#হৃদয়_হারানো_বিজ্ঞপ্তি
#পর্ব_১১
#Tahmina_Akhter
সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ফায়েজ। বিবাহিত জীবনের আজ দ্বিতীয় দিন। আর দশটা স্বাভাবিক সম্পর্কের মতো আজকের দিনটা ভিন্ন হতে পারত ওর জীবনে। গতকাল রাতে ইচ্ছে করলেই ফায়েজ খেয়ার সঙ্গে একই ছাদের নীচে,, একই বিছানায় রাত্রীযাপন করতে পারত। কিন্তু,, ফায়েজ চায় না। কেন চায় না সেটার একটা বিষদ কারণ আছে। যেটা আপাতত ফায়েজ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি অবগত নয়। ফায়েজ নিজেও চায় না তাদের দাম্পত্যের অপ্রেমের গল্পটা যেন কেউ জানতে পারুক। দীর্ঘশ্বাস ফেলল ফায়েজ। দিনশেষে খেয়াকে নিজের করে পেয়েছে এটাই অনেক।
বারান্দা থেকে নিজের ঘরে এলো ফায়েজ।। আলমারি থেকে একটি কালো পাঞ্জাবি এবং সাদা পাজামা নিয়ে ওয়াশরুম ঢুকলো। গোসল শেষে তৈরি হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ডাইনিং টেবিলের কাছে আসতেই দেখা পেলো খেয়ার।
গ্রীণ বটল কালার শাড়ি,, ম্যাচিং ব্লাউজ। কানে খুবই সিম্পল একজোড়া দুল,, গলায় চেইন এবং নাকফুলে খেয়াকে পুরোদস্তুর নতুন বৌ লাগছিল। যদিও খেয়া নতুন বৌ বটে।
খেয়া ফায়েজকে দেখে আটার খামির মথা বাদ দিয়ে কিচেনরুম থেকে বের হয়ে এলো। ফায়েজের সামনে এসে দাঁড়ালো। ফায়েজ তখন খেয়াকে দেখতে মত্ত।
চমৎকার গড়ণ মুখশ্রী, ঘর্মাক্ত কপাল,, কপালে জমে থাকা বিন্দু ঘামের সঙ্গে লেপ্টে থাকা চুলগুলো দেখে ভীষণ ঈর্ষা হচ্ছে ফায়েজের। হাত বাড়িয়ে চুলগুলো সরিয়ে দিতে পারলে বোধহয় শান্তি হত ।
— এত সকালে কোথায় যাচ্ছেন??
খেয়ার কথায় ফায়েজের ধ্যানভগ্ন হলো। খেয়ার চোখের দিকে তাকালো। ফায়েজের ওই চাহনিতে কিছু তো ছিল। তাই তো খেয়া চোখ নামিয়ে ফেললো। ফায়েজ মুচকি হাসলো। হাতঘড়িতে সময় দেখে বললো,,
— তুমি এত সকালে কিচেনে কি করছো??
— ওমা সকালের নাশতা তৈরি না করলে দুজন কি খাব??
— কিন্তু,, বাসায় তো বাজার ছিল না??
ফায়েজ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো খেয়াকে। এদিকে খেয়া ওর এলোচুলকে সামালানোর চেষ্টা করছে। ছোট চুলগুলো চোখের সামনে এসে জ্বালাচ্ছে। এদিকে হাতে আটা লেগে আছে। হাতের পিঠ দিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। ফায়েজ সেই দৃশ্য দেখলো। হাত বাড়িয়ে খেয়ার বাহু ধরে নিজের দিকে টেনে এনে দাঁড় করালো। ফায়েজের কান্ড দেখে আপাতত খেয়া শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফায়েজ আলতোভাবে খেয়ার কপালে ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে দেয়। কি মনে করে হুট করে খেয়ার নাক টোকা মেরে টান দিলো। খেয়ার যেন আরও অবাক হবার পালা এলো। ফায়েজ খেয়ার বাহু ছেড়ে দিয়ে বললো,,
— কি হলো বললে না যে,, বাজার কোত্থেকে পেলে??
