
#সাত_পাকে_বাঁধা
#পর্ব_০৭
#অধির_রায়
নিয়তি নিজেকে একটা অন্ধকার রুমে আবিষ্কার করে৷ মুখ চেপে ধরার জন্য কথা বলতে পারছে না৷ কে এই কাজ করতে পারে৷ তাকে যদি কিটন্যাপ করে তাহলে নির্বণদের বাড়িতেই অন্য রুমে কেন নিয়ে আসবে৷ আজে বাজে চিন্তা মাথায় ঘুরছে৷ নিয়তির মাথায় কিছুই ঢুকছে না৷
আমার মুখে চেপে ধরে আছে তাতে কি? আমার হাত পায়ে কোন বাঁধান নেই সালাকে হাত পা দিয়ে শায়েস্তা করতে পারি!(মনে মনে)
যেই ভাবা সেই কাজ৷ নিয়তি পা উঁচু করে দেহের সমস্ত শক্তি দিয়ে পিছনের লোকটাকে লাথি মারে। কিন্তু ঘটনা ঘটে উল্টো। পা তুলার সাথে সাথে পিছনের লোকটা নিয়তিকে সামনে ঘুরিয়ে নিয়তির ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের সাথে আবদ্ধ করে নেয়। নিয়তি চোখ রসে গোল্লায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু কে এসব কাজ করছে।
নিয়তি হার মানেনি৷ দু’ হাত দিয়ে কিল ঘুশি মেরেই যাচ্ছে। তবুও নিয়তিকে ছাড়ছে না৷ অন্ধকার রুমেই নিয়তির হাত ধরে ফেলে।নিয়তি এই সুযোগে চিৎকার করতে নিবে তারও সুযোগ রাগে নি। লোকটি ঠিক নিয়তির গলায় নাক ঘষতে শুরু করে৷ নিয়তির মুখে আর কোন কথা বের হচ্ছে না। নিজের সমস্ত শক্তি সঞ্চর করে।
— প্লিজ আমি আপনার পায়ে পড়ি। আমাকে ছেড়ে দেন৷ আমি আপনার কোন ক্ষতি করিনি কোনদিন? যদি কোন ক্ষতি করে থাকি তাহলে বলেন সেটা সংশোধন করার চেষ্টা করব? কান্না করতে করতে কথা গুলো বলে?
— এখন এসব বললে চলবে না৷ অদ্ভুত নেশা জনিত কন্ঠে বলে৷
— কে আপনি? আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?
নিয়তির মুখ আবার চেপে ধরে লাইট অন করে৷ নিয়তি সুইচের দিকে তাকিয়ে আছে৷ লোকটি দেখবে তার কোন সুযোগ নেই৷ দু’ হাত দিয়ে ঘাড় শক্ত করে ধরে রয়েছে৷
নিয়তিকে ধীরে ধীরে সামনে ঘুরায়। সমস্ত রুম বাহারি রকমের ফুল দিয়ে সাজানো৷ ট্রি টেবিলের চারিদিকে লাল গোলাপের পাপড়ি। ভিতরে হলুদ গাধা ফুলের বৃত্ত। বৃত্তর মাঝ বরাবর ক্যান্ডেল রাখা৷ ফ্লোরে গাধা ফুল দিয়ে লেখা সরি। নিয়তির বুঝতে আর বাকি রইল না লোকটি আসলে কে?
লোকটি আর কেউ নয়। লোকটি হলো নিয়তির স্বামী নির্বণ৷ এসব ডেকোরেশন দেখে নিয়তি প্রথমে খুশি হয়ে ক্ষমা করে দিতে চায়৷ কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে বাসর রাতের নির্মম অত্যাচারের কথা৷
— এসব কি? ক্ষেপে বলে?
