#তিমিরবসান(২০)[সমাপ্তি পর্ব]
#তাবাসসুম_তাজ্বওয়ারী
– কেমন আছো ওয়াজেদ? আমায় চিনতে পেরেছো? তোমার মেহজাবীন বলছিলাম!
ওয়াজেদ থমকে গেল। স্নিগ্ধা ওরই কাঁধে মাথা রাখায় সেও স্পষ্ট শুনল কথাটা। তৎক্ষণাৎ মাথা তুলে চোখ বড় করে তাকাল ওয়াজেদের দিকে। ওয়াজেদ নিজেও হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে আছে। স্নিগ্ধা বোধহয় অপ্রস্তুত হলো। সে আয়াতকে নিয়ে উঠে দাঁড়াতে চাইলে ওয়াজেদ আটকে দিলো। স্নিগ্ধার হাত টেনে ধরলে সে পেছন ফিরলো। ওয়াজেদ স্নিগ্ধার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখে তাকে আবার পাশে বসাল, যেন বোঝাতে চাইল পালিয়ে যাওয়ার বা সরার কিছু নেই।
ফোন লাউড স্পিকারে দিয়ে চোয়াল শক্ত করে বললো,
– কোন মেহজাবীন?
ওপাশ থেকে মেহজাবীন একটু সময় নিল। ওয়াজেদের এমন ঠান্ডা আর কাঠখোট্টা কণ্ঠস্বর হয়তো সে আশা করেনি।
– ওয়াজেদ… তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? নাকি এভাবে অচেনা করার ভান করছ? আমি মেহজাবীন! তোমার ভা…
ওর কথা শেষ করে দিলো না। কাটকাট গলায় বললো,
– যাকে চিনি না তাকে চেনার ভান করার প্রশ্নই ওঠে না। আমার স্মৃতিতে ‘মেহজাবীন’ নামের কোনো অস্তিত্ব নেই। বহু বছর আগেই সেই নাম আর তার সাথে জড়িত সব আবর্জনা আমি ডাস্টবিনে ছুঁ’ড়ে ফেলেছি। আমার জীবন আর স্মৃতি দুটো থেকেই মুছে ফেলেছি। হঠাৎ এই মৃ’ত অতীতকে ক’বর খুঁড়ে বের করার কী প্রয়োজন পড়ল?
মেহজাবীন স্তব্দ হলো। কাঁচুমাঁচু করে বললো,
– জানি ওয়াজেদ, আমি তোমার সাথে খুব বড় অন্যায় করেছি। কিন্তু…
ওয়াজেদ ওকে থামিয়ে দিলো,
– যে অতীত বহু আগেই মুছে গেছে সেই অতীত নিয়ে কথা বলতে বা মনে করতে চাইছি না আমি! তোমার নামটা এখন আমার কাছে একটা অর্থহীন শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়।
মেহজাবীনের কণ্ঠ এবার খানিকটা নরম আর আকুল হয়ে উঠল,
– আমি তোমার সাথে খুব বড় অন্যায় করেছি। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি আজ চরম বিপদে! সোহেল আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, আমার সব কিছু কেড়ে নিয়ে মাঝপথে ছেড়ে চলে গেছে। আজ আমার কেউ নেই ওয়াজেদ… আমি খুব অনুতপ্ত। আমি জানি তুমি আজও পুরোনো আঘা’তটা বয়ে বেড়াচ্ছ। প্লিজ আমাকে একটা শেষ সুযোগ দাও! আমি সব ভুল শুধরে আবার তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই…
মেহজাবীনের কথা শুনে স্নিগ্ধা ওয়াজেদের মুখের দিকে তাকালো। কিন্তু ওয়াজেদ মোটেও উদ্বিগ্ন হলো না বরং হেসে বললো,
– তুমি বড্ড ভুল ধারণা নিয়ে ফোন করেছ, মেহজাবীন। তুমি চলে গিয়ে আমার জীবনে কোনো শূন্যতা তৈরি করোনি বরং তোমার মতো একটা মিথ্যা মানুষের বিদায়ের পরেই আমার জীবনের সত্যিকারের আলো এসেছে।
– মানে?
