Home "ধারাবাহিক গল্প ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় পর্ব-১১+১২

ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় পর্ব-১১+১২

0
572

#ফিরেছি_তোর_আঙ্গিনায়
#মৌমো_তিতলী
পর্ব,,,,১১

আশাকুঞ্জ
রান্নাঘরে ব্যস্ত আশালতা বেগম।
সন্ধ্যার নাস্তা বানাতে ব্যস্ত তিনি। ড্রইংরুমে সাদমান চৌধুরী বসে আছেন। হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ নিয়ে। টিভিতে সন্ধ্যার সংবাদ চলছে।

হাতের কাজ করতে করতেই আশালতা বেগমের মনে পড়লো মৌমিতার কথা।
এতো বড় শশুর বাড়িটা থাকতে হোস্টেলে থাকে মেয়েটা। কে জানে ঠিকমতো খায় কি না, শরীর কেমন আছে! এতটুকু মেয়েটা, সব সামলাচ্ছে একা একা। সব দোষ তার বেয়াড়া ছেলেটার।

চুলার আঁচ কমিয়ে দিয়ে নিজের দূরভাস যন্ত্রটা হাতে নিলেন তিনি। মৌমিতার নাম্বার ডায়াল করলেন।
📞

মৌমিতা মাত্রই অফিস থেকে বেরিয়েছে। আকাশে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। ফুরফুরে হাওয়া বইছে বেশ। লম্বা করে শ্বাস টেনে নিলো মৌমিতা।
এই ভ্যাপসা গরমের দিনে হালকা বাতাসটা যেন দিনের ক্লান্তি মুছে দিতে চাইছে। তখনই হঠাৎ তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো ব্যাগে অবহেলায় পড়ে থাকা ফোনটা। ফোন বেজে উঠতেই মৌমিতা রাস্তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালো।

ফোন বের করে চোখের সামনে মেলে ধরতেই শাশুড়ির নাম্বার ভাসতে দেখে রিসিভ করে কানে চেপে ধরলো।

:- হ্যালো মা?

ওপাশ থেকে আশালতা বেগমের কোমলকণ্ঠ ভেসে এলো,,,

:-কেমন আছো মা?

মৌমিতা হালকা হাসলো। পৃথিবীতে শশুর শাশুড়ি নামক দুজন ব্যক্তি ছাড়া তার কি আর কেউ আছে এভাবে খোঁজ নেওয়ার! সেটাও কয়েকদিন পর চিরদিনের মতো হারাতে হবে ভাবতেই চোখের কোণটা ভিজে উঠলো মৌমিতার। কোনমতে সামলে বললো,,,

:- আমি ভালোই আছি মা। আপনি কেমন আছেন? আর বাবা? প্রেসারের ওষুধ ঠিকমতো খাচ্ছেন তো উনি?

আশালতা বেগম ড্রইং রুমে বসে থাকা সাদমান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,,

:–হ্যা ভালো আছে। চিন্তা করো না। তোমার অসুবিধা হচ্ছে না তো কোন হোস্টেলে থাকতে? সমস্যা হলে মাকে বলো মৌমিতা। নাহয় একটা ভালো দেখে বাসা ..

:-মা আপনি চিন্তা করবেন না ‌। আমি ঠিক আছি। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না। এ মাসের প্রথম স্যালারি হাতে পেলে আমি নিজেই হোস্টেল ছেড়ে বাসায় উঠবো।

মৌমিতার কথায় কিছুটা আশ্বস্ত হলেন আশালতা বেগম। আবারও সুধালেন,,,

:-অফিস কেমন চলছে? কাজের চাপ বেশি না তো?
বস কেমন ? ভালো মানুষ তো?

এই প্রশ্নে মৌমিতার ঠোঁটে একচিলতে অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠলো। মা তো জানেই না…উনার ছেলেই যে তার বস।
মনে মনে ভাবলো,
“এ কথা কি মা-কে জানানো উচিত? পরক্ষনেই ভাবলো,নাহ… বললে হয়তো অযথা চিন্তা করবে। নিজের ছেলের কানেও দিতে পারেন। তারথেকে ওনার অজানায় থাক। মুখে বললো,,

:-সব ঠিকঠাক আছে মা। বসও… ভালোই।

আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তা চালিয়ে শেষে আশালতা বেগম বললেন,,

:- সাবধানে থেকো মৌমিতা। সময়মতো খাওয়া দাওয়া করবে। চিন্তা করবে না একদম।

কল কেটে গেলে মৌমিতা ফোনটা নামিয়ে রাখলো। রিকশা ডেকে উঠে বসলো।
রিকশা চলতে শুরু করলে একদৃষ্টে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো বিরস মুখে। বুকের ভেতরটা কেমন ভারী লাগছে হঠাৎ।

