Home "ধারাবাহিক গল্প তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-০৯

তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-০৯

0
484

#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ৯
#লেখনীতে_তানিয়া

“তোর নাকি খুব জ্বর এসেছে? গতকাল রাতে বৃষ্টিতে বেশি ভেজার ফল এগুলো। মাত্র দুদিন হলো দেশে ফিরেছিস। কত করে এতো বেশি বৃষ্টিতে ভিজিস না। আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। সিক হয়ে যাবি। দেখ মিলায়নে আমার কথা। কথায় বলে না গরিবের কথা বাসি হলে ফলে। এটাই হইছে। এখন থাক ঘরবন্দী হয়ে৷ দেখি একটু উঠে বসতো প্রেশারটা চেক করে দেখি। তোরতো আবার বিপি লো হয়ে যাওয়ার ধাঁত আছে”।

এক নাগারে কথাগুলো বলে থামলো নিয়াজ। সে সোজাসুজি তাকিয়ে আছে জাফরিন এর দিকে। মেয়েটার ফর্সা মুখ কয়েক ঘন্টার জ্বরে শুকিয়ে এতোটুকু হয়ে গেছে। চোখটা লালচে দেখাচ্ছে। এই ভ্যাপসা গরমেও কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা। জাফরিনও নিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে। পুরো অফিসের ফর্মাল লুকে এসেছে নিয়াজ। হাসপাতালে কাজে যাওয়ার আগে তাকে দেখতে এসেছে। এসব তার মায়ের কাজ। আগে থেকেই এই অভ্যাস। একটু জ্বর হলেই নিয়াজকে ডেকে নিয়ে আসে। জাফরিন শোয়া থেকে উঠার চেষ্টা করলো। বুঝতে পারলো পুরো শরীরে ব্যাথা। মাথা ঘুরে উঠছে। উঠার চেষ্টা করেও পারলো না। ধপ করে আবার শুয়ে পড়লো। এটা দেখে নিয়াজ বললো,

” বডি পেইন হচ্ছে? হেডেক আছে?

জাফরিন হ্যা সূচক মাথা নাড়ায়। তারপর বলে,

” আছে। মাথা ঘুরে উঠছে। ভারি ভারি লাগছে”।

নিয়াজ প্রেশার চেক করার জন্য জাফরিনের একটু কাছে গিয়ে বসে। ডান হাত এগিয়ে দিতে বলে জাফরিনকে। জাফরিন অসুস্থ শরীরে অন্য কোনো দিক ভেবে খেয়ালও করেনি। হাতটা এগিয়ে দেয়। নিয়াজ হাতে প্রেশার মাপার জন্য বিপি মেশিনটা সেট করতেই অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করে জাফরিনের হাতে। কবজির নিচের অংশে মেয়েরা যেখানে চুরি পড়ে সাধারণত সেখানে পরপর অনেকগুলো দাগ। দাগগুলো সব স্পষ্ট। সেগুলো সাধারণ কিছু দাগ বলে মনে হচ্ছে না তার। জাফরিন চোখ বন্ধ করে আছে। নিয়াজ ভালো করে মনোযোগ দিয়ে দেখলো। এরকম দাগ তখনই হয় যখন কেউ নিজেই নিজের ক্ষ”তি করার কথা ভাবে। নিয়াজ জাফরিনের দিকে তাকালো। মেয়েটা কেনো এরকম কিছু করবে? কি অশান্তি ওর মধ্য চলছে? কি দুঃখ ওর? কিসের জন্য এই অবস্থা? নিয়াজ এখনই জাফরিনকে প্রশ্ন করবে না। এখন প্রশ্ন করলে হাইপার হয়ে যাবে। আগে সুস্থ হোক। মাথায় নিলো বিষয়টা। প্রেশার চেক করে দেখলো। বিপি লো আছে কিছুটা। নিয়াজ নিজেকে শক্ত করে জাফরিনকে বললো,

“একটু হা করতো দেখি। থার্মোমিটারে জ্বর মাপতে হবে। এইটা কিছুক্ষন মুখের ভেতরে নিয়ে থাক। গাতো বেশ গরম। জ্বর ভালোই আছে”।

মিনিট দুই তিন পর নিয়াজ থার্মোমিটার চেক করে দেখলো জ্বর ১০২°। নিয়াজ কপালে ভাঁজ পড়লো। হঠাৎ করে এতো জ্বর এসে গেছে। এরই মধ্য জাফরিনের মা আসলো ঘরে। হাতে করে চা নাস্তার ট্রে নিয়ে। ট্রে টা বেড সাইডের এক পাশে রেখে বললো,

