Home "ধারাবাহিক গল্প ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-১৯+২০

ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-১৯+২০

0
131

#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ১৯
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা

রাতে ইশার নামাজ শেষ করে ইশাত সবে মাত্র বসলো। জেরিন তার হাতের সেলাইন খুলে তাকে নিজ হাতে রান্না করে খাইয়ে দিয়ে তবেই ফিরেছে। মেয়েটা অনেক যত্নশীল ইশাতের সাথে সে কয়েক মুহূর্ত মিশেই বন্ধুত্ব বানিয়ে ফেলেছে। যাওয়ার আগে জেরিন বলে দিয়ে গেছে সে কাল ইশাতের প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র সকালেই পাঠিয়ে দিবে। ইশাত এখন কিছুটা হলেও স্বস্তি অনুভব করছে। কিন্তু পরিবারের কথা মনে পড়তেই তার চিন্তা হতে শুরু করলো। তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে না জানি তার পরিবারের উপর দিয়ে কি যাচ্ছে। ইশাত ভাবলো তার যে করেই হোক ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতেই হবে। রাতে নিশ্চই ভেতরে তেমন গার্ড নেই। ভাগ্যের জোরে ইশাত যদি কোথাও একটা ফোনও খুঁজে পেয়ে যায় তাহলে তো সে যোগাযোগ করতে পরবে। এই ভেবে ইশাত উঠে দাড়ালো। দরজা খুলে শব্দহীন পা টিপে টিপে এগোলো। আশেপাশে তাকিয়ে সতর্ক চোখে দেখে নিল কেউ আছে কিনা।

ইশাত অনেক খোঁজাখুঁজি করে নিচ তলায় কোনো ফোন অথবা যোগাযোগের কোনো যন্ত্র খুঁজে না পেয়ে সে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো। উপরে পুরোটা অন্ধকার হয়ে আছে। প্রথমে ইশাতের মনে দ্বিধা কাজ করলো। পরক্ষণে সকল জড়তা কাটিয়ে সে এগোলো। সামনেই আগে এভিয়ানের রুম পড়লো। ইশাত সেই রুমের কাছাকাছি এসে দাঁড়াতেই তার নাকে বিদঘুটে গন্ধ এসে লাগলো। সাথে সাথে ইশাত কাপড় দিয়ে নাক চেপে ধরলো। পরক্ষণে ভেতর থেকে মৃদু গোঙানির আওয়াজ ভেসে এলো। না চাইতেও কৌতূহলবশত রুমের ভেতরে ইশাতের চোখ গেলো। রুমের দরজা পুরোপুরি খোলা। ভেতরে ডিম লাইটের আলোতে আবছা দেখা যাচ্ছে এভিয়ান এলোমেলো অবস্থায় এক পায়ে হাত ঠেকিয়ে ফ্লোরে বসে আছে দৃষ্টি তার সিলিংয়ের উপর স্থির। পাশেই কিছু প্যাকেট, ইঞ্জেকশন আর কাচের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

ইশাতের আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এভিয়ান ড্রা’গ আর ম’দের নেশায় বুদ হয়ে আছে। ইশাত স্বচক্ষে এমন দৃশ্য দেখে কয়েক পা পিছিয়ে গেল। তার মনে হলো এখানে থাকাটা তার জন্য সুরক্ষিত হবে না। সে এক পা এক পা করে পেছাতে শুরু করলো ঠিক তখন সে শুনতে পেলো এভিয়ানের ব্যাথাতুর আ’র্তনাদ। ইশাত মনোযোগ দিয়ে শুনে বুঝলো এভিয়ান কাদছে। হ্যা ইশাত ঠিকই শুনেছে, এভিয়ানের মতো এমন শক্ত হৃদয়ের মানুষ কি আবার কাদতেও জানে? জানবে নাই বা কি করে মানুষের জীবনে নিজস্ব কিছু ক্ষত রয়েছে যা তাকে দুর্বল করতে বাধ্য। হয়তো এভিয়ানের দুর্বলতা তার ফেলে আসা অতীত।