ওয়াজেদ ফোনটা স্নিগ্ধার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে চোখের ইশারা করলো। স্নিগ্ধা বুঝতেই ঢোক গিললো। কোনরকম শক্ত কণ্ঠে বললো,
– মানেটা ভীষণ পরিষ্কার মিস ওর মিসেস? হোয়াটএভার! যাকে নিয়ে আপনি এতো হিসাব কষছেন, সে এখন আমার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। আমি ওয়াজেদের স্ত্রী! আমার বর্তমান থেকে দূরে থাকবেন। আমার জিনিস আমি ভালোমত বুঝে নিতে জানি তাই দূরে থাকাটাই আপনার জন্য শ্রেয়।
ফোনের ওপাশ থেকে মেহজাবীন বিশাল এক ধাক্কা খেল! কিছুক্ষণ একদম নিঃশব্দ, নিস্তব্ধ। সে হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি ওয়াজেদের জীবনে অন্য কোনো নারী এভাবে স্থান করে নিতে পারে, বিশেষ করে তার ছড়ানো অপবাদের পর! সে আমতা আমতা করে বললো,
– স্ত্র-স্ত্রী? ওয়াজেদ তুমি বিয়ে করেছ? কিন্তু তুমি তো….
– হ্যাঁ, আমি বিবাহিত। এবং খুব সুখে আছি। তোমার ছুড়ে ফেলা কুৎসিত অপবাদ আর বি’ষকে ভুল প্রমাণ করে আল্লাহ্ আমাকে এক পূর্ণাঙ্গ পরিবার দিয়েছেন। আমার পাশে আমার ভালোবাসার মানুষ স্নিগ্ধা আছে, আর আমার কোলে আছে আমার মেয়ে যে আমাকে প্রতিদিন ‘বাবা’ বলে ডেকে আমার জীবন পরিপূর্ণ করে দেয়।
ওয়াজেদ একটু থেমে বরফশীতল স্বরে যোগ করল,
– তাই নিজের পা’পের বোঝা কিংবা অনুশোচনা নিয়ে এখানে আর কেঁদে কোনো লাভ নেই। সোহেল তোমাকে ধোঁ’কা দিয়েছে সেটা তোমার কাজেরই কর্মফল। আমার শান্ত ও সুখী সংসারে তোমার মতো ধোঁ’কাবাজের আর কোনো ঠাঁই বা করুণা নেই। এরপর আর কোনোদিন এই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে নিজেকে আরও সস্তা বানাবে না আশা করি।
ওয়াজেদ আর অপেক্ষা করলো না কোনো উত্তরের, ফোন কেটে দিলো। এরপর সাথে সাথেই নম্বরটা স্থায়ীভাবে ব্লক লিস্টে ফেলে দিয়ে ফোনটা পাশে রেখে দিল। স্নিগ্ধা ওর দিকে এক নজরে চেয়ে। ওয়াজেদ ওর দিকে তাকিয়ে বললো,
– এভাবে কি দেখছো? নজর লেগে যাবে তো আমার!
স্নিগ্ধা একটু অপ্রস্তুত হয়ে চট করে চোখ সরিয়ে নিল কিন্তু পরক্ষণেই ঠোঁটের কোণে মিষ্টি একচিলতে হাসি ফুটে উঠল। সে একটু মুখ বাঁকিয়ে জবাব দিল,
– নিজের জামাইকে নিজেরই নজর লাগবে নাকি?
ওয়াজেদ হেসে উঠলো। ভ্রু নাচিয়ে বললো,
– তোমার জবাব কিন্তু কড়া ছিলো।
স্নিগ্ধা মৃদু হেসে বললো,
– আপনার ওপর আমার বিশ্বাস তো বরাবরই ছিল ওয়াজেদ কিন্তু আজ বুক ফুলিয়ে নিজের অধিকারটুকু জাহির করতে পেরে মনটা সত্যি শান্ত হয়ে গেল। আপনার জীবন থেকে সব অন্ধকার কাটানোর বাহানা হয়ে যেন আমি সারা জীবন এভাবে থাকতে পারি।
– আমি তো সেটাই চাই!
