Home "ধারাবাহিক গল্প "দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-৩৬+৩৭

দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-৩৬+৩৭

0
9

#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব:৩৬

-“উৎস তুই সব সময় মেহেককে নিয়ে বাড়াবাড়ি করিস তাই বলে এই না যে ওকে বিয়ে করে নিবি।”

-“বিয়ে করলে তোমার সমস্যা কোথায়?”

-“আমার মেয়ে আর তুই আমার সমস্যা কোথায় জিজ্ঞেস করছিস!”

-“মেজো মা জীবনে তো কোনো দিন স্বীকার করতে দেখিনি মেহেক তোমার মেয়ে আজ দাবি করছ যে।বড়োলোক জামাই পেয়ে বুঝি।”

সুফিয়া বেগম তেজে উঠলেন,
-“ভাই জান দেখেছেন আপনার সামনে আমার সাথে কীভাবে কথা বলছে উৎস।বিদেশে পড়তে যায়নি গিয়েছে কীভাবে বড়দের মুখের উপর কথা বলতে হয় তা শিখতে।”

মালিহা বেগম মেজো জাকে শান্ত করার করার জন্য বললেন,
-“মেজো মেহেকের জন্য উৎস ঠিক আছে।তুই তো জানিস উৎস ভালো ছেলে।আমার ছেলের হাতে তোর মেয়ের হাত তুলে দে।”

-“আমার হাতে তুলে দিবে কেনো?আমি ওর জন্মের পর থেকেই ওর দায়িত্ব আমার কাঁধে তুলে নিয়েছি।”

সুফিয়া বেগম স্বামীর উদ্দেশ্যে বললেন,
-“তুমি চুপ করে সব দেখবে কিচ্ছু বলবে না।এই দিকে তোমার মেয়ের জীবন শেষ হয়ে গেল।”

-“সুফিয়া মেহেকের জীবন শেষ হয়নি ওর জীবন শুরু হয়েছে।আমি ওদের বিয়েতে রাজি।”

সুফিয়া অবাক হয়ে বলল,
-“মেনে নিয়েছ?”

-“হুম”

সাজ্জাদ চৌধুরী বললেন,
-“আমিও ওদের বিয়েতে খুশি হয়েছি।”

নাফিসা খুশিতে গদগদ হয়ে বললেন,
-“আমি তো ভীষণ খুশি হয়েছি।ঘরের মেয়ে ঘরেই আছে।দুই মেয়ে চলে গেছে বাড়িতা খালি খালি লাগছে মেহেক চলে গেলে মরা বাড়ি লাগত।”

মালিহা স্বামীর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।শাহাদাত চৌধুরী স্ত্রীকে এক পলক দেখে পাশ কাটিয়ে উৎসর পাশে দাঁড়ায়।উৎস ভাব ভঙ্গি স্বাভাবিক। ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললেন,

-“পালিয়ে বিয়ে করলে হবে না।নাতি নাতনির মুখ দেখতে পেলে তারপর তোদের বিয়ে মেনে নিবো।তোর মধ্যে দম থাকলে বউকে সবার সামনে কোলে তুলে নিয়ে ঘরে যা।”

শাহাদাত চৌধুরী মুখ থেকে অবাস্তব কথা শুনে সবাি ভড়কে গেল।সুফিয়া অবাক হয়ে বললেন,
-“ভাইয়া আপনি।”

উৎস চট করে মেহেককে কোলে তুলে নিল।সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে উঠতে উৎস সবার উদ্দেশ্যে বলল,
-“বিয়ে করা বউকে নিয়ে যাচ্ছি হা হয়ে তাকিয়ে না থেকে সবাই সবার বউকে নিয়ে ঘরে যান।গুড নাইট।”

মেহেকসহ উপস্থিত সবাই তাৎযব বনে তাকিয়ে রইল।উৎস মেহেককে তার ঘরে নিয়ে গেলে শাহাদাত চৌধুরী রাশভারি কন্ঠে বলল,
-“অনেক রাত হয়েছে। সবাই ঘরে যাও।”