— রশিদ ভাই আধঘন্টা আগে এসেছিলেন। আমাদের লাগেজগুলো দিতে। আমি তখন কিচেনে চা-পাতা খুঁজতে ব্যস্ত ছিলাম। আমাকে কিছু খুঁজতে দেখে রশিদ ভাই জিজ্ঞেস করলেন কিছু লাগবে কিনা? পাশেই নাকি একটা দোকান আছে যেটা খুব ভোরে খোলা হয়। আমিও দেখলাম কিচেনে কিছুই নেই তাই রশিদ ভাইকে দিয়ে কিছু বাজার আনিয়েছি। বাকিগুলো আপনি আর রশিদ ভাই নিয়ে আসবেন বাজার থেকে।
— কষ্ট করার কি দরকার ছিল বলো?? হোটেল থেকে নাশতা এনে খেয়ে নিতাম।
ফায়েজ খেয়ার ঘামে ভেজা মুখখানা সহ্য করতে পারছিলা না। এদিকে খেয়া ফায়েজের কথা শুনে মুখটা শক্ত করে বললো,,
— আমি হোটেলের খাবার খেতে পারি না এসিডিটি হয়।
এখন বলুন রুটির সঙ্গে কি খাবেন??
— লুচি যেভাবে তেলে ভেজে নেয় ঠিক সেভাবে পরোটা ভেজে নেবো ডুবো তেলে। সাথে দুধ চা বানাবে।
— সকালে তেলজাতীয় খাবার??
খেয়া কিছুটা বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করলো। ফায়েজ একটি চেয়ার টেনে বসলো। খেয়ার ধরে বললো,,
— চট্টগ্রামের হোটেলেগুলো জাতীয় নাশতা বলতে পারো এই পরোটা আর দুধ চা কে। অনেকবছর হলো খাই না। তুমি হলে আমার বিয়ে করা বৌ। তোমার হাতে না-হয় আজ আমার চা-পরোটা খাওয়ার সাধ মিটে যাক।
কথাগুলো শেষ করে ফায়েজ খেয়ার হাতের পিঠে চুমু দিলো। খেয়ার পুরো শরীরে অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে গেছে। হয়তো,, বিপরীত লিঙ্গের কাছ থেকে পাওয়া স্পর্শ বলে!!খেয়া ফায়েজের হাত ঝাড়া দিয়ে ফেলে কিচেনের দিকে চলে যায়। এদিকে খেয়া চলে যাওয়ার পর চেয়ারে বসে গুনগুনিয়ে গান গাইছে,,
“তুমি আমার এমনই একজন
যারে একজনমে ভালোবেসে ভরবে না এ মন””
কিচেন থেকে ফায়েজের গুনগুনিয়ে গাওয়া গান শুনতে পাচ্ছে খেয়া। ভালোই লাগছে ফায়েজের গলা। ফায়েজের কন্ঠে গাওয়া যে কোনো গান খেয়া অবলীলায় শুনতে পারবে। কারণ,, কিছু একটা আছে ফায়েজের কন্ঠস্বরে নয়তো খেয়ার কেন ফায়েজের কন্ঠের গান ভালো লাগবে। অন্যের কন্ঠে গাওয়া গান কেন নয়!!!
ফায়েজের বলে দেওয়া রেসিপিতে খেয়া পরোটা তৈরি করলো সাথে গুড়ো দুধের চা। ফায়েজের সামনে পরোটার প্লেট এবং চায়ের কাপ রেখে গেছে খেয়া। এদিকে ফায়েজ খেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে একসাথে নাশতা খাবে বলে। পাঁচ মিনিট পর খেয়া এসেছে এবং কিচেন থেকে ওর জন্য আগে তৈরি করে রাখা পরোটা এবং চায়ের কাপ এনে চেয়ার টেনে বসল। ফায়েজের ডানদিকের এক চেয়ারের পরের চেয়ারে বসেছে খেয়া। ফায়েজ স্মিত হাসলো দূরত্বখানি দেখে।
দু’জন নাশতা শেষ করলো। নাশতা খাওয়ার পর্ব শেষ হবার পর খেয়া ফায়েজকে উদ্দেশ্য করে বললো,,
— ধন্যবাদ।
ফায়েজ অবাক হলো। খেয়া ফায়েজের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,,
— জাস্ট ধন্যবাদ বলেছি। যেভাবে রিয়াকশন দিচ্ছেন মনে হচ্ছে যেন আমি আপনাকে পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য দেখিয়ে এনেছি!!!
—তোমার মুখ থেকে ধন্যবাদ শোনা আর পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য দেখা একই জিনিস।
ফায়েজের কথায় খেয়ার ভীষণ রাগ হলো। ইচ্ছে হলো কঠিন কিছু কথা শোনানোর বাট আজকে না। জোড়ে শ্বাস ছেড়ে বললো,,
—- নতুন একটা খাবারের আইটেমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি মিস্টার।
— ওহ্ আচ্ছা। Most welcome My dear wife.