ইশাত স্তব্ধ হয়ে ভাবনায় বুদ ছিল তখন তার কানে আবারো এভিয়ানের করা আহাজারি ভেসে এলো। হঠাৎ এভিয়ান পরাজিত সিং’হের ন্যায় বি’ধ্বস্ত গলায় গর্জন করে বলে উঠলো।
— কেন মম, কেন তুমি এতো স্বার্থপর ছিলে? এই স্বা’র্থপর দুনিয়াতে আমাকে একা ফেলে যাওয়ার আগে একটুও কি তোমার বুক কাঁপলো না? কাঁপত কি করে বাবার মত তুমিও তো একটা মস্তবড় স্বা’র্থপর ছিলে। সবার মা ডাকার জন্য অন্তত মা আছে, কিন্তু আমার তো তুমি নেই। আমি দেখেছি অন্যের মায়েদের তারা কিভাবে নিজেদের সন্তানদের আগলে রাখে। তুমি কেন আমায় আগলে নিলে না? কেন আমায় মায়ের ভালোবাসা থেকে এভাবে বঞ্চিত করলে? তুমি কি চাইলে পারতে না? ড্যাড নাহয় অন্যায় করেছিল কিন্তু আমার কি অন্যায় ছিল? আমি কি দোষ করেছিলাম এমন নির্ম’ম শাস্তি পাওয়ার জন্যে? তাহলে তুমি তোমার বাবা মার মনে আ’ঘাত দিয়েছিলে বলে কি তোমার গর্ভের সন্তান হয়ে জন্মে সেই শাস্তি আমাকেও পেতে হলো? তুমি কি জানতে না মা ম’রে গেলে বাবারা কিভাবে বদলে যায়? তুমি কি চাইলে পারতে না আমায় বুকে আঁকড়ে ধরে বাকিটা জীবন পাড় করে দিতে? আমি কি তোমার বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট ছিলাম না? তুমি তো ম’রে গিয়ে বেঁচে গেলে আমার কথা তো একটিবারও ভাবলে না। জানলে না তুমি যাওয়ার পর আমার কি দশা হলো। কত যুগ কেটে গেলো আমি ভালো মতো খাই না ঘুমাই না। আমার জীবন কেন আর পাঁচটা স্বাভাবিক মানুষদের মতো হলো না? তুমি মা ছিলে না অনেক বড় একটা স্বা’র্থপর ছিলে। মায়েরা তো এমন হয় না। তুমি কেন এমন ছিলে? মা তুমি কেন…. এমন ছিলে….?

আহাজারি করতে করতে এভিয়ান খাটের কোনে মাথা ঠেকিয়ে দিলো। এভিয়ানের হৃদয় ভাঙ্গা আর্ত’নাদ শুনে ইশাতের ভেতরে যেন নাড়া দিয়ে উঠলো। সে অজান্তেই সেদিকে পা বাড়ালো। এভিয়ান রুমে কারো উপস্থিতি টের পেতেই মাথা তুলে তাকালো তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো। তৎক্ষণাৎ তাকে দেখে মনে হলো যেন সে সবসময়কার সেই রাগী ভূত এভিয়ানটা আর নয়। সে সম্পূর্ণ ভিন্ন কেউ। তাকে একটুও হিং’স্র লাগছে না। উল্টো মায়া হচ্ছে এমন মায়া ভরা মুখটার দিকে তাকালে। ইশাত অবাক চোখে তার অসহায় বাচ্চা বাচ্চা চাহনিটা দেখলো। কিছুটা দুরত্ব রেখে হাঁটু ভেঙে পাশে বসলো। তার অবাধ্য মনে নানান প্রশ্নরা উকি দিলো। সে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে বলল।
“না চাইতেও কেন আমি বার বার থমকে যাই হৃদয়ের বেগ হারাই? এই লোকটার মুখের দিকে তাকালে কেন বার বার এমন দিকশূন্য হয়ে যাই? আমার পুরোটা দুনিয়া যেন এক মুহূর্তে দুলে ওঠে। এতো দুর্বোধ্যতার মাঝেও মনে হয় যেন আমার পুরো দুনিয়া বসবাস করছে শুধুমাত্র এই অচেনা মুখটাকে ঘিরে। যেন কত আপন সে আমার, কত যুগ ধরে তার সাথে আমার পরিচয়। এতটা কাছের কেন মনে হয় তাকে? সে তার অজান্তেই দূর থেকে আমাকে হাসায় আবার দূর থেকেই কাদায়। প্রত্যেকবার তার প্রখর দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলতেই ভেতরটা কেন বার বার এমন আঁতকে উঠে আমার? এমন কি লুকিয়ে আছে তার এই সোনালী চোখে? তার উপস্থিতিতে, তার সবটা জুড়ে??? কেন স্বচক্ষে তার করা অপরাধগুলোর সাক্ষী হওয়ার পরেও তাকে আমার চোখে নিষ্পাপ ঠেকছে? বার বার ভেতরটা পোড়াচ্ছে। হয়তো ভালোবাসলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। আজ সকলের অগচরে সে আ’র্তনাদ করছে তার নি’র্মম অতীত নিয়ে। সে ভাবছে তার জন্যে এই দুনিয়াতে কেউ নেই সে সম্পূর্ণ একা। অথচ এদিকে আমি তার অজান্তেই গত চার বছর যাবত কতরাত তার হেদায়েতের জন্যে কেঁদে কাটিয়েছি মাঝ রাতে দোয়া করেছি সেই ধারণা টুকুও তার নেই।”

ইশাতের চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা নোনাজল গড়িয়ে পড়লো। সে উঠে যেতে নিলে খেয়াল করলো তার গাউনের এক কোণে টান পড়েছে। ঘুরে তাকাতেই সে দেখলো এভিয়ান আলতো হাতে তার গাউনের এক কোনা মুষ্টিবদ্ধ করে সেই বাচ্চা বাচ্চা চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছে। ইশাত চোখ রাঙাতেই এভিয়ান কেমন যেন একটা অসহায় কন্ঠ নিয়ে বলে উঠলো।
— সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যায় এখন কি তুমিও চলে যাবে?

