#বাতাসে_বহিছে_প্রেম
#আয়রা_তাবাস্সুম
পর্ব ০১
আমি তখন সবেমাত্র ইউনিভার্সিটি তে ক্লাস শুরু করেছি। দু দিন ক্লাস করে পাচঁদিন বাসায় চলে যাই। আমার আম্মু অবশ্য বিষয়টা নিয়ে বেশ খুশি। কারণ আমি হলের খাবার খেতে পারছি কিনা ঠিকঠাক ঘুমোতে পারছি কিনা এসব নিয়ে সারাক্ষণ টেনশন হয় তার। তাই ল্যাব টিউটোরিয়াল না থাকলে আমি বাসায় এসে তার চোখের সামনে ঘুরঘুর করলে সে খানিকটা নিশ্চিন্ত ই থাকে। আমিও নিশ্চিন্ত থাকি তবে সেটা আমার নিজস্ব কারণে।
আমার আব্বু জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর। সারাটাদিন কোর্ট কাছারিতে দিন কাটে তার৷ দুপুরের খাবার টা অব্দি শান্তিতে খেতে পারে না বেচারা। ভাতের লোকমা মুখে নিতেই তার ফোন বাজতে থাকে অনবরত। তো হলে থাকলে পুরো দিন আমার টেনশনে থাকতে হয় আমার আম্মু একলা বাসায় ঠিক আছে কিনা৷ কারণ আব্বু তো বাসায় থাকে না বেশিরভাগ সময়।
বড় সমস্যা হলো আমাদের অপজিট ফ্ল্যাটেও কোনো ফ্যামিলি নেই। আধবুড়ো এক লোক স্রেফ রাতের বেলা টা কাটায় সেখানে৷ বুয়া সকাল সকাল কাজ সারে তার বাসায় এরপর আমাদের বাসায় করে। সম্ভবত এনজিওর চাকরি করে লোকটা। আর বাকি সময় তার বাসার দরজায় তালা ঝুলানো। তাই বলতে গেলে পুরো দিন আমাদের ফ্লোরে আম্মু একলাই থাকে। আম্মু তাই খুব চেয়েছিল আমার যাতে নিজের শহরের মেডিকেল কলেজে চান্স হয়। চান্স না হওয়ায় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিলাম।
আমার চান্স হলো চবি তে। আমার নিজের শহর থেকে বহুদূরে। তখন আম্মুর খুব মনখারাপ হলো বিষয়টা নিয়ে। জোরও করল আমাকে প্রাইভেট মেডিক্যালে অন্তত পড়তে। ডাক্তারির প্রতি আমার অত ফ্যাসিনেশন না থাকায় আমি রাজি হলাম না৷ ভালো করেই জানতাম ডাক্তারির পড়া ভীষণ খাটনির। তাছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে না পড়ার বোকামি তো মানুষ সচরাচর করে না। আমিও করলাম না৷ আমি ভর্তি হয়ে গেলাম চবিতে। সেখানে ক্লাস করি আর ক্লাস শেষে হলে ফিরে বাকিটা সময় আম্মুর টেনশনে মরি। এই যাচ্ছিল আমার রোজকার নিয়ম!