ফায়েজের মুখের দিকে তাকালো খেয়া। দেখলো ফায়েজ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। খেয়া ফায়েজের চোখের দিকে তাকালো। নির্বাণের চোখের সঙ্গে ফায়েজের চোখগুলো ভীষন মিল। দুটো মানুষের কথা বলার ধরণ প্রায় এক। কিছু একটা মনে হতেই খেয়ার মুখ পাংশুবর্ণ ধারণ করলো। ফায়েজ কিছু বলতে যাচ্ছিল ঠিক তখনি খেয়া সেখান থেকে ওঠে চলে গেলো নিজের ঘরে।
ফায়েজ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো খেয়ার গমনের পথের দিকে ।
কলিংবেল বাজাচ্ছে কে যেন?? ফায়েজ উঠে গিয়ে দরজা খুলল। রশিদ এসেছে। ফায়েজের বিশ্বস্ত লোক। যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে ফায়েজ। ফায়েজকে দেখে রশিদ দাত কেলিয়ে হাসছে। ফায়েজ তার হাসি দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেছে। পথ ছেড়ে দিয়ে রশিদকে অনুরোধ করলো ভেতরে আসার জন্য। রশিদ যেন এই কথারই অপেক্ষা করছিল। চট করে ভেতরে ঢুকলো। আশেপাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখছে হয়তো খেয়াকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। ফায়েজ রশিদের কান্ড দেখে বুঝতে পারল যে,, সে কাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
— রশিদ বস এখানে।
ফায়েজের কথায় রশিদ সোফায় বসল। ফায়েজের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,
— ভাবি কিন্তু চমৎকার একজন মানুষ। সকালে আমি ব্যাগ দিতে এলাম। আমার সঙ্গে কত সুন্দর করে কথা বলল!
ফায়েজ হাসছে। কারণ,, রশিদ এমন একজন মানুষ যাকে কিনা কেবল হাসিমুখে কথা বললে পটিয়ে ফেলা যায়। আবার মুখ কালো করে কথা বললে জীবনেও তার দেখা মিলবে না সেই মানুষটার আশেপাশে । খেয়া যেহেতু তার সঙ্গে হেসে কথা বলেছে তার মানে সে আজ থেকে কেবল খেয়ার গুনগান গাইবে। পৃথিবীতে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের খবর ফলাও করে নিউজপেপার ছাপা হয় তবুও সেগুলো তার কাছে হবে মূল্যহীন। সে যার প্রশ্ংসা করছে সেটাই তার কাছে গুরত্বপূর্ণ। বাকিগুলো ভ্যানিশ!!!
— তোর ভাবি বলল বাজার করে আনতে হবে। তুই যাবি আমার সঙ্গে??
— অবশ্যই যাব। কিন্তু,, আমি তো মাছের বাজারে ঢুকতে পারি না। নাকে বাজে গন্ধ লাগে।
কথাটি বলে মুখের অদ্ভুত আকৃতি করলো রশিদ। ফায়েজ হাসতে হাসতে বললো,,
— মনে আছে ময়না আপার বিয়ের সময় বড়ো রুই মাছ কেনার জন্য বাজার করতে পাঠিয়েছিল তোকে। তুই মাছ বাজারে ঢোকার আগেই জ্ঞান হারিয়ে পরে গিয়েছিলি। বাজারে থাকা লোকেরা ভাবলো তোর মৃগীরোগ। তোকে যে কত জুতোর ঘ্রাণ শুকতে দিয়েছে!! হায় আল্লাহ। ভাবলে এখনো হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায় আমার।
কথাগুলো বলতে বলতে ফায়েজ আরও একদফা হাসলো। রশিদ লজ্জা পেয়ে মাথা নীচু করে বললো,,
— এই যে রটনা হইলো যে আমার নাকি মৃগীরোগ আছে। সেই থেকে আমার জন্য বিয়ের পাত্রী দেখা হয় ঠিকই কিন্তু বিয়ের জন্য কোনো পাত্রী রাজি হয় না। এই দুঃখ আমি কারে বোঝাবো ফায়েজ ভাই। মাঝে মাঝে আমি কি ভাবি জানেন?? আমি যদিও বিয়েটিয়ে করতে পারি। আমার বৌয়ের সঙ্গে ঝগড়া হইলে আমাকে ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে রাস্তায় শুয়ে রেখে বলব যে,, দেখেন আমার স্বামীর মৃগীরোগে আক্রান্ত। তারে সবাই একটা কইরা চামড়ার জুতা শুকতে দেন।পারলে দুয়েকটা বাড়ি মাইরা যাইয়েন।
রশিদ কথাগুলো সম্পূর্ণ করার আগেই দেখলো ফায়েজ হাসছে মন খুলে। ফায়েজ হাসতে হাসতে রশিদকে বললো,,
— এমন অদ্ভুত ভাবনা কেবল তোর মনেই আসে!! বাপরে এত ভয়ানক ভাবনা নিয়ে তুই বিয়ের পাত্রী দেখতে যাস কি করে??
