Home "ধারাবাহিক গল্প হৃদয় হারানো বিজ্ঞপ্তি হৃদয় হারানো বিজ্ঞপ্তি পর্ব-১২

হৃদয় হারানো বিজ্ঞপ্তি পর্ব-১২

0
90

#হৃদয়_হারানো_বিজ্ঞপ্তি
#পর্ব_১২
#Tahmina_Akhter

ফায়েজ খেয়ার মুখ চেপে ধরেছে। খেয়ার মুখ দিয়ে অদ্ভুত গোঙানির শব্দ বের হচ্ছে। ফায়েজ ততক্ষণে খেয়ার শাড়ির আঁচল সরিয়ে ডান বাহু ধরে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো লাল দাগের দিকে। তেলের ছিটে হয়তো!! খেয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে হাত সরিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,

— কিভাবে হলো??

— ডিম ভাজার সময় তেল ছিটকে পরেছিল। ভাবিনি এত বাজে ভাবে ফোসকা পরে যাবে??

কথাটি বলে খেয়া নিজের ডানবাহুতে তাকালো। ফায়েজ দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। তারপর,, ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘর থেকে বার্ণা অয়েন্টমেন্ট হাতে নিয়ে চলল খেয়ার ঘরের দিকে। গিয়ে দেখলো খেয়া শুয়ে আছে। ফায়েজকে দেখেও উঠে বসল না। ফায়েজ রুমে ঢুকে খেয়ার সামনে গিয়ে অয়েন্টমেন্ট এগিয়ে দিয়ে বলল,,

— অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে দাও দাগ হবে না,, সঙ্গে জ্বালাপোড়া অনুভূতি কম হবে।

খেয়া একপলকের জন্য তাকালো ফায়েজের দিকে। ওই এক পলকের তাকানোর মাঝে কিছু একটা ছিল বোধহয়। ফায়েজের মনের ভিত খানিকটা নড়বড়ে হয়ে যায়। খেয়াকে বুকের মাঝে শক্ত করে চেপে ধরে চূর্ণবিচর্ণ করে ফেলতে মন চায়। ফায়েজ নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। পারছে না নিজেকে সামলাতে। ভালোবাসার মানুষের সামনে কেন নিজেকে বেহায়া গোত্রের মানুষ মনে হয়?? এই যে খেয়া তাকে ভালোবাসে না জেনেও তাকে নিয়ে বিয়ের মতো একটা সম্পর্কে আটকা পরেছে এটা কি সে ঠিক করেছে? মোটেও না। একপাক্ষিক ভালোবাসা বড্ড কঠিন। বুকের মাঝে এক সমুদ্র ভালোবাসা বয়ে বেড়াতে হয়। ভালোবাসার মানুষের কাছে ভালোবাসা বিলিয়ে দেয়া যায় না। যেখানে ভালোবাসা পাওয়ার বদলে ভালোবাসা পাওয়ার কথা সেখানে উল্টো ভর্ৎসনা শুনতে হয়। হৃদয় ছোট হয় যায় কটুবাক্য শুনতে শুনতে। কিংবা ভালোবাসায় প্রত্যাখান পেয়ে একেবারে শূন্য স্থানে পৌঁছে যেতে হয়।

ফায়েজের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। খেয়ার সামনে সে মোটেও কাঁদতে চাইছে না। বাধ্য হয়ে বিছানার ওপর অয়েন্টমেন্ট রেখে বেরিয়ে এলো ফায়েজ। খেয়া বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলো ফায়েজের গমনের পথে।

*******★★********

শূন্য পথ ধরে হেঁটে চলছে ফায়েজ। দিনের বিদায়বেলার বিকালের থমকে যাওয়া আবহাওয়া উপভোগ করতে মন্দ লাগছে না আজ। বিষন্ন মনটা বিষাদে ভরে গেছে। পথের দুইধারে বিশাল বিশাল গাছগুলোকে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের মন ভুলানো হাসিতে ফায়েজ থমকে দাঁড়ালো। রাস্তার কোল ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা বটবৃক্ষের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে আছে এক দম্পতি এবং দুটি ছোট্ট শিশু। শিশু দুটি কোনো কিছু নিয়ে হয়তো ভীষণ আনন্দিত তাই তো তাদের হাসির শব্দে আশপাশের অনেকেই তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। অথচ শিশু দুটি জানে না তারা অনেকের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু।

মোবাইল ফোন ভাইব্রেট হচ্ছে। ফায়েজ প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল বের করল। খুশবু কল করেছে। ফায়েজ কল রিসিভ করলো।

—-হ্যালো??