এভিয়ান যে নেশার ঘোরে এমনটা বলছে জেনেও ইশাতের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব কেঁপে উঠলো। সে আর ফিরে তাকালো না এক টানে নিজের গাউন ছাড়িয়ে সোজা নিচে চলে এলো। তার খুব করে ইচ্ছে হচ্ছিল এভিয়ানকে শান্তনা দিতে কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে সে নিজের অনুভূতির কাছে দুর্বল হয়ে পড়বে তাই আর মনকে প্রশ্রয় না দিয়ে সে সেখান থেকে এক প্রকার পালিয়ে এলো।

রুমে ফিরে সারারাত আর ইশাতের চোখে ঘুম ধরা দিল না। শুধু মাথায় ঘুরতে থাকলো এভিয়ানের করা আ’র্তনাদগুলো। পরদিন সকালে দরজায় একজন গার্ডের টোকায় ইশাত দরজা খুলে দিতেই দেখল জেরিন তার জন্য একটা বড় বক্সে হেয়ার ড্রায়ার থেকে শুরু করে সব প্রয়োজনীয় জিনিস আর কয়েকটা ড্রেস সাথে ম্যাচিং হিজাব পাঠিয়েছে। ইশাত তো এগুলোর কথা বলেও নি, তাকে শুধু বলেছিল একটা কুরআনের কথা তবুও জেরিন কি করে বুঝলো তার এসব কিছুর প্রয়োজন। এতসব জিনিস দেখে ইশাতের জেরিনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন জুড়িয়ে গেলো। ইশাত আগে কুরআনটা সুন্দর করে তুলে রাখলো সুরক্ষিত জায়গায়।

এরপর সে ওয়াসরুমে ঢুকে আগে ভালোমত চুল শ্যাম্পু করে গোসল সেরে নতুন একটা গাউন পড়ে নিলো। বেরিয়ে এসে ভেজা চুল মুছে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে হিজাব পড়ে নিলো। এরপর নিজে থেকে চলে গেলো রান্নাঘরের দিকে। তখন একজন গার্ড তাকে বাধা দিলে ইশাত বলল জেরিনকে কল দিতে। কিন্তু গার্ডটা নাকচ করে বলল সে তার বস ব্যতিত অন্য কারো অর্ডার শুনে না। ইশাতও হার মানলো না সে জেদ ধরে বসলো।

তখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছিল এভিয়ান। ইশাতকে তার একজন গার্ডের সাথে তর্ক করতে দেখে সে কপাল কুঁচকে গার্ডের উদ্দেশ্যে বলল।
— এখানে কি হচ্ছে? এই মেয়ে কি চায়?

ইশাত এভিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে তার চিরাচরিত গম্ভীর রূপে আবারো ফিরে এসেছে। তখন এভিয়ানকে দেখে গার্ড মাথা নিচু করে বলল।
— স্যার উনি রান্নাঘরে যেতে চান নিজে রান্না করবে বলে।

এভিয়ান এতে তেমন একটা রিয়েক্ট করলো না শুধু আদেশ দিয়ে বলল।
— ও যা করতে চায় ওকে করতে দাও।

এভিয়ানের উত্তরে গার্ড এবং ইশাত দুজনই অবাক হলো। সে তো সোজা কথার লোক নয় তবুও এক কথায় মেনে যাওয়াটা অস্বাভাবিক। তবে ইশাত বেশি মাথা ঘামালো না। ছুটে চলে গেলো কিচেন কাউন্টারে সেখানে গিয়ে অন্য মেডদের কাজে বাধা দিয়ে সব কিছু তদারকি করে দেখলো কোন খাবারগুলো হারাম সেগুলো সুন্দর করে ট্র্যাশবিনে ফেলে দিলো। তখন এভিয়ানের ম্যানেজার সিয়াম কিচেনে আসলো এভিয়ানের জন্যে এক কাপ কফি নিয়ে আসতে। ইশাত তাকে দেখতেই বলল ফ্রেশ হালাল মিটের ব্যবস্থা করতে সে কাচ্চি রান্না করবে এভিয়ানের জন্যে। সিয়াম ইশাতকে কিচেনে দেখে অবাক হলো সে তাকে উল্টো জিজ্ঞাসা করলো।
— তুমি কিচেনে কি করো কে তোমাকে অনুমতি দিলো?

