Home "ধারাবাহিক গল্প "দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-৩০+৩১

দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-৩০+৩১

0
8

#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব:৩০

চৌধুরী বাড়ির ছাদের পুরো জায়গা জুড়ে আলোকসজ্জায় সজ্জিত।নিত্যদিনের থেকে আজকের পরিবেশটা পুরোটাই অন্যরকম।হলুদের অনুষ্ঠানে খুব বেশি আড়ম্বর নেই, কেবল পরিবারের কাছের কয়েকজন সদস্য ও নিজেরা উপস্থিত।তবুও জায়গা সংকুলান প্রায়। একটা স্টেজ করা হয়েছে দুই দম্পতির বসার জন্য। গাঁধা ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে।কিছু চেয়ার এনে রাখা হয়েছে সেখানে সবাই বসে আছে।বর -কনেদের বসার জায়গার ঠিক তার পেছনেই হালকা হলুদ ওড়না এবং ছোট ছোট কাগজের ফুলে তৈরি করা হয়েছে একটি স্নিগ্ধ ব্যাকড্রপ।টেবিলে হলুদের বাটি,মিষ্টি ও ফল দিয়ে বিভিন্ন ডালা সাজানো।নিশাত ও রোদসীর পরনে হলদে শাড়ি এবং সাদিফ ও সিজান লাল পান্জাবি পরেছে।মেহেক বাসন্তী রংয়ের শাড়ি পড়েছে।ইয়াফাকে ও ফোন করে এনেছে সাথে তাকে শাড়ি ও পড়িয়ে ছেড়েছে মেহেক।এরিদ হলুদ রঙের একটা পান্জাবি পরেছে।বাড়ির বড়োরা ও হলুদের অনুষ্ঠানের সাথে মিলিয়ে জামাকাপড় পরেছে।ছাদে সবাই উপস্থিত কিন্তু উৎস এখনো আসেনি।তাকে দেখার জন্য মেহেকের মন ছটফট করছে।তার শাড়ির আচল হাতে পেচিয়ে খুলছে আবার পেঁচাচ্ছে অনবরত। কিন্তু উৎস এখনো ছাদে আসার খবর নেই।উসখুস করতে করতে ঠিক করলো উৎসকে ডাকতে যাবে তাই উঠে সিড়ির ধাপে যেতেই দেখে উৎস আসছে।মৃধু আলোয় দেখলো উৎসর পরনে কালো পান্জাবি,চুল গুছানো।পান্জাবির হাতা ভাঁজ করতে করতে এসে মেহেকের পাশে দাঁড়ালো।
-“ছেলে মানুষের সাজার কি আছে?”

-“আমাকে কেমন লাগছে?”

-“ছেলে মানুষের ওতো সাজতে নেই মিস্টার চৌধুরী।”

-“এই লুকে মেয়ে পটবে তো?”

-“আর কয়টা ঘুরাতে চান একটা তো ঘুরছেই।”

-“একশটা না হলে জমবে না।”
মেহেক উৎসর হাতে খামচি বসায়।উৎস মুখ দিয়ে শব্দ করতে গিয়েও থেমে যায়।

-“পিচাশ নাকি তুই।এভাবে খামচি দেয় কেউ।”

-“আমি দেই।”

-“নখ কাটতে হবে দারা।”

-“আমিও চুল কেটে দিবো।”
মেহেক তার চুল উৎসর মুখের উপর ছুড়ে মেরে ছাদে যায়।উৎস আড়চোখে মেহেকের অসভ্যতামি দেখে সাদিফের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
-“এতো দেরি হলো কেনো?তোর বউ তো এখানে ছটফট করছিলো। ”

উৎস মেহেকের দিকে তাকায়।মেহেক তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।উৎসকে তাকাতে দেখে মেহেক জিহ্ব দিয়ে ভেঁঙ্চি কাটে।উৎসর রাগ হলো না বরং ভিতর ভিতরে হেঁসে নিলো আর মনে মনে বলল,
-“এরকম করেই দুষ্টুমি করে আমাকে জালাস সারাজীবন।বিশাষ কর একটুও রাগব না কিন্তু তোর উপর একটু রাগ দেখাতে পারি তবে সেটা বাহিরের উৎসর আবরন ভেতরের না।”

