Home "ধারাবাহিক গল্প খুঁজেছি তোকে খুঁজেছি তোকে পর্ব-০৮

খুঁজেছি তোকে পর্ব-০৮

0
345

#খুঁজেছি_তোকে (০৮)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

নূরা রুম থেকে বের হবে ঠিক তখনই পিছন থেকে শাড়িতে টান পড়ে। নূরা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে ঘাড় কাত করে তাকায়। সামির কে দেখে নূরা ভয় পেয়ে যায়। সামিরনূরা’র দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসছে! এতে নূরা আরও বেশি ভয় পেয়ে যায়। এখান থেকে দ্রুত বের হতে হবে ভেবে সামির কে বলে,

“- আপনি এমন করছেন কেন স্যার ? বিশ্বাস করুন স্যার আমি ইচ্ছে করে এই রুমে আসেনি। একটা মেয়ে আমাকে নিয়ে এসেছিল৷ বিশ্বাস করুন এটা আপনার রুম জানলে আমি কখনোই আসতাম না। প্লিজ আঁচল টা ছাড়ুন। আমাকে যেতে হবে।

প্রথম কথা গুলো শুনে মনে মনে হাসি পেলেও লাস্টের কথা শুনে সামিরের মেজাজ বিগড়ে যায়। কেন রে ভাই তুই কি পরপুরুষের রুমে ঢুকে পড়ছিস ? তুই তো তোর জামাইয়ের রুমেই ঢুকেছিস তাহলে এত কথা বলিস কেন? কথা গুলো নিজের ভেতরে চেপে রেখে চেয়াল শক্ত করে সামির নূরা’র শাড়ির আঁচল হাতে পেঁচাতে পেঁচাতে নূরার দিকে এগিয়ে আসছে। সামওর কে নিজের দিকে আগাতে দেখে নূরা ভয় ভয় গলায় বলল,

“- আপনি এভাবে এগিয়ে আসছেন কেন?

সামির বাঁকা হেসে নূরার কাছে এসে দাঁড়ালো। নূরা পিছনে সরে যেতে চেয়েও পারল না। কারণ তার শাড়ির আঁচল সব টা সামিরের আয়ত্তে। যেটা দেখে নূরা’র হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে মন চাচ্ছে। এখানে আসার পর থেকে সামির তাকে ইচ্ছে মতো জ্বালাচ্ছে আর তাকে চুপচাপ সব সহ্য করে নিতে হচ্ছে কিন্তু এবার আর সহ্য করবে না। কিছু একটা করেই সে রুম থেকে পালাবে।

সামির ঘোর লাগা কণ্ঠে বলল,

“- তোমাকে আজ অনেক হট লাগছে বউ! একদম বউ বউ লাগছে। হ্যাঁ তুমি তো আমার বউ! জানো বউ, তোমাকে না টুপ করে গিলে ফেলতে ইচ্ছে করছে। যদি গিলে ফেলি তাহলে কি তুমি কিছু মনে করবে?

সামিরের কথা’য় পুরো তাজ্জব বনে গেলো নূরা।সাথে লজ্জায় সারা মুখ লাল হয়ে গেলো। নূরা তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। সামির শাড়ির আঁচল ছেড়ে দিয়ে নূরা’র থুঁতনি ধরে উপরে উঠিয়ে বলল,

“- দেখো, তোমার গাল দুটো পুরো টমেটোর মতো হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এখনই খেয়ে ফেলি! বলে নূরা’র মুখের কাছে নিজের মুখ এগিয়ে নিলো। নূরা ভয়ে পিছিয়ে যেতেই সামির টেনে ধরল। নূরা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। এদিকে সামির কে তার সুবিধার লাগছে না। ব্যাটা যখন তখন কিছু করে ফেলতে পারে। নূরা’র ভাবনার মাঝেই সামির বলল,