— কেমন আছো??

— এই তো ভালো আছি। তোর কি অবস্থা??

— ভালো। শেষমেশ ছোট ভাইয়ের বৌকে বিয়ে করে ফেললে??

খুশবু ঈর্ষান্বিত কন্ঠ শুনে ফায়েজ বিস্মিত হলো। খুশবু তাকে পছন্দ করত। তাই বলে ওর নিজের বিয়ের এতবছর পরও কেন ফায়েজকে নিয়ে মাথাব্যথা থাকবে??

— ছোট ভাইয়ের বিধবা বৌকে বিয়ে করতে পারব না এটা কোন সংবিধানে লেখা আছে??

— সংবিধানের কথা বাদ দাও সমাজের মানুষ কি ভাববে একবার ভাবলে না??

— আমার সমাজ কিন্তু ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক ভাবে নিয়েছে । হয়তো তোর সমাজের মানুষ এখনো সেকেলে এবং ন্যারো মাইন্ডেড। তাই মানতে পারছে না।

— খেয়া দেখতে সুন্দর বলেই কি তাকে বিয়ে করে ফেললে?? অথচ,, কোনো এককালে আমরা জানতাম তুমি তোমার অচেনা প্রিয়তাকে অনেক অনেক ভালোবাসো। যার ভালোবাসা বুকে আগলে রেখে জীবনের বাকি দিনগুলো একাকি কাটাবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে। তাহলে সেইসব কথাগুলো কেবলই মনগড়া ছিল?? তাহলে কি ধরে নেব আর সবার মতো তোমার ভালোবাসার রঙও বদলে গেছে?

খুশবুর কথা শুনে ফায়েজ হাসল। খুশবু অবস্থা সেই আগের কিশোরী মনের খুশবুর মতোই রয়ে গেছে। অথচ,, কত গুলো দিন পেরিয়ে গেছে??

— ভালোবাসার রঙ বদলায় কথাটা তিক্ত সত্য। আমিও মানি জীবনের কোনো একসময়ে ভালোবাসার রঙ বদলায়। যেমন ধর তুই।

— আমি???

খুশবু বিস্মিত হয়ে গিয়েছে। ফায়েজ পাশের এক বেঞ্চিতে বসে বলছে,,

— হ্যা তুই। তুই কোনো একসময় আমাকে ভালোবেসে মরতে অব্দি চেয়েছিলি। কিন্তু সময়ে পরিক্রমায় তুই আমার চাইতে অধিক পরিমাণে আরমানকে বেশি ভালোবাসিস। অবশ্য আরমানকে ভালোবাসার কারণও আছে তোর কাছে। আরমান মানুষটাই এমন।

ফায়েজের কথা শুনল খুশবু। আসলেই তো আজকের এই দিনে খুশবুর মনে কেবল আরমান আছে। তবে কি সত্যি ভালোবাসার রঙ বদলায়??

— মানুষ ভালোবাসার কাঙাল। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। তোমাকে হৃদয় উজার করে ভালোবাসার পরও যখন শূন্য বুকে নীড়ে ফিরলাম ঠিক তখনি একসমুদ্র ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছে আরমান৷

— আমিও ঠিক তাই চাইছি খুশবু। কতকাল আর ভালোবাসাহীন জীবন নিয়ে বাঁচব ? খেয়াও আমার মতো ভালোবাসা পেয়েও হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের দু’জনের কাছে আমাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হলো সঠিক সিদ্ধান্ত। এখন তোর ভাবনায় কিংবা সমাজের ভাবনায় আমাদের কি আসে যায় বল??

ফায়েজের কথাগুলো সবটা শুনে খুশবু কল কেটে দেয়। হয়তো,, নিজের কাজে লজ্জিত বোধ করছে!! ফায়েজের মনটা হুট করে ভালো হয়ে গেছে। ইচ্ছে করছে চট করে বাড়িতে ফিরে যেতে। তারপর,, খেয়ার কপালে শব্দ করে দুটো চুমু খেতে। যেই ভাবা সেই কাজ। ফায়েজ এবার বাড়ি ফেরার পথো রওনা হয়েছে।

খুশবু মোবাইলের স্ক্রিনে থাকা দুটো মানুষের ছবির দিকে তাকিয়ে আছে। মানুষ দুটোর ঠোঁটের কোণে হাসি লেগে আছে অথচ চোখে কেমন বিষাদের ছায়া!! ফায়েজের মুখটায় দৃষ্টি রেখে খুশবু আনমনে বলে উঠল,,

