#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব:১
-“আটানব্বই, নিরানব্বই, একশ”ধপাশ করে ফ্লোরে বসে পড়লো মেহেক।
-“মেহেক আপু উঠে দাঁড়াও তাহলে পুরো একশ হবে।”
মেহেক রাগি দৃষ্টিতে তাকালো এরিদের দিকে।
-“ওর দিকে চোখ রাঙালে হবে না যেখানে স্বয়ং উৎস দাঁড়িয়ে সেখানে বাহানা প্রশ্রয় যোগ্য নয়।”
-“তুমি তো বসে আছো দাঁড়ালে কখন!”
নিশাত ও রোদসী হেঁসে দিলো।
-“থাপ্পড় খেলে বুঝবি।”
মেহেক করুন চোখে তার বড় আম্মুর দিকে তাকালো।কিন্তু তিনি তো কিচ্ছু করতে পারবে না। ছেলে যেই রাগি হয়েছে!তার বড় আম্মু যে থামাতে পারবে না সেটা সে তার বড় আম্মুর মুখ দেখে বুঝে গেছে।তারপর তার দুই বোনের দিকে তাকালো তারাও কিছু করতে পারবে না ইশারায় বুঝিয়ে দিলো।তাই সে করুন দৃষ্টিতে তাকালো উৎসের দিকে।মুখে মুচকি হাসি এঁটে বললো,
_”উৎস ভাই একশ তো হয়ে গেছে পা ব্যাথা করছে বসে যখন পড়েছি তো আবার উঠবো কেনো?এমনিতেও তো উঠবোই কিন্তু ইত্তু জিরিয়ে নেই।”
-“কথা না বাড়িয়ে সোজা হয়ে দাঁড়া।”
-“উৎস”
শাহাদাত চৌধুরীর গলার শব্দ ভেসে এলো।তিনি তাদের দিকেই আসছে।মেহেকের কাছে গিয়ে মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দাঁড় করিয়ে সোফায় নিয়ে বসালো।
উৎস মেহেকের দিকে গম্ভীর চোখে তাকিয়ে আছে তার চোখে কোনো ভাবান্তর পর্যন্ত নেই।
-“বড় আব্বু দেখো কিভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে এখনোই গিলে খাবে!”
মেহেকের কথা শুনে এরিদ শব্দ করে হো হো করে হেঁসেই দিলো।
-“মেহেক আপুকে খেলে ভালোই হবে আমার চকলেট আর খেতে পারবে না।”
-“উৎস এতোদিত পর এসেছো সবার সাথে ভালো ব্যবহার করবে তা না করে মেয়েটার সাথে বেয়াদবি করছো।”
উৎস ভ্রু কুচক্রে মেহেকের দিকে তাকালো।
-“তোমার কি মনে হচ্ছে আমি ওর সাথে বেয়াদবি করছি তুমি জানো তোমার আদরের মেয়ে কি করেছে?”
-“ও ছোট মানুষ ভুল করবেই সেটা তোমরা সুধরে নিবে।”
রান্না ঘর থেকে বেরিয়া আসলো সুফিয়া অর্থাৎ মেহেকের মা।
-“ভাইয়া আপনার আর ভাবির প্রশ্রয়ে দিন দিন অসভ্য হচ্ছে। উৎস যা করছে বেশ করছে একশ তো কম হয়েছে আরো নয়শবার কান ধরে উঠ বস করালে যদি এই মেয়ে থামে।”
মেহেক গাল ফুলিয়ে কেঁদেই দিলো।তার মা তার পক্ষে কথা বলবে তা না করে ওই উৎস ভাইয়ের পক্ষে কথা বলছে।ইশ যদি তার ফারাজ ভাই থাকতো তাহলে একশ কেনো এক বারও কান ধরে উঠ বোস করতে হতো না। একটা সরি বললেই হয়ে যেতো।এতোদিন পর বিদেশ থেকে এসে তার উপর রাগ দেখাচ্ছে আর কাউকে পেলো না।আসতে বলেছে কে? না আসলেই ভালো হতো এতো দিন শান্তিতে ছিলো এখন ঘুম হারাম করতে এসেছে।এতোদিন সবাইকে বলেছে এখন সেও আসছে তাকে শাসন করতে!মেহেক মুখ বাকিয়ে অন্য দিকে ঘুরে বসলো।যাতে তার উৎস ভাই তার মুখ না দেখতে পারে।