কথাটি বলে আরও একদফা হাসলো ফায়েজ। রশিদ ফায়েজের হাসি দেখছে। ফায়েজের হাসির দৃশ্য দেখতে ভালো লাগছে রশিদের। বহুবছর পর আজ ফায়েজকে এভাবে হাসতে দেখেছে।
ঘড়ির কাটায় তখন আটটা বাজে,,
বাজারে যেতে হবে এখনই তাই ফায়েজ খেয়াকে ডাক দেয়। খেয়া জবাব দেয় না। বাধ্য হয়ে খেয়ার রুমের দিকে রওনা হলো ফায়েজ। রশিদ ফ্ল্যাট থেকে বের যায় ফায়েজের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে।
খেয়ার রুমের সামনে এসে দেখলে দরজা খোলা। ফায়েজ ভেতরে ঢুকলো না। বাইরে থেকে খেয়াকে ডাক দেয়।
— ভেতরে আসুন।
ফায়েজ ভেতরে গিয়ে দেখলে খেয়া খাটের ওপর বসে আছে। হাতে কিছু একটা আছে। আপাতত সেদিকে খেয়াল না করে ফায়েজ খাটের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে খেয়াকে বললো,,
— আমি বাজারে যাচ্ছি। কিছু লাগবে তোমার??
— থ্রী-পিছ লাগবে দুটো।
— এখন থেকে শাড়িতে থাকার অভ্যস্ত হও। শাড়িতে বাঙালি নারীকে মানায় বুঝলে??
— আপনি কি ইনডিরেক্টলি আপনার চাওয়া-পাওয়া আমার মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছেন??
— অফকোর্স,, আমার বৌ।
কথাটি বলে ফায়েজ মুচকি হেসে খেয়ার নাকে টোকা দিয়ে হালকা টান দিয়ে চলে যাচ্ছিল। কিছু একটা মনে পরতেই ফায়েজ ফিরে এসে খেয়ার দিকে ঝুঁকে কপালে চুমু খেলো। তারপর কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বের হয়ে যায় রুম থেকে।
এদিকে খেয়া বিস্মিত হয়ে গিয়েছে। রাতারাতি লোকটার এতটা পরিবর্তন! কিন্তু ; কেন? রাতে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে বাসরঘরে না থেকে সকালে এত রোমান্টিক মুডে থাকাকে কি চোখে দেখা যায়?? লোকটার মতলব কি?? খেয়াকে গভীর ভাবে না ছুঁয়ে একটু একটু করে স্পর্শ করে কি বুঝাতে চাইছে?? একটু একটু করে পাহাড়ের মাটি কেটে পথ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু,, ফায়েজ এটা জানে না যে,, খেয়ার মনে ঢোকা এত সহজ নয়। খেয়ার মনে নির্বাণ ছিল এবং নির্বাণই থাকবে অন্যকেউ নয়। নিজেকে খেয়ার সামনে ভালো লোক সাজানোর চেষ্টা করছে। খেয়াকে ফাঁদে ফেলতে চাইছে। খেয়া এতটাও বোকা না যে এসব ভন্ডামি ধরতে পারবে না!!
হাতের মুঠোয় লুকিয়ে রাখা একটা ছোট বোতল বের করে তাতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো খেয়া। ধীরে ধীরে খেয়ার পথের কাটা সরাতে হবে। নির্বাণের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হবে।
— আফনে কেডা??