— তোমাকে আমি এত সাধন করেও পেলাম না। আর যে কিনা তোমাকে চায় না সে কিনা তোমাকে অকারণে জয় করে ফেললো!! ভাগ্যের লটারির খেলে খেয়া দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছে। জীবনে চলার পথের মানুষ একজন ভালো মানুষের জন্য হাহাকার করে। অথচ, খেয়া দুজন মানুষকে পেয়ে গেছে। ভাগ্য হয়তো একেই বলে?? জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে কষ্ট পাওয়া মেয়েটা এত চমৎকার জীবনসঙ্গী পেয়ে গেছে।

*********************

কলিংবেল বাজাচ্ছে ফায়েজ। ওদিকে খেয়া বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। কলিংবেলের শব্দ শুনতে পাচ্ছে না। ফায়েজ এবার চিন্তিত ভঙ্গিতে মোবাইল বের করে খেয়ার নাম্বারে কল দেয়। খেয়ার মোবাইলের রিংটোন বাজছে তবে ওর রুমে নয় ড্রইংরমে। ফায়েজ উপায়ন্তর না পেয়ে রশিদকে কল দিয়ে বললো,, ডুপ্লিকেট চাবিটা নিয়ে আসতে। কথা বলার ফাঁকে বারবার কলিংবেল বাজাচ্ছে কিন্তু খেয়ার দরজা খোলার নাম গন্ধ নেই।

মিনিট দশেক পর রশিদ এলো চাবি নিয়ে। ফায়েজ তড়িঘড়ি করে চাবি দিয়ে দরজার লক খুলে ভেতরে ঢুকলো। তারপর,, এক দৌঁড়ে চলে যায় খেয়ার রুমে। সেখানে গিয়ে দেখলে পুরো ঘর অন্ধকার। ফ্যান ফুল স্পিডে ঘুরছে। খেয়া কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। ফায়েজ ধীরে ধীরে খেয়ার শিয়রের কাছে এগিয়ে যাচ্ছে। খেয়ার নাকের কাছে দুটো আঙুল দিয়ে দেখলো,, হ্যা খেয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকভাবে চলছে। ফায়েজ এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। ধীরে ধীরে খেয়ার ঘর থেকে বেরিয়ে রশিদের সামনে গিয়ে বললো,,

— ধন্যবাদ দোস্ত।

— আরে এত ফরম্যালিটি দেখাতে হবে না। এখন বল ভাবি ঠিক আছে তো??

— ঠিক আছে। ঘুমাচ্ছে সেইজন্য হয়তো কলিংবেলের শব্দ শুনতে পায়নি।

— তাহলে আমি আসছি। কিছুর প্রয়োজন হলে কল করিস।

ফায়েজ হাসিমুখে বিদায় জানালো রশিদকে। দরজা বন্ধ করে সোজা খেয়ার রুমে চলে এলো ফায়েজ। দরজা বন্ধ করে দিলো। জানালা দুটোর পর্দা সরিয়ে দিলো। খানিকটা আলো আসছে। আকাশের রঙ রক্তিম হয়ে আসছে। ফায়েজ ঘুমন্ত খেয়ার পাশে গিয়ে বসে রইলো। অপেক্ষা কখন খেয়া ঘুম থেকে জেগে উঠবে??অপেক্ষা করার ফাঁকে ফায়েজ খেয়ার মুখের দিকে তাকালো। বিকালে রক্তিম আভা খেয়ার চেহারায় পরছে। কুসুম রঙা গায়ের রঙটা যেন সূর্যের রক্তিম আভা পেয়ে দেবির রুপ ধারণ করেছে। ফায়েজের হুট করে মনে হচ্ছে তার ঘরে স্বয়ং দেবির আগমন ঘটেছে। যার রুপের ঝলকে আজ ফায়েজ ঝলসে যাবে। ছাই হয়ে পরে থাকবে তার দেহখানি।

তখন সন্ধ্যা সাতটা বাজে,,

খেয়ার ঘুম ভেঙেছে খুবই অস্বাভাবিকভাবে। চোখ খোলার পর নিজেকে কারো বাহুডোরে আবিষ্কার করা হয়তো ভয়ানক ব্যাপার। খেয়ার বেলায় ঠিক তাই হলো। খেয়া প্রচন্ড ভয় পেয়ে মৃদু চিৎকার দিয়ে সেই বাহুডোর থেকে মুক্ত হতে চাইলো। কিন্তু,, পারলো না উল্টো আরও শক্ত বাঁধনে আঁটকে যায়।