🌃
ঢাকা শহরে রাত হয় অন্যরকম।
রাস্তাজুড়ে আলো, গাড়ির সারি, মানুষের কোলাহল। রেস্টুরেন্টে ভীড়, ক্যাফেটেরিয়া গুলোতে অগুনিত মানুষের আড্ডা,ফুটপথ ধরে হাঁটা মানুষ। এ শহরের রাত যেন রাত নয়। বিবশ রজনীর গভীরতা বাড়লেও ঢাকা শহরটা যেন জেগে থাকে নিজের নিয়মে।

হোস্টেলে ফিরে মৌমিতা দেখে নোরা আগেই এসেছে। বেডের পাশে ছোট্ট টেবিলটায় খাবার সাজিয়ে রাখছে নোরা। মৌমিতা কে রুমে ঢুকতে দেখে অমায়িক হাসলো মেয়েটা। ফরফরিয়ে বললো,,,

:-যা যা জলদি ফ্রেশ হয়ে আয়! ট্রিট আছে আজ !

মৌমিতা ভ্রু কুঁচকে হাসলো নোরার কান্ডে। নিশ্চয় কিছু ঘোঁট পাকিয়েছে মেয়েটা। তাইতো এতো খুশি খুশি ট্রিটের ব্যবস্থা! সবই শুনতে হবে মেয়েটা হতে তবে আগে সত্যি ফ্রেস হওয়া জরুরি। মৌমিতা কাঁধের ব্যাগটা হ্যাঙ্গরে ঝুলিয়ে রেখে ওয়াশ রুমে ঢুকলো। পাক্কা পনেরো মিনিট পর বের হলো । পরিপাটি হয়ে বিছানায় বসলো নোরার অপজিটে।

দুই বান্ধবী কাজের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে শুরু করলো তাদের বাহারি গল্পে।
নোরা একটু লজ্জা লজ্জা মুখ করে হঠাৎ বললো,,,

:- মৌ… তোকে একটা কথা জানানোর আছে!

মৌমিতা জানে এখন এক ঘন্টা ধরে মেয়েটা পেটে জমিয়ে রাখা সব কথা উগ্লে দিবে। সামনে চিকেন ফ্রাইয়ের প্যাকেট থেকে একটা চিকেন বের করে মুখে পুরে দিয়ে বললো,,

:-কী কথা?

নোরা দিগুন উৎসাহিত হয়ে বলল,,,

:-আমি… আমি না আয়াত মাহমুদকে একটা চিঠি দিয়েছি।

এই কথা শুনেই মৌমিতার চোখ বড় হয়ে গেল। পরমুহূর্তেই হাসিতে ফেটে পড়লো সে,,,

কী?সিরিয়াসলি!

মৌমিতা কে হাসতে দেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো নোরা!

:-তুই আমাকে বুলি করছিস?

মৌমিতা এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। নোরার ফোলা ফোলা গালটা টিপে দিয়ে বললো,,,

:-আমাদের নোরা আফরিন দেখি তার সিঙ্গার সাহেবের প্রেমে বেশ ভালো মতোই পিছলে পড়েছে!

নোরা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। বালিশ ছুঁড়ে মারলো মৌমিতার দিকে।

:-মোটেই না!

মৌমিতাও নোরা কে নকল করে বললো,,

:-মোটেই হ্যাঁ!

হাসি, খুনসুটি, গল্পে গল্পে রাত গড়িয়ে গেল দুই বান্ধবীর।

🌅

ভোরের আলো ধীরে ধীরে বাড়ছে। সূর্য্যি মামা তার তেজ বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। সকালের স্নিগ্ধ রোদ্দুর এসে আশাকুঞ্জের জানালার কাঁচ ছুঁয়ে গড়িয়ে পড়ছে।

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পাখিরা একে একে ডানা ঝাপটে উড়াল দিচ্ছে অম্বরে, যেন তারা সবাই মিলে নতুন দিনের আগমনী গান গাইছে।
এমনই স্নিগ্ধ রোদ্দুর ভেজা সকালে নিজের রুমের মাস্টার বেডে ঘুমে আচ্ছন্ন এক সুদর্শন। কোমর পর্যন্ত চাদর টেনে নিয়ে উন্মুক্ত পিঠে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে সে। জানালা ভেদ করে আসা সূর্যরশ্মির তেজদীপ্ত ছটায় ঘুম ভেঙ্গে গেলো সফেদ বর্ণের পুরুষ টার।
গাড় ঘুম হালকা হতেই ভাসা ভাসা চোখজোড়া টেনে খুললো আদিত্য। কিছুক্ষণ অলসতা গায়ে মেখে বালিশের পাশ থেকে ফোনটা টেনে নিয়ে সময় পরখ করে নিলো সে‌‌। ফোনের স্ক্রিনে ভাসছে এক মায়াবী রমনীর হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবি‌। ছবিটা মৌমিতা অফিসে কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় লুকিয়ে তুলেছিলো আদিত্য।
আদি ছবিটার দিকে কিছুক্ষণ অপলকে তাকিয়ে থেকে উঠে পড়ে বিছানা ছেড়ে। ওয়াশ রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে একবারে শাওয়ার নিয়ে বের হয়।