তিনি চলে গেলেন।একে একে বসার ঘর পুরো ফাঁকা হতে লাগল।সুফিয়াও মুখ ভার করে চলে গেলো।তার কতো শখ ছিলো তার দুই মেয়েকে একটার পর একটা পাএ পক্ষ দেখতে আসবে আর সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে তারপর সব ঠিক থাকলে মেয়েদের তার সাথে বিয়ে দিবে।কিন্তু সেগুলে বালি তার এক মেয়ে ভাইয়ের বন্ধুকে বিয়ে করে রাতে আসে আরেক মেয়ে নির্লজ্জের মতো ভাইকে বিয়ে করার বায়না ধরে রাতেই বিয়ে করতে চলে যায়।তার হয়েছে পোড়া কপাল।দুই মেয়ে দুইটাই রাতে পালিয়ে বিয়ে করেছে।তার স্বপ্ন ছিলো ইউরোপে থাকে এমন একটা ছেলের সাথে মেহেককে বিয়ে দিবে তাও হলো না।সবাই চলে গেলে সোহানা ও রায়ান দাঁড়িয়ে থাকে।

-“যা ঘুমাতে যা।”

-“রায়ান,উৎস এটা কী করল?”

-“সকাল হলে ওকে জিজ্ঞেস করিস এখন ঘুমাতে যা।”

——

উৎস মেহেককে তার বিছানায় শুইয়ে দিল।নরম বিছানায় গা হেলিয়ে দিতেই মেহেকের চোখ বুজে আসল।কিন্তু কিছুটা ঘুমের রেশ কাটিয়ে বলল,
-“আমি তো ভেবেছিলাম আপনার মাথার তার ছিঁড়া এখন দেখছি আমার শ্বশুরেরও!”

-“তোর শ্বশুর ও পালিয়ে বিয়ে করেছে তোর শ্বাশুড়িকে। তাই আমার বিরুদ্ধে গেলে তার মুখ দেখানোর সাহস হতো না তাই মেনে নিল।”

-“আমি এখন বিবাহিত। ”

-“না, নব জাতক শিশু।তাকেই আমি বিয়ে করেছি।”

-“এই তার ছিঁড়া জামাই সাথে সংসার করব কীভাবে আমি?”

-“আয় দেখিয়ে দেই।”

-“এই না না।”

-“আমি তোর নানা না জামাই।”

উৎস মেহেকের পাশেই শুয়ে পড়ল।মেহেক উৎসর দিকে কাত হয়ে শুয়ে বলল,
-“জামাই জান।”

-“হুমমম।”

-“ডাক’টা পছন্দ হয়েছে আপনার?”

-“বেশ।কিন্তু আপনি না তুমি বল।”

-“একবার বলেন আপনি বলতে আরেকবার বলেন তুমি বলতে।আমি কোন দিকে যাবো?”

-“বউ আমার তাই আমি যেদিক যেতে বলব সেই দিকেই যাবি।সুতরাং আপনি সম্মোধন আমার কানে জেনো না আসে।”

-“আচ্ছা।”

উৎস মেহেককে ঝাপটে ধরলো।মেহেক উসখুস করতে থাকে।উৎস বিরক্ত হয়ে বলল,
-“ঘুমাতে দে।এভাবে কতো দিনের ইচ্ছে ছিল ঘুমানোর আজ পারছি।”

-“আমি কোলবালিশ ছাড়া ঘুমাতে পারি না।”

-“আমাকে কোলবালিশ মনে কর।”

মেহেক ফুরফুরে মেজাজে বলল,
-“আচ্ছা।”

—-
-“উৎস এই উৎস”

উৎস কারো ডাক শুনতে পেয়ে চোখ খুলল।মেহেক তার উপর পা দিয়ে শুয়ে আছে।আরাম করে ঘুমাচ্ছে।মেহেককে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ওকে সোজা করে শুইয়ে দিয়ে উৎস দরজা খোলে।

-“আম্মু!”

-“মেহেক উঠেছে?”

-“না”
উৎস দেখল তার মায়ের হাতে লাল রঙের শাড়ি।

-“ওকে এই শাড়ি পড়ে নিচে আসতে বলবি।”

-“শাড়ি পড়বে কেনো?”