— এত জোড়ে চিৎকার করছো যে, লোকে কি ভাববে?? বিল্ডিংয়ের সবাই কিন্তু জানে থার্ড ফ্লোরের ভাড়াটিয়া নতুন বৌ নিয়ে ফ্ল্যাটে উঠেছে।

ঘুমন্ত গলায় কথাগুলো খেয়ার গলায় নাক ডুবালো ফায়েজ। মিষ্টি একটা গন্ধ আসছে খেয়ার গলা থেকে তাই তো মুখ ডুবিয়ে রেখেছে সেখানে। এদিকে খেয়ার অস্বস্তি হচ্ছে ফায়েজের কাছ থেকে আকস্মিক ছোঁয়া পেয়ে।

— আমাকে ছাড়ুন।

— আর দুমিনিট।

— দুই সেকেন্ডও না।

— তাহলে এক মিনিট।

কথাটি বলে খেয়ার নাকের ডগায় একটি চুমু খেয়ে আবারও ওর গলায় নাক ডুবিয়ে রইল ফায়েজ। ঘড়ির কাটায় একমিনিট পূরণ হতেই ফায়েজ নিজেই খেয়াকে ছেড়ে দিলো ফায়েজ। ফায়েজের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে তৎক্ষনাৎ শোয়া থেকে উঠে ফায়েজের বুকের ওপর ঝুঁকে কলার চেপে ধরে বললো,,

— একটি ঘুমন্ত মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করাকে আপনি কি বলবেন?? আমি তো তাকে চরিত্রহীন মানুষ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছি না।

খেয়ার কথা শুনে ফায়েজ অবাক হয়। কি এমন করেছে সে?

— খেয়া মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ। তুমি আমার স্ত্রী। তোমাকে আমি এতটাও গভীরভাবে ধরিনি যে তুমি আমাকে ডিরেক্ট চরিত্রহীন মানুষ বানিয়ে ফেলছো।

— ও রিয়েলি!! আপনার স্ত্রী হয়েছি বলেই কি যখন তখন স্ত্রীর দেহকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে??

— খেয়া??

ফায়েজ খেয়ার দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। খেয়া এতটা নেগেটিভ ভাবে নিবে বিষয়টা আগে হলফ করেনি ফায়েজ। নয়তো,, খেয়ার ছায়ার আশেপাশেও ঘেঁষত না সে।

— চিৎকার করবেন না। আমি আপনাকে খুবই ভালো মনের মানুষ মনে করেছিলাম। কিন্তু আপনি ছিহ্!!

শেষের কথাটি বলতে বলতে খাট থেকে নেমে একদলা থুতু ফেললো ফায়েজের পায়ের কাছে। ফায়েজ অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে। খেয়া রুম থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনি ফায়েজ খাট থেকে নেমে এসে খেয়ার হাত ধরে দরজা বন্ধ করে দিলো।

— দরজা বন্ধ করলেন কেন??

— আমরা স্বামী-স্ত্রী। আমাদের ঘরের দরজা এনিটাইম বন্ধ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বরং তুমি এখন যেভাবে কথাগুলো বললে সেগুলো অদ্ভুত লাগছে শুনতে।

— অদ্ভুত লাগছে হাউ ফানি!

খেয়া হাসছে। খেয়ার হাসি দেখে ফায়েজের হৃদয়টা ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।

— গতকাল আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত ছিল। কিন্তু,, তুমি আমি দেয়ালের এপাড়-ওপাড় থেকেছি। কারণ,, কি জানো?? আমি চাইনি। আমি এখনও চাই না তোমার আমার মাঝে ভালোবাসা গড়ে ওঠার আগে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠুক। দৈহিক সম্পর্কে কি আসে যায়? সেটা তো চাইলে টাকা দিয়ে মিটিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু,, ভালোবাসা কি আর চাইলে পাওয়া যায়?? আমি তোমার কাছ থেকে ভালোবাসা চাই। সেটা আজ হোক কিংবা অনেক বছর পরে। তবুও আমার তোমার ভালোবাসাই চাই।

— এগুলো হয়তো আপনার গতকালের ভাবনা ছিল। যেগুলো এখন আমার সঙ্গে শেয়ার করছেন। আজ হয়তো নিজেকে সামলাতে পারছেন না। তাই আমার সঙ্গে….