নিশাত,সাদিফ এবং রোদসী,সিজানকে পাশাপাশি বসানো হলো।তারপর সবাই ওদের হলুদ লাগিয়ে দেয়।হলুদ লাগানোর পর্ব শেষ হলে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সবাই বসে।এক পাশে সব মেয়েরা অন্য পাশে সব ছেলেরা।বড়োরা ছোটদের একা ছেড়ে দেয়।বসার ঘরে সবাই চলে যায়।বড়োরা থাকলে মন মতো আনন্দ করতে পারবে না।এমনিতেই মেয়েগুলোর ভিষণ লজ্জা।হবু দম্পতিদের স্টেজ থেকে নামিয়ে চেয়ারে পাশাপাশি বসানো হলো।উৎস এক সাইডে বসা ছিলো।মেহেক ও উৎসর পাশে গিয়ে বসে পরে।ইয়াফা তার ইচ্ছে মতো একটা চেয়ারে গিয়ে বসে।মেহেক এর সাথে বসতে চাওয়া ঠিক হবে না।তার প্রানপ্রিয় বান্ধবী কতোই না নাকানিচুবানি খেয়ে একটা প্রেম করতে পেরেছে।স্কুল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তার বান্ধবী একটা প্রেম করতে পারছে না বলে কতো আফসোস করে বেরিয়েছে অবশেষে জুটলো তো!ইয়াফাকে মিটিমিটি হাসতে দেখে ফারাজ চোখের সামনে হাত নাড়লো।
-“ঠিক আছো?নাকি ছাদের ভুত চেপে ধরেছে?”

ইয়াফা ছাদের ভুত শুনে ভড়কালো।চোখের পাতা অনবরত ঝাপটাচ্ছে।তোতলানোর মতো করে বলল,
-“ছাদের ভুত মানে?”

-“ভুতকে ভয় পাও বুজি”

ইয়াফা শুকনো ঢোক গিলে বলে,
-“হুম ভিষন।”

-“তাহলে একা বসা ঠিক হবে না তোমার।এক মিনিট ওয়েট।”

ফারাজ সাউন্ড বক্সে তার ফোন কানেক্ট করে ইয়াফার পাশে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ে।হলুদের তেমন আয়োজন না করা হলেও ছোটোখাটো ভালোই অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

উৎস ফোন স্কল করায় ব্যস্ত।তার ফোনে মনোযোগ দেখে মেহেক উঠে দাঁড়ালো।
-“ভাইয়া একটা গান ছাড়ো তো নাচবো।”

উৎস অগ্নি দৃষ্টিতে চোখ তুলে তাকায়।উৎসর চাহনি এতোটাই পখর ছিলো যে মেহেকের গলা শুকিয়ে এলো।ভয়ার্ত স্বরে বলল,
-“গলা শুকিয়ে গেছে পানি খেয়ে আসি।তোমরা কেউ নাচো।”
বলেই মেহেক পানি খেতে চলে গেলো।হলুদে নাচ গান না হলে জমেই না।তাই ফারাজ বলল,
-“কে নাচবে?”

প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন বলল নাচবে তাই তার পছন্দের মতো গান ছারা হলো।মেহেক পানি খেয়ে এসে তার জায়গায় বসলো।যে যার মতো অংশগ্রহণ করলো এমনকি সিজানের জোড়াজুড়িতে রোদসী নাচতে বাধ্য হয়।ওরা কাপল নাচ নাচায় সাদিফও জোর করে নিশাতকে।বড়ো ভাইদের সামনে দুই বোন ভিষন লজ্জা পাচ্ছিলো সাথে তো আছেই মজার ছলে কথাবার্তা বলা।কিন্তু মেহেক পারলো না উৎসর জন্য।তাই উৎসর পাশেই ঘাপটি মেরে বসে রইলো।
উৎসর ফোন বাজলো।ইশারায় ফারাজকে সাউন্ড কমাতে বলে ছাদের কার্নিশে গিয়ে দাঁড়ায় উৎস।কথা শেষ করে যেই নি উৎস বসতে যাবে তখনি ঝড়ের বেগে একজন এসে জড়িয়ে ধরলো তাকে।কোমল স্বরে ডাকলো
-“বেবি”

উৎস সহ উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে তাকায়।উৎস পরিচিত ডাক শুনে বেশ অবাক হয়।মেহেক তো হা হয়ে তাকিয়ে আছে।সাউন্ড বক্সে এখনো গান বাজছে মৃদু শব্দে।মেয়েটি পুনরায় বলল,
-“Do you know how many times I called you? I couldn’t reach you!I miss you Jub baby.”