-“নতুন বউ তাই শাড়ি পড়বে।”

উৎস শাড়ি মায়ের থেকে নিল।
-“তাড়াতাড়ি দু’জনে নাস্তা করতে চলে আসবি।”

-“হুম”

মালিহা বেগম চলে গেলে উৎস দরজা লাগিয়ে মেহেককে ডেকে তোলে।মেহেক উঠতে চায় না।

-“বাপের বাড়ি না শ্বশুর বাড়িতে আপনি আছেন এখন।দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস ত্যাগ করুন।”

মেহেক কানের পিছনে চুল গুজে বলল,
-“তোমাকে বিয়ে আমি এই জন্যই করেছি।পায়ের উপর পা তুলে খাবো আর আরামে দিন কাটাব।”

-“স্বামীর সংসার করা এতো সহজ না জারুল।স্বামীর মন মতো চলতে গিয়েই হাপিয়ে যাবেন।”

-“মোটেও না।”

-“শ্বাশুড়ি এসে শাড়ি দিয়ো গেছে চট করে স্নান করে শাড়িটা পড়ে নে।”

-“বড় আম্মু?”

-“হুম”

-“তাহলে স্নান কেনো করব?”

-“কথা না বলে যা বললাম কর।”

-“আচ্ছা যাচ্ছি।”

মেহেক আধ ঘন্টা ধরে ওয়াশরুমের ভেতর।এতোক্ষণ ধরে কী করছে?গোসল করতে সর্বোচ্চ হলে পনেরো মিনিট লাগার কথা তার তো তাই লাগে কিন্তু মেহেক এতোক্ষণ সময় লাগাচ্ছে তার মানে ওর কিছু হলো না তো।উৎস তার ভাবনা মতো ওয়াশরুমের দরজা অন্য চাবি দিয়ে খুলে।দরজা খুলে দৃশ্য দেখে উৎসর চোখ ছানা বোড়া হয়ে যায়।মেহেক টিপ টিপ গান গাইছে আর নাচছে!শরীরে তার তোয়ালে পেঁচানো।অধিকাংশ শরীর উন্মুক্ত।উৎস মেহেককে দেখা মাএই বেহুশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।মেহেক পিছন ফিরে উৎসকে পড়ে যেতে দেখে দ্রুত পানি ছিটিয়ে তুলে।উৎস চোখ খোলে।মেহেক ব্যাকুল হয়ে বলল,
-“তুমি ঠিক আছ?”

-“তুই ঠিক থাকতে দিচ্ছিস আমাকে।শাড়ি পড়ে জলদি বের হো।”

#চলবে

#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব: ৩৭

-“লাল শাড়িতে তোকে পাক্কা গিন্নি লাগছে। আয়, একটু আদর করি।”

মেহেককে টেনে উৎস তার কোলে বসায়। মেহেকের গালে উৎস তার ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিতে যাবে, তখনই মেহেক উৎসের ঘাড়ে কামড় বসায়। উৎস ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে। এই সুযোগে মেহেক দৌড়ে দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে দুষ্টু হাসি এঁটে বলল,

-“আমি দেখতে লালে লাল,
রূপে গোলমরিচের ঝাল।”

-“বেশি উড়ছিস আজকাল!”

-“পাখা আপনি দিয়েছেন তো, উড়তে কীসের মানা? যদি শেষ গন্তব্য হয় আপনার হৃদয়ের খাঁচা।”

মেহেকের জবাবে উৎসের ঠোঁট প্রসারিত হলো। উৎসকে মুচকি হাসতে দেখে মেহেক বলল,

-“ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আসুন। আপনি না খেলে কিন্তু আমিও খেতে পারব না।”

উৎস মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। মেহেক নিচে চলে যায়।

মূলত চৌধুরী বাড়ির নিয়ম, স্বামীর আগে কোনো স্ত্রী খেতে পারবে না। হয় একসঙ্গে, নয়তো পরে।

মেহেক সিঁড়ির গোড়ায় এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। অন্যদিন হলে এক ছুটে গিয়ে নিজের চেয়ার টেনে বসে পড়ত, কিন্তু আজ পারছে না। তার মধ্যে সে লাল শাড়ি পরেছে। বাড়িসুদ্ধ সবার সামনে যেতে তার লজ্জা লাগছে।