ইশাত দৃঢ়তা নিয়ে বলল।
— আপনার বস, সে বলেছে আমাকে যা ইচ্ছা তাই করতে। বিশ্বাস না হলে তাকে গিয়েই জিজ্ঞাসা করুন।

সিয়াম আর কিছু বলল না চলে গেলো এভিয়ানের কাছে। খানিকটা পর ইশাত নিজেই কফি বানিয়ে এভিয়ানের জন্য নিয়ে গেলো। ততক্ষণে এভিয়ান নিজের রুমে গিয়ে বসেছে। ইশাত সিঁড়ি দিয়ে দুতলায় উঠে এভিয়ানের রুমের দরজায় নক করলো এভিয়ান তখন ব্যস্ত ছিল কিছু ফাইল নিয়ে সিয়ামের সাথে আলোচনা করতে। ইশাতকে দেখে তার মনোযোগ ক্ষুণ্ন হলো। সে রাগান্বিত স্বরে বলল।
— এখানে কি?

ইশাত হাতের কফির কাপটা দেখিয়ে বলল।
— আপনার জন্য কফি।

এভিয়ান তীরের ফলার মতো তীক্ষ্ণ এক ব্রু উঁচু করে প্রশ্ন করলো।
— কে বানিয়েছে?

ইশাত সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলো।
— আমি!

এভিয়ান ইশাতের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পুনরায় নিজের কাজে মনোযোগ দিতে দিতে বলল।
— খাবো না নিয়ে যাও।

ইশাত হতবিহ্বল হয়ে প্রশ্ন করলো।
— কেন?

এভিয়ান সন্তপর্নে হাতের ফাইলের পেজ উল্টাতে উল্টাতে বলল।
— নিশ্চয়তা কি যে তুমি পয়’জন মিসাও নি এতে?

এভিয়ানের এরূপ কথায় ইশাতের রাগ হলো। সে তীক্ষ্ম গলায় বলল।
— সবাইকে নিজের মতো ভাবেন কেন? আমি এখানে পয়’জন কোথায় পাবো?

এভিয়ান পুনরায় দৃষ্টি দিয়ে বলল।
— তাহলে আগে নিজে খেয়ে দেখাও।

এবার বিষয়টা ইশাতের আত্মসম্মানে লাগলো। সে তো ভালো করতে চেয়েছিল কিন্তু এভিয়ান উল্টো তাকে অবিশ্বাস করছে। ইশাত নিজেকে সত্য প্রমাণ করতে আর কথা না বাড়িয়ে কফির কাপে চুমুক দিল। এভিয়ান এবার দাম্ভিকতা নিয়ে বলল।
— টেক ইট ব্যাক, আম নট ইটিং দিস লেফটওভার।

ইশাত বুঝলো এভিয়ান এসব তাকে অপদস্ত করতেই করছে। তাই সে কাপ হাতে ফিরে যাচ্ছিল তখন এভিয়ান আবারো পেছন থেকে ডেকে বলে উঠলো।
— মেক আনাদার কাপ ফর মি।

ইশাত কাঠকাঠ উত্তরে বলল।
— পারবো না।

এভিয়ান এবার কৌশল করে বলল।
— তাহলে সিয়ামকে বারন করে দিব তোমার লিস্ট করা খাবার আনতে। হয়তো তুমি হালাল খাবার চাও না। এন্ড ইউ ব্যাটার নো আমার অনুমতি ছাড়া এখানে কেউ এক চুলও নড়ে না।

ইশাত তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
— আমি মেডকে বলছি বানিয়ে দিতে।

এভিয়ান মানলো না হুকুমের সুরে বলল।
— আমি তোমাকে বানাতে বলেছি মানে সেটা তুইমিই বানাবে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু হেয়ার এনি মোর আর্গুমেন্টস। গো ফাস্ট!!

এভিয়ানের সব বিষয়ে এমন ডমিনেটিং আচরণে ইশাত এক প্রকার বিরক্ত হয়ে বলল।
— সব সময় সবাইকে এমন হাতের ইশারায় নাচানো বোধহয় আপনার বাজে স্বভাব?

এভিয়ান দায়সারা ভাব নিয়ে বলল।
— কাইন্ড অফ।

ইশাত আর তর্কে জড়ালো না চুপচাপ ফিরে এলো কিচেন রুমে। নিজের হাতেই এভিয়ানের জন্য সুন্দর করে কফি বানিয়ে একজন মেডের হাতে দিলো এভিয়ানের রুমে নিয়ে দিয়ে আসতে কিন্তু মেড উল্টো সেটা ইশাতকে দিয়ে বলল যে বানিয়েছে তাকেই নিয়ে যেতে হবে তাদের স্যার খুব স্ট্রিক্ট কফি ভালো না হলে ছুঁড়ে ফেলে দিবে কথা শুনাবে। সে খুব ভয় পায় তাকে। ইশাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেই উঠে গেলো একটু আগে তো সে নিজেই কথা শুনে আসলো এখন নাহয় আবার একটু শুনবে।

