Home "ধারাবাহিক গল্প তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-১০

তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-১০

0
533

#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ১০
#লেখনীতে_তানিয়া

“মা কিছু কিছু মানুষ এর আক্কেল জ্ঞান যে একদমই নেই সেটা তোমার বান্ধবীকে দেখলেই বুঝা যায়। নিয়াজ ভাইয়া দরজায় দাঁড়িয়ে আছে তখনই উনার এসব বলতে হলো? তোমার বান্ধবীর কি খেয়ে দেয়ে আর কোনো কাজ নেই সবসময় মানুষের ঘর সংসারে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটা নিয়ে মুখ চালাতে থাকে। আর উনি ঘন ঘন আসেই বা কেনো? সেই ছোট বেলা থেকে দেখছি পাড়ার কুচুটে মহিলার মতো দু দিন পর পর এসে এর সংসার ওর মেয়ের কিচ্ছা কাহিনি নিয়ে তোমার কাছে গল্পের ছালা খুলে বসে। তুমিও তার সাথে তাল দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করো”।

কথাগুলো বেশ ঝাঁঝালো গলায় নিজের মাকে বললো জাফরিন। গলাটা কাঁপছে তার। জাফরিন সারাটাদিন ঘর থেকে বের হয়নি। বের হবেই বা কি করে জ্বর পুরোপুরি ছাড়েনি। গায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা আর সাথে মাথা ভার লাগাতো আছেই। সারাদিন শুয়ে শুয়েই পার হয়ে গেছে। তেমন কিছু খাওয়াও হয়নি তার। খেতে নিলেই তিতা লাগে সব। তবুও মায়ের জোরাজুরিতে অল্প করে একটু ভাত ডাল মুখে তুলেছিলো সে। খাবারটা নিজের ঘরেই খেয়েছে। খাওয়া শেষ করে মা মা বলে ডেকেওছে কয়েকবার। হয়তো ব্যস্ত তাই আসতে পারছে না বলেই নিজেই উঠে প্লেটটা রান্নাঘরে রেখে আসার চেষ্টা করলো। প্লেটটা কোনোরকমে টেবিল অবধি রাখতেই ক্লান্ত লাগছে তার। শরীরে একটুও জোর নেই। চেয়ারটা টেনে ওখানেই বসে পড়লো। বসার ঘর থেকে কথা বলার আওয়াজ আসছে। জাফরিন দেখলো তার মায়ের বান্ধবী এসেছে। এই মহিলাকে ছোট থেকেই তার ভালো লাগে না। সবসময় ছেলে মেয়েদের গুনগান গাইতে থাকে। আর দুনিয়ার মানুষের সংসারের খবর সে জানে। মহিলার সামনেই দুনিয়ার আজাইরা প্যাচাল পারবে। এই মহিলার সামনে যেনো তাকে না পড়তে হয় তাই তাড়াতাড়ি করে উঠতে নিলো কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে পারলো না। টেবিল নড়ার আওয়াজ হলো। আর জাফরিনের মা আর সেই মহিলা তাকে দেখলো। মেয়েকে দেখার সাথে সাথেই জাফরিনের মা বলে উঠলো,

” জাফরিন তুই এখানে কি করিস মা? অসুস্থ শরীর নিয়ে উঠছিস কেনো? গায়ে জ্বর। মাথা ঘুরে পরে যাবি”।

জাফরিন ধীর গলায় বলো,

” প্লেটটা রাখতে এসেছিলাম মা। তোমাকে অনেকবার ডেকেছি। তুমি ব্যস্ত ছিলে হয়তো কোনো কাজে। শুনতে পাওনি। তাই আমি একটু বের হয়েছিলাম”।

জাফরিনের মা মেয়েকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মহিলাটা বলে উঠে,

” তোর মেয়ে লন্ডন থেকে ফিরেছে এতোক্ষনতো বলিসনি আমাকে বন্যা। তোর সাথেতো প্রায়ই কথা হয় মেয়ের ফেরা নিয়ে কিছুই বলিসনি”।

জাফরিনের মা বললো,

” আমরাও কিছু জানতাম না রে। মেয়ে হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না বলেই সারপ্রাইজ দিয়েছে। আমরা কেউই জানতাম না “।

