#তুই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _১১
🚫কপি করা নিষিদ্ধ & প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত, ভালো না লাগলে স্কিপ করুন 🚫
গভীর রাত প্রায় তিনটা বেজে গেছে,,শহরের এক নির্জন পুরোনো গ্যারেজ। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে টুপটাপ।
একটা চেয়ারে হাত বাঁধা অবস্থায় বসে আছে সেই ছেলে অর্থাৎ নুহার মামাতো ভাই যে আজকে ওকে দেখতে এসেছিলো । মুখে আঘাতের চিহ্ন নেই , কিন্তু চোখেমুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।। কিছুক্ষন আগে ওর জ্ঞান ফিরেছে। পাশে একটা আওয়াজ হলে সেখান থেকে ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এল ঊষান।তার ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি।ঊষান ওর চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে বললো,,,,,,,,,
আমি তোকে আগেই বলেছিলাম নুহাকে দেখতে যাবি না।এই হারামির বাচ্চা তোর এতো সাহস কি করে হলো ঊষান এর পিচ্চি পাখির দিকে নজর দিস?? চুপ করে আছিস কেন কথা বল।।।
ছেলেটা এবার মুখ খুললো,,,,,আমি আমি তো জানতাম না!!
ঊষান তার কথা শেষ করতে দিল না তার আগেই গর্জে উঠে বললো,,,,,
এই বান্দা একদম মিথ্যে বলবি না,জানতিস না? নাকি আমার কথা পাত্তা দিসনি?
ঊষান ধীরে ধীরে ছেলেটার আরও সামনে এসে দাড়ালো,,,,,
যখন আমি কাউকে একবার সতর্ক করি, দ্বিতীয়বার বুঝিয়ে বলি না।
ছেলেটা কাঁপা গলায় বলল,,,,,,
আমাকে ছেড়ে দিন!!আমি আর কোনোদিন
ঊষান হঠাৎ ঝুঁকে তার কলার চেপে ধরল,,,,,
চুপ! তোর কথা শোনার ধৈর্য আমার নেই।মানা করার পরেও এতো সাহস কে দেয় ওই আরমান মির্জা বুঝি??
কয়েক সেকেন্ড ওর চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে ঊষান ওর হাত ছেড়ে দিল তারপর বললো,,,,,,
আজ তোকে মারতে আনিনি। কারণ তুই আমার শত্রু না। তুই শুধু ভুল জায়গায় পা দিয়েছিস।
ছেলেটা চুপ ঊষান পেছন ফিরে কয়েক পা হাঁটল, তারপর আবার থামল
আজ যা দেখলি, যা শুনলি সব ভুলে যাবি। আর যদি কোনোদিন নুহার আশেপাশে তোকে দেখি…!z
সে বাকিটা না বলে শুধু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।নীরব হুমকিটাই যেন কথার চেয়েও ভয়ংকর।ঊষান দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
এখন তোকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এটা দয়া না… শেষ সতর্কতা।মুড ভালো তাই আজ তুই বেঁচে গেলি!!
দরজা খুলে সে বেরিয়ে গেল।গ্যারেজের ভেতর শুধু বৃষ্টির শব্দ আর ছেলেটার দ্রুত শ্বাস নেওয়ার আওয়াজ রয়ে গেল।
★ ★ ★ ★ ★
পরদিন সকালটা অন্য দিনের মতো শুরু হলেও নুহার ভেতরটা ছিল সম্পূর্ণ অস্থির। গত রাতের তর্ক, ঊষানের রাগ, পরিবারের উদ্বেগ সবকিছু মিলিয়ে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। এসব ভেবে একটু নড়তেই ওর শরীর ব্যাথায় ঝাঁকিয়ে উঠলো সাথে সাথে মনে পড়ে গেলো গত রাতের ঊষান এর উন্মাদনার কথা মনে পড়তেই নুহার মুখে একটা হাসি ফুটে উঠলো ।এরপর মনে মনে বললো,,,,,,,
আজকের জন্য তৈরি হও ঊষান আবিদ আজ আমি তোমাকে এমন নাচান নাচাবো না তা না হলে আমি নুহা নই হু!!!!
