#সৎ_মা (০৪)
#সামসুজ্জামান_সিফাত
মাকে দেখে বুঝা যাচ্ছে খুব রেগে আছে। আর যেভাবে আমাকে ধরে রেখেছে মনে হচ্ছে আজকে মেরেই ফেলবে। কিন্তু আশ্চর্য জনক বিয়ষ হলো, মা কিছু না করে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,”তোর বাবাকে নিয়ে আয় গিয়ে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম,”কেন ?”
– দরকার আছে, সাথে তুই ও আসবি।
– ঠিক আছে।
আমি টাকার জন্য আর না গিয়ে মায়ের কাছ থেকে সোজা দোকানে চলে এলাম। বাবা জিজ্ঞেস করলো,”কি রে টাকা এনেছিস ?”
আমি বললাম,”না।”
– কিন্তু কেন ?
– মা বলেছে তোমাকে নিয়ে বাড়ি যেতে।
– ওই ডাইনি এসে পড়েছে ?
– হ্যাঁ।
– তোকে আবার মারধর করেনি ত ?
– না বাবা বকা ও দেয়নি।
– ভালো হয়ে গেছে নাকি ভালো হবার নাটক করছে আল্লাহ ই জানেন।
– যাই হোক মা বলেছে তোমাকে নিয়ে যেতে ত এখন চলো।
– ঠিক আছে দোকান বন্ধ কর।
দোকান বন্ধ করে বাবাকে নিয়ে বাড়ি চলে এলাম। মাকে দেখে খুব খুশি খুশি লাগছে। আমাদের দেখে ই মা জিজ্ঞেস করলো,”শিফা কোথায় ?”
বাবা খুব গম্ভীর গলায় বলল,”বাড়িতে নেই।”
– কোথায় গেছে ?
– তা জেনে তুমি কি করবে ?
– জানতে পারি না নাকি ?
– না জানতে হবে না। কি জন্য বাড়ি আসতে বলছো তা বলো।
মা খুব আগ্রহ নিয়ে বলল,”একটা খুশির খবর আছে।”
বাবা বলল,”কি খুশির খবর ?”
– আমি, আমি, আমি
– কি আমি আমি করছো ? আমি আমি না করে আসল কথা বলো।
– আসলে আমি
– আসলে তুমি কি ?
– আসলে আমি
– আরে আসলে তুমি কি তা তো বলবে !
– আমার লজ্জা লাগছে।
– কি এমন কথা যে বলতে লজ্জা পাচ্ছো ?
মা এবার চোখ বন্ধ করে লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে খুব দ্রুত বলল,”আসলে আমি মা হতে চলেছি।”
মায়ের কথা শুনে বাবা স্বাভাবিক ভাবেই বলল,”ওহ্ আচ্ছা। কিন্তু এই কথাটা বলতে এতক্ষন সময় লাগে ?”
মা বললো,”আসলে আমার খুব লজ্জা লাগছিলো তাই বলতে সময় লেগেছে। আচ্ছা তুমি কি খুশি হওনি নাকি ?”
– খুশি হবো না কেন ?
– তাহলে যে তোমার মুখে খুশির রেখা দেখা যায়নি।
– সব সময় মুখে খুশির রেখা দেখা যাবে তা তো জানতাম না।
– থাক আর বলতে হবে না, আমি বুঝেছি তুমি খুশি হওনি।
বাবা মায়ের কথায় পাত্তা না দিয়ে লুঙ্গির ভাঁজ থেকে কিছু টাকা বের করে দিয়ে বলল,”সিফাত বাজার থেকে দশ কেজি মিষ্টি, পান, সুপারি আর জর্দা কিনে নিয়ে আয়।”
আমি বললাম,”বাবা জর্দা ত আমাদের দোকানেই আছে।”
– থাকুক দোকানে, তোকে বলেছি বাজার থেকে আনতে তুই বাজার থেকে নিয়ে আয়।
– আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।
আমি একটু সামনে এগুতেই বাবা পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলল,”আর শোন সিফাত.”
আমি পেছন তাকিয়ে বললাম,”বলো।”
– এক কাজ কর তুই আগে তোর রশিদ কাকার দোকানে যাবি। তারপর ওনাকে নিয়ে এসব কিনতে যাস। ওনি বুঝে শুনে ভালো টা কিনে দিবে।
আমি,”ঠিক আছে বাবা” বলেই সামনে ফিরে হাঁটতে লাগলাম। রশিদ কাকার দোকানে আসতেই রশিদ কাকা বলে উঠলো,”চাচা কে ভুলেই ই গেলি ?”
আমি এক গাল হেসে বললাম,”আরে না কাকা, কি যে বলো না।”
– বলি রে বলি যা সত্যি তাই বলি। তা বল কি মনে করে আসা ?
– বাবা পাঠিয়েছে।
– কিছু হয়েছে নাকি ?
– না।
– তাহলে ?
– দোকান বন্ধ করে আমার সাথে একটু বাজারে চলো।
– কেন ?
– বাবা বলেছে দশ কেজি মিষ্টি, পান, সুপারি আর জর্দা কিনে দিতে।
– এগুলো দিয়ে কি করবে ? তোর বাবা কি নতুন করে আবার বিয়ে করবে নাকি ?
– আরে না।
– তাহলে ?