***
ছয় বছর পর জুবরান উৎস চৌধুরী বিদেশ থেকে আসছে।চৌধুরী বাড়িতে হৈ-হুল্লোড়ে সবাই মেতে উঠেছে।বাড়ির তিন গিন্নি সকাল থেকে রান্না ঘরেই ব্যস্ত হাতে সব সামলাচ্ছে। এতোদিন পর ছেলেটা বাড়ি ফিরছে তাই তার সব পছন্দের খাবার রান্না করা হচ্ছে। এসেই তিন মাকে বলবে তোমাদের রান্না এতোদিন খুব মিস করেছি।বাড়ির তিন কর্তার তিন গিন্নি মিলে উৎসের পছন্দের খাবার কাচ্চি,রোস্ট,টিকা,ডিমের কোরমা,চিংড়ি মাছ রান্না করছে।
বাড়ির বড় কর্তা শাহাদাত চৌধুরী তার সহধর্মিণী মালিহা চৌধুরী তাদের দুই ছেলে জুবায়ের ফারাজ চৌধুরী ও জুবরান উৎস চৌধুরী।
দ্বিতীয় কর্তা সাফওয়ান চৌধুরী তার সহধর্মিণী সুফিয়া চৌধুরী তাদের দুই মেয়ে তাসনিম চৌধুরী নিশাত ও তার ছোট বন শেহরোজা চৌধুরী মেহেক।
তৃতীয় কর্তা সাজ্জাদ চৌধুরী তার সহধর্মিণী নাফিসা চৌধুরী তাদের এক মেয়ে এক ছেলে নুসাইবা চৌধুরী রোদসী ও জুনায়েদ চৌধুরী এরিদ।
চৌধুরী বাড়ির ছেলে মেয়েদের সবার দুটো করে নাম রাখা হয়েছে নাহলে সবাই নাম নিয়ে ঝগড়া করবে। বলবে ওর দুটো নাম আমার একটা কেনো?তাছাড়া চৌধুরী বাড়ির ছেলে মেয়ে তাদের একটা করে নাম কেনো হবে!চৌধুরী নিবাসের তিন পুএ নাম মিলিয়েও রাখা হয়েছে জুবায়ের, জুবরান,জুনায়েদ।সবচেয়ে বিচ্ছু হচ্ছে মেহেক ও এরিদ।
চৌধুরী বাড়ির তিন কর্তার তিন গিন্নি মিলে চৌধুরী নিবাসকে সুখে ভরিয়ে রেখেছে যেখানে নেই কোনো ঝগড়া, কটূক্তি, হিংসা যা আছে শুধুই ভালোবাসা আর দুষ্টুমি।বর্তমানে একান্যবর্তী পরিবার কমই চোখে পরে কিন্তু চৌধুরী বাড়ির সবাই এক সাথে কি সুন্দর মিলেমিশে থাকে।
ফারাজ তার ভাইকে এয়ারপোর্ট থেকে ড্রপ করে বাড়ির গেইটে নামিয়ে দিয়ে পার্টি অফিসে চলে যায় বাসায়ও ধুঁকেনি।
উৎস বাসায় আসবে শুনে নিশাত, রোদসী,মেহেক ও এরিদ বাসায় আজ। মেহেক ও এরিদ অপেক্ষা করছে কখন উৎস আসবে এসে তাদের জন্য কী কী এনেছে তা তাদের হাতে দিবে।
কিন্তু হলো উল্টোটা উৎস আসার পরই তার সব মায়েরা তাকে জড়িয়ে ধরলো বোনরাও কেমন আছে জিজ্ঞেস করলো সে কাছে জেতেই তাকে কান ধরিয়ে উঠ বস করালো।এতে সে প্রচুর রেগে যায় তারপরও নিজের রাগকে কন্ট্রোল করে না হলে দেখা যাবে তার জন্য যা এনেছে তা বাকিদের দিয়ে দিবে।
উৎস এতোদিন পরে এসে তার বোনকে কান ধরে উঠ বস করাচ্ছে দেখে শাহাদাত চৌধুরী রেগে যায়।কিন্তু সে তো জানে না তার আদুরে মেয়েটা কি কি করে ঘুরে বেড়ায়? আর করলেই বা কী তার কাছে মেহেকের সব অপরাধ পানির মতো সে কিছু করেনি যা করেছে সব না বুঝে করেছে। তার কাছে মেহেক ছোট খুকি।
