#ঝরা_শিউলির_দিনে
#পর্ব ৬
#তামান্না_ইসলাম_শিমলা
_______________________
নতুন শহরের প্রথম বিকেলটা যেন একটু অন্যরকমই লাগছে অপরূপার কাছে। বিকেলের আলো নরম হয়ে এলে পিহুকে নিয়ে নিচে নেমে এল অপরূপা। সামনে যে মাঠটা দেখা যাচ্ছিল, তার পাশেই ছোট ছোট ফুড কার্ট আর একটা ছোট রেস্টুরেন্ট টাইপ জায়গা। পিহুকে গোছগাছ করতেই সময় পেরিয়ে গিয়েছে অনেকটা। আপাতত দূরে যাওয়ার সময় নেই। তাই সেখানেই ঢুকল তারা। এসে বসল একটু খালি জায়গায়। টেবিলে বসতেই পিহু চারদিকে তাকাতে লাগল কৌতূহলী চোখে। রেস্টুরেন্টের ডেকোরেশনটা সুন্দর, সাজানো গোছানো ও পরিপাটি। পিহু ছোট ছোট চোখে দৃষ্টি মেলল চারদিকে। পরমুহূর্তেই অপরূপার দিকে তাকাল। অপরূপা মেনুকার্ড দেখছিল। মেয়ের ডাকে কার্ড নামাল সে। পিহু পরমুহূর্তে জিজ্ঞেস করল,
“মাম্মা, এখানে এত লাইট কেন?”
অপরূপা হেসে বলল,
“সুন্দর দেখানোর জন্য।”
“আমাদের বাড়িতেও লাগাবো?”
পিহুকে চুপ করাতে অপরূপা ছোট্ট করে জবাব দিল,
“লাগাবো।”
ওয়েটার এগিয়ে এলো অর্ডার নিতে। অপরূপা নিজের জন্য হালকা কিছু আর পিহুর জন্য নুডলস অর্ডার করল। পিহু চোখ ঘুরিয়ে দেখছে সবকিছু। পাশেই একটা টেবিলে একটা পরিবার বসেছে। একটি বাচ্চা ছেলে ও তার মা বাবা। ছেলেটার বাবা তাকে খাইয়ে দিচ্ছে। পিহুর কেন যেন মন খারপ হলো। সে চোখ সরিয়ে টেবিলে হাত রাখল। হাতের উপর রাখল নিজের গাল। অপরূপা খেয়াল করল মেয়ের মুখটা। কপালে সৃষ্টি হলো ভাজের।
“কী হয়েছে, সোনা?”
পিহু গোল গোল চোখে চাইল মায়ের দিকে। বলল,
“আমার পাপা তো স্টার হয়ে গেছে, আমার পাপা তো আমাকে খাইয়ে দেয় না।”
মুহূর্তেই বুকের ভেতরে মোচড় দিয়ে উঠল অপরূপার। অস্থির হয়ে তাকাল পাশের টেবিলে। পরপর মেয়ের দিকে তাকিয়ে গালে হাত দিল। অস্থির স্বরে বললল,
“এভাবে কেন বলছো, আম্মু? মাম্মা আছি না? মাম্মা তোমাকে খাইয়ে দেয় না?”
“দেয় তো। কিন্তু পাপা তো দেয় না। পাপা কুব পঁচা, সে পিহুকে এত্তুও ভালোবাসে না। তাই তো পিহুকে ছেড়ে স্টার হয়ে গিয়েছে।”
অপরূপার বুকের ভেতরটা যেন ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। বুক ভারি হলো। বড্ড কান্না পেল মেয়ের মলিন মুখটা দেখে। নিজেকে সামলে নিয়ে চুমু খেল পিহুর ফোলা ফোলা গালে। গালে হাত রেখে সোজা করে বসাল,
“মাম্মা আছে না? কেন মন খারাপ করছো? পিহু মন খারাপ করলে যে তার মাম্মারো মন খারাপ হয়, সে কথা কি পিহু জানে না?”