– ধন্যবাদ ওয়াজেদ… আমাকে আর আয়াতকে এভাবে আগলে রাখার জন্য! আমাদের ভরসার জায়গা হওয়ার জন্য।
ওয়াজেদ স্নিগ্ধার কপালে চুমু খেয়ে বললো,
– ধন্যবাদ তো আমার দেওয়া উচিত, স্নিগ্ধা। তুমি না থাকলে হয়তো আজও আমি একটা শক্ত খোলসের ভেতরে বন্দি হয়ে জীবন পার করে দিতাম।
.
৪ বছর পর,
– আম্মু! আপু কুতাই? ককন আসবে
স্নিগ্ধা কাজ করতে করতে ছেলের দিকে তাকালো। ছেলেটা ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে তার পানে। স্নিগ্ধা চোখ মুছিয়ে হেসে বললো,
– এইটুকুর জন্য চোখে পানি আসে আমার বাবার? আপু তো স্কুলে গেছে সোনা! একটু পরেই তোমার বাবা ওকে নিয়ে চলে আসবে।
ছেলেটা চলে গেল। একটু দরজায় কলিংবেলের শব্দ। পুঁচকে ছেলেটা মুহূর্তেই চোখ মুছে একগাল হেসে দরজার দিকে দৌড় দিল। স্নিগ্ধাকে তাড়া দিলো দরজা খুলার জন্য। স্নিগ্ধা এসে দরজা খুলার পর দেখা গেল আয়াত আর ওয়াজেদকে। আয়াতের পরনে স্কুলের ইউনিফর্ম, দুই পাশে চমৎকার দুটি জুটি বাঁধা চুল। আয়াত এগিয়ে এসে ব্যাগ রেখে বললো,
– আয়ান তোমার জন্য একটা জিনিস এনেছি দেখো! বাবা কিনে দিয়েছে!
ও দ্রুত ব্যাগ থেকে একটা সুন্দর কার্টুন আঁকা কালারিং বুক আর এক সেট রঙিন পেন্সিল বের করে ছোট ভাইয়ের হাতে তুলে দিল। দুটো গাড়িও হাতে নিলো। একটা ভাইয়ের হাতে আরেকটা নিজে রেখে বললো,
– একটা তোমার একটা আমার। ঠিক আছে?
স্নিগ্ধা ভেবেছে দুটোই বোধহয় আয়ানের তাই সে বললো,
– আয়ানকে দিয়ে দাও আয়াত! তুমি গাড়ি নিয়ে কি করবে?
ওয়াজেদ এবার বললো,
– কেন দিবে? এটা আয়াতের। আয়ানেরটা তো আয়ানের হাতেই দিয়েছে।
– ও কি এখনো ছোটো আছে নাকি? ওর জন্য এসব কেন? ও গাড়ি দিয়ে খেলবে?
ওয়াজেদ ভেতরে যেতে যেতে বললো,
– খেলুক আর না খেলুক আমার মেয়ের পছন্দ হয়েছে তাই তাকে কিনে দিয়েছি এবার খেলুক আর ভাঙ্গুক তোমার কি? আয়াতকে কিনে দিয়েছি বলেই আয়ান পেয়েছে বুঝলে?
স্নিগ্ধা হাত দুটো কোমরে দিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকাল।
– হ্যাঁ, আপনি তো মেয়ের বাহানায় ওর সব বায়না মাথায় তুলে নেবেনই! কাল যদি এসে বলে রকেট কিনে দিতে, আপনি সেটাও কিনে এনে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে রাখবেন!
ওয়াজেদের ততক্ষণে কোটের বোতাম খোলা শেষ। সে পেছনে ফিরে স্নিগ্ধার এই ঝাঁঝালো অভিযোগ শুনে একগাল হাসল। হেসেই জবাবে বললো,
– আমার মেয়ে রকেট চাইলে রকেটও এনে দেব স্নিগ্ধা। এই দুনিয়ায় আমার মেয়ের খুশির চেয়ে বড় তো আর কিছু নেই। আমার জীবনের প্রথম সন্তান আমার এক মাত্র রাজকন্যা বলে কথা!
– হয়েছে, বাপ-মেয়ের আর এতো আদিখ্যেতা দেখাতে হবে না! ছোটবেলা থেকে আয়াতকে মাথায় তুলে তো রাখছেন তাই তো জেদ বেশি!