” কি অবস্থা নিয়াজ? ওর জ্বর কেমন দেখলি বাবা? কি একটা অবস্থা এসে সারতে পারলো না জ্বর বাধিয়ে ফেললো। চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছে না। মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে এক রাতে “।

নিয়াজ বিপি মেশিনটা গোছাতে গোছাতে বললো,

” আবহাওয়া চেইঞ্জ হচ্ছেতো। বিদেশের আবহাওয়াতে এতোদিন ছিলো এখন হঠাৎ করে আরেক আবহাওয়াতে আসছে এজন্য স্যুট করেনি। ওষুধ দিচ্ছি। প্রেশারটাও লো আছে। একটা ডিম সিদ্ধ সাথে অল্প কিছু খাবার খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খেয়ে কিছুক্ষন ঘুমালে আরাম লাগবে। একটু সময় লাগবে জ্বর ছাড়তে”।

জাফরিনের মা বললো,

” ডিম সিদ্ধ!!! ও তো খালি ডিম সিদ্ধ খায় না। ভর্তা করে দিলে যেটুকু খায় “।

জাফরিন বললো,

“এতো ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। সামান্য জ্বর আসছে। সেরে যাবে”।

নিয়াজ তার চাচীর দিকে তাকিয়ে বললো,

” তুমি নিয়ে আসো ছোটমা। অসুখ হয়েছে খেতেই হবে। আমি বলছি ও খাবে। তুমি নিয়ে আসো। আমি দেখছি কেমনে না খায়”।

জাফরিন বললো,

” আমি ডিম সিদ্ধ খাবো না। কেমন আশঁটে গন্ধ লাগে। বমি পায় “।

নিয়াজ বললো,

” কিছু করার নেই আজকে খেতে হবে। নাক বন্ধ করে খেয়ে ফেলবি”।

নিয়াজ নাস্তার ট্রেটা হাতে নিলো। পরোটা, আলু ভাজি আর দেশি মুরগির ঝাল ঝাল করে রান্না করেছে ওর চাচী। চাচীর হাতের এই দেশি মুরগির ঝাল রান্নাটা নিয়াজের অনেক পছন্দ।জাফরিনেরও পছন্দ। বলতে গেলে জাফরিন আর নিয়াজের মধ্য খাবারের পছন্দগুলো মিল আছে। এক সাথে বড় হয়েছে। জাফরিন নিয়াজের প্রতি এতো দূর্বল ছিলো যে ওর সব পছন্দ অপছন্দ খেয়াল রাখতো। সেগুলো নিজের মধ্যেও ধারণ করতো। নিয়াজ পরোটা একটু ছিড়ে তরকারি মিশিয়ে জাফরিনের মুখের কাছে ধরে বলে

” হা কর। খেয়ে ওষুধ খেতে হবে “।

জাফরিন যেনো নিশ্চল পাথরের মতো হয়ে গেলো। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো নিয়াজের দিকে। বুকের মধ্যমনে হচ্ছে তীব্র গতিতে ঘোড়া ছুটছে। এসব কি হচ্ছে তার সাথে? এই মানুষটার সাথে জড়িয়ে থাকা সমস্ত কথা, স্মৃতি সবকিছু এখানেই শেষ কতে চলে গিয়েছিলো সেম আবার কেনো এগুলো তাকে ধাওয়া করছে? কি জন্য এই লোকটার মুখোমুখি তাকে হতে হচ্ছে? সে যত দূরে থাকতে যায় নিয়াজ কেন। বারবার তার সামনে আসে। না তার দেশে ফেরাটাই ভুল হয়েছে। উচিত হয়নি মায়ের কথায় কান দেওয়া। আবার সেই সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে সেই দুঃস্বপ্ন,অস্বস্তি, মানসিক চাপ সমস্ত কিছু একা বইতে হবে তাকে। জাফরিনকে অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো,

” কিরে কি ভাবছিস? নে হা কর। খাবারটা মুখে নে জাফরিন”।

জাফরিন বললো,

” আমি পরে খাবো। তুমি নাস্তা করো। এখন কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে কিছু খেলেই বমি হয়ে যাবে”।

নিয়াজ বললো,

” খেতে ইচ্ছে করছে না নাকি আমি খাইয়ে দিতে চাচ্ছি দেখে খাবি না? আমি খেয়াল করছি তুই আর আগের মতো আমার সাথে কথা বলিস না। আগে যেমন চোখে চোখ রেখে কথা বলতিস এখন আর বলিস না। কেমন যেনো এড়িয়ে যেতে চাস। কি হয়েছে বলতো?

