#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ৮
#লেখনীতে_তানিয়া
” কেনো তুমি আমাকে ভালোবাসলে না? কেনো তুমি বুঝলে না আমি তোমাকে ভালোবাসি। নিজের চোখের সামনে তোমাকে অন্যের হতে দেখা আমার জন্য কতটা কষ্টের তুমি যদি জানতে? তুমি কোনোদিনও জানলেই না একটা মেয়ে ছিলো যে তোমাকে সেই ছোটবেলা থেকে ভালোবাসতো। যখন সে ভালোবাসা কি জিনিস বুঝার মতো বয়সে ছিলো না তখন থেকে সে তোমাকে ভালোবাসতো। তুমি কখনো জানবে না। কখনো না”।
নিজের ভালোবাসার মানুষকে অন্য কোনো নারীর হাত ধরে দেখার মতো নিদারুণ সূক্ষ্ণ যন্ত্রণা হয়তো দুনিয়াতে আর দ্বিতীয়টা নেই। যাকে ছোটবেলা থেকে মন প্রান উজার করে ভালোবেসে এসেছে সেই মানুষটি যখন দুনিয়াতে অন্য কাউকে ভালোবাসি বলে দাবি করে এটার যে বোঝা সেটা নিজের বুকের মধ্যে কয়েকটন পাথরের চেয়েও বেশি। এই পাথর চাপা বোঝা নিজের বুকের মধ্য পাচঁটা বছর ধরে একা বয়ে বেড়াচ্ছে জাফরিন। কাউকে কিছু না বলে বুঝতে না দিয়ে যে নিজের পরিবার আর দেশ ছেড়েছিলো শুধু এজন্য যে যাতে নিজের ভালোবাসার পুরুষকে অন্য নারীর সঙ্গে দেখতে না হয় কিন্তু নিয়তির কি খেলা! জাফরিনকে আবারও সেই পুরুষের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে যার থেকে সে দূরে থাকতে চায়। পালিয়ে বাঁচতে যায়। জাফরিন চৌধুরি বাবা মায়ের ছোট কন্যা। ছোট বেলা থেকেই সবার আদরের সে। শান্তশিষ্ট, নম্র এবং ভদ্র স্বভাবের মেয়ে জাফরিন। গায়ের রং দুধে আলতা মেশানো সাদা বর্ণ। জাফরিন তার নানীর মতো গায়ের গড়ন পেয়েছে। তার নানী সুন্দরী মহিলা ছিলেন। পড়ালেখাতেও জাফরিন ছোটবেলা থেকেই অনেক ভালো। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে রাজশাহী ভার্সিটিতে আইন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছে সে। বড় মেয়ে জামাইসহ বিদেশে থাকে তাই জাফরিনের মা চাননি ছোটটাকে নিজের থেকে দূরে রাখতে। তাই পড়াশোনা বাড়ি থেকেই করতে হয়েছে মেয়েকে।
ভার্সিটিতে শেষ পরীক্ষা ছিলো সেদিন জাফরিনের। প্রায় এক মাসেরও বেশি এই পরীক্ষা আর পড়াশোনা নিয়ে সে অনেক ব্যস্ত ছিলো। আজকে থেকে পরীক্ষা শেষ। এখন শুধু থিসিস সাবমিশন এরপর ডিফেন্স তাহলেই জান ছোটে জাফরিনের। সবে মাত্র ভার্সিটিতে থেকে বাড়ি ফিরেছে। নিজেদের ফ্ল্যাটেও ঢোকেনি। ক্লান্ত মেয়েটার কাঁধে এখনো ব্যাগ ঝুলছে। নিয়াজদের ফ্ল্যাটের মেইন গেইটটা খোলা দেখতে পেলো সে। আর অনেক মানুষের গলার আওয়াজ। জাফরিন ধীর পায়ে ঘরের মধ্য ঢুকলো। বসার ঘরে গিয়ে যা দেখতে পেলো তাতে মনে হলো তার পায়ের নিচে মাটি সরে যাচ্ছে। বুকের মধ্য কেউ হাতুড়ি চালিয়ে খন্ড বিখন্ড করে দিচ্ছে। মাথাটা আরও বেশি ফাঁকা মনে হলো যখন সে দেখলো তারই ভালোবাসার মানুষ অন্য একটা নারীর পাশে হাত ধরে বসে আছে। জাফরিনের মনে হচ্ছে সে শরীরের ভারসাম্য হারাচ্ছে। চোখ বন্ধ হয়ে আসছে তার। ঠিক এমন সময় তার মা ডেকে উঠলো,
” জাফরিন ”
জাফরিন হুশে ফেরে। অনেক কষ্টে নিজেকে টেনে টিনে দাঁড় করায়। চোখে মুখ তার ক্লান্ত আর শুকনো। সেই সকালে একটা পাউরুটি আর এক গ্লাস পানি খেয়ে বেড়িয়েছিলো পরীক্ষা দিতে৷সারাদিন আর কিছু খাওয়া হয়নি। জাফরিনের মা আবারও ডাকে,
” জাফরিন কখন এসেছিস মা?
