#খুঁজেছি_তোকে (১৬, ১৭,১৮,)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
ফুলে সজ্জিত খাটে ঘোমটা দিয়ে বসে আছে নূরা। ভয়, লজ্জায় আড়ষ্ট সে। একটুপর সামির রুমে ঢুকে। সামিরের আসতে একটু দেরি হয়েছে কারণ তার ভাই বোন গুলো তালে জেঁকে বসেছিল। সামির যেমন শালা শালিদের পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়েছে তেমনি তাদের কেও দিতে হবে। না দিলে সামিরের কোনো ছাড় নেই। সামির প্রথমে একটু ত্যাড়ামি করলেও পরে ঠিকই টাকা দিয়ে দেই। দ্যান রুমে ঢোকে। সামির দরজা বন্ধ করে খাটের কাছে এগিয়ে এলো। সামিরের পায়ের শব্দে নূরা হৃদ স্পন্দন ধুকপুক করে। বিছানার চাদর খামচে শক্ত করে চেপে ধরল।
সামির মাথা থেকে বিয়ের টুপি খুলে বিছানায় গিয়ে বসল। সামিরের বসার শব্দে নূরা কেঁপে উঠল। সামির নরম গলায় নূরা কে ডাক দেয়।
“- নূর।
নূরা কাঁপা গলায় হু বলল। সামির মুচকি হেঁসে নূরা’র ঘোমটা তুলে বলল,
“- মাশাল্লাহ। আসমানের চাঁদ আমার রুমে! এর থেকে বড়ো সৌভাগ্যের আর কি আছে আমার!
সামিরের কথা শুনে চমকালো নূরা। মনে মনে প্রশ্ন জাগলো, সে কি সত্যি ই চাঁদের মতো নাকি সামির তাকে ভালোবাসে বলে তাকে তার কাছে চাঁদের মতো লাগে। এটায় হবে। সে তো খুব বেশি সুন্দর নয়। নূরা’র ভাবনার মাঝেই সামির বলল,
“- তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। একবারে ওযু করে এসো। একসাথে নামাজ পড়বো দু’জন।
নূরা মাথা ঝাকালো। সামির বিছানা থেকে নেমে গেলো। তারপর নূরা ও নামল। নূরা একটা সুতি নীল শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। নূরা যেতেই সামির রুমের ভিতরে পোশাক গুলো পাল্টাতে লাগলো। নূরা বের হওয়ার আগেই সামির চেঞ্জ করে নিলো। সামিরের পড়নে হোয়াইট কালার টি শার্ট আর ব্ল্যাক কালার টাউজার।
নূরা গামছা দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে রুমে থেকে বের হলো। নূরা’র মুখ দিয়ে টপটপ করে পানি চুইয়ে পড়ছে। নূরা’র চুল গুলো কোমর সমান। চুল দিয়ে পানি পড়ছে আর নূরা সেটায় মুছার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামির মুগ্ধ দৃষ্টিতে সদ্য গোসল করা নূরা’র দিকে পলকহীন তাকিয়ে রইল। সামিরের চোখে মুখে শুধু মুগ্ধতা।
নূরা এগিয়ে আসতে আসতে খেয়াল করল সামির ওর দিকে তাকিয়ে আছে। নূরা সামিরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। হাত উঁচু করে তুড়ি বাজিয়ে বলল,
“- এই যে মিস্টার, হা করে কি দেখছেন?
নূরার ডাকে সামিরের ধ্যান ভাঙে। মাথা চুলকে বলে,
“- তোমাকে…!
নূরা লজ্জা পেলো। লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয়। সামির নূরা’র থুঁতনি ধরে উঁচু করে তুলল। তারপর ঠোঁটে হাসি রেখে বলল,
“- অসম্ভব রকমের সুন্দর লাগছে তোমায়!
নূরা কিছু বলল না। শুধু মুচকি হাসলে। এই প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার জন্য নূরা বলল,
“- আপনি রুমের মধ্যেই চেঞ্জ করে নিলেন। একটু অপেক্ষা করতেন। আমি বের হলে তারপর না হয় করতেন।
“- হ্যাঁ, বাট তুমি চাইলে তোমার সাথে আমাকে নিতে পারতে কিন্তু তুমি তো আমায় না নিয়েই চলে গেলে তাই ভাবলাম রুমেই কাজ সেরে ফেলি।
সামিরের কথায় নূরা খুব লজ্জা পেলো। লজ্জায় চলে যেতে গেলে সামিরের কথায় থেমে গেলো নূরা। সামির বলে,
“- তুমি গোসল করছো কেন? অসময় গোসল করা তোমার মোটেও উচিত হয়নি। যদি ঠান্ডা লেগে যায়। তখন তো তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে?