এভিয়ানের রুমের দরজা আগে থেকেই খুলে রাখা সিয়ামও এতক্ষনে চলে গিয়েছে নিজ কাজে। ইশাত রুমে ঢোকার পূর্বে নক করলো। এভিয়ান বসে ল্যাপটপে কিছু একটা করছিল ইশাতকে দেখে সে হাতের ইশারায় তাকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলো। ইশাত গিয়ে তার সামনে কফির কাপটা রাখলো। এভিয়ান ল্যাপটপের স্ক্রিনে মনযোগ রেখেই এক হাতে কফির মগ তুলে চুমুক বসালো। ইশাত দাড়িয়ে অপেক্ষা করলো কথা শুনার জন্য। এভিয়ান তখন নজর তুলে তাকালো ইশাতের দিকে। ইশাত নিজেকে প্রস্তুত করেই রেখেছিল কথা শুনার জন্য কিন্তু তাকে অবাক করে এভিয়ান কথা শুনানোর বদলে উল্টো বলল।
— এখন থেকে আমার জন্য কফি তুমি বানাবে।

ইশাত কপাল কুঁচকালো। রাগ দেখিয়ে বলল।
— আমি এখানে বেশিদিন থাকছি না। নিজের কফি নিজে করে খাওয়া শিখে নিবেন।

এভিয়ান উপহাস করে বলল।
— আচ্ছা তাই! তো তোমাকে কে ফেরত দিয়ে আসছে?

ইশাত তার কথা থেকে একটুও টললো না। আত্মবিশ্বাস নিয়ে উত্তরে বলল।
— আপনার দিয়ে আসতে হবে না, আমার আল্লাহই কোনো পথ বের করে দিবেন।

এভিয়ান তাচ্ছিল্য হেসে বলল।
— আবারো সেই অন্ধ বিশ্বাস।

ইশাত রাগে আঙুল তুলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই এভিয়ান প্রশ্ন করলো।
— কাল আমার রুমে কি করছিলে?

ইশাত অবাক হয়ে বলল।
— আপনার কাল রাতের কথা সব মনে আছে? আপনি তো আপনার সজ্ঞানে ছিলেন না। তাহলে কি করে..

ইশাত আরো কিছু বলবে তার আগেই এভিয়ান কিছু একটা আন্দাজ করে সতর্ক ভঙ্গিতে ইশাতকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিল। ইশাত ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো তবে চুপ রইলো। এভিয়ান তখন দ্রুত নিজের মুখ ঢাকতে চাকতে ইশাতকে নির্দেশ দিলো।
— কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকো, ফাস্ট!

ইশাত এভিয়ানের এমন আচরণের কারণ কিছুই বুঝলো না তবুও মুখ ঢাকলো। কিছুক্ষণ পর নিচ থেকে কয়েকটা বু’লেটের জোরালো আওয়াজে ইশাত চমকে গেলো। বু’লেটের আওয়াজের পরপর একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে এলো।
— কাম আউট এভিয়ান। ইউ হ্যাভ নো ইসকেপ টুডে।

এভিয়ান তৎক্ষনাৎ বেগ্র হাতে তার রি’ভলভারটা লোড করে নিল। ইশাত শুধু নীরব চোখে অনুধাবন করলো এভিয়ানের কার্যকলাপ।

চলবে ( ইনশাআল্লাহ )…………………..

#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ২০
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা

এভিয়ান শব্দহীন রি’ভলবার হাতে সিঁড়ি বেয়ে ধীর পায়ে নিচে নেমে এলো। সচেতন দৃষ্টিতে সে আশপাশটা অবলোকন করে বুঝলো নিচ তলা পুরো ফাঁকা। যেখানে সর্বদা গার্ডদের টহল থাকার কথা সেখানে একটা গার্ড অব্দি নেই। এভিয়ানের তীক্ষ্ম মস্তিষ্কে তখন তাকে জানান দিচ্ছে এখানে তার জন্য কোনো একটা ট্র্যা’প বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সে আগে থেকেই আ’ক্রমণ দমাতে নিজেকে প্রস্তুত করে নিলো। ঠিক তখন একদম দমকা হাওয়ার গতিতে স্টেয়ার কেসের পেছন থেকে কেউ একজন বেরিয়ে এসে তার চোয়াল বরাবর ব’ন্দুক তাক করলো। এভিয়ান নিজের চোয়ালে শীতল ধাতব বস্তুর স্পর্শ অনুভব করতেই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো ক্লারাকে। ক্লারা তার হাতের ব’ন্দুকের দিকে ইশারা করে বলল।
— পুট দা গা’ন ডাউন।

এভিয়ান বিনা বাক্যে হাতের ব’ন্দুক নামিয়ে নিলো। ক্লারা তখন সন্তুষ্ট হয়ে বলল।
— অবশেষে তোমাকে সম্মুখে পেয়েই গেলাম এভি!!