জাফরিন চমকে উঠলো নিয়াজের কথা শুনে। মনে মনে বললো,

” এ রে বুঝতে পেরেছে। এখন এইসব প্রশ্নের জানা বাব কি দিবো? যা তা বলেও বুঝানো যাবে না। কিছু একটা বলে সামলাতে হবে এখনকার মতো”।

জাফরিন বললো,

” এমন কিছু না। জ্বর আমার হয়েছে আর ভুলভাল তুমি বকছো। দাও খাইয়ে দাও। ভালো লাগছে না। ওষুধ খেয়ে ঘুমাবো। চোখ মেলে থাকতে পারছি না বেশিক্ষণ “।

নিয়াজ আর কিছু বলার চেষ্টা করলো না। জাফরিনও চুপচাপ নাস্তা খেলো তার হাতে। এর মধ্য জাফরিনের মা ডিম সিদ্ধ দিয়ে গেছে। তা দেখেই জাফরিন নাক মুখ কুঁচকায়। নিয়াজ তরকারির ঝালের সাথে ডিমটা একটু মাখিয়ে নিয়ে ভেঙে ভেঙে খাওয়ায় জাফরিনকে। খাওয়ানোর পুরো সময়টা কিছুই বলেনি জাফরিন। নিয়াজ এরপর ওষুধ দিয়ে বিশ্রাম নিতে বলে কাজে চলে যায়। আর যাওয়ার আগে বলে যায় কিছু দরকার হলে ফোন করে জানাতে। জাফরিন হু হা করে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ে।

__________________

বর্ষাকাল মানেই নানারকম রোগ ব্যাধির সময়। ঠান্ডা, জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া সহ আরও অনেক রোগ নিয়ে প্রতিদিন সবাই হাসপাতালে আসে। নিয়াজ মূলত একজন শিশু বিশেষজ্ঞ। শিশুদের রোগ ব্যাধি নিয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ( MD _pediatrics), ডিপ্লোমা ( DCH) করেছে সে। এফ সি পি এস এর পড়াশোনাটা সে শুরু করতেই পারছে না। যখন শুরু করার কথা ছিলো তখনই সব এলোমেলো হয়ে গেলো। আর মন বসাতে পারছে না সে। যতবারই বই খাতা খুলে বসে ততবারই একটা অন্ধকার তাকে জেঁকে বসে । আর সব গুলিয়ে ফেলে সে। তুরফার সাথে কাগজে কলমে যেদিন বিচ্ছেদ হলো সেদিন সে বাচ্চাদের মতো ডুকরে কেঁদেছিলো। মুখে তিন তালাক উচ্চারণ করতে তার তেমন কষ্ট হয়নি। ঘোরের মধ্য ছিলো সে। কিন্তু ডিভোর্স পেপারে সাইন করার সময় হাত কাঁপছিলো তার। সেদিন সে শুধু নিজেকে একটাই প্রশ্ন করেছে একজন মানুষকে ভালোবাসাই কি তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল? তুরফার ব্যাপারে কোনো খোঁজ সে জানে না। আগ্রহও বোধ করে না। তবে নিয়াজ এখনো সেই ট্রমা থেকে বের হতে পারেনি। এখনো ঘুমাতে গেলে টিভিতে আসা সেই নিউজটা চোখে ভাসতে থাকে। নিজেকে ধিৎকার দেয় সে একটা সস্তা মনের মানুষকে সে মন প্রান উজার করে ভালোবেসেছিলো। হসপিটালের প্রচন্ড চাপ আজকে রোগীর কিন্তু নিয়াজের মন বসছে না কিছুতেই। গত ছয় মাসে এই প্রথম মনে হচ্ছে ডিউটি টাইম তাড়াতাড়ি শেষ করে সে বাড়ি ফিরবে। অতিরিক্ত কাজ নিবে না আজকে। আউটডোর রোগীর আজকে দেখার ডেইট নেই। হঠাৎ করে জাফরিনের কথা মনে হলো। মেয়েটার কিছুতো একটা হয়েছে। হাতের দাগগুলো স্বাভাবিক নয়। নিয়াজের মনে প্রশ্ন উঠে,

” জাফরিনকি কাউকে ভালোবাসে? সে কি ছেড়ে গেছে? তার জন্য সে নিজেকে কষ্ট দিয়েছে। বিদেশে ছিলো প্রায় পাচঁ বছর। হতেই পারে এমন। কিভাবে জানবে সে? মেয়েটা আগের মতো নেইও। অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। কথা বলতে চায়না সহজে। কিছুতো একটা বিষয় আছেই। কিন্তু কি?