পিহু বুঝল। দ্রুত উপর নিচ মাথা দুলাল। গাল ভরর হাসলো মুহূর্তেই। বলল,
“পিহু মন খারাপ করেনি তো। এই যে পিহু স্মাইল করছে।”
অপরূপা ছোট্ট শ্বাস ফেলল। মেয়ের মুখটা দেখে হাসলো সে। এই তিনটা বছরে সৈকত একটা বারের জন্যেও খোঁজ নেয়নি পিহুর। নিজের সন্তানের জন্যেও তার মন পুড়েনি। এতে অবশ্য অপরূপার জন্যেই ভালো হয়েছে। সে পিহুকে বলেছে তার বাবা নেই, সে স্টার হয়ে গিয়েছে। পিহুও এটাই জানে, মানে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল অপরূপা। খাবার আসতে একটু সময় লাগল। ততক্ষণে পিহু আবারো প্রশ্নের বন্যা বইয়ে দিল।
“মাম্মা, আমরা কি কাল আবার পার্কে আসবো?”
অপরূপা ছোট্ট করে জবাব দিল,
“দেখা যাবে।”
“আমি কি সবসময় তোমার অপিসে যাব?”
“না, তুমি তো স্কুলেও যাবে পরে।”
পিহু গাল ফোলাল। দু’দিকে মাথা দুলিয়ে বলল,
“পিহু স্কুলে যাবে না!”
ভ্রু কুঁচকে নিল অপরূপা। জিজ্ঞেস করল,
“কেন?”
“স্কুল পঁচা।”
“কেন পঁচা?”
“এমনি এমনি।”
“এমনি এমনি আবার পঁচা হয়?”
“হয় তো।”
অপরূপা হেসে ফেলল। বলল,
“পড়াশোনা না করলে বড় হবে কেমন করে?”
পিহু কিছুক্ষণ চুপ রইল। ভাবল সে। পরপর জবাব দিল,
“আমি অনেক বেশি বেশি ভাত খাব। তাহলেই বড় হবো।”
অপরূপা কথা বাড়াল না। খাবার এলো। পিহু নুডলস দেখে খুশি হয়ে গেল। নিজেই চামচটা হাতে তুলে নিয়ে বলল,
“ইয়াই! পিহুর ফেবরেট!”
অপরূপা তাকিয়ে রইল মেয়ের দিকে। ছোট ছোট হাত দিয়ে চামচ ধরেছে। অপরূপা নিজেই চামচটা হাতে নিল। খাইয়ে দিল মেয়েকে। নিজেও খাবার শেষ করল। খাওয়া শেষে বিল মিটিয়ে বাইরে এলো। আসার পথে স্ট্যান্ডের দিকে একটা গ্রোসারি স্টোর দেখেছিল অপরূপা। এখান থেকে রিকশা নিলে পাঁচ মিনিটের পথ। অপরূপা সময় নষ্ট না করে রিকশায় চেপে বসল। পিহুকে বসাল পাশে। মিনিট পাঁচেকের মাঝেই তারা চলে এৰ গন্তব্যে। অপরূপা পিহুকে নিয়ে গ্রোসারি স্টোরে ঢুকল। নতুন বাসা, অনেক কিছুই তো লাগবে। আপাতত রাতের রান্নার জন্য টুকটাক যা লাগে নিতে হবে। সামনে তো আর পাঁচদিন আছেই। এর মাঝে সবটা গোছগাছ করে নিতে পারবে। ভেতরে ঢুকে অপরূপা একটা ক্যান্ডি তুলে দিল পিহুর হাতে,
“এইটা খাও, আর আমার সাথে সাথে থাকবে। কোথাও যাবে না একদম।”
পিহু মাথা নেড়ে বলল,
“আচ্চা।”
অপরূপা তখন চাল, ডাল, তেল এসব দেখতে ব্যস্ত হলো। পিহু মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্টোরের জিনিসপত্র দেখছে। এমন সময় স্টোরের দরজা ঠেলে ঢুকল একজন ব্যক্তি। পরনে তার কালো লেদার জ্যাকেট, কালো জিন্স। মাথায় এল-এস-টু চ্যালেঞ্জার জি-টি ম্যাট ব্ল্যাক হেলমেট, হাতে কালো গ্লাভস। লোকটার শুধু চোখ দুটোই দেখা যাচ্ছে। সে সরাসরি গিয়ে দাঁড়াল সিগারেটের কাউন্টারের