Home "ধারাবাহিক গল্প তিমিরবসান তিমিরবসান পর্ব-০৮

তিমিরবসান পর্ব-০৮

0
317

#তিমিরবসান(৮)
#তাবাসসুম_তাজ্বওয়ারী

– তুই ও বাড়ি থেকে একেবারে চলে এসেছিস মানে? কি করেছিস তুই স্নিগ্ধা! কেন করছিস এমন? নিজের জীবন সাথে আমাদের ও শেষ করছিস!

একটু আগেই মেয়েকে নিয়ে এই বাড়িতে এসেছে স্নিগ্ধা। ওই বাড়ি থেকে একেবারে চলে এসেছে শুনে ওর না সিনক্রিয়েট শুরু করেছে। স্নিগ্ধা বিরক্ত হয়ে বললো,

– আহ মা! চুপ করো এইসব আর ভালো লাগে না আমার।

– চুপ করব? কি বলিস তুই স্নিগ্ধা! মাথাটা কি একেবারে গেছে তোর? তুই মেয়েটাকে নিয়ে এখানে এসে উঠেছিস?

স্নিগ্ধার মা কপালে হাত দিয়ে সোফায় ধপ করে বসে পড়লেন। ওনার চোখে-মুখে তীব্র আতঙ্ক আর হতাশা স্পষ্ট।

– কি করতে বলছো মা? ওখানে পড়ে থাকবো? সব শুনো নি তুমি? ওখানে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে আর এক সেকেন্ডও থাকতে পারতাম না।

স্নিগ্ধার মা এবার চিৎকার শুরু করলো,

– আরে সংসার করতে গেলে কত কী সহ্য করতে হয়! আমাদের সময় কি ঝড় ঝাপটা যায়নি? আমরা কি মুখ বুজে সহ্য করিনি?

স্নিগ্ধা বিতৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়ে আছে। ওর মা আবার বললো,

– ফাহাদ একটু ভুলভ্রান্তি করতেই পারে, পুরুষ মানুষ একটু আধটু ওদিক সেদিক পা বাড়ালেই কি সংসার ভেঙে চলে আসতে হয়? সমাজকে তুই কী মুখ দেখাবি? আমরা কী বলব মানুষকে?

স্নিগ্ধা ওর মায়ের দিকে তাকাল। এই মানুষটার জন্য ওর আজ খুব করুণা হচ্ছে। যুগের পর যুগ ধরে এই ম’জ্জাগত দাসত্ব মেনে নেওয়ার মানসিকতা এদের র’ক্তে মিশে গেছে। সে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,

– ফাহাদ শুধু পা বাড়ায়নি মা ও ডুবে গেছে। ও অন্য নারীর মোহে অন্ধ হয়ে আমার চরিত্রের দিকে আঙুল তুলেছে। আর শুধু ফাহাদ নয়, ওনার মা আর দাদিও ওনার সুরে সুর মিলিয়েছেন। যে স্বামী নিজের স্ত্রীর সতীত্ব নিয়ে সবার সামনে প্রশ্ন তুলতে পারে, সে আর যাই হোক স্বামী নামের যোগ্য নয়। আর সমাজের কথা বলছো? আমাদের যখন বিপদ এসেছিল তখন বুঝি সমাজ এসেছিল আমাকে, আমাদের বাঁচাতে? কই দেখলাম না তো! যে সমাজ আমাকে আর আমার মেয়েকে একটা বি’’ষাক্ত খাঁচায় তিল তিল করে ম’রতে দেখতে চায় সেই সমাজকে আমি নিজের পায়ের নিচে পি’ষে দিতে পারি।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল সে। স্নিগ্ধা আর কথা বাড়ানোর ইচ্ছে হলো না। নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে পেছন ফিরে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলল,

– আমি এখানে দয়া ভিক্ষা করতে আসিনি মা। আমি আমার আর আমার মেয়ের অধিকার নিয়ে এই বাড়িতে কয়েকটা দিন মাথা গোঁজার ঠাঁই নিতে এসেছি। খুব জলদিই আমি একটা চাকরি খুঁজে নেব তারপর আমার মেয়েকে নিয়ে আমি নিজের আলাদা জগৎ গড়ে তুলব। কিন্তু দয়া করে ওদের ক্ষমতার ভয় আর সমাজের দোহাই দিয়ে আমাকে আর দুর্বল করার চেষ্টা করো না। কারণ যে স্নিগ্ধাকে তোমরা চিনতে সে আজ ওই বাড়িতে থাকাকালীন সময়ই ম’রে গেছে।

স্নিগ্ধা আর কিছু শুনলো না সোজা নিজের রুমে গিয়ে দোর দিলো। বাইরে ওর মা এখনো চিৎকার চেঁচামেঁচি শুরু করেছে কিন্তু সে এসব কানেই নিলো না!