আদিত্য যখন অফিসের জন্য তৈরি হয়ে নিচে নামলো,তখন আশালতা বেগম টেবিলে খাবার সাজাচ্ছেন। সাদমান চৌধুরী খেতে খেতে তাকালেন ছেলের দিকে‌।
আদিত্য এসে ডাইনিং টেবিলে বসতেই আশালতা বেগম খাবার সামনে এনে দিলেন।

খেতে খেতে সাদমান চৌধুরী গম্ভীর মুখে ছেলের উদ্যেশ্য বললেন,,,

:- মৌমিতাকে ডিভোর্স দেওয়ার ব্যাপারটা কতদূর এগোল?

আচমকা ডিভোর্সের কথা শুনেই আদিত্যর গলায় খাবার আটকে গেল। পরক্ষনেই হেঁচকি উঠে গেল আদিত্যর।
আশালতা বেগম তাড়াতাড়ি পানি এগিয়ে দিলেন ছেলেকে। আদিত্য ঢকঢক করে পুরো গ্লাস শেষ করলো। কাশতে কাশতে নাজেহাল অবস্থা।

কিছুটা স্থির হতেই সাদমান চৌধুরী নির্বিকার গলায় বললেন,,,

:-আস্তে আস্তে খাবে তো!
ক্ষণকাল চুপ থেকে আবার বললেন,,,

:-যদি মেয়েটাকে মেনে নিতে না পারো, তাহলে জলদিই মুক্ত করে দাও। এভাবে তাকে দোটানায় রেখো না। এতো বছর কম তো সহ্য করলো না মেয়ে টা!
তা ছাড়া এতদিন তো নিজেই লাফাচ্ছিলে ডিভোর্স দিতে। এখন কোনো খবর নেই কেন?

আদিত্য মাথা নিচু করে বসে রইলো।
সে তো এখন আর মৌমিতাকে ডিভোর্স দিতে চায় না। কখনো না। ইমপসিবল! বরং সে এখন উল্টো কথা ভাবছে। কীভাবে মৌমিতাকে নিজের করে ফেরানো যায়, সেই চিন্তায় দম বন্ধ হয়ে আসছে তার।

হাহঃ ডিভোর্স? এই অলক্ষুনে নামটাই তার জীবন তামা তামা করে দিচ্ছে এখন। না বউটাকে কাছে পাচ্ছে না ইচ্ছেমত বউ টা কে আদর করতে পারছে! এই মুহূর্তে দেশের একজন অসহায় নাগরিক সে।

তবুও মুখে বললো,,,

:-দেখছি বাবা… বিষয়টা জলদিই শেষ করবো।
এই বলে তাড়াতাড়ি উঠে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।

আদিত্য বেরিয়ে যেতেই সাদমান চৌধুরী আশালতা বেগমের দিকে তাকালেন। চোখের চশমাটা ঠেলে দিয়ে বললেন,,,

:-কী বুঝলে গিন্নি?

আশালতা বেগম মুখ টিপে হেসে বললেন,,

:-বেশ ফাঁদে পড়েছে আমার ছেলেটা।

আসলে দু দিন আগেই আয়াত তাদেরকে আদিত্য আর মৌমিতার বিষয়ে সবকিছু জানিয়েছে। মৌমিতা যে এখন আদিত্যর অফিসেই চাকরি করছে। আদিত্য মৌমিতা কে আর ডিভোর্স দিতে চায় না সেটাও ওনারা জেনেছেন আয়াত হতে‌।

সাদমান চৌধুরী শুধু ছেলেকে একটু বাজিয়ে দেখলেন।
আশালতা বেগমের মনটা খুশিতে ভরে আছে। এই পাঁচটা বছরে মৌমিতা শুধু তাদের পুত্রবধূ নয়, মেয়ে হয়ে উঠেছে। আদিত্য যদি সত্যিই মৌমিতা কে ডিভোর্স দিতো, সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতেন তিনিই।

________

অফিসে নিজের কেবিনে চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে আদিত্য। মাথায় হাজারো চিন্তার ঝড়। কিভাবে সবটা সামলে নিবে সেই প্ল্যানে ব্যস্ত মস্তিষ্ক!
কয়েকদিন পরেই আদিত্যর ৩০তম জন্মদিন। সেদিনই তাকে যা করার করতে হবে বলে ঠিক করলো আদিত্য। অনেক হয়েছে লুকোচুরি। এবার মৌমিতা কে ফিরতে হবে। মৌমিতা কে মানাবে সে। দরকার হলে মৌমিতার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইবে আদিত্য। তবুও জীবনে মৌমিতা কে ফেরত চাই তার!