সামিরের কথা শুনে ভ্রু কুচকে ফেললেও পরের কথা গুলো শুনে হৃদয় মাঝে কেমন যেন ভালো লাগা কাজ করল। সামির তাকে নিয়ে চিন্তা করে। একটু নয়, অনেক বেশিই। নূরা মুচকি হেঁসে বলে,
“- সমস্যা নেই। আমার অভ্যাস আছে।
সামির ভ্রু কুঁচকে বলল,
“- তুমি রাত বেরাতে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করো?
“- হ্যাঁ।
“- হোয়াট…?
নূরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“- আপনি এত অবাক হচ্ছেন কেন সামির স্যার?
সামির মেকি রাগ দেখিয়ে বলে,
“- ফারদার যেন গোসল করতে না দেখি।
“- আশ্চর্য!
“- শোনো, তুমি আমার অনেক প্রিয় একজন মানুষ। আমি চাই না ছোটো খাটো কোনো জিনিসে তুমি অসুস্থ হয়ে পড়ো। সো বি কেয়ারফুল। আমার কথা মেনে চলবে। নয়তো….
নূরা বাঁকা হেসে বলল,
“- নয়তো কি করবেন?
সামির এক ঝটকায় নূরা কে টেনে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিলো। সহসা এমন হওয়ায় নূরা কেঁপে উঠল। কাপা কাঁপা গলায় বলল,
“- কি করছেন?
সামির শীতল গলায় বলল,
“- নয়তো খুব খারাপ। আমার কথা না মানলে তোমাকে শাস্তি পেতে হবে প্রিয়।
নূরা হাসল। তবে নিঃশব্দে নয়। শব্দ করে ই জোরে জোরে হেঁসে উঠল। নূরা’র হাসি দেখে সামির চোখ ছোটো ছোটো জিজ্ঞেস করল,
“- তুমি হাসছো কেন?
নূরা হাসি থামিয়ে বলল,
“- আপনার বাচ্চামি দেখে।
“- আমি বাচ্চামি করছি?
নূরা ঠোঁট টিপে হাসি আঁটকে রেখে বলল,
“- আচ্ছা স্যার, আমাকে কি আপনার বাচ্চা মনে হয়? না মানে একটু গোসল করলেই ঠান্ডা লেগে জ্বর বাধিয়ে ফেলবো।
সামির নূরা কে ছেড়ে দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“- আমার ভালোবাসা তোমার কাছে বাচ্চামি মনে হয় নূর? যখন আমি থাকব না তখন তুমি টের পাবা। এই সামিরের বাচ্চামি গুলো খুব মিস করবা।
সামিরের কথা’য় নূরা’র বুকটা ছ্যাত করে ওঠে। সামির কে বলে,
“- এসব আপনি কি বলছেন স্যার?
সামির অভিমানী গলায় বলল,
“- ঠিকই তো বলেছি। আমি যেদিন হারিয়ে যাবো সেদিন……
সহসা নূরা সামিরের মুখ চেপে ধরে ছলছল চোখে তাকিয়ে বলে,
“- খবরদার এসব বাজে কথা বলবেন না। আপনি কোথাও হারিয়ে যাবেন না। আমার কাছেই থাকবেন। কোথাও যেতে দেবো না।
নিজের জন্য নূরা’র চোখে একটু একটু ভালোবাসা দেখে মন টা ভরে গেলো সামিরের। তাই হেঁসে বলল,
“- কোথাও যাবো না। তোমার কাছেই থাকবো৷ হ্যাপি।
নূরা মাথা ঝাকাল। তারপর দু’জনে দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে বেলকনিতে গেলো। দীর্ঘ সময় ধরে দু’জনে গল্প করল।
,
,
,
,
,
খুব ভোরে ঘুম ভাঙল নূরা’র। চোখ পিটপিট করে তাকালো৷ নিজেকে সামিরের বাহুডোরে আবদ্ধ দেখে মুচকি হাসল। নূরা ধীরে ধীরে সামিরের হাত থেকে নিজেকে সরাতে চাইল কিন্তু সামির আরও শক্ত করে চেপে ধরে ঘুমঘুম কণ্ঠে বলল,
“- এত নড়ছো কেন ঘুমাতে দাও?
