Home "ধারাবাহিক গল্প "তু্ই আমার তু্ই আমার পর্ব-০৯

তু্ই আমার পর্ব-০৯

0
7

#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _৯(বাসর স্পেশাল ২)

🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
[🚫সতর্কতা :১৮++++++ তাই নিজ দায়িত্বে পড়বেন আর ভালো না লাগলে স্কিপ করবেন ]

রাতের আঁধার ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। পূর্ব আকাশে সূর্যের প্রথম আলো উঁকি দিতেই চারপাশ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল। গাছের ডালে বসে পাখিরা একে একে ডাকতে শুরু করেছে। সকালের মিষ্টি বাতাস জানালার পর্দা দুলিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করছে।

নুহা পিটপিট করে চোখ মেলতেই ওর কালকে রাতের কথা মনে পড়ে গেলো।নুহার ঘুম ভাঙতেই কয়েক সেকেন্ড ওর ওপর দিয়ে কি গেছে ভাবতেই ও আঁতকে উঠলো। ওর মন একটা কথাই বারবার জানতে চায় আজকের পরও কি ঊষান ওকে মেনে নেবে না?? জানে না ঊষান ঘুম ভাঙার পর কি রিঅ্যাকশন দিবে কিন্তু নুহার ই বা কি করার ছিলো ও তো ঊষান কে খুব ভালোবাসে।

নুহা একটু নড়ে চড়ে উঠতেই ওর পুরো শরীর জাকিয়ে উঠলো পুরো শরীর ব্যাথায় অবশ হয়ে আছে। আর একটু নড়তেই কারো হাতের বাঁধনে নিজেকে আবিষ্কার করলো। হ্যা এটা ঊষান নুহার বৈধ স্বামী।

ঊষান নুহা উন্মুক্ত বুকে মুখ খুজে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। নুহা ওকে ছাড়াতে গেলে ঊষান ওকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নুহার ছোট্ট বুকে মুখ খুজে।নুহা আনমনেই কালকে রাতের কিছু কথা ভাবতে ভাবতে ঊষান এর সিল্কি চুল গুলোর মধ্যে হাত চালায়।

কালকে রাতে নুহার সায় পেয়ে ঊষান এর উন্মাদনা যেন আরও বাড়ছিলো। নুহা যখন ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলো তখন ঊষান,,,,,,,,

প্লিজ ঊষান ভাই আমি আর পারছি না!!!

আর একটু সহ্য করে নে সোনা!!প্রমিস বেশি ব্যাথা দিবো না পিচ্চি পাখি!!

নুহা আর কিছু বলতে পারলো না, কালকে রাতে ঊষান এর উন্মাদনার ফলে নুহা দুই বার জ্ঞান হারিয়েছিলো।অবিশেষে সারা রাত দুই মানব মানবীর ভালোবাসার প্রহর এর শেষ হয়।

নুহার যখন ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এলো ঠিক তখন ঊষান এর ও ঘুম ভাঙলো। নিজেকে নুহার উন্মুক্ত বুকে আবিষ্কার করতেই লাফিয়ে উঠলো ঊষান। নিজের আর নুহার অবস্থা দেখে ওর আর বুজতে বাকি নেই ও নুহার সাথে কি করেছে।। ঊষান মাথায় হাত চেপে বসে পড়লো এদিকে নুহা ঊষান কে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে বেশ মজা পেলো। কিছুক্ষণ পর ঊষান নিজেকে ঠিক করে উঠে দাড়ালো। উঠে দাঁড়তেই ঊষান আরেক ঝটকা খেলো,,,,,,

পুরো বিছানার চাদর জুড়ে লাল লাল ছোপ ছোপ দাগে ভরে গেছে।

ঊষান নুহার দিকে তাকিয়ে খুবই শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো,,,,,

তুই ঠিক আছিস নুহা??বিশ্বাস কর নুহা আমি তোকে এভাবে…….!!