— খেয়া প্লিজ !!! আমি হাত জোড় করে মাফ চাইছি তোমার কাছে। আর কিছু বলো না প্লিজ।

কথাগুলো বলে ফায়েজ বেরিয়ে যায় ফ্ল্যাট থেকে। খেয়া এলোমেলো মন নিয়ে বসে রইলো বিছানায়। অথচ,, আসন্ন বিপদের খবর সম্পর্কে তারা কেউই অবগত নয়।

রাতের আকাশ বড্ড রহস্যময়। সাদা-কালো আলোতে পৃথিবীকে বড্ড অচেনা মনে হয়। অথচ,, দিনের আলোতে পৃথিবী ঝকঝকে,, দীপ্তময়,, পাখির কলরবে মুখরিত থাকে। অথচ রাত হলে কিছুই নেই। থাকে কেবল শূন্যতা। সূর্যের আলো নেই,, মানুষের হৈ-হুল্লোড় নেই,, পাখিদের ডাক নেই।

খেয়ার অবস্থা কিছুটা রাতের আকাশের মত। যেখানে কেবল শূন্যতা বিরাজ করে। যেভাবে হাহাকার করে প্রকৃতি তেমনিভাবে আহাজারি চলছে খেয়ার মনে।

চোখের কোল ঘেঁষে জল গড়িয়ে যাওয়ার দাগ,, মলিন মুখখানায় বিষাদের ছায়া,, শুকনো ঠোঁট জোড়া শুকিয়ে গেছে। হয়তো অযত্নের ছাপ। মাথার ওপর চরকির ন্যায় ঘুরতে থাকা ফ্যানের তীব্র বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে খেয়ার চুল। কিন্তু,, খেয়াকে দেখলে মনে হচ্ছে না যে সে বিরক্ত। সে তো অন্যকিছু ভাবতে ব্যস্ত।

—- কপালে হাত রেখে শুয়ে আছো যে?? নাকি পাপ-পূন্যের হিসাব কষে বের করা হচ্ছে??

খেয়া চট করে চোখ মেলে তাকালো। শূন্য ঘরে সে ছাড়া আর কেউ নেই। ফায়েজ তো সন্ধ্যেবেলায় রাগ করে বেরিয়ে গেছে এখনও ফিরে আসেনি। যদিও ফায়েজের ফিরে আসা নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই। তার ফ্ল্যাট তার যখন মন চাইবে তখন আসবে,,, খেয়ার তাকে নিয়ে এত ভাববার সময় নেই।

— তুমি এত ভুলোমনা কবে থেকে হলে??

এবারের কথাগুলো শুনে খেয়া ভ্রু কুঁচকে তাকায় । কারণ,, কন্ঠের মালিক ফায়েজ নয়। খেয়া বিছানা থেকে নেমে জানালার পর্দা সরিয়ে দিতেই চাঁদের আলোয় ভরে পঠে ঘরের দক্ষিণ কোণ। শিরশিরে বাতাসে গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে খেয়ার। হেঁটে গিয়ে খাটের অপজিটে থাকা বেডসাইড টেবিল থেকে একগ্লাস পানি নিয়ে পান করল। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফের বিছানায় বসল। ইদানিং ওর হেলুসিনেশনের সমস্যাটা ইদানিং আবারও বেড়ে গিয়েছে। এই যেমন এখন খেয়ার কাছে মনে হচ্ছে জানালার দ্বারে কেউ উল্টোদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু,, খেয়া জানে আদৌতে ওখানে কেউ নেই। সবটাই ওর মনের কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না।

— কারো খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়া হয়তো তোমার নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যায় না। তুমি কি করে পারলে এমন একটা ঘৃন্য মনোভাবাপন্ন কাজ করতে??

দুটো প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে খেয়া আতঙ্কে কাঁপতে থাকে। কারণ,, এই গোপন কথা কেবল সে জানে আর জানে তার সৃষ্টিকর্তা। তবে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা জানল কি করে,, ফায়েজের খাবারে আজ খেয়া বিষ মিশিয়ে রেখেছে। বাড়িতে ফিরে এলে সেই খাবার নিজের হাতে সার্ভ করবে খেয়া৷ ইশশ,, ভাবতে গিয়ে আনন্দে গা কাঁপুনি দিচ্ছে। একই সময়ে শরীরের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখে খেয়া নিজের ওপর ভারী বিরক্তবোধ করল। আপাতত নিজের ওপর রাগ না দেখিয়ে লোকটাকে জিজ্ঞেস করার দরকার সে এসব উল্টাপাল্টা কথা কেন বলছে? সে কি নিজ চোখে দেখেছে??