দুপুরে খেতেও সেই দরজা খুলেনি স্নিগ্ধা। কেউ ডাকতেও আসে নি। বাবা একবার এসেছিল সে বলেছে খাওয়ার ইচ্ছে নেই। বিকেল হতেই দরজার করাঘাত পড়লো। তখন মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলো স্নিগ্ধা। হুটহাট এমন আওয়াজে দুজনেরই ঘুম ভেঙ্গে গেল। আয়াত উঠে কান্নাকাটি শুরু করলে স্নিগ্ধা একবার দরজার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,

– এমন ষাড়ের মতো কে দরজা ধাক্কাচ্ছে?

ও মেয়েকে কোলে নিয়ে বিছানা থেকে নামলো। দরজায় করাঘাত বাড়ছেই। সে দ্রুত গিয়ে দরজা খুলতেই দেখল তার ছোট ভাই সিফাত। সে কিছু বলবে তার আগে ও হেসে বললো,

– আপু? কখন এসেছিস তুই? আমাকে তো বলিস নি! আমি জানার পর পর ছুটে এলাম! এই মামা কেমন আছো তুমি?

একটানা এতগুলো প্রশ্ন শুনে স্নিগ্ধা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।

– কিরে আপু? কথা বলছিস না কেন?

– কতগুলো প্রশ্ন করেছিস? কোনটার উত্তর দেবো?

– ওহ এক্সাইটমেন্টে বলে ফেলেছি! এই ওকে আমার কোলে দে!

সিফাতের কোলে আয়াতকে দিয়ে বললো,

– ওভাবে দরজা ধাক্কা দিচ্ছিলি কেন?

– আরে এক্সাইটমেন্টে! মা বলল তুই একেবারে চলে এসেছিস? তাই আরো খুশি হয়ে গেছিলাম তাই তোর সইছিল না

– দিলি তো আমার মেয়ের ঘুম ভাঙিয়ে! তোদের আর বুদ্ধিশুদ্ধি হলো না?

সিফাত সেসব শুনলে তো? ও তো আয়াতকে নিয়ে ব্যস্ত। একবার গাল টানছে তো একবার চুমু খাচ্ছে আবার বলছে,

– এই মামা কেমন আছে হু? আমাকে চিনো তুমি? চিনবে কেমনে তোমার বাপ তো চিনতে দিলো না। থাক ওই বাপ বাদ! চলো আমরা খেলব! তুমি কি খাবে হ্যাঁ? চকলেট খাবে? কিনে দেবো চল!

স্নিগ্ধা সেসব শুনে হাসলো। ছোট ভাইটা সত্যিই ছোট রয়ে গেল। এই বাড়িতে একজন নিঃস্বার্থভাবে তাকে ভালোবাসে এখনো!

– এই ও এখনো খেতে পারে নাকি?

সিফাত বোকা কণ্ঠে বললো,

– পারে না?

স্নিগ্ধা হেসে উঠলো। এর মধ্যে ওর কচলাকচলিতে আয়াত রুম কাঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
সিফাত আয়াতের কান্না শুনে আকাশ থেকে পড়ল। সে দুই হাত দিয়ে কোনোমতে বাচ্চাটাকে ধরে কাঁচুমাচু মুখে স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে বলল,

– আপু! ও কাঁদছে কেন? আমি তো ওকে আদর করতে গেলাম! এই মামা, কাঁদে না… কান্না করলে তো চকলেট দেবো না!

স্নিগ্ধা হেসে ফেলে ভাইয়ের কোল থেকে আলতো করে আয়াতকে নিজের কোলে তুলে নিল। ওকে বুকে জড়িয়ে রেখে আলতো চাপড় দিয়ে সিফাতকে বললো,

– আহা সিফাত! তুই তো আদর করছিস না, মনে হচ্ছে ওর সাথে কুস্তি খেলছিস! আমার মেয়েটাকে পুরো কচলে ফেলেছিস! এমন করলে ও ভয় পাবে না?

মায়ের বুকে সেটিয়ে গিয়ে ততক্ষণে আয়াত শান্ত হয়ে এলো। সে তার ভেজা চোখ দুটো পিটপিট করে মামার দিকে তাকাল। সিফাত নিজের কান ধরে জীভ কেটে বলল,

– ইশ! সরি রে মামণি। মামা আসলে বুঝতে পারেনি। তুই এত নরম যে তোকে কীভাবে ধরব আমি সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।

– ভেতরে আয় তো! দরজায় দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

স্নিগ্ধা নিজের খাটে এসে বসল। সিফাতও ওর পাশে ধপ করে বসে পড়ে বলল,

– কিন্তু আপু তুই ওই জামান বাড়ি থেকে একেবারে চলে এসেছিস শুনে আমার যে কী আনন্দ হয়েছে তোকে বোঝাতে পারব না! ওই শা’লা ফাহাদ আর ওর ফ্যামিলিকে আমার প্রথম থেকেই সহ্য হতো না। খারাপ লোক হয়েও কেমন একটা দেমাগি ভাব! তুই যে ওদের মুখে লা’থি মে’রে চলে এসেছিস, একদম ফাটাফাটি কাজ করেছিস!