প্রত্যুত্তরে এভিয়ান এক ব্রু উঁচিয়ে প্রশ্ন করে বলল।
— ইজ ইট দ্যাট ইজি?

এভিয়ানের ইঙ্গিত পূর্ণ কথার পারদে ক্লারা সন্দেহসূচক দৃষ্টি নিয়ে ঘাড় ঘোরাতেই অনুভব করলো তার মাথার পেছনে কেউ বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছে। এতে ক্লারা তার জায়গা থেকে এক চুল নড়লো না। এভিয়ান দেখলো ক্লারার মাথায় ব’ন্দুক ঠেকানো ব্যক্তিটি সিয়াম। সিয়ামকে দেখে তার কিছুক্ষণ আগের কথা মনে পড়ে গেলো। কিছুক্ষণ আগে এভিয়ান বিপদের কথা আঁচ করার সঙ্গে সঙ্গে সিয়ামকে বার্তা পাঠিয়ে দেয়। সিয়াম বসের নির্দেশনা পেয়ে মাঝ রাস্তা থেকে দ্রত ফিরে আসে। তখনকার কথা ভেবে এভিয়ানের মুখে বিজয়ের হাসি ফুটে উঠলো। এভিয়ানকে বিজয়ী হাসিতে দেখে ক্লারা তিরিক্ষি গলায় বলল।
— কীভাবে সম্ভব! তোমার সব লোকদের তো আমি অনেক আগেই অজ্ঞান করে দিয়েছিলাম।

সিয়াম তখন ধমকি দিয়ে বলল।
— গা’ন নামান নয়তো শু’ট করে দিব।

ক্লারা গান নামিয়ে রাখলো। এভিয়ান তখন ঠোঁটের আগায় বাকা হাসি নিয়ে ক্লারাকে কটাক্ষ করে বলল।
— প্ল্যানিংয়ের দিক থেকে এখনও তুমি অনেকটা কাঁচা, এখনো অনেক কিছু শেখা বাকি আছে। এন্ড ইউ নো হোয়াট? তোমার ধারণার থেকে আমি সব সময় এক স্টেপ এগিয়ে।

ক্লারা তখন অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে বলল।
— ভুল বলছো! তোমার কি মনেহয় আমি কোনো ব্যাকআপ প্ল্যান ছাড়াই এখানে এসেছি?

ক্লারার ভাব ভঙ্গি দেখে এভিয়ান বাজপাখির মতো সতর্ক দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকাতেই দেখলো কিছুটা দূর থেকে একজন স্নাইপার তার গা’ন সিয়ামের দিকে টার্গেট ঠিক করে রেখেছে। ক্লারা তখন বাকা হেসে বলল।
— তোমার লোককে বলো গা’ন নামাতে।

এভিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে তাকালো ক্লারার দিকে। যখন তাদের মধ্যে বিদ্বেষপূর্ণ দ্বন্দ্ব চলছিল ঠিক তখন উপর থেকে একটা কাচের তৈরি কিছু পড়ে ভেঙে জোরালো শব্দ তৈরি করলো। ক্লারার মনযোগ তখন উপরে চলে গেল। সে এটাকে এভিয়ানের কোনো প্ল্যান মনে করে স্নাইপারকে ইশারায় তাদের সামলাতে বলে সেদিকে পা বাড়ালো। এদিকে আশ্চর্যে এভিয়ানের ব্রু কুঁচকে এলো। উপরে তো ইশাতকে সে রেখে এসেছে। এই মেয়ে আবার কি ঘটনা ঘটালো।

ক্লারা তার বুট জুতার খটখট আওয়াজ তুলে উপরে উঠে গেল। তার সন্দেহ হলো সামনের রুমটায় নিশ্চই কেউ রয়েছে। হয়তো কাজটা সেই করেছে। এই ভেবে সে রুমের ভেতর ব’ন্দুক হাতে প্রবেশ করতেই আচমকা তার হাতে জোরালো লাথি লেগে ব’ন্দুকটা মেঝেতে পড়ে গেলো।

একটু আগে যখন এভিয়ান ইশাতকে উপরে একা রেখে গিয়েছিল তার পরপরই ইশাত দুতলা থেকে আড়ালে দাড়িয়ে নিচ তলায় ঘটা সব ঘটনা দেখছিল। ইশাত যখন দেখলো এভিয়ান পুরোপুরি ক্লারার ট্র্যা’পে আটকে গেছে তখন সে পরিকল্পনা করে উপরে থাকা একটা শোপিস নিচে ফেলে তাদের বিভ্রান্ত করলো। এরপর ক্লারা যখন উপরে চলে এলো ইশাত দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে তার উপর আক্র’মণ করলো।