মেহেক রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তার পা থেকে জুতোটা খুলেই ছুঁড়ে মারলো মেয়েটার মুখ বরাবর। ঠিক নিশানায় গিয়েই পড়েছে।মেহেক ও চেয়েছিলো যেই মুখে বলেছে সেখানে গিয়ে যেনো লাগে আর তাই হলো।মেয়েটা ব্যাথায় “আউচ” বলে শব্দ করে মুখে দুই হাত দিলো।অপ্রস্তুত ঘটনায় উৎস ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়।

সাদিফ ধীরে উচ্চারণ করে,
-“সোহানা”

পাশে দাঁড়ানো নিশাত অবাক হয়ে বলে,
-“আপনি চিনেন এই মেয়েকে?”

-“হুম।আমাদের ফ্রেন্ড ও।”

সাদিফ যখন বলেছে ফ্রেন্ড তার মানে উৎসর ও ফ্রেন্ড।কিছু একটা আছে এর মধ্যে বুঝতেই ফারাজ দ্রুও গান বন্ধ করে।মেহেকের রাগে নাক মুখ ফুলে গেছে।মেহেক হেচকা টানে উৎসর থেকে মেয়েটাকে সরিয়ে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে রুক্ষ গলায় বলল,
-“এই কালনাগিনী তোর সাহস কতো বড়ো তুই আমার উৎস ভাইকে বেবি বলিস।কোন জন্মের বেবি তোর?আবার বলিস জুব!উনার নাম জুব না, বল উৎস মামা।বল নয়তো মুখ ভেঙ্গে দিবো।”

উৎস মেহেককে ধমকে উঠে,
-“মেহেক”

-“আপনি একদম চুপ করুন কোথা থেকে এই আপদ জুটিয়ে এনেছেন আবার আমাকে ধমকাচ্ছেন!”

নিশাত,রোদসী, ইয়াফা মেহেককে টেনে সড়াতে চাইলো।মেহেক না সড়লো আর না থামলো আবার সোহানার হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
-“লজ্জা করে না পর পুরুষের ঘারে লেপ্টে পরতে।”

সোহানা নামের মেয়েটা বুঝতে পারলো না তার সাথে কি হচ্ছে এসব?জুতোটা মুখ এসে লাগায় ব্যাথা পেয়েছে তার মধ্যে এখন মেহেক হাত চেপে ধরেছে।ধারালো নখ কেটে যাবে।কিন্তু সোহানা কিছু বললো না।শুধু উৎসকে প্রশ্ন করলো,
-“এসব কি জুব?”

মেহেক পুনরায় ক্ষেপে গেলো জুব বলায়।রাগ যেনো তরতর করে বেরে চললো।
-“আবার বলছিস জুব।গলা টিপে মেরে ফেলবো তোকে।”

উৎস নিজেকে আর থামিয়ে রাখতে পারলো না।
-“মেহেক,অনেক বারাবাড়ি করছিস।মুখের ভাষা এমন কেনো তোর?”

#চলবে

#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব:৩১

-“মেহেক,অনেক বারাবাড়ি করছিস।মুখের ভাষা এমন কেনো তোর?”

মেহেক কমড়ে হাত দিয়ে বলল,
-“এই অসভ্য মেয়েটা কে সেটা বলুন আগে।”

-“এই মেয়ে তুমি অসভ্য কাকে বলছো?”

-“তোকে?”

-“Mind your language.”

-“বাংলাদেশে থেকে বাংলায় কথা না বলে ইংরেজি মারো।”

সোহানা বিরক্ত হয়ে বলে,
-“জুব এই মেয়েটা কে?”

-“আবার জুব বলছে!জিহ্ব টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।”

ওদের তর্ক বিতর্ক দেখে উৎস বুঝতে পারছে না কি করবে?একজন ও থামছে না।সোহানা ওদের বাসায় এসেছে ওকে কিছু বলতেও পারবে না কিন্তু মেহেককে বলতে পারবে।বললেই তো হবে না গাল ফুলিয়ে রাখবে।কিছু বলা মানেও বিপদ।তারপরও থামাতে তো হবে।

-“মেহেক বেশি হচ্ছে।ও আমার গেস্ট।”

-“ও কে? ”

সেখানে হাজির হলো রায়ান।সে নিচে সবার সাথে কথা বলায় উপরে আসতে দেরি হয়।মেহেক হাত সোহানার দিকে তাক করে রাখায় রায়ান আন্দাজ করলো সোহানাকে নিচে না বিধায় হয়তো জিজ্ঞেস করছে আর সোহানা বরাবরের মতো আজ ও হয়তো উৎসকে নিয়ে বারাবাড়ি করেছে।তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে রায়ান বলল,
-“আমি রায়ান আর ও সোহানা।আমরা দুজনই উৎস,সাদিফের ফ্রেন্ড। ”

সবাই কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেলো।উৎসর বন্ধুদের এখানে,এই সময়ে উপস্থিতি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো। নীরবতা ভেঙে উৎস অবাক হয়ে বলল,
-“তোরা এখানে!হঠাৎ!”