জাফরিন শুকনো হাসি দিয়ে বলে,
” মাত্র আসলাম। এই বাড়িতে এতো মানুষ কেনো মা? কোনো কিছু হচ্ছে নাকি? নিয়াজ ভাইয়ার পাশে মেয়েটা কে”?
জাফরিনের মা হেসে উত্তর করে,
” নিয়াজের হবু বউ। নেয়েটার নাম তুরফা। তারা একই মেডিকেল কলেজেই পড়তো। দুজন দুজনকে ভালোবাসে। তাই আজকে দুই পরিবার বসেছে পাকা কথা বলার জন্য”।
কথাগুলো যেনো তীরের মতো বুকে বিধঁলো জাফরিনের। দুজন দুজনকে ভালোবাসে এই কথা শোনার আগে কেনো সে অদৃষ্য হয়ে গেলো না? নয়তো মাটি দুভাগ হয়ে যেতো আর সে জীবন্ত সেখানে ঢুকে যেতো। জাফরিন নিয়াজকে ভালোবাসে। এই ভালোবাসা আবেগ বা মোহ থেকে নয়। বয়সের কারনেও নয়। একটা না বলা এক পাক্ষিক ভালোবাসা। সেই ছোটবেলা থেকেই সে নিয়াজকে ভালোবাসে। নিয়াজ জাফরিনকে খুব স্নেহ করে। তার খেয়াল রাখে। যে কোনো কিছুর জন্য আবদার করলে সেটা পূরন করে। বোকা জাফরিন কতদিন ভেবেছে সে নিয়াজকে বলে দিবে। ভেবেছিলো পরীক্ষাটা শেষ হলেই নিয়াজকে মনের কথা জানাবে। একটা বড় সারপ্রাইজ দিবে সে তার ভালোবাসার মানুষকে। সে নিজে যে এতো বড় সারপ্রাইজ পাবে কল্পনাতেও ভাবেনি। যাকে ছোট থেকেই মনে মনে বর ভেবে এসেছে তার পাশে আজকে অন্য নারী বসে আছে বউ হবে বলে। জাফরিনের মা আবারও ডাকে
” কিরে কোন খেয়ালে ডুবে আছিস? তোর মুখ শুকনো লাগছে। খিদে পেয়েছে খুব? শরীর ঠিক আছে? হাত মুখ ধুয়ে আয়। খাবার দিচ্ছি আমি।
জাফরিন বলে,
” খুব ক্লান্ত লাগছে মা। আমি ঘরে যাবো। কয়েকদিন পরীক্ষার কারনে একদমই ঘুম হয়নি। আমি একটু ঘুমাবো। ঘুম থেকে উঠে খাবো। আমি যাচ্ছি এখন “।
জাফরিনের মা মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো। মেয়ে যা বুঝালো তাই বুঝলো। সত্যিই ভাবলো পরীক্ষার চাপের জন্য মেয়ে ক্লান্ত হয়ে আছে। তাই বেশি কিছু বলে আর ঘাঁটালোনা মেয়েকে অথচ কেউই বুঝলো না জাফরিন নিজের মধ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। সে জানেও না পরবর্তী সময়ে কিভাবে সামলাবে নিজেকে। জাফরিন কোনোরকমে নিজের ঘর অবধি পৌঁছালো। এসেই দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে ধপ করে মেঝেতে বিধ্বস্ত হয়ে বসে পড়লো সে। আর সে নিজেকে আটকাতে পারলো না। ডুকরে কেদেঁ উঠলো। হৃদয় ভাঙার আওয়াজ যদি কেউ শুনতে পেতো তাহলে হয়তো দুনিয়াতে কেউ কারো ভুলেও হৃদয় ভাঙার সাহস করতো না। জাফরিন কাঁদতে কাঁদতে নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি খুইয়ে