যে গল্পের নাম ছিলনা পর্ব-৫+৬

0
631

#যে_গল্পের_নাম_ছিলনা
-Farhina Jannat

৫.
পরদিন সকাল।
দরজা খোলার শব্দে ভাবনার জগত থেকে ফিরে এল সিদ্রা। লোকটা যেন এই ভোরবেলা ওকে জেগে থাকতে দেখে অবাক হয়েছে। হ্যাঁ, জেগেই ছিল ও। তাহাজ্জুদের সময় উঠে আর না ঘুমানোর অভ্যাস সেই হিফজ পড়ার সময় থেকে। সেই নিয়মেই ভোররাতে ঘুম ভেঙেছে ওর।

কালকে চলে যাওয়ার পর লোকটা আর আসেনি। রাতে একবার খালা এসে ২টা শুকনা রুটি আর কি একটা শাক ভাজি দিয়ে গেছিল। বিনাবাক্যব্যয়ে পানি দিয়ে গিলে খেয়ে নিয়েছে। মুক্তি পেতে হলে বেঁচে থাকতে হবে। না খেয়ে শরীর দুর্বল করে লাভ নেই, লোকটা ওকে এত সহজে ছাড়বে বলে মনে হচ্ছেনা।

কিন্তু লোকটার উদ্দেশ্যই তো বুঝতে পারছিনা, বিছানায় শুয়ে ভাবছিল সিদ্রা। নোংরা কোন উদ্দেশ্য থাকলে তো প্রথমদিনই পরিষ্কার হয়ে যেত। কিন্তু লোকটা অপরাধের শাস্তি দেয়ার কথা বলছে। আর যে নোংরা কথাগুলো ওর সম্পর্কে বলছে, সেগুলো ও করেনি। তাহলে কি লোকটা সাইকো টাইপ কিছু? অনেক বইয়ে যেমন লেখা থাকে…. ধুর! কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা।

জংগলের ভেতর এরকম একটা ঘরে ভয়ে ঘুম আসার কথা না, কিন্তু লোকটার কথা আর ওর ভাগ্যের কথা ভেবে কাঁদতে কাঁদতে কখন যেন ঘুমিয়ে গেছিল ও।

এখন ও বসে বসে চিন্তা করছিল, ও কি করতে পারে। আমার সামনে দুইটা পথ খোলা আছে, ভাবল ও। এক, লোকটাকে বোঝানো যে উনি ভুল করছেন। দুই, পালিয়ে যাওয়া। এমন সময়ই লোকটা এসেছে।

লোকটাকে দেখেই অভ্যাসবশত স্কার্ফ টেনে মুখ ঢাকল সিদ্রা। সেটা দেখে লোকটার কি হাসি। যেন হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাচ্ছে উনার। কিছুটা বিরক্তি আর কিছুটা ভয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল সিদ্রা।

“ওরে ঢং!” হা হা হা, “যাকগে, রান্নাবান্না জানিস কিছু?” হাসি থামিয়ে প্রশ্ন করল লোকটা।

“কেন? আপনি জেনে কি করবেন?” মুখ দিয়ে কথাটা যেন অটোমেটিক বের হয়ে গেল।

“ছেলেভোলানো ছাড়া তোর আর কি কি গুণ আছে, জানতে হবেনা?”

“আপনাকে আমি অনেকবার বলেছি, আমি ওইরকম মেয়ে না। আপনি কেন বুঝতে চাইছেন না?” রেগে গেল সিদ্রা।

“কারণ আমি জানি তুই কেমন মেয়ে, তোর মত মুখোশধারী শয়তানের কথা বিশ্বাস করার কোন কারণ নাই আমার”

“ইন্নাল্লাহা মায়াস সবিরিন(নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন), ইয়া আল্লাহ্‌! আমাকে ধৈর্য দাও” বিড়বিড় করে বলল সিদ্রা। এই সাতসকালে লোকটার সাথে তর্ক করে মাইর খেতে ইচ্ছে করছেনা।

“কি বললি?”

“আমি কিভাবে বললে আপনি বিশ্বাস করবেন যে আমি সত্যি বলছি?”

“করবোনা, বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠিয়ে ফেললেও করবনা। সো, সে চেষ্টা না করে আমার কথা শুনে চল, তাতেই তোর ভাল হবে।”

“আর যদি না শুনি?”