— কে আপনি?? ফ্ল্যাটে ঢুকলেন কি করে?? তাছাড়া আমার নামে কাউকে বিষ খাইয়ে দেয়ার মতো একটি অপবাদ চাপিয়ে দিলেন কি করে??

— সবার কাছে সবটা আড়াল করতে পারবে। সৃষ্টিকর্তার নির্দেশের অবজ্ঞা করে মানুষ মেরে ফেলার ছক আঁকতে পারবে। কিন্তু,, আমাকে কি করে ধোঁকা দেবে খেয়া??

কথাগুলো বলতে বলতে এগিয়ে এলো খেয়ার সম্মুখে। চাঁদের আলোয় খেয়া সেই ব্যক্তির চেহারা দেখে বিস্মিত হয়ে বলল,,

— নির্বাণ,, তুমি!!!

**************

— বিয়ে হলো সবেমাত্র। আর আজই দুঃখী দুঃখী চেহারা দেখতে পাচ্ছি!!

আনমনা হয়ে বসে থাকা ফায়েজ চট করে পাশ ফিরে দেখল রশিদ ওর পাশে এসে বসে আছে। উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ফায়েজ উত্তর দিতে প্রস্তুত তবে আরেকটি ব্যাপারে সে চিন্তা করছে। এই যে রশিদ তার পাশে এসে বসেছে অথচ সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। কিন্তু, কেন?? নিজের ভাবনার জগতে এতটাই কি ডুবে ছিল যে আস্ত একটা মানুষের অস্তিত্ব সে টের পায়নি??

গগনে আজ পূর্ণ চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলোয় ভরে উঠেছে পুরো এলাকা জুরে।প্রকৃতির মাঝে মৃদু হাওয়ায় কিছু পোড়ার গন্ধ নাকে ভেসে এলো। দূরে এক নিশাচরী পক্ষীর ডাক থেমে থেমে ভেসে আসছে। নারকেল গাছের পাতা গলিয়ে এক ফালি চাঁদের আলোয়ে ফায়েজের চিন্তিত মুখখানা দেখতে পাচ্ছে রশিদ। ফায়েজের মুখটা দেখে রশিদ হলফ করে বলতে পারবে তার এই ভালো বন্ধুর আজ মন ভালো নেই। চোখে মুখে বিষাদের ছাপ স্পষ্ট।

— দোস্ত,, বিয়ে নামক ব্যাপারটা কি জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক চ্যাপ্টার??

রশিদের প্রশ্নবানে জর্জরিত ফায়েজ মলিন হেসে বলল,,

— বিয়ে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শুদ্ধতম সম্পর্ক। বলতে পারিস মানুষের মাঝে যে রক্তের একটা সম্পর্ক কিংবা নাড়ির টান বলতে আমরা যেই সম্পর্ককে বুঝি সেই সম্পর্কে গতানুগতিক ধারার বাইরে খুবই আত্মিক একটা সম্পর্কের নাম বিয়ে। দুজন মানুষ চেনাজানার বাইরে একটা মানুষকে নিয়ে চিরজীবন কাটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেবল বিয়ের মতো একটা সম্পর্কের জন্য।

— আর একটু সহজ করে বলবি দোস্ত?? মাথায় ঢুকছে না!!

রশিদের কনফিউশান মুখ দেখে ফায়েজ কাঠের বেঞ্চিতে পা তুলে বসল। রশিদকেও ইশারায় ঠিক সেভাবেই বসতে বলল। রশিদ বন্ধুর কথায় তাল মিলিয়ে বসল। ফায়েজ অদূরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা নারকেল গাছের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল,,

— বলা যাক দুটো রুমমেটের কথা। রুমমেট দুজন অনেকবছর ধরে একসাথে খাবে,, রুম শেয়ার করবে,, বাথরুম,, রান্নাঘর,, বিছানা শেয়ার করবে। হুট করে একদিন সেই রুমমেটদের মধ্যে একজন চলে যাবে। দুজনের কাছে ব্যাপারটা স্বাভাবিক। কারণ,, ভবিষ্যতে কোনো একদিন ব্যাপারটা ঘটত। বিদায় বেলা দুজনের অশ্রুসিক্ত নয়নে কেঁদে ভাসালো না। উল্টো হাসিমুখে বিদায় জানিয়ে ফিরে এলো সেই ঘরে যেখানে তারা দু’জন থাকত। যে চলে গেছে তার শূন্যতা পূরণ করতে ভিন্ন আরেকজন আসবে। এটাই স্বাভাবিক। এখন স্বামী-স্ত্রীর কথা বলি। তারা কিন্তু রুমমেটের মতই। কিন্তু,, তারা কখনো একে অপরকে ছেড়ে যাবে না। একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকবে। যদি কখনো স্বামী কিংবা স্ত্রী এর মধ্য থেকে কেউ চলে যেতে চায় তবে তাকে আটকে রাখার জন্য তার সঙ্গী চেষ্টা করবে। কিন্তু, একজন রুমমেট কখনোই সেই চেষ্টা করবে না। কারন, তার কাছে ব্যাপারটা স্বাভাবিক। কিন্তু,, স্বামী-স্ত্রী এর ব্যাপারে এমনটা হবে না। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে তাদের সঙ্গীকে আঁটকে রাখার জন্য। এখন তুই বল বিয়ে নামক চ্যাপ্টার কি ভয়ানক??