ঘন্টা দুয়েক পর উশখুশ করতে করতে নিয়াজ জাফরিনকে ফোন দেয়। জাফরিন বিছানা ছেড়ে উঠেনি। জ্বরটা আপাতত কিছুটা কমলেও গায়ে প্রচন্ড ব্যাথা। উঠার শক্তিই পাচ্ছে না। উঠতে নিলেই মাথা ঘুরছে। প্রথমবার কল রিসিভ হলো না। দ্বিতীয়বার কল হতেই জাফরিন হাত হাতরে ফোন পেলো বালিশের নিচে। কে ফোন দিয়েছে তা না দেখেই রিসিভ করে সালাম দিলো। সালামের জবাব দেওয়া ব্যাক্তির কন্ঠ শুনেই কান থেকে ফোন নামিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকালো ফোনের দিকে। এই লোক হসপিটালে গিয়েও কল করেছে। সেতো কাজ করেই কূল পায়না। জাফরিন বললো,

” তুমি এ সময় কল করেছো? এখন না তোমার কাজের সময়”?

নিয়াজ বললো,

_ কেনো আমি কি কল করতে পারিনা তোকে? তোকে কল করা বারণ নাকি?

জাফরিন নিয়াজের ত্যাড়া উত্তর শুনে দমে গেলো কিছুটা। তবুও বললো,

“না তা না। আসলে হসপিটালে ডাক্তারদের কত কাজ থাকে রোগী দেখতে হয়। সময় পেলে কিভাবে তাই বলতে চাচ্ছিলাম “।

নিয়াজ বললো,

“ডাক্তাররাও মানুষ। রোগী আর হসপিটালের বাহিরে তাদেরও পরিবার আছে। ব্যক্তিগত জীবন আছে। আচ্ছা যাই হোক এটা বল জ্বর কমেছে তোর”?

জাফরিন বলে,

” তুমি সকালে চেক করে যাওয়ার পর আর দেখা হয়নি। তবে মনে হচ্ছে কমেছে”।

নিয়াজ কিছু একটা ভাবে। তারপর বলে,

” তোর গলাতো বেশ দুর্বল শোনাচ্ছে। কিছু খেয়েছিস”?

জাফরিন বলে,

” না। খেতে ইচ্ছে করে না। বমি পায়। তিতা লাগে সব”।

নিয়াজ ফের উত্তর করে,

“না খেলে আরও বেশি দুর্বল হয়ে যাবি। তখন অসুস্থ হয়ে পড়বি আরও”।

জাফরিন ক্ষীন স্বরে বলে,

” বাসার খাবার খেতে ইচ্ছে করতেছে না।

নিয়াজ বলে,

“এ সময় বাহিরের খাবার খাওয়াও ঠিক না”।

জাফরিন চুপ করে আছে। ওর বলতে ইতস্তত হচ্ছে। কি করে বলবে বুঝতে পারছে না। বলা কি ঠিক হবে সেটাও বুঝতে পারছে। জাফরিনকে চুপ করে থাকতে দেখে নিয়াজ বলে

” জাফরিন চুপ করে আছিস কেনো? কিছু বলার আছে?

জাফরিন আর না পেরে বলেই উঠলো,

” তুমি কখন আসবা বাসায়? বেশি দেরি হবে?

নিয়াজ একটু থমকালো। তারপর বললো,

” না দেরি হবে না বেশি। আজকে আউটডোর পেশেন্ট দেখার ডেইট নেই। কিছু লাগবে? কি নিয়ে যাবো?

জাফরিন নখ খুটতে খুটতে বললো,

” একটু ডিম আলুর চপ আর চিকেন কাটলেট আনবা আসার সময়। আর ওই যে সাজু মামার দোকানের নাগা মরিচ দিয়ে নরম কিমা খিচুড়িটা আনবা”।

নিয়াজ হাসে। ডাক্তার হয়ে পেশেন্ট এসব অস্বাস্থ্যকর খাবারের কথা এখন রোগীর মুখে শুনতে হচ্ছে। নিয়াজ বলে উঠলো,

” আচ্ছা নিয়ে আসবো। আর কিছু খাবেন ম্যাডাম?