মুখ বাঁকিয়ে হাসল লোকটা, “চেষ্টা করে দেখতে পারিস। কালকের চড়গুলা জাস্ট ডেমো ছিল। আমি যে কি কি করতে পারি, তোর কোন ধারণা নাই। তুই যত কষ্ট পাবি, আমি তত শান্তি পাব” সিদ্রা কি বলবে বুঝতে পারছেনা। এই লোকটা আসলেই পাগল মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়বো না। আবার কিছু বলতে যাচ্ছিল ও, কিন্তু লোকটা থামিয়ে দিল।

“হ্যাঁ, যেটা জিজ্ঞেস করছিলাম। রান্না করতে পারিস?” আবার বলল লোকটা। ডানে বামে মাথা নাড়ল সিদ্রা।

“কিছুই পারিসনা?” অবাক হল যেন লোকটা।

“ভাত, আলু ভর্তা, চা আর নুডলস। আর কিছু স্পেশাল আইটেম পারি। রেগুলার তরকারী, মাছ, গোস্ত এসব রান্না করিনি কখনো।”

“এতকিছু পারিস!” হা হা হা “তোর রান্নার গুণ শুনে তো আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম! স্পেশাল আইটেম পরে খাওয়া যাবে। যা, চা বানিয়ে আন আমার জন্য। এরপর দুপুরের রান্না করবি”

“আমি রান্না করব? কেন?”

“আমি বলেছি তাই” দাঁত কিড়মিড় করে বলল লোকটা।

“আমি পারবো না। আমি আপনার কোন কথা শুনবো না। আপনি আমাকে বাসায় রেখে আসুন”

“শুনবিনা?” এগিয়ে এসে স্কার্ফ এর উপর দিয়েই চুলের মুঠি ধরল লোকটা।

“আয়ায়ায়ায়া…… লাগছে, ছাড়েন বলছি” আরো জোরে টান দিল লোকটা। স্কার্ফটা খুলে গেল, সাথে খোপা করা চুলগুলোও। তাতে লোকটার আরো সুবিধা হল। চুলের গোছা ধরে টেনে বিছানা থেকে নামাল। সিদ্রা ব্যাথায় সমানে আর্তনাদ করছে, ছাড়েন ছাড়েন, লাগছে আমার বলছে, কিন্তু কোন ভ্রুক্ষেপ নেই লোকটার। একইভাবে হিড়হিড় করে টানতে টানতে বাইরে চুলার কাছে এনে ঝটকা মেরে ছেড়ে দিল। মুখ থুবড়ে পড়ল ও মাটির চুলার ওপর। মুখে নোনতা স্বাদে বুঝলো, ঠোঁট বা জিভ কিছু একটা কেটেছে। কান্না করে দিল সিদ্রা। কি দোষ করেছি আমি, কেন এসব হচ্ছে আমার সাথে। আল্লাহ্‌! এটা যেন একটা দুঃস্বপ্ন হয়, এখনি যেন ঘুমটা ভেঙে যায়।

খালা এসে ওকে হাত ধরে টেনে উঠাল, বিন্দুমাত্র মায়া বা সহানুভূতি দেখালনা। যেন ঠোঁট গড়িয়ে রক্ত পড়া খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। চাপাতি আর চিনির বয়াম এনে ঠক করে ওর সামনে রাখল, একটা ছোট পাতিলও এনে দিল।

বাধ্য হয়েই ড্রাম থেকে পানি নিয়ে চুলায় বসাল সিদ্রা। কিন্তু বিপত্তি ঘটল চুলা ধরাতে গিয়ে। চুলা কিছুতেই জ্বলেনা, খালি ধোঁয়া উঠে। ধোঁয়ায় কাশতে কাশতে নাক-চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে নাজেহাল অবস্থা হল ওর।

আগে খেয়াল করেনি সিদ্রা, বারান্দার অন্য দিকে একটা টেবিল আর দুইটা চেয়ার রাখা আছে। তারই একটাতে পায়ের ওপর পা তুলে বসে লোকটা মজা দেখছে। ও তাকাতেই এমনভাবে হেসে উঠলো, যেন কোন কমেডি সিন এসেছে টিভির পর্দায়। মেজাজ খারাপ হয়ে গেল সিদ্রার। জিদ উঠে গেল, চুলা আমি ধরিয়েই ছাড়বো। বেশ খানিকক্ষণ চেষ্টার পর অবশেষে চুলা জ্বলল। সিদ্রার মনে হল ও অসাধ্য সাধন করেছে।

হঠাৎ মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি খেলে গেল সিদ্রার। চা খাবে, না? খাওয়াচ্ছি আমি। ইচ্ছে করে এক কাপ চায়ের পানিতে ৫ চামচ চা পাতি দিয়ে দিল ও। আড়চোখে দেখল লোকটা বা মহিলা, কেউ খেয়াল করেনি। এই চা খেয়ে লোকটার চেহারা কেমন হবে সেটা ভাবতেই হাসি পেল ওর।