শাহাদাত চৌধুরীর কোনো মেয়ে নেই কিন্তু তিনি তার ভাইদের মেয়েকে নিজের মেয়ে মনে করেন। নিশাত, রোদসী ও মেহেক তিনজনই তার মেয়ে। কিন্তু তাদের মধ্যে মেহেক তার সবচেয়ে আদরের। মেহেকের সব আবদার বায়না তার বড় আব্বুর কাছেই কারণ সেই একমাত্র ব্যাক্তি যে তার সব বায়না শুনে।
মেহেক এসএসসি দেওয়ার পর তাকে ফোন দেওয়া হয়। তার রেজাল্ট দেখে সবাই খুশি হয় এমনকি উৎসও।মেহেক এসএসসিতে এ প্লাস পেলে উৎসই তার জন্য ফোন পাঠায়। কিন্তু সে কি জানতো মেহেক সেটার অপব্যবহার করবে।মেহেক ফেসবুক একাউন্ট খুলে মাজে মাজে সেখনে তার ছবি পোস্ট করে।এখন সে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পরে এই পর্যন্ত সে অনেক ছবি পোস্ট করেছে।যদি ফ্রেন্ড লিস্টে নিজেরা থাকলে একটা কথা ছিলো বা অল্প কয়েকজন কিন্তু না তার ফ্রেন্ড লিস্টে ছিলো একশত জন তার মধ্যে সওর জনই ছিলো ছেলে। তারা ওর প্রতি ছবিতে লাভ,কেয়ার রিয়েক্ট ও কমেন্ট করে ভরে ফেলছে।সেখানে সে তাদের কমেন্টে রিপ্লাই দিয়ে ডং করে বলেছে থ্যাংক্স।এগুলো উৎস লক্ষ্য করতো ফারাজকে বলেছে এই মেয়েকে সাবধান করতে, কিছু দিন আগেও বলেছে তাই মেহেক ফারাজ, উৎসকে আনফ্রেন্ড করে দিয়েছে।এতে উৎস প্রচন্ড রেগে যায়। কিন্তু বোকা মেহেক এটা জানে না তার হাতের ফোন তাকে উৎস দিয়েছে ফোন যা কিছুই করুক না কেনো উৎস যেখানেই থাকুক সে কী কী করছে সে সব দেখতে পারবে।মেহেকের ফেসবুক একাউন্টও উৎসের কাছে আছে।
ওর বাড়াবাড়ি বাড়তে লাগলো দিনদিন এবার উৎস ভাবলো মেয়েটাকে শিক্ষা দিতে হবে সেটা এতো দূরে থেকে না।তারও পড়াশোনা শেষ হয়েছে এক বছর হলো তাই তার তিন মা তাকে দেশে আসার জন্য পাগল করে ফেলছিলো।ভেবেছিলো যে কারণে জেদ ধরে সবাইকে ছেড়ে এতোদূরে এসেছিলো আর জাবেই না। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করলো তাই সেও সিদ্ধান্ত নিলো দেশে যাবে এই সুযোগে অসভ্য মেয়েটাকে করা পানিশমেন্ট দেওয়া যাবে।
——–
শাহাদাত চৌধুরী মেহেককে বকলো না বরং বললো আর ছাড়তে না, ফেসবুকও চালাতে না।মেহেক মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। শাহাদাত চৌধুরী তার সহধর্মিণীকে বলে বেরিয়ে গেলো অফিসে।মালিহা ও সুফিয়াও রান্না ঘরে চলে গেলো ছোট জা একা উৎসের জন্য নাস্তা রেডি করছে তাকে সাহায্য করতে।
সাফওয়ান চৌধুরী উকিল তিনি সকাল নয় টায় চলে গেছে তার চেম্বারে।তিনি উৎসকে ফোন দিয়ে বলেছে দুপুরে এসে একসাথে খাবে।সাজ্জাদ চৌধুরী পেশায় পুলিশ।বাসায় তিনি কম থাকেন।তাই উৎসের সাথে তার দেখা হয়নি।একদিন ছুটি নিয়ে আসবে।
রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো উৎসের ছোট মা
তার হাতে ট্রে ভর্তি খাবার।ট্রে টা উৎসের পাশের ছোট ট্রি টেবিলটায় রাখলেন তিনি।
-“এবার কিছু মুখে দে তো অনেকক্ষণ হয়েছে এসেছিস।”