ভাবনার মাঝেই দরজায় নক করার শব্দ কানে ভেসে এলো আদিত্যর। অনুমতি দিতেই ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ হাতে কেবিনে প্রবেশ করলো মৌমিতা।

আদিত্য কে শান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখে কপাল কুঁচকে এলো। এই লোক তো এরকম শান্ত হয়ে বসে থাকার বান্দা নয়! কোন সমস্যা হয়েছে কি!
মৌমিতা কফির কাপ টা ডেস্কের উপর রেখে গলা ঝেড়ে বললো,,,

:-আপনার কফি স্যার!

আদিত্য ফট করে চোখ খুলে তাকালো। কফির কাপ টা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়ে আবারো চোখ বন্ধ করে মাথা এলিয়ে দিলো!

মৌমিতা আদিত্যর দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,,,

:-Sir, are you okay?

আদিত্য আবারো মৌমিতার দিকে তাকিয়ে বলল,,,

:-আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাবছি! আর তুমি আমাকে এভাবে ডিস্টার্ব করছো?

আদিত্যর এহেন কথায় থতমত খেলো মৌমিতা।
আমতা আমতা করে বললো,,

:-সরি! আমি কি জানি আপনার মাথায় কি চলছে। এমন উইয়ার্ড বিহেব করছেন দেখেই প্রশ্ন করলাম। ঠিক আছে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাবতে থাকুন। আমি গেলাম।

মৌমিতা দু পা বাড়াতেই আদিত্য বলে উঠলো,,,

:- Stop! এসেই যখন পড়েছো তখন তুমি আমাকে আমার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা ভাবতে হেল্প করবে! গট ইট?

মৌমিতা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো আদিত্য কে। কি বলতে চাইলো লোকটা।

মৌমিতার কনফিউজিং ফেইস দেখে আদিত্য উঠে এলো। মৌমিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললো,,,

:-আচ্ছা মৌমিতা আমাকে একটা বুদ্ধি দাও তো!

:-কি …কিসের বুদ্ধি?

:-বউ যদি রাগ করে ছেড়ে চলে যায়! তাহলে তাকে কিভাবে আবার ফিরিয়ে আনা যায় সেই বুদ্ধি!

আদিত্যর কথায় চোখ বড় বড় তাকালো মৌমিতা। কি বললো আদিত্য এই মাত্র! নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না সে।
ঢোক গিলে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,,,

:-ম..মানে কি..কি বলতে চাইছেন আপনি?

আদিত্য ঠোঁট চেপে হাসি আড়াল করে বললো,,,

:-আহা বুঝতে পারোনি! বলেছি বউ রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে তাকে কিভাবে মানিয়ে ফিরিয়ে আনা যায় সেই বুদ্ধি দাও আমাকে!

:-কার বউ ছেড়ে চলে গেছে স্যার?

:-কার আবার! আমার! অন্যের বউ ছেড়ে গেলে তা নিয়ে আমি কেনো ভাবতে যাবো! নিজের জ্বালায় বাঁচি না!

মৌমিতা অবাকের পর অবাক হচ্ছে আদিত্য কে দেখে। এই লোকটার নিষ্ঠুরতা, নির্দয়তার রুপ দেখতে দেখতে আজ এই অবুঝ বালকের মতো বিহেবিয়ার কিছুতেই মেলাতে পারছে না সে। আদিত্য তাকে ফেরাতে চাইছে! এটা কি সত্যি নাকি মজা করছে আদিত্য! কি চাইছে লোকটা? আর এসব তাকেই বা কেনো বলছে! আদিত্য কিছু জেনে যায়নি তো! ঢোক গিলতে লাগলো মৌমিতা। এসির মাঝেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিলো তার!

আদিত্য গভীর নজরে পর্যবেক্ষণ করছে মৌমিতা কে। হুট করে মৌমিতা কে এমন উদ্বিগ্ন হতে দেখে মনে মনে উচ্ছ্বাসীত হলো সে। মৌমিতা কে আরও একটু ভড়কে দিতে বললো,,,

:-তুমি জানো! আমি বিদেশে ছিলাম! সেই সুযোগে আমার বউটা আমাকে ফেলে পালিয়ে গেছে। আহা কি কপাল আমার! কোথায় ভাবলাম বিদেশ থেকে এসে বউটার সাথে না হওয়া বাসরটা এবার সেরে ফেলবো! কিন্তু এসে দেখি বউটা আমার পাঁচ বছরের না হওয়া বাসর করার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে পালিয়ে গেছে। এই দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি এই মুখ কাকে দেখাবো, কিভাবে দেখাবো!