— সরি! ওই ভাবে তোমাকে এখানে নিয়ে আসার জন্য।কিন্তু কিন্তু কি করব? তোমাকে এখানে আসতে বললে আসতে না৷
— আপনার সাহস কি করে হলো আমাকে এখানে নিয়ে আসার? আর এসব কিসের জন্য? কিছুটা কর্কশ কন্ঠে বলে
— আমরা কি পারি না সব ভুল মিটিয়ে নিয়ে আবার এক সাথে এক পথে পা বাড়াতে পারি না৷
আমারও অন্যদের মতো মন চায় নিঝুম পূর্নিমার রাতে তোমার কোলে মাথা রেখে সারা রাত গোলাকার বৃত্ত পূর্নিমার চাঁদ দেখে দেখে ভালোবাসা গল্প করতে৷ এক ফালি ল্যামপোস্টের আলোতে তোমার হাতে হাত রেখে এক বার ঘুরার সুযোগ করে দাও৷
সালা লুচ্চা আমাকে একটু আগে কিস করে এখন আসছে আমাকে গল্প শুনাতে৷ তোর থেকে আমিও ভালো ভালো ডায়লগ দিতে পারি তাহলে শুন আমার মনের কথা৷ সরি আমার মুখের কথা৷ মন তো তোকেই ভালোবেসে ফেলেছ। (মনে মনে)
— আপনার এসব কথা কোন ফিল্মের নায়কাকে বলেন কাজে লাগবে৷ এটা কোন ফিল্ম চলছে না৷ আপনার মধুর কন্ঠে ভালোবাসার কথা শুনে আমি ভুলে যাব৷ এটা বাস্তব জীবনের একটা প্রশ্ন।আমিও চেয়েছিলাম ভালোবাসার মানুষের হাতটা খুব শক্ত করে ধরে সারাজীবন তার ভারসা হয়ে থাকব৷ আমার সব কথা এবং কাজে বিশ্বাস করবে। আমার ভুল ধরিয়ে দিবে৷ কিন্তু আপনি
— নির্বণ নিয়তির হাত ধরে প্লিজ আমাকে একটা সুযোগ দাও৷ আমি তোমার ভরসা বিশ্বাস সব দিকে খেয়াল রাখব৷
— যে লোক বাহিরের কাউকে বিশ্বাস করে আমাকে অমানবিক নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করতে পারে তাকে আজ বিশ্বাস করে কাল হেরে যাব৷ কাল এর থেকে খারাপ কিছু কেউ আপনার সামনে উপস্থাপন করলে আপনি তাকে বিশ্বাস করে আমাকে টর্চার করবেন তার কোন গ্যারেন্টি নেই মি. নির্বণ চৌধুরী।
— আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি। তোমার সকল বিষয়ে আমি বিশ্বাস স্থাপন করে রাখব। আর কাউকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করব না৷ যাছাই বাছাই করে সব কিছু সিদ্ধান্ত নিব৷
— আপনি থাকেন আপনার বিষাক্ত ভালোবাসা নিয়ে৷ যে মুখে ভালোবাসা থাকে সে মুখে বিষাক্ত কথা থাকে না৷ আপনার মনে এখনও অনেক বিষাক্ত কিট বসবাস করছে৷ তাদের থেকে মুক্ত হন তারপর আমাকে ভালোবাসার কথা বলতে আসবেন৷
নিয়তি চোখের জল মুছে এক মুহুর্তও না দাঁড়িয়ে হন হন করে বেরিয়ে আসে সেই ভালোবাসার রুম থেকে।নির্বণ পিছন থেকে অনেক ডেকেছে নিয়তি তার সব ডাক উপেক্ষা করেছে৷
নির্বণ ফ্লোরে বসে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে। নির্বণের ধারনা ভুল প্রমাণিত হল৷ নির্বণ ভেবেছিল নিয়তি তাকে ক্ষমা করে দিবে৷ কিন্তু নিয়তি তাকে কোনদিন ক্ষমা করবে না৷ কোনই বা ক্ষমা করবে। বাসর রাতে তার সাথে যা করেছে৷ মেয়েদের সব স্বপ্ন থাকে বাসর রাত নিয়ে আমি তার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছি৷ কিভাবে তার ভাঙা স্বপ্নে ভালোবাসা বিরাজ করব?
নির্বণের কান্না দেখার মতো কেউ নেই৷ কে বলে ছেলেরা কাঁদতে জানে না৷ যখন ছেলেদের মন ভেঙে যায় তারাও কেঁদে ফেলে। কিন্তু তাদের কান্না চার দেয়ালে আটকা পড়ে থাকে৷ নিঝুম যেদিন অন্য ছেলের হাত ধরে চলে গেছিল সেদিনও নির্বণ এভাবে কান্না করেছে৷ আজও নির্বণ তার ভালোবাসার কাছে হার মানল।
[ নিঝুম যেদিন নির্বণকে ছেড়ে চলে যায় সেদিন থেকে নির্বণ একটা ভিন্ন মানুষে পরিণত হয়৷ তখন থেকেই নির্বণ কারো ভালো দেখতে পারত না৷ কোন মেয়েকে বিশ্বাস করত না৷ সকল মেয়েকে শুধু ভোগের সামগ্রী মনে করত। হঠাৎ একদিন সেই ছোট নিয়তি তার পিকুর সাথে খেলা করতে করতে রাস্তায় চলে আসে৷ তার পিকুটা নির্বণের কারের সামনে চলে আসে। নিয়তি পিকু বলে চিৎকার করে উঠে৷ অল্পের জন্য নিয়তির পিকু প্রানে বেঁচে যায়। নিয়তি সেই পিকুটা সেখান থেকে নিয়ে এক দৌড়ে বাড়িতে চলে যায়। সেদিন থেকেই নির্বণ নিয়তিকে ভালোবেসে গেছে৷ নির্বণ জানত না যে নিয়তি নিঝুমের বোন৷]