সামনে। অপরূপা এগিয়ে গিয়েছে। তবে পিহু দেখতে দেখতে লোকটা দাঁড়িয়ে থাকা সারিতে এসে থামল। দূর থেকে তাকাল সামনে। তার ছোট্ট মাথায় ওগুলো দেখতে একেবারে চকোলেটের প্যাকেটের মতো লাগল। বিশেষ করে স্ট্রবেরি ফ্লেভারের একটা প্যাকেট। অপরূপা ব্যস্ত বলে কিছু না বলেই থেকে সরে এসে সে লোকটার কাছে দাঁড়াল। ছোট্ট আঙুল দিয়ে লোকটার কোমরে খোঁচা দিল। লোকটা তখন সিগারেটের প্যাকেট গুলো দেখছে। এগুলো ইমপোর্টেটড ব্র্যান্ডের সিগারেট। আচমকা কোমরে খোুচা পড়তেই সে একটু চমকে নিচে তাকাল। দেখল একটা ছোট্ট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে তারই দিকে। পিহুও দেখল লোকটাকে। লোকটার চোখ দুটো সবুজ অরণ্যের ন্যায় গভীর, আকর্ষণীয়। পিহু চোখ পিটপিট করে নির্ভয়ে বলল,
“আমাকে ওইযে স্ট্রোবেরি চকলেটটা এত্তু দেবে?”
লোকটা ভ্রু কুঁচকে উপরে তাকাল ইশারা অনুযায়ী। বুঝতে চেষ্টা করল বাচ্চা মেয়েটা আসলে কী চাচ্ছে। তারপর দেখল সে আসলে সিগারেটের প্যাকেটটার দিকে ইশারা করছে। লোকটা হাতে থাকা সিগারেটটা নামিয়ে রাখল। নিচে বসে পড়ল পিহুর সামনে। গ্লাভস পরিহিত হাতটা উঠিয়ে হেলমেটটা ঠিক করল। বলল,
“এগুলো চকলেট না।”
পিহু কপাল কুঁচকে নিল। এক পলক ইপরে তাকিয়ে আবারো তাকালো লোকটার দিকে। প্রশ্ন করল,
“তবে কী?”
লোকটা একটু থেমে গেল। কীভাবে বোঝাবে এবার? কিছু সময় চুপ করে থেকে শেষমেশ বলল,
“এগুলো বাজে জিনিস।”
“বাজে জিনিস কী?”
লোকটা এবার একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল। তবুও বলল,
“এগুলো সিগারেট।”
পিহু শব্দটা চিনতে পারল। তার মামাও খেত। মামনি বেশ বকত তখন। তার মাম্মাও বলেছে সিগারেট বাজে জিনিস। ওসব খেলে অসুখ হয়। পিহু হুট করেই গোল গোল চোখ করে জিজ্ঞেস করল,
“তুমিও সিগু খাও?”
লোকটা কপাল কুঁচকাল,
“সিগু?”
পিহু আঙুল দিয়ে সিগারেট দেখাল। লোকটা এবার হেসে ফেলল। তবে সেই ক্ষীণ হাসির রেখা ফুটল চোখের ভজে। বলল,
“ওটা সিগারেট। আর হ্যাঁ, খাই।”
পিহু গম্ভীর মুখে বলল,
“এগুলো খারাপ। সিগু খেলে অসুখ করে।”
“আচ্ছা?”
পিহু উপর-নিচ মাথা দুলাল। বলল,
“হুঁ। ওসব খেও না।”
লোকটা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বলে পিহুর দিকে। সময় নিয়ে বলল,
“মাঝে মাঝে একটু খেতে হয়।”
“এত্তু এত্তুও খেতে হয়না। ওসব ব্যাডিরা খায়।”
পিহুর তৎক্ষনাৎ এহেন জবাব শুনে শব্দ করেই হেসে উঠল লোকটা। সবুজ রাঙা চোখ দুটো উজ্জ্বল হলো। বিস্ময় নিয়ে তা দেখর পিহু। লোকটা হাত রাখল পিহুর গালে,
“ইয়্যু’র রাইট, কিটেন। আই’ম দ্য ব্যাড ওয়ান।”
পিহু বুঝল না। অবুঝ চিত্তে তাকিয়ে রইর কেবল। তা দেখে লোকটা জিজ্ঞেস করল,
“হোয়াট’স ইয়্যুর নেম, লিটেল কিটেন?”