সিঁড়ির রেলিং ধরে মেহেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মালিহা বেগম বললেন,

-“মেহেক, ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আয়, খেতে বস।”

সবার মনোযোগ মেহেকের দিকে গেল। সুফিয়া বেগম বললেন,

-“বাড়ির বউ যখন মেনে নিয়েছ, তাহলে বউয়ের মতোই থাকতে দাও।”

-“মেজো ও ছোট, ও আমার মেয়ে। আমি ওকে আমার ছেলের বউ হিসেবে গ্রহণ করিনি। আমি যতদিন আছি, ততদিন ওর হাতে কালি লাগতে দেব না।”

-“দাও দাও, যত পারো আশকারা দাও।”

-“মেহেক, তুই এসে বস তো।”

-“বড় আম্মু, আমি পড়েই না—”

মেহেকের কথা সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে মালিহা বেগম বললেন,

-“উৎস যদি এসে দেখে তুই খাসনি, তাহলে আমাকে কথা শুনাবে। তার সঙ্গে তুইও কয়টা বকা খাবি। যদি এসব না চাস, দ্রুত বস।”

শাহাদাত চৌধুরী বললেন,
-“মেহেক, খেতে বসো।”

মেহেক চেয়ার টেনে বসে। তার পাশের চেয়ারে সোহানা ও সোহানার পাশে রায়ান বসা। সোহানা ধীরে বলল,

-“মেহেক, উৎস কোথায়?”

-“ফ্রেশ হয়ে আসছে। কোনো দরকার?”

-“ওর সঙ্গে আমার কথা ছিল।”

-“আমাকে বলো, আমি বলে দিব।”

-“তোমরা কি সত্যি বিয়েটা করেছ?”

-“সোহানা, খেতে বসেছিস। এসব কথা রাখ, বড়রা আছে।”

সোহানাকে কথাটা বলে রায়ান মেহেককে চোখ দিয়ে আশ্বস্ত করল। মেহেক খাবার নিয়ে উৎসের জন্য অপেক্ষা করে।উৎসও ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসে। কারও সঙ্গে কথা না বলে সোজা মেহেকের পাশের চেয়ারে বসে পড়ে। নাস্তার টেবিলে কেউ কারও সঙ্গে আর কথা বলে না। যে যার মতো নাস্তা করে নেয়।

কিছু সময় পার হতেই বাড়িতে হৈচৈ পড়ে গেল। সাদিফ, নিশাত, সিজান ও রোদসী এসেছে। উৎস বিয়ে করেছে,এই খবর তাদের কানে পৌঁছাতেই তারা সকাল সকাল চৌধুরী বাড়িতে হাজির হয়। যদিও সাদিফই খবরটা ওদের দেয়। কারণ, সাদিফ গতকাল রাতে উৎস ও মেহেকের সঙ্গে ছিল।

নাফিসা বেগম বললেন,
-“তোরা বস, নাস্তা দিচ্ছি।”

নিশাত বলল,
-“মেজো আম্মু, আমি খেয়ে এসেছি।”

সিজান ফুরফুরে মেজাজে বলল,
-“শাশুড়ি মা, দুপুরের জন্য রান্না বসিয়ে দিন। আমরা সবাই আজ আছি।”

মালিহা বেগম বললেন,
-“তোরা বস। আমি হালকা কিছু পাঠাচ্ছি।”

-“তাহলে উৎসের ঘরে পাঠিয়ে দিন।”

সাদিফের কথায় উৎস ভ্রু কুঁচকে বলল,
-“আমার ঘরে কেন?”