কিন্তু সেবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন বন্ধে বাসায় গিয়ে আমার দুশ্চিন্তা দূর হলো অনেকটাই। কারণ আমাদের অপজিট ফ্ল্যাটে নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। আগের লোকটা কি কারণে জানি বাসা ছেড়েছে৷ সম্ভবত এনজিওর প্রজেক্ট ডিউরেশন শেষ তার। এবারে বাসা ভাড়া দেয়া হলো এক ফ্যামিলি কে৷ আম্মুর কাছে শুনলাম ভদ্রমহিলার সাথে আম্মুর সখ্যতা জমেছে বেশ৷ অবশ্য হাতেনাতে প্রমাণও পেলাম। এই যেমন আমি ক্লাস শেষে হলে ফিরে আম্মুকে কল দিলে কলে পাই না। পরে আম্মু কল ব্যাক করে বলে আন্টির বাসায় ছিল সে। ফোন হাতে ছিল না এটাসেটা। আমার রাগ হলো না বরং ভালো লাগল৷ যাক আম্মু সঙ্গী পেয়েছে একজন৷
অবশ্য বান্ধবী জুটিয়ে ফেলার ব্যাপারটায় পুরো ক্রেডিট আমার আম্মুর না। আমাদের নতুন প্রতিবেশী আন্টিও বেশ মিশুক। সেটা আমি বাসায় গিয়ে কদিনেই টের পেলাম। এমনিতে হলে থাকলে সকাল ন টার ক্লাসের জন্য ঘুম ঠিকঠাক হয় না আমার। এজন্য বাসায় এলে বেলা এগারোটার আগে সহজে কোনোদিনই ঘুম ভাঙে না। তো রোজকার অভ্যেসে কোনোমতে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করতে করতে আম্মুকে এ রুম ও রুম খুঁজছি তখনই আম্মুর সাড়াশব্দ পেলাম বাইরে থেকে।
আম্মু মেইন দরজা আধখোলা রেখে রুবি আন্টির সাথে গালগল্প জুড়েছে তার বাসার ড্রয়িংরুমে। আসার পর থেকেই আম্মুর সাথে মহিলার বেশ সখ্যতা দেখেছি আমি। কখন আম্মু তাকে এক আইটেম দিচ্ছে। আবার কখন খেতে বসার সময় আমি নতুন আইটেম পাচ্ছি। জানতে চাইলে আম্মু বলে পাশের ফ্ল্যাটের আন্টি দিয়ে গেছে। যদিও আন্টির সাথে সরাসরি কথা হয়নি আমার একবারও। তবু আমার মহিলার প্রতি ভালো ধারণা ই জন্মাল।
তাই এতকিছু না ভেবে আম্মুকে ডেকে আনতে আমি তাদের দরজার সামনে গিয়ে দাড়াঁলাম। আমাকে এরকম উঁকিঝুঁকি মারতে দেখে আন্টি একগাল হেসে ডাকলেন আমায়। এর আগে আমাদের পরিচয় হয়নি বলতে গেলে। আমি জানতাম তারা আমাদের নতুন প্রতিবেশী৷ আর আন্টি জানতেন আম্মুর একমাত্র মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। যে আম্মু কে ঘন্টায় ঘন্টায় কল দিয়ে বিরক্ত করে। যার ফোনকলের যন্ত্রণায় আম্মু আন্টির সাথে ঘন্টাখানেক বসে আরাম করে গল্প করতে পারে না।
আমি সালাম দিতেই প্রথম কথা আন্টি ই বললেন৷ ‘আল্লাহ! তুমি দিতিয়া? তুমি তো এট্টুকুনি একটা মেয়ে। ক্লাস সেভেন এইটে পড়ার কথা তোমার। তুমি ভার্সিটি তে পড়ো?’ আমি প্রতিত্তোরে কিছু বলব সেই সুযোগ আন্টি আমাকে দিলেন না৷ তিনি নিজের মতনই কথা বলে গেলেন৷ আমি তখনই বুঝে গেলাম আম্মুর সাথে আন্টির বন্ধুত্ব হলো কিভাবে। আমার আম্মুর স্বভাবের সাথে ভালোই মিল আন্টির। আম্মুও সামনের মানুষটার কথা না শুনেই একনাগাড়ে নিজের কথা বলে যেতে খুব পছন্দ করে। নিজের কথা শেষ করার পরে তার খেয়াল হয় সামনের জন কিছু বলেছে।