বিরিয়ানি দমে রেখে সবে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আসছিল খেয়া। ঠিক তখনি চল্লিশর্ধ্বো একজন মহিলা খেয়ার পথ আগলে ধরে প্রশ্নটি করলো। খেয়ার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মহিলার চোখের দৃষ্টি বলছে যেন, খেয়া এ বাড়িতে চুরি করতে এসেছে। এবং খেয়াকে সে হাতেনাতে ধরতে পেরেছে।
— কন না কেরে আফনে কেডা?? ফেলেটে যে ঢুকলেন চাবি দিছে কেডায়??
— আমি দিয়েছি খালা। আর ফেলেট হবে না ফ্ল্যাট হবে; বুঝলে??
সদর দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে জবাব দিলো ফায়েজ। ফায়েজকে দেখে খেয়া হাফ ছেড়ে বাঁচল। কারণ,, মহিলার যা চোখের দৃষ্টি!! বাপ রে এত ভয়ানকভাবে কেউ তাকাতে পারে!! ফায়েজ খেয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়ে খেয়াকে নিচু স্বরে অনুরোধ করলো এক গ্লাস পানি দেয়ার জন্য। খেয়া তড়িঘড়ি করে এক গ্লাস পানি এনে ফায়েজকে দিলো। ফায়েজ ছোট্ট করে থ্যাংক ইউ বলে পানি পান করতে যাচ্ছিল ঠিক তখনি খেয়া ফায়েজের হাত চেপে ধরলো। আকস্মিক ঘটনায় ফায়েজ খেয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। বিস্ময়ে ঘেরা দুটো চোখ।
— দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নেই। চেয়ার বসুন তারপর বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করুন।
ফায়েজ মুচকি হেসে খেয়ার কথার অনুযায়ী পানি পান করল। এই যে এতক্ষণ যা কিছু হলো তা দেখে সেই মহিলাটি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। ফায়েজ খেয়ার হাতে গ্লাসটি দিলো। খেয়া গ্লাসটি টেবিলের ওপরে রেখে রান্নাঘরে ফিরে যাচ্ছিল ঠিক তখনি ফায়েজ খেয়াকে ডাক দেয়। খেয়া ফায়েজের সামনে বললো,,
— কিছু বলবেন??
— উনি হচ্ছেন ফুলি খালা। তোমাকে দেখাশোনা করবে প্লাস বাসার যাবতীয় কাজকর্মে তোমাকে সাহায্য করবে।
— বাপজান,, কাম তো সারাজীবন পইরা আছে। আগে আফনে এইডা কন হেয় কি হয় আফনের??
— খালা তুমি সবসময় বলতে না আমার একটা লাল টুকটুকে বৌ আসবে?
ফায়েজ কথার ফাঁকে খেয়ার দিকে তাকিয়েছিল। খেয়া ফায়েজের দিকে তাকায়নি। তাকালে দেখতে পেত ফায়েজ তাকে কতটা চোখে হারায়!! চোখের দৃষ্টিতেও যে ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে হয়তো আজ সেটার প্রমাণও পেয়ে যেত।
মানুষ হটাৎ করে সুসংবাদ পেলে যেমন করে আনন্দিত হয়,, চোখে-মুখে সুখের ছাপ ফেলে যায়। ঠিক তেমনি ফুলি খালার চোখেমুখে সুখের ছাপ লেপ্টে আছে। ফায়েজের দিকে একবার তাকালো তারপর খেয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। তাকিয়ে দেখছিল খেয়াকে। ফায়েজের বিগত জীবনের ঘটনাগুলো ফুলি খালা আংশিকভাবে অবগত। খেয়া কে সেটাও তার জানা! হাসিমুখে খেয়ার গালে হাত রেখে ফুলি খালা বলল,,
—- তোমার গাল ধরছি বইলা রাগ করবা না তো আবার?? লোভ সামলাতে পারি নাই। তুমি জানো না আমি তোমারে দেইখা কত খুশি হইছি?