বিধ্বস্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে রইলো। শক্তিহীন শরীরের ক্লান্তিতে কখন যে ওভাবেই ঘুমিয়ে গেছে সে জানেনা। দরজায় প্রচন্ড প্রচন্ড ধাক্কার আওয়াজে তার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভাঙলে সে নিজেকে মেঝেতেই দেখতে পায়। ঘরটা অন্ধকার হয়ে আছে। এদিকে কেউ এতো জোরে দরজা ধাকাচ্ছে মনে হয় এখনই দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকবে। সারাদিন না খাওয়া আর কাঁদার জন্য মাথা ব্যাথা করছে তার। মাথাটা ঘুরছেও। কোনো রকমে উঠে ঘরের লাইট অন করলো সে। তারপর গায়ের ওড়নাটা মেঝে থেকে তুলে দরজা খুললো। দরজা খুলতেই যাকে দেখতে পেলো তাতে তার বুক ভেঙে আসলো আবার। দরজায় আর কেউ নয় নিয়াজ দাঁড়িয়ে আছে। জাফরিনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই নিয়াজ বললো,
” যাক বেচেঁ আছিস তাহলে। সবারতো একদম কলিজার পানি শুকায় ফেলছিলি। এরকম কুম্ভকর্ণের মতো কে ঘুমায় জাফরিন? তুই জানিস কতটা ভ’য় পেয়েছিলাম আমরা সবাই? আর চোখ মুখের কি হাল করেছিস? এই কি অবস্থা তোর? কি হয়েছে? শরীর ঠিক আছে? জ্বর টর এসেছে নাকি?
নিয়াজ জাফরিনের কপালে হাত রাখলো। সত্যিই গা গরম মেয়েটার। বেশ জ্বর এসেছে। এতো ধকলের মধ্য সে বুঝতে পারেনি। জাফরিন শুকনো গলায় বললো,
“তেমন কিছু না। ভার্সিটিতে আজকে শেষ পরীক্ষা ছিলো। কয়েকদিন অনেক প্রেশার গেছে। তাই বাড়ি ফিরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম “।
নিয়াজ রাগত স্বরেই বললো,
” তেমন কিছু না বলতে বলতেই গায়ে জ্বর আসছে তোর। প্রতিবার পরীক্ষা আসলেই তোর এই হাল হয়। আমি আজও এই থিওরি বুঝলাম না। তুইতো বরাবরই পড়ালেখায় ভালো। তাহলে পরীক্ষা আসলে তোর এই হাল হয় কেনো? একেবারে জ্বর বাধিঁয়ে নাজেহাল হয়ে যাস”।
জাফরিন মনে মনে বললো,
” এই জ্বর পরীক্ষার জন্য আসেনি। এসেছে নিজের ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলার জন্য।হৃদয় ভাঙার জন্য। আফসোস তুমি কখনো জানতেও পারবে না আমি তোমাকে ভালোবেসে ভেঙেচূরে টুকরো টুকরো হয়ে গেছি”।
জাফরিনের মন চাইলো চিৎকার করে কথাগুলো নিয়াজকে বলতে কিন্তু পারলো না। গলায় বেধেঁ গেলো। কান্নারা দলা পাকিয়ে আসলো। বুকে ব্যাথা করছে। হাসফাস লাগছে। কোনোরকমে বললো,
” তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনলাম। কখনোতো বলোনি কাউকে ভালোবাসতে? কবে থেকে ভালোবাসো তোমরা একে অপরকে?