জাফরিন ভদ্রতা বজায় রেখে সালাম দিলো। সালামের জবাব নিয়ে মহিলাটা জাফরিনকে আপাদমস্তক দেখলো। আগের চেয়ে আরও বেশি সুন্দর হয়েছে। গায়ের রংটাও আরও মেলেছে বিদেশে থেকে। গড়নও ভালো। জাফরিন দেশে থাকতেই সে চেয়েছিলো তার একমাত্র ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার। জাফরিনের মাকে অনেকবার বলেছিলো। মেয়ের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটবে বলে তখন মেয়েকে কিছুই জানায়নি। এরপরতো মেয়ে আরও পড়াশোনার জন্য বাহিরে গেলো। তারপরেও আশা ছাড়েননি মহিলা। প্রায়ই ইনিয়েবিনিয়ে নিজের ছেলের সাথে জাফরিনের বিয়ে নিয়ে প্রসঙ্গ উঠান। তার ছেলে বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে এখন নিজেই একটা আইটি প্রতিষ্ঠান চালায়। কামাই রোজগারও ভালো। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে আর একটা মেয়েও আছে অবশ্য । সহায় সম্পত্তিও ভালো আছে। শহরে নিজেদের বাড়ি আছে। ছেলের জন্য এমন মেয়েই তিনি চান। মহিলা জাফরিনকে দেখে বলে উঠলো,

” বাহ আগের চেয়ে দেখি দেখতে আরও বেশি সুন্দর হয়েছে তোর মেয়ে। এবার কিন্তু তোর কোন অযুহাতই শুনবোনা। তোকে কি বলেছি মনে আছেতো?

জাফরিনের মা ইতস্তত করছে। মেয়ে সবে ফিরলো। এখনই এসব কথা। মেয়ে তার প্রাপ্ত বয়স্ক উচ্চ শিক্ষিত। তারতো নিজের মতামত আছে। সে কাউকে পছন্দ করে কিনা সেটাও জানা প্রয়োজন। মহিলাটা জাফরিনকে বললো,

” ভালো আছো জাফরিন? তোমার মাতো বলেইনি তুমি ফিরেছো। তোমাকে অসুস্থ দেখাচ্ছে। তুমি কি একেবারে ফিরেছো নাকি আবার চলে যাবে?

জাফরিন হালকা স্বরে বললো,

” এখনো ঠিক করিনি আন্টি। সবেতো ফিরলাম দুদিন হলো। কিছুদিন যাক তারপর দেখি কি করা যায় “।

মহিলাটা যেনো জবাবে খুশি হলো না। জাফরিনের ঠিক করিনি কথাটা শুনে তার মনে হলো মেয়েটা আবার বিদেশে যেতেও পারে। তাহলে সে যে আশা করে আছে ছেলের সাথে বিয়ে দিবে। যে করেই হোক বিয়ের কথাটা আগাতে হবে। জাফরিনের মা বললো,

” চল তোকে ঘরে রেখে আসি। আরাম কর। তোর বিশ্রাম দরকার। পরে কথা হবে এসব নিয়ে “।

জাফরিনকে তার মা ঘর অবধি এগিয়ে দিয়ে আসলো। এসে বসার ঘরে আসতেই মহিলাটা বললো,

” মেয়ের বিয়ে নিয়ে ভাবছিস না? বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। আর কত দেরিতে বিয়ে দিবি? এতোদিন বলতি পড়াশোনা করছে দেশে আসুক। দেশে আসলে বলবো। শোন আমার ছেলে কিন্তু লাখে একটা। ওমন গুনী আর ভালো ছেলে আজকাল পাবিই না। আমার ছেলের কোনো বাজে অভ্যাস নেই। আজকালকার ছেলেদের যে অবস্থা। তুই বললে সামনে সপ্তাহে ছেলেকে নিয়ে আসি মেয়ে দেখাতে”?

জাফরিনের মা যেনো আরেক বিপাকে পড়লো। মেয়ে তার এসব কিছুই জানেনা। কথাই তোলেনি এসব নিয়ে কখনো। ওকে না জানিয়েই কিভাবে কথা বলবে সে। জাফরিনের মা বললো

” মেয়ে হয়ে জন্মেছে যখন বিয়ে শাদী দিতেই হবে। কিন্তু মেয়েটা মাত্র ফিরলো। ওর সাথে এই নিয়ে কথা হয়নি আমার। ওর ইচ্ছা আর মতামতটাও জানা জরুরি। মেয়ের বাবার সাথেও কথা বক্তে হবে। সময় সাপেক্ষ ব্যাপার”।

মহিলাটার নিজের বান্ধবীর এই উত্তর পছন্দ হলো না। এখন জোর করে কিছু বলতেও পারছে না। তবুও বললো,