উৎস এতো নাস্তার মধ্যে শুধু এক গ্লাস শরবত খেলো।সবাই এতো জোরাজুরি করলো তারপরও কিছু খেলো না।
-“উৎস ভাইয়া আমার গিফট”
-“এরিদ ছেলেটা মাএ এসেছে পরে দিবে আগে রেস্ট নিতে দাও।”
-“সমস্যা নেই ছোট মা।এরিদ ব্লু লাগেজ টা এদিকে নিয়ে আয়।”
এরিদ লাগেজটা টেনে আনতে থাকে সে একা পারছে না দেখে নিশাত গিয়ে সাহায্য করলো।
মেহেক তো খুশিতে গদগদ হয়ে আছে। এতোদিন পর এসেছে তার জন্য হয়তো অনেক চকলেট এনেছে।উৎস এক পলক মেহেকের দিকে তাকিয়ে লাগেজ খুলতে লাগলো।এতোক্ষণে মেহেকও ঘুরে বসেছে উৎসের দিকে।তার হাসি হাসি মুখ দেখে উৎস মনে মনে কিছু ভাবলো।তারপর তার তিন মাকে ডেকে আনলো।
উৎস তিন মাকে তাদের জন্য আনা চাদর ও কানের দুল দিলো।সেম ডিজাইনের খুব সুন্দর। সেগুলো দেখে তিন জা অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকায়।
তার মেজো মা বললো,
-“হেরে উৎস এতো টাকা খরচ করার কি প্রয়োজন ছিলো।”
তার সাথে তাল মিলিয়ে নাফিসাও বললো,
-“চাদরটাই তো ঠিক ছিলো।শুধু বড় ভাবির জন্য দুল আনতি।”
-“বড় ভাবি কি?ও আমার যেমন ছেলে তোদের ওতো।”
-“আম্মু ঠিক বলেছে তোমরা তিনজনই তো আমার মা।মা না হলে কি মা বলে ডাকতাম।”
-“হইছে ড্রামা থামাও আমার গিফট এখনো পাইনি পেলে তারপর আবার শুরু কইরো তখন দেখবো পপ্পন খেতে খেতে।”
উৎস কপাল কুঁচকে মেহেকের দিকে তাকালো।
-“আরে উৎস ভাই দেন না আপনার জন্য কলেজেও যাইনি।”
-“আমি কি তোকে যেতে না করছি?”
-“আপনি করেননি তবে আপনার আনা চকলেটগুলো বলেছে।”
মেহেকের কথা শুনে সবাই হেঁসে দিলো বড়রা মন ভরে দোয়া করে সেখান থেকে চলে গেলো রান্না বসিয়েছে তাই।
উৎস দুটো শাড়ি বের করলো বেশ সুন্দর, কাজ করা নিখুঁত ভাবে,ইউনিক ডিজাইন। একটা গোলাপি আরেকটা আকাশি কালারের।গোলাপিতা দিলো নিশাতকে আর আকাশিতা দিলো রোদসীকে।দুটো শাড়ি দু’জনকে মানাবে।চৌধুরী কন্যারা তো সৌন্দর্যে কোনো কমতি নেই।দুধে আলতা গায়ের রং।দুই বোনের হাতে তাদের প্রিয় চকলেটগুলো ধরিয়ে দিলোএবং তার সাথে দুটো ঘড়ি দিলো।তারা এতেই অনেক খুশি। ভাইকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে গেলো তাদের ঘরে।লাগেজে কিছু চকলেট আর খেলনা আছে সেগুলো দেখে মেহেক অবাক হলো।তাকে খেলনা দিবে নাকি!মেহেক মাথা চুলকাতে লাগলো।
উৎস সেগুলো নিয়ে এরিদকে দিলো।এরিদ তো মহাখুশি খেলনা পেয়ে।আট বছরের বাচ্চা ছেলে এই বয়সে তো খেলনাই তার কাছে অনেক কিছু ।বাচ্চারা খেলনা পেলে যা খুশি হয় তা অন্য কিছুতে পাবে না।অনেক খেলনা থাকলেও নতুন নতুন খেলনা তাদের চাই তা সেটা যদি হয় বাহিরের তাহলে তো কোনে কথাই নেই।
এরিদ তার জিনিসগুলো নিয়ে লাফাতে লাফাতে ঘরে চলে গেলো।উৎস তার লাগেজের চেন লাগিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
-“উৎস ভাই”
-“কিছু বলবি?”