“- তুমি সবসময় কি এতো ভাবো? শোনো, কোনো ফালতু কিছু মাথায় আনবে না। তুমি আমার বিয়ে করা বউ। তোমাকে চুমু খাওয়ার রাইট আমার আছে। তাই একটা চুমু আমি খেতেই পারি। বলতে বলতে সত্যি সত্যি সামির নূরা’র কপালে নিজের ঠোঁট ছুয়ে দেয়। সামিরের ছোঁয়ায় নূরা জমে যায়। সামির বাঁকা হেসে এবার নূরা’র কানের লতিতে কামড় দেয়। নূরা’র ব্যথায় আহ্ শব্দ করে ওঠে। পরমুহূর্তেই বিশাল জোরে কিছুর একটা শব্দ হলো তাতে সামির চিৎকার করে ওঠে। সেই সুযোগে নূরা নিজে কে ছাড়িয়ে দৌড় লাগায়। যাওয়ার আগে নিচে ফুলদানি রেখে আসে। যেটা দিয়ে সে সামির কে মেরেছে। তারপর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে হেসে হেঁসে বলে,

“- কি স্যার, কেমন লাগলো? পরে কিন্তু জানাবেন এখন আসি বলে খিলখিল করে হাসতে হাসতে দৌড়ে চলে গেলো নূরা।

এদিকে সামির কপালে হাত দিয়ে নূরা’র দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে ছিল কিন্তু নূরা’র হাসি দেখে নিমিষেই রাগ পানি হয়ে যায়। কিন্তু সেই রাগ ফিরে আসতে বেশিক্ষণ সময় লাগল না সামিরের। সামির যখন অনুভব করল তার কপাল টা জ্বলছে তখন সে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দেখল কপাল কিছু টা কেটে গেছে। যা দেখে সামির মুখ কালো করে বলল,

“- সামান্য একটা চুমু খেয়েছি তাতেই বউ আমার মাথা ফাটিয়ে দিছে। না জানি অন্য কিছু করলে বউ আমার কি অবস্থা করে?

সামির ফাস্ট এইড বক্স বের করে কপালে একটা অন-টাইম বেন্ডেজ লাগালো। সেখানে আলতো ছুয়ে বলল,

“- চুমুই তো খেয়েছিলাম অন্য কিছু তো আর করি নাই। সেজন্য স্বামী কে মারতে হবে? দিজ ইজ নট ডান মিসেস চৌধুরী এর শাস্তি তো আপনাকে পেতেই হবে। খুব ভয়ংকর শাস্তি পাবেন আপনি। যা কোনো দিন কল্পনাও করতে পারবেন না আপনি । বলে বাঁকা হাসল সামির।

,
,
,

একে একে সকল আত্মীয় স্বজনরা চলে গেলেন। এখন শুধু আহমেদ বাড়ির সবার যাওয়ার পালা। আহমেদ বাড়ির সবাই রওনা হবার জন্য বের হলেন। তখনের পর থেকে নূরা আর সামিরের সামনে পড়েনি। যথাসম্ভব নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু ভাগ্য যদি সহায় না থাকে তাহলে আর কি হয়? ঠিকই সামির সবার সামনে এসে হাজির হয়। নূরা সামির কে দেখে বাবা’র পিছনে লুকায়। একবার আড়চোখে দেখে নেশ। তখন নূরা’র চোখ গিয়ে পড়ে সামিরের কপালে। সেখানে অনটাইম বেন্ডেজ লাগানো। নূরা জিভে কামড় খেয়ে মনে মনে বলে,

“- ইশশ, শেষ মেষ সামির স্যারের মাথা টা ফাটিয়ে দিলাম আমি না স্যার এখন আমায় কি ভাববেন। যা ভাবে ভাবুক তাতে আমার কি? তিনি যে আমার সাথে অসভ্যতামী করল তার বেলায় কি উহু!

নিহাল চুপচাপ সামিরের কাছে গিয়ে দাড়ায়। তারপর ফিসফিস করে বলে,

“- কিরে কপাল ফাটালি কি করে?

সাথে সাথে সামির রাগী চোখে তাকায়। নিহাল দাঁত কেলিয়ে বলল,

“- নিশ্চয়ই এই ভালো কাজটা আমার কলিজার টুকরা বোন নূরা করেছে?