ঊষান এর এমন অপরাধী মুখ দেখে নুহার বেশ মজাই লাগছে। ঊষান এর কথা শুনে ও একটু তাচ্ছিল্য করে বললো,,,,,,

বুজেছি ঊষান ভাই,আমি জানি তো ঊষান ভাই তুমি বউ মানো না বিয়ে করেছো শুধু প্রতিশোধ নিতে তাই তো।।

এর পরে কিন্তু কণ্ঠে একটু দুস্টুমি মিশিয়ে বললো,,,, বউ মানো না কিন্তু বউ এর কাছে এলে মাথা ঠিক থাকে না একসাথে বাসর করে ফেলো তাই নাআআআ ঊষান ভাই? আর হ্যা আজকে যা হয়েছে আমি কিছুই মনে রাখবো না ঊষান ভাই!!আমিও ভুলে যাবো তুমিও ভুলে যাও হ্যা।। তুমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে ডিভোর্স দিয়ে তোমার পুরো প্রতিশোধ পূর্ণ করো।।

নুহার মুখ থেকে ফের ডিভোর্স এর কথা বের হওয়ার সাথে সাথে ঊষান ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।। নুহা এক ঝটকায় ওকে আবার বিছানায় ফেলে চেপে ধরলো এরপর হিসহিসিয়ে বলতে শুরু করলো,,,,,,,,,

আর একবার ওই মুখ থেকে ডিভোর্স এর কথা বলে দেখ কি করি!!এই নিয়ে তু্ই তিনবার এই একই কথা উচ্চারণ করলি, ফের এই কথা মুখে আনলে জানে মেরে ফেলবো পিচ্চি পাখি মাইন্ড ইট।।

কথা বলার মধ্যে ঊষান এর চোখ যায় নুহার বস্র হীন শরীরের উপর তার সাথে নুহার শরীর থেকে মাতাল করা ঘ্রান ঊষান এর পুরুষ সত্ত্বাকে নাড়িয়ে দিলো।মাথা নামিয়ে নুহার গলায় মুখ গুজে ছোট ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগলো। আকস্মিক এমন হওয়ায় নুহা একটু ঘাবরে গেলো, এদিকে ঊষান যেন নিজের খেই হারাচ্ছে। গলা ছেড়ে ফের মুখ গুজলো নুহার উন্মুক্ত বক্ষ দেশে, এদিকে নুহার সারা শরীর জুড়ে এক অজানা শিহরণ বয়ে গেলো।নুহা অজান্তেই ওর হাত দুটো চলে গেলো ঊষান এর চুলের বাজে এদিকে ঊষান নুহার সারা পেয়ে আবারো নতুন করে উন্মাদনায় যোগ দিলো, ঊষান এর এক হাত নুহার নরম উদরে লাগামহীন স্পর্শ দিতে ব্যাস্ত ।কিছুক্ষন পর ঊষান মাথা তুলে নুহার গোলাপি ঠোঁট জোড়া আঁকড়ে নিলো। ঠিক তখনি বাইরে থেকে আওয়াজ শোনা গেলো ঊষান নুহা দুজনেই ছিটকে দূরে স্বরে গেলো।। ঊষান এর হুস ফিরতেই বিড়বিড় করে আওড়ালো,,,,,

ড্যাম ইট!!আবার একই ভুল করতে যাচ্ছিলাম!!!

নুহা যখনি উঠে দাঁড়াতে যাবে কিন্তু ব্যার্থ হয়ে বসে পড়লো। ঊষান ব্যাপার টা লক্ষ করে এক ঝটকায় ওকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াস রুমের দিকে পা বাড়লো, নুহাও সাথে দুই হাত দিয়ে ঊষান এর গলা আঁকড়ে ধরলো। পুরো শরীরে পানি পড়তেই নুহার পুরো শরীর জ্বলে উঠলো এদিকে ঊষান এক দৃষ্টিতে তার না মানা হালাল নারীর দিকে তাকিয়েই আছে যার পুরো শরীর জুড়ে ওর দেওয়া ভালোবাসার চিহ্ন গুলো স্পষ্ট।।।নুহা কে ফ্রেস করিয়ে নিজেও ফ্রেস হয়ে নুহাকে নিয়ে নিচে নামলো অবশ্য এর আগে নুহা শুধু ব্যাথার মেডিসিন দিলো যাতে পড়ে খেয়ে খেয়ে নেয়।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