-“একটা কনসার্ট ছিলো তোর।ফোনে পাচ্ছিলাম না তাই বাধ্য হয়ে তোকে নিতে আসলাম।”

সাদিফের কাছে গিয়ে রায়ান বলল,
-“বিয়ে করছিস তাও আবার উৎসর বোনকে দুই সাইড থেকে ইনভাইট আশা করেছিলাম।”

সাদিফ নিরাশ হয়ে বলল,
-“সরি রে হঠাৎ সব কিছু হয়ে গিয়েছিলো।আর তোরা কি আসতি এই ভেবে।”

-“তাই তো দুই স্বার্থপর বাংলাদেশে এসেই ভুলে গিয়েছিস!”

সাদিফ সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় রায়ান ও সোহানার সাথে।তার সাথে এটাও বললো উৎস ও সোহানা গান গায় একসাথে।অনেকগুলো কন্সার্ট ও করেছিলো।রায়ান ও সোহানা দুই জনই ইন্ডিয়ান।পড়াশোনার সূত্রে ওদের পরিচয়।একটা সময় তাদের চার জনের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্কে গড়ায়।উৎস যেমন ভালো গান গায় তেমনি সোহানা ও।বাংলাদেশে এসে তারা ওদের সাথে যোগাযোগ আর যোগাযোগ রাখেনি সেটার কারণ সোহানা।কিন্তু সাদিফ খোলাখুলি ভাবে সব বললো না আত্নীয় স্বজন থাকায়।

-“জুব”

-“প্লিজ সোহানা ইউ কল মি উৎস।”

-“ওকে।বাট ইউ বেক উইথ মি।”

-“এটা সম্ভব না।”

-“আমি সাইন করে দিয়েছি উৎস,কনসার্ট ইন্ডিয়াতে।”

-“আমার অনুমতি ছাড়া তুই কেনো সাইন করবি?করেছিস যখন তুই একাই কর।”

-“নট পসিবল উৎস।আমার দেশের কনসার্ট এটা আমি কিভাবে রিজেক্ট করবো।তুই আমাকে এই হ্যল্প টুকু করবি না।”

-“এই মুহূর্তে নিশ্চিয়তা দিতে পারছি না।”
একটু থেমে মেহেকের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ফারাজকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-“ওদের আপ্যায়নের কোনো এুটি জেনো না থাকে।এখানেই থাকবে টেক কেয়ার দেম।”

-“সেসব পড়ে হবে আগে অনুষ্ঠান উপভোগ করা যাক।”

সবাই সম্মতি দিলো।সবাই চেয়ারে বসলো।উৎস,রায়ান ও সোহানা একসাথে বসায় মেহেক গাল ফুলিয়ে ইয়াফার পাশে গিয়ে বসলো।মেহেকের মুখ ভার দেখে ইয়াফা বলল,
-“আমার সন্টু পাখিটা রাগ করেছে কেনো?”

-“মজা নিবি না বলে দিলাম।মাথায় আগুন জলছে।”

-“কুল সন্টু পাখি।”

তারা দুজন কথা বলায় ব্যস্ত আর বাকিরা এরি মধ্যে উৎস ও সোহানাকে জোড়াজুড়ি করতে শুরু করে দিয়েছে।নিশাত আবদার স্বরে বলল,
-“ভাইয়া একটা গান”

রোদসীও বলল,
-“আমাদের জন্য প্লিজ।”

সাদিফ,সিজানও অনুরোধ করলো।সোহানা উৎসর দিকে ফিরে বলল,
-“বোনদের রিকুয়েষ্ট ফিরিয়ে দেওয় ঠিক হবে না।”

উৎস আড় চোখে একবার মেহেককে দেখে নিলো।মেহেক নাক মুখ কুচক্রীয়ে দুই হাত ভাজ করে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।নিশাত,রোদসীর কথা ভেবে উৎস আর না করলো না।রাজি হলো।
-“আমি গিটার নিয়ে আসছি।”

ফারাজ বাঁধা দিয়ে বলল,
-“আমি যাচ্ছি।”

ফারাজ দ্রুত উৎসর ঘর থেকে গিটার নিয়ে আসলো।উৎসর গিটারে রোজ দেখে সোহানা হতভম্ব হয়।অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,
-“তোর সব গিটারে রোজ কেনো থাকে তার রহস্য এখনো বলিস নাই আমাদের।”