নিয়তি রুমে এসে দরজা বন্ধ করে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দেয়। কেন নির্বণকে মেনে নিতে পারছে না নিয়তির মস্তিষ্ক৷ মন তো বলে তাকে ক্ষমা করে নিজের সাথে রাখতে৷ কিন্তু মস্তিষ্ক বলে তাকে ক্ষমা করে দিও না৷
নিয়তির কান্নার মাঝে হঠাৎ দরজায় টুকা পড়ে অরিনের৷ নিয়তি ভাবে নির্বণ এসেছে। চোখের জল মুছে এক প্রকার দৌড়ে দরজা খোলতে যায়।কেন এভাবে ছুঁটে যায় জানা নেই নিয়তির৷ দরজা খোলতে নিলেই আবারও অরিনের কন্ঠ ভেসে আসে৷
— বউদি দরজা খোল। তোমাকে আন্টি ডাকছে৷
নিয়তি চিন্তায় পড়ে যায়। এই অবস্থায় দরজা খোললে যদি অরিন নিয়তিকে এই অবস্থায় দেখে নির্বণের মাকে কিছু বলে দেয়৷ তার থেকে বরং না খোলাই ভালো।
— অরিন মাকে বল আমি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসছি৷
— ওঁকে,, তারাতাড়ি আসবে। তোমার জন্য বসে আছে।
— ওকে
অরিন চলে যেতেই নিয়তি ওয়াসরুমে চলে যায়। মুখে জলের ছিঁটা দিয়ে গ্লাসে নিজেকে দেখে নেয়৷ এখন তাঁকে মর্মান্তিক লাগছে না৷ কিন্তু চোখ একটু ফোলা ফোলা তবে সমস্যা নেই৷ ঘুমিয়ে পড়েছিল বলে কাটিয়ে দিতে পারবে৷
–
–
নিয়তি নিচে এসে দেখে নির্বণের মা বাবা খাবার টেবিলে নিয়তির জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু নির্বণকে কোথায় দেখা যাচ্ছে না৷
— কাকে খোঁজা হচ্ছে? (নির্বণের মা)
— আসলে মা।
— নির্বণ অফিসে সে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে আমাদের খেয়ে নিতে৷ বসো খেয়ে নাও।
— মা আমি জানি নির্বণ অফিসে যায়নি। আপনাদের মিথ্যা কথা বলছে৷ আমি কি করে তার ব্যাপারে বলব যে নির্বণ অফিসে যায়নি৷ তাছাড়া বাবাও তো অফিসে ছিল নিশ্চয় বাবা নির্বণকে দেখেছে৷ তাই তারা বলল অফিসে৷ (মনে মনে)
— কি হলো ওই ভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন? আমরা তোমার জন্য না খেয়ে থাকব।আমার কিন্তু ভীষণ ক্ষুধা লাগছে। (নির্বণের বাবা)
— আসলে বাবা আমার এখন খেতে ইচ্ছে করছে না৷ সেজন্য খেতে চায়ছিলাম না৷
— তাহলে আমরাও উঠে যায়। চল নয়নতারা ( নির্বণের বাবা) নয়নতারা নির্বণের মায়ের নাম।
— না না বাবা আপনারা টেবিল ছেড়ে উঠবেন না৷ আমিও খেয়ে নিচ্ছি আপনাদের সাথে।
— এই তো ভালো মেয়ে. (নির্বণের বাবা)
— কি রে অরিন তুই আবার দূরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? তুই কখন খাবি৷ (নির্বণের মা)
— আসলে আন্টি আপনারা খেয়ে নেন আমি পরে খেয়ে নিচ্ছি। (অরিন)
— পরে খাবি মানে কি? (নির্বণের বাবা) আমাদের সাথে বসে খেতে আজ লজ্জা পাচ্ছিস৷
— না আঙ্কেল খাচ্ছি।
আসলে অরিন তাদের সাথে বসে এক টেবিলেই খায়৷ অরিন কিছুটা সংকোচ বোধ করছিল নিয়তির জন্য। অরিন বসলে যদি নিয়তি টেবিল ছেড়ে চলে যায়।
— মা বাবা অরিন ভাবছে আমার সামনে বসলে আমি যদি খাবার টেবিল ছেড়ে চলে যায়৷ ঠিক তাই তো অরিন৷ আরে অরিন তুমি আমাদের বাড়ির সদস্য। তোমাকে কেন অবহেলা করব।
— না বউদি আমি তেমন কিছু মনে করি নি৷
নিয়তি শুধু খাবার নেড়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে দেখানোর জন্য অল্প কিছু খাচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই খাবার গলা দিয়ে নামছে না৷ শুধু নির্বণের কথা তার কানে বাজছে। কোন রকম অল্প পরিমাণ খাবার খেয়ে নিয়তি উপরে চলে যায়।
রাতের বেলা নিয়তিকে খেতে বললে না করে দেয় সরাসরি। নিয়তি তাদের বলে দেয়। নিয়তি রাত ১ টা অব্ধি বসে থাকে কিন্তু নির্বণের আসার কোন নাম গন্ধ নেই৷ রাত ২ টার নির্বণ বাড়িতে ফিরে এসে দেখে নিয়তি এখন জেগে আছে।
নিয়তি নির্বণ দেখে ভয় পেয়ে যায়।সারারাত ডিংক করে ফিরেছে৷ চোখে হিংসার আগুন প্রতিফলন হচ্ছে।
নির্বণ বেল্ট খোলে নিয়তির সামনে যেতেই নিয়তি চোখ বন্ধ করে ফেলে
চলবে,,,,,
ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।