আন্টি তখন নিজের মতো কথা বলেই চলেছেন, ‘ভাবী! আপনি দিতিয়া কে আমায় দিয়ে দিন। আচ্ছা একসপ্তাহ রাখতে দিন আমার কাছে। আমি খাইয়ে ওর শরীর ফেরাব৷ ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে এরকম রোগাপাতলা হলে হবে? আমার ছেলে ও কে দেখলে বলত একে এক্ষুনি পুষ্টিবিদ দেখাও আম্মু। এই মেয়ে তো অপুষ্টি তে ভুগছে!’ নিজের কথায় আন্টি নিজেই খিলখিল করে হেসে ফেললেন৷ আমার আম্মুও বেস্ট ফ্রেন্ড গু খেলে আমিও গু খাব থিওরী অনুযায়ী নিজের মেয়েকে নিয়ে রসিকতায় নিজে হেসে ফেলল৷ আমি দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করলাম আগাগোড়া বিষয়টা৷
রুবি আন্টি নির্ভেজাল সহজ সরল টাইপের মানুষ। সেটা আমি কয়েকদিনের মধ্যেই টের পেলাম। আন্টির দুটো দোষ বাদ দিলে আন্টিকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে একশতে একশ নম্বর দেয়া যাবে। দুটো দোষের প্রধান টা হলো আন্টি একনাগাড়ে তার সন্তানদের গুণগান গেয়ে যেতে পারে। আন্টির এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের অবশ্য বিয়ে হয়েছে এবং সে জার্মানির একটা ইউনিভার্সিটির লেকচারার। রাদিয়া আপুর কথাবার্তা আন্টি বললে আমি বিরক্ত হই না বিশেষ। কারণ স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স পিএইচডি সব করে ফরেইন একটা ইউনিভার্সিটির লেকচারার হওয়া যেনতেন কথা না। আমার বিরক্তির একমাত্র উৎস ছিল আন্টির ছেলের প্রশংসা৷ সেটার অবশ্য একটা ব্যাকস্টোরিও আছে।
আন্টির ছেলে তখন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে পড়ছে। থার্ড ইয়ারে। আর সেটা নিয়ে আন্টির গর্বের শেষ নেই। আর এই একই কারণে আন্টি এবং তার ছেলের প্রতি আমার বিরক্তির শেষ নেই। আমার আম্মুর মেডিক্যাল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রতি আলাদা টান আছে। ফেসবুকেও তার ফ্রেন্ডলিস্টে একদম অপরিচিত কারো ছেলেমেয়ের মেডিক্যালে চান্স হলে আম্মু আমাকে লিংক পাঠাবে সেটার। পাশাপাশি আমার যে মেডিক্যালে চান্স হলো না সেটা নিয়ে তার আফসোসও আছে খানিকটা। তো এরকম অবস্থায় রুবি আন্টির তার ছেলের গুণকীর্তন শুনানোর ব্যাপারটা আমাকে ভালোই ঝামেলায় ফেলত৷ বেলা বারোটার দিকে একসাথে চা খেতে খেতে আন্টি যখন তার ছেলে ক টা বাজে ঘুমোয় ওয়ার্ডে রোগী রা কি বলে তাকে এসব নিয়ে গালভরা গল্প বলে আম্মু আমাকে চোখের ইঙ্গিতে বারবার একটা কথা ই বুঝায়৷ দেখো! এরকম ছেলে পেটে ধরলে এরকম গপ্পো বলাও মানায়৷