#যে_গল্পের_নাম_ছিলনা
-Farhina Jannat

৬.
চা বানিয়ে মহিলার হাতে দিতেই লোকটা বলল, এবার তোর আর খালার জন্য চা বানা।

“আমি চা খাবোনা।“

“তোর ইচ্ছা কেউ জানতে চেয়েছে? আমি যেটা বলছি, চুপচাপ সেটা কর। নাহলে…….“ কথা শেষ করলনা লোকটা।

চড় থাপ্পড় মারবেন, এইতো…. মনে মনে বলল সিদ্রা। থাক বাবা, থাপ্পড় খাওয়ার থেকে চা খাওয়া ভাল, ভাবল ও। একবারে বললেই হতো! তবে ভালই হয়েছে, নিজেরটা এবার ভাল করে বানানো যাবে। চা বানাতে বানাতে বারবার লোকটার দিকে তাকাচ্ছে, চা খাওয়ার রিএকশন দেখার জন্য। কিন্তু লোকটা চা না খেয়ে ওর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে।

সুন্দর করে চা বানিয়ে নিজের কাপটা যেই কাছে নিতে যাবে, অমনি লোকটা এসে ওর কাপটা নিয়ে নিল। সিদ্রা তো হা, কি হল এটা?

লোকটা আবার চেয়ারে গিয়ে আগের মত আয়েশ করে বসে নতুন চায়ে চুমুক দিল। আর খালাকে কি যেন ইশারা করল। খালা গিয়ে ওই আগের বানান চা টা ওর হাতে ধরিয়ে দিল।

“সবাই একসাথে খাই, কি বলিস! আর গরমটা থাকতে ঠাণ্ডা খাওয়ার কি দরকার, তাইনা?” বাঁকা স্বরে বলল লোকটা।

হায়! হায়! এতো বুমেরাং হয়ে গেল। লোকটার শয়তানের চোখ, নিশ্চয় দেখে ফেলেছিল। এখন আমি এই চা কেমনে খাব, ভাবছে সিদ্রা। আড়চোখে লোকটার দিকে তাকাতেই বলল, “চা টা খেয়ে নে, তারপর আমি তোকে তোর চালাকির মজা দেখাব”

“কিসের চালাকি!…… আ-আমি কোন চালাকি করিনি” মিথ্যা কথা বলতে গিয়ে কথা আটকে যাচ্ছে সিদ্রার।
“তাই নাকি!” ভ্রু নাচাল লোকটা। “তাহলে খাচ্ছিসনা কেন চা টা?”

আস্তে আস্তে কাপটা তুলে চুমুক দিল সিদ্রা। ইয়াক! কি তিতা!! পুরো বিষ মনে হচ্ছে। চিনিও মাত্র এক চামচ দিয়েছিল। একেই বলে কপাল! জীবনে কোনদিন দুষ্টুমি করেও কাউকে ঠকায়নি সিদ্রা, অথচ আজকে লোকটার উপর রাগ করে এমন করতে গিয়েই খেল ধরা। অনেক চেষ্টা করেও চেহারার বিকৃতি এড়াতে পারলনা ও।

“কি! এত টেস্টি করে চা বানিয়েছিস, এখন মুখ বাঁকাচ্ছিস কেন?”

কি আর বলবে, কথা খুঁজে পাচ্ছেনা সিদ্রা, ভুল তো করেছে, এখন আর মিথ্যে সাফাই গেয়ে কি হবে।
“স্যরি, আপনি আমাকে অযথা এত টর্চার করছেন, তাই আপনাকে একটু শাস্তি দিতে চেয়েছিলাম” মিনমিন করে বলল সিদ্রা।

“তোর এতবড় সাহস! তুই আমাকে শাস্তি দিবি, আমাকে? এবার তুই এই বিষ চা গেল, নাহলে কিন্তু আমি গেলাব”

“ঠিক আছে ঠিক আছে” ভাত খাওয়ানোর কথা মনে পড়ে গেছে সিদ্রার,”আমি চা খেয়ে নিচ্ছি। আমি দোষ করেছি, স্বীকার করে নিচ্ছি। কিন্তু আপনিও আপনার ভুল বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি আমাকে এভাবে শুধু শুধু আটকে রাখতে পারেননা।“

“আচ্ছা? আমি ভুল করেছি, তাই নাকি?”