নূরা চোখ বড়বড় করে বলে,
“- কয়টা বাজে খেয়াল আছে আপনার? ছাড়ুন আমাকে, নিচে যেতে হবে। লোকে কি ভাববে বলুন তো?
সামির চোখ বন্ধ করে হেঁসে বলল,
“- কি আর বলবে, বলবে নতুন বউ শুয়ে শুয়ে জামাইয়ের সাথে রোমান্স করছে, প্রেম করছে।
“- ছিহ, কি অসভ্য আপনি?
“- সত্যি কথা বললাম বলে অসভ্য হয়ে গেলাম। তবে সমস্যা নেই বউয়ের কাছেই তো হয়েছি।
“- আপনি আসলেই অসভ্য।
“- জানি তো।
“- মিচকে শয়তান।
সামির লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসে বলে,
“- কি বললে?
নূরা হকচকিয়ে গেল। আমতা আমতা করে বলে,
“- কই কি বললাম? কিছু বলিনি তো?
“- কিন্তু আমি যে শুনলাম।
“- কি শুনছেন?
“- কিছু না। বলে ধড়াম করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। নূরা কে টান দিতে যাবে ঠিক তখনই নূরা বিছানা থেকে লাফ দিয়ে নেমে যায়। সামির চোখ ছোটো ছোটো করে বলে,
“- ইঁদুরের মাথা লাফাচ্ছো কেন? চুপচাপ আমার বুকে আসো।
নূরা মুখ বাঁকিয়ে বলে,
“- আমার কি ঠেকা পড়ছে আপনার বুকে গিয়ে শুবো।
নূরা’র কথা’য় হা করে তাকিয়ে রইল। নূরা আবার বলল,
“- আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি তারপর আপনি ফ্রেশ হতে যাবেন। দ্যান দু’জনে নিচে যাবো। বলে ল্যাগেজ থেকে একটা লাল শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো নূরা। আর সামির হা হয়ে চেয়ে রইল। এ সে কোন নূরা কে দেখছে। চুপচাপ সেই নূরা নাকি তেজি লঙ্কা। কথা’য় কথা’য় মেয়ে টা তার মুখের উপর কথা বলছে। ভেবে হাসলো সামির। কারণ ফাইয়ান চৌধুরী সামিরের বউয়ের তেজ থাকবে না। এটা কি মানা যায়। মোটেও না। সে তো এমন নূরা কেই দেখতে চেয়েছিল। অবশেষে পেয়েছে। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে সে নূরা’র মতো মানুষকে ভালোবেসে নিজের করে পেয়েছে।
চলবে~
রিচেক দেওয়া হয়নি।
#খুঁজেছি_তোকে (১৭)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
নূরা হালকা সেজেগুজে রুম থেকে বের হলো নিচে যাওয়ার জন্য। নূরা’র পড়লে লাল জামদানী শাড়ি। কানে এক জোড়া স্বর্ণের দুল নাকে ডায়মন্ডের সাদা চকচকে নাকফুল। হাতে মোটা স্বর্ণের বালা। এগুলো সবই চৌধুরী বাড়ি থেকে দেওয়া হয়েছে। নূরা’র বাবা’র বাড়ি থেকে অনেক গয়না দেওয়া হয়েছে। যেগুলো নূরা সযত্নে ডয়ারে তুলে রেখেছে। সে যেহেতু নতুন বউ। তাই এগুলো পড়েছে নয়তো সে পড়তো না। এসব স্বর্ণ টর্ণ নূরা’র পড়তে একদমই ভালো লাগে না।
নূরা একা নামতে চায়নি সামির বলেছে, তুমি বের হয়ে একটু আগাও আমি আসছি। সামিরের কথা মতো নূরা নিচে নামছিল। কিন্তু যখন সে নিচে যাওয়ার জন্য সিঁড়িতে পা দিবে তখনই একজন মহিলার কথা শুনে নূরা’র পা দু’টো আচমকা থেমে গেলো।
নূরা দাঁড়িয়ে গেলো। ভদ্র মহিলার কথা শুনে নীরবে কেঁদে ওঠে। ভদ্র মহিলা নূরা’র শাশুড়ী কে বলছেন,
“- আপা এই মাইয়া তো সেদিন বিয়ের রাতেই পালায় গিছিলো তাহলে আবার সেই মাইয়া ডা রে চৌধুরী বাড়ির বউ করে আনছেন ক্যান? যে মেয়ে বিয়ের রাতে পালায় যাইতে পারে সেই মাউয়া দুই বছর পর ফিরে এসে সংসার করবো এইডা কি করে হয় কন? এই মাইয়া চৌধুরী বাড়ির বউ হওয়ার যোগ্য না। আমাদের সামির লাখে একটা পোলা ও এর থেকেও ভালো কাউরে ডিজার্ভ করে।
সামির রুম থেকে সবে বেরিয়ে এলো। সিঁড়ির কাছে আসতেই এক জোড়া অশ্রু সিক্ত চোখ। হ্যাঁ তার প্রেয়সীর চোখে পানি। সামির সেটা দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে,
“- এই পাখি কাদছো কেন তুমি ? কি হয়েছে? কে কি বলছে বলো আমায়?