ভাইয়ের মুখে এমন অকৃত্রিম সমর্থন পেয়ে স্নিগ্ধার খুব ভালো লাগলো। তার মা যখন তাকে অপরাধী বানাচ্ছে, সমাজের ভয় দেখাচ্ছে, তখন এই ছোট ভাইটাই বিনা শর্তে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। স্নিগ্ধা মৃদু হেসে বলল,

– মা তো খুব চেঁচামেচি করছে সিফাত। বলছে আমি নাকি নিজের সাথে তোদের জীবনও শেষ করে দিলাম। জামান বাড়ির ক্ষমতার নাকি অনেক জোর! এই সমাজ নাকি আমাকে মানবে না!

সিফাত এক ঝটকায় হাত নেড়ে বলল,

– আরে ধুর! মার কথা ছাড় তো। মার মাথাতেই ওসব সেকেলে চিন্তা ঘোরে। কী এক ক্ষমতার ভয় দেখায়! আমরা কি ওদের দয়ায় বেঁচে আছি নাকি? তুই দেখিস আপু, তুই আর আমার ভাগ্নি এই বাড়িতে কত শান্তিতে থাকবি। আমি আছি না তোর সাথে? কোনো চিন্তা করবি না। দরকার হয় আমি খাওয়াবো তোদের হুহ!!

স্নিগ্ধা হেসে বললো,

– খাওয়াতে হবে না একটা সাহায্য করিস। আমাকে একটা চাকরি খুঁজে দিস অথবা ব্যবসা করবো। আমাদের মা মেয়ের হয়ে যাবে এইটুকু একটা হলেই চলবে।

– কেন আমি খাওয়াতে পারি না বুঝি?

– তুই যে বলেছিস এটাতেই আমি খুশি রে! তবে আমি এখানে থাকতে চাই না। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে নিজে করে খেতে চাই। কারো বোঝা হয়ে নয়।

সিফাত প্রসঙ্গ পাল্টাতে বললো,

– আচ্ছা সেসব দেখা যাবে! এসব এএখন বাদ দে।

সিফাত আঙুল দিয়ে আয়াতের হাতটা স্পর্শ করতেই আয়াত একটু তাকাল সেই আঙ্গুলের দিকে। তারপর হাত বাড়িয়ে তার ছোট্ট মুঠোয় মামার একটা আঙুল শক্ত করে চেপে ধরল। সিফাত খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,

– দেখছিস আপু! ও এখনই মামাকে চিনে গেছে।

বেশ কিছুক্ষণ তোষামোদ করে তবেই আয়াতকে কোলে পেয়েছে সিফাত। প্রথমে কোলেই আসছিলো না! ঘরের এমাথা থেকে ওমাথা আয়াতকে নিয়ে সাবধানে হেঁটে বেড়াচ্ছে সে যেন কোনো মহামূল্যবান কাঁচের পুতুল ধরে আছে। স্নিগ্ধা বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখছে মামা ভাগ্নির এই খুনসুটি।

সিফাত আয়াতকে আলতো করে দুলিয়ে বলতে লাগল,

– কিরে মামণি? বল তো বড় হয়ে কার মতো হবি? এই মামার মতো হবি তো? নাকি তোর এই ডানপিটে মায়ের মতো হতে চাস?

স্নিগ্ধা আনমনে বললো,

– তোর ভাগ্নি তো ওর বাপের বংশের র’ক্ত শরীরে নিয়ে ঘুরছে। ভয় হয় জানিস! কখন কার স্বভাব ওর মধ্যে চাড়া দিয়ে ওঠে।

সিফাত তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে গেল। ওর মুখের হাসি উধাও হয়ে সেখানে এক গম্ভীর রূপ নিল। সে ঘুরে স্নিগ্ধার দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলল,

– আর কখনো এই কথাটা মুখে আনবি না আপু। র’ক্ত দিয়ে মানুষ চেনা যায় না, মানুষ চেনা যায় তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ আর শিক্ষা দিয়ে। ও ওই বাড়ির থেকে অনেক দূরে! ও তোর মতো এক সিংহী মায়ের কোলে বড় হচ্ছে। ও তোর মতোই সাহসী আর আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন হবে দেখিস। তাই না মামু?