খেয়া ফুলি খালার কথাগুলো শুনছে। মানুষটার কথায় জাদু আছে হয়তো। খেয়ার অশান্ত মনটা হুট করে শান্তি পাচ্ছে!! খেয়া ফুলি খালার হাতের ওপর হাত রেখে হাসিমুখে বলে,,
— আমি একটুও রাগ করিনি।
ফুলি খালা আরও একদফা হাসলেন তবে নিঃশব্দে। ফায়েজ খেয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। খেয়া সবার সামনে এক রকম আর ফায়েজের সামনে অন্যরকম। এই যে সবুজ রঙা শাড়িতে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা ফায়েজের বৌ। যাকে মাঝেমধ্যে চিনতে কষ্ট হয় ফায়েজের।
— আমি তো বিরিয়ানি দমে রেখে এসেছি,, ভুলেই গিয়েছিলাম। আপনারা টেবিলে বসুন। আমি টেবিল খাবার দিচ্ছি।
খেয়া তড়িঘড়ি করে রান্নাঘরে চলে যায়। খেয়ার পেছনে পেছনে ফুলি খালা যাচ্ছে। এরইফাঁকে ফায়েজ রুমে চলে এলো। ফ্রেশ হতে হবে।
গোসল শেষ করে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো ফায়েজ। পরনে আছে কালো জিন্স এবং এবং শরীর সাদা টাওয়াল দিয়ে ঢাকা। অন্য একটা টাওয়াল দিয়ে চুল মুচ্ছিল ঠিক তখনি খেয়া এসে ফায়েজের সামনে দাঁড়ালো। ফায়েজ থমকে যায় খেয়াকে দেখে।
খেয়াকে সকালের সদ্য ফোটা স্নিগ্ধ শিউলি ফুলের ন্যায় দেখাচ্ছে। গোসল সেড়েছে হয়তো। পড়নের সবুজ শাড়িটা নেই। লাল রঙের জামদানী শাড়ি পরেছে। মাথায় জড়িয়ে আছে সাদা টাওয়াল। ভেজা কপাল জুড়ে লেপ্টে আছে চুল। ফায়েজকে কিছু বলছে খেয়া। কিন্তু,, ফায়েজের সেদিকে খেয়াল নেই। সে তো খেয়ার মোহে আঁটকে গেছে।
— কি হলো জবাব দিচ্ছেন না কেন??
এতক্ষণে ফায়েজের মতিভ্রম ভাঙল। হুট করে মনে হলো খেয়া কি ওকে খারাপ ভাবছে? তৎক্ষনাৎ দৃষ্টি নত করে ফেলল। ভেজা টাওয়াল বিছানার এক কোনে রেখে ড্রেসিংটেবিলের সামনে যেয়ে দাঁড়িয়ে রইল। খেয়া ফায়েজের কাছে গিয়ে আবারও জিজ্ঞেস করলো,,
— কি হলো উত্তর দিচ্ছেন না কেন?
এদিকে ফায়েজের অবস্থা বেগতিক কারণ খেয়া এর আগে ওকে কি বলেছে কিছুই শুনতে পায়নি। প্রশ্নই শুনতে পেলো না! উত্তর দেবে কোত্থেকে?? খেয়া যেন কিছু বুঝতে না পারে সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে খেয়ার মুখোমুখি দাঁড়ালো। ফায়েজকে সামনাসামনি দেখে খেয়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায়। কিন্তু দমে যায়নি। চোখের দৃষ্টি খানিকটা নত রেখেই বললো,,
— আমরা কি আজ ঢাকায় যাব না??
খেয়ার প্রশ্ন শুনে ফায়েজ ভ্রু কুঞ্চিত করে বললো,,
— গতকালই তো ঢাকা থেকে এলাম আর আজই জিজ্ঞেস করছো ঢাকায় যাব কি না??
— বিয়ের পর মেয়েরা তার বাবার বাড়ি যায়। এটা একটা রিচ্যুয়াল বলা যায়। যদিও আমার বাবা-মা নেই। কিন্তু,, ফুপির কাছে তো যেতেই পারি তাই না??