এদিকে ক্লারা এমন হঠাৎ করে করা আ’ক্রমণে তড়িৎ মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলো একটা সাদামাটা মেয়েকে। মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে মেঝেতে পড়ে যাওয়া ক্লারার ব’ন্দুকটা হাতে তুলে নিলো। মেয়েটা কাজটা এতটাই দ্রুত করলো যে ক্লারার বুঝে উঠতে সময় লাগলো। ক্লারা দেখলো মেয়েটার পড়নে লম্বা গাউন আর মাথার চুল কাপড়ের আস্তরণে ঢাকা। ক্লারা যতটুকু জানে এভিয়ান মেয়েদের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখে। জেরিন ব্যতিত অন্য কোনো মেয়ের সাথে সে পরিচিতি রাখে না। তাহলে এই মেয়েটা কে? সে অবাক চোখে মেয়েটাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত অবলোকন করে প্রশ্ন করলো।
— এই মেয়ে তুমি কে?

ইশাত তার বরাবর গা’ন প্যান্ট করে বলল।
— আমি যেই হই না কেন আপনি ওনাদের ছেড়ে দিন।

— আমি এখানে প্রতি’শোধ নিতে এসেছি। কেন তোমার কথা শুনবো?

— প্রতিশোধ কোনো মহৎ কাজ নয়।

— এভিয়ান আমার মায়ের খু’নি, আমি ওকে না শেষ করা পর্যন্ত এখান থেকে যাব না। সরে যাও আমার রাস্তা থেকে।

— আপনি তাহলে মানবেন না। তাই তো?

কথাটা বলে কোনো আগামবার্তা ছাড়াই ইশাত ক্লারার চোয়ালের পাশে আ’ঘাত করে বসলো। সঙ্গে সঙ্গে ক্লারার মস্তিষ্কে ঝাকুনি লেগে তৎক্ষণাৎ সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যেতে নিলে ইশাত তাকে দুহাতে সামলে নিলো। সে অনুতপ্ত গলায় ক্লারার অচেতন মুখের দিকে তাকিয়ে বলল।
— আমাকে ক্ষমা করে দিবেন আপু। এ ছাড়া আপনাকে আটকানোর কোনো পথ ছিল না।

ইশাত জানে কারাতে টেকনিকে কিছু এমন প্রেসার পয়েন্ট রয়েছে যেগুলোতে আ’ঘাত করলে সাময়িক সময়ের জন্য স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্কের র’ক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে এবং ব্যক্তি জ্ঞান হারায়। ইশাত ধারণা করে নিয়েছিল সে ক্লারাকে অ’স্ত্র ঠেকিয়ে বেশিক্ষণ দমিয়ে রাখতে পারবে না তাই সে ইচ্ছে করে ক্লারাকে থামাতে এই কাজটা করেছে। এতে ক্লারার কোনো ক্ষতি হবে না বরং সে সাময়িক সময়ের জন্য অচেতন হয়ে থাকবে। তাই ইশাত দ্রুত ক্লারাকে রুমের বেডে শুয়িয়ে দিয়ে বেরিয়ে এসে উপরতলার অনুমুক্ত ইন্টেরিয়র ব্যালকনিতে দাড়িয়ে ব’ন্দুক টার্গেট করে রাখা স্নাইপারকে উদ্দেশ্য করে বলল।
— ব’ন্দুক ফেলে দিন। আগে নিজের মালিককে বাঁচান সে না থাকলে আপনারও জীবনের নিশ্চয়তা নেই। আপনি আপনার বসের কমান্ড ছাড়া নিজে থেকে কোনো পদক্ষেপই নিতে পারবেন না। আপনার বস ইতোমধ্যে চেতনায় নেই। আর তা ছাড়াও এরা আপনাকে একা পেয়ে আস্ত রাখবে না। তাই যা বলছি করুন, বাহিরে অপেক্ষা করুন আমি আপনাদের বসকে সহিসালামত দিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।

এভিয়ান আর সিয়াম উপরে তাকিয়ে দেখছিল আর শুনছিল ইশাত কীভাবে তার তেজস্বী দৃষ্টি নিয়ে কথাগুলো বলছে আর ব্যাপারটা নিজ হাতে সামলাচ্ছে। এভিয়ান ইশাতের কর্মকান্ড দেখে অবাকই হলো। মনে হলো যেন সে ইশাতের নতুন কোনো রূপ দেখছে। তখন স্নাইপার ইশাতের কথায় পিছু হটে গেল। ইশাতও সিয়ামকে উদ্দেশ্য করে বলল।
— মেয়েটা আমার রুমেই আছে গিয়ে নিয়ে আসুন।

সিয়াম তখন এভিয়ানের দিকে তাকালো তার অনুমতির অপেক্ষায়। এভিয়ান কিছুই বলছে না। ইশাত তখন তেজি গলায় বলল।
— এখনো অপেক্ষা করছেন? উনার আর কি বলার থাকতে পারে?