পিহু দু’দিকে মাথা দুলাল। জবাব দিল,
“আমি কিটেন না, আমি পিহু।”
“আচ্ছা? কিন্তু আমার তো তোমাকে কিটেন-ই মনে হয়?”
পিহু কৌতুহলী হলো। শুধালো,
“কেন? কেন?”
লোকটা আঙুল তুলে মৃদু টোকা দিল পিহুর কপালে। জবাব দিল,
“বিকজ ইয়্যু লুক জাস্ট লাইক দ্য কিউটেস্ট লিটেল কিটেন।”
পিহু খিল খিল করে হেসে উঠল। ছোট্ট ছোট্ট দাঁত গুলো দৃশ্যমান হলো। লোকটা আশে পাশে নজর ঘুরালো। কাউকে দেখতে না পেয়ে আবারো জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কার সাথে এসেছো?”
“মাম্মার সাথে।”
“কোথায় তোমার মাম্মা?”
পিহু চারদিকে তাকিয়ে বলল,
“ওইখানে শপিং করছে।”
“উমম। মাম্মাকে বলে এসেছ? সে চিন্তা করবে না?”
পিহুর মুখটা মলিন হলো। বলল,
“না তো, বলিনি তো।”
লোকটা হাত রাখল পিহুর গালে। পরপর বাইকের চাবিটা বের করল পকেট থেকে। সেখানে সিলভার প্লেটের একটি কাস্টমাইজড বাইকের আকৃতির কিরিং। সেটা খুলে লোকটা এগিয়ে দিল পিহুর দিকে।
“এটা তোমার জন্য।”
পিহু এক পলক লোকটার হাতের দিকে তাকাল, তারপর আবারো চোখের দিকে। বলল,
“না না, আমি নেব না।”
“কেন নেবে না?”
“মাম্মা বকবে।”
“কেন বকবে?”
“তুমি তো অপরিচিত। মাম্মা বলেছে অপরিচিত কারো থেকে কিছু না নিতে।”
লোকটা হাসলো৷
“আচ্ছা?”
পিহু উপর-নিচ মাথা দুলাল। লোকটা পিহুর ছোট্ট হাতটা তুলে জিনিসটা হাতে দিল। বলল,
“তো পরিচিত হতে কী করতে হবে, লিটেন কিটেন?”
পিহু গাল ভরে হাসলো। বলল,
“ফ্রেন্ড হতে হবে।”
লোকটা চোখ টিপে হাত বাড়িয়ে দিল। মুখে বলল,
“ওয়েল, ইয়্যুর কন্ডিশন ইজ অ্যাকসেপ্টেড।”
পিহু হাসি মুখে নিজের হাত বাড়িয়ে দিল। হ্যান্ডসেক করল দুজনে। পিহু আধোস্বরে বলে উঠল,
“নাও, উইআর ফ্রেন্ডস।”
লোকটা কিছু বলতে নেবে ঠিক তখনই কর্কশ শব্দে ফোন বেজে উঠল তার। সে উঠে দাঁড়াল। পিহুর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে বলল,
“আজ বরং যাই। আবার কখনো দেখা হবে।”
কথাটা বলেই ঘুরে হাঁটা ধরল লোকটি। পেছন থেকে পিহু ডাকল,
“এই! তোমার নাম কী?”
লোকটা থামল। ঘাড় বাঁকিয়ে একপলক তাকাল পিহুর দিকে। চোখে অদ্ভুত এক হাসি। গভীর স্বরে বলল,
“আভিয়ান, আভি বা ভি তুমি যে নামে ডাকতে পছন্দ করবে সেটাই।”
পিহু খুশি হলো। তবে নামটা উচ্চারণ করতে পারল না। তাই বলল,
“এত কতিন নাম কেন তোমার?”