ওয়াজেদ এবার হো হো করে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে বলল,
– জেদ থাকা তো ভালো স্নিগ্ধা! আমার রাজকন্যা নিজের অধিকার আদায় করে নিতে জানে, এটা ভেবেই আমার গর্ব হয়। আর ওর এই সামান্য আবদারগুলোকে যদি জেদ বলো তবে সেই জেদ আমি সারাজীবন পূরণ করতে রাজি!
স্নিগ্ধা চোখ ছোট ছোট করে তাকাল কিন্তু মনের অজান্তেই ওর ঠোঁটের কোণে একচিলতে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। ওয়াজেদের এই ভালোবাসা আর আয়াতকে নিজের থেকেও বেশি আপন করে নেওয়ার মানসিকতাই তো স্নিগ্ধাকে প্রতিদিন নতুন করে ওর প্রেমে ফেলে। সোফায় ততক্ষণে দুই ভাইবোনের মাঝখানের রাজত্ব ভাগাভাগি শুরু হয়ে গেছে। আয়ান নতুন কালারিং বই আর পেন্সিল একপাশে সরিয়ে রেখে বোনের সাথে রেসিং কার গড়া শুরু করেছে। স্নিগ্ধা হেসে রান্নাঘরে চলে গেল।
রান্না করতে করতে ভাবছে তার জীবনটা কোথা থেকে কোথায় এলো!
কত ঝড়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল ওকে! ফাহাদের অহেতুক শারীরিক ও মানসিক নির্যা’তন, মেকি আত্মসম্মানবোধ আর তার পরিবারের তরফ থেকে আসা একের পর এক অবহেলা । একটা সময় তো মনে হয়েছিল, মেয়ে আয়াতকে নিয়ে হয়তো কোনোদিন আর আলোর মুখ দেখাই হবে না! বেঁচে থাকার প্রতিটি পথ যেন দুর্ভেদ্য অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল।
কিন্তু আজ?
যে মেয়েকে অবহেলার পাত্রী বানিয়ে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, সেই মেয়ে আজ ওয়াজেদের মতো এক বিশাল বৃক্ষের ছায়ায় শান্তিতে বাস করছে। ওয়াজেদ ওকে আশ্রয় দেয়নি, দিয়েছে প্রকাণ্ড এক সম্মানের অধিকার যা একজন নারীর সবচেয়ে বড় পাওয়া। আয়াতে আর ওর র’ক্ত এক না হতে পারে কিন্তু আয়াতের দিকে ওয়াজেদের ওই আগলে রাখা দৃষ্টিভঙ্গি দেখে যে কেউ বলবে আয়াত ওর বাবার চোখের মণি, ওর বড্ড প্রিয় প্রথম সন্তান। ওয়াজেদ সবসময় আয়াতকে এগিয়ে রাখে আয়ান থেকে। তাই বলে এই না যে আয়ানকে ভালোবাসে না! দুজনকেই ভালোবাসে কিন্তু আয়াতের প্রতি ভালোবাসা প্রখর এবং অন্যভাবে প্রকাশ করে। যেটা সবসময় স্নিগ্ধাকে মুগ্ধ করে! পরে ওদের ঘর আলো করে এসেছে ছোট ছেলে আয়ান। দুই সন্তান আর ওয়াজেদের ভালোবাসায় স্নিগ্ধার এই ছোট্ট সংসারটি এখন কানায় কানায় পূর্ণ।
ফাহাদের অবস্থা শুনেছিল সে। সুখ পাখি তার জীবনে টিকছে না! যদিও সে কারোর খারাপ চায় না কিন্তু দীর্ঘশ্বাসগুলো তো লুকাতে পারে না! রব তো সব জানে! তবুও সে চায় সবাই ভালো থাকুক।
অন্যদিকে স্নিগ্ধার বড় ভাই এবং ভাবী তাদের মায়ের সাথে থাকে না! আলাদা হয়ে গেছে। ভাই এখন বউয়ের এবং বউয়ের পরিবারের আপন। তোহ হ্যাঁ প্রয়োজন হলে ঠিকই ওদের খোঁজ নেয়। কিন্তু তাদের মা? তিনি একই রয়ে গেলেন। ছেলেরা এখনো তার আপন! মেয়ের থেকেও ছেলেকে তিনি বেশি প্রায়োরিটি দিয়ে থাকেন। স্নিগ্ধা আর কিছু বলে না। যা হচ্ছে শুধু দেখেই যায়!