সিয়াম তখন অসহায় হয়ে আবারো এভিয়ানের দিকে তাকালো। এভিয়ান জানে সিয়াম তার অনুমতি ছাড়া এক পাও নড়বে না। তাই সে চোখের ইশারায় সম্মতি জানাতেই সিয়াম পা বাড়লো। ইশাত তখন নিচে নেমে এভিয়ানের মুখোমুখি হয়ে দাড়ালো। এভিয়ান শূন্য দৃষ্টি নিয়ে ইশাতের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল।
— এটা কেন করলে? আমি তো তোমাকে এখানে এনেছি প্রতি’শোধ তুলতে, কষ্ট দিতে। তা জেনেও কেন করলে এটা?

— আপনার এই প্রতি’শোধের বাজে অভ্যাস দূর করতে। আর দুটা জিনিস শিখাতে।

এটুকু বলে থামতেই এভিয়ান প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তার দিকে তাকালে। ইশাত আবারো বলল।
— পয়েন্ট এক হচ্ছে মনুষ্যত্ব আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে সত্যিকার অর্থে আত্মতৃপ্তি কি সেটা বুঝাতে। বিস্তারিত বলতে গেলে আপনি আমার সাথে অন্যায় করার পর আমিও চাইলে আপনার উপর প্রতি’শোধ তুলতে পারতাম যেমনটা আপনি করে থাকেন। কিন্তু আমি সেটা করি নি। কেন জানেন? কারণ আমি আপনার মতো নি’ষ্ঠুর নই। আপনার করা অন্যায়ের বদলেও আমি আপনার উপকার করেছি এটাই মনুষ্যত্ব যা আপনাকে শিখাতে চেয়েছি। আর আত্মতৃপ্তি কি জানেন? আপনাদের ভাষায় আত্মতৃপ্তি হচ্ছে একে অন্যের সাথে প্রতি’শোধ পূরণ করা। আমি কিছুক্ষণ আগে খেয়াল করেছি আপনাদের দুজনের চোখে একে অন্যের প্রতি প্রতি’শোধের গভীর আকাঙ্ক্ষা। আপনারা ভেবেছিলেন প্রতি’শোধ নিতে পারলেই বুঝি আত্মতৃপ্তি মিলে। এতে যে সফল হবেন সেই বিজয়ের হাসি হাসবেন। কিন্তু শেষ বিজয়ের হাসিটা কে হাসলো? সৃষ্টিকর্তা সবাইকেই বিবেক দিয়েছেন বিবেচনা করার দায়িত্বটা তার নিজের।

ইশাতের কথাগুলো এভিয়ানের গা ছুঁতে পারলো না। সে নিজের স্বভাবে অনড় থেকে বলল।
— জাস্ট সাট আপ, এসব ফিলোসফি তোমার কাছেই রাখো। তোমাকে সাহস কে দিয়েছে আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর? ওই মেয়ে আজ আমার এরিয়াতে এসে আমার মাথায় গা’ন তাক করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তোমার কি মনেহয় ওকে এমনি এমনি ছাড়তাম?

ইশাত এবার বিরক্ত হয়ে বলল।
— আচ্ছা আপনার ঘাড়ের রগ কি সব বাকা? আপনার কাছে কি মনেহয় আপনি যা করছেন তাই সঠিক?

এভিয়ান দাম্ভিকতা নিয়ে উত্তর দিলো।
— অবশ্যই। আর আমার এতো দুর্দিন আসে নি যে তোমার মত সাধারণ একটা মেয়ের কাছ থেকে ঠিক বেঠিক শিখতে হবে।

ইশাত এভিয়ানের ভুল ঠিক করে দিয়ে বলল।
— দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, আমাকে সাধারণ ভাবলে ভুল ভাববেন। আমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারতাম কিন্তু করি নি। কারণ আমি আপনার মত নই।

এভিয়ান রাগে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। ইশাত তাকে সেভাবেই রেখে নিজের কক্ষে চলে গেলো। এর মাঝে সিয়াম নিচে নেমে এলো ক্লারাকে হাতে তুলে। এভিয়ান তখন তাকে দেখে রাগী কন্ঠে বলল।
— গার্ডরা এতো ইরেস্পন্সিবল কি করে হলো? আজকের থেকে সিকিউরিটি আরো কয়েকগুণ টাইট করে দাও। মেক সিয়র প্রত্যেকটা গার্ড যেন তাদের হান্ড্রেড পারসেন্ট পারফর্মেন্স দেয়। আর আজকের ঘটনার পেছনে যারা দায়ী তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা কর।

সিয়াম মাথা নেড়ে সঙ্গে সঙ্গে উত্তরে বলল।
— জ্বী বস, আর কাউকে কোনো বোকামি করার সুযোগ দেব না।

এভিয়ান তখন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে ব্যগ্র পায়ে প্রস্থান করলো। সিয়ামও নিজের কাজটা সম্পূর্ণ করতে চলে গেলো।

চলবে ( ইনশাআল্লাহ )………………….