” বলবি কি সমস্যা তাতে। কথা বলবি মেয়ের সাথে কিন্তু একটু দ্রুত বলবি। ভাইকেও বলবি যে আমার ছেলের মতো এতো ভালো ছেলের সমন্ধ পেয়েছিস মেয়ের জন্য”।

জাফরিনের মা তাকায় তার বান্ধবীর দিকে। বেশ চিন্তিত হয়েই তাকায়। এরই মধ্য ডোরবেল বাজে। জাফরিনের মা দরজা খুলে দেখে নিয়াজ এসেছে। হাতে একগাদা প্যাকেট। নিয়াজ কথা শেষ করে তাদের বাড়ির দিকে আগাতেই মহিলাটা এসব পিঞ্চ করে কথাগুলো বলে উঠলো। যেটা মোটেও পছন্দ হলো না জাফরিনের আর এতোক্ষন ধরে বান্ধবীদের মধ্য যত কথা হয়েছে সবই শুনেছে সে। রীতিমতো বিরক্ত লাগছে এখন এই মহিলাকে তার। আরও পনেরো মিনিট পর মহিলাটা চলে যেতেই নিজের মাকে রেগে গিয়ে কথাগুলো বললো জাফরিন। জাফরিনের মাও বান্ধবীর এসব কথায় বেশ লজ্জা পেয়েছেন। জানেই যখন তখন সেই মানুষের সামনেই এসব বলার মানে কি। মাঝে মাঝে আসলেই কান্ডজ্ঞানহীন কথা বলে তার বান্ধবী। ছেলেটা এমনিতেই কত হয়রানি সহ্য করেছে। কত অপমান অপদস্থ হয়েছে এর জন্য। জাফরিনের মা বললো,

” ও ছোটবেলা থেকেই ওরকম। ভুলভাল সময়ে মুখ ফসকে উলটো পালটা জিনিস বলে ফেলে। বুঝিয়েও লাভ নেই আবার সেটাই করবে দুই মিনিট পর “।

জাফরিন বিরক্ত হয়ে ভাঙা গলায় বলে,

” ভুলভাল সময়ে জায়গা দেখে মানুষ দেখে যারা বিবেকহীন এর মতো কথা বলে তাদের সাথে এতো উঠাবসা করো কেনো? যারা বাড়ি বয়ে এসে নিজের সুনাম আর অপরের নিন্দা গেয়ে বেড়ায়। তোমার বান্ধবীর এই স্বভাব খুবই বিরক্তিকর। এই ধরনের মানুষগুলো আবার দুচোখের সহ্যের বাহিরে। যারা নিজের খেয়ে অন্যের ঘরে কে কি করলো উকি দিয়ে নাক গলায় “।

মেয়ের কথা শুনে জাফরিনের মা থমকালো। সে তার মায়ের বান্ধবীকেই পছন্দ করছে না। বাড়িতে আসাও পছন্দ করছে না। আর তার ছেলের সাথে বিয়ের কথা তুললে না জানি কি করে আর কি বলে। এতো উভয় সংকট। একদিকে বান্ধবী জাফরিনকে নিজের ছেলের বউ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে৷ অন্য দিকে মেয়ে তার বান্ধবীকেই দুচোখে সহ্য করতে পারেনা৷ মেয়েকে তখনকার মতো সামলে নিতে বললো,

” আচ্ছা ছাড় এসব কথা। ওর মাথায় বুদ্ধিশুদ্ধি কম। গায়ে মাখিস না। পরের বার এলে বুঝিয়ে বলবো। প্লেটতো দেখলাম ওইরকমই খাবার রেখে হাত ধুয়েছিস। তাহলে খাইছিস কি? না খেলেতো আরও শরীর খারাপ করবে”।

জাফরিন বললো,

” খেয়েছি অল্প করে। মুখে দিলেই তিতা লাগে সব। পানিটাও তিতা লাগে “।

জাফরিনের মা বললো,

” নিয়াজকে কি আনতে বলেছিলি খেতে চাস বলে। ছেলেটা সেগুলোতো নিয়েই আসছে সাথে আরও কিছু আনছে যেগুলো পছন্দ করিস। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে এসব কিনে নিয়ে এসেছে “।

জাফরিন বললো,

” আলু আর ডিমের চপ, কাটলেট আর খিচুড়ি নিয়ে আসতে বলেছিলাম। আরও কি কি এনেছে লোকটা”?