নূরা হেঁচকি তুলে কেঁদেই চলেছে। প্রেয়সীর চোখের পানিতে সামিরের হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেলো। মাথায় উঠে গেলো রাগ। তবে এই মুহূর্তে আগে বউ কে সামলানো উচিত বলে সামিরের মনে হলো। তাই নূরা কে বলল,
“- পাখি কাঁদে না জান আমার! আমি আছি তো কি হয়েছে বলো আমায়?
নূরা কান্না থামিয়ে দিলো। এখন সামির কে কিছু বলতে চাইলো না। চোখের পানি মুছে হালকা মুচকি হেঁসে বলল,
“- কিছু হয়নি।
সামির সন্দিহান চোখে বলে,
“- তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলে কেন?
“- জানি না। নিচে চলুন বলে পা বাড়ালো নূরা। সামির সেখানে ঠাই দাঁড়িয়ে রইল। সিঁড়ির রেলিং ধরে ড্রয়িংরুম পর্যবেক্ষণ করল। ড্রয়িংরুমের সোফায় একজন মাঝ বয়সী মহিলা পান চিবোচ্ছেন আর হেঁসে হেঁসে তার মায়ের সাথে কথা বলছেন। আপাতত ড্রয়িংরুমে কেউ নেই। সামিরের যা বোঝার বোঝা হয়ে গেলো। সামির রহস্য ময় হেসে নিচে নামল।
নূরা ভদ্র মেয়ের মতো গিয়ে শাশুড়ির পাশে বসল। সামিরের মা রিতা চৌধুরী মুচকি হেঁসে নূরা কে বলেন,
“- মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে না তো মা?
নূরা মানুষ টার দিকে অবাক হয়ে তাকায়। একটু আগে যে মানুষ টার সামনে তার নামে এত গুলো নিন্দা করল সেই মানুষ টা এখন তার সাথে হেঁসে বলছে। নূরা’র মনে প্রশ্ন জাগে, মহিলার প্রশ্নে রিতা চৌধুরী কি জবাব দিয়েছিলেন। নূরা শুনতে পায়নি। রিতা বেগম সচারাচর খুব একটা জোরে কথা বলেন না৷ খুব আস্তে কথা বলেন। সেজন্য নূরা শুনতে পায়নি। নূরা’র ভাবনার মাঝেই তিনি ফের বললেন,
“- কি হলো নূরা? কি ভাবছো? সবকিছু ঠিক ঠাক আছে তো।
নূরা চমকে উঠল। তারপর মুচকি হেঁসে বলল,
“- জ্বি মা, সব ঠিকঠাক আছে।
“- সামির ঘুম থেকে উঠছে।
নূরা জবাব দেওয়ার আগেই সামির সেই মহিলার পাশে শব্দ করে বসে হেঁসে বলল,
“- চলে এসেছি মা।
রিতা বেগম হেঁসে বললেন,
“- সবার নাস্তা করা হয়ে গেছে। তোরা দু’জন গিয়ে করে নে বাবা। আমি টেবিলে সব সাজায় রেখেছি।
নূরার মনে মনে খারাপ লাগল। প্রথম দিন শশুর বাড়ি এসে সবার দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছে। বিষয় টা তার কাছে লজ্জা জনক লাগল। তাই মিনমিন করে বলে,
“- সরি মা।
রিতা বেগম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন,
“- কেন?
