখে একবার শ্রেয়াকে দেখে নেয়। তারপর বলে,তোর মনে হয় না অদ্রির বয়সের তুলনায় স্বভাবটা অন্যরকম?
— যেমন?

শ্রেয়ান খানিকটা ইতস্তত করে বলে,অদ্রির স্বভাবটা একটু বাচ্চামো টাইপের।
— হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
— মানে?
— মানে হলো অদ্রির এই স্বভাবের পেছনে একটা কারণ আছে।
— কি কারণ?
— একটু আগে না বলেছ অদ্রির ব্যাপারে তোমার কোনো কিছু জানার ইচ্ছা নেই।তাহলে?

শ্রেয়ান চুপ করে আছে। সত্যি শ্রেয়া তো ভুল কিছু বলেনি।সে নিজেই তো বলেছে অদ্রির ব্যাপারে কিছু জানার ইচ্ছে তার নেই।

পাশ থেকে শ্রেয়া আবারও বলে, ওর কয়েক বছর আগে অ্যাক্সিডেন্ট হয়।ওই সময় ও ওর মা-বাবাকে হারায়।

শ্রেয়ান অবাক হয়।বলে,ওর মা-বাবা নেই?

শ্রেয়া চুপ করে থাকে।যার অর্থ হচ্ছে না।
— ও মাথায় ব্যাথা পায়।এরপর থেকেই ও অনেকটা বাচ্চাদের মতো হয়ে গেছে। যদিও দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়। তবে মাঝে মাঝে,,,,,,,,,। কিন্তু আমি তো ওর কোনো সমস্যা দেখি না।তো তোমার এত সমস্যা হয় কেন?
— ভালো লাগে না ওর বাচ্চামো স্বভাবগুলো।

শ্রেয়ান আশায় আছে শ্রেয়া কিছু বলবে। কিন্তু শ্রেয়া চুপ করে আছে।
শ্রেয়াকে চুপ করে থাকতে দেখে শ্রেয়ান জিজ্ঞেস করে, কিছু বলছিস না কেন?

শ্রেয়া শ্রেয়ানের দিকে এক পলক তাকায়।এরপর
নির্লিপ্তভাবে বলে,কি বলব? তুমি তো বলেই দিয়েছো তোমার ভালো লাগে না। এক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি।তবে তুমি যদি আমার কাছে সমাধান চাও তাহলে বলব সবকিছুর মধ্যে ভালোটা খোঁজার চেষ্টা কর।

শ্রেয়া থেমে যায়। শ্বাস ছেড়ে চড়া কন্ঠে বলে, অদ্রি তোমার সাথে মেশার জন্য বসে নেই।কি মনে কর নিজেকে তুমি? আরে,অদ্রি শুধুমাত্র নিজের ছোটবেলার বন্ধু হিসেবে এতবছর পর তোমার সাথে মিশতে চাইছে।আর,,,থাক বাদ দাও।
শ্রেয়া চলে যায়।
শ্রেয়ান এতক্ষণ নিরবে শ্রেয়ার কথাগুলো শুনছিল।

চলবে,