জাফরিন লজ্জায় লাল হয়ে বলে,

” না আর কিছু না। রাখছি। ঘুমাবো”।

নিয়াজ হেসে ফোন রেখে দেয়। জাফরিন এই খাবারগুলো পছন্দ করে ও ভালোকরে জানে। ছোট বেলা থেকেই কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলেই ওইতো ডেলিভারি ম্যানের কাজটা করতো। আরও তিন ঘন্টা পর নিয়াজের অফিস টাইম শেষ হয়। তারপর বাড়ি ফেরার পথে জাফরিন যা বললো ডিম আলুর চপ, চিকেন কাটলেট আর ওর সেই নাগা মরিচ দেওয়া নরম কিমা খিচুড়ি কিনে নেয়। মিষ্টির দোকান থেকে জাফরিনের জন্য তার পছন্দের এক বক্স রসমালাই কেনে সাথে চকলেট পেস্ট্রি। নিমকি আর জিলেপিও কেনে। পেয়ারা খুব ভালোবাসে জাফরিন। সেটাও কেনে। আবার কি মনে করে এক বক্স হালিমও কিনে ফেলে। সবকিছু নিয়ে বাড়ি ফিরতে প্রায় বিকেল হয়ে যায়। বৃষ্টির ঠিক নেই। এই হচ্ছে এই থামছে। বাড়ির দরজায় এসে সবার আগে জাফরিনদের বাসায় ডোর বেল দিলো সে। বৃষ্টির মধ্য পড়েছিলো। ভিজে গেছে অনেকটা। নিয়াজের চাচী গেইট খুলে দিলো। জাফরিনের মা বললো,

” কিরে বাবু ছাতা নিয়ে বের হোস নাই? ভিজে গেলি কিভাবে? একজন ভিজে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। তুইও সেই ফন্দি কর”।

নিয়াজ বলে,

“ছাতাতো আছে কিন্তু বৃষ্টি ছাতা মানতেছে না। জাফরিন এর শরীর কেমন এখন? এগুলো নাও। ওর সেই চপ, কাটলেট আর নাগা মরিচের কিমা খিচুড়ি আছে। ম্যাডামের বাড়ির খাবার পছন্দ হচ্ছে না। আমি শাওয়ার দিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতেছি। দেখবো জ্বর কেমন এখন?

নিয়াজের হাত থেকে প্যাকেটগুলো নিতে নিতে বলে

” তোরেতো ও ছোট থেকেই বাধাঁ ডেলিভারি ম্যান হিসেবে পাইছে। কিছু খাবার খাইতে মন চাইলেই তোরে বলে। জানে জ্বর হইলে এসব মা খাইতে দিবে না। আর তুই ডাক্তার হয়ে এসব খাবার আনছিস? তুই? বিশ্বাস হচ্ছে না বাবু”।

নিয়াজ হেসে বললো,

” জ্বর মুখে ভালো লাগছে না তোমার মেয়ের। নিয়ে এলাম। তাও যদি খেতে পারে”।

জাফরিনের মা বললো,

” তুই ফ্রেশ হয়ে আয়। দরজা ভেজানো থাকলো”।

নিয়াজ তাদের বাড়ির ভেতরে যাওয়ার জন্য ডোর বেল দিলো। ঠিক এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে একটা মহিলার গলার আওয়াজ পেলো। মহিলাটা বলছে,

” গেইটে কে তোর জায়ের ছেলে ছিলো?ও ই যে যার বউ এর কু”কীর্তির খবর নিউজে আসছিলো। আহারে বেচারা ছেলেটা। কি লজ্জার বিষয় বলতো। বউটা আসলেওতো জুতের ছিলো না। ভালো হয়েছে ছেড়ে দিয়েছে। এসব মেয়ে মানুষকে নিয়ে সংসার করা যায়? ছেলেটার আসলেই কপাল খারাপ। এতো বড় ডাক্তার তাও বউ ভালো জোটেনি।

জাফরিনের মা কিছু একটা বললো তারপর আর শোনা গেলো না। নিয়াজের মা দরজা খুলে দিয়েছে ততক্ষনে। মা ছেলে মিলে সবকিছু শুনে চুপ হয়ে আছে। নিয়াজ ফোস করে শ্বাস ফেলে তার মাকে বললো,

” মা চলো ভেতরে যাই। এসব কথায় কান দিয়ে আর লাভ নেই”।

মা ছেলে ভেতরে আসতেই নিয়াজ বললো,

” মহিলাটা কে ছিলো মা”?

নিয়াজের মা বললো,

“ওই মহিলা তোর চাচীর বান্ধবী। প্রায়ই আসে। তবে আজকে এসেছে বিশেষ কারনে। আমি ওদের বাড়িতে থাকার সময়ই মহিলাটা আসছে। দু চার কথা বলে তারপর রান্না করবো বলে চলে এসেছি”।

নিয়াজ ভ্রু কুঁচকে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,

” কি জন্য এসেছে”?

নিয়াজের মা ছেলেকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিতে দিতে বলে,

” জাফরিনের সাথে নিজের ছেলের বিয়ের সমন্ধ নিয়ে এসেছে”।

চলবে………