-“তোর ঘরে আড্ডা দিব।”

-“জি ভাইয়া, চলেন। সবাই মিলে গল্প করব।”

উৎস মেহেকের দিকে রাগী চোখে তাকায়। কিন্তু মেহেক ভাব নিয়ে বলল,

-“ভাইয়া, ওইটা এখন আমারও ঘর। আমি পারমিশন দিচ্ছি, তাতেই হবে।”

উৎস হাঁফ ছেড়ে বলল,
-“ওকে।”

-“উৎস, আমার তোর সঙ্গে কথা আছে।”

-“হুম, বল।”

-“পার্সোনাল।”

-“তোরা যা, আমরা আসছি।”

সবাই উৎসের ঘরের দিকে যায়। মেহেক দাঁড়িয়ে থাকায় রায়ান বলল,

-“মেহেক, উৎসের ওপর বিশ্বাস আছে তোমার?”

-“জি ভাইয়া।”

-“তাহলে চলে এসো।”

উৎস সোহানাকে নিয়ে ছাদে চলে আসে। সোহানা উৎসের হাত ধরে বলল,

-“উৎস, তুই মেহেককে সত্যি বিয়ে করে নিলি?”

উৎস সোহানার হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,

-“হুম।”

-“তুই তো জানতি, আমি তোকে ভালোবাসি। তাহলে ওকে কেন বিয়ে করলি?”

-“আমি তো তোকে ভালোবাসি না।”

-“আমি তো তোকে বাসতাম।”

-“তোর ভালোবাসা কিছু দিনের, আর আমাদের একে অপরের ভালোবাসা বহু দিনের না, বহু বছরের।”

-“আই লাভ ইউ।”

-“প্লিজ সোহানা, তোকে আমি রিকোয়েস্ট করছি, রায়ানকে আর কষ্ট দিস না। ও তোকে ভালোবাসে। তোরা এনগেজড।”

-“ও আমার জন্য লাকি নয়। ওর জন্য আমি আমার মম-ড্যাডকে হারিয়েছি।”

-“জাস্ট ওটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট। এটার জন্য তুই ওকে সারাজীবন দায়ী করতে পারিস না। তুই জানিস, ও তোর জন্য কতটা পাগল। তারপরও তুই ওই অ্যাক্সিডেন্টের জন্য রায়ানকে দায়ী করেই যাচ্ছিস!”

-“আমি তো তোকে…”

সোহানার কথা শেষ করতে না দিয়ে উৎস বলল,

-“স্টপ, সোহানা। এটাকে ভালোবাসা বলে না। তোর কাছে আমি শুধুই ভালো লাগা। আর সেই ভালো লাগা শুধুই সাময়িক সময়ের জন্য। আমার বিয়ে হয়েছে। আমাদের মাঝে শুধুই বন্ধুত্ব, এর বেশি কিছু নয়।আমি তোকে অনেকবার বলেছি, তোর প্রতি আমার কোনো অ্যাট্রাকশন নেই। আমার জীবনে শুধুই মেহেক। আমার অস্তিত্বজুড়ে শুধু মেহেক, শুধুই মেহেক।জীবনটাকে রায়ানের হাত ধরে শুরু কর। দেখবি, ও তোকে অনেক হ্যাপি রাখবে।”

সোহানার চোখে পানি এসে জমা হলো।উৎস দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল,
-“সোহানা ভালোবাসা কোনটা সেটা তুই এখনো জানিস না। আগে ভালোবাসা বুঝতে শিখ দেখবি ভালোবাসা যার প্রতি আসে সে কতোটা তোর কাছে দামী।তখন তাকে পাওয়ার জন্য তুই সব কিছুর বিরুদ্ধে যেতে পারবি।যেমন মেহেককে আমি আমার নিজ হাতে বড়ো করেছি।ওর প্রতি ভালোবাসা আমার চিরকাল থেকে যাবে।”

-“আমি তোর জীবনে প্রথমে আসলে তুই আমাকে ভালোবাসতি তখন?”