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ক দিন চুপচাপ হু হা করে আন্টির কথার তালে তাল মেলালে আন্টির এসব গালগল্প বন্ধ হবে। আমার ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে আন্টির উৎসাহ এতে বাড়ল বরং৷ আগে আন্টি তার ছেলে ক টা বাজে ঘুমোয় এরকম টপিকে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার আন্টির ছেলের বন্ধুবান্ধব অব্দি ঘটনা গড়াল৷ আন্টি আগ্রহভরে শুনান তার ছেলের বন্ধুরা কিরকম মেডিক্যালে পড়ুয়া তাদেরই ক্লাসমেট কে বিয়ে করে ফেলেছে এটাওটা। আমি বড়সড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুনতে থাকি সেসব আর চিন্তা করি এই গল্পের জাহাজ থামাব কি করে। কয়েকদিন ভেবে আমি মোক্ষম এক বুদ্ধি বের করলাম। তবে জানতাম না সেটা আমার উপরেই ব্যাকফায়ার করবে।
সেদিনও চায়ের সাথে বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে খেতে আন্টি কোত্থেকে জানি তার গুণধর ছেলের কথা তুললেন। কিরকম তাদের সকাল সাতটা আটটায় কিছু না খেয়ে টেয়ে লেকচার অ্যাটেন্ড করতে হয় ব্লা ব্লা। আন্টির গুনধর ছেলের গুণকীর্তন আর সহ্য করতে না পেরে আমি ফট করে বলে বসলাম মনে মনে সাজিয়ে রাখা কথা। মেকি হেসে বললাম,
‘রিয়াদ ভাইয়ার তো তাহলে খুব কষ্ট হয় আন্টি। আমি তো সেজন্য প্রায়ই আম্মুকে বলি মেডিক্যালের পড়া একেবারে বেকার খাটুনি। এত পরিশ্রম করে ডাক্তার হবে অথচ বেতন কত কম! আবার কিছু একটা হলে রোগীর মাইর খাবা। বিদেশ থেকে বড় ডিগ্রি নিয়ে না এলে তো রোগীও পাবে না!’
আন্টির চোখমুখের দশা এতটুকু শুনেই বেহাল। আমি যেন পৈশাচিক আনন্দ পেলাম। আন্টির গুণধর ছেলের কল্যাণে এতদিন আম্মুর কম ঠেশ মারা কথা তো আমি শুনি নি। তাই মনের আনন্দে আরো কিছু কথা বলতে গিয়ে কখন যে নিজের বানানো স্ক্রিপ্টের বাইরে দুটো কথা বাড়তি বলে ফেললাম নিজেরও খেয়াল নেই। বলে বসলাম, ‘আন্টিইই! আম্মু আমাকে কি যে জোর করেছিল অন্তত প্রাইভেট মেডিক্যালে হলেও পড়তে। এরকম খাটনি আবার কম বেতন এসবের জন্যই তো পড়লাম না আমি। সেকেন্ড টাইমও দিই নি। ভাবলাম আমার এখনের সাবজেক্ট টা ঢের ভালো৷ বাংলাদেশে শুধু চারটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে আছে। ক্যান্ডিডেট কম! অনার্স শেষ করে বিসিএস দিলেই চাকরি কনফার্ম!’
শেষের কথাটা বলে আমি নিজেও প্রমাদ গুনলাম। বেশি বলে ফেলেছি। আম্মুর সুবাদে আন্টির তো জানা আছে আমি কোন সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছি। কিন্তু আন্টি যেটা জানে না তা হলো ফরেস্ট্রি কৃষির মতো টেকনিক্যাল ক্যাডার নেই আমার সাবজেক্টে। অনার্স শেষ করে বিসিএস দিলেই চাকরি কনফার্ম এটা ডাহা মিথ্যে বলেছি আমি। ততক্ষণে আন্টির চোখমুখ বেশ বেজার। যেন নিজের গুণধর ছেলের ভবিষ্যত দুর্দশার বিষয়টি তার মনপুত হয়নি৷