নিয়াজ শব্দ করে হেসে উঠলো। তারপর বললো,
” সে অনেক কাহিনি। একটা নাটকের চেয়েও নাটকীয় কাহিনী। কিভাবে যে কি হলো আমার কাছেই অবিশ্বাস্য লাগছে এখনো। তোর ভাবিকে পছন্দ হয়েছে? মানিয়েছে আমার সাথে”?
জাফরিন নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলো। কোনো রকমে বললো,
” দুজনকে বেশ মানিয়েছে”।
নিয়াজ টেবিল থেকে মিষ্টির প্যাকেট খুলে একটা মিষ্টি বের কতে জাফরিনকে খাইয়ে দিতে দিতে বললো,
” আপাতত আংটি পড়ানো হয়েছে। বিয়ের ডেইট ফিক্সড হয়নি৷ ওর ইন্টার্নশীপ শেষ হতে আরও তিন মাস বাকি। তারপর বিয়ে হবে। নে মিষ্টিমুখ কর। বিয়ের সব কাজ কিন্তু তোকেই সামলাতে হবে আগাম বলে দিচ্ছি। কোনো অযুহাত চাইনা। বউয়ের শপিং থেকে শুরু ঘর সাজানো তোর দায়িত্ব সব। তোকে ছাড়া আর কাউকে ভরসা করতে পারছি না”।
জাফরিন যেনো শক্ত পাথরের ন্যায় হয়ে গেলো। মুখের মধ্য থাকা
মিষ্টিটা বি”ষের মতো লাগছে তার। যার বউ হওয়ার স্বপ্ন সে নিজে দেখেছিলো তার বিয়ের সমস্ত আয়োজন তাকে করতে হবে। যে ঘরে সে নিজে বউ সেজে যেতেবচেয়েছিলযেতে চেয়েছিল সেই ঘর তাকে অন্য নারীর জন্য সাজাতে হবে এইটা কেমন শা”স্তি শুনিয়ে দিলো নিয়াজ তাকে। কাউকে ভালোবাসার শা”স্তি এমন হবে জানলে সে কখনোই এই দুঃসাহস করতো না। কখনোই না। জাফরিন কোনো রকমে ঢোক গিললো। জ্বরের মুখে মিষ্টিটা তিতা হয়ে সবচেয়ে অখাদ্য তার কাছে এটাই লাগলো। গা গুলিয়ে বমি পেলো তার। ছুটে চলে গেলো বেসিনের দিকে। হরহর করে বমি করে ফেললো। শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছে। তারপর তার আর কিছু মনে নেই। যখন চোখ খুললো সকাল হয়ে গেছে। আশেপাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে। সে তার বাড়িতেই আছে। একটু উঠার চেষ্টা করতেই তার বাম হাতে টান পড়লো। খেয়াল করলো ক্যানোলা করা। স্যালাইন চলছে। ঠিক ওইসময়েই তার মা ঘরের ভেতরে এসে মেয়েকে জেগে থাকতে দেখে বললো
” কখন উঠলি মা? গতরাতে যে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি সবাইকে। আমিতো কিছুই বুঝে উঠতে পারতেছিলাম না। তোর বাবা ব্যবসার কাজে ঢাকায় গেছে । ওতো রাতে তুই জ্বরের ঘোরে অজ্ঞান হয়ে গেলি। কিভাবে কি করবো। ভাগ্যিস নিয়াজ ছিলো কাল বাসায়। তোর শরীর যে এতো খারাপ আগে বলিসনি কেনো মা? জ্ঞানই ফিরছিলো না। আমারতো ভ”য়ে অবস্থা খারাপ হয়ে গেছিলো। ছেলেটা না থাকলে কি হতো কে জানে “।
জাফরিন উদাস হয়ে বিরবির করে বললো
” মা তুমি যদি জানতে সেই ছেলের জন্যই তোমার মেয়ের এই অবস্থা তাহলে তুমি কখনোই তাকে আসতে দিতে না “।
জাফরিনের মা মেয়ের কথা কিছুই বুঝতে পারলো না। কিছু বলার আগেই নিয়াজ ঘরের দরজায় নক করে বললো,
” কিরে ঘুম থেকে উঠেছিস? এখন শরীর কেমন লাগছে?
