Home "ধারাবাহিক গল্প "তু্ই আমার তু্ই আমার পর্ব-০৩

তু্ই আমার পর্ব-০৩

0
1

#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব [৩]

কপি করা নিষিদ্ধ

নুহার পরিবার এসে শোনে নুহাকে কেউ একজন তুলে নিয়ে চলে গেছে এটা শোনার পর নুহার মা আরও ভেঙে পড়েছে।নুহার মা ওর বাবা কে ধরে কান্না করছে আর বলছে,,,,,

হ্যা গো আমার মেয়েটা কোথায় গেলো ওকে ফিরিয়ে এনে দাও।

আহঃ মনা তুমি একটু চুপ করবে দেখছো তো সবার অবস্থা।

একটু আগে,,,,

এইতো বিকেলের দিকে নুহার মা, বাবা, বড় কাকা, ছোট ~কাকা আর দুই ভাই একটু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে নার্সদের বারবার বলে গিয়েছিলেন, তারা খুব বেশি দেরি করবেন না।ওদের পরিবারের সবার চোখের মনি নুহা আজ সেই নুহা এই অবস্থায় আছে আর পরিবারের লোক থাকবে না এটা সম্ভব নয়,কিন্তু হাসপাতালে ফিরে এসে যে দৃশ্যটা তাদের সামনে অপেক্ষা করছিল, তার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। কেবিনের দরজাটা আধখোলা। ভেতরে ঢুকতেই নুহার মায়ের চোখ বিছানার দিকে গেল, নুহাকে দেখতে না পেয়ে রুমের সব জায়গায় খোঁজার পরে নুহাকে না পাওয়ায় উনি ভীত হলেন পরের মুহূর্তেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন,,,,,

“আমার মেয়ে কোথায় নুহা কোথায়?”

বিছানাটা ফাঁকা পড়ে আছে চাদরটা এলোমেলো দেখে মনে হচ্ছে কেউ নুহা কে জোড় করে নিয়ে গেছে । মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগেই কেউ এখান থেকে উঠে গেছে।চিৎকার শুনে মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স আর আশপাশের লোকজন ছুটে এলো। সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু কারও কাছে কোনো উত্তর নেই।

নুহার বাবা কাঁপা গলায় বললেন,,,,,,

“কেউ আমার মেয়েকে দেখেছেন?আমার আমাদের যাওয়ার আগেও তো এখানে ছিল!”

একজন নার্স ভয়ার্ত কণ্ঠে বললেন,

“আমরা ভেবেছিলাম রোগীর কোনো আত্মীয় এসেছেন। উনি নিজেকে খুব স্বাভাবিকভাবেই পরিচয় দিয়েছিলেন। আমরা সন্দেহ করিনি।”

কথাটা শেষ হতেই নুহার বড় ভাইয়ের মুখ শক্ত হয়ে গেল।

“কে ছিল?”

নার্স টা আয়াস এর কণ্ঠ শুনে একটু ভয় পেলো,নার্স কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,,,,,,
“লম্বা একজন ছেলে কালো শার্ট পরা ছিলনামটা ঠিক জানি না আর হ্যা উনি বলছেন উনি নাকি ওনার হাসবেন্ড।

নুহার নিজের ভাই হঠাৎ চিৎকার করে উঠে বললো,,,,

“ঊষান!”

মুহূর্তের মধ্যে পুরো কেবিন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।নুহার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন,,,,,

“ও আবার আমার মেয়ের কাছে কেন আসবে? আমার মেয়েটাকে আর কত কষ্ট দেবে?”

নুহার বড় কাকা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,,,,,

“আমি শুরু থেকেই বলেছিলাম, ওই ছেলেটার ওপর একটুও ভরসা করা যাবে না। এবার যদি আমার ভাইঝির কোনো ক্ষতি হয়, আমি তাকে আইনের হাতে তুলে দেব।”

নুহার বাবা দুই হাতে মাথা চেপে বিছানার পাশে বসে পড়লেন। তার চোখে তখন শুধু অসহায়ত্ব।

“একবার শুধু একবার আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দাও আল্লাহ। ওকে আর কোনো কষ্ট দিও না।”

এদিকে নুহার বড় ভাই এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার ব্যবস্থা করতে লাগল। ছোট ভাই ততক্ষণে পরিচিত সবাইকে ফোন করা শুরু করেছে। কে কোথায় আছে, কেউ ঊষানকে দেখেছে কি না, সব খবর নেওয়া হচ্ছে কিন্তু ঊষান নেই ।

হাসপাতালের করিডোরে তখন আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগেও সবাই ভেবেছিল নুহা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে আগামীকাল বাড়ি ফিরবে তাঁদের বাড়ির প্রাণ । কিন্তু হঠাৎ তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবর পুরো পরিবারকে আবারও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দিল।সেদিন নুহার পরিবারের কারও চোখে আর জল ছিল না। কারণ কান্নারও একটা সীমা থাকে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে মানুষের ভেতরে শুধু একটাই অনুভূতি বেঁচে থাকে নিজের আপন মানুষটাকে যেকোনো মূল্যে ফিরে পাওয়ার মরিয়া আকাঙ্ক্ষা।ঊষান কে সবাই ভালো করে জানে এই ছেলে আসলে একটা,সাইকো তার ওপর এখন আবার নুহা অসুস্থ।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ঊষান ভাই?