রশিদ তর্জনী আঙুল দিয়ে কপালে চুলকিয়ে শুকনো গলায় জিজ্ঞেস করল,,

— কিন্তু,, বিয়ের মতো একটা সম্পর্ক এতটাও শক্তিশালী না যে দুটো মানুষকে চিরতরে আঁটকে ফেলবে!! অবশ্যই একটা হিডেন ম্যাজিক আছে যেটা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। সেই হিডেন ম্যাজিকের নাম কি জানিস তুই??

রশিদের কথায় মাথা নাড়িয়ে জবাব দেয় ফায়েজ। সে জানে সেই লুকায়িত জাদুর কথা। যেই জাদুতে কাবু হয়ে সহস্র মানুষ বিয়ে নামক জেলাখানায় সেচ্ছায় কারাবাস ভোগ করছে।

— “ভালোবাসা ”

ফায়েজ দু’টি চোখ বন্ধ করে রইল। রশিদ ফায়েজের মুখের দিকে তাকিয়ে আবিষ্কার করল তার বন্ধুর মুখে এবার সুখী সুখীভাব। ফায়েজ চোখ বন্ধ রেখে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে।

— সেই লুকায়িত জাদুর নাম “ভালোবাসা”। পৃথিবীতে যদি ধন-সম্পদের বাইরে মানুষ কোনো না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করে তবে সেই না পাওয়ার তালিকায় আছে ভালোবাসার নাম। টাকা দিয়ে ভালোবাসার মত এত সুন্দর,, স্নিগ্ধ অনুভূতি কি ক্রয় করা যায়?? বিয়ে ব্যাপারটায় আসলে ভালোবাসা ম্যাটার করে। তাই তো চেনা-জানার বাইরে দুটো মানুষ বিয়ে নামক বন্ধনে কি চমৎকার ভাবে কাটিয়ে দেয় পুরো একজনম।

ফায়েজের কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শ্রবণ করল রশিদ। ভালো লাগায় মেতে উঠেছে দেহ-মন। বিয়ে নামক ব্যাপারটায় ভীষণ খুঁতখুঁতে রশিদের আজ মনে হচ্ছে বিয়ে আসলে মন্দ বিষয় নয়। ভাগ্য করে ভালোবাসার একটা মানুষ পেয়ে গেলে জীবনে আর কি চাই??

আগুন,, আগুন…

কারো আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠেছে পুরো এলাকা। নিশুতি রাতে সেই আর্তনাদ যেন প্রকম্পিত হয়ে বারবার প্রতিধ্বনি তুলছে। ফায়েজ এবং রশিদ এবার হকচকিয়ে যায়। কারন,, এত রাতে “আগুন” বলে চিৎকার করছে কে?? ব্যাপারটা বোঝার জন্য রশিদ এবং ফায়েজ রাস্তার ধারে পেতে রাখা বেঞ্চ থেকে উঠে দৌঁড়ে যায় গেইটের কাছে।

ধীরে ধীরে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাচ্ছে। মানুষের কোলাহলে মুখরিত পুরো এলাকা। ফায়েজ সেখানে গিয়ে কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগে ফরিদ নামের একজন গার্ড এগিয়ে এসে ফায়েজকে বলল,,

— স্যার,, আপনাদের বিল্ডিংয়ের থার্ড ফ্লোরে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের লোক চলে এসেছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু,, স্যার একটা ভয়ের ব্যাপার হলো….

