#খুঁজেছি_তোকে (১২)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
সকালের স্নিগ্ধ আলো চোখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো নূরা’র। চোখ পিটপিট করে তাকায়। নড়তে গেলেই মনে হলো কেউ যেন তাকে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে। নূরা’র ভ্রু আপনাআপনি কুঁচকে আসে। নূরা দ্রুত চোখ মেলে তাকায়। আশেপাশে তাকাতেই বুঝতে পারে সে নিজের রুমে কিন্তু সে তো কাল রাতে বেলকনিতে ছিল। চট করে নূরা পাশে তাকায় আর বড়সড় একটা ঝটকা খায়। সামির স্যার, তাকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছে। সহসাই নূরা চিৎকার করে ওঠে। নূরা’র চিৎকারে ঘুম উবে গেলো সামিরের। চটজলদি উঠে বসে জিজ্ঞেস করে,
“- কি হয়েছে?
নূরা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“- আমি এখানে কেন?
সামির চোখ ডলে ভালো করে তাকায়। নূরা কে নিজের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে,
“- আমি কিন্তু ইচ্ছে করে তোমার কাছে আসিনি নূরা।
নূরা দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“- তাহলে আমি এখানে এলাম কি করে? ঘুমের মধ্যে উড়ে উড়ে তো আর আসতে পারব না?
সামির শুকনো ঢোক গিললো। কল্পনা করল কাল রাতের কথা। নূরা রুম থেকে বেরিয়ে যখন বেলকনিতে চলে গেলো। তখন বিছানায় বসে বসে হাজারো চিন্তা ভাবনা করছিল সামির। নূরা কিভাবে সারা রাত বেলকনিতে থাকবে। নূরা বেলকনিতে আর সে রুমে এটা তো হতে পারে না। তাই বিছানা থেকে নেমে বেলকনিতে আসে। এসে দেখে নূরা টেবিলে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে গেছে। আর ঘুমের মধ্যে ই নূরা কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছিল। সেটা দেখে দৌড়ে গিয়ে নূরা কে ধরে ফেলে। তারপর পাঁজা কোলে করে রুমে এনে বিছানায় শুইয়ে দেয়। আর নিজেও শুয়ে পড়ে। কিন্তু মাঝখানে দুরত্ব বজায় রেখে শোই সামির। কিন্তু নূরা ঘুমের ঘোরে ওকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে। নূরা যেহেতু নিজের ইচ্ছায় ওকে জড়িয়ে ধরেছে তাই আর নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় না।
“- কি হলো চুপ করে আছেন ক্যান?
সামির হকচকিয়ে গেল। তোতলায়ে বলল,
“- কি হয়েছে?
“- সত্যি করে বলুন, আমি এখানে কি করে এলাম। আপনি নিয়ে আসছেন তাই না?
“- আমি এনেছি সত্যি কথা কিন্তু আমি তোমার কাছে আসিনি। বিশ্বাস করো নূর আমি তোমার কাছে আসিনি তুমি ই আমার কাছে এসেছো। ঘুমের ঘোরে আমাকে জড়িয়ে ধরেছো।
“- আমাকে এখানে এনেছেন কেন? আমি কি আপনাকে একবার ও বলেছি আমাকে নিয়ে আসতে। তাহলে কেন আনলাম?
“- তুমি পড়ে যাচ্ছিলে তাই তো নিয়ে এসেছি।
‘- পড়লে পড়তাম তাতে আপনার কি?
“- আমারই তো সব। তুমি পড়লে আমার বাচ্চার কি হতো?
“- আশ্চর্য! এখানে বাচ্চা আসছে কোথা থেকে?
“- তুমি যদি পড়ে গিয়ে কোমড় ভাঙতে তাহলে আমার বাচ্চার কি হতো বলো? তুমি যদি ঠিকঠাক ই না থাকো তাহলে আমাদের বাচ্চা আসবে কোথা থেকে?
কথা টা মুখ ফসকে বলে জিভে কামড় খেল সামির। আর নূরা সামিরের দিকে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে রইল। সামিরের কথার মানে টা যখন নূরা’র মস্তিষ্ক ভালো করে বুঝতে পারল তখন লজ্জায় আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়ালো না। রাগে লজ্জায় সামির কে অসভ্য লোক বলে ওয়াশরুমে চলে গেলো। আর সামির নূরা’র যাওয়ার দিকে হা হয়ে তাকিয়ে রইল।
,
,
নূরা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখল সামির মুখে হাত দিয়ে ভাবুক হয়ে বসে আছে। সেটা দেখে নূরা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো। চুপচাপ আয়নার সামনে দাড়িয়ে মুখে স্নো মাখাতে লাগল। সামির বিছানা থেকে নেমে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে গেলো। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরে ফিরে এলো। ওয়াশরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে নূরা কে উদ্দেশ্য করে বলে,
“- বউ!
নূরা বউ ডাক শুনে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থ হয়ে গেলো। আবারও পিছন থেকে সামির ডেকে ওঠে।
“- ও বউ, একটু শুনো না।
নূরা ঘাড় কাত করে সামিরের দিকে তাকাল। শান্ত গলায় বলল,
“- বলুন।
সামির হেঁসে বলল,
“- একটা ব্রাশ হবে?
“- আমি কোথায় ব্রাশ পাবো?
“- তোমার এক্সট্রা ব্রাশ নেই বাসায়?