জাফরিনের মা খাবারের প্যাকেটগুলো রানবাঘরে রেখে এসেছিলো। সেগুলো নিয়ে আসতে গেলো। ফিরলো হাতে প্রায় চারটার মতো ব্যাগ হাতে নিয়ে। জাফরিন দেখেই ভ্রু কুচঁকে ফেললো। মা কে বললো,

” এতো কি এনেছে”?

জাফরিনের মা এক এক করে প্যাকেটগুলো খুললো। জাফরিনও অনেক আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছে। প্যাকেট খুলতেই দেখলো নিমকি, জিলাপী, হালিম, পেয়ারা, পেস্ট্রি কেক আর এক বক্স রসমালাই। সবগুলোই জাফরিনের পছন্দের। জাফরিন বেশ অবাক হলো। এগুলোতো বলেনি আনতে। আর এই লোক মনে রেখেছে তার পছন্দের কথা। এতো বছরে ভুলে যায়নি। জাফরিন প্যাকেটগুলোর দিকে চেয়েই আছে। জাফরিনের মা বললে,

” পাগল ছেলের কান্ড দেখ। যা বলছিস তাতো নিয়ে আদছেই সাথে আরও যা পছন্দ করিসে সেগুলোও মনে করে নিয়ে এসেছে। এই ছেলের মতো দায়িত্ববান মানুষ খুব কম এখনকার যুগে। মানুষকে ভালোবাসতে জানে। খেয়াল রাখতে জানে। একটাই আফসোস ছেলেটার একটা সুস্থ সংসার হলো না। মানুষ চিনতে এতো বড় ভুল করেছিলো। মেয়েটাকে আমার শুরু থেকেই ভালো লাগেনি। বাপ মায়ের অতি আদরে বিগড়ে যাওয়া মেয়ে। এতো অহংকার করতো। এই বাড়িতেতো থাকতেই চাইতো না। সবসময়তো এই ওই বাহানায় বাপের বাড়ি থাকতো। তোর বড় মা আফসোস করতো অনেক। ছেলের বউ কোনোদিন তার সাথে বসে একজায়গায় দুই মিনিট কথাও বলেনি। যাও বা এ বাড়িতে আসতো এক দুদিনের জন্য ঘর থেকেই বের হতো না। কেনো কিছুই মেলেনি তার সাথে আমাদের নিয়াজের। নিয়াজ যথেষ্ট চেষ্টা করতো বউকে সামলে নেওয়ার। অশান্তি যাতে না হয় ভাবি ছেলেকে পাঠিয়ে দিতো শ্বশুরবাড়িতে। তারপরেও দিনশেষে মেয়েটা কি বাজেভাবে ঠকালো ছেলেটাকে। এতো কিছুর পরেও মেয়েটার কোনো অনুতাপ বলতে কিছু ছিলো না। নিয়াজ আর সহ্য করতে পারেনি সেদিন। পুরো ভেঙে শেষ হয়ে গিয়েছিলো ছেলেটা। ভাবী তখন এতো চিন্তা করতো ছেলেকে নিয়ে যদি কিছু ভুল করে বসে। স্বামী হারিয়েছে এখন যদি ছেলেটাও কিছু করে বসে কিভাবে বাঁচবে? আমরাও অনেক ভ”য় পেয়েছিলাম। তবে ছেলেটা মানসিকভাবে অনেক শক্ত। নিজেকে সামলে নিয়েছে”।

জাফরিন বললো,

” মানুষ চিনতে পারেনি মা। যাকে ভালোবাসা ভেবেছিলো সে কোনোদিন এই মানুষটাকে ভালোইবাসেনি। আপন করে চায়নি। যদি চাইতো তাহলে এতোকিছু হতো না। আসলে কিছু কিছু মানুষ এতো অভাগা যে ভালোবাসা পেয়েও মুল্য দেয়না আর কেউ চেয়েও পায়না। সবই নিয়তি”।

জাফরিনের মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

” সেটাই। কেউ চেয়েও পায়না আর কেউ পেয়েও মুল্য দিয়ে ধরে রাখতে জানেনা৷ তবে এর ফল সে পাবে। সৃষ্টিকর্তা ন্যায় বিচারক। তিনি ছেলেটার চোখের পানি আর এই অন্যায় এর একদিন কঠিন জবাব ওই মেয়েটাকে দিবেন এটাই চাওয়া”।

জাফরিন বললো,

” কি যেনো মেয়েটার নাম ছিলো? আর সে এখন কোথায় ওই ঘটনার পর?