নূরা মাথা নিচু করে বলে,
“- আসলে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছে মা।
রিতা বেগম হেঁসে বললেন,
“- সমস্যা নেই মা। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
,
,
পাশ থেকে ভদ্র মহিলা বললেন,
“- বিয়ের প্রথম দিন এত দেরি করে ঘুম থেকে কেউ ওঠে মেয়ে? এটা শশুর বাড়ি তোমার বাবার বাড়ি না।
মহিলার কথা শুনে মুখ কালো হয়ে গেলো নূরা’র। নূরা চুপ করে রয়েছে। রিতা বেগম বললেন,
“- আপা, আজ থেকে এটা ওর নিজের বাড়ি। ওর যখন মন চাই তখন ঘুম থেকে উঠবে। তাতে কেউ বাঁধা দিবে না।
মহিলা মুখ বাকিয়ে বললেন,
“- আমি অবাক না হয়ে পারছি না আপা। মেয়ে টা এত বড়ো অন্যায় করার পরও আপনি এভাবে ওর হয়ে কথা বলছেন আপা?
রিতা বেগম শক্ত গলায় বললেন,
“- নূরা কি করেছে না করেছে সেটা আপনার দেখতে হবে না আপা। আমাদের বউ, আমাদের মেয়ে। আমরা বুঝে নিবো। আপনি নতুন বউ দেখতে এসেছেন দেখে চা মিষ্টি খেয়ে চলে যান।
রিতা চৌধুরী র কথা শুনে মহিলার মুখ থমথমে হয়ে গেলো। তিনি ভাবছিলেন কি আর হলো কি? মহিলা রাগে ভিতরে গজগজ করছে। তিনি আবার বললেন,
“- সে তো চলেই যাবো কিন্তু যাওয়ার আগে আরেকটা কথস বলে যাই আপা।
রিতা চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
“- কি কথা?
মহিলা ক্রুর হেঁসে নূরা’র দিকে তাকায়। তারপর বলেন,
“- মেয়ে লোক কে এত মাথায় তুলবেন না আপা। পরে কিন্তু পস্তাতে হবে। তার চেয়ে আগে ভাগেই….
ব্যাস ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো সামিরের। এতক্ষণ মায়ের জবাব দেওয়া গুলো সে মুগ্ধ হয়ে দেখছিল কিন্তু এই মহিলা ভালো কথা বলার মানুষ নন। সামির চেচিয়ে বলল,
“- অনেক বলে ফেলেছেন আন্টি। দরজা খোলা আছে এবার আপনি আসতে পারে। ফারদার আপনাকে যেন চৌধুরী বাড়ির ত্রিসীমানায় না দেখি।
সামিরের রাগান্বিত মুখ দেখে মহিলা ভয়ে চুপসে গেলেন। আর কথা বাড়ালেন না। চুপচাপ কেটে পড়ায় ভালো বলে মনে হলো মহিলার। তাই চুপ করে উঠে গেলেন। যাওয়ার আগে তিনি নূরা’র দিকে রাগি চোখে তাকালেন। তাকে এভাবে তাকাতে দেখে সামির সোফা থেকে উঠে চেচিয়ে বলল,
“- ওর দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে লাভ নেই। আপনার মতলব আমার ভালো করেই জানা আছে। বের হোন বাড়ি থেকে।
“- কাজ টা তুমি মোটেও ঠিক করলে না সামির। এর ফল কিন্তু ভালো হবে না। আমিও দেখে নিবো এই মেয়ে কতদিন টেকে।
বলে তিনি হনহন করে চৌধুরী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন। ভাইয়ের চিৎকার চেচামেচি শুনে সামিয়া রুম থেকে বের হয়ে আসে। ড্রয়িংরুমে এসে জিজ্ঞেস করে।
“- ভাইয়া কি হয়েছে? এভাবে চেচামেচি করছো কেন?
সামির রেগে বলল,
“- ওই মহিলা কে যেন আমার বাড়িতে আর না দেখি মা।
রিতা চৌধুরী ছেলের রাগ দেখে ভয় পান। সামির সহজে রাগে না কিন্তু একবার রেগে গেলে হুলস্থুল বেঁধে যায়। সেজন্য বললেন,
“- শান্ত হু বাবা, বউমা কে নিয়ে খেতে বোস আমি খাবার দিচ্ছি।
সামির নিজেকে শান্ত করল। তারপর নূরা’র হাত ধরে খাবার টেবিলে নিয়ে গেলো। নূরা অবাক হয়ে শুধু মানুষ টা কে দেখেই যাচ্ছে। অথচ একটা সময় এই মানুষ টা কে সে পছন্দ করত না। বিয়ে হওয়ার পরও বাসা থেকে পালিয়ে গিছিলো। আসলেই ওই মহিলা তো ভুল কিছু বলেননি। তিনি ঠিকই বলেছেন, সে তো অন্যায় করেছে। সামিরের সাথে ঘোর অন্যায় করেছে। সামিরের ভালোবাসা সে পায়ে ঠেলে ফেলেছে। কিন্তু সে আর এই ভুল করবে না। নিজের সবটুকু দিয়ে সে এই মানুষ টাকে ভালোবাসবে। আর কষ্ট পেতে দিবে না।
নূরা সামিরের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে এক মনে কথা গুলো ভেবেই চলেছে। তখনই সামির মিষ্টি সুরে বলল,
“- এভাবে কি দেখছো?