“- নাহ।
“- তাহলে এখন আমি কি করব? আসার সময় তো বাসা থেকে আনিনি।
“- তা আমি কি করে বলব?
“- আসলেই কি আর করবে? প্রবলেম নেই আমি তোমার ব্রাশ দিয়েই করে নিচ্ছি। বলে যেতে গেলে নূরা’র কথা’য় থেমে গেলো সামির হাসি মুখে ঘুরে দাঁড়ালো। নূরা চেচিয়ে বলল,
“- খবরদার আপনি আমার ব্রাশ ছুবেন না। আমি আপনাকে ব্রাশ এনে দিচ্ছি।
বলে ওয়ারড্রব থেকে একটা নতুন ব্রাশ বের করে সামিরের হাতে দিয়ে বলে,
“- কারোর ব্যবহারিত জিনিস ব্যবহার করা উচিত না।এটা আমার একদমই পছন্দ না।
সামির হাসছে। হাসি মুখে বলে,
“- অন্যের ব্যবহারিত জিনিস ফাইয়ান চৌধুরী সামির কখনো ব্যবহার করে না বাট বউয়ের জিনিস হলে অন্য কথা।
বলে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো সামির। রেখে নূরা’র থমকানো মুখ। ইদানীং সামির কথা’য় কথা’য় নূরা কে নিজের বউ দাবি করছে। কথা নেই বার্থা নেই বউ বলে ডেকে উঠছে। নূরা কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারছে না। কোথায় গিয়ে যেন আঁটকে যাচ্ছে।
,
,
সকালে নাস্তা করে সামির নিজের গন্তব্যে চলে গেলো। নূরা দুদিন পর আজ ভার্সিটি তে যাবে। নিহাল বাইকে করে নূরা কে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল কিন্তু নিহালের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়ে যাওয়ায় আর পারেনি। সেজন্য সায়ন নূরা কে পৌঁছে দিবে।
বাইক এসে থামে ভার্সিটির চত্বরে। সায়ন নূরা কে নামিয়ে দিয়ে আবার বাইক স্টার্ট দিলো। ভার্সিটির গেটের কাছেই আসতেই এক অঘটন ঘটে গেল। কোথা থেকে একটা মেয়ে হুট করে সায়নের বাইকে সামনে এসে পড়ে। সহসাই সায়ন ব্রেক করে। আর মেয়ে টা সায়নের বাইকে হালকা ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে গেলো। সায়ন বাইক থেকে নেমে দ্রুত মেয়ে টার কাছে গেলো। জিজ্ঞেস করল,
“- মিস ঠিক আছেন আপনি?
মেয়ে টা নিচ থেকে উঠে রাগী চোখে সায়নের দিকে তাকায়। সায়ন করুন চোখে তাকিয়ে বলে,
“- সরি মিস, আমি বুঝতে পারিনি আপনি এভাবে সামনে চলে আসবেন?
মেয়ে টা রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
“- ক্যাম্পাসের মধ্যে বাইক চালান কেন ভাই?
“- আসলে….
“- আমার যদি কিছু হয়ে যেতো তখন কি হতো?
“- কিছু হতো না মিস।
“- আপনি এভাবে মিস মিস করছেন কেন?
“- আপনার নাম তো জানি না। তাই আরকি..!
“- আমি মিসেস ও তো হতে পারি।
সায়ন অবাক হয়ে বলল,
“- আপনি বিবাহিত।
“- অফকোর্স। শুধু বিবাহিতা না দুই বাচ্চার মা ও আমি।
“- সরি আন্টি। আপনাকে দেখে আসলে বোঝা যায় না আপনি দুই বাচ্চার মা।
“- আন্টি… আমাকে দেখে আপনার আন্টি লাগে?
মেয়ে টার রাগী ফেস দেখে সায়নের খুব হাসি পায়। মেয়ে টা যে ইচ্ছে করে নিজেকে বিবাহিত দাবি করছে সেটা সায়ন জানে। সেজন্য ই তো মেয়ে টা কে রাগানোর জন্য আন্টি বলেছে। আর তাতে সফলও হয়েছে সায়ন। সায়ন মুচকি হেঁসে বলে,
“- সত্যি বলতে প্রথমে খেয়াল করিনি। আপনাকে আসলেই আন্টি আন্টি লাগে। তো মিস আন্টি আপনার নাম কি?
মেয়ে টা রেগে মেগে সায়নের উপর দাত কিড়মিড় করে গালি দিতে দিতে চলে গেলো। মেয়ে টা যেতেই সায়ন উচ্চ স্বরে হেঁসে ওঠে।
,
,
কয়েকদিন পর।
চৌধুরী বাড়ির সকলে আহমেদ বাড়ি এসেছে। চৌধুরী বাড়ির সবাই মূলত একটা কারণে এসেছেন।।সামির অবশ্য আসেনি। আহমেদ বাড়ির সবাই মেহমান দের আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মেয়ের শশুর বাড়ি বলে কথা। কোনো কিছুর কমতি রাখতে চান না। শশুর বাড়ির সবার সাথে নূরা ও বসে আছে। নূরা কে অবশ্য জোর করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। স্বপ্না বেগমের কড়া নির্দেশ এক পা যেন বা সরে। সরলে নূরা’র খবর আছে। সেজন্য বাধ্য হয়ে বসে আছে নূরা।
সামিরের বাবা সুলাইমান আহমেদ কে বলেন,
“- ভাই’সাব এবার আমরা নূরা মামনি কে আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে চাই।
চলবে~