শেষ লাইনটা নাটক করে আয়াতকে দুলিয়ে বললে আয়াত হেসে উঠলো। এমন সময় ঘরের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন স্নিগ্ধার বাবা। সিফাতকে আয়াতে মজে থাকতে দেখে তিনি একটু হাসার চেষ্টা করলেন, কিন্তু স্নিগ্ধার দিকে তাকাতেই তাঁর বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

– সারাদিন তো কিছুই মুখে দিলি না মা। শরীরটা তো এমনিতেই দুর্বল। একটু খেয়ে নিবি?

– ইচ্ছে করছে না বাবা।

– তোর মা তোকে অনেক কথা শুনিয়েছে, আমি জানি। কিন্তু তুই নিজেকে একা ভাবিস না মা। আমি হয়তো আকবর জামান সাহেবের মতো অত প্রভাবশালী কেউ নই… কিন্তু এই বাবাটা এখনো ম’রে যায়নি। যতদিন আমার শরীরে এক ফোঁটা র’ক্ত আছে, তোদের মা মেয়ের খাওয়ার কষ্ট আমি হতে দেবো না।

বাবার কথায় স্নিগ্ধার চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। সে জানত তার বাবা কতটা সাদাসিধে আর শান্ত প্রকৃতির মানুষ। তিনি আবার বললেন,

– তুই চাকরি করবি কি করবি না, সেটা পরের বিষয়। কিন্তু আগে নিজের শরীরটার যত্ন নে। মেয়েটাকেও তো সামলাতে হবে!

সিফাত আয়াতকে নিয়ে শওকত সাহেবের কোলের কাছে এনে বলল,

– দেখুন বাবা, আপনার নাতনি কেমন ড্যাবড্যাব করে নানাজির দিকে তাকিয়ে আছে। কোলে নিবেন না?

– নেবো না মানে? আমার প্রথম নাতনী! আমার একটা মাত্র নাতনি তাঁকে তোকে না নিয়ে থাকতে পারি? দে দে!

.

রাতে আয়াতকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টায় স্নিগ্ধা। রাত বাজে প্রায় একটা কিন্তু বাচ্চাটার চোখে ঘুম নেই!

“ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি মোদের বাড়ি এসো
খাট নাই পালং নাই চকি পেতে বোসো।
বাটা ভরা পান দেব, গালভরে খেয়ো,
খুকুর চোখে ঘুম নাই, ঘুম দিয়ে যেও।”

গুনগুন করে ছড়া শুনিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে আয়াতকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো এবার স্নিগ্ধা। কিন্তু তার মেয়ের চোখ দুটো খোলা। সেখানে ঘুমের লেশমাত্র নেই! বরং স্নিগ্ধার দিকে ডাগর ডাগর দৃষ্টিতে অবুঝ চাহনি মেলে চেয়ে আছে। স্নিগ্ধা তা দেখে চোখ পাকিয়ে বললো,

– এই তুই ঘুমাবি না বুড়ি? এখনো চোখ বড় বড় করে কি দেখিস হু?

আয়াত বুঝে হোক বা না বুঝে খিলখিল করে হেসে উঠলো। স্নিগ্ধা তা মুগ্ধ চোখে দেখলো। ঝুঁকে এসে ওর গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,

– এভাবে হাসলে কি আমার বুড়িকে কিছু বলতে পারি? এখন মায়ের কাছে যে তুই সবচেয়ে আপন!

একটু চুপ থেকে আয়াতের দিকে তাকিয়ে আনমনে বললো,

– তোর একটা খুব সুন্দর নাম রেখেছি, রূশদা আয়াত। এর অর্থ হলো সঠিক পথ প্রদর্শনকারী অলৌকিক নিদর্শন। তুই সত্যিই আমার জীবনের এক অলৌকিক নিদর্শন রে সোনা। যে অন্ধকার আমাকে গ্রাস করতে চেয়েছিল সেখান থেকে তোর কারণে আমি বেরিয়ে আসতে পেরেছি। বড় হয়ে তুই কখনো মাথা নোয়াবি না, নিজের আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচবি।

আয়াত এখনো বড় চোখ করে চেয়ে আছে দেখে ফিক করে হেসে ফেললো,

– দুষ্টু মেয়ে! নিজে না ঘুমিয়ে মায়েরও ঘুম কাড়ার ফন্দি করেছো বুঝি? ঘুমাও!

আয়াতকে বুকের উপর নিয়ে শুয়ে পড়লো সে ও! আয়াতের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে কখন যে স্নিগ্ধার নিজের চোখ দুটোও ঘুমে জড়িয়ে এসেছিল, সে নিজেও টের পায়নি।

#চলবে…?