নূরা চমকে ওঠে। সামিরের দিকে তাকিয়ে থতমত খেয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
“- আপনাকে..!
নূরা বিড়বিড় করে বললেও সামির ঠিকই নূরা’র কথা শুনে ফেলে। সামির বাকা হেঁসে বললেন,
“- আগে নাস্তা করে নাও বউ। তারপর না হয় আমায় দেখো।
নূরা খুব লজ্জা পেলো। লজ্জায় আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো শাশুড়ী আছে কি না। না নেই। তিনি খাবার বেড়ে দিয়ে অনেক আগেই চলে গেছেন। ভেবে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে হাত ধুয়ে খাওয়া শুরু করে।
,
,
এদিকে সামিয়া হা হয়ে ভাই ভাবির দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে আসলে হয়েছে টা কি! সামিয়া কে এভাবে হা হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে রিতা চৌধুরী মেয়ের মাথায় থাপ্পড় বসিয়ে বলেন,
“- হা করে কি দেখছিস তুই?
সামিয়া মাথা ডলতে ডলতে বলে,
“- উফস আম্মু মারছো কেন?
“- ভাই ভাবির দিকে নজর দিস কেন?
“- আম্মু নজর দিচ্ছি না। দু’জন কে অবাক হয়ে দেখছি। একটু আগে যে মানুষ টা এত রেগে গেলো সেই মানুষ টা এখন হেঁসে বউয়ের সাথে কথা বলছে। বিষয় টা ভাববার না বলো? কারণ ভাইয়া রেগে গেলে সহজে শান্ত হয় না তো।
রিতা চৌধুরী মুচকি হেঁসে বললেন,
“- সবকিছু ভালোবাসা রে পাগলী! ভালোবাসা থাকলে সব সম্ভব!
চলবে~
আজকের পর্ব টা কিন্তু যথেষ্ট বড়ো করে দিছি। কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই।
#খুঁজেছি_তোকে (১৮)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
দেখতে দেখতে আরও বেশকিছু দিন কেটে যায়। সামির নূরা কে নিয়ে আহমেদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে। নূরা এখন শ্বশুর বাড়ি থেকেই ভার্সিটিতে যাওয়া আসা করে। ভার্সিটির কম বেশি সবাই জানে প্রফেসর ফাইয়ান চৌধুরী সামিরের ওয়াইফ মাইশা আহমেদ নূরা। দুপুরে ভার্সিটি থেকে ফিরে নূরা ঘুমিয়েছিল। সামির নূরা কে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আবার কোথায় যেন একটা চলে গেছে। নূরা সেসবে মাথা ঘামায় নি। গোসল করে ঘুমিয়েছে। নূরা’র ঘুম ভাঙে বিকেল সাড়ে পাঁচ টার সময়। তাও আবার শাশুড়ির ডাকে। নূরা ঘুম ঘুম চোখে মাথা চেপে উঠে বসে। শাশুড়ী মা কে জিজ্ঞেস করে।
“- কি হয়েছে আম্মু?
রিতা চৌধুরী বেশ চিন্তিত গলায় বললেন,
“- সামির কোথায়? এখনো বাসায় ফেরেনি কেন নূরা?
নূরা হাই তুলে বলে,
“- আম্মু আপনার ছেলে যাওয়ার আগে বলে গেছে একটা কাজে যাচ্ছি। আসতে একটু দেরিতে হতে পারে। টেনশন করার দরকার নেই। মা জিজ্ঞেস করলে মা কে বলে দিতে। কিন্তু আমি আপনাকে বলতে একদমই ভুলে গেছি আম্মু।
“- আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি রেস্ট নাও। বলে রিতা চৌধুরী চলে গেলেন। ঘুম ভেঙে যাওয়ায় নূরা’র আর ঘুম এলো না। তাই ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো। তারপর রুম থেকে বেরিয়ে সোজা ননদের রুমে চলে গেলো। নূরা’র একমাত্র ননদ সামিয়া। সামিয়া নূরার এক বছরের ছোটো। সামিয়া খাটে আধশোয়া হয়ে তার উডবি হাজবেন্ড রিফাতের সাথে কথা বলছিল। ভাবি কে দেখে কান থেকে ফোন নামিয়ে বলল,
“- কিছু বলবে ভাবি? কোনো কিছু দরকার?