আমি এতকিছু ভাবলাম না আর৷ আন্টির এত বেকার সময় মোটেও নেই আমার সাবজেক্টের খুটিঁনাটি খবর নিবে৷ আন্টিকে যে ডোজ দিয়েছি ছেলের ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায় তার চোখের ঘুম উবে যাবে ক সপ্তাহ৷ সেখানে আমার সাবজেক্ট নিয়ে সত্যি মিথ্যা যাচাই করা তো বিলাসিতা তার জন্য ! আমার শীতকালীন বন্ধ তখন শেষের দিকে। আন্টিকে নিজের সুপুত্রের বিষয়ে একগাদা দুশ্চিন্তায় ফেলে আমি নিশ্চিন্তে চট্টগ্রাম ফিরলাম পরদিনই।
আমি ভেবেছিলাম ব্যাপারটা এখানেই শেষ হবে৷ হলো না। সেটা আমি টের পেলাম পরেরবার বাসায় যাওয়ার পরে। হলে থাকলে আমার পড়াশোনা হয় না৷ তাই সেমিস্টার ফাইনালের আগে চার পাঁচ দিনের বন্ধ থাকলেও আমি বাসায় চলে আসি। তো পড়াশোনার চাপে কুত্তামরা অবস্থা আমার। এরকমই এক দিনে আম্মু খুব বিরক্তি নিয়ে বলল এরকম অগামগা সাবজেক্ট নিয়ে এত স্ট্রেস নিচ্ছি কেন আমি৷ আম্মুর কথা প্রথমে আমি ধরতে পারি নি৷ ভাবলাম আমাকে পরীক্ষা নিয়ে এত টেনশন করতে দেখে কথাটা বলেছে।
সেদিন বিকেলে আন্টির কথাবার্তায় আমি টের পেলাম পুরো বিষয়টা। আন্টির দ্বিতীয় যেটা বড় দোষ সেটা হলো আন্টি কথা সহজে ভুলে না এবং তার পেটে কথা থাকে না। সেটার সুবাদেই আন্টি এতদিন পর আমাকে পেয়ে আচ্ছামত পাকড়াও করলেন। খানিকটা বিভ্রান্তি নিয়েই বললেন, ‘দিতিয়া! রিয়াদ বলেছে নিজের সাবজেক্ট নিয়ে তোমার আরো পড়াশোনা করা উচিত ছিল৷ তোমাদের সাবজেক্টে তো ডিরেক্ট ক্যাডার সার্ভিস নাই৷ ফরেস্ট্রিদের আছে। এসিএফ এগুলো নাকি বন ক্যাডারে হয়’। এটুকু বলে আন্টি এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরলেন, ‘আমি তো রিয়াদকে তখন বলেছিলাম এরচে এরকম সাবজেক্ট নিয়ে পড়তি। বাংলাদেশে বিসিএস ক্যাডারদের ই তো ভ্যালু। তখন ও তোমার সাবজেক্টের বিষয়টা আমাকে বলল’
আমার বানোয়াট জবান বন্ধ হলো তৎক্ষনাৎ। আমি কিভাবে জানতাম আন্টি সেই কথা আবার তার ছেলের কানে তুলবে। আমার খুব রাগ হলো তার ছেলের উপর। আরে ব্যাটা! তুই মেডিক্যালের স্টুডেন্ট! তোর মা বলে তোর হাগা মুতারও টাইম নাই। সেখানে তুই এত বেকার আবার আমার সাবজেক্টের খোঁজ নিলি! আর সত্যিটা জানলেও চুপ মেরে থাকতি। তা না করে আমার বেইজ্জতি করলি কেন? কোনো বিবেচনাবোধ নেই তোর!
মনে মনে এসব আওড়ালেও মুখে কিছু বলব এমন মানসম্মান আন্টির গুণধর পুত্র আমার রাখে নি। আমার মনমেজাজ এমনিও বিগড়ে ছিল। সেটা আরো বিগড়ে গেল আন্টির গলার নির্ভেজাল সহানুভূতি শুনে৷ আন্টি নরমগলায় বললেন, ‘দিতিয়া! মন খারাপ করে না মা৷ রিয়াদ বলেছে সিজি হাই রাখলে অন্তত লেকচারার টেকচারার হয়ে একটা গতি হবে তোমার।’
আমি মনে মনে বিশ্রী দুটো গালি দিলাম আন্টির কুচুটে সুপুত্র কে৷ আমি কি অগামগা সাবজেক্ট পড়ছি নাকি যে আমার গতি হতে হবে! আর আমার গতি হবে নাকি হবে না সেটা নিয়ে সে মাতব্বরি করবে কেন !
চলবে।