নিয়াজ জাফরিনের কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বর আছে তবে অল্প। স্যালাইন শেষের দিকে। প্রেশার মেপে দেখলো এখন ঠিক আছে রাতের তুলনায়। রাতে বিপি কমে গেছিলো। নিয়াজ বললো,
” ব্লাড প্রেশার মোটামুটি ঠিক আছে এখন। জ্বর আছে অল্প। তবে শরীর দূর্বল। ঘুম আর বিশ্রাম প্রয়োজন। স্যালাইন শেষ হলে চাচী ওরে নরম কিছু খাইয়ে দিবেন। বিছানা থেকে যেনো না নামে দু চারদিন এটাও দেখা দরকার “।
জাফরিনের মা হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো। নিয়াজ জাফরিনকে বললো,
” কাল রাতে যে অবস্থা হয়েছিলো তোর সবার কত চিন্তা হচ্ছিলো জানিস? শরীর এতো খারাপ আগে বলবিনা”?
জাফরিন নিয়াজের দিকে তাকিয়ে দূর্বল গলায় বললো,
” বুঝিনি এতো দেরি হয়ে যাবে। যদি বুঝতাম তাহলে অনেক আগেই সাহস করে বলতাম “।
নিয়াজ বললো,
” কি বলছিস এসব? কি বলার সাহস করতি?
জাফরিন চমকে উঠে। নিজের দুঃখে বেতাল হয়ে গেছে সে। কোনোরকম সামলে নিয়ে বলে,
” কিছু না। আমার ঘুম পাচ্ছে। আবার একটু ঘুমাবো”।
জাফরিনের বিশ্রাম দরকার আসলেই৷ তাই তারা আর কথা বাড়ালো না। রুম থেকে চলে গেলো তারা। এদিকে জাফরিন চোখ বন্ধ করে শুধু ভাবছে একদিনেই এই অবস্থা। বাকি জীবন কিভাবে চোখের সামনে নিয়াজকে এভাবে অন্য কারো হতে দেখবে। সামনে ঘুরাঘুরি করতে দেখবে। এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ করে তার মনে হলো গতদিন পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্ধুরা বলছিলো তারা লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে যাবে৷ চিন্তা ভাবনা করছে। জাফরিন মনে মনে কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিলো। সে এখানে আর থাকবে না। দূরে চলে যাবে। সে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বললো,
” চলে যাবো। সবকিছু ছেড়ে দূরে চলে যাবো। অন্তত প্রতিদিন এভাবে ধুঁকে ধুঁকে শেষ হওয়ার চেয়ে দূরে চলে যাওয়া ভালো। এখানে থাকলে প্রতিদিন তাকে এই মানুষটাকে অন্য কারো সাথে দেখতে হবে সে এটা সহ্য করতে পারবে না”।
বহু বছর পর জাফরিন নিজের ঘরে শুয়ে আছে। আজকেও তার গা কাঁপিয়ে জ্বর এসেছে। গতরাতে বৃষ্টিতে ভেজার ফল এসব। আবহাওয়া স্যুট করেনি। সে বৃষ্টিতে ভেজে না এমন না। তবে দেশে অনেকদিন পর এসে বৃষ্টির পানিতে ভিজেছে সে। তাই জ্বর এসেছে। শুয়ে শুয়ে ফেলে যাওয়া সেই স্মৃতিগুলোই আবার আওড়াচ্ছিলো সে। তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। কেউ বললো,
“ভেতরে আসতে পারি “?
চলবে……………….