খেয়ার কন্ঠে মিশ্রিত ছিল অভিমান,, খানিকটা দুঃখ জড়ানো। ফায়েজ খেয়ার মুখের দিকে বত্রিশ বছর বয়সী খেয়ার মুখখানায় কিশোরীর ন্যায় অভিমান জমেছে। ফায়েজকে কি যেন সম্মোহিত করল!! হাত বাড়িয়ে খেয়াকে জড়িয়ে নিলো উন্মুক্ত বুকের মাঝে। খেয়া ছুটতে চাইল কিন্তু ফায়েজ শক্ত করে জড়িয়ে ধরাতে ফায়েজের বাঁধন থেকে মুক্ত হতে পারল না। খেয়ার চুলের ফাঁকে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ফায়েজ। খেয়ার কি যেন হলো ফায়েজের স্পর্শ পেয়ে!! বিড়ালছানার ন্যায় ঘাপটি মেরে রইলো ফায়েজের উদাম বুকে।
— সবার বাবা-মা চিরকাল বেঁচে থাকে না। আমার বাবা-মা নেই,, ভাই নেই। বলা চলে আমার আপন বলতে কেউ নেই। তাই বলে কি আমি মন খারাপ করছি?? কিংবা আমার দিনগুলো কাটছে না?? অবশ্যই দিনগুলো কাটছে। তোমার বাবা-মা নেই তো কি হয়েছে ফুপি আছে না। যে কিনা তোমাকে মেয়ের মতো আগলে রেখেছে। আপাতদৃষ্টিতে তুমি আমার চেয়ে বেশি লাকি। কারণ তোমার আপনজন আছে।আর সেই আপনজন হলো তোমার ফুপি। আর সেই আপনজনের কাছে তুমি চাইলে যেকোনো সময় যেতে পার।
ফায়েজ কথাগুলো শেষ করে খেয়াকে বাঁধন থেকে মুক্ত করে দিলো। খেয়া ফায়েজের দিকে আর তাকাতে পারল না লজ্জায়। কি দরকার ছিল ওভাবে তার নগ্ন বুকে মাথা রেখে কথাগুলো শোনার?? ফায়েজ তাকে কি ভাবছে?? নিশ্চয়ই,, এটাই ভাবছে যে,, খেয়া তাকে মন থেকে স্বামী হিসেবে মেনে নিচ্ছে??
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে খেয়া এই ঘর থেকে দৌঁড়ে চলে যাচ্ছে এবং যেতে যেতে ফায়েজকে বলে গেছে, ডাইনিং টেবিলে চলে আসতে। খেয়া চোখের আড়াল হতেই ফায়েজ হেসে ফেললো খেয়ার কান্ড দেখে। ব্লু রঙের একটি টিশার্ট পরে রুম থেকে বের হয়ে এলো ফায়েজ।
খাবার সাজিয়ে ফায়েজের জন্য অপেক্ষা করছে খেয়া এবং ফুলি খালা। ফায়েজ এসে একটি চেয়ার টেনে বসলো। খেয়া উঠে এসে একটি প্লেটে বিরিয়ানি তুলে ফায়েজকে দিলো। বিরিয়ানির সুগন্ধি শুনে ফায়েজ বিস্মিত হয়ে গিয়েছে। এক লোকমা মুখ তুলে আরও একদফা অবাক হলো। খেয়া ফায়েজের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। দ্বিতীয় লোকমা মুখে তুলতেই খেয়া ফায়েজকে জিজ্ঞেস করলো,,
— বিরিয়ানি কেমন হয়েছে??
ফায়েজ জবাব দেয় না। সে খাবার খাচ্ছে মনোযোগ দিয়ে। খেয়ার মন খারাপ হয়ে যায়। নিজের মন খারাপের আভাস যেন কারো কাছে পৌঁছায় সেজন্য ফুলি খালার পাতে বিরিয়ানি তুলে দেয়।
— তুমি খাইবা না বৌ??
— না খালা ; আমি খাব না।
খেয়ার কথা শুনেও ফায়েজ কিছু বললো না। যার কারণে খেয়ার আরও কষ্ট লাগছে। কথায় কথায় খেয়ার মন খারাপ হয় না। অথচ, আজ মন খারাপ হচ্ছে কিন্তু কেন?? ফায়েজের জন্য?? হুট করে নিজের আচরণের বিশাল পরিবর্তন খেয়া মেনে নিতে পারছে না। চট করে চেয়ার ছেড়ে নিজের ঘরের দিকে চলে যায়। ফুলি খালা অবাক হয়ে যায়। ফায়েজকে কিছু বলতে গিয়েও বলে না। কি দরকার তাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে ঢুকে পরার??
খাওয়াদাওয়া শেষ করে ফায়েজ রান্নাঘরে গিয়ে একটি প্লেটে বিরিয়ানি সাজিয়ে নিয়ে খেয়ার ঘরের দিকে যাচ্ছে। ফুলি খালা সেই দৃশ্য দেখে হাসলেন। দরজায় নক করছে ফায়েজ কিন্তু খেয়া দরজা খুলছে না। আরেকবাার নক করতেই দরজ খুলে দেয় খেয়া।দরজা খুলে দিয়ে সোজা খাটে গিয়ে বসলো খেয়া। ফায়েজ কিছু না বলে রুমে ঢুকল অন্য হাত দিয়ে দরজা বন্ধ করে খাটের ওপর প্লেট রেখে খেয়াকে বললো,,
—খেয়ে নাও।
— আমি খাব না।
— কেন??