-“সোহানা গান শুরু কর।”

-“ওকে”

সোহানা ও উৎস মিলে গান শুরু করলো।মেহেক একবার ও তাকালো না।উৎস গান গাইতে পারলে সে কেনো নাচতে পারবে না।তার ও স্বাধীনতা বলতে কিছু আছে।সে ও নাচবে। যদি এ নিয়ে পরবর্তীতে বকা ঝকা করতে আসলে দিবে একটা মামলা ঢুকিয়ে তারপর বুঝতে পারবে মেহেক আসলে কী?ওদের গান গাওয়া শেষ হলে সবাই জোরে হাত তালি দিয়ে বলতে লাগলো ভালো হয়েছে,খুব সুন্দর আরো কত কিছু। এমনকি মায়ের পেটের বোনটাও সোহানার প্রশংসায় ভাসছে!কই সে তো কতো ভালো কাজ করে তখন তো কেউ এমন করে প্রশংসা করে না।করতে হবে না কারো।আজ দেখিয়ে দিবে তার দম কতোটুকু।তার কী কী গুন আছে তা সম্পর্কে তো কেউ জানে না জানলে তার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়তো।নিজের পরিবারের সবাইকে নিয়ে মনে মনে হাজারটা অভিযোগ করতে লাগলো।হঠাৎ ওর চোখ গেলো সাদিফের খালাতো ভাই রাব্বির দিকে।ছেলেটা এসেছে পর থেকেই তার দিকে ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে।হয়তো পছন্দ করে ফেলেছে।মেহেকের মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি এলো।চট করে উঠে দাঁড়ালো।ইয়াফা কৌতূহল নিয়ে বলল,
-“উঠলি কেনো?বস।”

-“সবার পারফরম্যান্স দেখলি আমারটা দেখবি না।”

-“তোর পারফরম্যান্স মানে?”

-“Let’s see পাখি।”
মেহেক সাদিফের কাজিনের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।শাড়ির আঁচলে আঙুল পেচিয়ে লাজুক স্বরে বলল,
-“বিয়াই কি বসেই থাকবেন?চলেন একটা ডান্স হয়ে যাক।”

রাব্বি চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারলো না।নিশ্চিত হতে বলল,
-“মজা করছেন বিয়াইন।”

-“আরে মজা করবো কেনো!চলুন।”

-“তুমি সিউর?”

-“আরে বাবা হ্যা।”

-“বিয়াই ঠিক ছিলো বাবা আবার কেনো?”

-“ওকে আসেন।”
মেহেক ফারাজের কাছে গেলো।
-“কিছু বলবি?”

-“ডিজে গান লাগাও।”

-“ডিজে গান দিয়ে কি করবি?”

-“নৃত্য করবো।ছাড়বে?”

-“ছাড়ছি।”
ফারাজ ভাবলো মেহেক মজা করে বলেছে।কারণ উৎসর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তাই নাচবে না।তাই একটা ডিজে গান ছেড়েই দিলো।গান ছাড়তেই মেহেক রাব্বির শার্টের গলা টেনে স্টেজে নিয়ে গেলো।উপস্থিত সবাই তাৎযব বনে গেলো মেহেকের কান্ডে।কিন্তু কেউ কিছু বললো না নাচ উপভোগ করতে লাগলো।তবে সেটা বেশিক্ষন স্থায়ী হলো না।উৎসর চোয়াল শক্ত হলো।বসা থেকে উঠে ফারাজের কাছে গেলো।ফারাজ উৎসর অগ্নি বর্ষন মুখ দেখে ভয়ার্ত স্বরে বলল,
-“ভাই আমি জানতাম না ও এমন কাজ করবে।আমি তো না বুঝেই…”

ফারাজের কথা শেষ হওয়ার আগেই উৎস গান বন্ধ করে দিলো।গান বন্ধ হওয়ায় মেহেক ও রাব্বি থেমে যায়।
-“গান বন্ধ করলো কে?”

উৎস গমগম পায়ে মেহেকের সামনে গিয়ে থাস করে বাম গালে একটা চড় বসায়।
-“গান বন্ধ করলো কে?খুব নাচার শখ হয়েছে তোর তাই না।নাচনে ওয়ালী হবি?”

মেহেক গালে হাত দিলো অবাক হয়ে। চোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়ে পরলো তার।

-“উৎ..”

সাদিফকে পথিমধ্যে থামিয়ে দিয়ে উৎস বলল,
-“অনুষ্ঠান এখানেই শেষ।”

#চলবে