স্নিগ্ধা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুলায় চায়ের লিকারটা বসিয়ে দিল। মানুষের জীবনের হিসেবগুলো সত্যিই কত অদ্ভুত!
হঠাৎ পেছন থেকে দুটি পরিচিত বলিষ্ঠ হাত স্নিগ্ধার কোমর জড়িয়ে ধরল। ওয়াজেদ হালকা করে নিজের চিবুকটা রাখল স্নিগ্ধার কাঁধে। নিচু গলায় ফিসফিস করে বলল,
– রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে ফেলে এত কী ভাবা হচ্ছে? কার কথা ভাবছো হু?
স্নিগ্ধা রসিকতা করে বললো,
– ভাবছিলাম… আপনিও তো আয়ান আসার পর আমার দিকে তাকানোর সময় পান না।
ওয়াজেদ একটু ঝুঁকে স্নিগ্ধার কানের কাছে মুখ এনে নিচু স্বরে ফিসফিস করল,
– তাই নাকি? তাহলে তো আজ রাতে ম্যাডামের এই ভুল ধারণাটা ভাঙতেই হচ্ছে!
কথাটা শুনে স্নিগ্ধার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। সে চোখ বড় বড় করে ওয়াজেদের বুকে আলতো এক ধাক্কা দিয়ে বলল,
– যেখানে সেখানে ফাজলামি!
– ফাজলামি তো আপনি শুরু করেছেন ম্যাডাম! যেখানে আপনি ছাড়া আমি সারাদিন কোনো কিছু ভাবিই না সেখানে নাকি আপনাকে সময় দিই না! এটা তো ঘোর অপবাদ!
স্নিগ্ধা খিলখিল করে হেসে উঠলো এমন কথায়। ওয়াজেদ এবার আরো একটু শক্ত করে স্নিগ্ধাকে নিজের দিকে টেনে আনল।
– শুধু হাসলেই তো হবে না স্নিগ্ধা! এমন গুরুতর অপ’বাদের ক্ষ’তিপূরণ কিন্তু দিতেই হবে।
স্নিগ্ধা ওয়াজেদের দিকে মাথা ঘুরিয়ে ওর গাঢ় চোখ দুটোর দিকে তাকাল। এতগুলো বছর পার হয়ে এসে আজও এই মানুষটার বুকের ছায়ায় যে প্রশান্তি আর নিরাপত্তা পায় সে। সে পেছনে ঘুরে ওয়াজেদের গলা জড়িয়ে ধরে বললো,
– ক্ষ’তিপূরণ? যে মানুষটা আমার পুরো জীবনটাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলো, তাকে যদি একটু অপবাদ দিয়ে সেই অপবাদের ক্ষ’তিপূরণ হিসেবে যদি বেশি বেশি ভালোবাসা নেওয়া যায় তবে সেই অপবাদ তো আমি রোজ দিতে রাজি!
ড্রয়িংরুম থেকে ভেসে আসছে আয়াত আর আয়ানের খিলখিল হাসির শব্দ। দুই ভাইবোন ততক্ষণে মেঝোজুড়ে রেসিং কারের ট্র্যাক বানিয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছে। আর স্নিগ্ধা পুরো ঘরে শুধু ভালোবাসার সুবাস পাচ্ছে। পুরনো সব অপমান, অবহেলা আর ঘোর অন্ধকারের পথ সফলভাবে অতিক্রম করে আজ ওদের সংসার সুখে আর শান্তিতে কানায় কানায় পূর্ণ। সত্যি, জীবনের সমস্ত আঁধার ধুয়েমুছে শেষ পর্যন্ত ওদের ভালোবাসার আকাশে নেমে এসেছে সুখ পাখি! সত্যিই সেই স্নিগ্ধার জীবনের তিমির কেটে হয়েছে “তিমিরবসান”।
~ #সমাপ্ত