আদিত্যর নাটক দেখে দাঁতে দাঁত চাপলো মৌমিতা। কত্ত বড় মিথ্যুক! সে যে নিজেই মৌমিতা কে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার শর্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে! আর এখন নাটক করছে!

মৌমিতা কে তার দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকতে দেখে দাঁত বের করে জোর করে হাসলো আদিত্য। বললো,,,

:-একি মৌমিতা তুমি এভাবে ক্ষেপা বাঘিনীর মতো তাকাচ্ছো কেনো? তোমার বুঝি বিশ্বাস হচ্ছে না আমার মতো এতো হ্যান্ডসাম একজন পুরুষের বউ কি করে ছেড়ে চলে যেতে পারে!!
নাকি তোমার আমার ভার্জিনিটি নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে!
দেখো আমি সত্যি বলছি! আমি একদম পিওর ভার্জিন! বিশ্বাস না হলে চেইক করে দেখো! আদিত্য সত্যি সত্যি দু কদম এগিয়ে এলো মৌমিতার দিকে।

আদিত্য কে এগিয়ে আসতে দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল মৌমিতার। হড়বড়িয়ে পিছিয়ে গেলো কিছুটা। নাক মুখ কুঁচকে তাকালো আদিত্যর দিকে। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,,

:-আপনার ভার্জিন থাকায় উচিত! আপনার সমস্যা আপনি বুঝুন। আমি কোন সাহায্য করতে পারবো না!

:-এটা তুমি কি বলছো মৌমিতা! আমার দুঃখের কথা শুনে এরকম বলতে পারলে? কেউ বোঝে না রে! মনের দুঃখ কেউ বোঝে না।

আদিত্যর আদিখ্যেতা নাটক দেখে বিরক্ত হয়ে কেবিন ছেড়ে বেরিয়ে গেলো মৌমিতা। যেতে যেতে বিড়বিড় করতে লাগলো,,,

:-মিথ্যাবাদি একটা! নিজেই বউকে ছেড়ে দিয়ে এখন নাটক করছে!

মৌমিতা বেরিয়ে যেতেই শব্দ করে হেসে উঠলো আদিত্য। বেশ জ্বালিয়েছে আজ মেয়েটাকে! ইসসসস রাগে নাকের ডগা কেমন লাল হয়ে গেছিলো মেয়েটার! ইচ্ছে করছিলো কাছে টেনে নিয়ে কামড় বসিয়ে দেই!
ফের চুলে আঙ্গুল বুলিয়ে ঠোঁট চেপে ধরলো আদিত্য। এবার যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। হাতে ফোনটা তুলে নিয়ে কল করলো আয়াত কে। কিছু প্ল্যান এক্সিকিউট করা প্রয়োজন!

#চলবে
#হ্যাপি_রিডিং 🤗

#ফিরেছি_তোর_আঙ্গিনায়
#মৌমো_তিতলী
পর্ব,,,,১২

🌆
শো পিসের দোকাটার কাঁচের দরজায় “Shift Over” লেখা কার্ড টা ঝুলিয়ে দিতেই নোরা ক্লান্ত শরীরে ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিল। সারা দিন দাঁড়িয়ে কাজ করতে করতে পা দুটো ঝিম ধরে গেছে।
বেশ গরম পড়ছে আজ। নোরা ওড়নার কিনারায় গলার ঘাম মুছে। বাইরে পা রাখতেই সন্ধ্যার স্নিগ্ধ বাতাসটা গায়ে এসে ধাক্কা খেলো। আরামে চোখদুটো বন্ধ করে নিলো নোরা।

ঠিক তখনই পেছন থেকে নিজের নামের সম্বোধন শুনতে পেলো!

:- নোরা!

পেছন থেকে ডাকে থমকে দাঁড়ালো নোরা। ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁড়াতেই চোখে পড়লো সোহেল কে। কিছুটা দৌড়ের মতো করে দ্রুত হেটে আসছে ছেলেটা।
সোহেল কে দেখে নোরার ভেতরে ভেতরে বিরক্তি জমে উঠলেও মুখে তা প্রকাশ করলো না।

সোহেল এসে দাঁড়ালো নোরার মুখোমুখি। হাত দুটো পেছনে রেখেছে। হাতে একগুচ্ছ রঙিন জারবেরা ফুল। নোরার কে কয়েকবার পাশের সহকর্মীদের সাথে গল্প ছলে বলতে শুনেছে তার জারবেরা ফুল পছন্দ। তাই তো সে শিফট শেষ হওয়ার আগেই ছুটেছিলো ফুলের দোকানে।