নূরা মুচকি হেঁসে বলল,
“- তেমন কিছু না। তোমার সাথে একটু সময় কাটাতে আসলাম।
সামিয়া মুচকি হেঁসে বসতে বলল। তারপর ফোন কানে নিয়ে বলল,
“- রিফাত তোমাকে পরে কল করছি। ভাবি এসেছে ভাবির সাথে গল্প করব।
সামিয়ার কথার মধ্যে নূরা বলে উঠল, ইশশ তোমাদের ডিস্টার্ব করে ফেললাম। তোমরা বরং কথা বলো আমি চলে যাচ্ছি। বলে উঠতে গেলে সামিয়া নূরা’র হাত টেনে ধরে বসিয়ে বলে, কোনো প্রবলেম নেই ভাবি। কথা তো আমরা সবসময় বলে থাকি এখন না হয় তোমার সাথে গল্প করি। বলে কল কেটে দেয়।
,
,
“- তো বলো শ্বশুর বাড়ি কেমন কাটছে? জামাইয়ের আদরের কেমন খাচ্ছো?
সামিয়ার লাস্টের কথা’য় নূরা লজ্জা পেলো। লজ্জায় ঠোঁট কামড়ে বলে,
“- কি যে বলো না তুমি?
সামিয়া জোরে হেঁসে বলে উঠল,
“- এত লজ্জা পাওয়ার কি আছে উহু। লজ্জা পেও না তো। আমি তোমার একমাত্র ননদ,নমদের সাথে সব শেয়ার করতে পারো কিন্তু।
নূরা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। মেয়ে টা বেশ লজ্জা পাচ্ছে। সামিয়া যে এমন কিছু বলবে ভাবিনি। ভাবলে হয়তো আসতোই না। ভাবি কে চুপ থাকতে দেখে বলল,
“- কি হলো ভাবি কিছু বলছো না যে?
“- আসলে….
“- বুঝতে পারছি। তুমি এখনো লজ্জা পাচ্ছো। আমি মজা করে বলেছি। তুমি কিছু মনে করো না।
সামিয়া নূরা’র হাত ধরে বলল,
“- শোনো ভাবি, তুমি আমায় বন্ধু ভাবতে পারো। তোমার সকল সমস্যার কথা আমায় বলতে পারো। এ বাড়িতে তুমি নতুন। মানিয়ে গুছিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। আর শোনো আমি কিন্তু অন্য সব ননদের মতো হতে চাই না। আমি তোমার ভালো ননদ হতে চাই।
সামিয়ার কথা শুনে নূরা হাসলো। তারপর বলল,
“- তুমি তো আমার ভালো ননদ। আমিও কিন্তু অন্য ভাবিদের মতো হতে চাই না। আমিও তোমার ভালো ভাবি হতে চাই। বুঝছো ননদিনী রাই বাঘিনী। বলে দু’জনে হেঁসে উঠল। ঠিক তখনই দরজা থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসলো। সামির দরজার সামনে দাড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“- নূর রুমে এসো।
হঠাৎ করে সামির কে দেখে নূরা চমকালো। আসলে সামির রুমে ঢুকে নূরা কে না পেয়ে সোজা সামিয়ার রুমে চলে এসেছে। নূরা ভ্রু কুঁচকে সামিরের দিকে তাকিয়ে রইল। মানুষ টা কে দেখে বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছে। নূরা আর বসে না থেকে বিছানা থেকে নেমে চলুন বলে পা বাড়ালো।
সামিরের পিছনে পিছনে হাঁটছে নূরা। সামির রুমে ঢুকে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো। নূরা বিছানায় বসে সামিরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। ঠিক তখনই সামিরের ফোনে নোটিফিকেশনের শব্দ এলো। নূরা ফোনের দিকে তাকালো। ফোন টা বালিশের কাছে রয়েছে। নূরা ফোন টা নিতে গিয়েও নিলো না। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আবারও নোটিফিকেশন এলো। নূরা কৌতুহলী হয়ে ফোন টা হাতে নিলো। কিন্তু ফোনের স্কিনের মেসেজ দেখে নূরা’র পুরো পৃথিবী থমকে গেলো৷ নূরা’র হৃদয় যেন ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেলো। নূরা’র হাত পা কাঁপছে। খুব কাঁপছে। নূরা কাঁপা গলায় মেসেজ টা পড়ে আগের ন্যায় ফোন টা রেখে দিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বসলো। কিন্তু নূরা স্বাভাবিক হতে পারছে না। অস্থির লাগছে। চোখ মুখে নেমে আসে আঁধার। তবুও নিজেকে স্বাভাবিক করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে গেলো।
কিছুক্ষণের মধ্যে সামির ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো। গামছা দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে চোখ গেলো নূরা’র দিকে। নূরা কে কেমন চিন্তিত দেখে অবাক হয়ে কাছে এসে জিজ্ঞেস করল,
“- নূর…
নূরা চমকে বলে উঠল,
“- কে…..