বাকি কথা শোনা হলো না ফায়েজের। ফরিদকে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে সামনে থেকে সরিয়ে দৌঁড়ে যায় বিল্ডিংয়ের সামনে। সেখানে যেতেই দেখতে পেলো আগুনের লাল শিখা। দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। ফায়েজ গেইটে ঢুকতে যাওয়ার মুখে বাঁধা পেল।

— স্যার,, আপনি যেতে পারবেন না।

— কিন্তু,, থার্ড ফ্লোরে আমার খেয়া…

ফায়েজের কন্ঠস্বর কাঁপছে। খেয়ার কিছু হলে সে বাঁচবে না। মেয়েটাকে এতবছর ধরে ভালোবেসে মোটেও ক্লান্ত হয়নি। উল্টো তাকে ছাড়া ফায়েজের জীবন মরুভূমির মতো লাগে। মরু অঞ্চলে যেমন পানির তৃষ্ণার্তে মানুষ কাবু হয়ে যায়। ঠিক তেমনি করে খেয়া নামক মানবীর জন্য ফায়েজ সহস্রবার নিজেকে ভেঙেও গড়ে নিয়েছে। হায়!! খেয়ার তৃষ্ণায় ফায়েজ কতটা তৃষ্ণার্ত যদি খেয়া দেখতে পেত,, বুঝতে পারত!!

— চিন্তা করবেন না স্যার। বিল্ডিংয়ের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আপনি একটু কষ্টে করে গেটের বাইরে গিয়ে দেখুন নিশ্চয়ই পেয়ে যাবেন আপনার মানুষটাকে।

ফায়েজ সেই মানুষটাকে ধন্যবাদ বলে দৌঁড়ে যাচ্ছে গেটের বাইরে। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। খেয়ার কিছু হলে ফায়েজ স্রেফ মরে।

গেইটের বাইরে গিয়ে ফায়েজ একজনকে জিজ্ঞেস করল যে,, বিল্ডিংয়ের সবাইকে কোথায় রাখা হয়েছে?? লোকটা একটি পুলিশ ভ্যান দেখিয়ে চলে গেছে অন্যদিকে। ফায়েজ ভ্যানের পেছনে গিয়ে দেখলো কয়েকটি চেনা মুখের সঙ্গে অচেনা মুখ। কিন্তু,, কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে দেখতে পায় না। ফায়েজকে দেখে ফারাবির স্ত্রী কাঁদোকাঁদো স্বরে বলল,,

— খেয়া কোথাও নেই ভাইয়া। আমার মনে হচ্ছে,, ও ফ্ল্যাটে রয়ে গেছে। আমি যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। উল্টো রাগারাগি করে পাঠিয়ে দিয়েছে এই বলে যে তারা থার্ড ফ্লোরে লোক পাঠিয়েছে সেখানে কেউই ছিল না। অযথা দুশ্চিন্তা করছি নাকি আমি।

ফায়েজের মনে হলো ওর জীবনের দ্বিতীয় দুঃসংবাদ বুঝি আজই পাওনা ছিল। খেয়া আদৌও ঠিক আছে কিনা ভাবতে ভাবতে ফায়েজের মনে হলো সে মাথা ঘুরে পরে যাবে। চোখদুটোতে জল ছাপিয়ে বেরুতে চাইছে। ফায়েজ কিছু না বলেই ফের দৌঁড়ে গেইট দিয়ে ভেতরে ঢুকল।

বিল্ডিংয়ের মুখ্য দুয়ারে যেতেই দেখতে পেলো সেখানে কেউ নেই। এই তো সুযোগ। এখনই যেতে হবে নয়তো খেয়াকে হারিয়ে ফেলতে হবে চিরতরের জন্য। সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠছে। যতই উপরের দিকে উঠছে ততই পোড়া পোড়া গন্ধ এবং ধোঁয়ার প্রকট উপস্থিতি টের পাচ্ছে ফায়েজ। তৃতীয় তলায় পৌঁছেতেই ফায়েজের মনে হল সে জাহান্নামের একটি জায়গায় চলে এসেছে। চারপাশে কেবল ধোঁয়া,, অস্পষ্ট সব। সবসময় আলোয়ে সজ্জিত ফ্ল্যাটখানা আজ মৃত্যুপুড়ির ন্যায় দেখাচ্ছে।

ফায়েজ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করিডর কোনোমতে পেরিয়ে ওদের ফ্ল্যাটের দরজা সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দুয়েকবার ধাক্কা দেয় কিন্তু দরজা খুলে না। পরক্ষনেই মনে পরল ওর কাছে ডুপ্লিকেট চাবি আছে। অবশেষে দরজা খুলতে সক্ষম হলো ফায়েজ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। কিন্তু,, দরজার ওপাড়ে থাকা ফায়েজের জন্য কোন দুসংবাদ অপেক্ষা করছিল কে জানত??

চলমান…..