বলেই সামনে জুকে থাকা ছোট ছোট সিল্কি চুল গুলো ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলো।।
আজ তাকে হাসপাতালে যেতেই হবে। ডাক্তার আগেই বলেছিলেন, কয়েকটি পরীক্ষা করিয়ে বাচ্চার অবস্থা দেখে নিতে।ঘুম থেকে উঠে নুহা ধীরে ধীরে তৈরি হলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পেটের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে ওড়নাটা ঠিক করল।এদিকে নিচে নুহার মা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। মেয়েকে দেখে তিনি মৃদু হেসে বললেন,
চল মা, দেরি করলে আবার সিরিয়াল মিস হয়ে যাবে।
নুহা মাথা নেড়ে মায়ের সঙ্গে বেরিয়ে গেল।ঊষান ঘন্টা খানেক আগেই বাড়ি ফিরেছে,দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল ঊষান। গত রাতের পর থেকে তার চোখে ঘুম নেই। নুহাকে গাড়িতে উঠতে দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।তারপর হঠাৎ নুহার বলা কথা মনে করতেই ওর হাত মুষ্টি বদ্ধ হয়ে এলো।।
সে নিচে নেমে গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করল,,,,
কোথায় গেছে ওরা?
একজন কাজের লোক উত্তর দিল,
হাসপাতালে গেছে বাবা
।
ঊষানের বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন যেন ধক করে উঠল। কোনো কথা না বলে সে গাড়ির চাবি তুলে দ্রুত বেরিয়ে গেল।
**************
হাসপাতালের করিডোরে রোগী আর স্বজনদের ভিড়। নুহা আর তার মা ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষায় বসে আছেন। নুহার মুখ শান্ত, কিন্তু ভেতরে সে জানে—ঊষান যদি জানতে পারে সে হাসপাতালে এসেছে, তাহলে নিশ্চয়ই আসবে। আর আজ সে ইচ্ছে করেই ওকে একটু ভয় দেখাবে।
ঠিক তখনই করিডোরে দ্রুত পায়ের শব্দ ভেসে এলো।
নুহা মুখ তুলে তাকাতেই দেখল, ঊষান দ্রুত হেঁটে তাদের দিকেই আসছে। তার চোখেমুখে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা, যদিও সেটা রাগের আড়ালে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
নুহার মা পরিস্থিতি বুঝে বললেন,,,,,,
আমি রিসেপশন থেকে রিপোর্টটা নিয়ে আসি।
তিনি সরে যেতেই দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রইল।
ঊষান কোনো ভূমিকা না করেই বলল,
তুই এখানে কী করতে এসেছিস?
নুহা শান্তভাবে তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,,,,,
যেটা বলেছিলাম, সেটাই করতে এসেছি।
ঊষানের চোখ সরু হয়ে গেল।ফের জিজ্ঞেস করলো,,,,,,,,,
কী বলতে চাইছিস?
নুহা নির্বিকার কণ্ঠে বলল,,,,,,
বাচ্চাটা নষ্ট করতে এসেছি।
কথাটা শেষ হতেই ঊষানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।সে এক পা এগিয়ে এসে নিচু গলায় বলল,
তুই আবার বল!!
নুহা তার চোখের দিকে তাকিয়েই বলল,
ঠিকই শুনেছেন। আমি এই বাচ্চা রাখতে চাই না। তাই এসেছি।
ঊষানের বুক ওঠানামা করছে রাগে, তাও নিজেকে সামনে বললো,,,,
তুই এক পা-ও সামনে যাবি না।
নুহা ঠান্ডা স্বরে বলল,
আপনি আমাকে আটকাবেন?
দরকার হলে জোর করেই আটকাব।
আমার জীবনের সিদ্ধান্ত আমি নেব।
ঊষান দাঁত চেপে বলল,,,,,,
শুধু তোর জীবন না ওই বাচ্চাটার জীবনও আছে।
নুহা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে হঠাৎ হেসে ফেলল।
ঊষান বিরক্ত হয়ে বলল,,,,,হাসছিস কেন?