নিহালের কথা সহ্য হচ্ছে না সামিরের। কিন্তু বড়ো রা থাকায় চুপচাপ সহ্য করে নিচ্ছে। পরে এদের দু’ভাই বোনকে সে দেখে নিবে।

,
,
,
,
,

মাঝে একদিন কেটে গেছে। নূরা এখন থেকে বাসার সকলের সাথে থাকে। একা একা থাকতে থাকতে সবার থেকে সব আদর যত্ন ভালোবাসা সব কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু আর হবে না। তাই তো দুই ভাই কে নিয়ে নিজের যাবতীয় জিনিস পত্র আহমেদ বাড়ি নিয়ে এসেছে। ।

আজ দু’দিন পর নূরা ভার্সিটিতে যাবে। কদিন ধরে ভার্সিটি না গিয়ে বাসায় থেকে ভাই বোন দের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিয়েছে।

ভার্সিটিতে পৌঁছে নিজের ক্লাস রুমে চলে গেলো নূরা। সেখানে আগে থেকে ই তার প্রাণ প্রিয় বান্ধবী স্নিগ্ধা তার জন্য বসে বসে অপেক্ষা করছিল। নূরা স্নিগ্ধা কে দেখে মুচকি হেঁসে ওর পাশে গিয়ে বসল৷ নূরা’র হাসির বদলে সেও মুচকি হাসল। তারপর বলল,

“- এই ক’দিন ধরে ভার্সিটিতে আসিস না কেন নূরা ?

“- বাসায় ছিলাম। নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছিলাম। তাই আর ইচ্ছে করে আসিনি।

“- ওহ ভালো করেছিস। আর কতদিন একা একা থাকবি।

“- হ্যাঁ।

“-ওহ হ্যাঁ ভালো কথা নূরা। তোকে তো বলতে ভুলে গেছি।

নূরা অবাক হয়ে বলল,
“- কি কথা।

“- আমাদের যে হ্যান্ডস্যাম নতুন স্যার না।

নূরা ভ্রু কুঁচকে ফেলল। তারপর বলল,
“- কার কথা বলছিস তুই ?

“- ফাইয়ান চৌধুরী সামির। সামির স্যারের কথা বলছি।

নূরা চোখ ছোটো ছোটো করে বলল,

“- তোর মতিগতি দেখে মনে হচ্ছে স্যার তোকে প্রপোজ করছে।

“- নাউজুবিল্লাহ! এসব তুই কি বলছিস? ছিহ ছিহ!

“- নাটক না করে কি হয়েছে সোজাসাপ্টা বললেই তো হয় ভাই। এত ঘুরানোর কি আছে?

“- আরে এত চেতিস ক্যান তুই?

“- তো কি করব? বসে বসে তোর নাটক দেখবো?

“- তুই সবসময় এমন করিস।

নূরা নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,

“- আচ্ছা ঠিক আছে। কি হয়েছে বল?

“- কমু না।

স্নিগ্ধা রাগ করে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। নূরা বুঝল স্নিগ্ধা রাগ করছে তাই মুচকি হেঁসে বলল,

“- ওলে আমার বাবু টা রাগ করছে! রাগ করে না বাবু আমি তো মজা করছিলাম।

তবুও স্নিগ্ধা চুপ করে রইল। নূরা আরেকটু ঢং করে বলল,

“- জান পরাণ ময়না টিয়া কলিজা ফুসফুস রাগ করে না সোনা আমার। তুমি রাগ করলে কি আমার ভালো লাগে বলো! প্লিজ সোনা আমার এদিকে তাকাও।

এদিকে কেউ একজন নূরা’র কথা শুনে মনে মনে হাসে।

নূরা’র কথা শুনে স্নিগ্ধা নিজের রাগ দমিয়ে রাখতে না পেরে হেঁসে ফেলল। আর তখনই ক্লাসে সামির স্যার উপস্থিত হলেন। সকলে দাঁড়িয়ে গেলেও নূরা বসে রইল। স্নিগ্ধা নূরা কে টেনে দাড়া করিয়ে দেয়। নূরা বোকা বোকা হেঁসে সামনে তাকালো।। তাকতেই তার পিলে চমকে গেলো।

চলবে~