– তুমি বরং বাবার থেকে ই জেনে নিও।
– আচ্ছা দাঁড়া দোকান বন্ধ করছি।
রশিদ চাচা দোকান বন্ধ করে আমার সাথে বাজারে গিয়ে বাবা যা যা কিনতে বলছে তা তা ই কিনে দিয়েছে। এতে ওনার পকেট থেকে ও কিছু ভর্তুকি দিতে হয়েছে। তারপর একটা রিক্সা ঠিক করে আমাকে রিক্সায় উঠিয়ে দিল। আমি সব কিছু নিয়ে রিক্সা করে বাড়ি চলে এলাম। বাড়ি আসার পর বাবা বলল প্রত্যেকের বাড়ি দিয়ে আসতে। আমি বাবার কথা মত প্রত্যেকের বাড়ি দিতে গেলে, সবাই শুধু একটাই প্রশ্ন করছে যে,”তোর বাবা কি আবার নতুন বিয়ে করছে নাকি ?”
প্রতিউত্তরে আমি বলি,”আরে না মায়ের বাচ্চা হবে।”
এই কথা শুনে প্রত্যেকেই বলে,”এবার তাহলে তোদের দুই ভাই-বোনের কপাল পুড়েছে।”
– কেন ?
– কারণ, এমনেতেই তোদের কোনো আদর যত্ন করে না। আবার যদি তোর মায়ের সন্তান হয় তখন দেখবি খাবার টা ও জুটবে না।
আমি মনে মনে ভাবলাম, খাবার ত এখনো ভালো করে জুটে না। আরেকজন মাঝখান থেকে বলে উঠলো,”এবার দেখা যাবে তোর মায়ের সন্তানের প্রস্রাব-পায়খানার কাপড় ও তোদের দুই ভাই-বোন কে দিয়ে ই ধোয়াবে।”
আমি কিছু না বলে আর কিছু শোনার অপেক্ষা না করে সোজা বাড়ি চলে এলাম। ঘরে এসে ভাবতে লাগলাম, আসলেই কি এবার আমার উপর জুলুম বেড়ে যাবে ?প্রস্রাব-পায়খানার কাপড় আমাকে দিয়ে ধোয়াবে ? আর দেখা যাক।
হঠাৎ দরজায় কারো পায়ের আওয়াজ পেলাম। মনে হচ্ছে কেউ আসছে। দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি আর কেউ না, মা ই এসেছে। আমি বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম,”কিছু বলবে কি মা ?”
মা গম্ভীর গলায় বললো,”হ্যাঁ।”
– বলো।
– শোন, ওইদিন যে তুই আমায় অন্য লোকের সাথে বিছানায় দেখেছিস এটা যেন তুই ছাড়া আর কেউ না জানে।
– আচ্ছা ঠিক আছে কেউ জানবে না।
– মনে থাকে যেন।
– মনে থাকবে।
– আর যদি মনে না থাকে তাহলে কিন্তু মেরে মাটির নিচে পুঁতে দিব।
মায়ের কথায় ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ, যেই ডাইনি মহিলা এখন যেভাবে বলেছে যদি না শুনি তাহলে হয়তো মেরে ই ফেলবে। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,”ঠিক আছে।”
মা বললো,”এখন যা কল পার গিয়ে দেখ আমার কিছু কাপড় আছে, কাপড় গুলো ধুয়ে দে।
– এখন না শরীর টা বড্ড ক্লান্ত লাগছে পরে ধুয়ে দিবনি।
বলতে দেরি হলো আমার গালে থাপ্পড় পড়তে দেরি হলোনা। একদম পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ হয়ে গেছে মনে হয়। আমি আর কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে কল পার চলে এলাম। কারণ, আর এক মিনিট ওখানে দাঁড়ালে আরও কয়েকটা থাপ্পড় পড়ে যেত আমার গালে। কাপড় গুলো ধুয়ে উঠোনে তারে ছড়িয়ে দিয়ে দোকানে চলে এলাম। বাবা আমাকে দেখে ই বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। আমি জিজ্ঞেস করলাম,”কি হয়েছে বাবা ?”
বাবা বললো,”তোর গালে এই দাগ কিসের ?”
– জানি না বাবা।
– মনে হচ্ছে কেউ থাপ্পড় দিয়েছে।
– আরে গালে মশা বসেছিল ত আমি থাপ্পড় দিয়ে মশা টা মেরেছি ওই দাগ হয়তো।
আসল কথা টা বললাম না। কারণ, আসল কথা বললে বাবা এখনি বাড়ি গিয়ে মাকে বকা ঝকা করবে পরে মা আমাকে আরও মারবে। বাবা বলে উঠলো,”বাবার থেকে কথা লুকোস ?”
আমি বললাম,” না।”
– তাহলে সত্যি কথা বলে ফেল।
– আসলে সবাইকে পান-মিষ্টি দিয়ে আসার পর মা বলেছিল কাপড় ধুয়ে দিতে। তখন আমার একটু ক্লান্ত লাগছিলো তাই বলেছিলাম, পরে ধুয়ে দিব। তাই মেরেছে।
– কাপড় ধুয়ে দিয়েছিস পরে ?
– হ্যাঁ।
– তকে মারার পর আবার কাপড় ধুয়ে দিলি কেন ? সোজা আমার কাছে চলে আসতি।
আমি কিছু না বলে দোকান থেকে বের হয়ে নদীর পাড় চলে এলাম। মাঝে মাঝেই এখানে আসা হয়। নদীর পাড় বসে থাকলে মন টা ফুরফুরে লাগে।
[মন খারাপ থাকলে, কখনো একা বসে থাকতে নেই। কারণ, একা থাকলে মাথায় খারাপ খারাপ চিন্তা ভর করে। তাই যখন মন খারাপ থাকবে তখন লোকালয়ে থাকা উত্তম। আবার অনেক সময় নদীর পাড় গিয়ে পানির দিকে তাকিয়ে থাকলেও মন ভালো হয়ে যায়]