— খিদে নেই।
— খিদে না থাকলে কষ্ট করে রান্না করতে গেলে কেন??
— ইচ্ছে হয়েছে তাই।
— তোমার কিন্তু খেয়ে দেখা উচিত।
— বিরিয়ানি রান্না ভালো হয়নি সোজাসাপ্টা বলে দিলেই হলো। এত ভণিতা করার কি আছে??
— নিজের রান্না কেমন হয়েছে নিজে খেয়ে দেখো?? আমি বলতে যাব কেন??
— আমি বললাম তো খাব না। আপনি এখন চলে গেলে আমি খুশি হবো।
খেয়ার কথা শুনে ফায়েজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওঠে চলে যাচ্ছে। খেয়া মনখারাপ করে কাত হয়ে শুয়ে পরলো বিছানায়। বিছানার আরেক কোণে অযত্নে অবহেলায় পরে রইলো প্লেট খানা।
এমনসময় এক হেচকা টানে খেয়াকে বিছানা থেকে টেনে বসিয়ে দিলো ফায়েজ। আকস্মিক ঘটনায় খেয়া বিস্মিত হয়ে গিয়েছে। বিস্ময় কাটিয়ে ফায়েজকে কিছুর বলার জন্য মুখ খোলার আগেই ফায়েজ খেয়ার মুখের সামনে লোকমা তুলে ধরল। খেয়া ফায়েজের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। দুচোখে অভিমান জমে আছে যা স্পট দেখতে পাচ্ছে ফায়েজ। খেয়া ভীষণ অভিমান নিয়ে লোকমা মুখে তুললো। ফায়েজ খেয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসছে। ফায়েজের হাসি দেখে খেয়া ভয় পেলো। খাবারে আবার কিছু মিশিয়ে দিয়েছে কিনা এই ভেবে। খাবার চিবিয়ে গলায় নামানোর আগমুহূর্তে খেয়া বুঝতে পারল তার রান্না করা বিরিয়ানি যথেষ্ট ভালো হয়েছে । ফায়েজ দ্বিতীয় লোকমা মুখের সামনে তুলে ধরলো,, খেয়া এবার বিনাবাক্য মুখে নিলো।
পুরোটা প্লেট শেষ খাওয়া শেষ হলো খেয়ার। বেডসাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাস থেকে পানি পান করলো খেয়া। ফায়েজ রান্নাঘরে প্লেট রাখতে গিয়েছে। খেয়া বসে আছে। ভাবছে ফায়েজের কথা। মানুষটা কাজকর্মে বুঝিয়ে দেবে সে কেমন?? মুখে প্রশংসা করতে তার এত দ্বিধাবোধ কেন? একবার মুখ ফুটে বললে কি হতো যে,, খেয়া তোমার রান্না করা বিরিয়ানি খেতে সুস্বাদু হয়েছে। কিন্তু,, না ; তিনি সেটা না করে উল্টো খেয়াকে খাইয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে তোমার হাতের রান্না তুমি খেয়ে বুঝে নাও খেতে কেমন হয়েছে??
খেয়া কথাগুলো ভাবতে ভাবতে বিছানায় শুয়ে পরলো। চোখটা ঝিমিয়ে আসছে। খেয়া ঘুমিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে দেখলো ওর রুমের দরজা ঠেলে ফায়েজ রুমের ভেতরে এসেছে। তারপর,, দরজা বন্ধ করে খাটের দিকে এগিয়ে আসছে। খেয়া এবার ভীষণ ভয় পাচ্ছে। ফায়েজের মনে কি উল্টাপাল্টা কিছু চলছে নাকি কে জানে??
খেয়া যখন আকাশপাতাল ভাবতে ব্যস্ত ঠিক তখনি ফায়েজ গিয়ে খেয়ার শাড়ির আঁচল সরিয়ে দেয়। বেচারি খেয়া ভয়ে পেয়ে যায়। ফায়েজকে কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে ঠিক তখনি ফায়েজ খেয়ার মুখ চেপে ধরে। খেয়া চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে। হয়তো,, আজ আর রক্ষে নেই। ফায়েজ বুঝি আজ তার স্বামীর অধিকার আদায় করেই ছাড়বে। খেয়ার দুচোখ ছাপিয়ে জল গড়িয়ে পরছে।
পুরুষ মানুষ এমন কেন??তারা নারীর মন বোঝার আগে কেন দেহের প্রতিটা অঙ্গ নিয়ে পড়তে চায়???
চলমান……