-“সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে চল।”

—-

সবাই এসে উৎসর ঘরে বসে আছে,পুরো খাট দখল করে।কিন্তু উৎস সোহানা আসছে না। মেহেক বিরক্ত নিয়ে বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে।মেহেককে ছটফট করতে দেখে সাদিফ বলল,
-“আরে মেহেক শান্ত হোও।উৎস পালিয়ে যাচ্ছে না।যদি যায়ও তোমাকে নিয়েই যাবে।”

সাদিফের কথায় বাকিরা হেঁসে দিলো।নিশাত,রোদসী ও শাড়ি পরে এসেছে।তিন বোন একসাথে শাড়ি পড়ে একসঙ্গেই বসে আছে।তিন বোনকে খুব সুন্দর লাগছে।তখনি উৎস ও সোহানা আসে।সিজান বলল,
-“তোদের এতো কীসের কথা?আমরা বসে আছি।”

উৎস মেহেকের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“তেমন কিছু না।”
বলেই উৎস মেহেকের পাশে গিয়ে বসে পড়ল।রায়ান সোহানাকে ডেকে তার পাশে বসায়।সাদিফ বসা থেকে উঠে গিয়ে উৎসর ল্যাপটপ নেয়।তারপর সে মজা করে বলল,
-“গাইস তোমাদের আজ একটা ভিডিও দেখাব।”

সবাই অবাক হয়ে বলল,
-“কীসের ভিডিও?”

-“দেখলেই বুঝতে পারবে সবাই।”

উৎস বিরক্ত নিয়ে বলল,
-“শ্বশুর বাড়িতে আসিছ, বাঁদরামো করবি না।”

সাদিফ উৎসকে চোখ মেরে একটা ভিডিও অন করে।যা দেখে সবাই অবাক হয়।সাদিফ এমন কাজ করবে তা উৎসর ও ধারণার বাহিরে ছিলো।

ভিডিও ক্লিপ

-“উততো ভাই,বড় আম্মুকে বড় আব্বু গিনি বললো কেনো?গিনি কী?”

-“গিন্নি মানে বউ।”

-“আমি কার গিনি ?”

-” তুই আমার গিন্নি।”

-“ইয়া, আমি উততো ভাইয়ের গিনি।”

ভিডিওটা দেখে সবার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।ওদের সম্পর্ক আগে থেকেই ছিলো কিন্তু এতোটা কেউ ভাবত পারেনি।উৎস ভারী স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
-“আমার অনুমতি ছাড়া তুই এটা অন করলি কেনো?”

-“আরে ভাই তুই একা দেখে এসেছিস এতো বছর তাই ভাবলাম সবাইকে দেখাই।তোর বউর ও জানা দরকার তুই তাকে কতোটা ভালোবাসিস।”

মেহেক ভিডিও ক্লিপটা দেখে সত্যি অবাক হয়।এতোদিন যা ভাবত সব কিছু তার ভুল ধারণা ছিলো!তাকে ছোটো থেকে উৎস ভালোবাসত।সে ভালোবাসার মানে বুঝতে না পারলেও তাকে দিয়ে ঠিকই বলিয়ে রেখেছে বড়ো হলে তাকে বিয়ে করার কথা।আর সে তোতলাতে তোতলাতে বলে দিলো বড়ো হয়ে বিয়ে করবে তার উৎস ভাইকে।
মেহেক লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলে।
সোহানা হতবাক হয়ে বলল,
-“এই কিউট মেয়েটা মেহেক?”

নিশাত বলল,
-“হুম আপু।ও ছোট বেলায় অনেক কিউট ছিলো।”

উৎস মেহেকের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“এখন ও আছে।”

সিজান বলল,
-“আমার ভাই আমার থেকে বেশি বউ পাগলা হয়ে গেছে।আমার রোদুকে ও বেশি ভালোবাসা দিতে হবে।”

রোদসী সিজানকে চিমটি কেটে বলল,
-“মুখে কিছু আটকায় না তোমার!”

রায়ান মেহেককে উদ্দেশ্য করে বলল,
-“উৎসর মতো হাসবেন্ড পেয়ে তুমি খুব লাকি।”

সাদিফ কথা টেনে নিয়ে বলে,
-“আর আমার ফুলের মতো শালিকে বিয়ে করে আমার শালায় ও জিতছে।”

সবাই হাসাহাসিতে মেতে উঠলো।এমন সময় উৎসর ফোন বাজে।উৎস কল রিসিভ করেই দাঁড়িয়ে পড়ল।মেহেক কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল
-“কী হয়েছে?উঠলে যে।কে ফোন করেছে?”

-“ভাইয়াকে পুলিশ এরেস্ট করেছে”

#চলবে