-“আমার তা তো দিলেন না।আমারটা মনে হয় বড় লাগেজে তাই না।নিয়ে আসি।”
-“এই রে ভুলেই গিয়েছিলাম।তোর জন্য তো কিছু আনি নাই।সময় পাইনি থাক মন খারাপ করিস না আবার গেলে পাঠিয়ে দিবো।”
মেহেক ভেবেছিলো এটা ছোট লাগেজ তাই হয়তো তার তা এখানে রাখেনি বড়টায় রেখেছে।কিন্তু উৎসের কথায় তার মুখটা চুপসে গেলো।সবার জন্য কও কিছু এনেছে আর তার জন্য একটা চকলেটও না।উৎস মেহেকের দিকে তাকালো।বুঝতে পারলো মেয়েটার মন খারাপ হয়ে গেছে।কিন্তু তার কি বা করার তাকে এতোদিন তো শান্তিতে থাকতে দেয়নি এই মেয়ে।সব শাস্তি একে একে দিতে তো হবে।
-“আম্মু দুপুরের খাবারের সাথে জর্দার আইটেমও রেখো।”
ছেলের মুখে জর্দার কথা শুনে তিন জা হতবাক।যে ছেলে মিষ্টি কিছু খায় না সে আবার জর্দার কথা বলছে।মেহেকও শুনেছে সেও অবাক হলো কিন্তু সেই দিকে ধ্যান দিলো না তার পছন্দের খাবারের মধ্যে জর্দা রান্না করলে সেও খেতে পারবে কিন্তু তার তো মন খারাপ তার উৎস ভাই তার জন্য কিচ্ছু আনে নি কিচ্ছু না।তার খুব অভিমান হলো।মুখ ভোঁতা করে উপরে যেতে লাগলো।সিড়ির গোড়ায় কারো বুকে ধাক্কা খেলো।
-“আহ! নাকটা শেষ করে দিলো।”
মেহেক নাক ডলতে থাকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে দেখে তার দিকে তাকিয়ে আছে তার উৎস ভাই।উৎস ভাই না ছাতার মাতা ভাই কি এমন হয় দুই বোনের জন্য কওকিছু আরেক বোন কিছুই না। মেহেক মুখ বাকিয়ে বিরবির করতে লাগলো তাকে মনে হয় কুড়িয়ে পেয়েছে। উৎস মেহেকের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো তার ঠোঁটের কোনায় ভেসে উঠলো রহস্যজনক বাঁকা হাসি।
তার মা রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে।
-“তুই কবে থেকে মিষ্টি খাওয়া শুরু করলি?”
যেদিন থেকে আমার আসল মিষ্টি থেকে দূরে গেলাম কিন্তু উৎস মুখ ফুটে কথাটা বলতে পারলো না মনেই চেপে গেলো।
-“সাদিফ আসবে।আমি আসতে বলেছি ওর জর্দা পছন্দ। ”
-“ওহ আমি ওতো অবাক হয়ে গিয়েছিলাম জর্দা তো মেহেক পছন্দ করে তুই হঠাৎ। থাক বাদ দে ফ্রেশ হো গিয়ে। তোর ঘর তোর পছন্দ মতোই সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা।”
#চলবে