সামির আশ্চর্য হয়ে বলল,
“- কে মানে? আমি তোমার স্বামী।
নূরা শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“- ওহ আপনি। কিছু বলছেন?
“- তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? কিছু কি হয়েছে? সবকিছু তো ঠিকঠাক ই ছিলো।
নূরা হালকা হাসার চেষ্টা করে বলে,
“- কই কিছু হয়নি তো। সব কিছু ঠিকঠাক আছে।।
সামির কিছুক্ষণ নূরা’র দিকে তাকিয়ে রইল। নূরা কে বোঝার চেষ্টা করল কিন্তু ঠিক বুঁজে উঠতে পারল না।
,
,
রাত নয়টা। চৌধুরী বাড়ির সবাই খেতে বসেছে। নূরা শাশুড়ির হাতে হাতে সবকিছু এগিয়ে দিচ্ছে। তারপর নিজেও খেতে বসল। কিন্তু গলা দিয়ে খাবার নামছে না তার। সবার সামনে থেকে উঠেও যেতে পারছে না। চুপ করে এক লোকমা দু লোকমা করে মুখে দিতে লাগলো। সামির লক্ষ্য করল কিন্তু কিছু বলল না। রুমে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে কি হয়েছে।
আলতাফ চৌধুরী খেতে খেতে নূরা কে বলল,
“- বৌমা তুমি খাচ্ছো না কেন? চুপ করে বসে রয়েছো যে।
নূরা চমকে উঠল। মুচকি হেঁসে বলল,
“- খাচ্ছি তো বাবা।
“- কই খাচ্ছো? যে ভাত গুলো নিয়েছো সবই তো প্লেটে রয়েছে। তরকারি কি ভালো হয়নি মা?
নূরা মৃদু হেসে বলল,
“- তরকারি ভালো হয়েছে বাবা। আমি খাচ্ছি।
,
,
,
সামিরের আগেই নূরা রুমে এসে শুয়ে পড়ে। কাঁথা জড়িয়ে মুড়ি দিয়ে আছে নূরা। সামির বেশ কিছু সময় পর রুমে আসে। খাওয়া শেষে বাবার সাথে গল্প করছিল তাই রুমে আসতে একটু দেরি হয়েছে তার। রুমে ঢুকে নূরা কে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে গেলো। দরজা বন্ধ করে বিছানায় এসে বসলো। বার কয়েক ডাকলো কিন্তু নূরা কোনো রেসপন্স করলো না। সামির খুব অবাক হলো। সাধারণত নূরা এমন কিছু করে না। বিয়ের যেগুলো দিন কেটেছে প্রত্যেকটা দিন নূরা সামিরের বুকে ঘুমিয়েছে আর আজ নূরা বালিশে। বিষয় টা মানতে পারছে না। কিন্তু নূরা’র কি হয়েছে সেটায় তো বুঝতে পারছে না। সামির বালিশের কাছ থেকে নিজের ফোন টা হাতে নিলো। তারপর সেটা টেবিলের উপর রেখে দিলো। ফোন অন ও করল না। সামির শুয়ে পড়ল। নূরা কে নিজের কাছে টেনে নিলো। নূরা চুপটি করে সামিরের বুকে পড়ে থাকল।
এভাবে অনেক সময় কেটে গেলো। সামির গভীর ঘুমে আসন্ন কিন্তু নূরা সে তো ঘুমোই নি। সামিরের বুক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলো। তারপর বিছানা থেকে নেমে বেলকনিতে চলে গেলো।
গভীর রাতে সামিরের ঘুম ভেঙে গেলো। বুকে নূরা কে না পেয়ে আঁতকে উঠল! ভয়ে লাফ দিয়ে উঠে বসল। দ্রুত রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলো কিন্তু রুমে নূরা নেই। ভয়ে সামিরের আত্মা কেঁপে উঠল।
চলবে