ঊষান নিচে নামার কিছুক্ষণ পর থেকেই ড্রয়িংরুমে চাপা আলোচনা শুরু হলো। সত্যিটা সবাই জেনে গেছে, কিন্তু সত্য মেনে নেওয়া আর সহজে গ্রহণ করা এক জিনিস নয়।বিশেষ করে আরমান মির্জার স্ত্রী খুব ভেঙে পড়েছেন।

হঠাৎ নুহার বাবা গম্ভীর স্বরে বললেন,,,,,,,

রক্তের সম্পর্ক অস্বীকার করার উপায় নেই। ও আরমানের ছেলে।

সাবিহা মির্জা দেওরের কথা শুনে একটা ব্যাথিত হাসি দিলো ধীরে মাথা নাড়লেন তারপর বললেন,,,,,,,
“সত্যি ঠিকই কিন্তু এত বছর পরে সবকিছু হঠাৎ বদলে যায় না।

উনি একবার নুহার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলেন মেয়েটা কেমন চুপ করে আছে কোনো কথা বলছে না কিছুক্ষন পর বললেন,,,,,,
ছোট ভাই (নুহার বাবা )বিচার করার আগে সবকিছু জানা দরকার।

আরমান মির্জা সবার কথা শুনে চুপ করে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি শান্ত গলায় বললেন,,,,,,,

তোমরা যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস করো।

সাবিহা মির্জা সরাসরি ঊষানের দিকে তাকালেন তারপর বললেন,,,,,

তোমার মা কোথায়?সত্যিই উনি আর নেই বাবা??

ঊষানের মুখে কোনো পরিবর্তন এলো না।

জানি না।

নুহার বাবা এটা শুনে ভ্রু কুঁচকে বললেন,,,,,,

জানো না, নাকি বলতে চাইছ না?

ঊষান নির্লিপ্ত স্বরে উত্তর দিল,,,,
যেটা বললাম, সেটাই সত্যি।

ঘরে আবার নীরবতা নেমে এলো। ঊষান এর কাহিনী হয়তো অনেকের কাছেই অচেনা অজানা , কিন্তু আরমান মির্জার চোখে ক্ষণিকের জন্য পুরোনো স্মৃতির ছায়া ফুটে উঠল।

নুহার বাবা যতটুকু ঊষান কে চিনেছেন তাতে এই ছেলে ঠিকমতো কোনো উত্তর দিবে না আল্লাহ জানে ওনার মেয়ের কপালে কি আছে উনি এসব ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,,,,,

যাই হোক, ও এই পরিবারেরই সন্তান। সেটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে বিশ্বাস ফিরে পেতে সময় লাগবে।

এটা শুনে সাবিহা মির্জা শান্ত গলায় যোগ করলেন,,,,,,,,,,,,,,

আমরা অতীত বদলাতে পারব না। কিন্তু ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা এখন তোমার আচরণই ঠিক করবে।তুমি কি নুহাকে চাও ওর সাথে সংসার করবে?

ঊষান কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু একবার চারপাশে তাকিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। তার নীরবতাই যেন জানিয়ে দিল সে নিজের সম্পর্কে কাউকে বোঝানোর চেষ্টা করবে না, সময়ই যা বলার বলবে।কিছুক্ষন পর ঊষান উঠে উপরে গেলো সেখান থেকে কিছুক্ষণ পর এসে সোজা বাড়ির বাইরে চলে গেলো। যাওয়ার আগে কোনো ব্যাক ব্যায় করলো না।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

#চলবে