জাফরিনের মা কিছু বলতেই নিবে তার আগে একটা পুরুষালি গলা শুনতে পেলো। সে বলতে বলতে ঘরের ভেতর ঢুকছে,

” মেয়েটার নাম তুরফা ছিলো। সে এখন দেশে নাই। ওসব ঘটনায় নাকি অনেক ফেসলস হয়েছে। চাকরিতে টানাটানি অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো। বাবা যেহেতু এতো বড় ডাক্তার তাই মেয়ের চাকরি বাঁচাতে অনেক কিছুই করতে হয়েছে আর পেরেছেও। মেয়েকে পি এইচ ডির জন্য বাহিরে পাঠিয়ে দিয়েছে “।

জাফরিন সেই দিকে তাকায়। দেখতে পায় নিয়াজ এসব বলতে বলতে ঢুকছে। কত সহজ করে এসব বলছে কিন্তু বিষয়টাতো এতো সহজ না। জাফরিন এর বেশ রাগ হলো। প্রাক্তন বউ এর খোঁজ এখনো রাখে। গম্ভীর গলায় বললো,

” তুমি এখনো তার খোঁজ রাখো নাকি”?

নিয়াজ হেসে বললো,

” না আমি কেনো রাখবো? ওর ব্যাচমেট একটা মেয়ে আমাদের হাসপাতালে জয়েন করেছে। চাকরির প্রথম পোস্টিং এখানেই। আজকে আমাকে দেখতে পেয়েই চিনেছে। তারপর নিজেই এসে এসব আলাপ জুড়ে দিলো। আমি শুধু হু হা করে শুনেছি “।

জাফরিনের মা বললো,

” ওসব শুনে আর লাভ নেই। কি দরকার শুধু নিজের কষ্ট বাড়ানোর। একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নে বাবু। ভাবির বয়স হচ্ছে। তোর জন্য অনেক চিন্তা করে “।

নিয়াজ হেসে বললো,

” আমার বিয়ের আগে তোমার মেয়ের বিয়ে দাও। ওরই বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। ভালো ছেলে দেখে বিদায় করে দাও “।

জাফরিন বললো,

” আমি কি আপদ নাকি যে বিদায় হবো”?

নিয়াজ জাফরিনের কপালে হাত রাখলো। গা টা এখনো গরম। জ্বর পুরোপুরি নামেনি। সময় নিবে। নিয়াজ হেসে হেসে বললো,

” না তুই আপদ হবি কেনো তুইতো বি”পদ”।

কথাটা বলেই নিয়াজ মুখ টিপে হাসে আর জাফরিন এই পচাঁনি খেয়ে মুখ ফুলায়। জাফরিনের মা বলে ,

” তোরা শুধরাবি না। এখনো ইদুঁর বিড়ালের মতো একজন আরেকজনের পেছনে লাগিস। তোরা গল্প কর আমি নাস্তাগুলো প্লেটে নিয়ে আসি”।

জাফরিন মুখ ফুলিয়েই আছে। তা দেখে নিয়াজ বললো,

” কিরে বিয়ের কথা শুনে মুখ ফুলিয়ে রেখেছিস কেনো? বিয়ে করবি না”?

জাফরিন বললো,

” করবো না কেনো? আমিতো সাধু সন্ন্যাসী না”

নিয়াজ প্রশ্ন করে উঠে,

_কাউকে ভালোবাসিস?

_হ্যা ভালোবাসি।

_ কতদিন ধরে এই ভাব ভালোবাসা চলছে?

_বহু বছর ধরে।

_ কে সে? দেশি না বিদেশী কেউ?

_ বলবো কেনো? আমার ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় এটা।

_ বললে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে?

_তুমি বলেছিলে? বহু বছর আগে তুমিওতো বলোনি যে কাউকে ভালোবাসো। হঠাৎ করে একদিন বাড়িতে জানিয়েছিলে তাকে বিয়ে করতে চাও।

_ তুইও এমন কিছু করবি নাকি?

_ করতেই পারি। মানাতো নেই।

_ তুই আর আগের মতো নেই। অনেক বদলে গেছিস। আগের শান্তশিষ্ট মেয়েটা এখন কেমন রুক্ষ হয়ে গেছে।

_ মানুষতো পরিবর্তন হবেই স্বাভাবিক। সময় এবং পরিস্থিতি মানুষকে পরিবর্তন করে ফেলে।

চলবে………