:- কি হয়েছে? বিরস গলায় জিজ্ঞেস করলো নোরা।

সোহেল এক পা এগিয়ে এসে গলা পরিষ্কার করে বললো,,,

:- নোরা… আমি… অনেকদিন ধরেই বলতে চাইছিলাম। আজ আর পারলাম না।
আমি তোমাকে ভালোবাসি। সত্যি। এর আগেও তোমাকে জানিয়েছি কিন্তু তুমি হয়তো সারিয়াসলি নাওনি। প্লিজ… একবার শুধু একবার সুযোগ দাও। তোমাকে কখনো কষ্ট পেতে দেবো না। হাতের ফুলগুলো এগিয়ে ধরলো সে।

নোরা ফুলের দিকে তাকালো না পর্যন্ত। গভীর নিশ্বাস নিয়ে চোখ তুলে তাকালো সোহেলের দিকে।

:- সোহেল, আমি আগেও বলেছি। আবারও বলছি।
তোমার প্রতি আমার কোনো অনুভূতি নেই। আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।

এই কথা শুনেই সোহেলের মুখের রঙ পাল্টে গেল। ক্ষোভ জমে উঠলো ভেতরে। এই মেয়ে কি ভাবে নিজেকে। দুনিয়ায় দেখার মতো কেউ নেই তাতেই এতো দেমাগ। শুধু দেখতে সুন্দর বলেই সোহেল চেয়েছিলো মেয়েটাকে। কিন্তু বার বার বলার পরেও তাকে ফিরিয়ে দেয় কিসের অহংকারে এই মেয়ে! তাচ্ছিল্য করে বলে,,,

:- জানি! কাকে ভালোবাসো।
সেদিন শপে যে ছেলেটা এসেছিলো সেই তো?
ওই ছ্যাঁচড়াটাকেই তোমার পছন্দ তাই না?

নোরার চোখ জ্বলে উঠলো। রাগে কিছুটা জোর গলায় বলে,,

:- ভাষা সামলে কথা বলো সোহেল!

সোহেল থামলো না। বাঁকা হেসে বলল,,,

:- দেখেই বুঝেছিলাম বেয়াদব একটা।
ওর সাহস কিভাবে হয় তোমাকে পটিয়ে নেওয়ার! কোন দামী অফার দিয়েছে নিশ্চয়! এই জন্যই আমাকে ছেড়ে ওই লুচ্চাকে একসেপ্ট করেছো! দেখবে একদিন বেড পার্টনার হিসেবে ইউজ করে ছুঁড়ে ফেলবে তোমা….!

এইবার নোরা আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। কষে একটা থাপ্পড় দিলো সোহেলের গাল জুড়ে। রাগে রি রি করে উঠলো গা।

:- একদম চুপ! তোমার সাহস কি করে হয় আমাকে উল্টাপাল্টা কথা বলার? আমি কাকে ভালোবাসি,সে কে এটা তোমাকে না জানলেও চলবে। তোমাকে জানিয়ে কাউকে ভালোবাসা আমার দায়িত্ব না।
আর পরের বার থেকে আমাকে আর বিরক্ত করবে না। তাহলে খুব খারাপ হবে‌।

এই বলে আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে চলে গেল নোরা।
পেছনে পড়ে রইলো একগুচ্ছ অবহেলিত ফুল…
আর সোহেলের স্তব্ধ হওয়া দৃষ্টি। নোরা তার গায়ে হাত তুলবে বিষয়টা অপ্রত্যাশিত ছিলো বেচারার কাছে! এতো জোরে থাপ্পড় মেরেছে যে, মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠলো সোহেলের।
🌸
🌸
আর কে বিউটি এন্ড ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি। অফিসজুড়ে আজ ব্যস্ততার পাশাপাশি একটা অদ্ভুত চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তার কারণ, সকলের ডেস্কের ওপর সোভা পাচ্ছে চকচকে একটা ইনভিটেশন কার্ড।
কার্ডের ওপরে সোনালি বর্ণে লেখা,,,
“Birthday Celebration of Managing Director”