আভিয়ান হালকা হেসে বলল,
“তবে সহজ নামে ডাকো।”
পিহুকে ভাবুক দেখাল। কিছুক্ষণ ভেবে জবাব দিল, “আমি তোমায় ইয়ান বলে ডাকি?”
আভিয়ান এ পর্যায়েও হেসেই জবাব দিল,
“এজ ইয়্যুর উইশ, মাই লিটেল কিটেন।”
“তুমি আবার দেকা করবে তো আমার সাথে, ইয়ান?”
আভিয়ান হেলমেটের গ্লাসটা নামিয়ে নিল। জবাব দিল,
“লিটেল কিটেন যদি চায়, দেখা তো করতেই হবে।”
পিহুকে চিন্তিত দেখাল। প্রশ্ন করল,
“কবে?”
“হয়তো একটু দেরিতে, বা খুব শীঘ্রই। টেক কেয়ার, কিটেন। গো ব্যাক টু ইয়্যুর মম।”
অতঃপর আর একমুহূর্ত সময় নষ্ট করল না আভিয়ান। পকেটে হাত গুঁজে বেরিয়ে গেল শপ থেকে। পিহু তাকিয়ে দেখল আভিয়ানের যাওয়া। পরপর তাকাল নিজের হাতের দিকে। বাইকটা অনেক সুন্দর। ঠিক তখনই অপরূপা দৌড়ে এসে পিহুকে জড়িয়ে ধরল। অস্থির হয়ে উঠেছে সে।
“পিহু! তুমি এখানে কেন? আমি কত খুঁজছিলাম!”
তার কণ্ঠে স্পষ্ট দুশ্চিন্তা। পিহু একটু ভয় পেয়ে বলল,
“আমি… আমি চকলেত নিতে এসেছিলাম…”
“না বলে এভাবে আসো কেন?”
পিহু মাথা নিচু করে বলল, “সরি।”
অপরূপা হাঁটু গেড়ে বসল। পিহুর মুখটা ধরে বলল,
“কখনো একা একা কোথাও যাবে না। আমি না থাকলে ডাকবে, ঠিক আছে?”
পিহু মাথা নাড়ল। মুখে বলল,
“আচ্চা।”
অপরূপা জড়িয়ে ধরল পিহুকে। বুকটা ধুকপুক করছে তার।
“পিহু ছাড়া তার মাম্মার যে আর কেউ নেই, মাম্মার যে বড্ড ভয় হয় তার পিহুকে হারিয়ে ফেলার।”
পিহু নিজেও ছোট ছোট হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল। চুমু খেল অপরূপার পালে। আদর করে দিয়ে বলল,
“পিহু মাম্মাকে ছেড়ে কেন হারাবে? পিহু তো মাম্মাকে ছাড়া একদম থাকতে পারে না।”
“পিহুর মাম্মাও পিহুকে ছাড়া থাকতে পারে না।”
পিহু ছাড়ল অপরূপাকে। হঠাৎ খুশি হয়ে বলল,
“মাম্মা, জানো? পিহুর নতুন ফ্রেন্ড হয়েছে!”
অপরূপা একটু অবাক, “ফ্রেন্ড?”
“হ্যাঁ! ওর নাম ইয়ান!”
“ইয়ান?”
“হুঁ!”
অপরূপা একটু থমকাল। চারদিকে তাকাল। কিন্তু কাউকেই তো দেখল না। সে পিহুকে বুকে টেনে নিল।
“কোনো ফ্রেন্ডের দরকার নেই। মাম্মাকে না বলে কোথাও যাবে না।”
“যাব না তো।”
“একটুও যাবে না।”
“এত্তুও যাব না।”
অপরূপা মেয়ের মুখে কয়েকটা চুমু খেল। তুলে নিল কোলে। সাথে বাজারের ট্রলিটা অন্যহাতে এগিয়ে নিয়ে গেল কাউন্টারের দিকে। যেতে যেতে পিহুকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“মাম্মাকে আর টেনশন দিও না, সোনা।”
_______
#চলবে