ঊষান চুপ চাপ বসে আছে, ওর সাথে আছে ওর দুই ফ্রেন্ড একজন ড্রাইভ করছে আর একজন তার পাশে বসে আছে। আর ঊষান আর নুহা বসে আছে পেছনের ছিটে। ঊষান সিটে মাথা হেলান দিয়ে চোখ বুজিয়ে রেখেছে। ঊষান এর তরফ থেকে কোনো হেলদোল না দেখে নুহা ফের বলে,,,,,,

কথা কেন বলছেন না ঊষান ভাই? আপনি আমাকে কোথায় তুলে নিয়ে যাচ্ছেন?

ওভাবে চোখ বোজা অবস্থা থেকেই বললো,,,,,

তোর প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই।

চলতি পথে ঊষান বা নুহা আর কেউ কোনো কথা বললো না। কিছুক্ষনের মধ্যে গাড়ি একটা নির্জন এলাকায় ঢুকলো। শহর থেকে অনেকটা দূরে শান্ত নিরিবিলি একটা পরিবেশ। ঊষান গাড়ি থেকে নেমে নুহা কে নামতে নামতে আদেশ করলো,,,

নুহা তাড়াতাড়ি নাম আমরা এসে গেছি।

নুহা আর উপায় না পেয়ে নেমে দাঁড়ায়। ঊষান সামনের দিকে এগোলে নুহাও ওর পিছনে যেতে লাগে। এমনিতেই তো ওর শরীরের অবস্থা খুব একটা ভালো না তার উপর অনেকটা পথ হেটে চলেছে।

ঊষান ভাই একটু থামো না আমি আর পারছি না।

ঊষান ফিরে তাকিয়ে একবার নুহা কে দেখে নিলো, ওর দিকে এগিয়ে এসে ওকে সোজা পাঁজা কোলে তুলে নিলো। আচমকা এমন হওয়ায় নুহা একটু ঘাবড়ে গেছিলো কিন্তু পরক্ষনেই ঊষান এর কোলে নিজেকে আবিষ্কার করতেই মুচকি হাসলো।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

ছোট একটা ঘর এখানেই ঠাঁই হয়েছে নুহার, বসে বসে চোখের পানি ফেলছে।

ঊষান ওকে এনে নামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে,,, তখন হসপিটালে কি যেন বলছিলি ওটা আবার রিপিট কর তো।

হঠাৎ এমন প্রশ্ন করতে নুহা একটু অবাক হলেও তা প্রকাশ করলো না, ও সুন্দর করে গুছিয়ে বলতে শুরু করলো,,,,,
আমি আপনার সাথে থাকতে চাই না, আমি আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো, বাসি না ভালো আপনাকে!!

ঊষান নুহার কথা শুনে শুধু হাসলো।

তোকে ডিভোর্স দিতে হবে না পিচ্চি পাখি আমার কাজ হলেই তোকে আমি ডিভোর্স দিয়ে দিবো। তার আগে তোর পরিবার কে একটু মজা দেখাই সোনা তারপর তোর ইচ্ছে পূরণ করে দিবো।।

কিছুদিন পর তোকে এমনিতেই বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে আসবো চিন্তা করিস না তাই পালাতে চেয়ে নিজের বিপদ ডাকিস না।।

ঊষান চলে যেতে নিলে নুহা পিছন থেকে ডেকে বলে উঠে,,,,,,

আমাকে একটু ভালো বাসলে কি হতো ঊষান ভাই? কেন এভাবে আমাকে কষ্ট দিচ্ছেন? আমি কি করেছি?

তোর আমার মতো ছেলেকে ভালোবাসা টাই ভুল, আর তোর পরিবার যা করেছে তার জন্য তোর এই অবস্থা। বিশ্বাস কর তোকে আমি জড়াতে চাই নি এসবে কিন্তুতোর ভুলের জন্য তোর এই অবস্থা। তোর পরিবার এর প্রত্যেক কে আমার মায়ের মৃত্যুর হিসেবে দিতে হবে।।

ঊষান এর কথা শুনে নুহার দম বন্ধ হয়ে আসছে, ওর বুকের ভিতর টা ফেটে যাচ্ছে। ঊষান ওকে একটু ভালো বাসলে কিই বা হতো।

আমাকে কি একটু ভালো বাসলেন না কেন ঊষান ভাই?

ঊষান ওর কথার উত্তর না দিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো,,,,

রেস্ট কর আমার কাজ আছে আমি আসছি। তু্ই খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পর।

আর সেই থেকে বসে বসে কান্না করছে নুহা। এভাবে কান্না করতে করতে কখন যে ওর চোখ লেগে গেছে। ঊষান আস্তে করে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো,, সামনের বিড়াল ছানার মতো কাউকে পড়ে থাকতে দেখে কপাল কুঁচকে এলো। সামনে এগিয়ে গিয়ে নুহা কে তুলে নিয়ে বিছানায় শোয়ালো। ওর মুখের উপর লেপ্টে থাকা অবাধ্য চুলগুলো কানে গুজে দিতে দিতে বিড়বিড় করে আওড়ালো,,,,,,,,,

কেন এতো জ্বালাস পিচ্চি পাখি!!!

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

~হ্যাপি রিডিং ❤️❤️~

#চলবে…