নুহা এবার শান্ত গলায় উত্তর দিল,,,,,,,,
আপনাকে ভয় দেখালাম। আমি বাচ্চা নষ্ট করতে আসিনি। ডাক্তার দেখাতে এসেছি। শুধু জানতে চেয়েছিলাম, আপনি সত্যিই চিন্তা করেন, নাকি সবটাই আপনার জেদ।
কথাটা শুনে ঊষান কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখের রাগ একটুও কমেনি, কিন্তু বুকের ভেতর জমে থাকা অজানা ভয়টা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল।ঠিক তখনই নার্স দরজার সামনে এসে ডাকলেন,
নুহা ম্যাডাম, আপনার সিরিয়াল।
নুহা ঊষানের পাশ দিয়ে হেঁটে চলে গেল। যাওয়ার সময় একবারও পেছনে তাকাল না।আর ঊষান করিডোরের মাঝখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মুঠো শক্ত, চোখ স্থির কিন্তু মনে মনে সে বুঝে গেছে, আজ নুহা তাকে হারায়নি, বরং তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাটা জেনে গেছে।
★ ★ ★ ★ ★
ডাক্তারের কেবিন থেকে বেরিয়ে আসতেই নুহার মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানিয়েছেন, আপাতত মা ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছে। নিয়মিত বিশ্রাম আর সময়মতো ওষুধ খেলেই হবে।
নুহা প্রেসক্রিপশনটা ব্যাগে রাখছিল ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়াল ঊষান।
“চল।”
নুহা তাকিয়ে বলল, “কোথায়?”
“আমার সঙ্গে।”
“আমি আম্মুর সঙ্গে বাড়ি যাব।”
ঊষান কোনো উত্তর দিল না। সে নুহার মায়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,,,,,,, দেখুন নুহাকে আমি নিয়ে যাচ্ছি। চিন্তা করবেন না, আমি আমার বউ বাচ্চার খেয়াল রাখতে জানি।।।”
নুহা সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি করে বলল,,,,,,
“আমি কোথাও যাচ্ছি না।”
ঊষান এবার নুহার দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,, “তুই যাচ্ছিস।”
আমি যদি না যাই?
তুই কেন তোর ঘাড় যাবে তাই তুই তো যাবিই।।
নুহা বিরক্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হাসপাতালের মাঝখানে অযথা তর্ক করতে ইচ্ছে হলো না। শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছায় গাড়িতে উঠে বসল।নুহা এখনো জানেই না কোথায় যাচ্ছে ওরা।গাড়িটা শহরের ব্যস্ত রাস্তা ছেড়ে ধীরে ধীরে অভিজাত এক এলাকায় ঢুকে পড়ল। চারপাশের পরিবেশ দেখে নুহার কপালে ভাঁজ পড়ল।কিছুক্ষণ পর বিশাল এক কালো গেটের সামনে গাড়িটা থামল। গেট খুলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল প্রাসাদের মতো এক বাড়ি। দু’পাশে পরিচর্যা করা বাগান, মাঝখানে ঝর্ণা, আর পুরো এলাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা।গাড়ি ভেতরে ঢুকতেই কয়েকজন বডিগার্ড একসঙ্গে মাথা নত করল।
স্যার!!!
নুহা বিস্মিত চোখে চারপাশে তাকিয়ে রইল।
“এটা কার বাড়ি???
ঊষান গাড়ি থেকে নেমে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,,,,,, “আমার।
ঊষান এর নির্লিপ্ত উত্তর।
নুহা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।
“আপনার বাড়ি?”
“হ্যাঁ।”
“কিন্তু আপনি তো!!!
ঊষান ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল, “আমি তো কী?”
নুহা একটু থেমে বলল,,,,,, আপনি বেকার কিছুই করেন না তাহলে??
ঊষান ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,,,,,,,,,,,”তুই আমাকে যতটা চিনিস ততোটুকু নিয়ে শান্ত থাক বেশি ভাবতে যাস না সঠিক সময় সব জানবি পিচ্চি পাখি আমার!!!
এর মধ্যে ঊষান এর একটা ফোন এলে ওটা নিয়ে একটু দূরে সরে যায় এদিকে নুহা ভাবতে ব্যাস্ত।।
নুহা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এতদিন যে মানুষটাকে সে বেকার, উদ্দেশ্যহীন আর রাগী বলে জেনেছিল, তার সামনে আজ যেন সম্পূর্ণ অন্য একজন ঊষান দাঁড়িয়ে আছে।আর সবাই কেন ঊষান কে স্যার স্যার বলছে কেন কেন কেন এটাই নুহার মাথায় ঢুকছে না।।
★ ★ ★ ★ ★
চলবে।