পরশু আদিত্যর জন্মদিন।
নিজের কেবিন থেকে বেরিয়ে একে একে সব এমপ্লয়িদের হাতে কার্ড তুলে দিয়েছে আদিত্য নিজেই।
সাথে কড়া নির্দেশ,,
সবাইকে আসতে হবে। কোনো এক্সকিউজ চলবে না।
পুরো অফিসের স্টাফরা খুশি। এখনই একে অপরের সাথে বসের বার্থডে পার্টি নিয়ে প্ল্যান শুরু করে দিয়েছে এক একজন।
এতো হাসি,মজা,শুভেচ্ছার মাঝখানে একমাত্র মৌমিতার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
সে এখন আদিত্যর পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট।
এই ইনভিটেশন না গ্রহণ করার কোনো উপায় নেই তার কাছে।
আর শুধু ইনভিটিশন গ্রহন করা নয়, সেখানে তাকে
সারাক্ষণ আদিত্যর সাথে সাথেই থাকতে হবে।
মৌমিতার মাথার ভেতর ঝড় বয়।
আশাকুঞ্জে গেলে তাদের আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা হবে। বিশেষ করে আশালতা বেগমের বাপের বাড়ির লোকজন। একমাত্র নানি শাশুড়ি আর খালা শাশুড়ি,(যিনি আয়াত মাহমুদের মা) ছাড়া কেউই মৌমিতা কে সেভাবে পছন্দ করে না। কারন টা হলো ঈশিতা।
আশালতা বেগমের ভাইয়ের মেয়ে। মেয়েটা আদিত্যর সমবয়সী। এখনও পর্যন্ত বিয়ে করেনি। সে আদিত্য কে পছন্দ করে এটা নিজেই মৌমিতা কে জানিয়েছিল যখন মৌমিতা আশাকুঞ্জে থাকতো। আদিত্যর অনুপস্থিতিতে যতবার তারা আশাকুঞ্জে এসেছে ততবার মৌমিতা কে খোটা দিয়ে কটু কথা শুনিয়েছে। এমনকি আদিত্য ঈশিতা কে পছন্দ করে, ভালোবাসে বলেই মৌমিতা কে মেনে নেয়নি এই কথাটাও মৌমিতার কানে ঢুকিয়েছে বারংবার। একটা সময় মৌমিতারও মনে হয়েছে হয়তো মামা-মামির কথাগুলো সত্যি। ঈশিতার বাজে ব্যবহার তাকে বার বার মনে করিয়ে দিতো আদিত্য তার নয়,ঈশীতার।
এবার আদিত্যর জন্মদিন উপলক্ষে নিশ্চয় তারা সকলেই আশাকুঞ্জে উপস্থিত থাকবে। মৌমিতা কে দেখলে নিশ্চিত তারা কোন না কোন ঝামেলা করবে। আর তাতে নির্ঘাত আদিত্য জেনে যাবে মৌমিতাই তার সেই না মেনে নেওয়া স্ত্রী। তারপর অফিসের উপস্থিত সবাই জানবে। একটা বিশ্রী সিনক্রিয়েট হবে।
সবচেয়ে ভয়ংকর ভাবনাটা শেষটায় এসে ধাক্কা দিলো ,,

আদিত্য যদি তাকে চাকরি থেকে বের করে দেয়!
যেভাবে একদিন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো…

আলুথালু ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে ইনভিটেশন কার্ডটা হাতে তুলে নিল মৌমিতা। চোখটা আটকে রইলো ঝলমলে সোনালী কারুকার্য করা লেখাগুলোর ওপর।

এতক্ষণ ধরে আড়চোখে মৌমিতাকে পর্যবেক্ষণ করছিলো আদিত্য।
মৌমিতার আতঙ্কিত মুখ, দুশ্চিন্তায় কুঁচকে যাওয়া ভ্রু
সবকিছু দেখে ভেতরে ভেতরে পৈশাচিক আনন্দে পেলো আদিত্য।
এবার কি করবে তার বউ টা? বাড়িতে আসতে তো হবেই। আসতে বাধ্য করবে আদিত্য।
আর একবার আশাকুঞ্জে নিয়ে যেতে পারলেই…
চিরদিনের মতো ফেরার রাস্তাটাও সে বন্ধ করবে। আর কোথাও যেতে দেবে না মৌমিতা কে। বিড়বিড় করে আদিত্য,,,

:-এবার দেখবো কিভাবে আমার জীবনে না ফিরে পারো!

🎂🎂

আজ আশাকুঞ্জ কে আলাদা করে চেনাই যায় না।
ডুপ্লেক্স বাড়িটা আলোর সাজে ঝলমল করছে।
ফুলের আর্চ, ঝাড়বাতির আলো, নীল-সোনালি থিমে সাজানো লন।
লাইটের ঝিলিক পড়ে পুরো বাড়িটা যেন রাজকীয় রূপ নিয়েছে।
লনে লম্বা টেবিল, ঝকঝকে কাটলারি,বাহারি খাবারের আয়োজন।
সফট মিউজিক ভেসে আসছে বাড়ির ভেতর থেকে।