“হ্যাঁ হ্যাঁ, আপনি ভুল করছেন। আপনি আমাকে যেসব অপবাদ দিচ্ছেন, সেগুলা মিথ্যে। একজন পবিত্র মেয়েকে মিথ্যে অপবাদ দেয়ার গুনাহ কত আপনি জানেন? কুরআন শরীফের সূরা নূরে আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়েছেন।“

“আচ্ছা, তো হাফেজ সাহেবা আমাকে এখন কুরআনের জ্ঞান দিবেন।“ লোকটা দুহাত দিয়ে তালি বাজালো। “আর পবিত্র মেয়ে কে, তুই!” হা হা হা…..”তো হাফেজ সাহেবা, এত জ্ঞান যখন আছে আপনার, কুরআনে ছেলেদের রূপের ছটায়, কথার জ্বালে ভুলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পাগল করার কোন শাস্তির উল্লেখ নাই?“

রাগের চোটে উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছিল সিদ্রা। কিন্তু গায়ে কোন ওড়না নেই মনে পড়তেই চট করে বসে পড়ল আবার। একটু ঘুরে বসে বলল,
“আপনি আবার একই কথা বলছেন। আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে, যে আমি ওইসব করেছি। আর যদি করেও থাকি, তার শাস্তি দেয়ার আপনি কে?”

ওর কথা শুনে এমনভাবে গলা ফাটিয়ে হাসতে লাগল লোকটা যেন এর থেকে মজার কথা আর শোনেনি। পরক্ষণেই চোখ মুখ শক্ত করে বলল, “আমি কে? আমিই তো দিব।“ চায়ের কাপ রেখে সোজা হয়ে বসল লোকটা। বুকে হাত দিয়ে বলল, “তুই আমার কলিজাতে হাত দিয়েছিস। তুই দুনিয়ার সব ছেলেদের পেছনে লাগলেও আমি দেখতে আসতামনা। কিন্তু তুই……..” হঠাৎ থেমে গেল লোকটা, দৃষ্টি সরিয়ে নিল সিদ্রার দিক থেকে। সিদ্রার লোকটার চোখে যেন পানির আভাস পেল।

একটু অবাক হল সিদ্রা, কিন্তু তাতে রাগ কমলোনা এক ফোঁটাও, “থামলেন কেন? বলেন। নাকি মিথ্যে গল্প আর খুঁজে পাচ্ছেননা”

“তোকে কৈফিয়ত দিতে আমি বাধ্য না।“ উঠে দাঁড়াল লোকটা। “ আর মিথ্যে গল্প আমি বলছি, না তুই? খুব সতী সাজছিস তো, দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা“ এই বলে লোকটা পাশের ঘরে ঢুকল।

সিদ্রা কি করবে বুঝতে না পেরে দৌড় দিল ওর ঘরের দিকে। মাথায় প্রথম চিন্তা, গায়ে কিছু দিতে হবে। তাড়াতাড়ি কোনরকমে চুল খোপা করে স্কার্ফটা পেচাতেই লোকটা ঘরে ঢুকল।

ওর এই তাড়াহুড়ো করে স্কার্ফ পরা দেখে লোকটা হাসল। “হায়রে নারী, এক অংগে কত রূপ! বেপর্দা ছবি ফেসবুকে দিতে গায়ে বাধেনা, আর এখানে উনি আমার সাথে পর্দা করছেন!!”

“আমার ছবি, ফেসবুকে! আর কি কি বানিয়ে বলবেন আপনি আমার সম্পর্কে!!” আরেক দফা অবাক হল সিদ্রা।

“বানিয়ে বলছি বুঝি! তাইলে কিভাবে চিনলাম আমি তোকে!! নাটকটা এবার বন্ধ কর। আমি আর নিতে পারছিনা তোর নাটক” লোকটা ওর দিকে এগিয়ে আসতেই সিদ্রা খেয়াল করল, লোকটার হাতে একটা লম্বা শিকল। ভয়ে পিছিয়ে গেল সিদ্রা, কি করতে চাচ্ছে লোকটা!

পেছাতে পেছাতে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল, বুকের ওপর দুই হাত দিয়ে আড়াল করে চিল্লান দিল “কি করতে চাইছেন আপনি!” লোকটা কিছু না বলে বসে গিয়ে ওর পায়ে শিকল পরিয়ে দিল। এরপর শিকলের অন্য প্রান্ত ধরে টান দিল। হেঁচকা টানে পড়ে গেল সিদ্রা।

“আয় আমার সাথে, না হাঁটলে ছেঁচড়াতে ছেঁচড়াতে নিয়ে যাবো কিন্তু।“

কোনমতে উঠে লোকটার পেছন পেছন হাঁটা শুরু করল সিদ্রা। ঘর থেকে বের হয়ে জংগলের ভেতর হাঁটা শুরু করল লোকটা।

চলবে।