সেই মুহূর্তে লনে এসে থামলো কালো রঙের একটা কর। সেখান থেকে নেমে এলো অত্যন্ত সুন্দরী একটা মেয়ে। পরনে পাতলা জর্জেটের লাল রঙা শাড়ি। শাড়ি ভেদ করে দেখা যাচ্ছে মেয়েটার শরীরের ফর্সা ত্বক। পিঠ পর্যন্ত কার্লি হেয়ারগুলো ফুরফুরে বাতাসে উড়ছে। গোলাপী ঠোঁট জোড়ায় আজ এক অন্যরকম তৃপ্তিময় হাসি লেপ্টে আছে। কত বছর পর আজ সে তার প্রণয় পুরুষটাকে দেখবে। পেটের ভেতর প্রজাপতি উড়াউড়ি করে রমনীর। সৌন্দর্যের ভারে তার পাকা বয়সটা অনাসায়ে ঢেকে গেছে। দেখলে কারোরই বোঝার উপায় নেই মেয়েটার বয়স বেড়ে ত্রিশের কোঠায়!
ঈশিতা চকচকে দৃষ্টিতে একবার আশাকুঞ্জ কে দেখে নিলো। তারপর ছুটে চললো ভেতরে‌। বুকের ভেতর উৎযাটন তখনই থামবে যখন সে তার কাঙ্খিত মুখটা দেখতে পাবে‌।
মেয়েকে এভাবে ছুটে যেতে দেখে গাড়ির ভেতর থেকে নামতে নামতে ঠোঁট চেপে হাসলেন রুমানা খান। একমাত্র মেয়ে তাদের। কখনো কোন ইচ্ছে তারা অপূর্ণ রাখেনি। বুঝ হওয়ার পর থেকে মেয়েটা ভালোবাসে রুমানা খানের ননদ পূত্র শেহজাদ আদিত্য কে। সমবয়সী হওয়ায় আদিত্য আর ঈশিতা একসাথে বড় হয়েছে। শৈশব থেকেই দুজনের মধ্যে দারুন বন্ডিং ছিলো। বন্ধুত্ব থেকেই মেয়েটা মনে মনে ভালোবাসলো আদিত্য কে। সেই আদিত্য কে যখন তার নিজের মা এক অনাথ আশ্রমে বড় হওয়া এতিম মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলো,সেটা শুনে ঈশিতা আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে গেছিলো। খোদা সহায় হয়ে সে যাত্রায় বেঁচে গেছিলো তার মেয়েটা। কিন্তু তাদের সমস্ত রাগ, ক্ষোভ গিয়ে পড়েছিলো ওই এতিম মেয়েটার ওপর। ঈশিতা দুচোখে সহ্য করতে পারে না মৌমিতা কে। রুমানা খান সুযোগ পেলেই খারিখোটি শোনাতে পিছুপা হয়না।
আদিত্য দেশে ফেরার আগেই যে মৌমিতা কে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আদিত্য দেশে ফিরে তাকে ডিভোর্স দিবে এই খবরটাই সবথেকে বেশি খুশি হয়েছে ঈশিতা। সে জানে আদিত্য তাকে ভালোবাসে। সেই কারনেই তো মেয়েটাকে মেনে নেয়নি। আর এখন ডিভোর্সও হয়ে যাবে। এরপরেই আদিত্য কে বিয়ের জন্য বলবে ঈশিতা। আদিত্য একমাত্র ঈশিতার হবে। আর কারোর নয়।

গাড়ির ওপাশ থেকে নেমে দাঁড়ালেন মোজাম্মেল খান। হাত ধরে নামতে সাহায্য করলেন তার মা,শাহিদা খানম কে। বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন আশালতা বেগম এবং মোজাম্মেল খানের মা শাহিদা খানম। তার বড় নাতীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান বলে কথা। যার জন্য নানু কে বিশেষ করে নিয়ে আসতে বলে দিয়েছিলো আদিত্য।

মোজাম্মেল খান,রুমানা খান দুজন শাহিদা খানম কে দুদিকে ধরে আস্তে আস্তে প্রবেশ করলেন আশাকুঞ্জে।
রুমানা খানের মনে চলছে নানা পরিকল্পনা। আদিত্যর জবরদস্তি বিয়েটার যখন ইতি হতে চলেছে তখন এবার তার মেয়েটার সাথে আদিত্যর বিয়ের কথা পাড়বেন তিনি ননদ,ননদাইয়ের কাছে ‌। মেয়েটা তার অর্ধেক যৌবন পার করে দিলো ছেলেটার আশায় আশায়। এবার তিনি মেয়ের ইচ্ছে পূরণ করতে যা করার করতে হয়,করবে। তবুও মেয়েটার একটা সুখী জীবন দিবেন তিনি। এক বুক আশা, স্বপ্ন নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেন তারা।

#চলবে
#হ্যাপি_রিডিং